নাটক, প্রদর্শনী, বিশ্বসাহিত্য

ঢাকাবাসীর নাসিরুদ্দিন শাহ্ দর্শন ও কয়েকটি প্রশ্ন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | 25 Apr , 2017  

Heeba Shah in an Unique momentতার গল্প নিয়ে এ সমস্ত কারবার দেখে কী ইসমত চুঘতাই হেসে খুন হয়ে যেতেন?— এই প্রশ্ন নিয়েই বেরুলাম বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হল থেকে, গত শুক্রবার রাতে।

অঝোর বৃষ্টি তখন, এই শহরের অভিজাত নাট্যামোদী মানুষেরা, যাদের চেহারা আমি শিল্পকলা একাডেমি কিংবা নাটমণ্ডলে কোনদিন দেখিনি, আমার প্রায় এক দশকের সাংস্কৃতিক সাংবাদিকতার জীবনে, তারা তখন পার্কিং লটের যানজট ভেঙে গাড়ি আসার অপেক্ষায় মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে—অনেকক্ষণ দেখলাম ঘুরে ঘুরে তাদের মুখ, হাস্যোজ্জ্বল সামাজিক গণযোগাযোগ। কারো মুখেই নাটক নিয়ে কোন কথা নেই।

থিয়েটারের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদারের সাথে দেখা হলো পার্কিং লটে, আমার অফিসের বাহনও তখন আটকে পড়ে আছে।

—— আপা কেমন লাগলো নাটক?
—— ভালো, খুব ভালো। বিশেষত সর্বশেষটা, নাসিরুদ্দিন শাহ বড় অভিনেতা।

আচ্ছা, নাটকের তৃপ্ত মানুষ পাওয়া যাচ্ছে তাহলে। বেশ লাগলো আমার ত্রপা আপার মুগ্ধতা।

গাড়িগুলি বেশ ভালো জ্যামে পড়েছে, একটুও নড়ছে না। মোড়ে মোড়ে মানুষের আড্ডা। অমিতাভদা (অমিতাভ দেউরী) এলেন শাহানা আপা, জিন্নু ভাইদের নিয়ে। এখানে নাটকের কথা হলো। ভাষার দূরত্বের কারণে এই গ্রুপের কেউ সেভাবে মজা নিতে পারেন নাই নাটকের। নাসিরুদ্দিন শাহকে দেখার মুগ্ধতাই সার।

ভাষার দূরত্ব যে অভিনয় ঘোঁচাতে পারে না তাকে কী ভালো অভিনয় বলবেন আপনি? নাকি বলবেন সমুদ্রের ঢেউ বাতাসে ভেসে আসা মর্মটুকরো? একটু পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটি। গত ফেব্রুয়ারিতে খাজুরাহো নৃত্য উৎসবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে শেষ দিনের পরিবেশনা দেখতে এসেছিলেন ভারতেরই প্রখ্যাত নাট্য নির্দেশক পরিচালক রতন থিয়াম। উনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কখন আপনার মনে হয় একটি নাট্যপ্রযোজনা ভালো? আপনার কখন ভালো লাগে?

থিয়াম হেসে বলেছিলেন, যখন তা শুধু হৃদয়ে না শরীরকেও আক্রান্ত করে তখন। নাসিরুদ্দীন শাহর নাটক আমাকে কোনটিতেই আক্রান্ত করেনি। তবে ব্লুজ কম্যুনিকেশনের এই প্রায় সফল ইভেন্টটি আমাদের দেশের নাট্যকর্মীদের কী বার্তা দিয়ে গেলো? প্রসঙ্গ মনে রাখুন, আবার ফিরবো এখানে।

