আগা শাহিদ আলির `রিজওয়ান’

আভিষেক মজুমদার | ৪ নভেম্বর ২০১৭ ১:৪৮ অপরাহ্ন

RIZWAN 2নাট্যকারের ভূমিকা
২০১০-এর জানুয়ারি মাসে, FTII, পুনেতে রিজওয়ান নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়। FTII এর অভিনয় বিভাগের ছাত্রদের সাথে একটি নাটক করার প্রস্তাব আমার কাছে আসে এবং আমি আগা শাহিদ আলির ‘Country without a Post Office’ নাটকটি নিয়ে সেখানে যাই।

এই বইটি আমাকে একজন উপহার দিয়েছিলেন কয়েক বছর আগে। তারপর থেকে টানা চার-পাঁচ বছর ধরে কবিতাগুলো আমার মাথায় ঘুরছিলো। ছাত্রদের সাথে কবিতাগুলো পড়ে আমার মাথায় আসে যে বইটিতে তিন বার রিজওয়ানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ আছে। প্রথমে একটি কবিতায় যেখানে আগা শাহিদ স্বপ্নে দেখেন রিজওয়ান তাকে নিজের মৃত্যুর কথা বলছে, এবং বলছে, ‘Don’t Tell my Father’। আরেকটি জায়গায়, যেখানে আগা শাহিদ একটি চিঠি পান, যাতে রিজওয়ানের মৃত্যুর কথা ওনাকে জানানো হয় এবং শেষের দিকে একটি কবিতায়, যেখানে রিজওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাটি লেখা হয়। এইখান থেকেই আমরা এই প্রশ্নটি নিয়ে কাজ করতে শুরু করি যে কোনও মানুষ বা জায়গা বা সময়ের মৃত্যু আসলে কখন হয়? যখন সেটা বাস্তবে ঘটে, যখন সেটা স্বপ্নরূপে দেখা যায না কি যখন আমরা তার সংবাদ পাই?

এইখান থেকে ইম্প্রোভাইজেশন, দিনে আর রাতে লেখা। সেখান থেকে নাটক তৈরী। পরবর্তী সময়ে এই নাটক আমাদের কোম্পানি ইন্ডিয়ান অন্‌সম্বল মঞ্চস্থ করে এবং First Festival of Contemporary Indian Plays, Paris-এ নির্বাচিত হয়। Theatre Du Solleil-এর পঞ্চাশ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে ফরাসী ভাষায় এটির একটি পাঠ হয় এবং Paris Review-তে নাটকটি ফরাসীতে প্রকাশিত হয়। আমার নিজের কাছে যেটা এই নাটকের সব থেকে বড় প্রাপ্তি বলে মনে হয়েছে, সেটা হল কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের আগা শাহিদ আলি সেমিনারে এই নাটকটি নিয়ে একটি সেশন হয় এবং আমি সেখানে গিয়ে এই নাটকটি নিয়ে চর্চা করার সুযোগ পাই। তারপরেই ঋদ্ধিবেশ ভট্টাচার্যের বাংলা অনুবাদে এবং ড. জামিল আহমেদের নির্দেশনায় ঢাকায় এই আলোচিত মঞ্চায়ন।

রিজওয়ান সম্পর্কে একটি অদ্ভুত ঘটনা বলে লেখা শেষ করি। রিজওয়ানের পরে কাশ্মীর নিয়ে আমি আরো দু’টি নাটক করি- ইংরাজিতে Djinns of Eidgah আর হিন্দিতে গাশা। সেই উপলক্ষ্যে এক সন্ধ্যেয় শ্রীনগরের এক কফি শপে এক ভদ্রলোকের সাথে কথা বলছি, হঠাৎ উনি রিজওয়ান শুনে চমকে উঠলেন— বিশেষ করে ওই চিঠির কথা শুনে। জিজ্ঞাসা করলেন, কালকে আবার আসবেন এখানে? আমি বললাম, আসবো। পরের দিন উনি একটি হাতে লেখা আসল চিঠির প্রতিলিপি নিয়ে আসেন। ওনার নাম ইরফান হাসান। উনি রিজওয়ানের মারা যাওয়ার খবর আগা শাহিদকে ফ্যাক্স করে আমেরিকায় পাঠিয়েছিলেন। এই সেই আসল চিঠি, যার কিছু শব্দ আগা শাহিদ প্রকাশ করার আগে পাল্টে নিয়েছিলেন।

এরকম নানা অদ্ভুত সমাপতন কাশ্মীরে বছরের পর বছর হয়েছে, যখন নাটক আর বাস্তব হঠাৎ করে মিলে গিয়েছে। তাই বোধহয় কাশ্মীর আমাকে এতোবার টেনেছে।। কাশ্মীরের ব্যাপারে কোনও কিছু এরকম বানিয়ে লেখা খুব কঠিন যা সেখানে আসলে ঘটেনি। —আভিষেক মজুমদার

agha-shahid-ali
‘চিত্র: আগা শাহিদ আলি

রিজওয়ান

আগা শাহিদ আলির কবিতার বই A country without a post office অবলম্বনে নির্মিত ইংরেজি, উর্দূ এবং হিন্দিতে রচিত একটি নাটকের বঙ্গানুবাদ

[ফাঁকা মঞ্চ। মঞ্চের এক ধারে একটা সরোবরের ধারণা দেওয়া।]

দৃশ্য ১
[ফাতিমার প্রবেশ]
প্রস্তাবনাঃ আজ রাতে যে ঝড় উঠেছে ঝিলের অতল জলে
সে কি আমাদের দেখার জন্য নয়?
নিস্তব্ধ নৌকা এক, তবুও…
এক ভাই, এক বোন
দুই ভাই, এক বোন
এক নৌকো, দুইখানি দাঁড়
এক ঝিলে দুই নীল…
উপরে আর নিচে
গল্পের শুরুটা কোথায়?
কোন নীলে তা হবে অতল গভীর?…
কোন সুখ প্রিয়তম সুখ?
কোন স্মৃতি স্মরণীয়তম?
(স্তব্ধতা)
এ এক অতীত ঘটনা যদিও
স্মরণীয় স্মৃতির স্মরণ
আজ রাতে ঝিলের নীল আর
আয়নার সাদার পীঠে,
আমরা মিলেছি আবার,
প্রতিফলিত করেছি আমাদের শরীর
আজরাতে আমাদের গল্প,
মৃতমোহে বলে যেতে হবে,
কারণ জীবদ্দশায়,
বলার কিছুই ছিল না।
জান্নাতের দরজায়,
সে ছিল অপেক্ষমান,
যেমন কথা দিয়েছিল,
যেমন কথা রেখেছিল…
যেমন জল,
যেমন কাঁদতে থাকা অশ্রু-
যেমন এই জাবড়ান সাগরের গান,
যেমন হারায় কোনো নড়ে ওঠা দাঁত
আজ রাতে মিলেছি আবার।
আমি আর আমার ভাই রিজওয়ান
(আগা শহীদ আলির ‘Farewell’ এর বঙ্গানুবাদ)
ফাতিমাঃ একটা সময় আমি হারিয়ে ফেলি তোকে।
ওরা নির্জনতা গড়ে তোলে আর নাম দেয় শান্তি।
যখন তুই চলে গেলি পাথরগুলোও কবর দেওয়া হয়েছিল:
যে রক্ষণহীন তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা নয়।
রিজওয়ানঃ আমার স্মৃতি আবার তোমার ইতিহাসের পথে চলেছে।
সারা রাত সৈন্যপ্রহরা যেন ঘুরতে থাকা মরুযাত্রীর দল;
যাদের প্রশ্ন করা যায় নাঃ তোমার কি পৃথিবী পেরোনো হয়ে গেছে?
ফাতিমাঃ ঝিলের জলে মন্দির মসজিদের হাতগুলো জড়িয়ে মড়িয়ে গেছে এক অন্যের প্রতিবিম্বে।
এই দেশে আমরা বাইরে বেরোই দরজা নিয়ে হাতে
শিশুরা খেলতে বেরোয় জানলা হাতে নিয়ে।
একটা সময় আমি হারিয়ে ফেলি তোকে।
রিজওয়ানঃ তোমার প্রয়োজন ছিল আমাকে। তোমার প্রয়োজন ছিল আমাকে নিখুঁত করার।
ফাতিমাঃ আমি সেই সব যা তুই হারিয়েছিলিস।
সবাইঃ তুমি আমায় মাফ করতে পারবে না কোনদিনও।
ফাতিমাঃ আমি সেই সব যা তুই হারিয়েছিলিস।
সবাইঃ তোমার শত্রু আবিকল।
রিজওয়ানঃ তোমার স্মৃতি আমার স্মৃতিপথে পাক খেয়ে যায়
ফাতিমাঃ মাফ করার কিছুই নাই।
সবাইঃ তুমি আমায় মাফ করতে পারবে না কোনদিনও।
ফাতিমাঃ মাফ করার কিছুই নাই।
সবাইঃ তুমি আমায় মাফ করতে পারবে না কোনদিনও।
ফাতিমাঃ “যদি তুমি কোনোভাবে কেবলই আমার হতে
এ দুনিয়ায় অসাধ্য কিবা ছিল আর?”

