চেমা খালে

তানিয়া বুলবুল কিটি | ১৪ এপ্রিল ২০০৮ ৯:৪২ পূর্বাহ্ন

mroder-ghor.jpg
চেমাখালে ম্রোদের বাসা

তলপেটে নিম্নচাপের প্রবল বেগ। ত্যাগের তিতিক্ষায় দৃষ্টিগোচর হয় না অনেক কিছুই। ফ্লাস টেনেছি কিনা মনে নাই। দেখা হল তক্ষকের সাথে। শুধু তাই নয়, আয়নার পিছনে মুখ বের করে থাকা ব্যাঙটির ভীতার্ত চোখে আটকে যায় চোখ। নিজের চেহারা আয়নায় দেখতে পাই না। ছোটবেলায় গল্পে গল্পে শুনেছিলাম মৃত ব্যক্তিদের অবয়ব আয়না ধরতে পারে না।

বান্দরবান শহরের মিলনছড়ি রিসোর্টটি বেসরকারি। এখানে এই রকম nouka-o-golui.jpg…….
শঙ্খ নদীতে, নৌকার গলুই
…….
উদ্যোগ এটিই প্রথম। পরিবেশের সাথে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রায় পনেরো একর জায়গা জুড়ে বিচ্ছিন্ন কিছু কটেজ করেছেন তারা। আমি এরকম একটি কটেজ “মারমা”র দুই দিনের অতিথি। সকালে নাস্তার টেবিলে কেওক্রাডং অভিমুখী একটি দলের সাথে দেখা হল। জানতে পারি তারা চার চাকার যানযোগে sami-o-salaudin.jpg……
চেমা খালের পথে সামি ও দূরে সালাউদ্দিন
…….
বগা লেক যাবেন, তারপর কেওক্রাডং। এখানে এখন দেখতে যাবার জায়গা হয়েছে কয়েকটি। চিম্বুক, কেওক্রাডং, বগা লেক ইত্যাদি। কী দেখেন তারা সেখানে? শুনেছি অতি সম্প্রতি এই সকল অভিযাত্রীদের জন্য দুইতলা দালান হয়েছে বগা লেকে। ব্যাবসাও ভাল হচ্ছে। কেওক্রাডং-এর চূড়ায় এখন অনেক নাম, সাথে জমা হচ্ছে পলিথিনের ঠোঙ্গা। পাথরের গায়ে নাম লেখার জায়গা প্রায় ফুড়িয়ে যাচ্ছে বিধায় নতুন পাথর যোগ হচ্ছে। দেখা যাক কেওক্রাডং-এর উচ্চতা কিছু বাড়ে কিনা।

২০০৬ এর ডিসেম্বরে একবার এসেছিলাম এই অঞ্চলে। গন্তব্য ছিল চেমা খাল। উদ্দেশ্য ছিল জনসেবা। একটু ভেঙে বলি গল্পটা। আগের বসন্তে জুমে আগুন দেবার সময়, আগুনের ফুলকী উড়ে এসে একটি অতি স্বচ্ছল ম্রো গ্রাম পুড়িয়ে দেয়। শুকনো মৌসুমে এই রকম দাবানল অস্বাভাবিক নয়। আমার কিছু বন্ধুর পরিচিত এই পাড়াটি। তারা আগে কয়েকবার এখানে এসেছেন এবং তাদের সাথে পাড়ার আদিবাসীদের সাথে একটি সূক্ষ্ম সখ্যও তৈরি হয়েছে। সেই আবেগ থেকেই তাদের মনে হয়েছে পাড়াটিকে আবার তার আগের রূপে ফিরিয়ে আনার যুদ্ধে শামিল হওয়া যায় কিনা। উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মহৎ। ঠিক করলাম কিছু টাকা তুলে তাদের ঘরে ছনের ব্যবস্থা করা হবে। শীত আসছে, সাথে যদি কম্বলের ব্যবস্থা করা যায় তবে আরও ভাল। আর আমি ওষুধের বাক্স কাঁধে, তাদের নাড়ী টিপে আসব।

