নাটক

ভাঙা গড়ার রবীন্দ্রনাথ

প্রাচ্যনাট-এর ‌’রাজা …এবং অন্যান্য’

raisu | 5 Mar , 2008  

raja-3.jpg
রাজা নাটকের দৃশ্যে আফসানা মিমি, প্রেসের জন্য দেয়া ছবি থেকে

দুইদিন আগে আমিরুল রাজীভ ফোন কইরা জানাইলেন, প্রাচ্যনাটের একটা নাটক হবে বৃটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে আমি যেন যাই। আমি ওনারে জিজ্ঞেস করলাম টিকেটের ব্যবস্থা আছে কিনা? জানাইলেন আছে, তবে আমারে এমনেই দেখাইবেন। আমি বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমাজে নাটকে আমন্ত্রিত হইতেছি এইটা ভালো লাগলো না। আমি ভাবলাম টিকেট কাইটাই ঢুকব নে। তো গিয়া দেখি টিকেট-এর দাম আছে কিন্তু টিকেট বিক্রয় হবে না। আমিরুলরে খোজ কইরা একটু পরে ওনার ফোন পাইলাম। এবং আমি ভিতরে যাইতেই খাতা বাড়াইয়া দিলেন। সই নিলেন। বললেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর-এর একজন হিসাবেই উনি আমারে দাওয়াত দিছেন। একটা সিডিও ধরাইয়া দিলেন। লেখক থিকা ধাক্কা দিয়া সাংস্কৃতিক রিপোর্টার বানাইয়া দিলেন। টাফ জব। তবে আমি তাতে অরাজি না। বুঝলাম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হইয়া উঠতে ঢের বিলম্বিছে, আপাতত সাংবাদিকখানি হওয়া গেছে, এই অনেক বটে।

raja-2.jpg
নাটকের দৃশ্য

রাজীভ দাড়ি রাখেন, লম্বা চুল, দেখতে নুরানী। অনুরোধ করলেন আমি যেন রিপোর্টটা করি। আমি জানাইলাম, ‘আমি তো ঠিক রিপোর্ট করি না।’ মানে বলতে চাইলাম, আমি তো লেখক! কিন্তু উনি আমারে লেখক হইতে দিবেন না। জানাইলেন, আমি লিখলে খুশি হইবেন।

তো সে কারণেই এই রিপোর্ট। নাটক দেইখা ভালো লাগল। অনেক পোস্ট মডার্ন ব্যাপার সেপার আছে। রবিবাবুর রাজা নাটকে লাদেন হুগো শ্যাভেজের নামও নেয়া হইছে। নানা এই কালের সরঞ্জাম ঢুকছে নাটকে। তবে মোবাইল ফোন বোধহয় নাই। (মাঝখানে টয়লেটে গেছি, তখন দেখাইয়া থাকলে বা রিং টোন শোনাইয়া থাকলে জানি না।) ছেলেমেয়েরা হিন্দি/তামিল (নাকি বাংলা?) সিনেমার ঢঙে নাচছেও। সাংস্কৃতিক গ্রহণ! ভালোই লাগছে। সদর্থে। তবে…

সেইটা পরের প্যারার পরে কই।

২.
৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় প্রাচ্যনাট তার ১৪ তম প্রযোজনা রাজা এবং অন্যান্যর প্রথম মঞ্চায়নের আয়োজন করে ঢাকার বৃটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে। সাংবাদিক ও অতিথিদের জন্যই এ শো-এর আয়োজন করা হয়েছিল বলে মনে হয়। বৃটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে মাঝখানে মঞ্চ বসিয়ে ও দুধারের দেয়ালে কম্পিউটার থেকে পর্দায় যুদ্ধ, বোমা, আগুন, হানাহানির দৃশ্য প্রক্ষেপ করে নাটক উপস্থাপন করা হয়েছিল। মঞ্চে যখন চলছিল রাজা নাটকের বিবিধ গমনাগমন দেয়ালে তখন কখনো বুশ কখনো টুইন টাওয়ার– ধ্বংসিছে। আর মঞ্চের তিন পাশে দর্শক ও এক পাশে কুশীলবরা বসেছিলেন। আমার সামনে বসছিলেন শফি আহমেদ। বায়ে আজফার হোসেন।

রাজা নাটকের নির্দেশনায় ছিলেন আজাদ আবুল কালাম। সুদর্শনার ভূমিকায় অভিনয় করেন আফসানা মিমি। মিমির আড়ষ্ট অভিনয় নিয়া মন্তব্য শুনলাম। কে বলছে বলব না। মিমির ডায়ালগ কাটা কাটা মুখস্থ ধাচের ছিল। (মুখস্থ করলে তো মুখস্থই মনে হবে।) মনে হইতে ছিল মিমি বোধহয় অন্য কোনো অভিনেত্রীরে ডায়ালগ বইলা দিতেছেন। দ্রুত ডায়ালগ সাইরা ফেলানোর তরেই হয়ত এই থ্রোয়িং।

