অক্তাবিও পাস: ভারত এমন এক আধুনিকতা দিয়ে শুরু করেছে যা স্পানঞলদের চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৩ অপরাহ্ন

Mexican poet Octavio Paz
‘চিত্র: ভারতবর্ষ বিষয়ক স্বরচিত বই হাতে অক্তাবিও পাস
তিনি কেবল সৃষ্টিশীল কবিই ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাস ও রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, শিল্প ও সমাজতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বসহ মানবসভ্যতার নানান বিষয়ে পান্ডিত্যের অধিকারী ও ব্যাখ্যাকার। স্বাভাবিক কারণেই এ ধরনের ব্যক্তিত্ব গণমাধ্যমসহ বিদ্যায়তনের ভাবুক ও লেখকদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে মতামতের উৎস হয়ে ওঠেন। অক্তাবিও পাস তাই লেখালেখির বাইরেও জীবদ্দশায় লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ সাক্ষাৎকারদাতাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। অসংখ্য বিচ্ছিন্ন সাক্ষাৎকার ছাড়াও এককভাবে নেয়া তার সাক্ষাৎকারের আছে একাধিক গ্রন্থ, যেমন এলেনা পনিয়াতৌস্কার নেওয়া Las Palabras del Arbol কিংবা ব্রাউলিও পেরাল্তার নেয়া গ্রন্থ El Poeta en su tierra । স্বাভাবিক কারণেই তার বৃহদায়তনের সাক্ষাৎকারে অনিবার্যভাবে এসে পড়বে ভারতের প্রসঙ্গ যেহেতু সবারই জানা যে তিনি ভারতে মেহিকোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর এবং তার নানান ধরনের লেখায় রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির উল্লেখ ও সৃষ্টিশীল প্রভাব। কেবল, বিভিন্ন লেখাতেই নয়, গোটা একটি বই-ই তিনি লিখেছিলেন ভারতবর্ষ নিয়ে। সাংবাদিক ও লেখক ব্রাউলিও পেরাল্তা যখন পাসের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন তখন ভারতবর্ষ নিয়ে পাসের লেখা Vislumbres de la India বইটি মাত্র প্রকাশিত হয়েছে। ব্রাউলিও পেরাল্তার El Poeta en su tierra নামক গ্রন্থদীর্ঘ সাক্ষাৎকারের একটি পর্ব ছিল ভারতবর্ষ নিয়ে। পাস তার স্বভাবসুলভ স্বচ্ছতা ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণসহ মেহিকোর সাথে ভারতের বিভিন্ন দিক তুলনা করে দেখিয়েছেন পরস্পরের স্বাতন্ত্র্য ও সাযুজ্য, শক্তি ও দুর্বলতাগুলো। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন।
সাক্ষাৎকারগ্রহিতা ব্রাউলিও পেরাল্তার জন্ম ১৯৫৩ সালে মেহিকোর বেরাক্রুসের অন্তর্গত তুক্সপান-এ। পেশায় তিনি সাংবাদিক। La Jornada-র সাংবাদিক এবং পরে Equis, cultura y sociedad-এর সম্পাদক ব্রাউলিও পেরাল্তা পাসের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। সাক্ষাৎকারগুলো প্রকাশিত হয়েছিল unomasuno এবং La jornada নামক মেহিকোর প্রথম সারির দুটো পত্রিকায়। এগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে স্বয়ং পাস দেখে দিয়েছিলেন। বাংলা এ তর্জমাটি সাক্ষাৎকারগ্রহিতার অনুমতিসাপেক্ষে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। বি. স.

Braulio
‘চিত্র: ব্রাউলিও পেরাল্তা ও অক্তাবিও পাস

ব্রাউলিও পেরাল্তা: দন অক্তাবিও, রাজনীতি নিয়ে কথা বলবেন না- তা কী করে হয়?
অক্তাবিও পাস: আজকে না।
পেরাল্তা: যে-মেহিকোতে আমরা বসবাস করছি তা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না?
পাস: এ নিয়ে বলেছি তো…
পেরাল্তা: সর্বশেষ রাজনৈতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে সবাই আপনারা মন্তব্য শুনার অপেক্ষা করছে আর…
পাস: আজকাল সবাই রাজনীতির কথা বলে। বলে অনেক কিন্তু ওতে বক্তব্য সামান্যই। আজকে আমরা ভারতের সামান্য আভাস (Vislumbres de la India) নিয়ে কথা বলবো। তারপরেও আমরা মেক্সিকান বিষয়গুলোতে আলোকপাত করবো কারণ এই বইয়ে মেক্সিকোর উপস্থিতি রয়েছে। আমার দৃষ্টিভঙ্গিটা হচ্ছে ভারতে এক মেহিকানোর, এই অর্থে যে বারবার মেহিকোর ইতিহাস এবং এর বর্তমান সময় থেকে উদাহরণ হাজির করবো।
অক্তাবিও পাস আমাদেরকে তার রেফর্মা এভিন্যুর বাসায় গ্রহণ করেন। সাহিত্যে প্রথম মেহিকানো হিসেবে নোবেল পুরস্কার (১৯৯০) পাওয়ার পর থেকে কোনো কিছুই বদলায়নি। তার মধ্যে রয়েছে আভিজাত্য ও মহিমার ছটা। অসংখ্যা বইপত্র। ঘরের মধ্যে বেশিরভাগই ভারতীয় নানান জিনিসপত্র। তার স্ত্রী মারি হোসে, প্রতিবেদকের জন্য অপোর্তো (ওয়াইন) আর কবির জন্য আপেলের রস আনার হুকুম দিলেন। জানালা থেকে একটি বেড়াল উঁকি দিলো পড়ার ঘরে। পাসই প্রশ্ন দিয়ে শুরু করলেন:

বলুন, কী জানতে চান?
পেরাল্তা: `ভারতের সামান্য আভাস'( Vislumbres de la India)-এ প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে তাহলো স্মৃতিচারণ, বা আত্মজৈবনিক ব্যাপারটাকে প্রতিরোধ করা। শেষ পর্যন্ত আপনি যেহেতু লেখক তাই এই ব্যাপারটাকে কেন অনিশ্চিত করে রাখছেন?