Heeba Shah On Stag-1ইসমত চুঘতাই উর্দু সাহিত্যের ঠোঁটকাটা বলে সুবিখ্যাত নারীবাদী লেখিকা। উর্দু সাহিত্যের প্রধান চার স্তম্ভের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত তিনি। তার বিপ্লবী ও প্রগলভ ভঙ্গির লেখার জন্য আলোচিত এবং পুরুষশাষিত এশিয়ায় আশা করা যায় আগামী অন্তত ২০০ বছর তিনি প্রাসঙ্গিক থাকবেন। তিনি নিশ্চয়ই আনন্দিত হতেন তার লেখা তিনটি মর্মস্পর্শী গল্প ‘চুই মুই’, ‘ঘরওয়ালী’ এবং ‘মুঘল বাচ্চা’ নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ সপরিবারে মঞ্চে উঠছেন জেনে। গল্প তিনটি একেবারেই আলাদা, মৌলিকভাবে নারীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এবং পুরুষশাষিত সমাজে নারীর বেঁচে থাকা ঘিরে আবর্তিত।

ইসমত চুঘতাই এর হাস্যরস দারুণ। সেই হাস্যরসই মোটলের অনাড়ম্বর প্রযোজনাটির মূল আকর্ষক উপাদান।

তখন বাজে সাড়ে পাঁচটা। ছয়টায় গেট ওপেন হবার কথা ছিলো। নবরাত্রী হলের সামনে থেকে প্রায় বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের মূল ফটক পর্যন্ত লম্বা লাইন। ব্লুজ কম্যুনিকেশনের কম্যুনিকেশন শক্তির এক দারুণ প্রদর্শনী। আমিও আমার কম্যুনিকেশন শক্তির কিঞ্চিৎ ব্যবহার করে আগেই ঢুকলাম হলে। ছয়টায় প্রদর্শনী শুরু হবার কথা থাকলেও দর্শকদের আসন গ্রহণ করতে সময় লাগলো প্রায় সাতটা বিশ পর্যন্ত। সাড়ে সাতটায় শুরু হলো নাটক।

কুর্তা ও শাদা পাজামা পরে শুরুতেই নাসিরুদ্দিন শাহ্, যিনি এই নাটকের পরিচালক-অভিনেতা, দর্শকদের একটা ভূমিকা দিলেন ইসমত চুঘতাই এর জীবন ও কর্ম নিয়ে।

প্রথম ‘চুই-মুই’। যার অর্থ বোঝাতে নাসিরুদ্দিন শাহ ব্যবহার করলেন ইংরেজি ফ্রেইজ ‘টাচ মি নট’। তাঁর ভূমিকার পর মঞ্চে ঢুকলেন হীবা শাহ্। তিন নটনটির মধ্যে তিনিই কনিষ্ঠ। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র এমন এক নারী যার একমাত্র স্বপ্ন তার স্বামীর বাচ্চার মা হওয়া। যেনো বন্ধ্যা অপবাদ দিয়ে স্বামী তাকে ছেড়ে বংশের বাতি জ্বালিয়ে রাখার জন্য অন্য কোন রমনীকে বিয়ে করতে না পারে।

এই নারীচরিত্রটি ঘরে সাজানো যেকোন আসবাবের মতো হলেও, তার চরিত্রের সাথে সংঘর্ষ ঘটাতে আনা হয় একটি বৈপরীত্যমূলক চরিত্র। যে চরিত্রের দেখা এ রমনীর সাথে একটি ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে। এই নারীটি আবার প্রচণ্ড ভয় পায় দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে সন্তান নিতে। এই নামপরিচয়হীন নারীচরিত্রটি নিজের ইচ্ছামতোন বেঁচে থাকার কথা বলে। স্বাধীন জীবনের কথা বলে, আদতে চুঘতাইয়ের দর্শন তুলে ধরে দর্শকদের সামনে।

পরিমার্জিত একটি একাঙ্কিকা এটি, কিন্তু গল্পটা পড়ে যে অনুভূতি তৈরি হবে সংবেদী পাঠকের মনে, তা যেনো হলো না এই নাটিকায়। কখনো কখনো হীবা শাহ্কে সুঅভিনেত্রী মনে হলেও চরিত্র ও বর্ণনাকারীর সংলাপে যে পার্থক্য, তা যতন মুন্সিয়ানায় তুলে ধরা দরকার ছিলো তা যেন হয়নি। একক অভিনয়ে যতটা স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন তাতেও যেনো ছিলো ঘাটতি, অন্তত তিন জায়গায় তিনি চরিত্র বদল করতে গিয়ে দুজনেরই সংলাপ একই রকম কণ্ঠে বলেছেন।