নিচে প্রাচ্যনাট-এর দেয়া পরিচিতিমূলক দুটি পৃষ্ঠা থেকে নাটকের কাহিনী সংক্ষেপ ও নির্দেশকের কথা অংশটি দেয়া গেল। নির্দেশক তার কথায় জানিয়েছেন, আমেরিকানাইজেশনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের “রাজা” মেটাফোর হয়ে ধরা দেয়। নাটকে কম্পিউটার মারফতে দেয়ালের পর্দায় টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ছবি বা অন্য নানা দৃশ্য দেখানো হয়েছে। তবে তার সঙ্গে রবিবাবুর রাজার সংযোগ বোঝা গেল না! এবং রাজা কেন বা কীভাবে আমেরিকানাইজেশনের বিরুদ্ধে একটি মেটাফোর তাও পরিষ্কার হলো না। নির্দেশক লিখেছেন, ‘আমি দেখি কাঞ্চীরাজ আর তার ছয় সঙ্গী অন্যান্য “রাজা” আসলে সাম্রাজ্যবাদের নতুন নকশার স্থপতি।’ এইভাবে দেখতে গেলে আমার ধারণা সাম্রাজ্যবাদীদের বিবিধ অ্যাকশনরে ছোট কইরা বা কম কইরা দেখার প্রবণতা জন্মাবে। যা শেষ পর্যন্ত নরহত্যাকারীদের পাপ লঘু করার শামিল হবে। রূপকের এই সমস্যা থাকেই। যেহেতু রূপক, তা প্রায়ই ছোট জিনিসরে বড় কইরা দেখায়, এবং কখনো কখনো, যেমন এই অবসরে, বড় জিনিসরে ছোট কইরা ফেলাইছে। এবং আপাত অদ্রবণীয় জিনিস নাটকে অদ্রবীভূতই থেকে গিয়েছে। ফলে এক্সপেরিমেন্টাল এই নাটক আরো এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে দিয়া, চাইলে, যাইতে পারে।

—————————————————————–
কাহিনী সংক্ষেপ
সুদর্শনা রাজাকে বাহিরে খুঁজিয়াছিল। যেখানে বস্তুকে চোখে দেখা যায়, হাতে ছোঁয়া যায়, ভাণ্ডারে সঞ্চয় করা যায়, যেখানে ধন-জন-খ্যাতি, সেইখানে সে বরমাল্য পাঠাইয়াছিল। বুদ্ধির অভিমানে সে নিশ্চয় স্থির করিয়াছিল যে, বুদ্ধির জোরে সে বাহিরেই জীবনের সার্থকতা লাভ করিবে। তাহার সঙ্গিনী সুরঙ্গমা তাহাকে বলিয়াছিল, অন্তরে নিভৃত কক্ষে যেখানে প্রভু স্বয়ং আসিয়া আহ্বান করেন সেখানে তাঁহাকে চিনিয়া লইলে তবেই বাহিরে সর্বত্র তাঁহাকে চিনিয়া লইতে ভুল হইবে না; নহিলে যাহারা মায়ার দ্বারা চোখে ভোলায় তাহদিগকে রাজা বলিয়া ভুল হইবে। সুদর্শনা এ কথা মানিল না। সে সুবর্ণের রূপ দেখিয়া তাহার কাছে মনে মনে আত্মসমর্পণ করিল। তখন কেমন করিয়া তাহার চারিদিকে আগুন লাগিল, অন্তরের রাজাকে ছাড়িতেই কেমন করিয়া তাহাকে লইয়া বাহিরে নানা মিথ্যা রাজার দলে লড়াই বাধিয়া গেল, সেই অগ্নিদাহরে ভিতর দিয়া কেমন করিয়া আপন রাজার সহিত তাহার পরিচয় ঘটিল, কেমন করিয়া দুঃখের আঘাতে তাহার অভিমান ক্ষয় হইল এবং অবশেষে কেমন করিয়া হার মানিয়া প্রাসাদ ছাড়িয়া পথে দাঁড়াইয়া তবে সে তাহার সেই প্রভুর সঙ্গলাভ করিল যে প্রভু সকল দেশে, সকল কালে, সকল রূপে-আপন অন্তরের আনন্দরসে যাঁহাকে উপলব্ধি করা যায় এ নাটকে তাহাই বর্ণিত হইয়াছে।

নির্দেশকের কথা
Critics and detectives are naturally suspicious. They scent allegories and bombs where there are no such abominations. Its difficult to convince them of our innocence…..

