প্রজাপতির ভেজা পাখায় ক্ষুদ্র জলের ভারি আহবান

রুবাইয়াৎ সিমিন | ৯ নভেম্বর ২০১৭ ৮:২৭ অপরাহ্ন

butterflies
‘চিত্রকর্ম: সালভাদর দালির আঁকা The Landscape with Butterflies,1956
মনমোহর গিলাফের মধ্যে চারু প্রজাপতি ভাবনার দিনে কেউ সত্যিই ভাবে না প্রজাপতিটা চারুর জন্যই অপেক্ষা করেছিল একদীর্ঘ ঘন কুয়াশাময় রাতের শেষটা ধরে। ঘন কুয়াশার টুপ টুপ ঝরে পড়বার শব্দে সচকিত জনদের একজনের খেয়ালে আসে গিলাফ! ফুল তোলা গিলাফ। ঝালরশোভিত চমৎকার লালকাপড়, লেস, চুমকির কারুকার্যময় গিলাফ। প্রয়োজনীয়তা আর অপ্রয়োজনীয়তার দ্বন্দে তাদের কথা হয়, খাজা মইনুদ্দিন চিশতির নাম আসে, তাকে ধরেই চিনিয়ে দিতে হয় এটা গিলাফ। পুণ্যাত্মার চিরঘুমকে স্তব্ধতা, শীতলতা, মোহ, বাসনা, দ্বারা ঢেকে বুকে চাঁপা পাষাণের বেদনাসম টানটান বিছিয়ে থাকা গিলাফের কথা উঠতে কারো আর চিনতে অসুবিধা হয় না। এখানে স্তব্ধতা নেই, কন্ঠ আছে। বহু কন্ঠ নয়, জোড়কন্ঠের অনুচ্চরব যা পরস্পর লগ্ন হয়ে মেতে রয় রাত্রির নিস্তব্ধতাকে না মাড়িয়ে বরং নিস্তব্ধ রাত্রিকে সঙ্গ দিতে দিতে।
খাজা মইনুদ্দিন চিশতির পরিবর্তে নিজেদেরই গিলাফের মধ্যে আবিষ্কার করার আনন্দ উষ্ণতা হয়ে ঘন হয় শূন্য দূরত্বের মধ্যকার স্থানটাকেও না-থাকার করে দিতে। গিলাফের নিচে জীবন্ত মানুষ! অনুচ্চ কন্ঠে প্রশ্ন! খাজা মইনুদ্দিন তো মরে নাই, বরং জীবিত, গিলাফের প্রান্ত ধরে ঝুলে ড্যাবড্যাবিয়ে মানুষসঙ্গ উপভোগ করে যাচ্ছে।
নক্ষত্রদের বাবার বাড়ি, শশুরবাড়ি ঘুরে আবার এই মুলুকে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে কেটে যায় এক একটি ঋতুচক্র; বদলে যায়, যোগ হয় নতুন স্তরের মাটি! তারপর এমন শতরাত পেরিয়ে যায় তবুও মানুষের মনে শঙ্কা কাটে না এই মাটি কিভাবে দাঁড়িয়ে রয়। সূচিমুখ সমেত আর একটি ভূ-ভাগে গেঁথে দাঁড়িয়ে থাকার শঙ্কা জাগে, শঙ্কা জাগে ভাসমান হয়ে ভেসে থাকা না থাকার অবস্থায় ভেসে যাবার। ভেসে যাওয়াটা উজানে না ভাটিতে বুঝে উঠতে সময় নিতে হয়, সে সময় অতিক্রান্তির ব্যাপ্তি এতটাই বিস্তৃত হয় যে তা কল্পনার ছায়াকেও মায়ায় পরিণত করে আরো দূরে সরে যায়, যেখান থেকে আঁধার আলো অপেক্ষা অধিকতর নিকটবর্তী হয়ে ওঠে।

