মাটির ময়না এবং রানওয়ে: সবাক মাধ্যমে মহৎ এক নীরবতা

চঞ্চল আশরাফ | ৫ december ২০১৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

Tarek masudবাংলাদেশের চলচ্চিত্র মূলত দুটি সমান্তরাল ধারায় তৈরি হয়ে আসছে। একটি বিনোদনমুখ্য ও বাণিজ্যিক এবং অন্যটি বক্তব্যভিত্তিক ও নন্দনমুখ্য– এটা আমরা কম-বেশি জানি। বাঙালি চলচ্চিত্রকারদের বেশির ভাগই কোনো-না-কোনোভাবে উভয় ধারাতেই এই জনপদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চেয়েছেন। যদিও ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রায় পুরোপুরি ভিন্ন খাতে বইতে শুরু করেছিল। স্বাধীনতার আগে জহির রায়হান নির্মিত ‘জীবন থেকে নেয়া’য় (১৯৭০) বাঙালি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছিল, তাতে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার স্বপ্ন উহ্য ছিল না, যদিও তা ছিল শহুরে মধ্যবিত্তকেন্দ্রিক। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার পর দেশের চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’য় মূর্ত বাঙালির আকাঙক্ষার উল্টা দিকে চলতে শুরু করে। ‘বেদ্বীন’, ‘হুর এ আরব’, ‘বানজারান’ থেকে ‘আবেহায়াত’ পর্যন্ত নামগুলি দেখলে বোঝা যায়, বাংলা চলচ্চিত্র কোন দশায় ছিল। এর মধ্যেও যে ভালো কিছু ফিল্ম তৈরি হয় নি, তা নয়; ব্যবসার লক্ষ্য নিয়ে কিছু বক্তব্যপ্রধান ছবিও বানানো হয়েছিল; সাহিত্যনির্ভরও কিছু হয়েছে; কিন্তু বাঙালির আত্মপরিচয়, তার জাতিগত উত্তরণের সংকট ও প্রশ্ন কোনো চলচ্চিত্রে উত্থাপিত হয় নি, ভরকেন্দ্র হওয়া তো দূরের কথা। জীবন থেকে নেয়ায় যে সংগ্রামটি শুরু করেছিলেন জহির রায়হান, স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েও আমরা এর বিকাশের পথে চলতে পারি নি। এবং ওই ছবিতে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টাও কোনো চলচ্চিত্রে দেখা য়ায় নি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস যদি রচিত হয়, তাহলে তারেক মাসুদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা মূলত এখানেই দ্রষ্টব্য হয়ে যায়।