Rabindranath Tagore
15th Nov. 1914

উপরের উদ্ধৃতি “রাজা”র এক সমালোচনা প্রসঙ্গে সি.এফ. এ্যান্ড্রুজকে লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠির অংশ বিশেষ। আমাদের প্রযোজনা “রাজা”ও আমরা শুরু করি এক সমালোচনা এবং আলোচনার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে। “রাজা” সম্পকে এ পর্যন্ত যে সব আলোচনা আমরা পাই এবং রবীন্দ্রনাথের নিজের সংশ্লিষ্ট ভাবনাগুলো মনোযোগে নিয়ে সমকালীন এক বিশ্লেষনে ব্রতী হই। এই বিশ্লেষন কখনো মনে হতে পারে “রাজা”র ভিতর সময়কে দেখার অথবা সময়ের ভিতর বাস করে “রাজা”কে দেখা। কৈশরে “রাজা” পাঠে মিশ্র অনুভবের জন্ম হয়েছিল, সুন্দর অসুন্দরকে নিয়ে, অলিক এক রাষ্ট্রের না দেখা “রাজা” এবং তার শাসন প্রণালী নিয়ে, সেই ভাবনা এখনও যেন তেমনই আছে-তবে তার সাথে যোগ হয়েছে আজকের বিশ্ব এবং এই বিশ্বে বাস করার আমাদের অভিজ্ঞতা। “রাজা” কেন প্রযোজনা করতে চেয়েছিলাম অনেক আগে তা এখন স্মরণ করতে পারি না-তবে হঠাৎ করে ঐতিহাসিক ৯/১১ এর ঘটনা পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতি আমাকে আবার নতুন করে রবীন্দ্রনাথের “রাজা”কে স্মরণ করিয়ে দেয়। আমি দেখি কাঞ্চীরাজ আর তার ছয় সঙ্গী অন্যান্য “রাজা” আসলে সাম্রাজ্যবাদের নতুন নকশার স্থপতি। আর বিশ্বজুড়ে তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ নতুন ব্যাখা পেয়েছে আমেরিকানদের হাতে, তাতে অন্যান্য জাতিসত্তা বিশেষত যারা এক ধরনের নিজস্ব সংস্কৃতি রাজনীতি নিয়ে নিজেদের মত আছে তারা হয়েছে হুমকির স্বীকার। কখনো সন্ত্রাস দমন, কখনো গণতন্ত্র (!) পুনঃস্থাপন ইত্যাদি নানা নামে এবং বিশ্বায়নের দোহাই দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ ঝাপিয়ে পড়ছে সর্বত্র-আদতে খেয়াল সারা বিশ্বকে রাজনৈতিক-সামাজিক-বাণিজ্যিক কব্জায় নিয়ে আসার একটা প্রক্রিয়া স্থাপন যার আরেক নাম আমেরিকানাইজেশন। এর বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের “রাজা” আমাদের কাছে এক মেটাফোর হয়ে ধরা দেয়। এই পরাক্রমশালী “রাজা” আমাদের কাছে শুধু ইউটোপিয়া থাকে না-হয়ে যায় আরাধ্য-আমরা ভবিষ্যত ‘সোনার হরিণ’ দেখতে চাই বিশ্বের সব ভুক্তভোগী মানুষ একত্র হয়ে। এই দেখবার বাসনা থেকে এক ধরনের পরিবর্ধন এবং সংযোজনে নিবিষ্ট হতে হয়, এই পরিবর্ধন রবীন্দ্রনাথকে কেটে ছেটে নয় বরং “রাজা’র সাথে একাত্ব হবার মানসে। আমরা প্রায় সবাই সুদর্শনার মত একটা জীবন পরিক্রমা করে বুঝে নিতে চাই, যুঝে নিতে চাই সত্যকে- “রাজা”র সাথে মিলে পরাজিত দেখতে চাই কাঞ্চীকে, যেন কাঞ্চী চিৎকার করে পাগলের মত প্রলাপ বকে-Give over the play. Give me some light, away, Lights, Lights, Lights….

আজাদ আবুল কালাম
০৩০৩০৮
—————————————————————–
raja-1.jpg
রাজা নাটকের দৃশ্য

নাটক দেখার পরে বিপ্লব বালা বললেন, নাটক তার খুবই ভালো লেগেছে। রবীন্দ্রনাথকে যে ভাঙা হয়েছে এটা তার ভালো লেগেছে। বিপ্লব বালা রবীন্দ্রনাথ ভাঙায় খুশি হইতেছেন সেইটা নিশ্চয়ই খুশির খবর। কিন্তু কী ভাঙা হইল রবীন্দ্রনাথের? আমি নাটকের ভোক্তা না, রবীন্দ্রনাথের নাটকের মইধ্যে পাঙ্ক র‌্যাপ আনা হইছে দেখতে পাইছি, কিন্তু সেসব বস্তু যে ‘পরদেশী’ জিনিস ‘অপসংস্কৃতি’র অংশ সেসব স্পষ্টই ছিল নাটকে। (অন্য সংস্কৃতির প্রতি বিরূপতা?) বিপ্লব বালারে জানাইলাম, আমি ভিন্ন মত। তিনি পরে শুনবেন, কথা দিছেন।

নাটকে উজ্জ্বল উপস্থিতি রোহিনী চরিত্রের সানজিদা প্রীতির নাম মঞ্চের ক্ষেত্রে দেখলাম ‘সানজিদা আনোয়ার’। ঘটনা কী? এইটা কি তোলা নাম, অভিজাত মঞ্চ সমাজের তরে?

