সাহিত্য সংবাদ

এলগিনটন স্কোয়ারে কানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবি

অনন্যা শিলা শামসুদ্দিন | 21 Oct , 2017  

canadaকানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবিকে নিয়ে এক আয়োজন ছিলো বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর। দর্শন-সমাজ-সংস্কৃতি-সাহিত্য-শিল্পকলা-বিজ্ঞানচর্চ্চা কেন্দ্র “পাঠশালা”র দ্বিতীয় আসরে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন বাংলাদশের কবি আসাদ চৌধুরী এবং কানাডার কবি রিচার্ড গ্রিন। পূর্ব ও পশ্চিমের দুই অগ্রগন্য কবির সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং নিজের লেখা কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে আসরটি ভিন্নরকম এক ব্যঞ্জনা পায়।

এগলিনটন স্কোয়ার টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরীতে অনুষ্ঠিত আসরে শুরুতে স্মরণ করা হয় সদ্য প্রয়াত আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয়-শক্তিশালী বর্ষীয়ান কবি জন অ্যাশব্যারীকে ও অভিনন্দন জানানো হয় সাহিত্যে সদ্য নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কাজ্যুও ইশিগুরোকে। সঞ্চালক ফারহানা আজিম শিউলী জন অ্যাশব্যারী ও কাজ্যুও ইশিগুরোর সাহিত্য জীবন নিয়ে এই পর্বে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন।

মূল পর্বের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর কাব্য ভাবনা, কবির দায় ইত্যাদি তুলে ধরেন এবং তাঁর অসংখ্য সৃষ্টিসম্ভার থেকে কিছু কবিতা স্বকন্ঠে পাঠ করে শোনান। তাঁর অতি বিখ্যাত “বারবারা বিডলারকে” কবিতাটির কবীর চৌধুরী কৃত অনুবাদটি পাঠ করেন সানন্দা চক্রবর্ত্তী। কবি আসাদ চৌধুরী এবং তাঁর সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের দীর্ঘসময়ের আড্ডার কেন্দ্র – একসময়ের ঢাকার শাহবাগের “রেখায়নে”র প্রাণপুরুষ রাগিব আহসান নিউইয়র্ক থেকে স্কাইপে যোগ দিয়ে তুলে ধরেন সেই সময়কার কিছু স্মৃতিকথা।

দ্বিতীয়ার্ধে কানাডার কবি রিচার্ড গ্রিন সবার সাথে ভাগ করে নেন তাঁর সাহিত্য চর্চ্চার পরিক্রমা, তুলে ধরেন আলোচিত কাজগুলোর পেছনের গল্প এবং পাঠ করে শোনান তাঁর নিজের কিছু কবিতা।

canada-1কবি রিচার্ড গ্রিনের জন্ম ১৯৬১ সালে কানাডার নিউ ফাউন্ডল্যান্ডে। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ৪ টি। তাঁর কবিতা সংকলন “বক্সিং দ্য কম্পাস” ২০১০ সালে কানাডার গভর্নর জেনারেল অ্যাওয়ার্ড পায়। ২০১৩ সালে প্রকাশিত কবিতা সংকলন “দান্তে’স হাউজ”কে কানাডার বর্তমান পোয়েট লরিয়েট জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক অভিহিত করেছেন “মাস্টারপিস” এবং আমেরিকার সাহিত্য সমালোচক এডওয়ার্ড শর্ট অভিহিত করেছেন “রেভেলেটরী” বলে। তাঁর কবিতা “ইউ মাস্ট রিমেম্বার দিস” জিতে নেয় ২০১৫ সালের ন্যাশনাল ম্যাগাজিন অ্যাওয়ার্ড।

কবি-জীবনীকার রিচার্ডের লেখা “গ্রাহাম গ্রিন: এ লাইফ ইন লেটারস (২০০৭) এবং বৃটিশ কবি এডিথ সিটওয়েলের জীবনী (২০১১) আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম কুড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি অনুমোদিত জীবনীকার হিসেবে ঔপন্যাসিক গ্রাহাম গ্রিনের জীবনী লিখছেন। রিচার্ড গ্রিন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজীর অধ্যাপক। ২০১২-১৭ সাল পর্যন্ত মাস্টার্সের ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর পরিচালক ছিলেন।

কবি ও অনুবাদক পারভেজ চৌধুরী তাঁর অনূদিত রিচার্ড গ্রিনের কয়েকটি কবিতা পাঠ করেন।

সবশেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্নে অংশ নেন – উম্মে রত্না, সারাহ্ বিল্লাহ্, সানন্দা চক্রবর্তী, মঞ্জুর মালিক ও মনিরুল ইসলাম। আর উত্তর দেন দুই কবি – রিচার্ড গ্রিন ও আসাদ চৌধুরী।

দুই কবির স্বভাবজাত বাগ্মিতা ও আন্তরিক উপস্থাপনা, শ্রোতা-সুধীজনের উপস্থিতি ও কবিদের সাথে তাদের সচেতন-সরব-প্রাণবন্ত বিনিময় — এবারের “পাঠশালা”র আসরটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.