পাস: আমার স্মৃতিকথা লেখার প্রলোভন সবসময়ই ছিল। আমি লিখিনি এটা সত্যি, তবে প্রতিরোধ করিনি; আমার লেখার চারপাশে একটু একটু করে তা জড়ো হয়েছে, সেটাকে একটা জীবনী হিসেবে দেখা যেতে পারে বা অনুমান করা যেতে পারে। যেমন, ভারতে আমার অভিজ্ঞতার প্রতিফলনগুলো পূর্বের ঢালু (Ladera este) কাব্যগ্রন্থে রয়েছে। কোনো কোনো কবি আছেন যাদের কাছে কবিতা প্রাত্যহিক সৌভাগ্য। আমার নিজের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এরকমই। Ladera este কাব্যগ্রন্থে ভারতে আমার অবস্থান ও ভারত সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়াগুলো প্রকাশিত হয়েছে। Mono gramatico নামে আমার অন্য একটি বই যার ভিত্তি হচ্ছে ভাষার সাথে সম্পর্কিত যৌনকামনা। এতে আছে এক বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, তবে তা জীবন্ত এক দৃষ্টিভঙ্গি। ভারত সম্পর্কে আমার তৃতীয় গ্রন্থ Vislumbre de la Indiaতে ছিল অন্য এক প্রস্তাবনা।

আমি যখন ভারতে এলাম, তখন সবই আমাকে অভিভূত করেছে, সব কিছুই আমার কাছে অদ্ভূত মনে হয়েছে। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত যে ক’বছর আমি ওখানে ছিলাম সে সময় আমি এদেশকে বুঝতে চেয়েছি। এই বইটি এই বুঝতে চাওয়ার ফল। এই কারণে বইটির নাম Vislumbre de la India. বইটি লেখা হলো অনেক বছর পর, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ১০ বা ১৫ বছর পরে লেখা। এক শুভ দিনে, যদি ততদিন বেঁচে থাকি, তাহলে আপনি যা চাইছেন সেই স্মৃতিকথা হয়তো লিখবো।

পেরাল্তা: বইয়ে বুদ্ধবাদ বিষয়ে কথা আছে এবং যে-কেউ এটা ভাবতে পারে যে এর প্রতি অক্তাবিও পাসের একটা পক্ষপাত রয়েছে। আধুনিক অনেক কবিরই তা ছিল …
পাস: এটা অনেকটা জীবনীর জন্যই বলা… তবে একটা কথা স্বীকার করি: হ্যাঁ, একটা সময়ে বুদ্ধবাদের প্রতি আমি প্রলোভন অনুভব করেছি। এক্ষেত্রে আমিই একমাত্র নই, এলিয়টও তা অনুভব করেছেন। এবং শোপেনহাওয়ার। অন্যান্য কারণের মধ্যে মৌলিক যে-বিষয়ে আমি থমকে গিয়েছিলাম তাহলো বুদ্ধবাদের কেন্দ্রির বিশ্বাস, অর্থাৎ পূর্ববর্তী অস্তিত্বসমূহের ধারণা। পরে, এমন একটা ব্যাপার ঘটলো যা কম নিষ্পত্তিকারক নয়, আর তাহলো ১৯৬৮ সালে তরুণদের মহাবিদ্রোহ, আমি তখন ভারতে বসবাস করছি। হিমালয় থেকেই আমি এই বিদ্রোহ অনুসরণ করছিলাম। সেই বছর ভয়ংকর গরম থেকে বাঁচার জন্য আমরা একটা পাহাড়ে বাস করছিলাম। প্যারিসের ঘটনাবলীর সংবাদগুলো আমাকে এটা শিখিয়েছিল যে বিদ্রোহটা অর্থহীন ছিল না। এই অভিজ্ঞতাই ছিল একক-মুক্তির ধারণার বিরুদ্ধে আমার সমালোচনা। অন্যদের মধ্যে না থেকে কিংবা অন্যকে ছাড়া কোন মোক্ষলাভ নেই। সূর্যশীলা (Piedra de sol) নামক এক কবিতায় আমি বহু বছর আগে এই কথাটাই বলেছিলাম, (“কারণ আমার মুক্তির–পাস লিখেছেন– আছে সীমা: অন্যদের মুক্তি। আমার মুক্তি অন্যভাবে রূপান্তরিত হয় স্বৈরাচারে…”)
পেরাল্তা:পরিষ্কারভাবেই লক্ষ্য করেছি বইটি কোনো স্মৃতিকথা নয়, বরং প্রবন্ধ, কিন্তু যে কেউ জানতে চাইতে পারে সেখানে কিভাবে বসবাস করতেন, যাকে আপনার “দ্বিতীয় জন্ম’ বলে অভিহিত করা হয় তার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল? সেখানেই তো মারি হোসের সাথে আপনার পরিচয় ও পরিণয়। ভারতে আপনার বন্ধুদের সর্ম্পকেও জানতে চাই…