ঢাকা, ৫/৩/৮

bratya.raisu@bdnews24.com

—-
ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters


18 Responses

  1. Reeta says:

    রবীন্দ্রনাথের নাটকে ‘পাঙ্ক র‌্যাপ’ আমদানিতে লেখকের আপত্তিটার সঙ্গে আমি খুব একমত। কিন্তু আমার প্রশ্ন, তিনি নিজে কী করছেন? এই যে বিদঘুটে ভাষায় তিনি লিখছেন, এটা কোন ভাষা? এ আর যা-ই হোক বাংলা নয়। নিজেকে লেখক হিসেবে দাবি করছেন, লেখকের প্রথম কর্তব্য ভাষাটা শেখা, সেটাই তো শেখেন নি তিনি। পৃথিবীর সবভাষারই কথ্য রূপ আছে, যেমন ইংরেজি বাস শব্দটার কথাই ধরুন না, ইয়র্কশায়ারের লোক বাসকে বলে বুস, লন্ডনের লোক বাস আর মিডল্যান্ডস বা বার্মিংহামের স্থানীয় উচ্চারণে এটা বস। কিন্তু লেখার সময় সবাই বাস-ই লিখে, নইলে গোলমাল বাঁধার আশঙ্কা। আমেরিকানরা অন্য রকম ইংরেজি লেখে, কিন্তু সেই তারাও লেখার সময় ডু নট নো-ই লেখে, ডোন্নো নয়। কিন্তু রাইসুর মতো কেউ কেউ আজকাল মহাপণ্ডিত হয়ে বাংলা ভাষার ‘সংস্কার’ (নাকি সৎকার?) করতে চাইছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কমের মতো একটা সুন্দর আয়োজনের সঙ্গে এই অর্বাচীনতা একেবারেই যায় না। এই ওয়েবসাইটের খবরের ভাষা, কী বাংলা, কী ইংরেজি দুটো ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত। সেখানেই এই অদ্ভুতুড়ে ভাষার ব্যবহার খুব কষ্টদায়ক। কর্তৃপক্ষের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা কি আপনাদের সংবাদকর্মীদের এই ভাষা লিখতে দেবেন? না দিলে, আর্টস-এ প্রায়শই এই যন্ত্রণা আপনারা কেন অনুমোদন করেন?

  2. mansur aziz says:

    নাটকটি যেহেতু দেখিনি তাই নাটকের মঞ্চায়ন সম্বন্ধে মন্তব্য করতে চাই না। তবে নিজেদের সংস্কৃতির পায়ে অজান্তেই নিজেরা কুঠারাঘাত করি। ব্রাত্য রাইসু হেঁয়ালি বাক্য ব্যবহার না করলেই পারতেন।

  3. mintu chowdhury says:

    নাটকের সমালোচনা না নাটকের বয়ান কিছুই বুঝলাম না। আমরা চট্টগ্রামে বসে নাটকটি সম্পর্কে কিছু পরিষ্কার ধারণা পেলাম না।
    মিন্টু চৌধুরী, চট্টগ্রাম

  4. Shafiq says:

    আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অন্যের সমালোচনা করার সময় আমরা নিজেদের অতীত ভুলে যাই। সানজিদা আনোয়ার প্রীতি বেচারি নামটা বদল বা গোপন করেননি, ওটা তার নামেরই অংশ। টিভি সিরিয়ালে নামের একটা অংশ কখনো কখনো দেখানো হয় না। সেটাও অন্যায় কিছু নয়, মিডল নেম উহ্য রাখাটাই বরং নিয়ম। রাইসুর হয়তো মনে পড়ে গিয়েছিল, র. ই. রাইসু থেকে তিনি কী ভাবে ব্রাত্য রাইসু হয়েছেন। তবে কারো নাম নিয়ে এমন অশ্লীল মন্তব্য করা কোনো ভদ্রলোকের কাজ নয়, লেখকের তো নয়ই।

  5. Amio Chowdhury says:

    পইড়া মনে হইলো রাজা নাটকটি ভাঙতে গিয়া খান খান হইয়া গেছে। কারণ এর আগে সিএটি নাটকটি করছে। তাদেরও ইচ্ছা নাটকের পরীক্ষামূলক কাজ করা। কিন্তু যে দৃশের ছবি দেওয়া হইছে তা বিদেশী নাটকের মত লাগছে। নাটক না দেইখা মন্তব্য করা ঠিক না। তবুও কাউবয়-গো দৃশ্য রাজা নাটকে ক্যামনে আইল বুঝলাম না।

  6. Rona says:

    সব প্রতিষ্ঠানেরই একটা সম্পাদকীয় নীতিমালা থাকে।কিন্তু এই লেখাটা পড়তে পড়তে মনে হলো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কমের সে রকম কিছু নেই- এখানে যার যা খুশি লিখতে পারে। নইলে এমন একটা লেখা কেন প্রকাশিত হবে?