দৃষ্টিসীমায় মাথার উপর গিলাফের আচ্ছাদন অনুভবে পিঠের নিচের ক্রমসঞ্চালনক্ষম মৃত্তিকাপিন্ডের অনুভূতি বোধ জাগায় উত্তরাভিমুখি এক জনপদের অংশ। জনপদ তো তার বুকের মধ্যে যেখানে পিটানো ঘন্টাকে সে এই মুহূর্তে অস্বীকার করতে চাইছে। কিন্তু ক্রমসঞ্চারমান মৃত্তিকাপিন্ডের চারধার ঘিরে জল, অথৈ জলরাশির উপস্থিতি তাকে গেঁথে দিতে চায় মৃত্তিকাপিন্ডের সাথে একাকি যেনবা সকলেরই খুব তাড়াহুড়ো। অপেক্ষমান নূহের নৌকোয় উঠবার প্রজন্মকে বাঁচাতে; বাঁচাতে প্রাণ-সম্ভাবনাকে কিন্তু সেখানে তার কী প্রয়োজন থেকে যাবার সেটা কেউ পরিষ্কার করে না, কিন্তু প্রাণের উপস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয় তার বুকে আছে এক প্রজাপতি। প্রজন্ম রক্ষায় সাধ হয়, সাধ হয় দুটি পাখার নিচে সুচারু বুক জুড়ে দিতে সেই প্রাণকে। সুচারু প্রজাপতির বুক জুড়ে প্রাণ স্থাপন করতে! সুচারু প্রজাপতি এই অবসরে চারু প্রজাপতি হয়ে উড়ে যায় নদীর বুকে যেখানে জল আজ স্থির ছবি ধরে নেই বরং তার বিপরীতে দূরে বহুদূরে ঊষর প্রান্ত পেরিয়ে উঠে আসা জলের সাথে মিতালি পাতাতে নিজেদেরকে ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত। চারু প্রজাপতি জলের বুকে ছায়া ফেলে এগিয়ে যায়। জরিপ করা ভূখন্ডকে সে গেঁথে নিতে চায় স্মৃতিতে পুনঃজন্মের-বেড়ে ওঠার-বসবাসের-হাসি-কান্নার স্মৃতিতে।

গোধূলি লগ্নের এক নদীর পাড় স্মৃতিতে গাঁথে, কয়েকজন সজ্জন বৃদ্ধ আর তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের খুঁটিনাটি কথা। প্রগৈতিহাসিক বৃদ্ধেরা তাদের পরিধেয় কাপড়ের ব্যাপারে উদাসীন কিন্তু এই উদাসিনতা তাদেরকে আন্তর্জাতিকতায় পৌছে দিয়েছে।

প্রসার্যমাণ দৃষ্টি চারু প্রজাপতিকে সংক্ষিপ্ত করতে হয়, স্থির হয় উন্মুক্ত প্রান্তর জুড়ে পাতা মঞ্চের আগুনরঙা স্পটলাইটের নিচে। উহ, দুর্ধর্ষ অভিনয় হবে আজ। শেষ পৌষের হাওয়াহীন এক বিকালে তির তির জীবনকে জানান দেয়া জলরাশির উপস্থিতিকে অস্বীকার করার কথা ভাবে না সে। স্থিরতার বিপরীতে এই স্পটলাইটের একটানা ঝুলে থাকাটাকে সার্থক করতেই যেনবা আজ উত্তুরে বাতাস বইছে না। কেউ জানে না কি সেটা, কিসের আলো; কেউ জানে না সেখানে একজন সর্বনাশা মানুষ জ্বলছে, অহঃদিন জ্বলছে। নিজের জ্বলনের উত্তাপটাকে ধরে রেখে শুধু আগুনরঙা আলোটাকে ঝুলিয়ে দিয়েছে সে। অনাদিকাল থেকে ওমনি করে জ্বলে আসা আগুনের আলোটাকে দেখার জন্য মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়, দৃষ্টিসীমার সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গায় গিয়ে পৌছুলেই না মঞ্চ তৈরি হয়। গেঁথে দেয়া মাটির উপর জয়ধ্বজ্জা নিয়ে মনুষ্য জীবনের যাত্রা, এই যাত্রা নিরন্তর দিনের ভাবনায় আবার রাতের বোধে কিম্বা এখনকার মত দিন আর রাতের কোনটারই ভাললাগার বোধে না থেকে নিজেকে নিজের ছায়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে পাবার চেষ্টা।