পাস আমার ভারতীয় বন্ধুদের সহযোগিতা ছাড়া এই বই লেখা সম্ভব হতো না। প্রচুর পড়েছি, ঘুরেছিও প্রচুর, গাড়িতে করে মারি হোসেসহ ভারতের সর্বত্র ঘুরেছি। বিমানে চড়ে নয় কিন্তু! বহু জায়গায় গিয়েছি। কল্পনা করে দেখুন, দিল্লী থেকে রওয়ানা হয়ে ভারতের কেন্দ্র থেকে একেবারে দক্ষিণে সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছি। কিছু দিন শ্রীলঙ্কায় কাটিয়েছি। অন্যদিকে, বেশ কয়েকবার আফগানিস্তান গিয়েছি। পুরো পাকিস্তানের মধ্য দিতে যেতে হয়েছিল, বহু দিক থেকেই পাকিস্তান এক চমৎকার দেশ। এসবই ছিল ভারতকে বার বার চেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা, এই দেশটি এতই বড় যে আসলে, এটাতো এক উপমহাদেশ। হয়তো স্মৃতিকথা লিখতে পারলে ভালো হতো। শুধুই ভ্রমণের কাহিনী হয়ে পড়বে এই ভয়ে আমি আর লিখিনি। স্থানীয় লোকদের বন্ধু হওয়ার সুবিধা আমি পেয়েছিলাম যা খুব অল্প কূটনীতিবিদই পেয়ে থাকেন। খুব অল্প সংখ্যক বিদেশী লেখকরাই এ সুবিধা পেয়ে থাকেন। দিল্লী, মুম্বাই, কোলকাতা, মাদ্রাজ কলোম্বোসহ বিভিন্ন জায়গার লোকজন যেমন তেমনি বিভিন্ন ধরণের লোকজন কবি, চিত্রশিল্পী রাজনীতিবিদ লেখক সাংবাদিকের সাথে পরিচয় হয়েছে, এইসব বন্ধুদের ছাড়া লেখা সম্ভব হতো না…
পেরাল্তা: মনে হয় স্প্যানিস ভাষার আধুনিক এক লেখক কর্তৃক রচিত ভারতের সভ্যতার বাস্তবতা সম্পর্কে প্রথম প্রামান্য গ্রন্থ।
Vasconcelos
পাস: মেহিকোতে কিন্তু এক্ষেত্রে একজন পূর্বসুরী ছিলেন: হোসে ভাস্কনসেলোস। ১৯২০ সালে তার Estudios Indostanicos বইটি লিখেছিলেন। ভারতে অবস্থানের কোনো রকম অভিজ্ঞতা ছাড়াই ওটা ছিল ভারতের ভাবুকতা সম্পর্কে শুধু ইংরেজি ভাষার লেখকদের ভিত্তিতে লিখিত এক বই। যদি মনে করতে ভুল না করি বইটি লেখা হয়েছিল নিউ ইয়র্কে থাকা অবস্থায়। আমার মতো বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা হয়নি সেটি। আমার বইটি হচ্ছে ভারতে বসবাসকারী লাতিন আমেরিকার এক লেখকের স্প্যানিশ ভাষায় লেখা প্রথম প্রামাণ্য গ্রন্থ।
পেরাল্তা: ভারত আপনার মধ্যে আবেগময় শৈল্পিক ও আত্মিক যে প্রভাব ফেলেছে সে সম্পর্কে আপনি লিখেছেন…
পাস: হ্যাঁ, কয়েকটি এপিগ্রামও আছে।
পেরাল্তা: এবং Mono gramatico বইটিতে ভারত সম্পর্কে গদ্যে লেখা একটি ছোট্ট দৃশ্যরূপ পাওয়া যাবে।
পাস: হ্যাঁ ছোট্ট, জানি না ছোট্ট কিনা…
পেরাল্তা: না না, ছোট্ট নয়, কিন্তু Vislumre de la India নতুন কী যুক্ত করছে আগের বই দুটোয়?
পাস: Ladera este হলো কবিতার বই। এটায় চিন্তার অভিব্যক্তি নেই, আমি এতে ঐতিহাসিক সমস্যাগুলোকে প্রোথিত করিনি, এতে ইতিহাস নেই, নেই প্রবন্ধও… যদিও এক অর্থে আছেও, কারণ কবিতায় সবসময়ই ভাবুকতা আছে। একই কথা বলা যেতে পারে Mono gramatico বইটির ক্ষেত্রেও, ওর মূল বিষয়ের মধ্যে যেটা আছে তা হলো স্থান ও ভাষা সম্পর্কে প্রেম, নির্দিষ্ট কিছু উদ্বেগ, হয়তো বা আবেশও ওতে আছে।

যেমন ভারতের গালতা (Galta) এবং ক্যাম্ব্রিজের ইংরেজি ল্যান্ডস্ক্যাপের মধ্যে একটা ধারাবাহিক সহাবস্থান রয়েছে। দুটো বই-ই লিখিত হয়েছে তৃতীয় বইটির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থাৎ Vislumre de la India-এর পরিপ্রেক্ষিতে… এ বইটিতে একটা আত্মজৈবনিক ভূমিকা লেখা আছে, ভারতকে আমি পন্ডিতের মতো, বিশেষজ্ঞের মতো চিনিনি। আমি স্রেফ ওখানে থেকেছি। বইয়ের বাকি অংশ হচ্ছে ভারতের সভ্যতা ও ইতিহাসের ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ। আমার মনে হয় এই দেশটিকে (Mundo শব্দটি ব্যবহার করেছেন পাস, যার আক্ষরিক অর্থ জগত) যারা এর আলো ছায়ায় চিনে নিতে চান তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য রয়েছে আমার বইটিতে। তিনটি মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আমি একটু থামবো: ‘বর্ণপ্রথা’ যার অর্থ আসলে ‘শ্রেণী’ নয়, যেমনটা আমরা এই শব্দটির মাধ্যমে বুঝে থাকি। আরেকটি হচ্ছে জাতিগত, সাংস্কৃতিক ও ভাষিক বহুত্ব এবং সর্বশেষ ধর্মীয় প্রশ্নের কারণে নিরঙ্কুশ একেশ্বরবাদী ইসলাম ধর্ম ও বহু-ঈশ্বরবাদী হিন্দু ধর্মের মধ্যে দ্বন্দ্ব।

ভারতেক বুঝতে হলে এটা বুঝা দরকার যে বর্ণপ্রথা পশ্চিমী অর্থে শ্রেণীসমূহ নয়। ধর্মীয় ধারণার ভিত্তিতে বর্ণপ্রথা অনড় ক্রমাধিকারসম্পন্ন এক সমাজ তৈরি করেছে। কর্ম-এর ধারণাই এখানে নির্নায়ক: নির্দিষ্ট একটি বর্ণগোষ্ঠীতে আমরা জন্মাই, বাঁচি এবং মরি যেমনটা মধ্যযুগে আমীর বনিক দাস বা কারিগরদের জন্ম হতো। বর্ণপ্রথা হচ্ছে মূলত হিন্দু আদর্শের পরিপ্রেক্ষিত থেকে কতগুলো ধর্মীয় বিন্যাসক্রম, তবে এটাকে আবার পেশাগত বিন্যাসও বলা যায়, যেমন ছ্যাকড়াদের বর্ণ বা চাষীদের বর্ণ, ক্ষত্রিয়দে বর্ণ–অর্থনৈতিক কারণ ও খাদ্যাভ্যাসও বর্ণভেদের মূলে সক্রিয়–যেমন কেউ নিরামিষভোজী তো অন্যজন তা নয়। শেষ পর্যন্ত বন্ধনের সম্পর্কগুলোকেই অনুসরণ করে তারা। যেমন ক বর্ণের কেউ খ বর্ণের কোনো নারীকে বিয়ে করতে পারবে, কিন্তু সে গ বর্ণের নারীকে বিয়ে করতে পারবে না। বর্ণপ্রথার পাশাপাশি রয়েছে ভাষিক বহুত্ব। এটা এমনই এক বিষয় যা মেহিকোতে নেই; খুবই অল্প মাত্রায় আছে। এখানে মায়া বা নাউয়াতল ভাষায় কথা বলার মতো লক্ষ লক্ষ লোক নেই। অন্যদিকে ভারতে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ১৪টি ভাষা রয়েছে, যদিও ১৯২৭ সালে ১৭৯টি ভাষা এবং ৫৪৪টি আঞ্চলিক (Dialectos) ভাষার অস্তিত্বের কথা স্বীকার করা হয়েছে। তাছাড়া বেশ কিছু সাদৃশ্যও আছে….
পেরাল্তা: আমরা এই সাদৃশ্যের জায়গায় ফিরে আসছি। এর আগে জানতে চেয়েছিলাম আপনি যখন ১৯৬৮ সালে ভারত ছেড়ে চলে এলেন তখন বইয়ের শেষে কেন মেহিকোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে পদত্যাগের কারণগুলো উল্লেখ করলেন না। সবাই জানে যে ১৯৬৮ সালে ত্লতেল্কোতে হত্যাযজ্ঞের কারণেই পদত্যগ করেছিলেন, যদিও এসব ঘটনা আপনার Post data বইয়ে বলা হয়েছে…
পাস: মনে হয় আপনি ভুল করছেন। বইটির শেষ অধ্যায়ে পরিস্কারভাবে কারণটা ব্যাখ্যা করা আছে, যদিও সংক্ষেপে। আমি অনুরোধ করেছিলাম এই বিরোধের যেন রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ একটা সমাধান করা হয়। আমার কথা তারা কানে তোলেনি এবং আমি পদত্যাগ করেছি।