    এই লেখায় যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (আর্টস পাতাটা চালুর পর থেকে অবশ্য এই ভাষার যন্ত্রণা প্রায়ই সহ্য করতে হচ্ছে), সেটা বাংলা ভাষার কোনো রীতির মধ্যেই পড়ে না। সাধু রীতি নয়, চলিতও নয়। এমনকি, আজকাল আনিসুল হক, মোস্তফা সরয়ার ফারুকিরা তাদের নাটকে জীবন-ঘনিষ্ঠতার নামে যে তথাকথিত আটপৌরে ভাষা ব্যবহার করছেন, এটা তা-ও না।‘এইটা কী তোলা নাম, অভিজাত মঞ্চসমাজের তরে’ এই ভাষায় নিশ্চয়ই কেউ কথা বলে না। কিংবা ধরা যাক এই বাক্যটির কথাও
    ‘আমি ভিতরে যাইতেই খাতা বাড়াইয়া দিলেন। সই নিলেন। বললেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর-এর একজন হিসাবেই উনি আমারে দাওয়াত দিছেন। একটা সিডিও ধরাইয়া দিলেন। লেখক থিকা ধাক্কা দিয়া সাংস্কৃতিক রিপোর্টার বানাইয়া দিলেন। টাফ জব। তবে আমি তাতে অরাজি না। বুঝলাম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হইয়া উঠতে ঢের বিলম্বিছে, আপাতত সাংবাদিকখানি হওয়া গেছে, এই অনেক বটে।’

    ঢাকার মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত সমাজের কেউ কি এই ভাষা কখনো বলবেন? ছোটবেলায় ব্যকরণে গুরুচণ্ডালি বলে একটা দোষের কথা পড়েছিলাম। এই লেখক সম্ভবত সেটা পড়েননি। বা পড়লেও শেখেননি। এই অল্পবিদ্যা নিয়ে নিজের বইতে তিনি যত খুশি ‘আকাশে কালিদাসের লগে ম্যাগ’ দেখতে থাকুন, পাঠক হিসেবে আমরা সেটা গ্রহণ করবো কি করবো না সেটা আমাদের ব্যাপার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কেন সেটা গ্রহণ করবে? করলে তখন আমাদেরও ভাবতে হবে, এই প্রতিষ্ঠানকেই আমরা গ্রহণ করবো কি না।

    এ তো গেল ভাষার প্রসঙ্গ। এই আপত্তিটা আর্টস-এর অনেক লেখক সম্পর্কেই করতে হবে, আসলে মনে হয় এখানে কে কতো বিচিত্র বাংলা ব্যবহার করতে পারেন, তার একটা প্রতিযোগিতা চলছে। কিন্তু, এই লেখার বিষয়বস্তুটাই বা কি? এটা কী নাটকের সমালোচনা নাকি লেখকের রোজনামচা? যদি বলেন নাটকের সমালোচনা, তাহলে আমি বলবো, যিনি নিজেই স্বীকার করছেন ‘আমি নাটকের ভোক্তা না’ তাকে দিয়ে এই সমালোচনা লেখানোর কোনো মানে হয় না । ওই স্বীকারোক্তির দরকার ছিল না, লেখাটা পড়লেই যে কেউ বুঝতে পারবেন, লেখকের নাটক সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। তার ওপর এই লেখাটা শুরু থেকেই আমিত্বে পরিপূর্ণ। নাটক প্রসঙ্গ আছে খুবই কম, কী করে লেখককে আমন্ত্রণ জানানো হলো, এবং তিনি নাটক দেখতে গিয়ে কী কী কাণ্ডকীর্তি করলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনাই লেখাটার সিংহভাগ জুড়ে।

    সেই বর্ণনা সূত্রেই জানলাম, আয়োজক প্রাচ্যনাট কর্তৃপক্ষ আসলে আমন্ত্রণটা জানিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে, ব্যক্তি হিসেবে লেখককে নয়। এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল নাটকটা নিয়ে একটা সমালোচনা হোক। তাহলে বলতেই হবে, আপনারা ওই আমন্ত্রণের সদ্ব্যবহার করেননি। স্টক এক্সচেঞ্জের রিপোর্ট করতে আপনারা নিশ্চয়ই কোনো স্পোর্টস রিপোর্টারকে পাঠাবেন না। তাহলে নাটকের সমালোচনা করতেই বা এমন নাট্যমুর্খ লোককে পাঠানো হবে কেন?