ঢাকা থেকে আমরা রাতের বাসে রওনা দিলাম। সকালেই বাস বান্দরবান পৌঁছে গেল। রুমা বাজার যাবার উদ্দেশ্যে একটা চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ করে ruma-bazar.jpg…..
রুমা বাজার
…….
কইক্ষংঝিরি ঘাটে পৌঁছালাম। শঙ্খ নদীতে আমাদের নৌকা দু’পাশে সবুজ পাহাড় কেটে কেটে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে পৌঁছে গেল রুমা বাজার। সেখানে একটি সরাইখানায় রাত কাটিয়ে, সকালে নিজেদের আহারের সরঞ্জামাদী বাজার থেকে কিনে হাঁটা ধরলাম চেমা খালের পথে। আমাদের দলের যাত্রীদের হাঁটার বেগ যেমন তাতে একদিনে চেমা খাল পৌঁছানো সম্ভব নয়। shutkir-dokan.jpg…….
রুমা বাজারে, শুটকির দোকান
……..
তাই সিদ্ধান্ত হল বগা মুখ পাড়ায় আমরা যাত্রাবিরতি নিব। পাহাড়ি রাস্তা। একটি জায়গা তো ভীষণ খাঁড়া এবং বেশ কসরতের প্রয়োজন পড়ল তাকে অতিক্রম করতে। কিছুক্ষণ পর পরই ছড়া পার হতে হয়। স্বচ্ছ টলটলে ঠাণ্ডা পানি। পা দিতেই হাঁটার সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। মনে হয় খানিকক্ষণ এখানেই দাঁড়িয়ে থাকি। আর এটিই বোধ হয় বিধাতার ইচ্ছা। তাই একটি নীলকণ্ঠকে পাঠিয়ে আমাদের সম্ভাষণ জানান। প্রচুর পাখি, কিন্তু তাদের দেখা মেলা ভার। chemar-pothe.jpg…….
চেমা খালের পথে
……..
সবার দাবি আমার খানিকটা সময়ের। একান্ত দৃষ্টিপাত তাদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সময় কোথায়? নতুবা মাঝপথেই সন্ধ্যা নামিয়ে ফেলব। তাই দ্রুত হাঁটি।

সন্ধ্যায় আমরা পৌঁছে গেলাম বগামুখ পাড়ায়। এটি বমদের পাড়া। রাতের অন্ধকারে পাড়াটিকে ঠিক আবিষ্কার করতে পারলাম না। একটি বম বাড়িতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়। এর মধ্যেই খোঁজ নেই কেউ অসুস্থ কিনা, সাথে আমাদের ডাক্তার আছে। কোনো সাড়া না মেলায় বেশ খুশি বোধ করলাম। আসলে শরীরটা ছেড়ে দিয়েছিল। ঘুমটা বেশ জরুরি।

প্রাতঃকৃত্য দ্রুত সেরে রওনা দিলাম আসল গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কিছু দূর চড়াই উৎরাই পার হবার পর আবারও সেই ঝিরির খেলা। ঝিরি ধরে ধরে হাঁটা। এ কী অপার সৌন্দর্য! ঝিরির দু’ধারে বিশাল পাথুরে পাহাড়। উপরে পাহাড়ি জঙ্গল পুরো রাস্তায় ছায়া তৈরি করে আছে। মাঝে মাঝে পাখির টুই-টুচ শব্দ আর ঝিরির ঝির ঝির শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। কেউ কারো সাথে কথা বলছি না। আসলে বলতে হয় না। নিঃশব্দ এই চলা অনেক শব্দ বিন্যাস করে চলে মস্তিষ্কে। বাংলাদেশ আর্মি প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে রাস্তা বানিয়েছে। সেই রাস্তায় যানযোগেও তো যেতে পাড়তাম? কেন গেলাম না, সেই উত্তর না খুঁজে মনে মনে বললাম ‘যা হয় তা ভালই হয়।’

এই পথে যেতে যেতে দেখা মেলে কিছু পাহাড়ি নারী পুরুষের। বাজারে বিক্রির জন্য কেউ ঝুড়িভর্তি কলা নিয়ে যাচ্ছে। কেউবা পান, কমলা। তাদের পণ্যদ্রব্য পৌঁছানোর জন্য পাকা রাস্তার প্রয়োজন হয়নি কখনোই। সুঠামদেহী, পরিশ্রমী মানুষগুলোকে কীসের তাগিদে ক্যাম্প করে সরকারের পাহাড়া বসাতে হয়? রাস্তা গড়ার নামে যেই অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে, তা যদি তাদের গ্রাম উন্নয়নে বা স্বাস্থ্যখাতে যেত, তাতে কার কী ক্ষতি হত?

আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি চেমা খালে। এখানে পাহাড় ঝিরির ধারে কাশফুলকে জায়গা করে যেন একটু দূরে সরে গেছে। একটি মাছরাঙার চি চি ডাকে ঝুপ করে ডুব দিয়ে মাছ শিকার চোখের মধ্যে পড়ে থাকা শহুরে ছানি নিমেষে সরিয়ে দেয়: ভালবাসি গাইতে শুনতে/ও পাখি তুই ডাক ছাড়িস না/আমি তোর রং এ চাই যে ডুবতে।

অবশেষে পৌঁছালাম চেমা খালে। ম্রো-রা ছড়ার ধারে ঘর তোলে। আবার mroder-basha.jpg…….
চেমা খালে ম্রোদের ঘর, পোড়ার পর নতুন করে বানানো
…….
ত্রিপুরা বা বম পাড়াগুলো ছড়া থেকে বেশ দূরে। এর জন্যই বোধ হয় ম্রো-রা অপেক্ষাকৃত বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। পাড়ার ভেতর দিয়ে হেঁটে গিয়ে আমরা পিছনের শ্মশানের পাশে ঝিরির ধারে তাঁবু গাড়লাম। শ্মশান থাকার কারণে এই জায়গাটি বেশ নিরিবিলি এবং সন্ধ্যার পর মানুষজন এদিক দিয়ে হাঁটে না। bangalider-panahar.jpg……
পান ও আহারে ব্যস্ত সমতলীরা
……
জায়গাটি তুলনামুলকভাবে ঠাণ্ডা এবং অন্ধকার। এই রাস্তা ধরে হেঁটে গেলে সামনেই একটি ত্রিপুরা পাড়া পাওয়া যাবে। দল বেঁধে রাস্তা অতিক্রমের সময় ছয় সাত জন ত্রিপুরা ছেলেমেয়ের সঙ্গে আমাদের সাথে দেখা হল। তাদের পোশাক ও সাজে রঙের আধিক্য। ত্রিপুরা পুরষদের শরীর গঠন বেশ মজবুত। মাথায় সবারই লাল জবা।

hariken.jpg……
গয়াল ঠেকানোর হারিকেন, জ্বলছে তাঁবুর পাশে
…….
পেট পূজার জন্য কিছু কাঠ আর বাঁশ জোগাড় হল। সারা রাত একটি লণ্ঠন জ্বালিয়ে রাখতে হল গয়ালের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। এই পথে রাতে পাহাড়ি বুনো গরু অর্থাৎ গয়াল যাতায়াত করে। আলো থাকলে তারা পাশ কাটিয়ে যাবে। যদিও তারা মাংসাশী নয় কিন্তু শত্রু মনে করলে আক্রমণ করতে পিছপা হয় না।

সকালে আমরা ম্রো পাড়াটিতে যাই। তাদের হেডম্যানের বাসায় বসি। প্রতিটি ঘরই মাচা করা। ঘরগুলোর সামনে খোলা বারান্দার মতো জায়গা আছে। একটি বড় ঘর। এর ভেতরই বাবা, মা, ভাই, বোন সবাই এক সাথে থাকে। নারী-পুরুষ উভয়েরই গায়ের উপরের অংশে কোনো কাপড় জড়ানোর অভ্যাস নাই। কোমড় থেকে বাহারি লুঙ্গি প্যাচানো থাকে। তবে ইদানিং কিছু এনজিওর উৎপাতে তারা গায়ে কাপড় জড়ানোর চেষ্টা করছে। সবারই ঘরে ঘরে একই রঙের দুই তিনটি করে গেঞ্জি আছে। পাড়া থেকে বের হলে তারা এখন আর গায়ে কাপড় জড়াতে ভোলে না।