পেরাল্তা: তখন থেকেই যেটা লক্ষ্য করা গেছে তাহলো আপনি আর কোনো সরকারী পদ গ্রহণ করেননি। অন্তত দৃশ্যত।

পাস: দৃশ্যত এবং অদৃশ্যতও।
পেরাল্তা: ভারত থেকে চলে আসা এবং ৬৮ সালের বিষয়টাকে আরেকটু বিস্তৃত করলেন না কেন?
পাস: Post data বইটিতে সব আছে তো এবং বিস্তৃত আকারেই আছে। Post dataq য় আমি যথেষ্ট স্বচ্ছতার সাথেই আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি, যে-অবস্থান মৌলিকভাবে বদলায়নি।
পেরাল্তা: কূটনৈতিক জীবনের অভাব আপনি অনুভব করেন কি?
পাস: না, কখনোই তা অনুভব করিনি। কূটনৈতিক পেশায় আমি ঘটনাক্রমে প্রবেশ করছি। আমি কূটনীতিবিদ হতে চাইনি, যদিও আমার সবসময়ই এটা মনে হয়েছে পৃথিবীকে জানার এবং কিছুটা লেখালেখি করার জন্য এটা একটা ভালো সুযোগ। আমার ক্ষেত্রে বরং এই পেশাটা ছিল দুর্ঘটনাপূর্ণ। আসলে আমাকে কখনোই কেউ গোনার মধ্যে ধরেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে উত্তম বন্ধুদের মধ্যে যাকে পেয়েছিলাম সে হলো হোসে গরোস্তিসা। যার বদৌলতে এই পেশায় প্রবেশ করেছিলাম তিনি হলেন সেই সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সচিব ডক্টর কাস্তিইয়ো নাহেরা, এক প্রবীন বিপ্লবী, আমার বাবার বন্ধু ছিলেন তিনি। এর আগে যে দুজন লেখক আমাকে এই পেশা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা হলেন আলফনসো রেইয়েস ও পাবলো নেরুদা। আমার কোনো অনুশেচনা নেই। সবটাই ছিল সেই সময়ের এক ঘটনাপ্রবাহের ফল।
সকালবেলাটা বৃষ্টিমুখর হলেও কবির বৈঠক খানাটা হয়ে ওঠে এক স্বাগতিক আশ্রয়। অক্তাবিও পাস আরেক গ্লাস আপেলের শরবত পান করেন আর সাংবাদিক পান করেন আরেক দফা অপোর্তো ওয়াইন, কোন রকম বিঘ্ন ছাড়াই আলাপচারিতা অব্যাহত থাকে। বেড়ালটি ইতিমধ্যে উধাও।

পেরাল্তা: আমরা ভারত ও মেহিকোর মধ্যে সাদৃশ্যের জায়গাটিতে আসি। ঠিক মূল্যায়ন নয়, আপনি উভয় দেশের মধ্যে একটা ধারাবাহিক তুলনা হাজির করেছেন: মরিচের কথা বলেছেন চিকোসাপোতের (সবেদা ফল) কথা বলেছেন, নানান ধরনের মসলা এবং আমাদের বিভিন্ন রকম মোলের (Mole) কথা বলেছেন, তরতিইয়া (মেহিকানো রুটি) এবং চাপাতির কথা বলেছেন, চিনা পবলিনা (এক ধরনের বস্ত্র) এবং ভারতীয় উৎস সম্পর্কে বলেছেন…..
পাস হাসলেন। পরে ব্যাখ্যা করে বললেন:
এসবই আমাকে খুব কৌতুহলী করে তুলেছিল। এবং ধর্মও। বইটিতে এবারই যে কথাটা বললাম তাহলো সম্ভবত মেহিকানোদের কাছে কেন্দ্রিয় এক চরিত্র হচ্ছে বির্হেন দে গুয়াদালুপে। তার মাধ্যমেই মেহিকোতে ক্যাথলিকবাদ শেকড় চাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতে দেবীরাও কেন্দ্রিয় চরিত্র।

পেরাল্তা: তবে তা মেহিকোর ক্যাথলিকদের বির্হেনের মতো নয়।
পাস: না, তা নয়, সেটা খুবই আলাদা। নামটা বির্হেন (Virgen)। হিন্দু দেবীরা প্রেমময়ী।

পেরাল্তা: আমেরিকায় স্পানঞলরা বিজয়ের সমাপ্তি টেনেছে তাদের ভাষা ও ধর্ম আরোপের মাধ্যমে। ভারতে ইংরেজরা একমাত্র যে জিনিসটি চাপিয়ে দিয়েছে তা হলো ওদের ভাষা। আপনি কি এব্যাপারে একমত?
পাস: না। প্রথমত তারা স্থানীয় ভাষাগুলোকে ধ্বংস করতে পারেনি। অন্যগুলোর উপর তা চাপিয়ে দেয়নি। একই সময়ে তারা ভারতের সাথে অনেক কিছুর পরিচয় ঘটিয়েছে যেমন ইউরোপীয় চিন্তা, বিজ্ঞান, দর্শন জনপ্রশাসন, আধুনিক সেনাবাহিনী, এবং সবচেয়ে বড় অর্জন যেটা তাহলো রাজনৈতিক গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা।
পেরাল্তা: কিন্তু আপনি বলছেন যে ভারতে মূলত ইংরেজি ভাষাটা এক ঐক্যবিন্দু, এই ভাষার মাধ্যমে তারা যোগাযোগ করে এবং ৮৭ নং পৃষ্ঠায় ভারত আসলেই একটা জাতি কিনা সেই প্রশ্ন তুলেছেন

