সাক্ষাৎকার

নির্মলেন্দু গুণ: মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে

রাজু আলাউদ্দিন | 12 Aug , 2017  

কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে দেখা যতটা হয় তার চেয়ে আলাপ হয় বেশি । সে আলাপ মূলত ফোন-নির্ভর। গত রমজানের মাঝামাঝি ফোনে আলাপ শুরু হয়েছিল হাইকোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে তার নিরবতা দিয়ে, পরে একে একে আলাপের অংশ হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, হেফাজত, লেখক ফরহাদ মজহার, তসলিমা নাসরিন, অভিনেত্রী কবরী, সুচিত্রা সেন, মুনমুন সেন, সাম্প্রদায়িকতা, লেখকের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়। এসব নিয়ে বরাবরেরই মতো কবি তার স্বভাবসুলভ অকপট ও কৌতুকরসের সমন্বয়ে জানিয়েছেন তার পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য। তার সাথে আমার এই আলাপচারিতার লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। –রাজু আলাউদ্দিন।
goon.jpg
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যালো গুণদা, শুনতে পাচ্ছেন? আমি রাজু আলাউদ্দিন। এই পবিত্র রমজান মাসে আপনাকে নমস্কার।
নির্মলেন্দু গুণ: আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা।
রাজু আলাউদ্দিন: আর এই পবিত্র রমজান মাসেই আপনার সম্পর্কে সামান্য নিন্দাও করছি, আমি খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করেছি(ফেসবুকে) আপনার নিরবতায়।
নির্মলেন্দু গুণ: : কী সেটা?
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি এই যে মূর্তি নিয়ে কিছুই বললেন না! সেজন্য কথা বলতে একটু উৎসাহ প্রকাশ করছি। ভাস্কর্য সরানো বা রাখার বিষয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণদা তো কিছুই বললেন না! তিনি কাশবনে সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি নিয়ে কী করবেন!
নির্মলেন্দু গুণ: কিছু বলিনি, সেজন্য একজন বলেছে কাশবন থেকে (বঙ্গবন্ধুর)ভাস্কর্যটি নিয়ে যাওয়া হবে।
রাজু আলাউদ্দিন: হা হা হা। ওইটা ভালোই বলেছে। আমি জানি না আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী। তবে এইটা বুঝতে পারি যে রাজনৈতিক খেলা হচ্ছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যে, বিএনপিকে ঘায়েল করার জন্যে…
নির্মলেন্দু গুণ: সব সমস্যার মধ্যে নাক গলাতে নেই।
রাজু আলাউদ্দিন: এইটা আপনার দিক থেকে বলতেছেন আপনার কথা?
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ।
রাজু আলাউদ্দিন: কিন্তু জাতি যখন বড় বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়…
নির্মলেন্দু গুণ: (রাজুকে থামিয়ে দিয়ে) যখন বড় বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়… ওই রকম কয়েকবার আমি একা রিএ্যাক্ট করেছি। আমার তো সেই ইতিহাস আছে। সামরিক শাসনের সময় কবিদের মধ্যে….
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ ‘দূর হ দুঃশাসন’ বইও তো লিখেছেন।
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, তা তো আছেই। তাছাড়া আমি সামরিক বাহিনী কর্তৃক পিষ্ট হয়ে কঠিন দিনও পার করছি। তো আমার রিএ্যাক্টের স্টাইলটা সামাজিক না। নিয়ম আছে না যে চলো চলো হাইকোর্ট চলো বা শাহবাগ চলো– এই ধরনের গড্ডলিকা প্রবাহে আমি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি না। আমি যখন অন্তর থেকে উপলব্ধি করি, তখন আমি আমার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার জন্য আরো কেউ সঙ্গে আছে কি না সেটা আমার লক্ষনীয় বিষয় না। আমি যখন কোনো একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই তখন ওরা আমাকে আকর্ষণ করার জন্য বেশকিছু নাম উচ্চারণ করে যেগুলো দামি, মূল্য বহনকারী নাম। কিন্তু আমি বলি এই সমস্ত নাম উচ্চারণ করে আমাকে আকৃষ্ট করার প্রয়োজন নেই। আমি যেহেতু যাব স্বীকার করেছি সেক্ষেত্রে আমার চেয়ে মূর্খরাও যদি থাকে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি বাংলাদেশে মূর্খ এবং পণ্ডিতদের মধ্যে অন্তর থেকে খুব একটা পার্থক্য করি না। সুতরাং আমি জানি, গতানুগতিক কিছু ঘটনা ঘটবে কিন্তু আমার ভাস্কর্যের উপর একটি টোকাও পড়বে না। আমার ভাস্কর্যগুলো তো উন্মুক্ত। আমার ভাস্কর্য মানুষের বিশ্বাস দ্বারা, মানুষের ভালোবাসা দ্বারা সুরক্ষিত। হাইকোর্টের মতো দেয়াল দিয়ে পাহারা দেয়া নয়। আমার ভাস্কর্যের প্রতি আমার এলাকাবাসী যে সম্মান প্রদর্শন করেছেন, সেখানে আমি হেফাজতকে ভয়ই বা পাব কেন বা হেফাজতের কাছে অনুরোধ করতে যাব কেন যে আমার ভাস্কর্যগুলো দেখবেন! তারা তো এতদিন ধরে দেখেই আসছে! এটা ওরিড( Worried) হওয়ার বিষয় আমার মনে হয় না– এই যে স্বাধীনতা চলে গেল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নষ্ট হয়ে গেল…
রাজু আলাউদ্দিন: তাহলে হেফাজত নিয়ে ভয়ের কিছু নাই বলে মনে হয় আপনার?
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, হ্যাঁ। এটা আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট মনে করি।