দৃশ্য ২
[দাদাজানের প্রবেশ। ডাক্তার এবং রোগীদের প্রবেশ আরো অনেক মানুষের সাথে। কোলাহল বাড়তে থাকে।]
ফাতিমাঃ (বাকিদের) স্ট্যাচু!
[সবাই মূর্তির মত দাঁড়িয়ে যায়। একটা স্থিরচিত্রের মত।]
ফাতিমাঃ (বলতে থাকে) যেদিন রিজওয়ানের জন্ম নেওয়ার কথা…দাদাজান পর পর গোলাপের নাম দিয়ে যাচ্ছিলেন।
দাদাজানঃ শৈফুদ্দিন, শেইখ, নদীম, নাসীর, জাহির…
ফাতিমাঃ (বলতে থাকে) আর হ্যাঁ! আমার ভাই ফরহাদ
ফরহাদঃ লক্ষীছাড়া, সব সময় বেইমানি
করিস, তুই…
ফতিমা এবং ফরহাদঃ স্ট্যাচু!
ফরহাদঃ দুজনেই স্ট্যাচু বলে দিলাম, এবার কি হবে, স্ট্যাচু ওভার!
[সবাই প্রাণ ফিরে পায় এবং যে যার নিয়মমাফিক কাজে চলে যায়, যেন কিছুই ঘটে নি।]
রোগীঃ OPD! এই OPD টা কোথায় হবে ভাই!
বাকিরাঃ (গোলমালের শব্দ)
[ফরহাদ এবং ফতিমার প্রবেশ। বাকিদের স্বর আর শোনা যায় না। ছোটরা স্ট্যাচুর খেলাটা খেলছে।]
দাদাজানঃ ফরহাদ, ফতিমা- এসো দোলনায় এসে বোসো।
ফাতিমাঃ দাদা জান, খেলতে দাও না।/খেলি না আরেকটু।
দাদাজানঃ এসো, বোসো এখানে।
[কোরাস সরে যায়।]
দাদাজানঃ (নার্স কে) কি অবস্থা আমার বৌমণির?
নার্সঃ জনাব আমায় জিগেস করুন, ওর পেটে শুধু গ্যাস ভরা আছে গ্যাস, নিশ্চই খাওয়া দাওয়া করে না, তাহলে আর…(হবে টা কি করে)
দাদাজানঃ পাগল নাকি? কি বলছেন, ওর তো বাচ্চা হবে…
নার্সঃ বাচ্চা আটকে গেছে।
দাদাজানঃ কি বললেন? বাচ্চা আটকে গেছে!
কোরাসঃ বাচ্চা আটকে গেছে! এতো অদ্ভুত ঘটনা!
দাদাজানঃ আরে এটা থোড়াই না ওর প্রথম বাচ্চা। দুই পয়দা করেছে ও। আপনারা একটু ভালো করে খেয়াল রাখুন ।
[দাদাজান ছোটদের কাছে আসে]
ফাতিমাঃ দাদাজান ভাই কবে আসবে?
দাদাজানঃ আগত ফরিস্তা এখন জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। আর ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই পরিক্ষা নিয়ে চলেছে।
ফরহাদঃ জান্নাতের দরজা?
দাদাজানঃ খোদা যেখান থেকে তার নেক বান্দাদের পাঠায়…আচ্ছা এটা বল…সেই ফরিস্তা যখন এসে যাবে, বাড়ির লোকেদের আমরা সেই খবর দেব কেমন করে?
ফাতিমাঃ আমি বলি…স্লেটে করে…
ফরহাদঃ আমি তার উপর লিখে দেব!
দাদাজানঃ ঝিলের যে সব ডাক হরকরারা আছে, তাদের হাত দিয়ে আমরা সবার কাছে চিঠি পাঠিয়ে দেব।
দাদাজানঃ (ডাক্তার কে) আরে শুনছেন! আমার বৌমণির কি অবস্থা?
ডাক্তারঃ আচ্ছা, উনি আপনার পুত্রবধূ/ছেলেরবৌ? বাচ্চা এখন এই অব্দি বেরিয়ে এসেছে, আর এই অব্দি বেরোবে, আর এতখানি বেরিয়ে আসার পর তো জানিয়ে দেওয়া হবে। Interesting… very interesting case!
দাদাজানঃ খোদা, এবার তোর নেক বান্দাকে পাঠিয়ে ত দে!
ফাতিমাঃ দাদাজান আমরা ওর নাম কি রাখব…
আমার নাম ফতিমা, এর নাম ফরহাদ…আর ওর নাম?
ফরহাদঃ তেন্ডুলকার!
ফতিমাঃ (হাসি) জান্নাতের দরজা থেকে বেরোচ্ছেই না, তো নাম রাখবে কেমন করে?
দাদাজানঃ জান্নাতের দরজা থেকে বেরোতে চাইছে না, জান্নাতের দরজায় পাহারা দিচ্ছে…রিজওয়ান! ওর নাম রাখবো রিজওয়ান!
ফাতিমাঃ (ফরহাদ কে) স্ট্যাচু!
[সবাই মূর্তি হয়ে যায়]
RIZWAN 11