এটা নিশ্চিত যে, ‘জীবন থেকে নেয়া’য় শেষ পর্যন্ত জহির রায়হানের লক্ষ্য ছিল বাঙালি ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শত্রু কারা, তা বুঝিয়ে দেয়া। ‘এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’ গানটির মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তির উপায় খোঁজার চেষ্টাও সহজলক্ষ্য। সে-সময়ের প্রেক্ষাপটে এর বেশি কিছু সঙ্গত ছিল না– কথাটা বলতে পারা গেলেও এখানকার মানুষের জীবনে সাম্প্রদায়িক পরিচয়গত ভেদবুদ্ধির একটা চোরাস্রোত যে বইছিল, এবং শাসকশ্রেণি এর সুযোগ নেয়ার অপেক্ষায় থাকে, নেয়ও, সে-ব্যাপারটি ওই চলচ্চিত্রে উহ্য থেকে গেছে। জহির রায়হান যে জাতীয়তাবাদের ফেস্টুন তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, তা বলা যায় না; কিন্তু রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের বাইরে মানুষ হিসেবে বাঙালির নিজস্ব একটা সংকট আছে, তা থেকে উত্তরণের সাধনা আছে, তার ভাবনাকাঠামো রাষ্ট্র, রাজনীতি, ধর্ম, সম্প্রদায়, অর্থনীতি, পরিবার, শিক্ষা, বিবেক, বেঁচে থাকার তাগিদ ইত্যাদি প্রশ্নে বিচলিত এই ব্যাপারগুলি তখন উপেক্ষণীয় ছিল না। এই শূন্যতা তারেক মাসুদের চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো পূরণ হতে দেখি।যদিও এর আগে, সেলিম আল দীনের কথানাট্য ‘চাকা’ (১৯৯১) অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম একই নামে ১৯৯৩ সালে যে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন, তাতে ঠিকানাহীন এক লাশের রূপকে এই অঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয়ের প্রশ্নটি দুর্লক্ষ্য ছিল না। যা হোক, তারেক মাসুদ বাঙালির মধ্যে দেখতে চেয়েছেন মানুষকে, মানুষের মধ্যে বাঙালিকে নয়। ফলে, ‘মাটির ময়না’য় (২০০২)মিলনকে কমিউনিস্ট ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখালেও কাজি সাহেবকে মেরে ফেলা তো দূরের কথা, রাজাকার বানিয়ে দর্শকদের সামনে ঘৃণার পাত্র ক’রে তোলেন না। মুক্তিযোদ্ধার হাতে রাজাকারের (এমনকি বাবা কিংবা নিকটাত্মীয় হলেও) এবং রাজাকারের হাতে মুক্তিযোদ্ধারমৃত্যু বাংলা সিনেমা ও নাটকে দেখার যে গৎ ও অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, তা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছেন তারেক মাসুদ।শিল্পকলার লক্ষ্য অভ্যাস থেকে মুক্তি দেয়া এই দিক থেকেও তাঁর চলচ্চিত্রের সার্থকতা সন্ধানযোগ্য।
Runway
তাঁর ‘মাটির ময়না’ ও ‘রানওয়ে’ (২০১০) দুটি চলচ্চিত্র পরস্পর সম্পর্কিত। একটির উপজীব্য মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকাল, অন্যটির স্বাধীনতার তিন দশক পরের বাংলাদেশ। দুটি ছবির মধ্যে সুস্পষ্ট মিল ও সম্পর্ক এই দিক থেকে যে, উভয়ই ধর্মকে দ্রষ্টব্য করেছে। তবে ভিন্ন রূপে। ‘মাটির ময়না’য় দেখা যায় ধর্মের কোটিং নিয়ে পাকিস্তান চেপে বসেছে বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির ওপর; আর ‘রানওয়ে’তে জঙ্গিবাদ। মনে হতে পারে, দুটি ছবিই ধর্মের ওপর দোষ চাপিয়ে দিতে চাইছে। আদতে তা নয়। ‘মাটির ময়না’য় মাঝির ‘প্রকৃত কোনো ধর্মই– তা ইসলাম হোক, খ্রিস্টান হোক, বৌদ্ধ হোক– মানুষকে অন্ধ করে না’ উক্তিতেই ধর্ম সম্পর্কে এই চলচ্চিত্রের অবস্থান পরিষ্কার। উল্লেখ বাহুল্য নয়, এই অঞ্চলে ধর্ম কখনো সমস্যা ছিল না; যখন এটি অপরাজনীতির অস্ত্রে পরিণত হয়েছে, রাষ্ট্রক্ষমতার বাহন হয়েছে, সমস্যার শুরু তখন থেকেই। এবং এখনও তা যে অব্যাহত,রানওয়ে ছবিতেও সেই বার্তা লক্ষ্যযোগ্য। অধিকন্তু মানুষ হিসেবে বাঙালির মুক্তি আদৌ ঘটে নি, সে-কথাটিও দুর্লক্ষ্য নয়। শিশু আনু আর তরুণ রহুল এই সত্য ও বাস্তবতা বহন করছে; একজন পরিস্থিতির দর্শক, আরেকজন শিকার। কিন্তু খাঁটি চলচ্চিত্রকারের এক বা একাধিক অভিপ্রায় থাকে, থাকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু। তারেক মাসুদেরও তা আছে, আলোচ্য দুটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের আগের বাঙালি ও পরের বাঙালির তুলনামূলক দশা, তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি-না। অধিকন্তু, যে ধর্মের অস্ত্র তাদের স্বাধীনতাকে আটকাতে পারে নি, তিন দশক পর তা কিভাবে আরও ভয়ংকর হয়ে গেল, ধর্মীয় রাজনীতি থেকে কেনই-বা মুক্তি মিলছে না বাঙালির এবং এ-সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা কেন এই জাতির কাজে লাগছে নাÑ দুটি চলচ্চিত্র দেখলে প্রশ্নগুলো না জেগে পারে না। দুটিতেই তারেক মাসুদ সমালোচনা করেছেন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিদ্যমান কাঠামোর; জানিয়ে দিয়েছেন, যে সিস্টেমের মধ্যে এই দেশের মানুষ রয়েছে, তা থেকে মুক্তি দরকার, কিংবা কাঠামোর পরিবর্তন জরুরি। অন্তত শিক্ষাকাঠামোর বদল প্রয়োজন। নইলে মানুষ হিসেবে বাঙালির বিকাশ সম্ভব নয়। প্রসারিত অর্থে, তিনি দেখিয়েছেন, অবিকশিত মানুষের স্বাধীনতা ব’লে কিছু নেই, কারণ সে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পােরেনা। ফলে, এটা তার কাজে লাগে না। কিন্তু বিস্ময়কর, কোনো চরিত্রের কণ্ঠ দিয়ে এটা তিনি বলিয়ে নেন নি। কাউকে দেশপ্রেম, জাতীয়তা, প্রগতি, মানবতা ইত্যাদির ধ্বজাধারী ক’রে তোলেন নি।