পরিবারগুলো পুরুষপ্রধান। যেহেতু কারবারি বা হেডম্যান একজন পুরুষই হয়। কিন্তু ম্রো মেয়েরা পরিবার নির্মাণে মূল ভূমিকা পালন করে । তারা তাদের সঙ্গী পছন্দ করে। তাই অবিবাহিত পুরুষদের বেশ চেনা যায়। তারা সব সময় সাজগোঁজ করে মাথায় ফুল গুঁজে থাকে। বিয়ের সময় মেয়েদের পণ হিসেবে মালাগুলো দিতে হয় ছেলেদের। যার যত দাম তার গলায় তত বেশি মালা। ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যেই তাদের বিয়ে হয়ে যায়।

আমাদের পেঁপে, বিস্কুট আর পানি দিয়ে আপ্যায়ন করল। লাউয়ের খোলের তৈরি পানির পাত্রগুলোকে বলে তুম্বা। এগুলোতে পানি সব সময় ঠাণ্ডা থাকে। tumbay-pani.jpg…….
ঝিরি থেকে তুম্বায় পানি ভরছে ম্রো মেয়েরা
…….
মেয়েরা এরকম ১৬ থেকে ২০ টি তুম্বা একবারে ঝিরি থেকে নিয়ে আসে। ঘরের সাথে কোনো পায়খানার ব্যবস্থা নেই। প্রাতঃকৃত্য সারে তারা জঙ্গলের দিকে। তাই ঝিরি সব সময় থাকে পরিষ্কার। মহিলারা তামাক সেবনে অভ্যস্ত। প্রায় প্রত্যেক মহিলার ঠোঁটে বাহারি পাইপ ঝোলে। পান খাওয়ার অভ্যাস থাকায় দাঁতের অবস্থা বেশ করুণ। তবে ঝিরির ওপারে আরও দুটি ম্রো পাড়া আছে। একটি দোকানও আছে। দোকানে পেঁপে, আচার, তামাক এগুলোই মূলতঃ পাওয়া যায়।

ছন কেনার টাকা আর কম্বল বণ্টনের পর আমি বসি ওষুধ বিছিয়ে। চর্মরোগীই বেশি পাই। তবে এগুলো মারাত্মক কিছু না। ছোঁয়াচে বিধায় প্রায় পুরো পাড়ার ছেলে বুড়ো সবাই একই রোগে আক্রান্ত। বয়স্কদের অনেকেই ashustha-ma.jpg……
অসুস্থ ম্রো মা ও তার মেয়ে
…….
উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। খাদ্যাভাস, মূলতঃ পাহাড়ি মদ আর পান এর পিছনে দায়ী। প্রায় প্রতিটি শিশুরই পেট ফোলা। কৃমির বাসা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অতিরিক্ত মদ–সুদ্ধভাবে বলতে হয় জীন–পেটে পড়ায় পেটের প্রদাহজনিত রোগে বেশির ভাগ পুরুষই ভোগে। খাদ্যাভাস এবং সেনিটেশন ঠিক করা গেলে এই অঞ্চলে রোগ বলতে আর কিছুই থাকার কথা নয়।

হ্যাঁ! তবে আরেকটি মারাত্মক রোগের জীবাণু বহন করছে তারা প্রায় সকলেই। daktar.jpg…….
অষুধ দিচ্ছেন লেখক
…….
তা হল ম্যালেরিয়া। যতজনকে দেখা সম্ভব হল, প্রত্যেকেরই যকৃত এবং প্লীহা বড়। রোগটির ধরনই এমন যে সব সময় এই রোগের উপসর্গ থাকবে না। জ্বর আছে এরকম একজনকেই পাওয়া গেল। ম্যালেরিয়ার ওষুধ দেওয়া হল তাকে।

খাদ্যাভাস পরিবর্তন, সেনিটেশন সংক্রান্ত পরামর্শ আর কৃমির এবং চর্মরোগের ওষুধ দেওয়া ছাড়া বিশেষ কোনো কর্ম সাধন করতে হয়নি। আমার সাথে একজন দোভাষীর প্রয়োজন হয়েছিল। বেশিরভাগই বাংলা dokane-lekhok.jpg…….
ঝিরির পাড়ের দোকানে লেখক
……..
বোঝে না। ওই পাড়ার আশেপাশে স্কুল না থাকায় পড়ালেখার হার খুব বেশি না। একটি অল্পবয়স্ক মেয়ের সাথে দেখা হল। নামটি মনে করতে পারছি না। সে প্যারামেডিক। গ্রামে তখন বেড়াতে এসেছে। একটি এনজিওতে কাজ করে। কর্মস্থল ভিন্ন হওয়ায় নিজ পাড়াতে তার জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটেনি।