রাজু আলাউদ্দিন: তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন হেফাজত আর বড় হবে না?
নির্মলেন্দু গুণ: বড় হবে কিন্তু ওই যে বলে “অতি বাড় বেড়ো না ঝড়ে ভেঙে যাবে আর অতি ছোট থেকো না ছাগলে তোমায় খাবে।” তো হেফাজত যদি বড় হয় তাহলে শুধু ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার জন্যই বড় হবে। সে যখন বড় হয়েছিল তখন কান ধরে ঢাকা থেকে বেরিয়েছে।
রাজু আলাউদ্দিন: ওকে, আপনি যেটা বললেন ধরে নিচ্ছি যে হেফাজত বড় হবে না, তাহলে হেফাজতকে পাত্তা দিচ্ছে কেন সরকার? হেফাজতের এত দাবি দাওয়া…
নির্মলেন্দু গুণ: পাত্তা দিচ্ছে না। হেফাজতকে পাত্তা দিচ্ছে না। পাত্তা দিচ্ছে বিএনপিকে। বিএনপিকে দুর্বল করার কৌশলের মধ্যে একটা হচ্ছে হেফাজতকে পাত্তা দেয়া।
রাজু আলাউদ্দিন: সেই পয়েন্ট আমি বুঝতেছি। কিন্তু একটা কথা হলো, হেফাজতের দাবির প্রেক্ষিতে পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তন কেন আনা হলো?
নির্মলেন্দু গুণ: হাসিনা পরিবর্তন করছে সেগুলো যেগুলোয় তার নিজের অবিশ্বাস রয়েছে । সে তো নিজে বলছে ওই ভাস্কর্য আমার পছন্দ নয়। আমি একবার তসলিমাকে (তসলিমা নাসরিন) তার কাছে নিয়ে গেছিলাম। তসলিমা আমার সাহায্য চাইছিল শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য। তাকে বদলি করে দিচ্ছিল সরিষাবাড়ি, প্রত্যন্ত গ্রামে। তখন আমাদের স্বাস্থ্য-সচিব ছিলেন ইমরান, যিনি কবিতা লিখতেন, এরশাদের ঘনিষ্ঠ। সেই ইমরান তসলিমাকে বলল যে যদি বিরোধী দলীয় নেত্রী আমাকে অনুরোধ করে তাহলে আপনাকে বদলির আদেশ বাতিল করতে পারি। তো বিরোধী দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর সমান মর্যাদাশীল। , বিরোধী দলীয় নেত্রী ছিলেন, মিন্টো রোডে। মিন্টো রোডে আমি তাকে নিয়ে গেলাম। সেখানে তসলিমাকে শেখ হাসিনা যে ধোলাই দিলেন…
রাজু আলাউদ্দিন: তাই!
নির্মলেন্দু গুণ: উনি আমাকে বললেন, আপনি তাকে নিয়ে আসছেন, আপনি তার লেখা পড়েন? আমি বললাম, দ্যাখেন আমি তো রবীন্দ্রনাথের লেখাই ভালো করে পড়ি না, ওর লেখা পড়ব–এটা তো আশা করতে পারেন না (রাজু আলাউদ্দিনের তুমুল হাসি)। আমি পড়ি না খুব একটা, তবে মাঝে মাঝে দুএকটা কবিতা টবিতা পড়ছি, কথাটথা বলে, কথা বলে সুন্দর। ও আমাকে বলেছে যে, সে(তসলিমা) মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে, মোল্লাদের বিরুদ্ধে। সেই জন্য মোল্লারা তার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত এবং বিএনপির বিরুদ্ধে বলে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বলে সেই জন্য বিএনপি তাকে বদলি করে দিয়েছে। হাসিনা বলল, আপনি তার লেখা যদি পড়তেন তাহলে আর আমাকে তার পক্ষ সমর্থন করে কথা বলতে পারতেন না। তিনি শুধু মোল্লাদের বিরুদ্ধে লেখেন না, উনি ইসলামের মৌল অনেকগুলো বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও লেখালেখি করেন। সুতরাং মোল্লারা তার কল্লা চায়, বিএনপি তারে বিদায় করে দিলো। আমি নিজেই তো তার বিরুদ্ধে লিখতাম যদি তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু না বলত। তো ইসলাম ধর্মের অনুশীলন তার (শেখ হাসিনা) ভেতর এতোই তীব্র, ইসলাম ধর্মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিষয়গুলোকে তিনি সেক্যুলারিজমের সঙ্গে আপস করার নামে ইসলামকে খর্ব করার ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহ নাই। ধর্ম থেকে সরে এসে ধর্মহীনতার ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহ নাই। এবং বঙ্গবন্ধু কিন্তু ধর্মনিরেপক্ষতার এই শিক্ষা হাসিনাকে দিয়ে গিয়েছেন, আমাদের জাতিকে দিছেন পরে, হাসিনাকে দিছেন আরো অনেক আগে থেকে, যখন ছোট ছিল। সেই কথা তিনি স্মরণও করছেন: “আমরা যখন নৌকায় এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাইতাম আমাদের নৌকাটা কিন্তু কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে দেয়া হতো।” অতএব তিনি কিন্তু হঠাৎ করে হিজাব পরেন নাই, যারা বলতেছে হাসিনা হঠাৎ করে রাজনীতির জন্য হিজাব পরা শুরু করেছিল মক্কা থেকে এসে…শামসুর রাহমান তাকে বলছিল আপনি হিজাবটা খুলবেন কবে? শামসুর রাহমান তো তার বিয়াই হয়।
রাজু আলাউদ্দিন: কবি শামসুর রাহমান শেখ হাসিনার বিয়াই নাকি?
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ।
রাজু আলাউদ্দিন: কোন সূত্রে?
নির্মলেন্দু গুণ: আমি বলছি। আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ্, উনার এক মেয়েকে বিয়ে করছেন শামসুর রাহমানের ছোট ভাই। ব্যারিস্টার তোফায়েল না কি জানি নাম। শ্যামলীর বাড়িটা যার ছিল। যার সাথে শামসুর রাহমান তার বারিধারায় পাওয়া ফ্ল্যাটটা বিনিময় করছিলেন। তো তিনি শেখ হাসিনাকে বললেন আপনি হিজাবটা খুলবেন কবে? তখন হাসিনা বলল, কেন, লম্বা কালো চুল দেখতে খুব সাধ হয়, না? (রাজু আলাউদ্দিনের হাসি: ভালোই। মানে ক্ষুব্ধ না হয়ে আরো রসাত্মক উত্তর দিলেন তিনি।)
নির্মলেন্দু গুণ: তারপর আবার বললেন, হ্যাঁ, খুলব, আমার চুল যেদিন আপনার মতো শাদা হবে, সেদিন।
রাজু আলাউদ্দিন: সাঙ্ঘাতিক তো! উনি বেশ বুদ্ধিদীপ্ত এবং রসাত্মক…
goon-1.jpg