পাস: ভারতের মতো, মেহিকোও একটি জাতি-প্রকল্প(Proyecto de Nacion)। ইতিহাসে যে-দুটো প্রকল্প মূর্ত ও প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো টেকসই, এর কারণ ভারতে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মগুলোর সহনশীলতা। মেহিকোতে খানিকটা সে রকমই ঘটেছে। পার্থক্যটা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে এভাবে: মেসোআমেরিকানোদের বহুঈশ্বরবাদ মুখোমুখি হলো স্পানঞলদের একেশ্বরবাদের সাথে। ক্যাথলিক একেশ্বরবাদের একটা কাল্ট (Culto) রয়েছে ভার্জিন, সাধুসন্ত ও শহীদদের ঘিরে। এসবই হচ্ছে প্যাগানদের প্রাচীন বহুঈশ্বরবাদ ও ইহুদী নিরঙ্কুশ একেশ্বরবাদের মধ্যে এক অঙ্গীকার যা মোহিকানো আদিবাসীদের জন্য সেতু হয়ে উঠেছিল। আমার বিচারে যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো মেসোআমেরিকানোদের ধর্ম ও রাজনীতি এই মিথের উপর রচিত যে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল যুদ্ধের দেবতাদের দ্বারা এবং যুদ্ধটা ছিল নক্ষত্রের বিরুদ্ধে সূর্যের এবং সর্বোপরি দেবতারা মানব সৃষ্টির লক্ষ্যে আত্মোৎসর্গ করেন। ক্যাথলিক স্পানঞলরা যে ধারণাটি এখানে নিয়ে এসেছিল তা একটু ভিন্ন, কিন্তু সাযুজ্য আছে, আর সেটা সেতুবন্ধ হিসেবে কাজও করেছে। ধারণাটা হচ্ছে এমন এক দেবতার ভাবমূর্তি যিনি আমাদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। যিশু এবং ক্রশ। ভারতে একেশ্বরবাদ নিয়ে এসেছিল মুসলমানরা, যে-একেশ্বরবাদ সব ধরনের বহুঈশ্বরবাদকে প্রত্যাখ্যান করে। দুই ধর্মের সম্পর্কের অবসান ছিল চূড়ান্ত ও অসংশোধনীয়।
পেরাল্তা: আপনি কি মনে করেন স্পানঞল ছাড়া অন্য সংস্কৃতিগুলোর সাথে মিশ্রণের অনুপস্থিতি লাতিন আমেরিকার জন্য সুফল বয়ে এনেছে? আপনাকে এই প্রশ্ন করার কারণ হলো, ভারতে তো বিচিত্র ধরনের মিশ্রণ ঘটেছে।
পাস: হ্যা, ভারতে বহু ধরনের মিশ্রণ ঘটেছে। মেসোআমেরিকায় ঘটেনি। এটাই ছিল লাতিন আমেরিকার প্রাচীন সংস্কৃতিগুলোর বিরাট মৌলিকত্ব এবং বিরাট দুর্বলতাও।
শুরু থেকেই ভারতের সাথে গ্রীক, রোমান এবং চিনাদের সম্পর্ক ছিল। পরে, হাজার বছরেরও আগে এলো মুসলমানরা, তারপরে এলো ইউরোপীয়রা, বিশেষ করে ইংরেজরা যারা কিনা ভারতীয়দেরকে পদানত করে এবং ভারতের জাতিদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে। কিভাবে তারা এই সভ্যতাকে ধরে রাখতে পেরেছে? ইহুদি, হিন্দু এবং চিনা–কেবল এই তিনটি সভ্যতার উদাহরণই আমরা দেখতে পাবো যারা সময়কে প্রতিরোধ করতে পেরেছে।
পেরাল্তা: Vislunbre বইটিতে ‘জাতি-প্রকল্প’ নামে একটা অধ্যায় আছে, সেখানে কট্টরপন্থা (Extremism) বিষয়ে কথা আছে যা আমাদেরকে যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়, অন্যদিকে, শব্দরা আমাদেরকে নিয়ে যায় সংলাপের দিকে। আর এটা অনুমান করা যায় যে এই সংলাপের মাধ্যমে ভারতকে ন্যায়ের দিকে, প্রগতি ও আধুনিকতার দিকে নিতে গেলে সময়টা খুব দীর্ঘ হয়ে উঠতে পারে। মেহিকোর ঘটনার সাথে কোন সাযুজ্য এখানে পাওয়া যাবে না। আপনি কি দয়া করে…?
পাস: মেহিকোতে প্রক্রিয়াটা ছিল ধীরগতির যদিও আধুনিকায়নের পথে বাধাগুলো ছিল গৌন, হ্যাঁ, একটা এককত্ব আছে; আদিবাসী সম্প্রদায়। এই সমস্যার সমাধান করা কঠিন। এখনও জানি না যথাযথ সমাধানটা কী হবে। আমি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিগুলো সংরক্ষণের পক্ষে, কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, এই যে সমাজগুলো আছে, যেগুলো খুবই ক্ষুদ্রাকৃতির এবং বিচ্ছিন্ন, এরা কি আমেরিকায় সংরক্ষিতদের মতো রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি ছাড়া আধুনিকতার বিকল্পটি সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করতে পারবে। ষোড়শ শতক থেকেই মেহিকো-প্রকল্পটি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত যার মানে মেস্তিসাহে (Mestisaje)। শেষ পর্যন্ত মেস্তিসাহেই হোক বা নাই হোক, মেহিকোতে যেটার অভাব তাহলো বহুত্বের (Pluralidad) অস্কীকৃতি। আমাদের দেশে এই বহুত্বের শুরু হয় রাজনৈতিক গণতন্ত্রের মাধ্যমে যা আমরা এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। ভারতে এই বহুত্ব গড়ে উঠেছে স্বতন্ত্র ভাষা ও প্রতিটি গোষ্ঠীর ইতিহাসের কারণে যেমন তেমনি ধর্মীয় কারণেও। ভারতের ব্যাপারটা অনেক বেশি জটিল। ভারত অনেক বড় এক দেশ। আদতে এটি এক উপমহাদেশ।
পেরাল্তা: এই প্রশ্নটা করার কারণ এই যে ভারতে বর্ণভেদ রয়েছে কিন্তু মেহিকোতে ঐতিহাসিকভাবে ৩০০টি পরিবার, উচ্চ শ্রেণীর সমাজ বা অভিজাত শ্রেণী রয়েছে কিংবা আছে আদিবাসীদের মধ্য থেকে আসা কেউ কেউ যারা এমন এক প্রবল রাজনৈতিক শক্তিকে মুঠোয় রেখেছে যা আদিবাসী সম্পর্কিত বর্ণবাদী চরিত্রসহ একটা সমস্যা তৈরি করে।
পাস: আমার তা মনে কহয় না।
পেরাল্তা: এটা এক তত্ত্ব।
পাস: এটা এক ভুল তত্ত্ব। প্রথমত, আজকের দিনের কোটিপতিরা মিশ্র অভিজাত শ্রেণীর নয়, তাছাড়া পশ্চিমের সবার মতোই, মেহিকোর ধনীরা নিজেদের প্রাচুর্যকে বৈধতা দেন এই ধারণার মাধ্যমে যে শ্রেণী, বা বর্ণের ধর্মীয় মানদন্ডের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এটা মনে রাখা উচিৎ যে ভারতে একজন ব্রাহ্মণ ধনী বা গরীব হতে পারে, কিন্তু সব সময়ই সে একজন সম্মানিত ব্যক্তি। এটা সত্যি যে বর্ণশ্রেণীর প্রত্যেকের রয়েছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ, তবে উৎসাহ ও বৈধতাদানকারী যে-ধারণা নিয়ে এই কাঠামো গড়ে উঠেছে তার মূলে রয়েছে ধর্ম। ভারতের আগেই মেহিকো আধুনিকতায় প্রবেশ করেছে, যদিও কঠিন সমস্যার মুখোমুখি তাকে হতে হয়েছে, যেমন গৃহযুদ্ধ এবং অন্যদেশের সাথে যুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত, এমন সব সমস্যায় হোঁচট খেয়েছে যা ভারতের সমস্যাগুলো থেকে খুবই আলাদা। আর আধুনিকতার কথাই যেহেতু উঠলো তাহলে বলি, ভারত এমন এক আধুনিকতা দিয়ে শুরু করেছে যা স্পানঞলদের চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক। এটা হলো আঠার ও উনিশ শতকের ইংল্যান্ডের আধুনিকতা।
পেরাল্তা: ওখানে কি প্রভুত্বের (Coudillaje) সমস্যা নেই, আমাদের এখানে যেমন আছে?