দৃশ্য ৩
[ফতিমার প্রবেশ]
ফাতিমাঃ যেদিন রিজওয়ান পয়দা হল, ঘরের বাইরে লোক জন এমন হামলে পরেছিল যে দরজাটাই ভেঙে ফেলত! ওহ্‌! এত ভীড় যে সবাই একজন আরেক জনের ঘাড়ে উঠে পড়ছিল। সেই প্রথমবার, ফরহাদ আর আমি, দরজায় পাহারাদারি করেছিলাম।
ফরহাদঃ ফতিমা…ফতিমা।
ফাতিমাঃ আসছি…কারণ ওরা আমাদের সুন্দর সুন্দর গোলাপ কুঁড়ি গুলো দলাই মলাই করে ওকে দেখতে এসেছিল, যে পয়দা হবার আগেই আটকে গেছিল। জান্নাতের দরজায়!
কোরাসঃ আরে মোমিনা! বাচ্চাটার মুখটা তো একটু দেখতে দাও!
ফাতিমাঃ ও ঘুমোচ্ছে এখন!
ফরহাদঃ সাত দিন ধরে ও ঘুমোচ্ছে!
কোরাসঃ আসার পথে এতো দেরি করছে যখন, তখন মিয়া নিশ্চই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
দাদাজানঃ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বেচারা!
আম্মিঃ ও ক্লান্ত হয় নি, আমিই ওকে জাগিয়ে রাখতে রাখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
দাদাজানঃ বরখুরদার পয়দা হতে অনেক খাটা খাটনি করেছে।
আম্মিঃ কিন্তু বরখুরদার তো আরামেই ছিল আমার ভিতর।
দাদাজানঃ ঘুমপাড়ানি গান গা আর ওকে ঘুমোতে দে।
আম্মিঃ ঘুমিয়েই(আরামে) তো আছে, যবে থেকে এসেছে। জেগে উঠলে একটু ভাল লাগতে পারে।
[ফতিমা আর ফরহাদ সামনে এসে]
ফাতিমাঃ রিজওয়ান ক্লান্ত।
ফরহাদঃ জান্নাতের দরজা সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে রিজওয়ান।
কোরাসঃ আরে! তোর আব্বার কোন খবর এলো?
ফাতিমাঃ আব্বা এসেই যাবে।
দাদাজানঃ ও(বরখুরদার) শুতে চাইছে, ওকে ঘুমোতে দিচ্ছ না কেনো? এই দে তো ওকে আমার কোলে দে।
আম্মিঃ ওর চোখদুটো একদম ওর আব্বার মত হয়েছে।
ফাতিমাঃ দাদাজান, দাদাজান!
দাদাজানঃ শশশশশশ! চেঁচামিচি কোরো না রিজওয়ান ঘুমোনোর চেষ্টা করছে।
ফাতিমাঃ ও জিগেস করছে, আব্বা কখন ফিরবে?
দাদাজানঃ শীতকালে ও জলদিই চলে আসবে।
ফাতিমাঃ (লোকেদের) দাদাজান বলেছে, আব্বা শীতকালে আসবে।
দাদাজানঃ আমি বলেছি দরজা বন্ধ কর আর চিৎকার চেঁচামিচি কোরো না, রিজওয়ান ঘুমোনোর চেষ্টা করছে… ওকে একটা ঘুমপাড়ানি গান তো শোনাও।
আম্মিঃ (না) আমি ওকে কোন ঘুমপাড়ানি শোনাবো না! কারণ তাতে ও ঘুমিয়ে পড়বে, আর আমি ওর চোখদুটো দেখতে পাব না। ফরহাদ, ফতিমা ভিতরে চলে এসো তোমরা।
দাদাজানঃ আরেবাবা বাচ্চার ভালোর জন্য ওদের অন্তত দোয়া তো করতে দাও।
আম্মিঃ ওর আব্বাকে ওর চাই, মানুষের দোয়া নয়।
দাদাজানঃ আরে গানটা গা আর ওকে শুতে দে।(সান্তনা দিতে দিতে)
(আগা শহীদ আলির ‘I see Kashmir from New Delhi at Midnight’ –এর বঙ্গানুবাদ)
ফাতিমাঃ অলংকৃত বরফ তো পরতেই হয় বিশুষ্ক সমতলভূমে
তাহলেই সুদূর পাহাড়গুলো
একে একে কাঁচ করে নেয়া যায় ইচ্ছা মত
যে শহর থেকে খবর আসতে পারে না কখনই
এই ক্ষণে দেখা দেবে তাও কার্ফিউ মোড়া রাতে
অশনি আসন্ন বুঝি প্রায়ঃ
শূন্য সেতু থেকে
একটি ছায়া টহলদারী আলোর তাড়া খেয়ে পালায়
খোঁজে তার দেহটা কোথায়
সেনা ছাউনির প্রান্তে, যেখানে গুপকর সরণী শেষ হয়,
সেই ছায়া ছোট হতে হতে প্রায় বিলীন হয়ে যায়

তদন্তকারী প্রহরায় কিছু নেই
ফলে সে পাশ কেটে, অলক্ষ্যে, ঢুকে পরে কয়েদখানায়
ঝুলে থাকা জ্বলন্ত টায়ার গলে পরে টপ্‌ টপ্‌
কয়েদিদের পিঠের উপর, আর সেই
উলঙ্গ শিশু চিৎকার করে, “আমি কিছু জানিনা”, “আমি কিছু জানি না”
(এই অংশটি শেষের পর, রিজওয়ানের দেহ ঝিলে ডুবে যায়, যেন আয়নায় একটি বৃহত্তর ছবি)