জাতীয়তাবাদ কিংবা দেশপ্রেম– কোনো দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা তারেক মাসুদ চলচ্চিত্রে করেন নি। ‘মাটির ময়না’য় তা করলে বলার কিছুই ছিল না; বরং সমকালীন বাস্তবতার দিক থেকে সেটাই সঙ্গত ও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আশ্চর্য, ব্যাপারটি তিনি এড়িয়ে যেতে পেরেছেন। তাতে ছবিটি রক্ষা পেয়েছে একরৈখিকতা ও মতবাদের দাসত্ব থেকে। সেই সময়ের উত্তাল রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেও কিভাবে এমনটা সম্ভব হলো? উত্তর, শিশু আনুর চোখ দিয়ে ছবির বেশির ভাগ দেখানো হয়েছে ব’লে এটা সম্ভব হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশাসনের মধ্য থেকে সে দেখছে সবই, কিন্তু তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কারণ রাজনীতি, ধর্ম, রাষ্ট্র কিছুই তার বোধগম্য নয়। এই নীরবতাই চলচ্চিত্রটিতে ভিন্ন এক স্পেস বা পরিসর গ’ড়ে দিয়েছে, যেখানে দর্শকরা যার-যার মতো ব্যাখ্যাতৈরি ক’রে নিতে পারে।
এই নীরব আনুই কি রানওয়েতে ইসলামের পক্ষে সরব তরুণ রহুল? সেও মাদ্রাসাছাত্র; কিন্তু তার পরিবার ভিন্ন, অসচ্ছলতায় জর্জরিত; ফলে জীবনধারাও আনুর মতো নয়। সেও দেখে, কিন্তু তার সংগ্রাম আছে, বাঁচার ইচ্ছা আছে। বিদ্যমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সে একটা পথ খুঁজে পায়; তবে তা অন্যের দেখিয়ে দেয়া।রহুল স্বাধীন দেশের নাগরিক হলেও তার কোনো স্বাধীনতা নেই– না অর্থনৈতিক, না সাংস্কৃতিক; ফলে অন্যের দেখানো পথই তার পথ, অন্যের ভাবাদর্শই তাকে চালিত করে। চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত অবিকশিত ও বিভ্রান্ত বাঙালির রূপক। যদিও এই সিদ্ধান্ত স্বস্তিকর নয়, কেননা, রূপকের সমগ্রতাসঞ্চারী শক্তি রয়েছে। তাহলে কি পাশ্চাত্যে গত শতাব্দীতে গ’ড়ে ওঠা আদারনেসের ধারণাটি এই চরিত্রের বিশ্লেষণে প্রযোজ্য? এটা তো নিশ্চিত, দুটি ছবিতেই ধর্ম একটা টুল বা যন্ত্র; ঔপনিবেশিক কাল থেকে বাঙালি একে বুঝতে শেখেনি, স্বাধীন ভূখণ্ডের বাসিন্দা হওয়ার পরও নয়। বাঙালির এই ব্যর্থতা মাটির ময়না ও রানওয়ের প্রতিপাদ্যের প্রধান একটি দিক। তা সত্ত্বেও ছবি দুটি দেখার পর আমরা বলতে পারি না যে, তারেক মাসুদ বাঙালির সমালোচনা করেছেন, দোষ খুঁজে দেখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন স্বাধীনতার আগে-পরের অবস্থা, যা থেকে নানা জিজ্ঞাসার উত্থাপন ঘ’টে যায়। সেগুলোর প্রধান একটি হলো, মানুষের স্বাধীনতা কি কেবল একটি রাষ্ট্র সৃষ্টির মধ্যে নিহিত?
এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। এক সাক্ষাৎকারে তারেক মাসুদ জানিয়েছেন, তিনি সংকেত বা প্রতীকযানে আস্থাশীল নন। কিন্তু তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো, তাদের অভিব্যক্তি, ভাষা বা সংলাপ, ফ্রেমের মধ্যে ঢুকে পড়া একেকটি জগৎ ও অনুষঙ্গ ইত্যাদি তো পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যার পরিসর তৈরি করে, এক ভাবনাকেন্দ্র থেকে আরেক চিন্তায় প্রবেশের পথে নিয়ে যায়; এবং এগুলোর আন্তঃসম্পর্ক ও পারম্পর্য জন্ম দেয় বৃহৎ ও সামগ্রিক ইশারা আর জিজ্ঞাসার জগৎ। মাটির ময়না এবং রানওয়ে নাম দুটি খেয়াল করুন। প্রথমটির কোনো অভিব্যক্তি নেই, কেবল চেহারা কিংবা কাঠামোটাই আছে; দ্বিতীয়টি নির্দেশ করে বৈশ্বিক যোগাযোগের একটা স্থান, যার পাশেই রহুলের পারিবারিক বাসস্থান, কিন্তু প্যারাডক্স ও আয়রনিটা হলো বিশ্ব থেকেই তারা বিচ্ছিন্ন, বা তাও নয়; বাইরের জগতের সঙ্গে তাদের যে সম্পর্ক, তা অস্বচ্ছ, রহুলের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বিভ্রান্তিকর কিংবা একপেশে। আরিফের প্ররোচনায় ধর্মের জিহাদি দৃষ্টিতে সে পৃথিবীকে দেখে। এটাই তাকে মানবিক বিকাশের পথ থেকে পুরোপুরি বিচিছন্ন ক’রে দেয়। কিন্তু তার বাঁচার আকাঙক্ষা আছে, বারবার পরিবারে ফিরে আসার নিরুপায় তাড়না আছে, যেখানে এলে বিমানের ওঠানামা দেখা যায়। এই দৃশ্যের সঙ্গে রয়েছে প্রতিপাদ্যের অর্থবহ সম্পর্ক। তা এই যে, বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণের মধ্যে গতি ও স্থিতি আছে; রহুল ও তার পরিবারের জীবনে তা নেই। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যে ‘রানওয়ে’র প্রতিদিনের সম্পর্ক, তার পাশেই তাদের বিচ্ছিন্ন, স্থবির ও অনিশ্চিত জীবন।
Runway-1দুটি ছবি দেখতে দেখতে মনে হয়, স্বাধীনতার আগে ও পরের বাংলাদেশ সম্পর্কে এই চলচ্চিত্রকার অনেক কথাই বলেছেন। কিন্তু দেখার পর এক অনিঃশেষ নীরবতার মধ্যে আমরা প্রবেশ করি, বাঙালির মূল সমস্যা আসলে কোথায় এবং তা থেকে উত্তরণের ভাবনা এই নীরবতাকে অধিকার করে অথবা করে না; কেননা, এর আখ্যানরেখা কোনো পরিণতির নির্দেশক নয়। আখ্যানের অমীমাংসায় তারেক মাসুদ রেখে দিয়েছেন ব্যক্তির বিকাশের সঙ্গে রাষ্ট্রকাঠামোর সম্পর্ক, মানুষের মুক্তির সূত্র, জাতীয় বিচ্যুতি, ধর্ম ও রাষ্ট্রকাঠামো– এইসব বিষয়। চলচ্চিত্রকে কোনো নৈতিক আদর্শ, মতবাদ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গির দাসে পরিণত করেন নি তিনি। বরং স্বাধীন ও উন্মুক্ত রেখেছেন। কিন্তু সৃষ্টি করেছেন মহৎ এক নীরবতা, যেখান থেকে এই অঞ্চলের মানুষের মুক্তির পথ খোঁজার ভাবনা জেগে ওঠে।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাব্বির জাদিদ — december ৬, ২০১৭ @ ৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