Octavio-Paz-Braulio-Peralta-entrevistas_MILIMA20170225_0221_11
পাস: না। ইংরেজ উত্তরাধিকারের কল্যাণে আধুনিক ভারত গণতান্ত্রিক। অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে সে আরও বেশি আধুনিকও। তাদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞান রয়েছে। তবে দুটো দেশের তুলনা করা খুব মুশকিল।
পেরাল্তা: আপনার বইয়ে আত্মদানের (Sacrificio) কথা আছে: গান্ধী, ইন্দিরা এবং তার ছেলে রাজীবের নিহত হওয়ার কথা। একটা ঐতিহাসিক দুর্ভাগ্য হচ্ছে এই যে.. নেতাদের মৃত্যু কখনো কখনো জনগণের প্রগতির রাস্তাকে চিহ্নিত করে। আমার কাছে ব্যাপারটা দুঃখজনক মনে হয়।
পাস: আমার কাছেও বেদনাদায়ক মনে হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে, মানবজাতির ইতিহাস এইসব দুঃস্বপ্নে ভরা। একেবারে শুরু থেকেই এ অবস্থা: কাবিল হত্যা করে হাবিলকে। সমগ্র ইতিহাসের মধ্যে এই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
পেরাল্তা: যেমন মেহিকোতে।
পাস: যখন মেহিকো–সত্যিকারের মেহিকো নিয়ে কথা হয় তখন লোকজন ভুলে যায় যে ১৯২০ সালে, এবং দীর্ঘ সময় জুড়ে প্রতি চার বছরে বিপ্লব ঘটেছে। কার্দেনাসের যুগে এসে হত্যাযজ্ঞ, হানাহানি এসে থেমেছে, কার্দেনাসই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি প্লুতার্কো কাইয়েসকে হত্যার পরিবর্তে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। এর আগে মেহিকোর প্রেসিডেন্টরা শক্রদেরকে হত্যা করতো।
পেরাল্তা: তবে নির্বাসনে পাঠানোটা আমরা অব্যাহতই রেখেছি।
পাস: হত্যা এক জিনিস আর নির্বাসনে পাঠানো আরেক জিনিস। তাছাড়া, এখন তো নির্বাসন নেই, কোন প্রেসিডেন্টই এখন আর তার শক্রদেরকে ধরে বিমানে করে পাঠিয়ে দেন না, যেমনটি কার্দেনাস করেছিল কাইয়ের সাথে।
পেরাল্তা: আত্মনির্বাসনে যায়।
পাস: আত্মনির্বাসন, হ্যাঁ, তবে, আরও ভালো হয় যদি একে বলা যায় অভ্যন্তরীণ নির্বাসন। প্রত্যেক প্রেসিডেন্ট ছয় বছরব্যাপী রাজা, এর পরে একটা ছায়া মাত্র।
Vislumbre de la Idia শেষ হয়েছে ২৫টি ধ্রুপদী সংস্কৃত কবিতা (কাব্য) দিয়ে। মেহিকোর পাঠকদের জন্য এটা এক অনন্য সুযোগ, কারণ স্পানঞার সেইস বাররাল (seix Barral) থেকে প্রকাশিত সংস্করণে এই শেষ অধ্যায়টি নেই। এই শেষ অধ্যায়ে অক্তাবিও পাস কর্তৃক অনূদিত কবিতাগুলো এখানে বলা হয়েছে, “এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক মূল্য নেই। এর কারণ কি এই যে এগুলো অনুবাদের অনুবাদ ?

পাস: সংস্কৃত ভাষায় লেখা কবিতাগুলো– অন্য ভাষায় রচিত অন্য কবিতাও–মানুষের এক মহত্তম সৃষ্টি। ধ্রুপদী এই কবিতাগুলোর পাশাপাশি রয়েছে মুসলিম স্থাপত্য, হিন্দু ভাস্কর্য, সংগীত এবং নৃত্যকলা…। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন বিপর্যয়কর। ইতিহাসের ভাঙন ঠেকাবার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানুষের সংস্কৃতির সামর্থ্য।
‘খ্যাতি’ নামক একটি কবিতা পাঠ করছি:
– কে তুমি ?
– আমি খ্যাতি।
– কোথায় থাক ?
– ঘুরে বেড়াই।
– আর তোমার বন্ধুরা: বাগ্মীতা, সমৃদ্ধি ও সুষমা ?
বাগ্মীতা বাস করে ব্রহ্মার মুখে,
সমৃদ্ধি বিষ্ণুর বাহুতে ঘুমায়,
সুষমা ঝিলিক দেয় চন্দ্রমগুলে।
কেবল আমাকে ওরা রেখেছে ভুবনে অনিকেত।

