ভাষার প্রতিভা ও সৃষ্টির ডালপালা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ আগস্ট ২০১৭ ৪:২৬ অপরাহ্ন

Languages-1নিতান্ত কৌতূহলবশত ২০১০ সালের শুরুর দিকে ওয়েব-রাজ্যের একটি খবরে আমার নজর আটকে পড়েছিল। খবরটা বেদনাদায়ক, কিন্তু অবাক করার মতো কিছু নয়। ক্যামেরুনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফুরুবানার অধিবাসী এক মহিলা বিকিয়া ভাষায় কথা বলতেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এ ভাষাটি জানতেন। তার ভাষিক নিঃসঙ্গতার কথা ভাবলে আমরা বিষণ্ন না হয়ে পারি না। এই মহিলার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এ ভাষাটি। হয়তো এতদিনে তার মৃত্যুর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েও গেছে। একটি ভাষা গড়ে উঠতে কত সহস্র বছর লাগে–ভাবা যায়! কত সব সৃষ্টিশীল মনের অবদানের যোগফল যে-ভাষা, তা মাত্র একদিনেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে!
মার্টিন হাইডেগার, একালের দার্শনিকদের মধ্যে যিনি বিশিষ্ট হয়ে আছেন ভাষা এবং কবিতার ওপর আমাদের মনোযোগকে কেন্দ্রীভূত করার জন্য। তিনি বলেছিলেন, ‘যেখানে ভাষা কেবল সেখানেই বিশ্ব।’ কিংবা ‘ভাষার ভিত্তির ওপর অস্তিত্বের সমগ্র ধারণাটা দাঁড়িয়ে আছে।’ অর্থাৎ ভাষার বাইরে আমাদের আসলেই কোনো অস্তিত্ব সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এই বিশ্বজগতের ধারণা করা। কারণ, তা কোনো না কোনোভাবে ভাষাশ্রয়ী। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর তুলনায় বাংলা ভাষা কেবল অস্তিত্বশীলই নয়, রীতিমত পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলোর একটি। ভাবুন, বায়ান্ন সালে সত্যি সত্যি যদি আমাদের ভাষার বিজয় না হতো, তাহলে আমাদের সৃজনশীলতা বা আগের সব সৃজনশীলতার যোগফলটুকু ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়ে যেতে পারত চিরকালের জন্য। ইতিহাসে এমন নজির কম নয়। গোটা মানবসভ্যতার ইতিহাসে হাতে গোনা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন যিশু খ্রিষ্ট, তাঁর মুখের বুলি আরামায়িক বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও যে তা টিকে গেল, তার জন্য আমাদের গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা মহান ভাষাশহীদদের প্রতি, যাঁরা একেকজন আমাদের প্রাণের, আমাদের অস্তিত্বের চিরন্তন বর্ণমালা হয়ে আছেন।