Ratna Pathak Shah on Stageদ্বিতীয় নাটিকা মুঘল বাচ্চা নিয়ে মঞ্চে আসেন নাসিরুদ্দিন শাহ এর দীর্ঘদিনের সহধর্মিনী, শিল্পসহযাত্রী রত্মা পাঠক শাহ। তিনটি গল্পের মধ্যে নিঃসন্দেহে এটিই সেরা। রত্মা কালে মিঞা ও গোরি বাই এই দুটি চরিত্রে একাই অনবদ্য অভিনয় করেছেন। একেবারে দুই বয়সের দুই লিঙ্গের দুজন মানুষের চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় ঈর্ষা করবেন যে কোন অভিনেতা অভিনেত্রী। গল্পটির কেন্দ্রে আছে শক্তিমান সব শাষকদের স্ত্রীরা। তাদের কিভাবে শাষকদের ব্যর্থতা ও খামখেয়ালীপনার বলি হতে হয় তাই বলে যায় এই গল্প। উরুতে হাত রেখে পরিবর্তিত গলায় রত্মা আমাদের নিয়ে যান গোরি বাই এর পৃথিবীতে। আমার কাছে এই নাটিকাটি এমনকী নাসিরুদ্দিন শাহ্ এর নাটিকার চেয়েও ভালো লেগেছে কারণ রত্মা আরোপিত প্রায় কিছুই করেননি। যেভাবে দাদী নানীরা গল্প বলে বাচ্চাদের সেই ভঙ্গিতে তিনি গল্পটি বলে গেছেন, দুই আলাদা চরিত্রে স্বতঃস্ফূর্ত কণ্ঠ দিয়েছেন, যা গল্পটি একেবারে ব্যক্তিগতভাবে বলা গল্পের মতো করে তুলেছে। এবং এটিই আলাদা করেছে গুণে মানে নাটিকাটিকে অন্য দুটি একাঙ্কিকা থেকে।