দৃশ্য ৪
ফাতিমাঃ একদা এক সময়,
সেথা ছিল এক কন্যা, এসছিল জল থেকে
আধা নারী, আধা জল।
আর তার ভাইয়েরা,
আধা মানুষ, আধা মাটি
ভঙ্গুর, অস্থাবর, যাযাবর, নমনীয়…
আধা মূর্ত, আধা কল্পনা।
একদা এক সময়,
সেথা ছিল এক মাঝি, তার কাছে ছিল বহু চিঠি
নৌকায় এক ডাকপিয়ন
আধা জল, আধা শব্দ।
এক মৃত্যূর দূত,
জীবিতদের ভালবাসার ধন।
ফাতিমাঃ রিজওয়ান…রিজওয়ান…
[রিজওয়ান ইতস্তত করে]
ডাকপিয়ন… ডাকপিয়ন মাঝি!
রিজওয়ানঃ ডাকপিয়ন মাঝি!
ফরহাদঃ রিজওয়ানের ফাঁকা চিঠি!
রিজওয়ানঃ আমি এইবার চিঠিতে কিছু লিখেছি!
ফাতিমাঃ আচ্ছা, কি লিখেছিস?
[ফরহাদ একটা চিঠি নেয়, হাসে এবং পড়তে শুরু করে]
ফরহাদঃ “আসসালামু ওয়ালায়কুম, আপনারা কেমন আছেন?
এখানে সবাই ভালো আছে, শুকরিয়া –রিজওয়ান”
[ফরহাদ আর ফতিমা হাসে]
ফাতিমাঃ এই চিঠিটা কার জন্য?
রিজওয়ানঃ সবার জন্য…
ফরহাদঃ একটা চিঠি আর সব্বার জন্য!
রিজওয়ানঃ আমার কাছে আরো অনেক আছে…
[রিজওয়ান অনেকগুলো চিঠি বের করে]
ডাকপিয়ন তো আমার বন্ধু…ও সবাই কে চিঠি পৌঁছে দেবে।
ফরহাদঃ চিঠির উত্তর এসেছে কখনো?
রিজওয়ানঃ হাঁ…ডাকপিয়ন বলে তো।
মাঝিঃ রিজওয়ান…ও রিজওয়ান।
[রিজওয়ান জানলা দিয়ে এক লাফে বেরিয়ে মাঝির কাছে যায়; ফতিমা আর ফরহাদ অন্য নৌকায়]
রিজওয়ানঃ কেউ কি কোনো উত্তর দিয়েছে?
ফতিমাঃ স্থিতিস্থাপক/রাবারের জাহাজ!
[কোরাসের প্রবেশ]
মাঝিঃ হ্যাঁ…সবাই পাঠিয়েছে।
রিজওয়ানঃ কি বলেছেন ওঁরা?
ফাতিমাঃ স্থিতিস্থাপক/ রাবারের আত্মা, ভাসছে জলে!
মাঝিঃ যা তুমি লিখেছিলে…“ওয়ালায়কুম আস সালাম, তুমি কেমন আছো?
এখানে সবাই ভালো আছে, শুকরিয়া রিজওয়ান…”
[রিজওয়ান হাসে]
ফাতিমাঃ এক স্থিতিস্থাপক/রাবারের ছেলে ফুলে ফেঁপে উঠেছিল জলে…এক স্থিতিস্থাপক বাবা খুলে গিয়েছিল, ফেটে!
রিজওয়ানঃ আব্বা যে চিঠিটা পাঠিয়েছে…ওটা কি আপনি পেয়েছেন?
মাঝিঃ তোমার আব্বা জান্নাত থেকে, জান্নাতে চিঠি পাঠিয়েছেন।
রিজওয়ানঃ আর বলেছেন “আসসালামু ওয়ালায়কুম, তুমি কেমন আছো?
এখানে সবাই ভালো আছে, শুকরিয়া রিজওয়ান”
[মাঝি হাসে]
ফাতিমাঃ কিভাবে এক স্থিতিস্থাপক ছেলেকে বলা যায় যে তার সাথে তার বাবার দেখা হবেনা কোনদিন? সে কি ফুলে যাবে…নাকি চুপসোবে? ভেসে যাবে নাকি থিতিয়ে পরবে?
মাঝিঃ না…উনি বলেছেন, “শুকরিয়া রিজওয়ান…অনেক অনেক শুকরিয়া, তোমার আম্মির খেয়াল রাখার জন্য, আমি এই জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি আর তুমি ঐ আরেক জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছো। আমি এখান থেকে কেবল দেখতে পাচ্ছি ঐ গল্পটা, কিন্তু তুমি সেটা বাড়িয়ে নিয়ে যেতে পারো…যেমন খুশি, যতদূর খুশি”
ফাতিমাঃ তুমি কি নিজে এটা বলতে পারবে…
নাকি অন্য কাউকে দিয়ে বলাতে চাইবে?
কারণ, আমরা যদি সবাই এই একই পথের যাত্রী,
তাহলে কে জানে…কার কে মারা গেছে…?
রিজওয়ানঃ জান্নাত?
ফাতিমাঃ সবাই জড়িত, সবাই বাঁধা
সেই একই গলে যাওয়া কল্পকথার সাথে।
কোন এক সময়, আমরা জড়ো হই …
মাঝিঃ এখানে যদি কোনো জান্নাত থেকে থাকে রিজওয়ান…
ফাতিমাঃ আমাদের নমিত, মোচড়ানো ভয়ে।
মাঝিঃ তাহলে তা এখানেই আছে, তা এখানেই আছে, এখানেই।
ফাতিমাঃ এই দুনিয়ায় যদি কোনো জান্নাত থেকে থাকে,
তবে সে জান্নাত এই মাটিতে, এই মাটিতে, এই মাটিতেই।
Agar duniya mein kahin jannat hai
to woh yahan hai..woh yahan hai..woh yahan hai..
‘গর ফিরদৌস বার-রূ-এ জামীনস্ত্‌
হামীনস্ত্‌ হামীনস্ত্‌ হামীনস্ত্‌ ’ (The ‘original’ in Persian)
RIZWAN 10

দৃশ্য ৫
ফাতিমাঃ আমাদের আব্বা মারা গেছিল গুলি খেয়ে
ভীড়ের মধ্যে
ট্রেনে
জানলার ধারে বসে
অভাবনীয়…সেই বন্দুকবাজ, আমি ভাবতাম
কি লক্ষ্যজ্ঞান তার…
চলন্ত ট্রেনের তিনটে শিকের ফাঁক দিয়ে
ছোট্ট এক বুলেট; তার বাম চোখ।
তিনি ভেবেছিলেন এক ধূলোর কণা
বাম চোখ কচলাচ্ছিলেন
ওটা বের করার জন্য
ততক্ষণে ওটা আপনা থেকেই বেরিয়ে যায়;
তার খুলি ভেদ করে,
সেই ছোট্ট একটা বুলেট।

অভাবনীয়…সেই বুলেট! আমি ভাবতাম
একটা ছোট্ট চলমান ধূলোর কণা;
একটা মানুষ কে ধূলোয় পরিণত করেছিল।
একটা মানুষঃ আমাদের আব্বা।

অভাবনীয়…আমাদের আব্বা, আমি ভাবতাম
এক মানুষ, চোখে টল টল ঝিল-
বসেছিলেন সেই ট্রেনে,
জানলার ধারে;
এক ছুটন্ত বুলেটের যাত্রাপথে
বাড়ি ফিরছিলেন,
সাথে ছিল শাল বিক্রির উপার্জিত টাকা,
যখন সে তার টাকাগুলো গুনছিল
প্রথমে তার চোখটা গেল,
তারপর খুলি,
তারপর তার চিৎকার,
হয়ত বা তিনি খুব একটা চিৎকার করেননি,
অতটা সময় ছিল না তার কাছে।

অভাবনীয়…অভাবনীয়…সময়
যখন সব এক সাথে মিলে গেল
চলন্ত ট্রেন, ছুটন্ত বুলেট আর এক মানুষ, চোখে টল টল ঝিল।
অভাবনীয়, সেই বন্দুকবাজ
সেই সৈনিক যে বাড়ি ফিরতে ছিল ব্যাকুল,
এক পুরুষমানুষ যার স্ত্রী সন্তান প্রসব কালে মারা যায়
সেই মুহূর্তে;
তিনটি ঘটনা ঘটে,
তিনটি মৃত্যু হয়;
নাকি চার।
এক শিশু, তার মা, সেই মানুষ, চোখে টল টল ঝিল।
এবং তারপর সেই সৈনিক যে আত্মহত্যা করে।
গুলি চালায় নিজের খুলিতে,
আর তার খুলি ফেটে যায় মিলিটারি টুপির ভিতর;
তার চোখজোড়া…হয়ে ওঠে ঝলসানো মাংসের মত…(স্বাদ যুক্ত)।
যখন আমি মারা যাই,
আমি আমার আব্বাকে জিগেস করেছিলাম…
কেমন ছিল? খুব লেগেছিল বুঝি।
“খুব একটা না” তিনি বলেছিলেন;
“আলতো ছুঁয়ে চলে গেছে”
বিধ্বস্ত চোখে তিনি প্রশ্ন করলেন, “ফাতিমা,
তোমার জন্য কেমন ছিল, মা?”

