নোবেলজয়ী ইশিগুরোর সাক্ষাৎকার: কিছু কিছু ব্যাপারে তারা প্রবল জাতিবিদ্বেষী

নাহিদ আহসান | ১১ অক্টোবর ২০১৭ ১০:০১ অপরাহ্ন

Ishiguroকাজুও ইশিগুরো হঠাৎই যেন বিশ্বসাহিত্যের একজন প্রিয় লেখক হিসেবে জায়গা করে নিলেন। জাপানে জন্মেছেন তিনি , শৈশব কৈশোর কেটেছে ইংল্যান্ডে। সূক্ষ্ম নির্জন ভাষা ভঙ্গির উপন্যাস লেখেন তিনি। তার উপন্যাসের চরিত্ররা অদ্ভুত সব পরিস্হিতিতে তাদের অতীতের সাথে সম্পর্কযুক্ত থেকে যান । পঞ্চাশোর্ধ ইশিগুরো,তার স্মৃতি,তার দ্বিধা বিভক্ত ঐতিহ্য এবং তার সাম্প্রতিক উপন্যাস নিয়ে কথা বলেছেন্। তেইশ বছর ধরে মাত্র ছয়টি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। যার মধ্যে সাম্প্রতিকতম হচ্ছে,‘নেভার লেট মি গো’। জার্মান সাময়িকী Der Spiegel-এর অনলাইন ইংরেজি সংস্করণে ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবরে ইশিগুরোর একটি সাক্ষাৎকার গৃহীত হয়। সাক্ষাৎকরাটি নিয়েছিলেন Michael Scott Moore এবং Michael Sontheimer, এই সাক্ষাৎকারে ইশিগুরো নেভার লেট মি গো ছাড়াও তার অন্যান্য উপন্যাস নিয়েও কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারছি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও অনুবাদক নাহিদ আহসান। বি, স

Der Spiegel: গত ২৩ বছরে আপনার নেভার লেট মি গো ষষ্ঠ উপন্যাস। মনে হচ্ছে আপনার লেখালিখির গতি খুব ধীর। কেন বলুনতো?
ইশিগুরো: আসলে আমার কখনও মনে হয়নি যে আরও দ্রুত লেখা দরকার। আমি কখনো ভাবিনি আরও বই বের করা জরুরী। কিছুটা ভিন্নধর্মী বই লেখাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ।
Der Spiegel: আপনার বইয়ের বিক্রয় সংখ্যা তো ইতিমধ্যে দশ লক্ষ কপি ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া আঠাশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

ইশিগুরো: দু’ধরনের লেখকদের মধ্যে এখন বিশাল পার্থক্য,যাদের বই অনেক বিক্রি হয় আর যাদের খুব কম বিক্রি হয় । এমনকি যারা খুব বিখ্যাত লেখক, যেমন নোবেলবিজয়ী লেখকদের কথাও যদি বলি তাদের অনেকের বই কম বিক্রি হয়। লেখকদের জীবন যাপনের মাপকাঠি নির্ধারণ করা আজকাল কঠিন । কেউ হয়তো কোটিপতি কেউবা অভুক্ত থাকেন। দশ পনেরো বছর ধরে পরিস্হিতি এমন হয়েছে যে লেখক এখন বইয়ের বিশ্ব বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, বিশেষ করে ইংরেজী ভাষার লেখকরা।

Der Spiegel: জার্মানির তরুণ লেখকরা বলেন, আমেরিকান ঔপন্যাসিক হলেই জার্মানিতে এখন বিখ্যাত হওয়া সম্ভব ।
ইশিগুরো: এটাতো বেশ ইতিবাচক যে জার্মানির পাঠকরা এত বহির্মুখী যে তারা আমেরিকান বা ব্রিটিশদের বই পড়েন। কিন্তু এই ব্যাপারটা আবার কিছুটা বিরক্তিকরও। কারণ প্রত্যেক দেশেরই নিজস্ব সাহিত্য বলয় থাকা উচিত। তারপর তারা দৃষ্টি দেবে বাইরের পৃথিবীতে।
Der Spiegel: আন্তর্জাতিক লেখক বলতে ঠিক কি বোঝায়?