সন্ধ্যার সর্বশেষ চমক নিয়ে এরপর মঞ্চে আসেন নাসিরুদ্দিন শাহ। শিরোনাম ‘ঘরওয়ালী’। এই গল্পটায় একজন বেশ্যাশ্রেণির কাজের লোককে নিয়ে ছিলো একেবারে খোলামেলা, ইঙ্গিতহীন সরাসরি কথামালা। এই গল্প যাদের সামনে বলা হলো সেই অভিজাতরা নিশ্চয়ই ছি ছি করে উঠতো গল্পটি বাংলা ভাষায় বলা হলে বা অভিনীত হলে। এর গালিভরা পংক্তিমালা ও যৌনইঙ্গিতপূর্ণ ডায়লগ অস্বস্তিও তৈরি করেছে নাটকটি অভিনীত হবার সময়। দর্শকসারীর নারীদের এসময় কাউকে কাউকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখা যায়। যদিও এই সরাসরি বলা (with Rawness) ছাড়া হয়তো গল্পটা এতো সত্যি কিংবা বাস্তবতার কাছাকাছি আনা যেতো না। গল্পটা এক সুন্দরী তরুণী লাজ্জোকে নিয়ে, যার অতীত সম্পর্কে কিছুই বলা হয় না গল্পে, কিন্তু বলা হয় তার আছে হাজার হাজার প্রেমিক, প্রসংশাকারী। মির্জা নামের এক লোক আসে তার জীবনে, তাকে বিয়ে করে এবং ভুলে যায় যেমন বহু আগে পাওয়া কোন পুরস্কারের কথা ভুল যায় মানুষ। মির্জা তাকে যে বঞ্চনা দিয়েছে, ভয়ানক সব ধাক্কা দিয়েছে, এমনকী মারও, লাজ্জো এখন একটি বিচ্ছেদ ঘটে গেলে বাঁচে। সমস্যা হলো, এ ব্যাপারগুলিকে মির্জা সাহেব খুবই স্বাভাবিক মজা হিসেবে দেখে এবং তালাক দিতে দিতেও দেয় না। তালাকের কথা বলে হুমকী দেয়, তালাক পাবার জন্য লালায়িত লাজ্জো বহু আগেই বুঝেছিলো বিয়ে হলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর কামনা বাসনা পূরণের একটি প্রক্রিয়া কেবল, সুতরাং তালাকের কথা শুনলেই সে খুশি হয় ওঠে। কারণ তাহলে মির্জা সাহেবের ভার তাকে আর বহন করতে হবে না। নির্লজ্জ্ব চুমুর ভঙ্গিমা ও চোখের টিপুনিতে নাসিরুদ্দিন শাহ তাৎক্ষণিকভাবে যতবার লাজ্জোর ভূমিকায় মির্জা থেকে পরিবর্তিত হয়েছেন ততবার মিলনায়তনের দর্শক করতালি দিয়ে উঠেছে। দারুণ ছিলো এভাবে বলিউডের রূপালী পর্দা থেকে নেমে আসা একজন তারকাকে আবিষ্কার করা, যারা ভাষা বোঝেননি তাদের জন্যও নিশ্চয়ই দারুণ ছিলো তারকার অভিনয় দেখার রোমাঞ্চ। নাসিরুদ্দিন শাহ হতাশ করেননি, তিনি যে একজন অসামান্য অভিনেতা ছোট ছোট সংলাপে গাঁথা প্রায় চল্লিশ মিনিটের নাটিকা ঘরওয়ালীতে বুঝিয়ে দিয়েছেন হাজারো দর্শককে। মির্জা হিসেবে নিজের ব্যক্তিত্বসহ চরিত্রটিতে নাসিরুদ্দিন শাহকে মানিয়েছেও খুব। দুর্দান্ত ছিলো তার শব্দপ্রক্ষেপণ ও সংলাপের তড়িৎ বদল। চরিত্র থেকে চরিত্রান্তরে যাবার অন্তর্গত মকারীগুলোও। তার সংলাপের যে ভঙ্গিমা, তার যে শক্তি, সেটি টের পাওয়া গেছে এ নাটিকায়, বোঝা গেছে কেনো রসিকদের কাছে এতো জনপ্রিয় এ অভিনেতা।

Nasir Uddin Shah at The stageমিনিমালিস্টিক মিউজিক দারুণভাবে গেছে তিনটি কথিকার সাথেই। সঙ্গীতায়োজক বিশাল ভরদ্বাজ এজন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। সঙ্গীতায়োজন এতো সরল ও ন্যুনতম ছিলো, কিন্তু ছিলো শ্রুতিমধুর, সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের দেশের নাট্যনির্দেশকরা নিশ্চয়ই চমকে গেছেন ইসমাত আপা কী নাম এর সেট দেখে। এতো মিনিমালিস্টিক সেট বহুদিন পর দেখলাম। একটি মোটা ক্যানভাসে একটি মহলের অবয়ব ছিলো সেট। সামনে একটি বিছানা ও কিছু কুশন। সেটের ব্যাপারেও জয়রাজ পাটিল ও সেলিম আরিফ ছিলেন একেবারেই ‘যা লাগবে তার বাইরে কিছুই নয়’ পদ্ধতির। আলোক প্রক্ষেপণও দারুণ ছিলো, অভিনেত্রী অভিনেতার বর্ণিত গল্পের মেজাজ অনুযায়ী। ঠিক সময়ে ঠিক আবহটি তৈরি করেছে আলো। সামগ্রিকভাবে এই ইসমাত আপা কী নাম নাটকটি যারা স্পর্শসম্ভব, বুদ্ধিদীপ্ত গল্প মঞ্চে দেখতে ভালোবাসেন তাদের জন্য একটি ‘অবশ্যদেখ্য’ নাটক।

