গল্প

শিরোনামহীন মানুষ

দিলরুবা আহমেদ | 31 Oct , 2017  

farzanaদীপু গলির মোড়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরেই ভাবছে একবারের জন্য হলেও হয়তোবা লেবানন আসবে। যদিও এখনও পাত্তা নাই। লা-পাত্তা। তবে সে এখনও ভাবছে আসবে। আশা ছাড়ে নাই। দীপু পালোয়ানকে অগ্রাহ্য করার সাহস করবে না এই মহল্লার কেও-ই। পরিচিত বেশ কয়েকজনকেই বলেছে লেবাননকে পাঠাও এখানে। শেষমেষ চেচিয়ে চেচিয়ে যাকে পেয়েছে তাকেই বলেছে ‘লেবাননইন্যাকে আইসতে ক আমার সামনে’। তখনও, এখনও,তারপরও সামনে ফাকা। খোলা ময়দান। গোল দেওয়ার বলের দেখা নাই। আসে নাই এখনও। লেবাননইন্যা। গেলো কই। লেবানন এ ভাগছে নাকি! কোথায় সেই দেশ, নিজেও জানে না। তবে শুনেছে লেবাননে পয়দা হয়ছে বলে এ-কে ডাকে সবাই লেবানন। আসল নাম হারায় গেছে। মুখে মুখে ঘুরতে ফিরতে ফিরতে এখন ঐ নামই খাড়া একপায়ে, তালগাছ টাইপে দাড়ায়ে গেছে। জানে সে খুব ভাল করেই জানে পেছনে টিটকারী মারে তাকেও,তাকেও লোকে ডাকে ধোলাই খাল। বাপের পরিচয় নাই তাই এমন নাম। ধোলাই খাল। জিজ্ঞিরা মেড। কিছু মনে করে না সে। কি মনে করতে হয় তাই সে আসলে জানে না। তবে এটা জানে লেবানন খুব চায় মহল্লার লিডার হইতে। এত-ই সহজ ‘লেবানন বান জায় গি লিডার’। সে নিজে একটু এদিক ওদিক গেলেই উঠে আসে কুয়া থেকে। শালা কুয়ার ব্যাঙ। আজ আসুক শুধু। বাপের নামও ভুলাইয়া দেবে। ঐ-টারও বাপ নাই। নাই মানে মারা গেছে। সেও জানে না কোথায় তার বাপ। তারও নাই। ওর-ও নাই। তারপরও সবাই ভাবটা দেখায়, মাইরী সে জলে ভাইসা বেড়ানো কচু আর লেবানন সাহেব জলে ভাসা পদ্ম। সাগরিকার ভাই সে রকমই বলে।

