মিলটন রহমানের পাঁচটি কবিতা

মিলটন রহমান | ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

Monirul Islam
নতুন

ঘুঙুর বাজছে কোথাও, এই সোনালী সকালে বাজছে
ঘূর্ণির মত উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে জং-ধরা হলুদাভ দিন
জলসার রূপোলী আলোয় আমি জেগে উঠছি মাতাল,
মন্দাকিনী তুমি নিজেকে আরো জলজ বিকর্ষিত করো
দেহের ভাঁজ থেকে উত্থিত আলোয় তুলে নাও অমসৃন
তোমার সম্মুখে সহস্র বছর বসে রইবো হে মথুরাদেবি।

ঘুঙুর আর মন্দাকিনী দুই মিলে এই সকালে হাসছে
ভাসছে তুমুল কুঞ্জাভিভূত টঙ্কাপতির দেরাজে
কোথায় কোন কালে জেগেছিলো নতুন নগর
সেই বার্তা এতোদিন জানানো হয়নি কোথাও
এই ভোরে নতুন নগর পত্তন করো হে মন্দাকিনী
মুছে দাও সকল পাপ ও পঙ্কিল রাষ্ট্রের নাম
নতুন নগর তোলো, মন্দাকিনী নগর
যেখানে শুধুই প্রেম রইবে, জেগে রইবে সোনালী ঘুঙুর।


সম্পর্ক

রাত ভাঙতে ইচ্ছে করে না আর
যন্ত্রীরা সব সুর খুলে ঝুলিয়ে গেছে
এমন নিকষ হৃদপিন্ড থেকে উৎসারিত মীড়
ভাঙতে গেলেই উঠে দাঁড়াবে হরিয়াল বন
পতেঙ্গায় পাথর ফাটিয়ে কারা রেখে গেছে কান্না
তার খোঁজ নিতে পরিক্রমন করেছি সহস্র চোখ
অমৃতের বদলে বিষ পানে বেঁচে থাকে ওরা
আমৃত্যু পাঁজরে পুষে রাখে সমুদ্রের ঢেউ।
যারা বালির ওপর জাহাজের ছবি এঁকেছিলো
তারাও জোয়ারের সূত্র জানে না
কামুকের কাছে যারা স্মৃতি রেখে গেছে
তারা সমুদ্রের গভীরতা জানে না
তারা সকলেই হারিয়ে গেছে যে যার মত
কেবল আমি বসে আছি সকল সূত্র ছিন্ন করে…

সুর

রাতের সাঁকোয় বসে গান পান করেছি
ভেঙে ভেঙে সুর
কেটে কেটে তাল
যন্ত্রের ঘনায়মান তানের শরীর চিরে
উর্ধ্বে উঠে যাওয়া মীড়ের সাথে
গান পান করেছি
বক্ষের টব থেকে উত্থিত গান পান করেছি
ভেঙে ভেঙে চোখের বহর
কেটে কেটে ঠোঁটের নহর
তোমার উচ্চকিত আকাশ বহর চিরে
নিম্নমুখী জলের স্রোতের সাথে
গান পান করেছি।

গান পান করেছি আর
নেশায় বুঁদ হয়ে
কখন যে তোমার সুরে চালান হয়েছি
তা টের পেলাম নিজের অস্তিত্ব আবিস্কারে
কোন মতেই নিজেকে খুঁজে পেলাম না
মোহ কেটে কেটে
যন্ত্রের ঘোর ছেটে
বুঝতে পারি আমি নেই।

প্রকৃতি

প্রাচীন ব্রীজ থেকে নামছে গোলাপজল
মোমের খুঁটিজোড়া মজবুত রাখো নারী
বিরতিকালে স্টীমারে জমা করি দম
খরা কেটে গেলে পাড়ি দেবো মন্দাক্রান্ত নদী

আমি বেপরোয়া নই
জেগে থাকা চরে আটকে থাকতে পারি
খুঁজে নিতে পারি ব্রীজের গভীরে
প্রাচীন নগর…

কত মায়া রাখো হে নারী
ব্রীজের দৃশ্য নড়ে না আর
প্রাচীন দেয়ালে জং খুঁড়ে
নতুন আবিষ্কারে মজে থাকি
নারী গোলাপজল আর চাই না
সে কেবল অপেক্ষায় রাখে…

শিকার

আজ ফলের উদ্যানে কয়েন বিনিময় করেছি
হত্যা করেছি আপেল, পিয়ারস, স্ট্রবেরিসহ
আত্মহননে অপেক্ষারত অসংখ্য বেনামি ফল
ভাড়া করা ট্রলি বোঝাই করে রক্তস্নাত ফলগুলো
দাফন করেছি সমুদ্রপাড়ে পরিত্যক্ত গোরস্থানে
কেননা স্বর্গের বাগান ভেবে যে ফলের উদ্যান
রচিত হয়েছে,
তাতে অনাহুত বিফলেরা নকল চেহারা ধারণ করেছে
ওরা জানে না আমি বাঘ-শিকারী
কড়ি বিনিময়কালে ভুল করলেও উদ্যানের মাটি ছুঁয়ে
জেনে যাই বাগানের খবর
একে একে দ্বিখন্ডিত করে হৃদপিন্ড থেকে
তুলে আনি হরেক ফলের আদি পরিচয়
আমি তো বাঘ-শিকারী
আত্মাহুতির ভয়ে কেউ যদি বাঘের খোলস পড়ে
সেও আমার শিকারে উঠে আসে,
আমি তো শিকার ছাড়তে অভ্যস্ত নই
ফলেদের আজ জানিয়ে দিয়েছি
বর্ণ পরিচয়হীনদের দিকে তাক করেছি নিশানা
বিভ্রমকালেও লক্ষ্যচ্যুত হতে শিখিনি আমি।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com