ছক কেটে কিম্বা ছক ছাড়াই বেশ চলা জীবনের ভাঁজে ভাঁজে নিজেকে খুঁজে পেতে অন্যের সাথে মিতালী পাতানো মানুষের মনে কত হাহাকার। আলগা করা মুঠোয় ধরা রয় না যে হাত তার জন্য বেদনার বোধ না জাগলেও শ্রুতিহীন সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় নিজেকে হারিয়ে ফেলবার আগে মানুষ প্রজাপতি হতে চায়। সুন্দর একজোড়া পাখার নিচে সুচারু বুকজোড় চারু প্রজাপতি। মানুষ বলে যা নাকি কখনো সে হতে চায় না। মানুষ নাকি চায় না চারু প্রজাপতির জন্ম হোক। অমোঘ সত্যের প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন আধার হিসেবে চারু প্রজাপতিকে খোঁজে তখন প্রতিকূলতা ঘিরে ধরলেও তাকে আঁকড়ে রাখবে এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে মানুষ খোঁজে নিজের ছায়া তার মাঝে, তা বুঝেই চারু এগিয়ে যায় মুগ্ধতা আর ভালবাসা নিয়ে এক নদী পাড়ি দিতে। সূর্যাস্তের পূর্বমুহূর্তের এই রঙের মেলায় নিজেকে দেখে তার মুগ্ধতার শেষ হয় না। কী এই নদীর নাম জানে না সে। ধারণায় আছে এখানে এক নদীর কথা কিন্তু সেটাই কি এটা তা বুঝে ওঠাটা পরিষ্কার করে নিতে কাউকে জিজ্ঞেস করার তাগিদ অনুভব করলেও না জানাটা নিয়ে দ্বিধা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না তার। বিগত বেশ কিছু সময়ের ব্যবধানেও জলরাশির অফুরন্ততা দৃষ্টিসীমা পেরিয়ে আরো দূরে প্রসারিত হবার ইঙ্গিত দেবা মাত্রই সে অনুভব করে এ তার চেনা নদী যার গল্প সে শুনেছে কিম্বা যার গল্প সে করবে।
এ নদী পেরোনো যায়, বয়ে যাওয়া যায় কি? এক ঝড়ো অন্ধকার রাতে কিংবা সূচিমুখের বৃষ্টি সমেত রাত-ভোরে।
আপনি কোথায় যাবেন?
চরে ।।
কোন চরে ?
সামনেই।
জেনে নেয়াটা জরুরি গন্তব্য কোথায়, কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য বলে আসলে আজ আর কিছু নেই। পৌছে যেতে হবে, অনুচ্চ কন্ঠের কাছে পৌছুতে হবে। সেখানে আছে জীবনের বাইরেও কিছু সময় যা যাপনের আকাঙ্ক্ষা মানুষকে টেনে নিয়ে আসে জানা জগতের অদেখার মধ্যে। একটা ধূসর সন্ধ্যার প্রলেপ ছড়িয়ে পড়ে, মানুষেরা কানপাতে প্রার্থনার আহবানের ধ্বনি শুনবার মত করে আর দৃষ্টি পানির কূল ছাড়িয়ে আরো উঁচুতে পরিচিত জনের খোঁজে। নিরন্তর খোঁজ মানুষের! অবয়ব শূন্য নয়। পূর্ণ অবয়বের সে দাঁড়িয়ে রয়, হাতের ইশারা বলে দেয় আহ্বান মধুর। ঝাঁকুনির সাথে তাল সামলে উচ্ছল হাসি পথে পথে ছড়িয়ে যায় পথের রিক্ততা আর শূন্যতাকে কিছুটা হলেও ভরিয়ে দিতে। পথ কার তৈরি? কে যায় সে পথে নিজের করে পথ করে নিতে নিতে। কুয়াশার পরতে ঢুকে গেলে উন্মোচিত হয় এক বুকশূন্য স্বল্পায়ু নদী। পেতে দেয়া ছবি যেন। কোল জুড়ে তার