প্রতিটি ভাষার মাধ্যমে বিশ্বজগত বা মানব অস্তিত্বের যে ধারণা মানুষের মনে গড়ে ওঠে, তার গড়ন ভাষাভেদে ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র। তার প্রকাশও আলাদা। প্রায় এক দশক স্প্যানিশভাষী একটি দেশে থাকার সুবাদে আমার সামান্য যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে এ কথা বলা যায় যে ব্যাকরণের পরিভাষায়—পুরুষ এবং বচনভেদে ক্রিয়াপদের বৈচিত্র্যে বাংলা ও স্প্যানিশ অভিন্ন স্বভাবেরই অংশীদার। আবার এই দুই ভাষার সবলতা এবং দুর্বলতা, সুবিধা ও অসুবিধাও বিস্তর। বিশেষণ আর আবেগের আতিশয্য এই দুই ভাষার বৈশিষ্ট্য নজরে পড়বে যে কারোর। উষ্ণতা ও প্রগলভতায় উভয়ই যেন একই রক্ত ধারার। বাংলা ভাষার অনেক শব্দের সঙ্গে এই ভাষার মিলও রয়েছে। স্প্যানিশ বা কাস্তেইয়ানো লাতিন থেকে নিঃসৃত এক ভাষা। বাংলা যদিও লাতিন নয়, তবে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় কোনো কোনো ভাষা আমাদের দুঃসম্পর্কের আত্মীয় বা রক্তীয় হিসেবে নানান জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একই কারণে বাংলায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অনেক শব্দ যেমন আছে, তেমনি আরবি-ফার্সিও রয়েছে প্রচুর। স্প্যানিশ ভাষায় সমগ্র শব্দভান্ডারের ৬০ শতাংশ লাতিন, ১০ শতাংশ গ্রিক, ১০ শতাংশ জার্মান আর ১৫ শতাংশ আরবি। সংখ্যার বিচারে প্রায় চার হাজার আরবি শব্দ আত্তীকৃত হয়েছে স্প্যানিশে। ফলে বাংলা অনেক শব্দের সঙ্গে রয়েছে এর মিল। মেহিকোর বিখ্যাত লেখক অক্তাবিও পাস তাঁর ইন লাইট অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে এ বিষয়ে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন। যত দূর মনে পড়ে, আমাদের দেশে ‘সবেদা’ বলে যে ফলটি আছে, স্প্যানিশে তাকে প্রায় কাছাকাছি উচ্চারণে ‘সাপোতে’ বলা হয়। বাংলায় কমলার সমার্থক শব্দ ‘নারঙ্গি’। শব্দটি বাংলায় এবং স্প্যানিশ ভাষায় প্রবেশ করেছে আরবদের মাধ্যমে। ফররুখ আহমদের কবিতায় এ শব্দটির ব্যবহার অনেকেই হয়তো লক্ষ করে থাকবেন। স্প্যানিশে শব্দটি উচ্চারিত হয় ‘নারান্হা’ রূপে। পার্থক্য সামান্যই। কিন্তু আমি খুব অবাক হয়েছিলাম ‘লোদো’ শব্দটি শুনে। কারণ, এ শব্দটি ওখানে শুনতে পাব, এটা ছিল আমার কল্পনারও বাইরে। শহরের লোকজন ‘প্যাককাদা’ বললেও গ্রাম বাংলায়, বিশেষ করে আমার গ্রামের লোকজন (শরীয়তপুরবাসী) একে ‘লোদ’ বলে। আমি ভেবেছিলাম, ‘লোদ’ শব্দটি খাঁটি বাংলা। কিন্তু কে জানত অজপাড়াগাঁয়ে ব্যবহৃত এ শব্দটিরই উৎস আসলে লাতিন! ভাবুন, ‘কোথাকার তরবারি কোথায় রেখেছে’। আরও একবার অবাক হয়েছিলাম মাদারীপুরের ‘কালকিনি’ নামে মেহিকোতে একটি জায়গার নাম দেখে। আল্লাহ মালুম, কীভাবে এটা সম্ভব!