নির্মলেন্দু গুণ: হাসিনা আমার সাথে তর্ক করতে করতে বড় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার সাথে তর্ক করে ঝগড়া করে, আমাকে অপমান করে যে অভিজ্ঞতা সে অর্জন করেছে সেটা আমার উপরই সে প্রয়োগ করে, আর অন্যদের উপর প্রয়োগ করবে না কেন!
রাজু আলাউদ্দিন: খুবই চমৎকার! আমি এগুলো জানতাম না, উনার এই বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর, রস– খুব ভালো। ভাল্লাগল।
নির্মলেন্দু গুণ: কবরীর বইটা নিয়ে (DBS চ্যানেলে প্রদর্শিত অনুষ্ঠান) তোমার আলোচনা দেখলাম অথচ ওখানে আমার উল্লেখ নাই।
রাজু আলাউদ্দিন: ও, না না। ওই উল্লেখটা আমি বলি.. ওইখানে তো আমার থাকার কথা ছিল না, বুঝছেন? আমার থাকারই কথা ছিল না। কিন্তু কবরী আপা এক রকম জোর করে ওদেরকে বলে আমাকে ওইখানে রাখছেন আর কি। ওরা হইছে কি, দুইজনের বেশি ওখানে রাখতে পারে না। পরে কবরী আপা বলার কারণে ওরা আমাকে কনেক্টিভিটিতে রাখছে। এবং সেখানেও আমি আসলে অতকিছু বলার সুযোগ পাইনি। আমি সুযোগ পাইলে তো বলতাম।
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, এটা তোমারই বলার কথা ছিল–তা না। কবরী নিজেও বলতে পারত।
রাজু আলাউদ্দিন: আসলে কবরী আপা তো (নির্মলেন্দু গুণ কর্তৃক লিখিত ভূমিকাটির কথা বলা হচ্ছে) হ্যাপী।
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, কবরী তো জনসম্মুখে অনেক মানুষের ভীড়ে চারপাশ বেষ্টিত হয়ে যখন আমার সাথে কথা বলছিল তখন আমাকে কানে কানে বলল: ভালোবাসি।
রাজু আলাউদ্দিন: আচ্ছা আচ্ছা। চমৎকার! আমার মনে হয় ওইখানে প্রসঙ্গটা কোনো কারণে উত্থাপিত হয়নি, তা না হলে কিন্তু উনি..
নির্মলেন্দু গুণ: এই ভূমিকাটি বইটির গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে– এই ভাবনাটা উপস্থাপক, কবরী নিজে–কারোরই তো মনে আসে নাই। আমার উপকার এইটা হয়েছিল যে তোমরা আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলে।
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, সেটা ঠিক। তবে আপনি লিখেছেন বলে আমরাও আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনি কোনো রকম সময়ও নেননি। অল্প সময়ের মধ্যে দিয়ে দিয়েছেন।
নির্মলেন্দু গুণ: এই লাইনে আমি তো পারফেক্ট লোক এই জন্যে যে আমি তো সুচিত্রা সেনকে নিয়েও কবিতা লিখছি। সেই কবিতা যখন ছাপা হয়েছিল আমার ফেসবুকে তখন বহু লোক আমাকে ভর্ৎসনা করেছিল, বিদ্রুপ করেছিল, যারা আমার বিরোধী আর কি। তারা বলছিল, এই রকম সদ্যপ্রয়াত নায়িকার প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা, প্রেম-ভালোবাসা থাকলে সে এই ধরনের অশ্লীল কবিতা রচনা করতে পারত না। আমি তাদেরকে বলেছি, এই কবিতা তো আরো দশ বছর আগে লেখা। নায়িকা তখন তো প্রয়াত ছিলেন না। তিনি জীবিত ছিলেন এবং কবিতাটি তার কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছিল। তো সেই কবিতা যখন কলকাতার একটা অনুষ্ঠানে আমি পাঠ করি, সেই অনুষ্ঠানে সুচিত্রার কন্যা মুনমুন সেন উপস্থিত ছিলেন দর্শকদের মধ্যে।
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, ভূমিকাতে তো আপনি উল্লেখও করছেন ঘটনাগুলো।
নির্মলেন্দু গুণ: তো কবিতা পড়ে মঞ্চ থেকে নেমে এলে মুনমুন আমার পা ছুঁয়ে সালাম করেছিল। অথচ মুনমুন আমার সমবয়সী।
রাজু আলাউদ্দিন: মুনমুন আপনার সমবয়সী! না না, বয়সে আপনার থেকে ছোট। অনেক ছোট।
নির্মলেন্দু গুণ: না না।
রাজু আলাউদ্দিন: আমরা তো যৌবনে দেখতাম…
নির্মলেন্দু গুণ: : মুনমুন তো নায়িকা।
রাজু আলাউদ্দিন: সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন তো! বয়সে আপনার থেকে ছোট হবে না অনেক?
নির্মলেন্দু গুণ: না না। এই এক দু বছরের ছোট হতে পারে।
রাজু আলাউদ্দিন: আমি তো ভাবছি অনেক ছোট।
নির্মলেন্দু গুণ: নায়িকাদেরকে ছোট ছোট মনে হয়।
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, বুড়ো বয়সে তারা তো আর অভিনয় করে না। ফলে আমাদের স্মৃতির মধ্যে ওনাদের সেই যৌবনদীপ্ত বয়সটাকে রেখে তারপর চলে যান।
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমাদের চোখে তো তার যৌবনের ছবিটা থাকে। তো সে আমার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিল। আমি একটু বিব্রতই বোধ করেছিলাম। যেহেতু আমি জানি আমি তার সমবয়সী। তবু আমি এমন একটা ভান করেছিলাম দর্শকদের সামনে, যেন আমি সত্যি সত্যি তার থেকে অনেক বড় এবং প্রণম্য। মাথায় হাত দিয়ে একটু আদর করে দিয়ে তাকে পাশে বসালাম। তো আমার কবিতাটি সুচিত্রা সেনের কন্যা এতটাই শ্রদ্ধার সাথে দেখেছিল, বলেছিল পশ্চিমবঙ্গের কোনো লোক বা কবি সুচিত্রা সেনকে এতটা শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা দিয়ে লেখেনি। তার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এসেছিল।
