শাপলা সপর্যিতা: জন্মমাসের পদাবলী

শাপলা সপর্যিতা | ২৭ december ২০১৭ ৮:৩৭ অপরাহ্ন

Monirul Islam
চলো ধরে রাখি পৃথিবীর যৌবন।
কাম ও প্রেমের বিস্তৃত আলয়ে
জ্বলে উঠুক দীপাবলি।
অনঘ ক্রোধের আগুন
নখ থেকে নাভীতে নেমে আসুক।
ত্রিবেণী সংগতে বেজে উঠুক
আমাদের ব্যথাগুলি।


নাও……
আর পূর্ণ করে দাও তোমার সকল।
বেদনাগুলি ফুল হোক
ফুঠে উঠুক আমার বাগান জুরে।
এ বিপুল অন্ধকারে জ্বলতে দাও চাঁদ।
অথবা জ্বলে উঠুক আজ কিছু নক্ষত্র তোমার
আমার সারা আকাশ ‍ভরে।
এর নাম যদি ভালোবাসা বল
তবে সুর হোক কিছু কাব্য কথায়।

মিলতে দাও কিছু সুখ
বেদনায় বিষণ্ণতায় তোমার আমার।
বেজে উঠতে দাও কিছু গান
মায়া আর মাধুরীতে।
বেঁচে উঠুক এই নিষিদ্ধ প্রেম
বিনাশে বিন্যাসে………।


যখন আমি প্রেমে বিভোর
তুমি ম্রিয়মান চাঁদ
যখন ভাবি মেলবো পাখা
তুমি গুটাও আকাশ
ঝরো বুকে লাল ক্ষত নিয়ে
আমি লুকাই যত রক্তের দাগ।
জেগে রাতে
প্রহরে প্রহরে লিখি প্রেম
রূমীতে বিভোর তুমি
কী-বোর্ডে লিখো জিকির।
গিলে পেগ তিন চার পাঁচ……
আমি নেশায় টাল
তুমি তখন ওপার
নেশাও করেছ প্রচুর
স্বপ্ন দেখি খুব কাছে কাছে আছি
চাঁদের নিচে।
তুমি হেঁটে চলে যাও
দলে জোৎস্না ও পাথর।


সেইসব ভোর শিউলি দিন রেখে দেই ঘ্রাণে
হাতের শাখায় রাখি তার শরীর।
আরও অধিক কিছু – পলায় মাখিয়ে রেখেছি ।
আহা, প্রতিটি মৃত্যুর দাগ এত কী সহজ!
কতবার ঝুলিয়েছ ফাঁসিতে আমার শরীর
সিঁদূর পড়েছি বলে
মুছে দিয়েছ কপালের টিপ
পুড়িয়ে দিয়েছ সিঁথির দাগ।
আল্লাহ্‌ খোদা ভগবান ঈশ্বর
শব্দে শব্দে কত যে খুঁজেছ শিরক্‌
কত আর খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত
বলতো এই দ্বিজ জন্ম?
হায় অবোধ!
কবে ঘুচবে দ্বিধার দিন রাত্রি তোমার!
কবে হবে অবশেষ
মানুষে মানুষে অতুল প্রভেদ!
কবে ইক্‌রার সাথে মিশে যাবে
বেদের পুরাণ বাণী!
বলতো কবে ফাঁসির দড়ি ছিঁড়ে
এ আমারই রক্ত পৃথিবীর প্রাচীন ঘাসের গায়ে
গড়িয়ে গড়িয়ে বয়ে যাবে পুরাতন গঙ্গায়!
তখন আবার আমি
শিউলি কুড়িয়ে মালা গাঁথবো ।
দেবতার বরে আবার রাণী হবো
তারপর, সব শক্তি হরণ করে হলে বিপথগামী
জানি তুমি বসবে আবার সন্ধি পুজায়?


কেবলই ভুলে যাচ্ছি তার নাম
মুখের ছাঁদ চোখের মায়া
কেবলই ভুলে যাচ্ছি তার হাসি
গালের টোল কিংবা কুটুমবাড়ির কফি
কেবলই ভুলে যাচ্ছি সিগারেটের ধোঁয়া
ঘরের দেয়াল যমদূতের ছায়া
ভুলে যাচ্ছি ঘড়ির ব্ল্যাক বেল্ট
দ্বিধার দিনরাত মানুষের মায়া
ভুলে যাচ্ছি প্রেম লিবিডো বাতাস
কাম ক্রোধ সঙ্গম শীৎকার
জলে ভাসছি জলে নাচছি
জলে স্বপ্ন দেখছি রঙিন
নেশা করছি ……
মাতলামিও চলছে বেশ
দিনকে রাত আর রাতকে দিন ভাবছি
কমে আসছে প্রহরে প্রহরে দূরত্ব
কমছে মানুষ পশুর ভেদ
সাধু আর চোরের চেহারা ভুলে যাচ্ছি
ভুলে যাচ্ছি নিজের নাম
ছায়া নামের এক নিরেট প্রতারণা
গ্রাস করেছে এখন পুরোটাই আমার।


সে পাখি
যে পাখি
টুকটুকে লাল ।
তার লাল ঠোঁটে শুধু খুঁটে।
খুঁটে খেয়ে গেছে হৃদয় ।
হৃদয় আজ চেনেনা আর।
চেনেনা অন্য কারে।
কারে ভালোবাসে?
ভালোবাসে কোন্ ফুল?
ফুলে কত আছে মধু ?
মধু কত আজও?
কার অন্তরে ঢালে সুধা…
সুধার খবরে আজ আর
কাজ নাই তার কোনো।


ছায়াটাও অস্পষ্ট ছিল সেদিন
আড়াল ছিল কার ছদ্মবেশ!
সাধু কিংবা তস্কর
কার সাথে ছিল আমার
নিত্য সহবাস!
মায়া আর মরিচীকায় ভেদ
কবে হায় ঘুচবে আবার!


শব্দের মাঝে বড় একা থাকি
নিঃশব্দে হাঁটি রাতের কার্ণিশে।
তবু কোনো কোনো রাতে জানালা গলে
চাঁদ ঢুকে পড়ে কফিনে আমার।
অঞ্জলীতে তুলে ধরি ঈশ্বরের মুখ
তাও গলে পড়ে যায় আঙুলের ফাঁকে
জোৎস্নার মতো।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com