পাসের মন্তব্য: সময় সম্পর্কে সবচেয়ে মৌলিক ধারণা ব্যক্ত করেছে ভারতীয়রা। তাদের কাছে সময় হচ্ছে বিভ্রম, সময় হলো মায়া…
পেরাল্তা: মায়া (Maya) মানে মিথ্যা অর্থে ?
পাস: না, মিথ্যা অর্থে নয়, বিভ্রম (Ilusion) অর্থে এসবই হচ্ছে এমন এক বাস্তবতা যা বাষ্পীভূত হয়ে যায়, চলে যায় এবং কিছুই থাকে না। সময় সম্পর্কে দুটো চূড়ান্ত অবস্থান রয়েছে: ভারতীয়রা বলে যে সময় হচ্ছে মায়া, পশ্চিমাদের কাছে একমাত্র সত্য হলো সময়; এর অর্থ হলো প্রগতি এবং ভবিষ্যৎকে জয় করা। প্রাচীন গ্রীক ও রোমানদের মধ্যে আনুক্রমিক ও ক্রমাগ্রসরমূলক (Progresivo) সময়ের ধারণা ছিল না, এটি মূলত ইহুদী-ক্রিশ্চিয় এক ধারণা যা পরে ধর্মীয় খোলস ছেড়ে ক্রমাগ্রসরমূলক ধারণায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই দর্শনটা এসেছে আনুক্রমিক ও একরৈখিক (Recliniear) সময়ের ধারণা থেকে। অন্যসব সভ্যতার কাছে সময় হচ্ছে চক্রাকার। এ রকমই ভাবতো প্রাচীনকালের সব লোকজন এবং এটাই ভাবতো ভারতীয় এবং চিনারা।
পেরাল্তা: আপনি পশ্চিমা গণতন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন, আপনি রোমান আরামআয়েশের কথা উল্লেখ করে একে টেলিভিশনের সাথে তুলনা করেছেন। আপনি দুঃখ করেছেন পুঁজিবাদী দেশগুলোর সাধারণ স্থূলতা লক্ষ্য করে। এর কি কোনো সমাধান আছে? ভারত কিংবা মেহিকোর মতো দেশ কিংবা উন্নত হিসেবে বিবেচিত নয় এমন কিছু দেশ কি পশ্চিমের গণতন্ত্রে অবদান রাখতে পারে ?
পাস: হ্যাঁ। নিঃসঙ্গতার গোলকধাঁধা (El laberinto de la soledad)-য় উপর্যুপরি বিষয় হচ্ছে উৎসব। সময়ে উৎকীর্ণ হওয়া উৎসব। ধর্মীয় উৎসবগুলো হচ্ছে সময়, কিন্তু এগুলো সময়কে অতিক্রম করে যায়। যে-উৎসব একই সাথে সময়ের এক উদযাপন এবং সময়কে বাধাগ্রস্থ করা, সে-উৎসব ছাড়াও আমরা অবদান রাখতে পারি পশ্চিমের আধুনিক সময় সম্পর্কে সমালোচনার মাধ্যমে। সময়কে বিভ্রম হিসেবে বিশ্বাস করি বলে নয়, বরং আমার ধারণা সময় এক নগ্ন অন্ধত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। Time is money. যে-সব লোক সময় নিয়ে বাজি রাখতে চায় তাদেরকে একটু শান্ত করা দরকার।
পেরাল্তা:আপনার অভিহিত “টেলিভিশনের সন্তানদের” নিয়ে আমরা কী করতে পারি?
পাস: দুটো সামাজিক দলে পৃথিবীকে ভাগ করা যায়: এক দল হলো যারা পড়েন আর অন্য দল হলো যারা পড়েন না এবং টেলিভিশন দেখেন। এর মানে দাড়াবে এমন এক বিদ্বান গোষ্ঠীর শাসন যাদের হাতে থাকবে ক্ষমতার চাবিকাঠি। প্রাচীন চীনের ম্যান্ডারিনের তুলনায় এই প্রযুক্তিগত দাসত্ব হয়ে উঠতে পারে এক শিশুতোষ খেলা।
অক্তাবিও পাস আলাপচারিতা এখানেই শেষ করতে চান। ইতিমধ্যে সকাল পেরিয়ে গেছে, আলাপও প্রায় শেষ। তবু কিছু প্রশ্ন এখনও করা হয়নি।
পেরাল্তা: vislumbres বইটি ভারতীয়রা পছন্দ করবে? ইংরেজরাও কি পছন্দ করবে যারা ওই ভূমিতে উপনিবেশ গড়েছিল? বইটি বেশ বিতর্কিতই হবে।
পাস: সেটা হওয়া খুবই সম্ভব। ইংরেজরা যদিও গা ছাড়া ভাবের, বাইরের লোকরা ওদের সম্পর্কে কী ভাবছে তাতে ওদের কিছু যায় আসে না। তবে ভারতে বড় বড় শহরগুলোর জাতীয়তাবাদীরা এর খুব বিরুদ্ধে দাড়াবে। হ্যাঁ, সমালোচনা হবে। তবে অনেক ভারতীয় আছেন যারা আমার মতোই ভাবেন। ভারত সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গিটা একজন মেহিকানোর, ইংরেজের মতো নয়।
পেরাল্তা: ইসলাম এবং হিন্দুত্ববাদের মধ্যে যে বিতর্কটা আছে, সে সম্পর্ক কী করণীয় ?
পাস: বলতে পারবো না। একমাত্র সমাধান হচ্ছে এ দুয়ের সমন্বয়। ইসলামি এবং ক্রিশ্চিয় আদি সমাধানটি ছিল বিশ্বাসকে চাপিয়ে দেয়া। আজকাল আর সেটা সম্ভব নয়। ভব্য উপায়টিই এখন হাতে আছে, যেটা নেহেরুর পদ্ধতি: সহনশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা। আধুনিক যে রাষ্ট্র, যে-রাষ্ট্র ধর্মীয় নয়, তা সব ধর্মকেই মেনে নেবে। এই ধরনের সহাবস্থান খুবই কঠিন–আয়ারল্যান্ডের দুঃখজনক উদাহরণ আমাদের সামনে আছে–তারপরও এই সহাবস্থান অসম্ভব নয়।
পেরাল্তা: কী কী বিপদ আছে বলে আপনি মনে করেন।
পাস: চূড়ান্ত ডানপন্থা, ধর্মীয় মৌলবাদের উদ্ভব, যেমনটা ইসলামের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
পেরাল্তা: বর্ণপ্রথার মধ্যে বিদ্যমান বিবর্তনের সব সমস্যার প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতি পাশ্চাত্যের একটা উপলদ্ধি আছে বলে কি আপনি মনে হয় না ?
পাস: ইংরেজসহ সবাই বর্ণপ্রথার পদ্ধতির সমালোচনা করেছে, কিন্তু খুব অল্প কজনই এটা বুঝবার চেষ্টা করেছে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানীর অনুসরণে আমার বইটির অনেকগুলো প্রস্তাবনার একটা হচ্ছে, বর্ণ বিন্যাসের কাঠামোটা আসলে কিসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে তা উপলদ্ধি করা। ভারতীয় এই সমস্যা তাদের নিজেদেরকেই সমাধান করতে হবে। তাদের করণীয় সম্পর্কে আমরা কেন উপদেশ দিতে যাব।
পেরাল্তা: ভারত সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিটা তাহলে পাশ্চাত্য ধরণের নয় ?
পাস: না। এই দৃষ্টিভঙ্গিটা হচ্ছে এক মেহিকানো লেখকের, এক ইস্পানো-আমেরিকানোর যিনি সাধারণত প্রাচ্য, বিশেষ করে ভারত ও লাতিন আমেরিকার মাঝে প্রচুর সাযুজ্য ও পার্থক্য খুঁজে পায়। এই জগতটির(ভারতের) প্রতি আমার দৃষ্টিটা সহানুভূতির। আমার লেখালেখি এবং জীবন এই পাশ্চাত্য সা্ম্রাজ্যবাদের কোনো কিছুকেই তুলে ধরে না। নিজেকে কখনোই ইংরেজদের মতো অনুভব করিনি, বরং আমার যে-সব ভারতীয় বন্ধু-বান্ধব ছিল তাদের সঙ্গে তর্ক করতে গিয়ে বলতাম, “দেখ, তোমার আমার মধ্যে যে বাধা রয়েছে তা শিব বা বিষ্ণু নয়, বরং রানী ভিক্টোরিয়া।”
সাক্ষাৎকার এখানেই শেষ। স্পানঞার Circulo de Lectores থেকে Vislumbre de la India প্রকাশিত বইটির অভিজাত সংস্করণটি পাস আমাদেরকে দেখালেন। বইয়ে অন্তর্ভুক্ত ছবিগুলো দেখালেন তিনি যেগুলো ভারতের সংস্কৃতির অসামান্য নিদর্শন। এর মধ্যে আছে স্থাপত্য ও ভাস্কর্য। আছে ধর্মীয় প্রতীক ও মন্দিরসমূহ। তখনও আমাদের হাতে অপোর্তো ওয়াইনের শেষ পানপাত্র। অক্তাবিও পাস ও মারিয়ে হোসের কাছ থেকে সাংবাদিক বিদায় নিলেন। সময়কে আমাদের কাছে মায়া বলে মনে হলো ।