“বহুক্ষণ” আমি ভাবলাম,
পাহাড়ের উপর একটা সৈনিক আমার চাদর টা চুরি করে নেয়।
সত্যি বলতে, আমি ঠান্ডায় মারা যাই।

“প্রাকৃতিক মৃত্যু” আব্বা বলেন।
শুকুর আল্লাহ, অবশেষে এই উপত্যকায় একটা প্রাকৃতিক মৃত্যু হল।”
প্রাকৃতিক; আমি বললাম।
ঠান্ডায় মৃত্যু সম্পূর্ণতই প্রাকৃতিক।

হুমম…কিন্তু এতে কি কোন _______ ছিল না।
খুব স্বাভাবিক ভাবেই একজন বাবার কাছে এমন প্রশ্ন
অস্বস্তিকর, আমি তাকে বুঝলাম, বললাম
ধর্ষণ।
ও হ্যাঁ এই ঘটনার সাথে ধর্ষণ জড়িত
কিন্তু সেটা নিতান্তই খুঁটিনাটি বিবরণের দুঃখজনক অংশ।
আমি কিন্তু ঠান্ডায় মারা যাই নি,
সৈনিকটা আমার চাদর টা চুরি করে নেয় আব্বা…
আমার রক্তপাত হচ্ছিল, বরফের উপর,
আর আমি মারা যাই রক্তজমাট বেঁধে।
বরফের উপর রক্ত জমে যায় প্রাকৃতিক ভাবেই।

অভাবনীয়…সেই সৈনিক; সে বলল
…তুমি জানতে আর তারপরও চাদরটা চুরি করেছিলে
অভাবনীয়…সেই সৈনিক, আমি বললাম
সেই মুহুর্তে তার স্ত্রীর সন্তান প্রসবকালে মৃত্যু হয়
এবং এই বার বাচ্চাটা তার নিজেরও ছিল না
এই মুহুর্তে
সে খেপে উঠেছিল
সে আমায় ধর্ষণ করছিল না,
সে ধর্ষণ করছিল তার মৃত স্ত্রীকে।
সেই মুহুর্তে তিনটি ঘটনা ঘটে।
তিনটি মৃত্যু হয়
নাকি চার।
মেয়েটি, তার স্ত্রী, এক শিশু এবং সেই মানুষটি।
একটি জীবিত মেয়ের ভেতর একটি মরদেহ, আর তার উপর আরেকটি।
সে আমায় ধর্ষণ করে,
আমিও তাকে পাল্টা ধর্ষণ করি।
তার ভয়…তার প্রতিশোধ।
আমি তাকে ধর্ষণ করি
তার থেকে অনেক বেশি।
সে আমার কুঁচকিতে গুলি করে,
আর আমার চাদর টা ছিনিয়ে নেয়।
কিন্তু সেই বুলেট আমায় মারতে পারে না,
শীত পারে।
স্বাভাবিক ভাবে,
একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক মৃত্যু।

অভাবনীয়…অভাবনীয়… সেই সৈনিক
যে রাতে আমি মারা যাই সেই রাতে সেও মারা যায়
উনিশ বছরের একটা ছেলে
তার হাতে লোম ছিল না কোনো।
চোখে টল টল ঝিল
ঠিক রিজওয়ানের মত।
এ যেন রিজওয়ানকে ঘুম পাড়ানোর মত।

এক বিবাহিত যুবক,
এক মৃত সৈনিক,
একজন ধর্ষিত ধর্ষক…
এরাই এখন আমাদের পাহারা দেয়।
এরাই এখন জান্নাতের প্রহরী।

[রিজওয়ান সৈনিকের টুপি পরতে পরতে স্কুটার করে প্রবেশ করে]
ফাতিমাঃ আমি মারা যাওয়ার সময় একটা স্বপ্নে দেখি কি, রিজওয়ান আমায় স্কুটারে করে চারিদিক ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে।
রিজওয়ানঃ আসুন আপা, অধিষ্টান করুন!
[ফতিমা ওকে চুমু খায়, আর ওরা কোথাও একটা বেরিয়ে পরে]
ফাতিমাঃ ওহ হো! স্কুটার।
[ফতিমা স্কুটারে বসে, রিজওয়ান ক্ষণে ক্ষণে হর্ণ বাজিয়ে যায়]
রিজওয়ানঃ আজকাল এই স্কুটারটা আমার বড্ড কাজে লাগছে।
ফাতিমাঃ রিজওয়ান…আমি তোমায় কিছু বলতে চাই।
[রিজওয়ান কিছু শোনে না, মজা করে স্কুটার চালানোয় ব্যাস্ত থাকে]
ফাতিমাঃ রিজওয়ান!
রিজওয়ানঃ হুমম…
ফাতিমাঃ আমার তোমাকে কিছু বলার আছে!
রিজওয়ানঃ হ্যাঁ! আমি শুনছি আপা!
ফাতিমাঃ আমার ইন্তেকাল হয়ে গেছে, আমি মরে গেছি!
রিজওয়ানঃ আচ্ছা তার মানে তুমি একটা ভূত! (হাসি)
ফাতিমাঃ সত্যিই আমি মরে গেছি, তুমিও একটা ভূত!
রিজওয়ানঃ খোদাকে অনেক শুকর! স্কুটার টা আমি ঠিক সময়ে পেয়েছি।
ফাতিমাঃ এমন কেন?
রিজওয়ানঃ এখানে অনেক লোক আছে, যাদের নিয়ে যেতে হবে।
আর এখানকার রাস্তা মোটরগাড়ির জন্য আনেক ঝামেলার।
ফাতিমাঃ (ব্যাঙ্গাত্মক) তোমার ভাবনা চিন্তার তারিফ করতে হয়, রিজওয়ান! (কি গভীর ভাবনার অধিকারী তুমি রিজওয়ান!)
রিজওয়ানঃ কেবল নিজ নিজ সময় আর সুবিধার কথা বলছি, আপা!
তোমার কি এখনও কষ্ট হয়?
(তোমার জখম গুলো কি এখনও দগদগে?)
ফাতিমাঃ কি?
রিজওয়ানঃ ও তোমাকে গুলি করেছিল, তাই না!
ফাতিমাঃ গুলি করেছিল…কিন্তু আমার মৃত্যু ঠান্ডায় হয়েছিল।
রিজওয়ানঃ আপা! ঐ গুলি খাওয়া জখমে এখোনো যন্ত্রণা হয়? ইন্তেকাল হবার পরেও!
ফাতিমাঃ (হেসে) ভাইজান! এটা গোপন কথা, আমি কাউকে বলছিনা।
যখন তুমি খোদার পেয়ারে হবে! নিজেই জেনে যাবে।
রিজওয়ানঃ তার মানে তুমি বলছ, আমি যখন ভূত হয়ে যাবো তখন…
ফাতিমাঃ যখন আমাদের শরীরটা মরে যায়, তখন কেবল মৃত্যু হয়
কিন্তু যখন আমরা বাঁচি তখন অন্য কিছু ও হওয়া যায়।
রিজওয়ানঃ এখনো অনেক কাজ আছে, যা আমায় করতে হবে,
আমি এত তাড়াতাড়ি মরছি না!
ফাতিমাঃ যেমন? শুনি একটু?
রিজওয়ানঃ যেমন ধর, তোমাদের মত লোকেদের জান্নাত বা জাহান্নম পাঠানো
বা যেখানে তোমরা যেতে চাও সেই খানে পৌঁছে দেওয়া।
ফাতিমাঃ মরা মানুষের লাশ এদিক সেদিক পরে থাকলে, খারাপ লাগে?
রিজওয়ানঃ হ্যাঁ দেখতে তো খুবই খারাপ লাগে…
আরে বাবা এই এলাকায় তো টুরিস্টরাও ঘুরতে আসে নাকি!