  7. সরকার আমিন says:

    ব্রিটিশ কাউন্সিলে নাটক হলো আমেরিকার বিরুদ্ধে। ব্রিটিশরা যুদ্ধ করে আমেরিকার সাথে। আহা বেশ বেশ বেশ।

  8. Mazed says:

    এই লেখা পড়ে ঠিক বুঝতে পারলাম না, লেখকের উদ্দেশ্যটা কী। ইন্টারনেটে প্রায় ১৭টি মিনিট ব্যয় করে যা পড়লাম, তাতে প্রাচ্যনাটের রাজা নাটক প্রসঙ্গে লেখকের নিজের রচনা সাকুল্যে তিনটি ছোট্ট প্যারা।তার একটা জুড়ে আফসানা মিমির নিন্দা, (নিন্দাই, সমালোচনা নয়) আর একটায় অন্য এক অভিনেত্রীর নাম নিয়ে কটাক্ষ। এই ১৭ মিনিটে যে ৬টি টাকা খরচ হলো নেটের বিল হিসেবে তার পুরোটাই মনে হচ্ছে জলে গেল! ব্রাত্য রাইসুকে কে কখন নাটক দেখতে আমন্ত্রণ জানালেন আর তিনি কার পাশে বসে সেই নাটক দেখলেন, সেটা পাঠকদের জানানোই মনে হচ্ছে এই লেখার একমাত্র উদ্দেশ্য। অবশ্য আমি যদি লেখকের ওই বিচিত্র বাংলা বুঝে থাকি!

  9. rakib says:

    কেউ কি আমাকে বলে দেবেন, এটা কোন ভাষা? বাংলা বলেই মনে হচ্ছে, কিন্তু এ আমার পরিচিত বাংলা নয়। এই ভাষায় এ কালে তো নয়ই, কোনোকালেই কেউ লিখতো বা কথা বলতো বলে আমার জানা নেই। গুরুচণ্ডালিদুষ্ট এই ভাষায় সম্ভবত আপনাদের ওয়েবসাইটের লেখকরাই (তা-ও সবাই নন, কেউ কেউ) কেবল লেখেন। ভাষা নিয়ে নিরীক্ষা চলতেই পারে, তবে তার পেছনে যুক্তি থাকা চাই। জেনে হোক আর না জেনে, ব্যকরণে যে বিষয়গুলোকে দুষণীয় বলা হয়েছে, লেখায় সে সবেরই বাড়াবাড়ি রকমের ব্যবহার কোনো স্টাইল হতে পারে না। এটা অজ্ঞানতারই নামান্তর।

  10. সরকার আমিন says:

    আমাদের সব সময় পাঠ্য-পুস্তকের ভাষা কিংবা টেলিভিশনের ঘোষিকার ভাষা রপ্ত করতে হবে?
    আমি লেখাটা পড়ার সময় দেখেছি একজন কথা বলছে তার কথন রীতিতে। আমার মজা লেগেছে। আমার মন খারাপ হয় নাই।

  11. আলোচনা খুবই মজার হইছে। প্রধানত এই কারণে যে, এইখানে প্রশ্নগুলি লেখকের কাছে নয় বরং কর্তৃপক্ষের কাছে। কেন এমনতরো লেখা হইলো সেইটা বিষয় না, বরং কেন তারে এইরম একটা জায়গাতে স্থান দেয়া হইলো – এইটাই মূল জিজ্ঞাসা বলে মনে হইছে। যথাযথ উত্তর দিবার কোশিশও কইরা যাইতেছেন, কর্তৃপক্ষ। তবে আমার কাছে ভালো লাগছে, রনা (Rona) নামে একজনের বক্তব্যের একটা অংশ।

    “এই লেখায় যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (আর্টস পাতাটা চালুর পর থেকে অবশ্য এই ভাষার যন্ত্রণা প্রায়ই সহ্য করতে হচ্ছে), সেটা বাংলা ভাষার কোনো রীতির মধ্যেই পড়ে না। সাধু রীতি নয়, চলিতও নয়। এমনকি, আজকাল আনিসুল হক, মোস্তফা সরয়ার ফারুকিরা তাদের নাটকে জীবন-ঘনিষ্ঠতার নামে যে তথাকথিত আটপৌরে ভাষা ব্যবহার করছেন, এটা তা-ও না।”

    এইটা ভাষার জন্য (যদি তারে এইভাবে বিশিষ্ট করা যায়) একটা বিশাল স্বীকৃতি বলেই মনে হইতেছে।

  12. মুয়ীয মাহফুজ says:

    নাটকটি আমি আজ দেখেছি, আমার কাছে অনেক কিছুই ভালো লেগেছে। এ প্রতিক্রিয়াটিতে আমি আপনার কিছু হিরোইজম পেলাম বটে তবে সমালোচনার জায়গাগুলো দুর্বল ঠেকলো।