ইশিগুরো : এটার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। ধরুণ আমি জার্মানিতে বা অন্য কোথাও কিছু সময় কাটালাম। তাদের সাথে আমার উপন্যাসের কোনো কোনো অংশের যৌক্তিকতা নিয়ে কথাবার্তা বললাম। ইংরেজীতে অনেক কিছু খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় কিন্তু তা ভিন্ন একটি ভাষায় তুলে ধরা সম্ভব নয়। কারণ puns, brand names, cultural references-এর উপর নির্ভর করার কারণে ইংরেজিতে হয়তো কোনো কিছু ঠিকই মানাচ্ছে কিন্তু অন্য ভাষায় গিয়ে সেটা হয়তো আর মানাচ্ছে না। পরবতীতে আমার ভেতর এক ধরনের চাপ অনুভব করি আমার লেখা থেকে এসব মুছে ফেলার কথা ভেবে। এটা বিপদজ্জনক।
Der Spiegel: কিন্তু আপনি কি মনে করেন না আন্তর্জাতিক লেখক হিসেবে আপনি একটি ভাল অবস্হানে আছেন? আপনি জাপানে জন্মেছেন, আপনার পাচঁ বছর বয়সে আপনার পরিবার চলে এসেছে ইংল্যান্ডে। এখনও জাপানি ঐতিহ্যের সাথে একাত্ববোধ করেন?
ইশিগুরো: অবশ্যই ইংল্যান্ডই আমার ঘর। তবে আমার বাবা মা দুজনই জীবিত এবং সুস্হ আছেন। আমি যখন তাদের সাথে কথা বলি তখ জাপানি ভাষা ব্যবহার করি যদিও তা খুবউ কাঁচা এবং শিশুতোষ। কিন্তু এটাই আমার তাদের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। আমরা সবসময়ই পরিকল্পনা করি জাপানে ফিরে যাব। আমার বাবা একজন বিজ্ঞানী যিনি ব্রিটিশ সরকারের জন্য কাজ করেন অস্থায়ীভিত্তিক নিয়োগে। যদিও ইতিমধ্যে পয়তাল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আমি সবময়ই জাপানে যাবার জন্য এবং জাপানি সমাজে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।
Der Spiegel: ইংল্যান্ডের শহরতলিতে আপনি নিজেকে বহিরাগত ভাবতেন না একজন এশিয় ছেলে হিসেবে?
ইশিগুরো: বরং উল্টো। আমি এখানে খুব জনপ্রিয় ছিলাম। চার্চে গায়ক দলের নেতা। আমি সবাইকে চিনতাম। ব্রিটিশরা এব্যাপারে বেশ মজার। কিছু কিছু ব্যাপারে তারা প্রবল জাতিবিদ্বেষী। আবার ব্যক্তি হিসেবে উদারনৈতিক। আমি যে বৃটেনে বড় হয়েছি তা এত বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতিসম্পন্ন ছিল না। তাই বহুভাবেই আমি বৃটেনের সেই প্রাচীন দিনগুলোর প্রতি একধরনের নস্টালজিয়া বোধ করি। ষাটের দশকের পর থেকেই এখানকার লোকদের ভারতীয় উপমহাদেশের লোকদের প্রতি এক ধরণের সংস্কার জন্ম নিতে শুরু করে। কিন্তু আমার শৈশবকালে উপমহাদেশের মানুষের প্রতি এদের কোন অভিন্ন ধারণা ছিল না।
Der Spiegel: আপনার নতুন উপন্যাসের পটভূমি ইংল্যান্ড। কিন্তু ইংলিশ উপন্যাস বলতে আমরা যেরকম বুঝি, সেরকম নয় ।