ঢাকায় এই নাটকটি মঞ্চায়নের জন্য বড় ধন্যবাদ পাবে ব্লুজ কম্যুনিকেশন্স। ফরহাদুল ইসলাম ও তার দল শুধুমাত্র ব্যাপক প্রচারণায় দেশের সবাইকে আগ্রহী করে তোলেননি প্রযোজনাটি নিয়ে, উচ্চবিত্তের অনেকের জন্য প্রযোজনাটি দেখা এর উচ্চমূল্যের টিকিট সংগ্রহ করাকে ‘ক্রেডিট ম্যাটার’ এ রূপান্তর করেছেন, আমাদের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ইতিহাসেই এ এক অসামান্য সাফল্য। এখন দেখার অপেক্ষা, ভারতের মোটলি থিয়েটারের চেয়ে অনেক অনেক গুণে ভালো আমাদের দেশের নাটক নিয়ে কবে ব্লুজ আবার এমন আয়োজন করতে পারে! অাদৌ পারে কী না! কিংবা দেশের নাটক নিয়ে এমন বড় আয়োজন করার মতো দেশপ্রেম বা বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিমত্ত্বা এই সফল আয়োজনের আয়োজকদের আছে কী না!

এই প্রসঙ্গটিই লেখা শুরুর একটু পরই মনে রাখতে বলেছিলাম, প্রিয় পাঠক। আমাদের দেশের নাট্যকর্মীরা এই প্রযোজনা থেকে কী পেলেন?

আমার মনে হয় পেলেন, এই বার্তা যে, মঞ্চ নাটকের জন্য শতভাগ উপযোগী না হলেও, অনেক লাইট, কোরিওগ্রাফি কিংবা মঞ্চসজ্জ্বার কেরদানি না থাকলেও, শুধুমাত্র দারুণ অভিনয় দিয়ে দেড়ঘন্টার বেশি সময় দর্শক ধরে রাখা যায়। নাসিরুদ্দিন শাহর মতো বড় অভিনেতারা সেটা পারে। আমাদের মঞ্চে গত কয়েকবছর ধরে যখন সেট, লাইট, কোরিওগ্রাফির চমকে প্রযোজনা সফল করার একটি প্রবণতা চলছে,তখন মোটলির ইসমত আপা কী নাম বুঝিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র অভিনয়ই একটি নাটকের মূলশক্তি। তাতেই সবার আগে জোর দেয়া উচিত।
Flag Counter


21 Responses

  1. অরিন্দম শীল says:

    খুবই প্রাণবন্ত লেখা। জীবন্ত। লেখক যেন আমার সাথে কথা বললেন কিছুক্ষন। নাট্য সমালোচনা বা রিভিউগুলো কাঠখোট্টা হয়, এটাতে সে দোষ নাই। পড়ে মনে হল নাটকটি যেন দেখে ফেললাম। ব্লুজ আমার জানামতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিষ্ঠান। অলাভজনক নয়, লাভজনক প্রতিষ্ঠান। ২৫০০ টাকার টিকিট কেটে কারা এ নাটক দেখতে যাবে তা ব্লুজ ভালই বুঝেছে।

    আর ঋণখেলাপী কারও কাছে দেশপ্রেম আশা করা একটু বেশি আশাবাদীরই কাজ। আশাবাদী শিমুলের জয় হোক।

  2. আনজাম আনোয়ার says:

    এতো ভালো নাটকের রিভিউ আমি পড়ি নাই আগে।

    বেঙ্গল সংস্কৃতি ব্যবসায়ী, সেবক না। ‘আমরা দেশপ্রেমিক’ এটা অবশ্য ব্যাংক লুটেরাদেরই প্রমাণ করা দরকার সবার আগে। হা হা হা।

    ব্লুজ অসাধ্য সাধন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে অভিনন্দন।

  3. রুবাইয়াৎ আহমেদ says:

    আমার অনেক টাকা থাকলে আমি আপনাকে খালি রিভিউ লেখার জন্য নিয়োগ করতাম। সিনেমা, নাটক, গল্প, কবিতার। লেখাটা খুব ভাল লাগল শিমুল।

  4. austrik aarzu says:

    লেখাটি পড়ে চোখের সামনে কিছু দেখতে পেলাম এইটা বড় আনন্দের। খুব ভাল লাগল রিভিউটা। শিমুলকে ধন্যবাদ।

  5. খুব ভালো রিভিউ, শিমুল। নাসিরুদ্দিন শাহ্ কে মঞ্চে দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিলো বারকয়েক- মুগ্ধতা রয়ে গেছে এতোবছর পরেও।

  6. Khub bhalo lekha. Bhasha bujhte na pere Nasiruddin shah Ke na dekhei beriye ashar jonye ekhon dukkho hocche. all the best shimul.