    রূপক বিষয়ে আমি আপনার সহিত একমত তবে তা বৃহত্তরতা বা ক্ষুদ্রতার কারণে নয়। রূপক বিষয়ে আমি একমত এ কারণে যে নাটকটিতে যে রূপক দ্বারা আমেরিকানাইজেশনের দৃশ্যায়নে স্থূল অবস্হান নেয়া হয়,তা মাঝে মাঝে আটকে দেয়। অবশ্য সত্যিকার আমেরিকানাইজেশন যে একটা স্থূল বিষয় তা আমরা চোখ বন্ধ করেও বুঝতে পারি। তবে আপনি একটা জিনিস বলতে ভুলে গেছেন যে নাটকটির নির্মাণ অনেকটা ব্যাঙ্গাত্বক। এক্ষেত্রে প্রাচ্যনাট তা ঘটিয়েছে হাস্যরস সৃস্টির মাধ্যমে এবং এটি প্রাচ্যনাটের একটা স্টাইল।

    আরো অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলা যেতে পারতো আপনার আলোচনায়, যেমন কোরিওগ্রাফী, মিউজিক, কস্টিউম ইত্যাদি। আমার কাছে মনে হয় মঞ্চনাটক মূল্যায়ন করতে গেলে এ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। মঞ্চনাটকে আমি নতুন সংযোজন হিসেবে স্ক্রীন সংযোজন দেখি। আর মিউজিক নিয়েও অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে প্রাচ্যনাট। মিউজিক নির্দেশনায় ছিলো কার্তিক। মিউজিকের কথা বলছি কারণ রবীন্দ্রনাথের সংগীতে কখনো এক্সপেরিমেন্ট করলেই তা সমালোচিত হয়ে থাকে। আর প্রাচ্যনাট এক্ষেত্রে পরীক্ষা করেছে ষোলো আনা।

    সাত রাজার বিষয়টিও আমাকে ভাবায়। পারফর্মারদের দেখে মনে হয় তারা যেন প্রত্যেকে একেক জন স্টেজ জিমন্যাস্ট। অবশ্য সার্কাস সার্কাস দেখলে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকে না। আমার কাছে নাটকটি দেখে মনে হলো প্রাচ্যনাট রাজা নাটকটিতে পুনরাবৃত্তি নয়, বরং নতুন ধরনের ভঙ্গিতে পুরনো একটা দৃষ্টিকে বর্তমানের সময়ের ঘটনাগুলোকে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।

    আর অভিনেতা অভিনেত্রীরা কী কী নাম কোন জায়গায় কী রূপে ব্যবহার করবে বা করা উচিত–সেটা ভেবে মোটেও আমোদ পাচ্ছি না।

  13. অনিন্দ্য রহমান says:

    যেকোনো জিনিসকেই যেকোনো জিনিসের প্রতীক বানানোর এক্তিয়ার একমাত্র ভাষার আছে। যেকোনো শব্দকে যেকোনো অর্থ দেয়ার ক্ষমতাও তার। আমরা আপাতত ভাষার নিগৃহিত (তথাপি নিরুপায়)ব্যবহারকারী মাত্র। এর অধিক কী !তারপরও, এই সত্য কেউ যদি মনে রাখতে না চায় তবে সেই অধিকারও তার আছে। প্রাচ্যনাটের রাজা আর ব্রাত্য রাইসুর গদ্য দুটোই কি সেই একই অধিকারেরই চর্চা নয়?

  14. iffat arefin says:

    নাট্য সমালোচনা (সম নাকি অসম) এবং প্রতিক্রিয়া পড়ে নির্মল আনন্দ পেলাম (কিছু লেখার লোভটা সামলাতে পারলাম না)। নাট্যপ্রয়োগের কলাকৌশল নতুন নয়, চমৎকার নিরীক্ষামূলক কাজ। (তবে যদি আমাদের দেশের কথা বলি তাহলে হয়তো নতুন যদিও সেলিম আল দীন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে এই ধরনের নানা নিরীক্ষা করেছেন)। একজন সার্কাসের কথা বললেন প্রতিক্রিয়ায় — জর্জিও গ্রোটভস্কি, পিটার ব্রুক প্রমুখ নির্দেশকগণ সার্কাসের কলাকৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন।