তবে মিল যতই থাকুক না কেন, দুটি ভাষার বৈশিষ্ট্যে পার্থক্যও আছে প্রচুর। প্রতিটি ভাষারই নিজস্ব ধরন এবং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমাদের ভাষার অসাধারণ পণ্ডিত মহামান্য সৈয়দ মুজতবা আলীর একটা রচনা আছে, শিরোনাম ‘আমার ভান্ডার আছে ভরে’। নানান ভাষায় তাঁর অবাধ যাতায়াতের কারণেই বিভিন্ন ভাষার সীমাবদ্ধতা এবং সুবিধাগুলো তাঁর জানা ছিল। যেমন ‘সমাস’-এর কথাই ধরুন। তিনি বলছেন, ‘সমাস বাড়ানোর প্রবৃত্তি এবং ক্ষমতা কোনো কোনো ভাষায় নেই। ইংরেজি, ফরাসি কেঁদে-কুঁকিয়ে দৈবাত্ দু-একটা সমাস বানাতে পারে—যথা ‘হাইব্রান্ড’, ‘রঁদেভু’। এ প্রবৃত্তি যে ভাষার নেই, তার ঘাড়ে এটা জোর করে চাপানো যায় না।’ জার্মান ভাষা আমার জানা নেই, কিন্তু মুজতবা আলীর সূত্রে আমরা জানতে পারছি, জার্মান ভাষায় সমাস বানানোর প্রবৃত্তি এবং ক্ষমতা বিস্ময়কর। ওই প্রবন্ধে তিনি দু-একটি লম্বা লম্বা নজির দেখিয়েছেন। সেগুলো এখানে উদ্ধৃত করে লাভ নেই, কারণ আমি ওগুলো উচ্চারণ করতে পারব না। আপনারাও অনেকে পারবেন না যদি ঐ ভাষা জানা না থাকে।
এ ক্ষেত্রে স্প্যানিশ ভাষার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে হোর্হে লুইস বোর্হেসের অভিজ্ঞতা এবং ভাষ্যও হচ্ছে অনুরূপ: ‘আলেমান, ইংরেজি, স্ক্যান্ডিনেভীয় ভাষা কিংবা ডাচ্ ভাষার যে সুবিধা রয়েছে, স্প্যানিশ ভাষার তা নেই।’ মুজতবা আলীর মতো এই বহুভাষী লেখক ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষার সঙ্গে স্প্যানিশ ভাষার তুলনা করে দেখিয়েছেন। বোর্হেসের মাধ্যমে জানতে পারছি যে হিব্রু ভাষায় সুপারলেটিভ নেই, ফলে ওই ভাষায় ‘সং অব সংস’ বা ‘গানের গান’ বললে বুঝতে হবে, আসলে ‘পরম গান’ বা ‘শ্রেষ্ঠ গান’ কথাটা বোঝাতে চাইছে। কিন্তু ভাষাভেদে এর অনুবাদ হয়েছে বিভিন্ন রকম। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলা ভাষার একটা বড় সুবিধা হচ্ছে, এর মধ্যে সুপারলেটিভ এবং সমাস বানানোর ক্ষমতা—দুটোই আছে। যদিও মুজতবা আলীর মতে, খাঁটি বাংলায় সমাসের নজির খুব বেশি নেই। তবে বাংলা যেহেতু সংস্কৃতের নিকটতম আত্মীয়, ফলে ধারকর্জ করে কাজ চালাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।
তবে যা বলতে চাইছি তা হলো, ভাষার স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারণে বাক্যগঠনে ভিন্নতা চলে আসবে। বহু আগে বাংলা ভাষার কোনো এক কবির একটা বাক্য ছিল এ রকম ‘আজানু-লম্বিত-ভ্রমর-কৃষ্ণ-কুঞ্চিত-কুন্তলদাম’। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে গোটা বাক্যটিই একটি শব্দ হিসেবে কবি উপস্থাপন করেছিলেন। কিংবা যদি না-ও করে থাকেন তাহলে ছয় শব্দের এ বাক্যটিকে একটিমাত্র সমাসবদ্ধ শব্দে উপস্থাপন করলে এর অর্থ বুঝতে আমাদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এখন দেখা যাক দীর্ঘ এই শব্দটি স্প্যানিশে কী রকম দাঁড়ায়। স্প্যানিশে যদি আমরা শব্দটির তর্জমা করতে চাই, তাহলে মোটামুটি এভাবে বলা যেতে পারে Su Cabello negro como el escarabajo, Largo y chino hasta la rodilla. দেখা যাচ্ছে, স্প্যানিশে গিয়ে ওই একটি সমাসবদ্ধ শব্দের বদলে আমরা পাচ্ছি ১২টি শব্দ আর সেগুলো ভাগ করে নিতে হচ্ছে দুটি বাক্যাংশে। শুধু এই একটি উদাহরণ থেকেই আমরা বুঝতে পারছি, সমাস বানানোর ব্যাপারে স্প্যানিশ কতটা দুর্বল এবং অকেজো।
তবে এই দুর্বলতা দেখিয়ে এই ভাষার অন্য সব বৈশিষ্ট্য বা সবলতাকে খারিজ করা বা ছোট করে দেখার কোনো উপায় নেই। বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে, কোনো কোনো প্রাণিকুল কোনো একটি ইন্দ্রিয়র ঘাটতি সে পূরণ করে অন্য কোনো ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে। আমার ধারণা, ভাষার ক্ষেত্রেও সে রকম ঘটে। স্প্যানিশ ভাষায় ধ্বনির নৈকট্য বেয়ে আলবুর (বাকচাতুরির মাধ্যমে অপর পক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল) করার যে প্রচণ্ড ক্ষমতা, তা আবার বাংলা ভাষায় খুব বেশি পাওয়া যাবে