জানা গেল বেশ কিছু ওই পাড়ার ম্রো ছেলেমেয়ে পড়ালেখা করেছে। বান্দরবান শহরে বেশ ভাল অবস্থানে আছে। বাঙালীদের মতো তারাও আর dui-v.jpg……..
দোকানে দুই ভান্তে
……..
নিজ গ্রামে ফেরত আসতে পারে না বা চায় না। তাই গ্রামগুলোর দৃশ্য বাংলাদেশের আর গ্রামগুলোর মতোই হীন দরিদ্র। পার্থক্য শুধু তারা পাহাড়ি আদিবাসী আর আমরা বাঙালি। সেই এক বিঘা জমি নিয়েই কাড়াকাড়ি। অভিসন্ধিতে কোনো পার্থক্য নেই।

মনে হল চুলটা বাঁধা প্রয়োজন। আবার বাথরুমের দিকে যাই। ততক্ষণে তক্ষক আর ব্যাঙটা চলে গেছে তাদের জায়গা ছেড়ে। পানির ঝাপটা দিয়ে নিজের চোখ দু’টি পরিষ্কার করে নেই।

মিলনছড়ি, বান্দরবান, ২৭/৩/৮

—–

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: তানিয়া বুলবুল কিটি
ইমেইল: dr.taniabulbul@gmail.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (5) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sajal Khaled — এপ্রিল ১০, ২০০৮ @ ৫:১৮ অপরাহ্ন

      লেখাটা অনেক সংক্ষিপ্ত আর আংশিক মনে হয়েছে। অবশ্য স্মৃতি থেকে লেখা বলেই হয়তো অনেক কিছু বাদ পড়ে গেছে। তারপরেও এরকম অনেক লেখা প্রকাশিত হওয়া দরকার, যাতে না যাওয়া সবাই এই আশ্চর্য স্বাদ পেতে পারে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তানভীর চৌধুরী — এপ্রিল ২০, ২০০৮ @ ৭:৪০ পূর্বাহ্ন

      আমাদের দেশের মধ্যে যে এখনো এতো পশ্চাদপদ অথচ বৈচিত্রময় আদিবাসী আছে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিলো না। আমার জীবনের বেশিরভাগ সময় চট্টগ্রামে কাটলেও আদিবাসীদের সংস্পর্শে আমি তেমন আসিনি। আজ লেখকের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কিছু ধারণা পেলাম। ব্লগের ছবিগুলোও দারুণ। বিশেষ করে ম্রোদের বাড়ির ছবিটি তো অসাধারণ! ভাবতেই অবাক লাগে আমাদের আশেপাশেই আমাদের চেয়ে কত ভিন্ন জীবনযাত্রার মানুষ বাস করে। সুন্দর এই লেখাটির জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুজিব মেহদী — এপ্রিল ২৩, ২০০৮ @ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন

      ভ্রমণকাহিনির বিবরণ সাধারণত উত্তম পুরুষে লেখা হয় বলে বর্ণিত বিষয়গুলোর সঙ্গে খুব সহজে মিশে যাওয়া যায়। এ লেখাটির সঙ্গেও মিশে যাওয়া গেল। ডিটেলে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার অনেক ছবিই উঠে এসেছে লেখাটিতে। নিজেরও চেমাখালে বেড়াবার অনুভূতি হলো। কিন্তু একটা বিষয় দৃষ্টিকটূ লাগল। বলার দরকার নেই, এমন অপ্রয়োজনীয় কথা বারবার বলবার একটা ঝোঁক রয়েছে লেখকের। লেখাটা শুরু হচ্ছে, ‘তলপেটে নিম্নচাপের প্রবল বেগ। ত্যাগের তিতিক্ষায় দৃষ্টিগোচর হয় না অনেক কিছুই। ফ্লাস টেনেছি কিনা মনে নাই।’ দিয়ে। স্পট বান্দরবান শহরের মিলনছড়ি রিসোর্ট। মাঝখানে আসছে ‘প্রাতঃকৃত্য দ্রুত সেরে রওনা দিলাম আসল গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।’ স্পট একটি বম গ্রাম। শেষ হচ্ছে, আবার বাথরুমের দিকে যাই। ততক্ষণে তক্ষক আর ব্যাঙটা চলে গেছে তাদের জায়গা ছেড়ে। পানির ঝাপটা দিয়ে নিজের চোখ দু’টি পরিষ্কার করে নেই।’ দিয়ে। এটার স্পট একটি ম্রো গ্রাম।