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, আপনি এই কথাও উল্লেখ করছিলেন।
নির্মলেন্দু গুণ: এই কবিতাটা যখন আমি ‘চ্যানেল আই’তে পড়ছিলাম, তখন কবরী বলেছিল কবিতাটা তার ভালো লেগেছে। তো সেই কথাটা উল্লেখ করেছিলাম। সুচিত্রা সেনের সাথে ইয়েকে রিলেট করার একটা সুযোগ হয়েছিল। সেই কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই ভূমিকাটা। আমাদের বাংলা সিনেমায়, সারা বাংলায় সুচিত্র সেনের যে অবস্থান, এর পরবর্তীকালে যারা নায়িকা হিসেবে এসেছে তারা কেউই প্রায় দুই বাংলার নায়িকা হয়ে উঠতে পারে নাই। তবে এই বাংলায় অন্তত সুচিত্রা সেনের ধারাবাহিকতায় কবরী তেরো বছর বয়স থেকে চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত থেকেছিল এবং এই মেয়েটি এতোই বেশি সেই সময়ে সুচিত্রা সেনের ভাবমূর্তিকে পাশে সরিয়ে দিয়ে আমাদের মনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল; ‘সুতরাং’ ছবিটা আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে একাধিকবার কবরীকে দেখার জন্য সিনেমা হলে গিয়েছি। এই তথ্যটা সেখানে ছিল। এইজন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল কবরীর জন্য। সে কারণে কবরী নিজেই কানে কানে আমারে গানটা শোনাল এবং সে আমাকে দেয়া কপিটাতে লিখেও দিছে গানটা: “জলে-স্থলে-নভতলে বাজায় বাঁশি ভালোবাসি, ভালোবাসি। কী আর বলব!”
রাজু আলাউদ্দিন: বাহ! বাহ! চমৎকার!
নির্মলেন্দু গুণ: সে নিজস্ব গাড়িতে এসেছিল। টিএসসির মোড় থেকে আমাকে ফোন করে বলল যে আমার সঙ্গে যদি গাড়ির পাশে এসে দেখা করেন তাহলে আমার পক্ষে সুবিধা হয়। নইলে আমি বেরোলে তো লোকে আমাকে ঘিরে ধরবে, আমি মুভ করতে পারব না। আপনার সঙ্গে দেখা করে আমি নিজের হাতে আপনাকে এক কপি বই দিতে চাই। আমি টিএসসির কাছাকাছি ছিলাম। সেখান থেকে ওর কাছে গেলাম। সে গাড়ি থেকে নেমে এসে আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলল। আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম।
রাজু আলাউদ্দিন: এটা ভালো তো।
নির্মলেন্দু গুণ: ভালোমন্দ জানি না। তবে ভালো লাগে আর কি। আমাদের ভালোমন্দ ব্যাপারটা সেও বোঝে। সে অভিনয় করেছে তো। বলে এটা অনেক বেশি ফিল্টারড হয়ে যায় আমাদের বাবামার কাছে। ফিল্টারড বাই রিলিজিয়ন, ফিল্টারড বাই স্যোশাল ভ্যালু। এখানে একটা বাঙালি কবি…. আমি যেমন মুন্নীকে একটা কবিতা লিখে দিয়েছিলাম… ‘বঙ্গের নারী অঙ্গের শোভা আড়ালে স্বস্তি খোঁজে, তাইতো কবির কল্পনালোকে বাড়ায় উপরি চাপ’। বাংলার কবিকে তাই কল্পনা করে তার স্তন, তার নিতম্ব, তার যোনি, তার উরু– আবৃত অংশগুলো তাকে অনেক বেশি কল্পনা করতে হয়, পাশ্চাত্যের কবির তুলনায়। বুদ্ধদেব বসু জানালার পাশে একটা হাতকে নিয়ে কবিতা লেখেন কারণ তিনি তো আর এর বেশি দেখতে পারছেন না নারীকে।
রাজু আলাউদ্দিন: না এর বেশি দেখতে পারছেন না। খুব সত্যি কথা। এবং একই কারণে আপনি দেখবেন যে, জীবনান্দ দাশের কবিতায় স্তনের কথা আছে, যোনির কথা পর্যন্ত আছে। কিন্তু নারীর শারীরিক সৌন্দর্যের ব্যাপারে বর্ণনা নাই।
নির্মলেন্দু গুণ: সেই এনাটমিটা তো তাকে জানতে হবে, তাই না! তার স্ত্রীকেই সে ভালো করে দেখতে পারে নাই। তার জীবনে তো অন্য নারীর উপস্থিতি টের পাওয়া যায় না।
রাজু আলাউদ্দিন: এবং তিনি এমনই মানুষ নিজের স্ত্রীর সঙ্গেও সঙ্গম করতেন কি না সন্দেহ– এতটাই তিনি আত্মমগ্ন।
নির্মলেন্দু গুণ: তার দুটো সন্তান তো আছে।
রাজু আলাউদ্দিন: না, তা তো আছেই। আমি বলতে চাচ্ছি তার মগ্নতা এতটাই প্রবল যে সেখানে শরীরি সম্পর্ক প্রধান না আর কি।
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, হ্যাঁ, সেতো বটেই। অবদমিত কামের চর্চা পাওয়া যায় তার বর্ণনার মধ্যে, চিত্রকল্পের মধ্যে।
রাজু আলাউদ্দিন: ওই যে সরোজিনী নাইডু আছে না! মুজতবা আলীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল আর কি। মুজতবা আলী একবার তার সামনে গেছেন। কথা বলতেছেন নাইডুর সঙ্গে। মুজতবা আলী তো খুব সুদর্শন ছিল, উনি মুজতবা আলীকে জড়িয়ে ধরেছিলেন খুশীতে। মুজতবা আলী পরে বর্ণনা দিছেন– “মাইরি, এতবড় স্তন আমি আর কখনো দেখিনি।” সরোজিনী নাইডুর স্তনও কিন্তু খুব বড় ছিল।
নির্মলেন্দু গুণ: সরোজিনী নাইডুর দেহ-অবয়ব আমি দর্শন করি নাই এবং তার ছবিও দেখি নাই।
রাজু আলাউদ্দিন: না, তবে মুজতবা আলীর ভাষ্য তো মান্য করার মতো।
নির্মলেন্দু গুণ: না, উনার তো মিথ্যা কথা বলার দরকার পড়ে না। তার জীবনের অভিজ্ঞতা এ রকম যে মিথ্যা বলার দরকার পড়ে না।