ধূসরতা, কালো মাটির লেপ, তারপর পাতা শূন্য জীবন শূন্য মাথা তোলা মৃত অনুচ্চ গাছের ঝোপ। কিছু দূরে গিয়ে আবার বেঁকে গিয়েছিল কাউকে পথ করে দিতে এভাবেই তার বা তার মত তাদের বেঁচে বা টিকে থাকা। ওপারে এপারে সবটা জুড়েই সরিষার ক্ষেত। হলুদ সবুজে খেতের মায়া ক্রমশ ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে যেতে থাকে। প্রকৃতিতে এখন শুধু একটিই রঙ, আধো আঁধার আর ভারি আঁধার।
ফেরাটার কথা কেউ ভাবেনি, ভাবেনি যে আসাটাও মধুর হবে। হাঁক জুড়ে –
চেয়ারম্যান কাকা আছেন নাকি?
আছেন, উনি থাকবেন নিশ্চিত তারপরও জেনে নেয়া।
জীবনের গতি এখানে অপেক্ষাকৃত কম কিন্তু নিজস্ব, তাই কখনো স্থবিরও। আলো এবং ছায়া নয় বরং আলোহীন ছায়ার মধ্যেকার ঘন ছায়া তুলে নিঃশব্দ মানুষের স্পষ্টস্বরে নিচু কন্ঠে কথা। এ কন্ঠ তার কন্ঠ নয়, এ কন্ঠ শহুরে ভদ্রতাকে স্বাগত জানাবার।
আর এক বর্ষাঘন দিনে এই বাড়ির দলহিজা থেকে শোনা যায় উচ্চকিত স্বর
– ভাইজান মেহমান আইছে আপনার দারে।
মেহমান সেদিনও আসবে কিন্তু এমন রিক্ত শূন্য মাঠ পেরিয়ে পথ কিংবা পথের অসম্পূর্ণতাকে ভুলে যেদিক খুশি পথ করে নেবার মধ্য দিয়ে নয় এখন বুক শূন্য স্বল্পায়ু নদী যৌবনবতী। সে বাঁকে বাঁকে আঁচল ছড়িয়ে বয়। কালো মাটির লেপ গুলাবার মাল-সামাল একত্রে গুলে একটু বেশি হয়ে যাবার আক্ষেপ সত্ত্বেও বয়ে যায় সে। এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃত-অনুচ্চ ঝোপেরা তার তলদেশে অন্তর্নিহিত হয়েছে এখন। ডান হাতে বাজারে যাবার পুল, পুলের উপর আজ আর কোন তাড়াহুড়ো নেই, নেই নূহের নৌকো। সকলে গেছে ফেলে এই শূন্য পথের প্রান্তে। ভাসমান ভূমিখন্ড সমেত কি সে বা তারা চলেছে উত্তরাভিমূখে এক বৃহৎ জনপদের সাথে মিলতে। নাকি জনপদ আর ভূখণ্ডের মধ্যকার সকল জলরাশির দূরত্ব ঘুচিয়ে আজ জেগে উঠবে এক সম্মিলিত ভূখন্ড। প্রজাপতির ভেজা পাখায় ক্ষুদ্র জলের ভারি আহবান। পথ উজিয়ে পথ করে নেবার প্রয়োজনে সে নেই, নেই নূহের নৌকায় প্রজন্ম রক্ষার খাতিরে প্রজন্মকে বহন করে নিয়ে যেতে আগামীর পথে। আজ এখানে আবার অভিনয় হবে, দুর্ধর্ষ অভিনয়। তীরের ফলার মত এগিয়ে আসা জলের বিন্দু একে অপরের সাথে গেঁথে তৈরি বর্শার ফলা আজ বিঁধে যাচ্ছে পায়ের ছাপ আঁকড়ে জেগেথাকা ভূমির বুকে। প্রান্তর ছাড়িয়ে সেদিনের ফেরার পথে আজও বৃক্ষহীন দৈন্য তারপর প্রান্তর ধু ধু প্রান্তর, অতঃপর ফুঁসে ওঠা নদী তার চেনা,গল্প শোনা কিংবা গল্প বলা নদী। তার যেন খুব তাড়া আজ আমার সাথে মিলবার।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — নভেম্বর ১০, ২০১৭ @ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