      একটা লেখায় এসব বিবরণ দেয়া কি খুব জরুরি হয়ে আসে? অথচ স্বাভাবিকভাবেই প্রথম দুটো ক্ষেত্রে পাহাড়ি শহর ও গ্রামে ভোর কীভাবে জাগছে তার বিবরণ আসতে পারত, শেষে লিখিত হতে পারত পাহাড়ের ফাঁকফোকরে সূর্যের হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বা অন্য কিছু। অবশ্য প্রথম ও শেষ বর্ণনা দুটো এ ধরনের লেখার ক্ষেত্রে হয়ত গ্রহণ করাও যায়, এ দুটো ক্ষেত্রে উপস্থাপনের কায়দাটাও ভালো। কিন্তু মাঝেরটা একেবারেই নেয়া যায় না। কোথাও রওনা দেবার আগে কেউ প্রাতকৃত্য সারল কি সারল না তা জানবার পাঠকের কোনো আগ্রহ থাকে না। কাজেই তা লেখারও দরকার নেই।

      মুজিব মেহদী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৌম্য — আগস্ট ২৬, ২০০৮ @ ৫:০২ পূর্বাহ্ন

      কেওকারাডং নিয়ে কিছুটা উন্নাসিকতা লাগলো। ল্যান্ড ক্রুজারে করে কেওকারাডং কিংবা বগা লেক-এ গেলে বগা লেকটাকে পুকুর বলেই মনে হবে। আমরা গর্বিত হাজার বাধা পেরিয়েও বাংলাদেশের ট্র্যাকাররা ওখানে যাচ্ছে। অল্প দিন হলো আবিষ্কার হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পাহাড় “সাকা হাফলং” একপাশে বমরা থাকে অন্যদিকে ম্রোরা। ম্রো ভাষায় সাকা হাফলং মানে সুন্দর পাহাড়, আর দ্বিতীয় বৃহত্তম হচ্ছে সিপ্পি আসুরাং, পুরো দুর্ভেদ্য অজেয়, পায়ে হেঁটে সাধারণ আদিবাসীদের সাথে মিশে, কাঠবিড়ালী আর টিয়ে ভর্তা দিয়ে ওদের লাল চালের ভাত খেলে বগা লেককে চেনা যায়। ওটা একটা বেহেস্ত। সাকা হাফলঙ্গের আবিষ্কারকের কথা, ভালোভাবে খুঁজলে বের হবে ওর চে অন্তত আরো ১০টা উচু পর্বত অনাবিষ্কৃত আছে…ওখানে আমরা শুধু ১৫% জানি, আরো ৮৫% এখনো অজানা।

      – সৌম্য

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনিন্দ্য রহমান — জুলাই ৩০, ২০০৯ @ ৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

      আর্টস নিয়মিত দেখি না বলে আফসোস লাগল। এত সহজ-সাবলীল একটা লেখা পড়ার স্বাদ থেকে এতদিন বঞ্চিত ছিলাম!… পড়লাম প্রতিক্রিয়াগুলোও। প্রাতঃকৃত্য প্রসঙ্গ… মুজবি মেহদীর সাথে একমত। আমার মনে হয়, লেখার কাজটাকে সিরিয়াসলি না নেয়ায়, একটু বেশি বৈঠকী ঢঙ আনতে গিয়ে লেখক মাত্রা ভুলে গেছেন। কিন্তু ও কিছু নয়… কিটি কি আর কোথাও যান না আজকাল?

      – অনিন্দ্য রহমান

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com