জয়তু জাতিসত্তার কবি

মোস্তফা তোফায়েল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:২৪ পূর্বাহ্ন

nurul-huda.jpgআপনি পূর্বপুরুষের কথা বলেছেন
তামাটে দ্রাবিড়দের কথা বলেছেন
কৈবর্ত কুলের কথা বলেছেন
সাদা আর্যদের কথা বলেছেন

জেলেদের কথা, হেলেদের কথা বলেছেন।

আপনি পাখিদের কথা, পশুদের কথা বলেছেন,
কামুক জানোয়ারদের কথা, বানরের কথা, মানব-মানবীর কথা বলেছেন।
আপনি অগ্নি উদ্গীরণকারী ড্রাগনের কথা বলেছেন,
বায়ু-পায়ী উদ্ভিদের কথা বলেছেন,
বিদ্যুৎ-গতি ভুজঙ্গমের কথা বলেছেন,
মৃত্তিকাভোজী মহীলতার কথা বলেছেন,
আপনি আমার পূর্বজনমের কথা বলেছেন,
বাঙালির পূর্বপুরুষদের কথা বলেছেন।

আপনার হাতের খড়ি ধরে আমি কথা বলা শিখতে চাই;
রাজহাঁসের ছদ্মবেশধারী আমার জন্মদাতা জিউসের কথা বলতে চাই;
আমি ডাচ দস্যুদের লোহার শেকলের ঝনন ঝন স্মরণ করতে চাই;
পর্তুগিজ ডাকাতদের ধারালো ক্ষুরে আমার পিতামহদের
দেহের মাংশ কর্তনের কথা স্মরণ করতে চাই;
আমার পিতামহ মাতামহীগণ জন্মগতভাবে ক্রীতদাস ছিলেন না,

তারা ছিলেন ভূমিপুত্র, ভূমিকন্যা,
পরিবর্তিত হন ক্রীতদাসে।
তাদের হাতে ছিল শষ্যদানা, তারা ফলাতেন শষ্যকণা।
তাদের পোষ্য ছিল দুগ্ধবতী গাভী, ভারবাহী হাতি;
তাদের বশ্য ছিল বলীর্বদ গরু;
তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল পদ্মামেঘনাযমুনার স্রোতের বেগ;
কাষ্ঠনির্মীত জলযান ছিল তাদের পরিবহন;
মহিষের শিঙ দিয়ে বানানো বাঁশি ছিল তাদের বার্তাযন্ত্র;
নুড়িপাথরের রুনু রুনু ধ্বনি ছিল তাদের সঙ্গীত লহরী;
সেই লহরীর সাথে সুর মেলাতো পাখপাখালি।

এলো ইংরেজ, তারা দস্যু,
করে লুটপাট, মারে পাখশাট;
ধরে দু’কান করে অপমান;
মারে থাপ্পড়, ছেঁড়ে কাপ্পড়;
পায়ে পাদুকায় মেরে থ্যাৎলায়;
এ কী লজ্জা! এ কী লজ্জা!
এ কী লজ্জা!
সেই লজ্জায় জিভ কেটে যায়।

আবার এলো পাগলাঘোড়া লক্ষ ঘোড়া,
ঘোড়াগুলোর চারটে পায়ের দুটো খোঁড়া।

ঘোড়াগুলো একদিকে চায় হাসিমুখে,
ঘোড়াগুলো আর দিকে চায় বিষের চোখে।

কবি হুদা ওই ঘোড়াদের নাম দিয়েছেন
অন্ধমাতাল, আকাশঘোড়া, আকাশঘোড়া।

রাগলো ঘোড়া, লাল টক্ টক্ দু’চোখ যে লাল,
সেসব ঘোড়া খুব বেসামাল খুব বেসামাল।

স্বর্গমর্ত্য উথাল পাথাল ঘোর দাপটে
মত্ত মাতাল সেসব ঘোড়া উল্কা ছোটে।

ছুটতে ছুটতে অন্ধ বেগে অনেক রেগে
বাঙালিদের পাতা ফাঁদে সকল ঘোড়া
ধপাস্ করে পড়লো হঠাৎ হুম্ড়ি বেগে,
বন্দি হয়ে কাঁদলো অনেক অশ্রুভরা।

সেদিন থেকে গায় বাঙালি গান-গীতালী,
আবার তারা নুড়ির সাথে পায় মিতালী;
আবার তারা পাখির সাথে পায় মিতালী;
মাটির সাথে ধানের সাথে পায় মিতালী;
নদীর সাথে বায়ুর সাথে পায় মিতালী।

মৌলিকতা, পায় ফিরে পায়, মৌলভাষায়
মৌলিকতার সাথে তারা উত্তরে ধায়–
আধুনিক হয়– কেউ কেউ হয় অত্যাধুনিক;
উত্তরাধুনিকের তত্ত্বে লেখে লিরিক।
কেউবা হচ্ছে ফ্রাঞ্জ কাফ্কা, কেউবা বেকেট
কেউবা নিচ্ছে নাস্তিক্যের চরম টিকেট।

সকল বিবাদ মিটিয়ে ফেলে পেলাম যখন
হুদা ভাইয়ের মৌলাধুনিক তত্ত্ব, তখন
পেলাম আমি স্বাধীনতা, ছুটাছুটির;
আদিসূত্র রক্ষা করে কল্পকুটির–
প্রান্তিকতার– উভয় প্রান্তে খেলার সুযোগ
মৌল সত্তা রক্ষা করে যথেচ্ছ ভোগ।

স্বাধীন মানুষ স্বাধীন পথে সার্বভৌম;
আদিসূত্র অটুট রেখে স্বাধীন কৌম।

জয় জয়তু মৌলাধুনিক তত্ত্ব কবি,
জয় জয়ন্তী জাতিসত্তার অমর কবি।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mukul Mia Talukder — অক্টোবর ৪, ২০১৭ @ ১০:৪৮ অপরাহ্ন

      অপরূপ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com