ইশিগুরো: আমি কখনও এমন উপন্যাস লিখতে চাইনি যা ইংল্যান্ডকে হুবহু তুলে ধরে। আমি এরকম অনেক ইংরেজ লেখককে চিনি যারা বৃটিশ সমাজের বৈশিষ্ট্যের নির্যাসকে লেখার ভেতর তুলে আনতে চান। আমি যদিও বলি ইংল্যান্ড কিন্তু এটা আসলে একটা কাল্পনিক পটভূমি। যখন আমি ‘Remains of the Day’ লিখি তখন বহু মানুষ মনে করেছে এটা একটা গতানুগতিক ইংলিশ নভেল। সেখানেও কিন্তু আমি এক বানানো ইংল্যান্ডকেই তুলে ধরেছি।
Der Spiegel: হুম্, এটা জার্মানদের ইংল্যান্ড সম্বন্ধে যে ধরাবাঁধা ধারণা সেই ইংল্যান্ডকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
ইশিগুরো: হ্যাঁ আমার মনে হয় সারা পৃথিবীর মানুষের এ রকম ধারণা আছে। কাজেই এটা একটা বৈশ্বিক পটভূমি। এমনকি ইংল্যান্ডের মানুষদেরও ইংল্যান্ড সম্পর্কে একটা মন গড়া ধারণা আছে। ,`Never Let Me Go’ কিন্তু ‘Remains of the Day’ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিন্যাসে লেখা।
Der Spiegel: এটা গ্রামীণ ইংল্যান্ড,নরফোকের গ্রামাঞ্চল।
ইশিগুরো: কিন্তু সেখানকার গ্রামীণ সৌর্ন্দযকে তুলে ধরা হয়নি। বিষণ্ণ, ঠান্ডা, ধূসর এক গ্রামের ছবি আছে সেখানে।
Der Spiegel: সব মিলিয়ে `Never Let me Go’ কিছুটা বিষণ্ণ। এ উপন্যাসের তরুণরা সবাই ক্লোন, পরস্পরের হুবহু অনুকৃতি, তাদের ভাগ্যও অনুরূপ। কিন্তু তারা বিদ্রোহ করে না। এটাই কি মানুষ সম্পর্কে আপনার ধারণা?
ইশিগুরো: আমাকে স্বীকার করতেই হবে, আমার উপন্যাসগুলো এরকমই। `Remains of the Day’র বাটলারের কথায় ফিরে যাই। সে ঠিক বুঝতে পারে না তার অবস্হান কোথায়। সে শুধু সবকিছু মেনে নেয় এবং নিজের আত্মমর্যাদা ফিরে পেতে চেষ্টা করে। লেখার শুরু থেকেই আমি জানি, একটি শৃঙ্খলিত, শোষিত শ্রেণী যারা বিদ্রোহ করতে চায়, তা নিয়ে আমি কিছু লিখতে চাইনা। মানুষের শক্তিমত্তার বিজয়গাঁথা আমার বর্ণনার বিষয় নয়। আমি বরং আগ্রহী মানুষের এই নিষ্ঠুর নিয়তিকে মেনে নেবার ক্ষমতাকে।

Der Spiegel: একজন আমেরিকান সমালোচক ‘Never let me go’কে কাফকা এবং বেকেটের কাজের সাথে তুলনা করেছেন।
ইশিগুরো: আমার মনে হয় তারা নির্দিষ্টভাবে বলতে চেয়েছেন কাফকা এবং বেকেটের মতোই আমার কাজকে বিমূর্তভাবে দেখা উচিৎ। আমার লেখক জীবনে আমি পাঠকদের আমার লেখাকে আলংকারিক অর্থে দেখার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছি সবসময়। আমি আমার পটভূমির সাথে কমই যুক্ত থাকি। যেমন: আমার লেখা সল বেলো থেকে ভিন্ন। পটভূমি আমি লেখার পরে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। এটা আমার টেকনিকের অংশ।
Der Spiegel: আপনি কি চরিত্র দিয়ে শুরু করেন?