তো স্বাধীনতা চলে গেল, চেতনা চলে গেল, আবার পাকিস্তান হয়ে গেলাম– এই ধরনের হল্লা শুরু হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হওয়ার পর থেকে। কমিউনিস্টরা তো এখন আর কোনো সামাজিক ভূমিকার মধ্যে নাই তো, তাই তারা নিজের শক্তি পরখ করার জন্য রাস্তায় নেমে এসে তারা যে আলাদা এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করে আর কি। ওই ভাস্কর্য পরের দিনই যে হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে স্থাপন করা হবে এটা কিন্তু শুরুর থেকেই বলে আসছিল সাংবাদিকরা। যখন ওটার নিউজ প্রচার হচ্ছিল আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম। হাসিনা যখন ওটা পছন্দ করে নাই, হেফাজত পছন্দ করে নাই তখন ওটা সেখানে রাখবে কেন! তবে হাসিনার উচিত হবে যেটা, সেটা হচ্ছে, কদর্যতা বা পরিপার্শ্বিকতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ–এই বিবেচনায় গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য অপসারণ করার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর শামীম শিকদারের তৈরি করা জগন্নাথ হলের পেছনে কদর্য ভাস্কর্যটিও অপসারণ করা যেটি প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্বোধন করেছিলেন, এবং উদ্বোধন করার পর আমি যার বিরুদ্ধে লিখেছিলাম যে হাসিনার উচিত হয় নাই এই ধরনের একটা অশিল্পকে শিল্পের মর্যাদা দেয়া।
রাজু আলাউদ্দিন: কিন্তু শেখ হাসিনা ওটাকে শিল্পের মর্যাদা দিয়েছিলেন বলে যে ওটা উদ্বোধন করেছেন তা কী বলা যাবে, গুণদা? ওটা তো সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে করতেই হতো, তাই না?
নির্মলেন্দু গুণ: না, না, তা কেন হবে! তিনি আমাদের শিল্পরুচির রক্ষক নন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে?
রাজু আলাউদ্দিন: না মনে হয়, এটা ঠিক মনে হয় না।
নির্মলেন্দু গুণ: হওয়া উচিত।
রাজু আলাউদ্দিন: হওয়া উচিত তবে দুর্ঘটনা হলো যে এইটা যখন..
নির্মলেন্দু গুণ: (রাজুকে থামিয়ে দিয়ে) শোনেন, তিনি তো আমাদের অভিভাবক। একজন প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান যে, তিনি তো শুধু স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অভিভাবক তা তো নন। তিনি আমাদের শিল্পজগতেরও অভিভাবক। তিনি যদি খালেদা জিয়ার মতো মূর্খ হন তবে ভিন্ন কথা, সেটা আমাদের দুর্ভাগ্য। যদি জিয়াউর রহমানের মতো মূর্খ হন তাহলে আমাদের দুর্ভাগ্য। বঙ্গবন্ধু তো তার শিল্প-সাহিত্যের প্রতি অনুরাগের নজির রেখে গেছেন।
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, সাঙ্ঘাতিকভাবে! জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতি, শিল্প ও শিল্পীদের প্রতি ভীষণ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন তিনি।
নির্মলেন্দু গুণ: আমার ক্ষেত্রে উনি ‘আপনি’ বলতেন। সবার ক্ষেত্রে যেমন ‘তুমি’ বলতেন আমার ক্ষেত্রে আপনি বলতেন।
রাজু আলাউদ্দিন: ও আচ্ছা, এই সূত্রেই আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাইছিলাম– তসলিমা নাসরিনকে কি শেখ হাসিনা ‘আপনি’ বলছিলেন? আপনি বলে সম্বোধন করেছিলেন?
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, হ্যাঁ, আপনি। তবে আমি বলছি বঙ্গবন্ধুর কথা।
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, সেটা তো আমি জানিই। এটা এক সাক্ষাৎকারে আপনি আমাকে বলেওছিলেন। সেই জন্য আমি জানতে চেয়েছিলাম শেখ হাসিনাও কি তসলিমাকে…..
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, তসলিমার বিরুদ্ধে তিনি বললেন। আমি বললাম আমি তো তার লেখা অতো পড়ি নাই। আর আমাদের ধর্মে সমালোচনা নিষিদ্ধ নয়। এটা ইসলাম ধর্ম কতটা অনুমোদন করে সেটা আমি জানি না। আর ও কতটা সমালোচনা করে সেটাও আমি জানি না। কারণ তার লেখাও আমি পড়ি না। মোল্লাদের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি নিশ্চিত ছিলাম না কারণ মোল্লারা খুব সহজে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। যার জন্য নজরুলকে সারা জীবন মোল্লাদের বিরুদ্ধে লিখতে হইছে। এখন আপনিও (শেখ হাসিনা) যখন বলছেন তখন ব্যাপারটা বিবেচনায় নিতেই হবে। আমি তসলিমাকেও জিজ্ঞেস করব সে কতটা সমালোচনা করতে চায়। ধর্মকে কতটা দায়ী করতে চায় প্রগতির বিরুদ্ধে। আমাদের দুর্দশার জন্য, জাতির দুর্দশার জন্য ধর্ম কতটা দায়ী বলে সে মনে করে সেটা তার কাছ থেকে জেনে নিতে হবে বা পড়ে জানতে পারব। তারপর আমি ‘সরি’ বলে উঠে পড়লাম। বললাম, তার সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনেই তাকে আপনার কাছে নিয়ে আসছিলাম। তখন উনি বললেন, না না, বসেন বসেন। রাগ করেন কেন? দুপুর সময় আসছেন খেয়ে যান। আপনার বান্ধবীকে নিয়ে আসছেন। আমি বললাম, না না, ও আমার বান্ধবী না। ও আমার ছোট বোনের মতো। ময়মনসিং বাড়ি তো…
রাজু আলাউদ্দিন: হা হা হা। আপনি ভয় পাচ্ছিলেন বান্ধবী হিসেবে মেনে নিতে, তাই?
নির্মলেন্দু গুণ: না, কারণ সে অসম্মানিতবোধ করতে পারে।
রাজু আলাউদ্দিন: ও আচ্ছা আচ্ছা। বুঝতে পারছি।
নির্মলেন্দু গুণ: তো পরে বলল যে, খেয়ে যান খেয়ে যান। আর বলল, আমি ওর বিরুদ্ধে ওর চিন্তার বিরুদ্ধে, কিন্তু তাই জন্য তাকে বদলী করার পক্ষে না। তাকে যাতে বদলী না করা হয় সেজন্য আমি স্বাস্থ্যসচিবকে এক্ষুণি বলে দিচ্ছি। তো ওইখানে তখন এমপি–আবুল কালাম আজাদ যিনি পরবর্তীকালে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী হইছিলেন– সে আবার আমার খুব ঘনিষ্ঠ, আমরা একসাথে জুয়া খেলতাম প্রেস ক্লাবে। সে আমাকে দেখে খুশি হলো। তুমি তুমি সম্পর্ক আমাদের। তুমি কেমন আছ ইত্যাদি কথা হলো। হাসিনা জিজ্ঞেস করল– চিনেন নাকি! বললাম, চিনি। মাঝে মাঝে দেখা হয় প্রেস ক্লাবে। হাসিনা মুচকি হেসে বলল আমি তো ভুলেই গেছিলাম। মানে আমরা যে জুয়া খেলতাম, সেভাবেই তার সাথে পরিচয়–এটা সে বুঝে ফেলছে। এই জন্য মুচকি হেসে বলল- আমি তো ভুলেই গেছিলাম। যাই হোক, তাকে বললেন, সে তসলিমা নাসরিনকে সাথে করে নিয়ে আসছে। তাকে নাকি বদলী করে দেয়া হয়েছে প্রত্যন্ত এলাকায়। সেই বদলীটা যাতে প্রত্যাহার করে তাকে ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়, সুযোগ দেয়া হয়, সেজন্য আমি অনুরোধ করছি, আমার কথা বলে স্বাস্থ্যসচিবকে টেলিফোন করেন। তখনই উনি টেলিফোন করলেন। টেলিফোন করার পরে এসে বললেন যে কথা হইছে। তারপর ওকে (তসলিমাকে) মিডফোর্ড থেকে বদলী করে দিলো ঢাকা মেডিকেলে। বদলীর আদেশটা ঠিকই রাখল তবে সেটা আরো বেটার জাগায় নিয়ে আসল। কোথায় সরিষাবাড়ি জামালপুর- সেখান থেকে নিয়ে আসল ঢাকা মেডিকেলে। আমার বাসা তখন পলাশী, ফলে তসলিমার আগমন বেড়ে গেল আমার বাসায়। তার বাসার কাছাকাছি হয়ে গেল। কিন্তু সেই তসলিমা যখন তার আত্মজীবনী রচনা করছে, সেখানে এই ঘটনাটিকে সে উপস্থাপন করেছে বিকৃতভাবে, বইতে। সেখানে সে বলছে যে, আমার বদলীর খবর শুনে কবি নির্মলেন্দু গুণ আমাকে বললেন যে চলো তোমাকে হাসিনার কাছে নিয়ে যাই। বলে তিনি আমাকে শেখ হাসিনার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিছুদিন পরে আমার সেই বদলীর আদেশ রদ হয়। আমি অন্যান্য চ্যানেলেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কারণ শেখ হাসিনার সাথে আমার যে কথাবার্তা হয়েছিল তাতে তার উপর ভরসা রাখতে পারিনি। এই ধরনের লিখছে আর কি অকৃতজ্ঞের মতো। এবং সে যে আমাকে হাসিনার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল সেই কথা না বলে আমি তাকে হাসিনার কাছে নিয়ে গেছি, আমার নিজস্ব আগ্রহ থেকে আমি গেছি- এরকম একটা অসৎ ধারণা সে প্রকাশ করেছে তার লেখায়। সেই সূত্রে আমি বুঝতে পেরেছি যে আমি যত সৎ ও তত সৎ নয়। সেই কথাটা আমি তাকে পরে কলকাতায় গিয়ে বলে আসছিলাম। আমি আমার বইয়ে লিখি নাই, তবে বলেছিলাম তুমি এইরকমভাবে তথ্য বিকৃত করে আমাকে বিএনপির রোষের মুখে রেখে দেশের বাইরে থেকে আমার সম্পর্কে তুমি এই তথ্য পরিবেশন করছ। তোমার প্রতি আমার অনুরাগ দেখে বিএনপি তো আমাকে পথেঘাটে আক্রমণও করতে পারত।
nirmalendu_goon.jpg

রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, তা তো অবশ্যই। আক্রমণ করতেই পারত।
নির্মলেন্দু গুণ: বাংলাদেশের মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে। ফরহাদ মজহারের কথাটা আসলো এই জন্য যে তুমি তো সেটার সাথে যুক্তও ছিলে, তাই না!
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, হ্যাঁ, মনে আছে।

নির্মলেন্দু গুণ: “কবি নির্মলেন্দু গুণের কাণ্ড”– এতবড় হেডিং দিয়েও আমার বিরুদ্ধে মানুষকে পথে নামাইতে পারে নাই।
রাজু আলাউদ্দিন: হা হা, ঠিকই বলছেন। যাক! মনে আছে আপনার সেইসব ঘটনা!
নির্মলেন্দু গুণ: তারা (মুসলমানরা) এটা মনে করে না যে কবি নির্মলেন্দু গুণের দ্বারা মুসলমানদের কোনো ক্ষতি হবে। মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য আমার জন্ম হয় নাই।
রাজু আলাউদ্দিন: কোনো প্রজাতির মানুষের ক্ষতি করার জন্যই আপনার জন্ম হয়নি।
নির্মলেন্দু গুণ: মুসলমানরা সেটা বিশ্বাস করে। এমনকি সাম্প্রদায়িকভাবে যারা অন্ধ, আমার বিশ্বাসের সঙ্গে যাদের নিরন্তর দ্বন্দ্ব হয়, তারাও কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অসদাচরণ কখনো করে নাই। আমি বরঞ্চ তথাকথিত প্রগতিশীলের ছদ্মবেশে যারা সাম্প্রদায়িকতা করে তাদের আক্রমণের মুখে পড়েছি বেশি। হেফাজত টাইপ যারা, তারা আমার শিল্প-সাহিত্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলে নাই। আমার বিশ্বাস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলে নাই। আমার ভাস্কর্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলে নাই। আমার ভাস্কর্য উন্মুক্ত আকাশতলে অরক্ষিত, কিন্তু কেউ কোনোদিন এ জাগায় একটা ফুলের টোকাও দেয় নাই। সমালোচনাও করে নাই। যদিও আই এ্যাম নট এফ্রেইড। আমি অবশ্য কবিতাকুঞ্জে কোনো ভাস্কর্য স্থাপনের পক্ষে না। পক্ষে না এই জন্য না যে আমি ভাস্কর্যের ব্যবহারের বিরোধী। আসলে আমি ভাস্কর্য ব্যবহার করতে করতে অতি ব্যবহারে ক্লান্ত। এইটে ঠিক যে একখানে আছে তো, বারবার বিভিন্ন জায়গায় অপরিহার্য করে তোলাটাও আমার উদ্দেশ্য না। ভাস্কর্য এমন একটা অপরিহার্য শিল্প মাধ্যম নয় যে সৌন্দর্য এবং গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্য তাকে সব জাগায় টেনে সব প্রতিষ্ঠানের পাশে তাকে স্থান দিতে হবে। এমন অপরিহার্য নয়। এইজন্য কাশবনে যেটা করেছি কবিতাকুঞ্জে সেটা করব না। ভাস্কর্য জায়গা অপব্যয় করে ফেলে, ওই জায়গাটা তখন অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। আমি তো পৌত্তলিক, তাই না! ব্যাসিক স্ট্রাকচারের দিক দিয়ে হিন্দুধর্ম হলো পৌত্তলিক। আর ইসলাম ধর্ম হলো পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে। এখন কথা হচ্ছে কতটুকু বিরুদ্ধে? সে নিজে বিরুদ্ধে, কিন্তু তাই বলে সে আমাদের মূর্তিপূজায় বাধা দিচ্ছে না। আমি আমার বাড়িতে যে ভাস্কর্য তৈরি করছি এটাতে সে বাধা দিচ্ছে না। সে বলতেছে, ইমপর্ট্যান্ট পাবলিক প্লেসে ভাস্কর্যের নামে যে মূর্তিটা তুমি সেখানে বসালে সেটা আমাদের ধর্মীয় চিন্তাকে, আবেগকে যেন আহত না করে। সেখানে অনেক লোক নামাজ পড়ে। ঈদের নামাজ হয়। এদিকে ঘাড় ফেরালেই সেই মূর্তি চোখে পড়ে।
রাজু আলাউদ্দিন: কিন্তু তাদের এই কথাটা তো ঠিক না।
নির্মলেন্দু গুণ: তাদের আবেগ আহত হয় সেজন্য বলেছে। এই আবেগকে আরোপিত আবেগ আপনি বলতে পারেন। সে তো পেয়েছে ধর্ম থেকে।
রাজু আলাউদ্দিন: ধর্ম থেকে পেয়েছে, কিন্তু কথা হলো গুণদা, পৃথিবীর আরো অনেকগুলো মুসলিম দেশ আছে যেই মুসলিম দেশগুলোতে শুধু কোর্টের সামনে না, মসজিদের সামনেও আছে। ইরানে, ইন্দোনেশিয়ায়, আলবেনিয়ায়… .
নির্মলেন্দু গুণ: শোনো, আর কোনো দেশই বাংলাদেশের মতো না। (বাংলাদেশের মতো মুসলমান না?– রাজু) না না, আর কোনো দেশই বাংলাদেশের মতো বিধর্মী রাষ্ট্র দ্বারা পরিবেষ্টিত নয়। ইরান স্বাধীন, ইরান আর ইরাকের মধ্যে যে যুদ্ধ হইছে সেটা তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু এক ইসরাইল রাষ্ট্রই পুরো আরব জগতকে কাঁপাইয়া তুলতেছে, তাই না! আমাদের বাংলাদেশে চারপাশে যে রাষ্ট্রগুলি আছে সবগুলোই হচ্ছে অমুসলিম রাষ্ট্র। বার্মা, ত্রিপুরা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ। আর অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগরের সীমানার যুদ্ধে জয়ী হয়ে হাসিনা যে উল্লাস প্রকাশ করেছে এটা এই জন্যই যে, অতঃপর বঙ্গোপসাগরের দিকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। অর্থাৎ এদিক দিয়ে অনেক দূর যেতে পারব। তার তো অন্যকোনো দিক দিয়ে যাওয়ার রাস্তা নাই। চারদিক দিয়া তো বৈরি রাষ্ট্র দ্বারা পরিবেষ্টিত একটা মুসলিম জনগোষ্ঠি। সাম্প্রদায়িকতার সর্বশেষ যুদ্ধে তো তার জয়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। সেভেনটি ওয়ানে তো সে তার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটাইছিল। ফরহাদ মজহারের লেখার বিরুদ্ধে আমি এইটাই বলছিলাম, যে, দেশের মধ্যে যদি সাম্প্রদায়িক অত্যাচার