RIZWAN 9
ফাতিমাঃ হুমম…আর?
আমি চলে যাওয়ার পর তুমি একা একা আর কি কি করবে?
রিজওয়ানঃ কেবল ঘর আর জান্নাতের দরজা পাহারাদারি, ব্যাস।
ফাতিমাঃ এই ধরণের কাজে জন্য তুমি এখনো অনেক ছোট রিজওয়ান!
ওখানে ফরহাদ আছে, ও সব সামলে নেবে।
রিজওয়ানঃ তোমার মৃত্যুর পর ফরহাদও চলে গেল।
ফাতিমাঃ চলে গেল?…(কোথায়?)
রিজওয়ানঃ হ্যাঁ…ও অন্য শহরে চলে গেল…অন্য কিছু হবার জন্য।
ফাতিমাঃ যখন আমাদের শরীরটা মরে, তখন কেবল মৃত্যু হয়
কিন্তু যখন আমরা বাঁচি তখন অন্য কিছু ও হওয়া যায়।
আর রিজওয়ান! তুমি? তুমি কবে যাচ্ছো? (অন্য কিছু হতে)।
[রিজওয়ান স্কুটার থামায়]
রিজওয়ানঃ আমার যাত্রা এই পর্যন্তই,
আগে যাওয়া জন্য এই পার থেকে নৌকো পেয়ে যাবে…
[ওরা দুজন পারে দাড়িয়ে মাঝিভাই-এর জন্য অপেক্ষা করে, আর মাঝিকে দেখতে পাওয়া যায়]
ফাতিমাঃ রিজওয়ান…ডাকপিয়ন!
রিজওয়ানঃ ও মাঝি!
[ফাতিমা, রিজওয়ান কে ভালকরে নিরীক্ষণ করে, যেন রিজওয়ান বদলে গেছে]
রিজওয়ানঃ এখন এখানে আর কোনো ডাকপিয়ন আসে না, আপা!
আর বলারও কিছু নেই…
(কেবল) এক মরে যাওয়া মাঝি, এক শুকিয়ে (মরে) যাওয়া ঝিল,
এই জান্নাতের আর কোনো ডাকঘর প্রয়োজন নেই।
(এই দেশের আর কোনো ডাকঘর লাগবে না)
ফাতিমাঃ যখন জমি হারায়, তখন কেবল মানুষ হারিয়ে যায়।
কিন্তু যখন ঝিল হারিয়ে যায় তখন তার আত্মাও নিখোঁজ হয়।
[রিজওয়ান স্কুটারের দিকে এগোতে থাকে]
ফাতিমাঃ আমি তোমায় আবার কবে দেখতে পাবো রিজওয়ান?
রিজওয়ানঃ (হেসে) আগে বল, কত কষ্ট হয়
যখন আমরা মরে যাই?
ফাতিমাঃ যখন আমাদের শরীরটা মরে, তখন কেবল মৃত্যু হয়
কিন্তু যখন আমরা বাঁচি তখন অন্য অনেক কিছু হওয়া যায় …
মৃত্যুর পর আর কোনো অনুভূতি থাকে না …
(আমরা বেঁচে থাকলেই আমরা অনুভব করি)
রিজওয়ানঃ আমায় এবার আসতে হবে…আপা! দাদাজান ঘরে একা রয়েছে।
[রিজওয়ান চলে যায়, ও ফাতিমার “খুদা হাফিজ” এর উত্তরও দেয় না, ফতিমা ওকে দেখতেই থাকে, মাঝিভাই একটা চিঠি পড়তে শুরু করে]
মাঝিঃ আসসালামু ওয়াললায়কুম, আপনারা কেমন আছেন? এখানে সবাই ভালো আছে,
শকুরিয়া – রিজওয়ান!
[মাঝির গলা শুনে ফাতিমা মাঝির দিকে তাকায়]
ব্যাস, কেবল এই একটাই চিঠি পরেছিল যেটাতে কোনো ঠিকানা লেখা ছিল না…
ফাতিমাঃ রিজওয়ানের চিঠি কোত্থাও যায় নি…
রিজওয়ানও কোত্থাও যাবে না…
মাঝিঃ তুমি পেরেশান হয়োনা না! ওর যখন সময় আসবে তখন আমি ওকে সামলে নেব। এখনকার মতো ওকে ছেড়ে দাও, ও ঐ সুন্দর গোলাপগুলোর নাম দিক এক এক করে।
RIZWAN 8

দৃশ্য ৬
দাদাজান ১- এ গোলাপগুলোর আর স্বভাব গেল না।
দাদাজান ৩- এই বুড়ো বয়সে আর দাঁড়ানো যায় না
আর আমি গোলাপ গুলোও দেখতে পাই না।
দাদাজান ২- এই গোলাপগুলো দিয়েই এই ঘরটা শুরু করেছিলে না…!
দাদাজান ৩- তোমারও কি কোনো জীবন বলে কিছু আছে বুড়ো, কবরে তো পা আটকে আছে।
পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এখন ভাঙা ডালে গোলাপ খুঁজছো!
দাদাজান ২- বুড়ো হবে তোর দুশমন।
দাদাজান ১- এতো কমজোরি হয়ে গেল, আমি তো আজো দাঁড়িয়ে আছি আমার নাতি-নাতনিদের জন্য।
দাদাজান ৩- আমার মৃত্যু সেইদিনই হয়ে গিয়েছিল, যেদিন আমার ছেলেটা মারা গেল।
দাদাজান ২- শোনো…এখন তোমার এগোনো উচিৎ, রিজওয়ান তোমায় দেখলে ও তোমার মত ছেলেমানুষি করবে।
দাদাজান ৩- নিজেকে বোকা বানানোটা তো ওর ছোটবেলাকার অভ্যাস, এইটুকু ছিল তখন থেকেই আশা-প্রত্যাশা বলে চেঁচিয়ে চলেছে।
দাদাজান ১- আরে ঐ দেখো রিজওয়ান আসছে।
দাদাজান ২- এবার আমাদের এগোনো উচিৎ, আমাদের দেখতে পেলে ও ভেঙে পড়বে।
দাদাজান ১- এই গোলাপটার নাম কি যেন রেখেছিলাম…
দাদাজান ৩- কোন গোলাপটার?
রিজওয়ানঃ দাদাজান! দেখলে তুমি, মোমিনা কেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
দাদাজান ১- হ্যাঁ তো, মোমিনা মোমিনা…
দাদাজান ৩- দম ছাড়বার আগে আমাকেও একবার দেখিয়ে দাও মোমিনা…
দাদাজান ২- কেন ভাই? এখন তুমি ওখানে যাবে…? নাকি মোমিনা কে ছিঁড়ে আনবো…
রিজওয়ানঃ মোমিনার চারপাশে জালি লাগিয়ে দি, যাতে কেউ ওকে ছিঁড়তে না পারে…
দাদাজান ১- লাগিয়ে দাও বেটা, লাগিয়ে দাও…
একটা ফুলও যদি বেঁচে যায় হয়ত বা একটা বাগান হয়ে যাবে।
রিজওয়ানঃ আমি যাই দাদাজান…!
দাদাজান ১- যাও বেটা যাও জালি লাগিয়ে দাও।
রিজওয়ানঃ পাক্কা…!
দাদাজান ১- হ্যাঁ বেটা যাও…
দাদাজান ২- এই গর্দভ টাকে কেউ বোঝাও।
দাদাজান ৩- পাগলটাকে দেখো, আমি মরতে বসেছি আর ও এখনো ফুল নিয়ে পরে আছে…
দাদাজান ২- কেন…এখন কেন রিজওয়ান কে একা ছাড়বে, নিজে তো মরছই, এবার মোমিনাকেও ছিঁড়ে নেবে…!
রিজওয়ানঃ দাদাজান আমি এক্ষুণি আসছি।
[দাদাজান ১ আর দাদাজান ২ চলতে শুরু করে]
দাদাজান ৩- কোথায় চললেন মিঁঞা…?
দাদাজান ২- এটাই সুযোগ কেটে পরো,
রিজওয়ান এর পর আর তোমায় একলা ছাড়বে না।
দাদাজান ১- রিজওয়ান তোমায় মরতে দেবে না,
আর তুমি বুড়ো ওকেও বাঁচতে দেবে না।
দাদাজান ৩- তাইবলে তুমি আমায় একা ফেলে রেখে যেও না…
দাদাজান ১- আল্লার দরবারে সবাই সমান, আপনি, আমি আর তুমি!
কিছুক্ষণ পরে এই ফারাকটাও আর থাকবে না।
দাদাজান ২- দেখো! রিজওয়ান ফুলটারও খেয়াল রাখছে, তোমায় মরতে দেখলে ও ভেঙে পরবে। আল্লার নাম নাও আর চলতে থাকো, উপরে তোমার পুরো পরিবার অপেক্ষা করছে, চলো চলো…!
দাদাজান ৩- কিন্তু রিজওয়ান কে কি করে একা ছেড়ে যাই…?
দাদাজান ২- রিজওয়ানের সাথে মোমিনা আছে, ওর আম্মি,
ও ওকে কক্ষনো একা ছাড়বে না।
দাদাজান ১- ভয় পেও না, মরার সময় যন্ত্রণা হয় না। যন্ত্রণা কেবল যারা থেকে যাবে তাদের হবে, যদিও ওর পরে মরলে একটু কম হবে। যাক গে, চলো, আল্লার নাম কর, উপরে দেখা হচ্ছে। আপনি আমি আর তুমি।
দাদাজান ৩- বিসমিল্লাহ-হের-রহমানর রহিম-……(সম্পূর্ণ তওবা পাঠ করা হয়)