ইশিগুরো: আমি সবসময় শুরু করি চরিত্রগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক দিয়ে, কোন প্রশ্ন, কোন থীমের মধ্য দিয়ে। আমার একটি বড় সমস্যা হলো পুরো গল্প তৈরি হবার পর পটভূমি খুঁজে বের করা। অনেক চিন্তা করতে হয়, ইতিহাসের বই পড়তে হয়। কিউবান বিপ্লবের সময়কার পটভূমি বেশ কৌতুহলোদ্দীপক। আমার প্রথম উপন্যাসের শেষ হয়, শেষ পর্যন্ত নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু যখন আমি এই উপন্যাস শুরু করি তখন সেটা ছিল ক্রমওয়েল-এর প্রেক্ষাপট।
Der Spiegel: আরেকজন ঔপন্যাসিকের কথা আপনি আমাকে মনে করিয়ে দেন , তিনি হচ্ছেন ডব্লু. জি. সেবাল্ড, কারণ তিনি সংক্ষেপে লিখতে পারেন আবার তার মধ্যে আছে অস্পষ্টতা এবং তারও সেইসব কথক আছে যারা তাদের জীবন নিয়ে এবং ইতিহাস নিয়ে কথা বলে।
ইশিগুরো: অবশ্যই আমি সেবাল্ড পড়েছি এবং তার মৃত্যুর আগে তার সাথে আবার কয়েকবার দেখাও হয়েছে। কিন্তু এটা আমি বলতে পারব না যে, আমি তার দ্বারা প্রভাবিত। মাত্র কয়েক বছর আগে আমি তার কিছু লেখা পড়েছি। তিনি বহু বছর ধরে ব্রিটেনে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছর আগে তার বই আমাদের নজরে এসেছে যখন ‘দ্য ইমিগ্র্যান্ট’ অনূদিত হল। তখন সবাই তার ব্যাপারে উৎসাহিত হয়ে উঠল। তারপর ২০০১-এ দুর্ভাগ্যক্রমে তার মৃত্যু হয়। আমি University of East Anglia গিয়েছিলাম, যেখানে উনি পড়াতেন, কেউ তাকে তেমনভাবে চিনতেন না। এটা ওরা খুব ভালভাবে রপ্ত করেছে এত ভাল ভাল লেখক চারদিকে – হয়তো সেরা লেখকই নিঃশব্দে পড়িয়ে যাচ্ছে তূলনামূলক সাহিত্য। আমার কাছে এটা বেশ মজার লাগে।
Der Spiegel: আপনি কাদের দ্বারা প্রভাবিত?
ইশিগুরো: দস্তয়ভস্কি, টলস্টয়, চেখভ – এই লেখকদের লেখা আমি পড়তাম যখন আমি তরুণ ছিলাম। কিছু ইংরেজ লেখকদের লেখাও পড়েছি। ১৯৫০ সাল থেকে জাপানি চলচ্চিত্রকার যেমন ইয়াসুজিরো ওযু কিংবা আকিরা কুরোসাওয়া আমার ওপরে প্রচন্ড প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু জাপানিজ বইয়ের তেমন কোন প্রভাব নেই আমার ওপর। আমার বরং জাপানিজ বইয়ের অনুবাদ পড়ে বিভ্রান্তিকর মনে হয়। একমাত্র হারুকি মুরাকামির উপন্যাস আমি বুঝতে পারি। তাকে আমার একজন আন্তর্জাতিক লেখক বলে মনে হয়।
Der Spiegel: মুরাকামি আমেরিকান এবং ব্রিটিশ পপ কালচারকে মিলিয়ে জাপানিজ নির্দিষ্ট কিছু ঐতিহ্য মিশিয়ে দেন।
ইশিগুরো: জাপান এরকমই। বিশ বছর আগে আমি কুরোসাওয়ার কথা শুনতে গিয়েছিলাম এবং তিনি হুবহু একই কথা বলেছেন। একজন জানতে চাইল, ‘যে আপনি শেক্সপিয়রের রচনা থেকে ছবি করছেন কেন? এটা তো আপনার জন্য খুব আন্তর্জাতিক একটা ব্যাপার হয়ে যায়, তাই না? উনি উত্তর দিলেন যে, এটা তার জন্য খুব স্বাভাবিক ব্যাপার কেন না তিনি শেকস্পীয়র, ফরাসি এবং রুশ লেখকদের লেখা পড়ে বড় হয়েছেন এবং এটাই একজন জাপানিজ মানুষের প্রতিরূপ। টোকিওতে pop culture এবং ঐতিহ্যবাহী জাপানি সংস্কৃতির এই সংমিশ্রণ খুব স্পস্ট চোখে পড়ে।

Der Spiegel: আপনার বেশীরভাগ উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ব্যক্তির জীবনের প্রতি ফিরে দেখা। আপনার কি কখনও ইচেছ হয়েছে ভিন্ন ধরণের কিছু লিখতে যেমন:নাটক কিংবা কবিতা?