সাগরিকাও আসল নাম না। দেখতে এক্কেবারে নায়িকা। গলিতে হাটতে নামলেই মনে হয় ‘ফাটা পোস্টার নায়িকা নিকলা ‘। কথাটা গোল্লাছুটের। গোল্লাছুটই ঐ সাগরিকা নামটা দিয়ছে। সেই কোন ছোট বেলায় দেওয়া নাম সাগরিকা। আজও দৌড়াচ্ছে ঐ নাম। গোল্লাছুট দৌড়াদৌড়িতে মারহাবা ছিল তাই নিজেই নিজের টাইটেল বাচ্চা বয়সেই জোগাড় করছে -গোল্লাছুট। সেও আজ অবধি ঐ নামেই ছুটছে। থাকে সে ঐ সামনের বস্তিতে। ঐ দুই রাস্তার শেষ মাথায় যে আলুর গুদামটা আছে তার পেছনের তিনটা বস্তীর প্রথমটায় থাকে গোল্লাছুট । সাগরিকাও থাকে ঐ-টাতে। পরেরটাতে সে। একা। আসতে যেতেই দেখা হয় সাগরিকার সাথে। মাস্তান মনে কইরা সবাই সরে থাকলেও সেই প্রথম থেককেই সাগরিকা তাকে দেখলেই একটা করে হাসি দিত, এখনও দেয়। কেমন যেন হাসিটা। হাসিটা কেমন আসলে-ই জানে না সে। শুধু জানে খুব অচেনা বিঊটিফুল সুন্দর ঐ হাসিটা। এক হাসিতে সব কভার। সব খবরের কাগজের প্রথম পাতা ঐ হাসিতে ফুটে উঠে। এত রহস্য। এটা যে রহস্য তা অবশ্য গোল্লাছুটই তাকে ধরাইয়া দিছে। না হলে তো খুইজা মইরাও বুঝতে পারতো না কি আছে ঐ হাসিতে। বহুত ঢং জানে ঐ রঙীলা পাখী। শাড়ী পড়ে নাভীর নিচে । আজকাল নাভীর পাশে একটা তিলও দেখতে পায়। আগে ছিল না সেটা। শিউর। ১০০% শিউর। সেই কবে থেকেই তো দেখে আসতাছে। নজর সরায় নাই কখনোই। ৮/৯ বছর বয়সে সেই যে মা আর তিন ভাইয়ের সাথে আইসা ঢুকলো। এখনো আছে। কত বছর হইলো? প্রায় ১০ বছর তো হইলোই। সাগরিকাকে দেখলেই গোল্লাছুট বলে, ‘তুমি কন্যা সুন্দর বইলা আয়না দেখ সারাদিন, নাপিতও আয়না দেখে ‘। গোল্লাছুট যেহেতু নাপিত তার কথায় সাগরিকা হাসে। আর সে কইলেই দোষ। বলাবলি তো পরে ,চাইলেই কয়, দীপুদা এমন ড্যাব ড্যাব করে চাইয়া থাক্বা নাতো। চক্ষু সরাও। তারপরও সে চাতক পাখির মতন চাইয়াই থাকে । ভাইগুলান তো তারে দু’চক্ষে দেখতে পারে না। দেখলেই চোখ গোল গোল কইরা চায়। যেন কোন এক কিসিমের জানোয়ার জন্তু সে। কয়ও, এ-তো খিচুড়ী ভাষার লোক,এমন কোন এক ভাষায় কথা বলে যে কেও বুঝতে পারে না কোথাকার পাবলিক এ!! হে হে, তার কি দোষ! যেই গেছে পাশ দিয়া তার থেকেই একটা কইরা লাইন তুলে নিছে। পুরা বাংলাদেশ কাভার। কিন্তু সাগরিকার ভাইরা সেটা বুঝলো না। কয় দিন আগে লেবানন শুদ্ধ ভাষায় , ফুটপাতের উপর দুটো ইটের উপর দাঁড়ায়ে ঠিকই বলছিল, ‘সব সুন্দরী মেয়েদের তিন চারটা কইরা গুন্ডা ভাই থাকে, যারা রাস্তার সবছেলেকে ষণ্ডা মনে করে’। তাকেও ষণ্ডা ভাবে সাগরিকার ভাই সাগর, নাগর আর ফরিদ। তিনজনই ভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গুণ্ডা দীপু পালোয়ান। পালোয়ান পদবীটা সে নিজেই যোগ করছে। বাপেরটা তো আর জানা নাই। সুমু পালোয়ানকে পছন্দ আছিল ছোটবেলায় খুব। বিশাল, পেটুক, চুল পিছনে ঝুটি বাধা। নিজেও সেভাবে বেঁধে রাখে। মহল্লার ‘সবুজ পাতা’ স্কুলের দিদিমনিরা একদিন ,অনেক আগে, ধরে ধরে বস্তির সব ছোট ছোট পোলাপানদের নিয়া স্কুলে ভরলো। তাকেও পুরলো। সবার সাথে তাকেও লাইন ধরে পড়তে বসতে হতো। দিদি মনি বাপের নাম ফর্মে ভরার জন্য জিজ্ঞেস করতেই সে সাথে সাথে না ভাববাই সুমু পালোয়ান নামটা বলে দিয়েছিল। এখন মনে পড়লে হাসি পায়। আর সে দিপু পালোয়ান। স্লিপ কেটে কিভাবে যেন সেভেন পর্যন্ত চলেও গিয়েছিল। তারপর, তারপরে আর পড়ে নাই। কোন পড়া মুখস্ত হইত না। কত চিন্তা, ধান্ধা। কত কি। এত কিছু কি আর একা একা সামলানো যায়। এত এত অংক কইরায় কি হইবো জীবনের একটাও অংক মিলতে ছিল না। মা-টা থাকলে হযতো পারতো। মা-টা সেই একদিন বস্তী ছাইডা কোথায় যেন গেল গিয়া। আজও ফিরে আসে নাই। কোথায় যে কার সাথে গেল গিয়া ! তারপরও সে একা একা ১২-১৩ বছর পার কইরা দিল। থাকলে পড়াটাও চালাইয়া যাইত। লেবানল যেমন গেছে। কলেজেও ঢুকছিল। সাহেব স্টাইলে কলেজে যাইত, কি কি পাশও দি ছিল। ঐ কলোনীর বাসাটাতে বড় করে দাওয়াত করছিস অনেককে সেই খুশীতে। আর সে নামের সম্মান রক্ষা করতে গিয়া কুস্তী খেলায় নেমে পড়ছে। প্রতি বছর জব্বর আলীর বলী খেলাতে খেলতে যায়। জেতে নাই কখনোই তারপরও যায়। প্রতি বছর যাওয়ার আগে সাগরিকা খুব দুঃথ দুঃখ চোখে তাকাইয়া থাকে। ঠিক কাইনদা উঠার আগে দিয়া দৌড়ে ঘরে হান্দায়। বিদায় দেওয়া কখনোই পুরাপুরি কমপ্লিট হয় না বলে ফিরে ফিরে আসে। ওদের বাসার সামনে দিয়া আসতে আসতেই জোরে জোরে প্রতিবারই, গোল্লাছুট ওই গোল্লাছুটরে,বলে হাক দেয়। ভাইয়েরা না থাকলে সাগরিকাই আগে ছুটে বার হইয়া আসে। আজও পাড়ায় ঢুকতেই ঐ বস্তীর সামনে দিয়া আসার সময় ডাক ছাড়ছে কিন্তু না আসছে সাগরিকা না গোল্লাছুট। সাত দিন ছিল না অথচ এবার কেন যেন পা দিয়াই মনে হইছে সব বদলায়ে গেছে। কিন্তু বদলায়েছেটা কি? কোন ঘোড়ার ডিমটা বদলায়েছে! এখন গোল্লাছুটকে দেখা পাওয়া মাত্রই জানা গেছে অঘটনাটা কি, কি ঘটছে। দামামা বাজতাছে মাথায়। এত সাহস লেবাননাইয়ার। এত সাহস! কোন এক অফিসে নাকি চাকুরী পাইছে। কি আর হবে পিয়নের হবে। চাপরাসীর হবে। কিন্তু বস্তীতে ভাব করতাছে যেন বড় সাব হইছে। পাঁচ দিন আগে চাকুরী পাইছে। প্রথম দিনেই সবাইকে মিষ্টি খাওয়াইছে। খাওয়াইয়াই সাথে সাথে সাগরিকার বাসায় প্রস্তাব পাঠাইছে। তিন ভাই সাথে সাথে রাজী হই গেছে। লেবানন জানে দীপু পালোয়ানের নজর কোথায় তারপরও এই দুঃসাহস করছে। একে লেবাননে পাঠনোর ব্যবস্থাই করতে হবে। একদম পাঠায়ে দেবে যেখান থেকে আসছিল সেখানে। এক ফু-তে আজই পাঠায়ে দেবে। সে এবারও জিতে আসতে পারে নাই তো কি হইছে হারবে না আর, হারাবেও না কিছু। যাকেই দেখছে তাকেই বলছে পাঠাও ঐ পাঠাকে আজই জবাই করবো। চামচিকার মতন লুকায়ে পড়ছে নাকি। দেখা নাই টিকিটিরও। ধরা দিচ্ছে না। দেখা দিবে, দিতে হবে। থাকে তো ঐ সামনের কলোনীতে। গিয়া ধরবে সে। খপ করে ঘাড চেপে ধরবে,মট করে দু ভাগ করবে।