দৃশ্য ৭
[রিজওয়ান একটা গল্প শুনছে তার আম্মির কাছে, দৃশ্য এগোনোর সাথে সাথে সে সরোবরের কাছে যেতে থাকে]
ফাতিমাঃ একটা ধূলোর কণা আব্বাকে হত্যা করে।
দাদাজানঃ তুষার উপত্যকা ফতিমা কে মেরে ফেলে।
ফাতিমাঃ সুন্দর গোলাপগুলো দাদাজানের প্রাণ কেড়ে নিলো।
আম্মিঃ গল্প…কেবল একটা গল্প আমার রিজওয়ান কে নিজের সাথে নিয়ে গেল।
ফাতিমাঃ কিভাবে আমাদের জীবন-কাহিনী থেকে আমরা জানব আমাদের জীবনের কথা,
কিভাবে মৃত্যূ সার্থক করে যাবে আমাদের নাম
আম্মিঃ সে অনেক আগের কথা…কোন এক উপত্যকায় একটা ঘর ছিল…
রিজওয়ানঃ একদম আমাদের মত!
ফাতিমাঃ হ্যাঁ রিজওয়ান…একদম আমাদের মত!
আম্মিঃ সেখানে এক নওজোয়ান থাকত…যার নাম রিজওয়ান।
রিজওয়ানঃ (একদম) আমার মত!
ফাতিমাঃ হ্যাঁ রিজওয়ান! একদম তোমার মত!
আম্মিঃ ও যখন ছোট ছিল তখনই ও বাদশা হয়ে গেছিল…আর তিনটে জিনিস শিখেছিল
রিজওয়ানঃ মাটিতে ঘোড়া চালানো,
জলে নৌকো ভাসানো
আর হাওয়ায় কালীন ওড়ানো
ফাতিমাঃ রিজওয়ান রোজ রাতে সেই একই কাহিনী কেন শোনে…
যে কাহিনী সে আগে থেকেই জানে
আম্মিঃ আমাদের যে সমস্ত কাহিনী জানা উচিৎ,
তা আমরা আগে থেকেই জানি
ফাতিমাঃ একদিন ছেলেটি তার মা কে একটা প্রশ্ন করল,
যে প্রশ্নটা সে এর আগে কখনো করেনি
রিজওয়ানঃ আম্মি, কি হয়, যখন আমরা পয়দা হই; আমরা কোথা থেকে আসি, মাটি থেকে, হাওয়া থেকে, নাকি জল থেকে
আম্মিঃ এক একজন এক এক জায়গা থেকে আসে, কিন্তু তুমি আমার সোনা ছেলে, এই সব জায়গা থেকেই এসেছ।
রিজওয়ানঃ আচ্ছা! এই জন্যেই, আমি নৌকো ভাসাতে, ঘোড়ায় চালাতে, আর কালীন ওড়াতে পারি!
ফাতিমাঃ শোনা যায়, এই বলেই ও ওর আম্মির সাথে ঘোড়ায় চড়ে বসে, আর তুষার উপত্যকার দিকে চলতে শুরু করে।
[রিজওয়ান ঘোড়ায় চড়ে]
রিজওয়ানঃ (বলতে থাকে) এই উপত্যকাটা দেখো, আম্মিজান;
একজন বাদশা হবার অধিকারে, আমি কথা দিচ্ছি যে
এটা সবসময় এরকমই থাকবে।
ফাতিমাঃ শোনা মাত্রই, তার আম্মি তাকে একটা প্রশ্ন করে,
যে প্রশ্নটা সে এর আগে কখনও করেনি
আম্মিঃ ও আমার নওজোয়ান বাদশাহ, এটা তো বলুন- কি এমন কি জিনিস আছে যা সব সময় থেকে যায়? হুমম…চিরকাল কোন জিনিস থেকে যায়?
রিজওয়ানঃ এই পাহাড় আম্মিজান, এই পাহাড়! এটা চিরকাল এখানেই থাকবে!
যতই ভাঙুক, ক্ষয়ে যাক, কোন পার্থ্যক্য হবে না,
সূর্য চিরকাল এই তরাই থেকেই উঠে আসবে,
আর চিরকাল চাঁদ, এই কোলেই ডুবে যাবে
ফাতিমাঃ তার আম্মি, চোখে দুঃখ ভাসা, বিস্ময়ে উন্মীলিত এক নারী, বলে-
আম্মিঃ এই পাহাড় চিরকাল থাকবে! কিন্তু তুমি কি চিরকাল…চিরকাল…রাখতে পারবে…
রিজওয়ানঃ আর আমার কালীন…
[রিজওয়ান একলাফে শতরঞ্চির উপর]
আর আমার কালীন…আর এই আকাশও চিরকাল থেকে যাবে! এটা আরো…আরো…উপরে উড়াল দেবে! আর আমি নিচের সমস্ত বড় বড় জিনিস কে ছোট, আরো ছোট হতে দেখব। আম্মি…ঠিক এমনটাই চিরকাল হবে!
আম্মিঃ এই আকাশ তো চিরকাল থাকবে রিজওয়ান! (কিন্তু) এই কালীন টা কি সবসময় রাখতে পারবে?
RIZWAN 7
রিজওয়ানঃ এই কালীন চড়ে আমি যেমন উড়ছি, আর এই মেঘের ভেলায় যেমন ভাসছি, এ চিরকাল থাকবে আম্মি।
আম্মিঃ তুমি কি কথা দিচ্ছ, তুমি এদের সবাই কে আগলে রাখবে?
ফাতিমাঃ খানিক বাদে কিছু লোকজন দেখা যায়…
আমি আকাশ থেকে তাদের পাহাড়ের দিকে আসতে দেখলাম…
[রিজওয়ান শ্বাস ছাড়ে এবং ওই মানুষগুলো কে খুঁজতে নেমে পরে, ফাতিমা শ্বাস নেয় এবং উঠে পরে; রিজওয়ান পিছনে তাকায়, ফাতিমা মাথা বরাবর পড়ে যায়; রিজওয়ান ফতিমা কে ধরে এবং মরদেহ আপস্টেজে টেনে নিয়ে যায়। রিজওয়ানের মরদেহ সহ নিষ্ক্রমণের দৃশ্য ক্রমশ মিলিয়ে যায়।]
দাদাজানঃ প্রিয় ফাতিমা…তোমাদের আব্বা আর নেই…
আম্মিঃ প্রিয় ফরহাদ, দাদাজান আর আমাদের মাঝে নেই