না। আর ভাষার এই যে বৈশিষ্ট্য, তা একটি জাতির সাংস্কৃতিক স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যকে আলাদা করে দেয়। বলা হয়ে থাকে যে মানুষ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে বা মানুষ ভাষাকে পরিচালিত করে। কিন্তু আমরা স্প্যানিশ ভাষার এই বৈশিষ্ট্যকে স্বীকার করে নিলে বলতে পারি যে ভাষাও মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। মার্টিন হাইডেগার ভাষার এই নিয়ন্ত্রকের স্বভাব সম্পর্কে খুবই সচেতন ছিলেন বলেই আমাদেরকে জানাতে ভোলেননি যে: “Man acts as though he were the shaper and master of language, while in fact language remains the master of man” ( Martin Heidegger, Poetry, Language, Thought, Published by Herper Perennial, 2001, P-144)। অর্থাৎ তার সাংস্কৃতিক স্বভাব এবং বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলতে ভাষার একটি সক্রিয় ভূমিকা থাকে। অর্থাৎ ভাষা শুধু জীবন্ত ব্যাপারই নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাও পালন করে। ভাষা বিষয়ক এক প্রবন্ধে স্পানঞার এ যুগের এক শীর্ষ কবি পেদ্রো সালিনাস বলেছেন যে “El hombre hizo el lenguaje. Pero luego, el lenguage con su monumental complejidad de simbolos, contribuyo a hecer al hombre; se le impone desde que nace.” হাইডেগারের রাজপথ ধরে তিনিও একই পথে হেটে আমাদেরকে যা বলছেন তার তর্জমা করলে দাড়ায়: “মানুষ ভাষা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পরে, প্রতীকের বিপুল জটিলতা নিয়ে ভাষা মানুষকে নির্মাণের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে; একেবারে জন্ম থেকেই ভাষা তার উপর আরোপিত হয়ে যায়।” ভাষার এই আরোপিত অবস্থা আমরা টের পাই না। ভাষার মতো অনঙ্গ একটি বিষয় এই কাজটি প্রচ্ছন্নভাবে করে বলেই তাকে জীবন্ত কিছু মনে হয় না। কিন্তু সে জীবন্ত এবং অজ্ঞাতে সে আমাদেরকে নিয়ন্ত্রনও করে। কেবল নিয়ন্ত্রনই নয়, বিস্ময়করভাবে, আমাদের অজান্তেই সে হয়ে ওঠে কাব্যপ্রবণ। কবিতা কেবল কবিতাতেই নয়, ভাষাসত্তার মধ্যেও রয়েছে কবিতার অভিব্যক্তি। “ Language itself is poetry in the essential sense.” ( Martin Heidegger, Poetry, Language, Thought, Published by Herper Perennial, 2001, P-72)। ভাষা নিজেই নিজের সৃষ্টি-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অদৃশ্য কবির ভূমিকাটি পালন করছে অজ্ঞাতে। এক অর্থে যেকোনো ভাষার প্রতিটি শব্দই কবিতা এবং যখন প্রতিটি শব্দ আবার বিবর্তনের পথ ধরে এগিয়ে যেতে থাকে তখন সে আবার নতুন অর্থের আলখেল্লায় হাজির হয়। এতো গেল ভাষার অন্তর্গত কাব্যিক বৈশিষ্টের দিক। তার বাইরের রূপেরও পরিবর্তন এবং অঞ্চলভেদে নানা রকম ব্যবহার আছে। সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে যেমন আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে, স্প্যানিশে সে ধরনের আঞ্চলিক বৈচিত্র্য আছে বলে আমার জানা নেই। অঞ্চলভেদে পরিবর্তন যেটা রয়েছে, তা শব্দের আঞ্চলিক টান বা ইষৎ পরিবর্তিত উচ্চারণ এবং ভিন্ন প্রতিশব্দের ব্যবহার। একটা উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা পরিষ্কার করা যেতে পারে। আমাদের দেশের হাটের মতো একটা ব্যাপার রয়েছে মেহিকোতে। সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটা দিনে, নির্দিষ্ট একটা অঞ্চলে এই হাট বসে। হাট বললেও এটা আসলে কেবল গ্রামের কোনো জিনিস নয় মোটেই, শহর-গ্রাম সর্বত্রই এর অস্তিত্ব রয়েছে। ওরা এই হাটকে বলে ‘ছবরে রোয়েদাস’। কিন্তু মেহিকোর উত্তরাঞ্চলে সবাই ‘ছবরে রোয়েদাস’ বললেও দক্ষিণাঞ্চলের লোকজন একে বলে ‘তিয়াঙ্গিস’। কিংবা আপনি যদি কাউকে ‘কৃপণ’ বলে চিহ্নিত করতে চান, তাহলে বাহা ক্যালিফোর্নিয়ার লোকজন ‘কদো’ শব্দটা ব্যবহার করবে। আবার অন্য অঞ্চলের লোকজন তাকে ‘তাকান্যো’ বা ‘পিওহো’, আবার আরেক অঞ্চলের লোকজন বলবে ‘মেসকিনো’ বা ‘মিছেরাবলে’। এই যে একই শব্দের এতগুলো সমার্থক শব্দ, তা নিছক অঞ্চলভেদের কারণে। অর্থাৎ শব্দ চয়নের ভিন্নতাই আঞ্চলিকতাকে প্রধানত চিহ্নিত করে, ক্রিয়াপদের আঞ্চলিক রূপ নয়। আমাদের ভাষায় ক্রিয়াপদের আঞ্চলিকতাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে উচ্চারণের ভিন্নতার ক্ষেত্রে। সুতরাং এ অর্থে বাংলা ভাষার তুলনায় স্প্যানিশ ভাষা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর পরিসরে অনেক বেশি বোধগম্যতা নিয়ে টিকে আছে। তাই যদি না হতো তাহলে সেন্ট্রাল আমেরিকাসহ দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় ১৫টি দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারতো না। একই শব্দ ভিন্নার্থে ব্যবহারের কারণে পরস্পর কিছুটা বিভ্রান্ত হলেও মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রে তা বড় কোনো বাধা হিসেবে কাজ করে না। তবে কখনো কখনো বড় ধরনের বিভ্রান্তিও তৈরি হতে পারে। একটা উদাহরণ দেয়া যাক বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। আমার স্ত্রী তার এক কলোম্বীয় বান্ধবীকে ফোনে জিজ্ঞেস করলো কেমন আছ। ও প্রান্ত থেকে সে জানালো `Estoy bien mamado.’ স্ত্রী আমার দিকে চোখ ছানাবড়া করে তাকিয়ে বুঝতে পারছে না এর প্রতিক্রিয়ায় কী বলবে। অথচ দুজনই স্পানিশভাষী। কথা শেষ হলে জিজ্ঞেস করলাম, কী ব্যাপার, অমন করে তাকালে কেন। হাসতে হাসতে বললো, জানো, ওদের দেশে mamado শব্দটার কী অর্থ? কেন মেহিকোতো যা, তাই তো হওয়ার কথা । বললো, না। ঘটনা হলো মেহিকোতে mamado বললে বুঝাবে, বিশেষ করে যৌন অর্থে, নারী কর্তৃক পুরুষের বা পুরুষ কর্তৃক নারীকে লেহন। কিন্তু কলোম্বিয়াতে এর অর্থ ‘ক্লান্ত’। অর্থাৎ সে বলতে চেয়েছে, সে ক্লান্ত। ঠিক এই শব্দটাই আবার একুয়াদরে গিয়ে ‘মাতাল’ রূপ ধারণ করছে। একই শব্দ একই ভাষী ভিন্ন ভিন্ন তিনটি দেশে গিয়ে অর্থান্তরে বহুমুখী হয়ে যাচ্ছে।
LanguageImage
যেকোনো ভাষার গুণ, শক্তি, সৃজনশীলতা, সৌন্দর্য এবং প্রতিভার প্রকাশ ঘটে সে ভাষার গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়ায় বা বলা যেতে পারে শিল্প ও সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমগুলোয়। কিন্তু আমরা বোধহয় এ রকম ভাবতে অভ্যস্ত নই যে অনুবাদেও একটি ভাষার শক্তি ও প্রতিভার পরীক্ষা চলতে পারে এবং সফল অনুবাদের ফলে সে পরীক্ষায় চমত্কারভাবে উতরেও যেতে পারে। অনুবাদের মাধ্যমে একটি ভাষার গ্রহণ-ক্ষমতাকে আমরা লক্ষ করতে পারি। অনুবাদ, বিশেষ করে সফল অনুবাদ ভাষার জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। ধরা যাক, আমাদের কমলকুমার মজুমদারের অন্তর্জলী যাত্রা উপন্যাসের প্রথম স্তবক ‘আলো ক্রমে আসিতেছে, এ নভোমণ্ডল মুক্তা ফলের ছায়াবত্ হিম নিলাভ। আর অল্পকাল গত হইলে, পুনরায় আমরা প্রাকৃত জনেরা পুষ্পের উষ্ণতা চিহ্নিত হইব। ক্রমে আলো আসিতেছে।’
এখন ধরা যাক, আমরা কেউ এ ক্ষেত্রে একজন স্প্যানিশ অনুবাদকের কথা কল্পনা করে নিতে পারি আলাপটাকে অব্যাহত রাখার জন্য। তিনি স্প্যানিশে অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কীভাবে তা করবেন। প্রথমত, স্প্যানিশে চলিত-সাধুর কোনো বালাই নেই। দ্বিতীয়ত, কমলকুমারের বাক্যগঠন প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণের অনুগামী নয়। বরং কমলকুমারের খেয়ালিমনের সৃষ্ট বাক্যরীতি এতে প্রবহমান। তৃতীয়ত, আবহ, অনুষঙ্গ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চিহ্নসমূহ। এ সবকিছু হুবহু স্প্যানিশভাষী কোনো দেশেই বোধহয় পাওয়া যাবে না। তারপর আরও যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, ভাষিক চারিত্র ও স্বভাবের ভিন্নতা। এত সব বাধা ও ভিন্নতা সত্ত্বেও অনুবাদকেরা কিন্তু দুঃসাহসী সিন্দাবাদের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এগিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর মূল প্রস্তুতি হবে কমলকুমারের ভাষা এবং অনুষঙ্গ সম্পর্কে