আরে ঐ-টা কে,সাগরিকা না! এত সুন্দর লাগতাছে কেন এ-রে আজ। তেজ যেন ঠিককরাইয়া পড়তাছে। হলুদ শাড়ীর কারণে কি! বিকেল বেলার আলোর কিরণে কি ঝলমল ঝলমল করতাছে! নাহ জানার দরকার নাই। রানী যে সোজা তার দিকে আসতাছে। তারও তাই আর কোন দিকে তাকানোর সময় শেষ । ডাইরেকট এ্যাকশন। ড্যাশিং ভাবটা তার নেওয়ার কথা কিন্তু সাগর কন্যা আসতাছে অগ্নি কন্যা হইয়া। এবারের কুস্তীতে অনেক জায়গায় আছাড় খাইছে। সব ভুইল্যা ব্যাথা ব্যাথা দুঃখ দুঃখ চোখে দাঁড়ায়ে থাকতে মন চাইছে। সাগরিকা দেখলে সাথে সাথে কাইন্দা উঠেবো। মালম দিবো। ঐ দূর থেকে দূরবীন লাগাইয়া যেন লেবাননইন্যা তা দেখে। ভালই হইছে এ বার ভালই ফুলছে নাক চোখ। হাত পা ভাঙলে আরো ভাল হইতো। ধরাইয়া দিত ঐ মেয়ের হাত। লাগবে না হাত পা, তুমি রাখ। এই বলবে। যাইতে পারবো না ঐ লেবাননের ঘরে আর তাহলে।
: এবার ও হারছো, তারপরও কুস্তি ছাড়বা না, না?
আরে এ তো দেখি ক্ষ্যাপা বোমা হই আছে। মায়ার বাক্সটা হারাই ফেলছে না কি?
: না কুস্তি ছাড়–ম না।
: তাই নিয়া থাক। জানো তো, আমার যে বিয়া।
: করবি না।
: তোর কথা মতন।
: আমি বিয়া করবো তোকে?
: তোমার কি কোন জাতপাত মা-বাপ আছে ? কে তুই? মায়ে কইছে পরিচয় ছাড়া ছেলের লগে আমারে বিয়া দিব না।
: আমার মা-কে তোরা দেখসোসই। বাপ-মা নাই কি?
: তোর মায়ের কোন ঠিক ছিল। দু’দিন এর লগে তিন দিন ওর ঘরে।
: মুখ সামলাহ্। ঘুষি কিন্তু তোর মুখেও মারুম।
: মুখই দেখামু না আর। লেবানন কইছে বিদেশ যামুগা আমরা।
: তুই লেবাননকে বিয়া করবি না।
: করমু।
: খুব শখ হইচে না ঐ দালানে ঢুকার? বস্তী আর ভালা লাগের না। লোভ বাড়ছে, না?
: তুই তো সবই বুঝস। তোর বোঝা নিয়া থাক।
: কই যাস। দাঁড়া। কথা শেষ হয় নাই।
সাগরিকা হঠাৎ হাটা থামায়ে ফিরে তাকায়, বলে,
: আমারে আগলে রাখতে পারবি না। যদি তুই বলতি দালানে কতটা আর রক্ষা পাবি আমার বুকের খাচায় তার থেকেও বেশী নিরাপদে থাকবি, আমি তাহলে থাকতুম, যদি বলতি ছাড় টাকা পয়সা, ও গুলো হাতের ময়লা, থাক পাশে আমি ত্রিগুন কামাবো, তুই তো আমার নীলা, আমি থাকতাম। বললি কিনা আমি লোভী। কামড় দিয়ে রাখতে পারবি?
: পারবো পারবো। আমি আগুন জ্বালায়ে দেব তোদের বস্তীতে। তোর ভাইদের জ্যান্ত পুড়ায়ে দেব। কুপায়ে মারবো ঐ লেবাননকে।
: তুই কিছুই করতে পারবি না। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এখন এই মুহুতে ঐ লেবাননকেই বিয়া করুম। তুই শান্তির মানুষ না।
: নিজের গায়ে আগুন ধরাইয়া দিমু। কাল পত্রিকায় দেখিস।
: পত্রিকায় খুজে পামু না। শিরোনাম থাকবো না কোন। তুই একজন শিরোনামহীন মানুষ।
সাগরিকা মুখ ঘুরায়ে হেটে চলে যেতে গিয়ে এবার ছুট দিল। এক ছুটে বহু দুর, আরো বহু দুরে যেন হারায়ে যেতে লাগলো। দীপু চুপচাপ তাকায়ে থাকলো।
গোল্লাছুট অনেকক্ষণ ধরে পাশেই বসা। ম্যাচিশের কাঠিটা আগাইয়া দিতে দিতে বললো,
: গিয়া কাঁদবো , কও এখন , কখন আগুন ধরামু। তবে আমরা জ্বললেও কি মরলেও কি। চারদিকে কত পোকামাকড় মরে ,খবর কি কেও তার রাখে।
দীপু আপন মনে বলে ,
:ও না গেলেই তো আমি রাজা হতাম , আমারে পোকামাকড়ের জীবনে ফেলাইয়া গেল কেন!