ইতিপূর্বে আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিন কর্তৃক গৃহীত ও অনূদিত অন্যান্য সাক্ষাৎকার:
দিলীপ কুমার বসুর সাক্ষাৎকার: ভারতবর্ষের ইউনিটিটা অনেক জোর করে বানানো

রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে সনজীদা খাতুন: “কোনটা দিয়ে কাকে ঠেকাতে হবে খুব ভাল বুঝতেন”

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষাতকার: “গান্ধী কিন্তু ভীষণভাবে সমাজতন্ত্রবিরোধী ছিলেন”

নন্দিতা বসুর সাক্ষাতকার: “তসলিমার মধ্যে অনেক মিথ্যা ভাষণ আছে”

ভরদুপুরে শঙ্খ ঘোষের সাথে: “কোরান শরীফে উটের উল্লেখ আছে, একাধিকবারই আছে।”

শিল্পী মনিরুল ইসলাম: “আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না”

মুহম্মদ নূরুল হুদার সাক্ষাৎকার: ‘টেকনিকের বিবর্তনের ইতিহাস’ কথাটা একটি খণ্ডিত সত্য

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না–মুতর্জা বশীর

আহমদ ছফা:”আমি সত্যের প্রতি অবিচল একটি অনুরাগ নিয়ে চলতে চাই”

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ: ‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯: রেডিও আলাপে হার্টা ম্যুলার

কবি আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার

শামসুর রাহমান-এর দুর্লভ সাক্ষাৎকার

হুমায়ুন আজাদ-এর সঙ্গে আলাপ (১৯৯৫)

নির্মলেন্দু গুণ: “প্রথমদিন শেখ মুজিব আমাকে ‘আপনি’ করে বললেন”

গুলতেকিন খানের সাক্ষাৎকার: কবিতার প্রতি আমার বিশেষ অাগ্রহ ছিল

নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার: ভালোবাসা, অর্থ, পুরস্কার আদায় করতে হয়

ঈদ ও রোজা প্রসঙ্গে কবি নির্মলেন্দু গুণ: “ আমি ওর নামে দুইবার খাশি কুরবানী দিয়েছি”

শাহাবুদ্দিন আহমেদ: আমি একজন শিল্পী হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না

জুয়েল আইচ: রাষ্ট্র কি কোন জীব নাকি যে তার ধর্ম থাকবে?

রফিকুননবী : সৌদি আরবের শিল্পীরা ইউরোপে বসে ন্যুড ছবিটবি আঁকে

নির্মলেন্দু গুণ: মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে

নায়করাজ রাজ্জাক: আজকের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের যে বিকাশ এটা বঙ্গবন্ধুরই অবদানের ফল

নির্মলেন্দু গুণ: তিনি এতই অকৃতজ্ঞ যে সেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে কোনো কবিতা লেখেননি

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গনী আদম — december ৯, ২০১৭ @ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

      রাজু ভাই, এবারের অনুবাদটা ঠিক ঝরঝরে লাগলো না। এতো আগ্রহোদ্দীপক একটা বিষয়ে কেমন যেনো খটমটে বাক্যগুলো…

      আশা করি গ্রন্থবদ্ধ হওয়ার আগে আরেকবার চোখ বুলিয়ে, আরেকটু সুখপাঠ্য করে দেবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজু আলাউদ্দিন — december ৯, ২০১৭ @ ১১:২০ অপরাহ্ন

      প্রিয় গনী
      সাক্ষাৎকারটি মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন বলে আপনাকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই।
      সাক্ষাৎকারের কোন কোন অংশ (কিংবা পুরোটাই যদি হয়ে থাকে) খটমটে লেগেছে তা যদি একটু নির্দিষ্ট করে বলতেন তাহলে পরিমার্জন করার পদপেক্ষ নিতে সুবিধা হতো।
      গ্রন্থবদ্ধ করার আগে রীতিমাফিক অবশ্যই চোখ বুলাবো। চেষ্টা করবো সুখপাঠ্য করার । আপনার পরামর্শের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com