ইশিগুরো: হ্যাঁ,আমি কিছু চিত্রনাট্য লিখছি, এটা আমার জন্য কাজ করার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মাধ্যম যেখানে অন্যরাও যুক্ত। আমার মনে হয় আমার ভেতরকার ভিন্ন এক সত্ত্বা কাজ করছে এখানে যা আমাকে সতেজ করে তুলেছে। তবে আমি এখনও আপ্লুতবোধ করি স্মৃতি বিষযটি নিয়ে। পরবর্তীতে আমি কাজ করব – একটি পুরো জাতি কিভাবে একটি পুরো বিষয় ভুলে যায় অথবা মনে রাখে এই ব্যাপারটি নিয়ে। কখন ভুলে যাওয়া ভাল কখন মনে রাখা দরকার?
Der Spiegel: জার্মানীর ইতিহাসে যেহেতু নাৎসীরা জড়িত, তাই ষাটের দশকের পর এই বিষয়টি তাদের জন্য একটা বড় ব্যাপার।
ইশিগুরো: জর্মানরা এটা সচেতনভাবে করেছে। সব জাতির চেয়ে সবচেয়ে সফল ও ফলপ্রসূভাবে।
Der Spiegel: বিশেষ করে জাপানীদের তূলনায়।
ইশিগুরো: জাপানিদের সাথে তূলনা করলে,হ্যাঁ। তবে আমার মনে হয় আমেরিকায় দাসত্ব নিয়ে খুব কষ্টদায়ক স্মৃতি আছে। অনেকেই বলে এসব কবর দিয়ে সামনে এগিয়ে যাও। এটা কালোদের জন্য ভাল নয়, সাদাদের জন্যও এটা ভাল নয় অতীতের জিনিস বারেবারে সামনে নিয়ে আসা। অন্যরা আবার বলে, এটা না করলে সমাজকে সামনে এগিয়ে নেয়া যাবে না । নাৎসী, ফরাসি বা স্ক্যান্ডিনেভিয় দেশগুলো দ্বারা অধিকৃত সব দেশ সম্বন্ধেই এই কথাগুলো বলা যায়। কোনটা ভাল–খুঁড়ে খুঁড়ে বের করা নাকি সামনে এগিয়ে যাওয়া? সব জাতিরই এই প্রশ্ন।

Der Spiegel: নিটসে একবার বলেছিলেন,“ভুলে যাওয়া আমাদের মুক্তি দেয়।”
ইশিগুরো: হ্যাঁ ,এটা একটা বিরাট ব্যাপার। আমার মনে হয় আমার বইগুলোর কেন্দ্রীয় অভিনিবেশ দুইটি – বড় সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়া দেশগুলো এবং ব্যক্তির একান্ত স্মৃতিচারণ। কিন্তু আমি এই দুইটি একই সাথে আনতে পারিনি। সত্যি সত্যিই এটা আনা বেশ কঠিন ব্যাপার।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com