  7. পড়লাম। শেষ কথাগুলোই আসল। অভিনয় মানুষকে ধরে রাখতে পারে। সব নাটকের অভিনেতা নির্দেশকই তার বা তাদের নাটকের এমন একটা রিভিউ দেখতে পেলে আনন্দিত হতো। লেখককে অভিনন্দন। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

  8. দেখতে না পারার জন্যে অস্বস্তি ছিলো। সেটি নির্মূল হলো।

    সেন্স অফ হিউমার আর পুরো ব্যাপারটা তুলে ধরার মুন্সিয়ানার জন্য দারুণ লাগলো।

  9. বাহ্। দারুন শিমুল।

  10. nazrul kabir says:

    ami natok na dhekleo tomar alochonar sutre dekhe fellam….. bangladesh e somalochona sahitter onek durabostha… seta tumi katate parbe.

  11. পড়লাম এবং বুঝার চেষ্টা করলাম। আসলে ইহাই বাস্তব যা আপনার এই লিখনির মধ্যে ফুঠে উঠেছে। শেষের কথা গুলো ভালো ছিল। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  12. মোহাম্মদ বারী says:

    দারুণ!!!

  13. নওশীন নাওয়ার খান says:

    খুব ভাল লেগেছে চোখের সামনে কিংবদন্তি অভিনেতাকে দেখতে পেরে। নাটকটা কিছুই বুঝি নাই। ভাষার কারণে। এই লেখাটা পড়ে স্মৃতি ঘেঁটে ঘেঁটে উদ্ধার করলাম।

    ধন্যবাদ লেখককে। মজা করে লিখেছেন।

  14. খুব ভাল লাগলো, শিমুল। বাংলাদেশে নাট্য-সমালোচনাটা আজো ভিত পেলো না। তোমার লেখাটা পড়ে আশা জাগে। আমাদের নাটকগুলো নিয়েও নিয়মিত লিখবে আশা করি।

  15. তিনটি গল্পই বাংলা অনুবাদে দুবার করে পড়া থাকায় নাটক বুঝতে অসুবিধে হয়নি। কিন্তু সত্যি বলতে কী এই গল্পগুলো আমার কাছে মঞ্চ নাটকের জন্য যথার্থ মনে হয়নি।

    প্রথমত ভাষার বিষয়টি, যেমন সংলাপ ছিল উর্দু ও হিন্দীর মিশেল এবং কোথাও কোথাও পঞ্চাশের দশকের একসেন্টে। তাও আবার মনোলগ বা এককসংলাপ নির্ভর।

    ইসমত চুঘতাইয়ের ঘোমটা নাটকে কালে মিয়া ও গোরি বিবিকে নিয়ে যে বর্ণনা তা কোনভাবেই সংলাপে এনে বোঝানো সম্ভব নয় যেমন ওখানে গল্পের শুরুই হয় লেখকের বর্ণনা দিয়ে তারা ছোটবেলা থেকে ফতেহপুর সিক্রিীর বাড়ির কোনায় কোনায় জমে থাকা অন্ধকারকে কেমন ভয় পেত। এটা অসম্ভব একক সংলাপে তুলে আনা। চুইমুইতে হেবা শাহকে দেখতে হুবহু ইসমত চুঘতাইয়ের মতোই দেখাচ্ছিল শারীরিক কাঠামোর কারণে।

    কিন্তু ট্রেনের কামড়ায় আকস্মিক উঠে পড়া নারীর একা একা সন্তানকে পৃথিবীতে আনার যে প্রক্রিয়া আর সে সময় বিবিজানের যে মানসিকতা তাও দুরূহ।