দাদাজানঃ প্রিয় ফরহাদ, আমরা আজো তোমার ঘরে ফিরে আসার পথ চেয়ে বসে আছি…(তোমার অপেক্ষায়)
রিজওয়ানঃ প্রিয় রিজওয়ান! আমি আর কোনোদিন বাড়ি ফিরব না, -ফরহাদ।
আম্মিঃ চিঠি তাকেই বলে, যা সবসময় থেকে যায়… রুহ-এর চিঠি… রুহ-এর নামে লেখা …
রিজওয়ানঃ ঠিকানাবিহীন চিঠি থেকে যায়…আর যেসব চিঠির উপর ঠিকানা লেখা থাকে…তা যেভাবেই হোক পৌঁছে যায়…কোথাও না কোথাও।
আম্মিঃ রিজওয়ান, দেখো! সিপাহী…
[রিজওয়ান ডাউনস্টেজের দিকে দৌড়োয়]
আম্মিঃ ছাড় না রিজওয়ান, ওদের সাথে আমাদের কি লেনা দেনা…আর আমাদেরোতো ওদের কোনো দরকার নেই।
ফাতিমাঃ প্রিয় আম্মি…ওরা আমাদের বাড়িটা চায়, আমাদের গোলাপ বাগান- ওরা চেকপোস্ট বানাবে
দাদাজানঃ প্রিয় মোমিনা, ওরা আমাদের কাপড় চোপড় আর কম্বল চায় … যা দিয়ে ওরা নিজেদের গরম রাখতে পারে- ওরা আমাদের ছাদটা টা চায়, যা দিয়ে ওরা নিজেদের ঢেকে রাখতে পারে…
আম্মিঃ ফাতিমা, আমার সোনা মেয়ে, এরাও তো নওজোয়ান। কারুর না কারুর সন্তান, অন্য কারুর রিজওয়ান…
রিজওয়ানঃ ওদের সাথে আমাদের অনেক কিছু লেনা দেনা আছে আম্মি, আমাদেরও ওদের ততটাই দরকার…এই হল আমাদের জান্নাত আম্মি…আমি ওদের এই জান্নাতের দরজা পার হতে দেব না…!
রিজওয়ান (অপর সত্ত্বা)- আম্মি… রিজওয়ান ওদের ভিতরে আসতে দিচ্ছে না…আমাদেরও দফ্‌ন করতে ও অস্বীকার করছে…
আম্মিঃ আমাদের গোর দাও রিজওয়ান! আমাদের দফ্‌ন করো!
কোরাসঃ আমাদের পার করো! ফতেহা পড়ো!
আমাদের দফ্‌ন করো আর বিদায় দাও!
রিজওয়ানঃ আম্মি…ওরা আমাদের জমিটা ছিনিয়ে নিতে পারে…আমাদের আকাশ কেড়ে নিতে পারে…কিন্তু আমাদের এই ঝিল আমাদের থেকে ওরা কাড়তে পারবে না…
এই ঝিল আম্মি…এই ঝিল চিরকাল থেকে যাবে!
ফাতিমাঃ আর তারপর ও সেই প্রশ্নটা করল…যা ও কখনও করেনি…
রিজওয়ানঃ আম্মি…কি হয় যদি কোনোকিছুই চিরকালের জন্য না থাকে!
আম্মি…তার কি হয়…যে চিরকাল থাকে না…
ঝিলটা যদি মরে যায় তো কি হবে!
[আম্মি রিজওয়ানকে চড় মারে]
ফাতিমাঃ প্রিয় আম্মি…ওরা আমাদের বাড়িটা নিয়ে নিয়েছে…
ও এক কোণায় বসে আছে লাশ গুলো আগলে রেখে।
আম্মিঃ দফ্‌ন কর আমাদের রিজওয়ান…আমাদের পাকসাফ করো…ফতেহা পড়ো…রিজওয়ান আমার সোনা ছেলে …আমাদের বিদায় দাও…
রিজওয়ানঃ এখানেই আম্মি…এখানেই…
“গর ফিরদৌস বার-রূ-এ জামীনস্ত্‌
হামীনস্ত্‌ হামীনস্ত্‌ হামীনস্ত্‌”
ফাতিমাঃ এই দুনিয়ায় যদি কোনো জান্নাত থেকে থাকে, তবে সে জান্নাত এই মাটিতে, এই মাটিতে, এই মাটিতেই।
দাদাজানঃ আমার প্রিয় মোমিনা, রিজওয়ান আমাদের ঝিলের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে…ও কে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে…
রিজওয়ান(অপর সত্ত্বা)- আর গল্পের শেষে কি হয় আম্মি…
আম্মিঃ গল্পের শেষে বাদশাহ জান্নাতকে বাঁচায়…চিরতরে…আর ওর আম্মির কাছে ফিরে আসে…
রিজওয়ান (অপর সত্ত্বা)- আম্মি…ওই মাটি বাঁচে কি বাঁচে না…
আম্মিঃ ঐ মাটি ধূলোয় মিলিয়ে যায়…
রিজওয়ান(অপর সত্ত্বা)- আর ধূলো?
আম্মিঃ ধুলো তারা হয়ে যায়!
ফাতিমাঃ আম্মিজান…সিপাহীরা রিজওয়ানকে ঘিড়ে ফেলেছে…
দাদাজানঃ ওকে খুনি ঘোষণা করা হয়েছে…আর দোষারোপ করা হয়েছে যে ওই নাকি নিজের পরিবারের সবাই কে খুন করে ঘরে লুকিয়ে রেখেছে…
ফাতিমাঃ আরো অনেক জান্নাত আছে রিজওয়ান…আরো অনেক কিছু আছে রিজওয়ান…রক্ষা করার জন্য!
এখানে আরো অনেক বেহেস্ত আছে!
আরো অনেক কিছু আছে … রক্ষা করার জন্য!
“যদি তুমি কোনোভাবে কেবলই আমার হতে
এ দুনিয়ায় অসাধ্য কিবা ছিল আর?”
[দৃশ্য শেষ হবার সাথে সাথে রিজওয়ান সরোবরের জলে ডুবে যায়]

অনুবাদ: ঋদ্ধিবেশ ভট্টাচার্য্য
ঢাকায় নাটবাংলা প্রযোজিত সৈয়দ জামিল আহমেদ নির্দেশিত এই নাটকের ছবিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com