      ভাষাটা মেদবহুল। তৎসম তদ্ভব শব্দ দিয়ে ভারি করা হয়েছে। খুব সিরিয়াস পাঠক না হলে গল্পটা পড়ে শেষ করাই কষ্টের হবে। মেদটেদ ফেলে দিলে, গল্পের যে হাড়কঙ্কাল, সেটা দারুণ, বিশেষ করে যেভাবে গল্পটা শেষ হলো।

      লেখক তার ভাষার প্রাঞ্জলতা নিয়ে একটু ভাবলে বাংলা সাহিত্যের উপকার হবে বলে মনে করি। শুভকামনা তার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্নাইপার — নভেম্বর ১০, ২০১৭ @ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন

      গল্পটি ভাল হয়েছে।
      লেখালেখি করছেন দেখে ভাল লাগছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুবাইয়াৎ — নভেম্বর ১০, ২০১৭ @ ১:০৪ অপরাহ্ন

      “লেখালেখি করছেন দেখে ভাল লাগল”, পূর্ব জীবনের চিন-পরিচয়ের গন্ধ পাই। ভাই আপনি!!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন NAZMA SULTANA — নভেম্বর ১১, ২০১৭ @ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

      কোন লেখা পড়ে যদি আমি শিহরিত,বিষ্ময়ে বিমূঢ়, কৌতূহলী, ভাবিতই না হবো, তবে পাঠক হিসেবে আমি বিরক্তই হবো আমার সময় নষ্টের জন্য। কুহেলিকা? সেটা কবিতার জন্য, এটা কবিতা না। এটি প্রবন্ধও না। এটা গল্প!!!!! নিজের আনন্দের জন্যই লিখেন সেটা ভাল কথা, তবে সেটা পাঠককেও আনন্দ দিবে কিনা তা পরখ করেই লেখা প্রকাশ করা দরকার।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুবাইয়াৎ — নভেম্বর ১১, ২০১৭ @ ৩:১৯ অপরাহ্ন

      নিজ গল্পের শুধু লেখক বলে নয়, পাঠক হিসেবেও নিজেকে দাড় করানোর প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করবার সুজোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে NAZMA SULTANA। এটাকে আমি গল্প বলতে নারাজ ছিলাম। বড় কবিতা হলেও হতে পারত। যেমন ভাবে আমি কপালকুণ্ডলা কিংবা নয়নচারা গল্প পড়বার সময় অনুভব করতাম যেনবা ওগুলো গদ্যে লেখা কবিতা। কিংবা কমলকুমার মজুমদারের অন্তর্জলী যাত্রাও কি তাই নয়?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন payel mondol — নভেম্বর ১১, ২০১৭ @ ৪:২৪ অপরাহ্ন

      গল্পটা অসাধারণ হয়ে যায় একটা নতুন ভাষার সৌন্দর্যে যে ভাষা মনে হয় লেখিকার একান্ত নিজের। ভাষায় অনবদ্য খেলায় দৃশ্যময় হয় গল্পের স্থান আর চরিত্র। পাঠকদের ধরে রাখে আগাগোড়া। অনবদ্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন NAZMA SULTANA — নভেম্বর ১১, ২০১৭ @ ১১:১৩ অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ সিমিন, আমার সাথে একমত হওয়ার জন্য। এটা যদি কবিতা হতো,আমি হয়তো উপভোগই করতাম অনেকাংশে এর ভাষার নতুনত্ব,সৌন্দর্য। কিন্তু, গল্প হিসেবে পড়তে গিয়ে আমি হতাশ হয়েছি,আর সে হতাশাই ব্যক্ত হয়েছে প্রতিক্রিয়ায়। আপনার থেকে আরও লেখা আশা করছি।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com