    তবে নাসিরুদ্দিন শাহ যে ভয়ানক শক্তিশালী একজন অভিনেতা এবং চরিত্র থেকে তাকে পৃথক করা যায়না এমনকি ভাষার ব্যবধানও উৎরে যায় অভিনয়ে সেটা শেষ নাটকে আমার মনে হয়েছে। সিনেমার চেয়ে শতগুণ বেশি দক্ষ মনে হয়েছে মঞ্চে।

    তবে এভাবে বলা ঠিক হোল কিনা জানিনা কারণ নিজেও নাটক বিশেষ বুঝিনা, দেখতেও যাই কম। তবুও যেটুকু অভিজ্ঞতা তা থেকে অন্তত দর্শক চেনার ক্ষমতাটুকু হয়ত হয়েছে।

    আমারও অধিকাংশ দর্শককে দেখেই মনে হয়েছে, নাসিরুদ্দিন শাহর শো দেখতে যাওয়াটা যতটা মঞ্চে তার কাজ দেখতে চাওয়া তারচেয়ে বেশি স্ট্যাটাস ই্যসু।

    তোমার আলোচনাটা ভালো লাগলো আর সকলের মতোই ‘বেশ বেশ’ বলনি, দুর্বলতাগুলো টেনে এনেছ বলেই এত কথা বলে গেলাম।

  16. Hi Shimul, as like any other watcher there, u also went to c because N.Shah was there.Not just u, few others also seemed pretty concerned that it’s not the ‘regular theatre crowd’ of Dhaka, it’s the ‘elite’ etc.some reviewers also claimed that these ‘elites’ are not that refined.as a theatre goer!I wouldnt ever judge the social background of the audience.i mean like any other live performing arts, audience is the last word as for any commodity customer is the king.those who consider one bunch of audience as ‘elite’ also pity the ‘poorer’ audience.as i saw the evolution of so called ‘regular theatre goers’ and academic practisioners here for 30 years, to my observation the regular ones standard is very low, u can cheat them wth cheap visuals.some time same crowd going round and round.it’s sad that we don’t appreciate one bunch of audience just because they r well to do.mind it when i presented one part of Julekha trilogy at shilpokola and invited u, u didn’t come.well thankfully u sent “somebody’.again your uni senior tarik al banna came and organised broad reviews.what i mean is n.shah surely has the pull, but a lot of reviewer apparently were looking at the audience’ ‘status’ and gotten overwhelmed with it.the reviewers here descented upon a cultural class struggle over the event, brought ‘bengal’ and other ‘issues’.i wish my works got this much attention and u guys in media give a shout.lets call a spade a spade.lets acknoledge why a review makes preferential treatment and starts wth certain names.to my reading the reviewers failed to notice the universal theatre language while unduly a bit too much notifying about the audience.it seemed a reviewer in daily star took a preferential approach and others followed.as they say it’s worth to hv a gold medal when u r good without it.but if a n.shah is given the gold medal his audience r also worth it.thanks

  17. ribon khandokar says:

    excelent review. I like the last para about the present theatre performance style of our country. thank you simul. take care.

  18. হামিদ কায়সার says:

    ভাল লাগল। দেশের নাটকগুলো নিয়েও এমন দারুণ লেখা চাই।

  19. গনী আদম says:

    ভালো পর্যালোচনা হয়েছে। দেশে না থাকায় খুব ইচ্ছা সত্ত্বেও দেখতে যেতে পারিনি। লেখা পড়ে সে আফসোস আরো বাড়লো।

    আচ্ছা, হীবা শাহ তো নাসিরুদ্দিন শাহের মেয়ে, তাই না? খুব জরুরি না হলেও, তথ্যটার উল্লেখ থাকলে অপ্রাসঙ্গিক হতো না।

  20. শিমুল সালাহ্উদ্দিন says:

    প্রিয় গনী ভাই, লেখাটার প্রথম স্তবকেই উল্লেখ করা হয়েছে, নাসিরুদ্দিন শাহ্ সপরিবারে এই কথিকায় অভিনয় করেন। তথ্যের পুনরাবৃত্তি হবে ভেবে কন্যা আর নিচে উল্লেখ করা হয় নাই। আপনার প্রযত্ন মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

    ভালোবাসা জানবেন।

  21. Iman Ali says:

    বাহ্। দারুন শিমুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.