ইকতিজা আহসানের কবিতা

ইকতিজা আহসান | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

Fakirতোমার সঙ্গে তোমার

তোমার সঙ্গে তোমার থাকা নিয়া আলাপ
থাকা না থাকার মাঝখানে শূন্য জায়গাটারে
দেখি খুব ফাল মারে…
মাঝেসাজে তোমারে গায়েব কইরা দেয়।
গায়েবিগঞ্জের আদ্য কানা তুমি
বোবধরা ঘুমে ডিগবাজি খেতে থাক
তোমার মতো দেখতে এক আকৃতি কুয়াশাকে
আলিঙ্গন করে
ঢেকুর তোলো তোমাকে পাওয়ার
তুমি আসলে নাই
বহুদিন তুমি তোমার সঙ্গে থাক না।

গায়েবিগঞ্জ

এইখানে সব কিছু গায়েব হইয়া যায়!
দিন কে খাইয়া ফ্যালে রাত….
পথ হারানো শিশুর মত অনাথ বোধে
সে রাতের পেটের মধ্যে কুণ্ডলি পাকায়ে থাকে…
এই গঞ্জে সবকিছু কুয়াশা কুয়াশা; মায়া মায়া; আধিভৌতিক ছায়া
উৎসহীন আওয়াজ ধইরা চলে
মাটির দুহাত উপ্রে ভাসা ভাসা
চেনা চেনা অচেনা….
একটি হাঁসরে দেখতে দেখতে মনে হবে
অজগর ছোবল মারতে আসতাছে…
কাক উড়তে উড়তে মুহূর্ত চিল হয়ে যায়
চিল হয়তো হঠাৎ করে চোখের সামনে
কোনো নিরীহ মুরগির ছানা নিয়ে নাই হয়ে গেল!
আকার ও প্রতিকারহীন কিছু আধিভৌতিক ছায়া।
শরীরহীন সব ছায়ারা
কোনো এক গভীর প্রত্ন-পাতাল থেকে
শুধু উৎসহীন গায়েবি আওয়াজ তোলে!

আউশের ক্ষেত

আমার বুক এক অন্তহীন আউশের ক্ষেত বর্ষাজলমগ্ন;
এক ঝাক শামুকসন্ধানী হাঁস উলম্বডুবে কাদাঘেটে ক্লান্ত…
রতিপ্রিয় কোনো কৃষ্ণ-হাঁস ইচ্ছাহারানোর দেশে
সর্পিল আইলের ফাঁক গলে কুহকী ডাকে;
দু একজন রাধা-হাঁস দলছুট ছোটে…
ধানক্ষেতের গোড়ায় মৎস্যকুমারীর এক্কাদোক্কার কোটে
দাগ কেটে দেয় এক ঘোরলাগা মৎস্যকুমার
আরও কিছু ছানাপোনা, শিষ্যসামন্ত হঠাৎ বউ ভাগানোর
মস্ত ছি দিয়ে এফোড়ওফোড় করে জলের পাড়া
মৃদু ঢেউয়ের তালে তালে ধানক্ষেত হাসে…
তার ঘরে এরা সব লক্ষী-অতিথি
প্রতিবেশি নদনদী ও ডাঙায় সাকিন;
জমজবোনের মতো বাধনে
জড়িয়ে পেচিয়ে তারা বাঁচতে ভালবাসে….
শিকারী এক কলার ভেলায় ভেসে
তাক করা বর্শার সুচালো থাবায়
কোনো এক মৎসকুমারীকে গেথে নিয়ে যায়…
বিরহের ঘনজলে আউশের ক্ষেতে ঢল নামে
মৎসকুমারের বিরহে সরিষা বাটা দিতে
আরও আরও মাছ উজিয়ে নামে
আসে আরও আরও হাঁসের মিছিল
জলের সাথে পাল্লা দিয়ে ধানক্ষেত বাড়ে
বাড়ে ধানের ফলন… চাষির ঘরামি ঘরন

আমার বুক আদি আউশের ক্ষেত
বিষহীন প্রাকৃতিক ধান অভিপ্রেত!!

কুহক

আমার সামনে আছে; আসলে নাই
হাওয়ার লাহান টের পাই মাগার দেহি না
গায়েবি আওয়াজের লাহান
এক অতল শূন্যের মধ্য দিয়া
সলতে পাকাইয়া ওঠে…
সন্ধ্যার আবছায়ায় নদীলগ্ন বেরিবাঁধের মাথায়
একটা গলাভাঙা কলাগাছের ঝুলে পরা ড্যাগা
হাত নাড়াইয়া ডাকার মতো সে এক বিভ্রম;
লোমশ সাদা খরগোশের আকার নিয়া
আমার চারপাশের ঘনজঙ্গলে ফালদি বেড়ায়…
আমি তারে দেখি না, আবার দেখি
অধিক দেখার বাসনায় ঘনজঙ্গলকে বৃত্ত বানায়া ঘুরি
বৃষ্টির ছোঁয়ায় জঙ্গল আরও ঘন হয়ে ওঠে
আমি ঢাকা পড়ে যাই!!
তবু এক অলীক খরগোশ চোখ ফসকাইয়া যায়
তার ছায়ায় আমার পথ পথান্তরে বৃত্তায়…

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com