      মাটির ময়না এবং রানওয়ে সম্পর্কে এমন বিশ্লেষণধর্মী লেখা কমই পড়া হয়েছে। লেখককে ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রকাশ বিশ্বাস — december ৭, ২০১৭ @ ৩:২৭ পূর্বাহ্ন

      মুক্তিযুদ্ধের প্রাক পর্ব ও যুদ্ধের মধ্যকার পর্বে একজন বাঙ্গালী মুসলমানের অন্তর্গত জগতের চমৎকার নান্দনিক প্রকাশ মাটির ময়নায় । ইসলামের সহজিয়া সুফি ভাবধারা এসেছে এখানে মোল্লাাতন্ত্রের অচলায়ন ভেঙ্গে। এখানে মুক্তিযুদ্ধকে তিনি সঙ্কীর্ণ রাজনীতির পাঁকে নিমজ্জিত করেননি। নিরবে অনুচ্চকিত ভাবে পোস্টার ফেস্টুন ছাড়াই, ঝান্ডা ধরিয়ে না দিয়েই তারেক মাসুদ জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে মানুষের আশার দিক তুলে আনেন রানওেয়েতে। চঞ্চলের বিশ্লেষন সুন্দর।তাকে ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Faruk Kader — december ৯, ২০১৭ @ ২:০০ পূর্বাহ্ন

      Compared to Matir Moina, Runaway is a poor reflection of the Tareque’s film making capacity, if you put aside its social story content. It was a tailor made to drive home the social message. But it represents Tareque’s deep commitment to bring out the secular character of our nation, which has been threatened by religious bigotry.

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com