মাত্রাহীন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তাহলে কোথায় নালিশ করতে হয় সেটা তো সেভেনটি ওয়ানে আমরা শিখে আসছি। সেটা কলকাতা নয়, সেটা দিল্লীতে বলতে হয়। তো তুমি এতো পণ্ডিত লোক, তুমি এইডা বুঝতে পার না যে, নির্মলেন্দু গুণ এতো মূর্খ না যে, ভারতকে আহবান করার জন্য কলকাতাকে বেছে নেবে। কেন, আমার কি দিল্লীতে যাতায়াত নাই? দিল্লী যাওয়ার পয়সা নাই? এরপর তো আমি উকিল নোটিশও দিছিলাম। এক পর্যায়ে সময় নষ্ট ভেবে বিরতি নিলাম। সে উকিল নোটিশের জবাব দেয় নাই। এন্ড ইউ দেন লেফট দিস কান্ট্রি ইউ ওয়েন্ট টু…. তো ফরহাদ মজহার আমার বিরুদ্ধে যে বিষোদ্গার করেছিল, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উস্কে দিয়েছিল, কিন্তু পাঠকদের মধ্যে বা জনসাধারণের মধ্যে তার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ আমি দেখি নাই। আমি একবিন্দুও বিপদে পড়ি নাই। তাতে আমার মনে হয়েছে যে ফরহাদ মজহারকে মুসলমানরা যতটা বিশ্বাস করে তার চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে। তার সাথে কলকাতার থেকে আসার সময় একই প্লেনে তো আসলাম, আসার সময় সে আমাকে কিন্তু একটা মিথ্যা তথ্য দিছিল, আমি যেহেতু জানতাম না। সে বলেছিল, অমর্ত্য সেন যে নোবেল পুরস্কার পাইছে এটা কীসের জন্য পাইছে জানো? আমি বলছিলাম যে, না। নাথিং টু ডু ইট উইথ ইকোনোমিক্স…হি অ্যাজ এ মুসলিম হেইটার, মুসলিম হেইটার হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করা হইছে। হি ইজ এ ভেরি মুসলিম হেইটার ।
রাজু আলাউদ্দিন: তাই নাকি! না না, এইটা উনি কীভাবে বললেন! আমি তো এরকম কোনো নজিরই দেখি না।
নির্মলেন্দু গুণ: আমি পরবর্তীকালে অমর্ত্য সেনের কিছু রচনা ধারাবাহিকভাবে না পড়লেও অনেকটাই পড়েছি আর কি। পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছিল উল্টোটা। বরঞ্চ সে হিন্দুদেরকে বেশি ব্লেইম করে লিখছে।
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ হ্যাঁ, আমিও তাই মনে করি। খুবই সত্য কথা।
নির্মলেন্দু গুণ: অথচ এই লোকটা সম্পর্কে আমি জানতাম না বলে ফরহাদ মজহার আমাকে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করল।
রাজু আলাউদ্দিন: এইসব প্রোপাগাণ্ডা আছে এবং এইগুলিই করেন উনি।
নির্মলেন্দু গুণ: একবার আমাকে সে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইছিল। ও না, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট সে পাঠায় নাই। হইছে কি, অনেক ছবি আসে তো সমানে, আমার এখানে হাজার হাজার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে। তখন ওরা নোটিশ দেয় আপনার এক হাজার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ঝুলে আছে। তুমি হয় এদের ফ্রেন্ড হিসেবে গ্রহণ করো অথবা ডিলিট যদি না করো তাহলে অন্য কেউ এইটার ভেতর ঢুকতে পারবে না। দেন আই হ্যাভ টু ক্লিক অন সাম পিকচার উইথআউট ভেরিফাই। কারণ আমার কাছে তো সবাই অপরিচিত। আমার প্রোফাইল দেখা না দেখা সমান। তখন আমি এরকম ক্লিক করতে করতে হঠাৎ ফরহাদ মজহারের নামে ক্লিক হয়ে গেছে। সো হিজ ফটোগ্রাফ ওয়াজ দেয়ার। নেম ওয়াজ দেয়ার। সো আই ক্লিক অন দেয়ার এন্ড হি ইমিডিয়েটলি রিপলাইড– থ্যাংক ইউ দোস্ত। আমরা আর কতদিনইবা আছি। আমাদের বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে কিন্তু আমরা তো এক সময় খুব অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছি। ওর বিয়েতে আমি গিয়েছিলাম… ওর সাথে অন্য পাঁচজনের মতোই ভালো সম্পর্ক ছিল। আমি বললাম, টু বি অনেস্ট আমি তোমার নাম লক্ষ করি নাই। আই জাস্ট কন্টিনিউড ক্লিকিং অন ওয়েটিং লিস্ট। সো এইভাবে তোমার ওখানে আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টটা চলে গেছে। দিস ওয়াজ নট ইন্টেনসনালি ডান। তো তখন সে বলল, ওকে,ইফ ইট ইজ সো, আই ডোন্ট মাইন্ড। ইফ ইউ ওয়ান্ট টু বি মাই ফ্রেন্ড ওর… মিউচুয়াল ফ্রেন্ড, দেন ইটস ওকে। আমি বললাম দ্যাখো, অনেস্টলি বলতে গেলে আমার তো এটা বলতেই হবে হাউ ইটস হ্যাপেন্ড। একচুয়ালি আমি ইনটেনসোনালি এটা করতে যাব কেন! কারণ তুমি আমার সাথে যে ব্যবহার করেছ, যে মিথ্যাচার করে আমাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিলে তারপর আমার দিক থেকে তো সরি বলার কোনো জায়গাই নাই। আই র‌্যাদার এক্সপেক্ট সরি ফ্রম ইউ। সেখানে আমি তোমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইছি–সেটা তো… এই মিথ্যার উপর ভিত্তি করে আমাদের সম্পর্কের নতুন যাত্রা শুরু হোক সেটা আমি চাই না।
রাজু আলাউদ্দিন: এখনো কি উনি আপনার ফেসবুকে আছেন?
নির্মলেন্দু গুণ: না না। তার সাথে আমার নাই। তারপর তো অনেক বার আমার ফেসবুক ডিজেবল হয়েছে। সবই নতুন করে শুরু করতে হয়েছে আমার।
রাজু আলাউদ্দিন: তো গুণদা নাস্তা করছেন?
নির্মলেন্দু গুণ: : হ্যাঁ, নাস্তা করলাম ওষুধ খাইলাম। প্রতিদিন তিনটা ওষুধ খাইতে হয় তাই নাস্তা না করে উপায় নাই।
রাজু আলাউদ্দিন: তো ঠিক আছে রেস্ট করেন, গুণদা ভালো থাইকেন।
নির্মলেন্দু গুণ: ওকে ওকে।