Flag Counter


4 Responses

  1. মাহমুদ রিজভী says:

    বহুদিন বাদে ভিন্ন আমেজের অন্য স্বাদের গল্প পড়লাম।

    দিলরুবা আহমেদ তাঁর লেখায় ভিন্নতা এনেছেন।

    তাঁর জন্য শুভকামনা…

  2. আসিফ জামান says:

    আমার ভাল লাগছে। গল্পের প্লট হয়ত পুরাতন কিন্তু শিরোনামহীন ব্যপারটা ভাল লাগছে। হাহাকারটা অন্য রকম লাগছে।

  3. ফারুক হায়দার says:

    গল্প‌টির গঠ‌নে ও উপস্থাপনায় দারুন নতুনত্ব পেলাম।ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন হয়েছে গল্প ও গল্পকার। প্রবাসী জীবন রচনায় সিদ্ধহস্ত দিলরুবা আহমেদের এরকম দেশের জীবন কাহিনী তুলে ধরা অসাধারণ চিত্ররূপ মুগ্ধকর। মনে হয়নি পড়ছি, মনে হয়েছে দেখছি, দিলরুবা আহমেদের গল্প মানেই তো ছবি ও ছন্দের সমাহার।

  4. A.Wahab says:

    অসাধারন
    একটা ছোট গল্প পড়লাম অনেকদিন পরে….। ৬০দশকে
    লেখা ‘পাগলা দাসু’ নামে আমি এমনই মজার ও হাসির কিশোর
    গল্প পড়েছিলাম, আজ ‘শিরোনামহীন মানুষ ‘ তেমনিই
    অদ্ভুত রকমের ভালো লাগলো…!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.