    সমালোচক বললেন কোরিওগ্রাফির কথা ‘হিন্দি’ না ‘তামিল’ সিনেমার ঢং এ নাচলেন। যতদূর জানি ভারতীয় সিনেমার যে আঙ্গিক তা নাট্য থেকেই ধার করা। বাংলাদেশে যারা নাট্য’র নির্দেশনা দিচ্ছেন তাদের মধ্যে পাভেল আজাদ শক্তিমান একজন। নাট্য’র যে শক্তি তা টের পাওয়া যায় তার নির্মাণে। ওপেনিং শো নিয়ে এইভাবে লিখতে বসাটা ঠিক কতটুকু যুক্তিসঙ্গত বুঝতে পারছি না। শুধু সমালোচকের প্রতি আহবান লিখতে চাইলে অন্তত দশটা শো দেখে নিয়ে তবে লিখতে বসাটা মনে হয় সুবিধাজনক। তা না হলে এইরকম অসম্পূর্ণ কোনো আলোচনায় পরিণত হতে পারে লেখাটা (তাতে অবশ্য দৃষ্টি আকর্ষণটা হয়)। আর আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলাটা — বৃট্রিশ কাউন্সিলে কাজটা বেশ সাহসের, ঠাট্টা করার কিছু নেই।

    iffat arefin

  15. এম. আব্দুল কাদের says:

    নাটকটি আমিও দেখেছি। আমার ভাল লাগেনি। আমার মনে হয় আপনার যদি আমেরিকার বিরুদ্ধে কিংবা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লিখতে হয় তবে আপনি আলাদা একটা নাটক লিখেন না কেন, রবীন্দ্রনাথের নাটকের ভিতরে কেন? নিরীক্ষামূলক কাজ করতে আপনাকে কেউ বাধা দিচ্ছে না। তাহলে কি আমরা রবীন্দ্রনাথের কবিতা অথবা গানেও একই ধরনের নিরীক্ষা করবো? তাহলে তো রবীন্দ্রনাথ আর রবীন্দ্রনাথ থাকলো না। এটা এখন ভাবার সময় এসেছে। আমি বলতে চাচ্ছি যে, যে যার মতো করে নাটক, কবিতা, গান লিখে থাকেন, আমাদের কি উচিত হবে কারো লেখার উপরে আবার লেখা? তাহলে লেখকের স্বকীয়তা কোথায়?

    – এম. আব্দুল কাদের

  16. দীপংকর দীপন says:

    রাজা দেখার পর আমার কাছে খুব আহামরি কিছু মনে হয় নাই। আবার তীব্র আপত্তি করার মত ও কোন প্রয়োগ অনুসঙ্গ খুঁজে পাই নাই। কেবল একবার মনে হয়েছিল, রবীন্দ্রনাথ কে এই নাট্ক দেখতে আমন্ত্রণ জানানো হলে, তিনি নির্দেশককে, ভালো হয়েছে, এগিয়ে যাও, ধরনের মন্তব্য করে বাসায় গিয়ে নুতন কোন লেখা লিখেতে বসতেন, প্রযোজনাটি নিয়ে দ্বিতীয় বার ভাবতেন না।

    অথচ প্রযোজনাটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী ছিলাম। তবে এই কথা খুবই সত্যি রাজা এই ভাবে মঞ্চায়ন করার মত দল বাংলাদেশে এই একটিই আছে। এটি খুবই আশার কথা।

  17. প্রদীপ সেনগুপ্ত says:

    ব্রাত্য যে বাংলা লেখেন তাই নিয়ে কারও কারও আপত্তি আছে। কিন্তু আমার মনে হয় উনি এক সচল ভাষা আমদানি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাষা নিয়ে অনেকেই নানা এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। এর মধ্যে একজন হলেন কমল কুমার মজুমদার। তার লেখা বুঝতে গেলে বারবার পড়তে হয়। তেমনই আমি এখন যে ভাষায় লিখছি তা সুধীজনেরা বুঝলেও জেনে রাখুন পশ্চিম বাংলার অর্ধেক জনগষ্ঠির কাছে এর অনেকটাই অপরিচিত শব্দে ভরা।

    তবে রবীন্দ্রনাথ এখন সবচেয়ে সহজলভ্য কৃষ্টিসম্পদ যাকে ইচ্ছেমতন কাটাছেড়া করা যায়। রাজা নাটকেও সম্ভবতঃ তাই ঘটেছে। কিছু কৃষ্টিব্যবসায়ী ভাবনার দীনতা গোপন করার জন্যই রবীন্দ্রনাথের ঘাড়ে ভর করে চলার চেষ্টা করছেন। রবীন্দ্রনাথকে টেনে হিঁচড়ে সমসাময়িক করার কি প্রয়োজন? তিনি তো নিজের রূপেই সমসাময়িক।

    – প্রদীপ সেনগুপ্ত

  18. সাইম বিন মুজিব says:

    লেখকের লেখার ধরন ভাল লাগলো না। আর লেখক যদি বাংলা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতেই চান তবে প্রাচ্যনাটের রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করাকে তিনি কেন ভুল হিসেবে দেখছেন বোঝা গেল না। ব্যাপারটা অনেকটা এমন হয়ে গেল যে, আমি পুরো গাছ কাটলাম কোন সমস্যা নাই, তুই ডাল কাটলি কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.