ইতিপূর্বে আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিন কর্তৃক গৃহীত ও অনূদিত অন্যান্য সাক্ষাৎকার:
দিলীপ কুমার বসুর সাক্ষাৎকার: ভারতবর্ষের ইউনিটিটা অনেক জোর করে বানানো

রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে সনজীদা খাতুন: “কোনটা দিয়ে কাকে ঠেকাতে হবে খুব ভাল বুঝতেন”

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষাতকার: “গান্ধী কিন্তু ভীষণভাবে সমাজতন্ত্রবিরোধী ছিলেন”

নন্দিতা বসুর সাক্ষাতকার: “তসলিমার মধ্যে অনেক মিথ্যা ভাষণ আছে”

ভরদুপুরে শঙ্খ ঘোষের সাথে: “কোরান শরীফে উটের উল্লেখ আছে, একাধিকবারই আছে।”

শিল্পী মনিরুল ইসলাম: “আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না”

মুহম্মদ নূরুল হুদার সাক্ষাৎকার: ‘টেকনিকের বিবর্তনের ইতিহাস’ কথাটা একটি খণ্ডিত সত্য

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না–মুতর্জা বশীর

আহমদ ছফা:”আমি সত্যের প্রতি অবিচল একটি অনুরাগ নিয়ে চলতে চাই”

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ: ‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯: রেডিও আলাপে হার্টা ম্যুলার

কবি আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার

শামসুর রাহমান-এর দুর্লভ সাক্ষাৎকার

হুমায়ুন আজাদ-এর সঙ্গে আলাপ (১৯৯৫)

নির্মলেন্দু গুণ: “প্রথমদিন শেখ মুজিব আমাকে ‘আপনি’ করে বললেন”

গুলতেকিন খানের সাক্ষাৎকার: কবিতার প্রতি আমার বিশেষ অাগ্রহ ছিল

নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার: ভালোবাসা, অর্থ, পুরস্কার আদায় করতে হয়

ঈদ ও রোজা প্রসঙ্গে কবি নির্মলেন্দু গুণ: “ আমি ওর নামে দুইবার খাশি কুরবানী দিয়েছি”

শাহাবুদ্দিন আহমেদ: আমি একজন শিল্পী হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না

জুয়েল আইচ: রাষ্ট্র কি কোন জীব নাকি যে তার ধর্ম থাকবে?

রফিকুননবী : সৌদি আরবের শিল্পীরা ইউরোপে বসে ন্যুড ছবিটবি আঁকে

Flag Counter


6 Responses

  1. গীতা দাস says:

    খুব ভালো লাগলো কবি গুণের উত্তর।সাথে অন্যান্য জন সম্পর্কে তাঁর মতামত। একসাথে অনেক বই কিনলেও পড়া শেষ করতে পারি না। সঞ্চয়ে থাকে। সময় মতো পড়ি। কবির ‘মহাজীবনের কাব্য’ ব্ইটি অনেক হয় বাতিঘর থেকে কিনেছি, কিন্তু ৭০৩ পৃষ্ঠার বইটি পড়া শুরু করিনি। এ সাক্ষাৎকারটি পড়ে সেলফ থেকে ব্ইটি নিলাম পড়া শুরু করার জন্য।ধন্যবাদ সাব্বির জাদিদ। ও রাজু আলাউদ্দিনকে।

  2. রোমান মোস্তাজীর says:

    রাজু আলাউদ্দিনকে অনেক ধন‍্যবাদ আরও একটা সাবলীল সাক্ষাৎকার উপহার দেবার জন‍্য। আমার মনে হয় আপনি এ সময়ের সেরা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী।

  3. এল শেরা (L Shera) says:

    নির্মলেন্দু গুণ এর সাক্ষাৎকার খুবই ভাল লাগলো। তার সম্পর্কে অনেক নেগিটিভ কথা শুনেছি । কিন্তু তার সম্পর্কে জেনে বড়ই ভাল লাগলো। তিনি মুসলিম বিরোধী নন এটা স্পষ্ট । আমরা কেউ কারো বিরুদ্ধে না লেগে যার যারটা চর্চা করাই শ্রেয় ………..ধন্যবাদ গুণকে । রাজু আলাউদ্দিনকেও ধন্যবাদ…….

  4. Amzad hossain says:

    কবি নির্মলেন্দু গুন সম্পর্কে তেমন কিছু জানিনা তবে এটা জানি যে তিনি নাস্তিকতা লালণ করেন।আর তাসলিমা নাসরিন তো মানবকুলের কোন আদর্শ মানেন না, না আছে তার কোন যৌক্তিকতা আর না আছে কোন সামাজিকতা। তাঁর সম্পর্কে কোন কথা বলাই অবান্তর মনে করি। আমি ছোট মানুষ তাই ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।

  5. Mohammad Saifullah says:

    আফসোস লাগে, হেডিং দেখে। অথচ হেডিংয়ের বক্তব্যটা বিচারপরিতর বক্তব্য নয়। অথচ ওনার সাক্ষাৎকারের এ হেডিং‘ধর্ম অনৈক্যই সৃষ্টি করে বেশি’ দেয়াটা কতটুকু ঠিক হয়েছে। পাঠকমাত্রই বিচার করবেন।

    • razualauddin says:

      আপনি শুধু হেডিংই পড়েছেন, পুরো সাক্ষাৎকারটি পড়েন নি, তাই এই মন্তব্য করেছেন। তাছাড়া মন্তব্যটি দিয়েছেন অন্য একজনের সাক্ষাৎকার-এ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.