নিবিড় জ্ঞান ও কল্পনা। এটাকে পুঁজি করে তিনি নিজের ভাষাকে প্রস্তুত করে নেবেন, যদি তিনি সফল অনুবাদ করতে চান। এটা অনেকটা অসম্ভব একটি কাজ। তারপরও যদি করতে হয়, তাহলে দেখা যাবে, নিজের ভাষার প্রচলিত অনেক রীতি লঙ্ঘন করেই সেটা করতে হবে। আর সেটা করতে গেলেই ভাষা তার পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে। আর এই পরীক্ষার ফলে নিজ ভাষার গড়ন ও চলনের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দেবে। ভাষার ব্যাপারে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন অনুবাদক এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা না করে পারবেন না।
এবার আমার নিজের একটি অভিজ্ঞতা পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই, আত্মশ্লাঘার জন্য নয়, বরং বাংলা ভাষার গ্রহণক্ষমতার একটা চমত্কার উদাহরণ হিসেবে। কয়েক বছর আগে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ওপর ফিদেল কাস্ত্রোর একটি লেখা স্প্যানিশ থেকে বাংলা অনুবাদ করার সুযোগ হয়েছিল। লেখাটির এক জায়গায় ফিদেল প্রশ্ন করলেন মার্কেসকে: Tu que estabas haciendo durante el Bogotazo? বাংলায় এর অনুবাদ হাজির করার আগে বাক্যের পরিপ্রেক্ষিত সম্পর্কে একটু না জানালে হয়তো বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। কলোম্বিয়ায় রাজনৈতিক তাণ্ডব, অর্থাৎ বোগোতায় রাজনৈতিক নেতা গাইতানের হত্যার পর হরতাল-ধর্মঘটের যে তাণ্ডব চলে, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রশ্নটি। কিন্তু তাণ্ডব শব্দটি আলাদাভাবে কোথাও ব্যবহার না করে Bogota শব্দটির সঙ্গে ‘zo’ বর্ণ দুটি যুক্ত করে সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ফিদেল। শুধু ‘বোগোতা’ শব্দটি কেবল একটি স্থানকে নির্দেশ করে, কিন্তু স্প্যানিশ ভাষার অপূর্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে ‘Zo’ বর্ণ দুটি যুক্ত করে অন্য আরেকটি অর্থে, মানে একই সঙ্গে ‘বোগোতা’ এবং ‘তাণ্ডব’—এই দুটি অর্থকেই একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। চমৎকার কয়েনিং। যদিও স্প্যানিশ ভাষায় এ ধরনের ব্যবহার ব্যাকরণসম্মত নয়, কিন্তু ভাষা তো আর সর্বক্ষণ ব্যাকরণকে তোয়াজ করে চলে না, তাই এই সৃষ্টি ছাড়া ব্যবহার। আর তাই ভাষা তার নিজের সীমাকে প্রসারিত করতে থাকে। যেমন ধরুন, সূর্যের তাপ থেকে বাঁচার জন্য কেউ একজন গাছের ছায়ায় গিয়ে দাড়িয়ে বললো: Estoy sombreando যার ভাবার্থ হচ্ছে আমি ছায়া নিচ্ছি বা ছায়ায় আছি। Sombra মানে ‘ছায়া’। কিন্ত এখানে গুণবাচক বিশেষণকে ভার্বের মতো কন্টিনিউয়াস ফর্মে ব্যাবহার করা হয়েছে। আমাদের বাংলা ব্যকরণ এটা কখনোই অনুমোদন করবে না। স্প্যানিশের চিরায়ত ব্যকরণও তা করে কিনা সন্দেহ। তবে ব্যাকরণসম্মত না হলেও স্প্যানিশভাষীদের কাছে তা বোধগম্য। প্রতিটা ভাষায়ই সম্ভবত এ রকম ব্যাপার থাকে। বাংলা ভাষায়ও নিশ্চয় ব্যতিক্রম আছে, যদিও স্প্যানিশ ভাষার মতো এ ধরনের প্রকাশ বাংলা ভাষায় নেই। কিন্তু সৃজনশীল মন দিয়ে লীলাচ্ছলে ভাষাকে ফুসলিয়ে নেওয়ার একটু হিম্মত দেখালে বাংলা ভাষায়ও তা সম্ভব হতে পারে। আমি একটিমাত্র শব্দে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ওর অনুবাদ করেছিলাম এভাবে ‘গাবো, বোগোতাণ্ডবের সময় তুমি কী করছিলে?’ আমি হয়তো বলতে পারতাম, ‘গাবো, বোগোতায় ওই তাণ্ডবের সময় তুমি কী করছিলে?’ অনুবাদ নিঃসন্দেহে নির্ভুল এবং যথাযথ হলো, কিন্তু ভাষার শক্তির পরীক্ষাটা হতো না। আমার ধারণা, ‘বোগোতাণ্ডব’ শব্দটি দিয়ে আমি কাঙ্ক্ষিত অর্থকে প্রকাশ করতে পারছি। শব্দটি আবিষ্কার করে আমি নিজে যতটা না আনন্দ পেয়েছি, তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছি বাংলা ভাষার আশ্চর্য গ্রহণক্ষমতার প্রতিভা টের পেয়ে। আমার বিশ্বাস, অস্তিত্বহীন অনেক কিছুকে এই ভাষায় সফলভাবে অস্তিত্বময় করা সম্ভব। এ জন্য আমাদের যা দরকার তা হলো—ভালোবাসা, ধৈর্য আর নিষ্ঠা।

আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিনের অন্যান্য প্রবন্ধ:
বোর্হেস সাহেব

অনুবাদ, আদর্শ ও অবহেলা

“একজন তৃতীয় সারির কবি”: রবীন্দ্রকবিতার বোর্হেসকৃত মূল্যায়ন

রক্তমাংসের রবীন্দ্রনাথ

কার্লোস ফুয়েন্তেসের মৃত্যু:
সমাহিত দর্পন?

মান্নান সৈয়দ: আমি যার কাননের পাখি

বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব প্রসঙ্গে আঁদ্রে মালরো

স্পানঞল জগতে রবীন্দ্র প্রসারে হোসে বাসকোনসেলোস

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ:
‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে আমার কয়েক টুকরো স্মৃতি

বনলতা সেনের ‘চোখ’-এ নজরুলের ‘আঁখি’

ন্যানো সাহিত্যতত্ত্ব: একটি ইশতেহার

যোগ্য সম্পাদনা ও প্রকাশনা সৌষ্ঠবে পূর্ণ বুদ্ধাবতার

দিয়েগো রিবেরার রবীন্দ্রনাথ: প্রতিপক্ষের প্রতিকৃতি

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: তাহলে গানের কথাই বলি

অজ্ঞতার একাকীত্ব ও আমাদের মার্কেস-পাঠ

আবেল আলার্কন: স্পানঞল ভাষায় গীতাঞ্জলির প্রথম অনুবাদক

জামান ভাই, আমাদের ব্যস্ততা, উপেক্ষা ও কদরহীনতাকে ক্ষমা করবেন

এদুয়ার্দো গালেয়ানোর ‘দর্পন’-এ বাংলাদেশ ও অন্যান্য

প্রথমার প্রতারণা ও অনুবাদকের জালিয়াতি

আবুল ফজলের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

কুদরত-উল ইসলামের ‘গন্ধলেবুর বাগানে’

মহীউদ্দীনের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

বোর্হেস নিয়ে মান্নান সৈয়দের একটি অপ্রকাশিত লেখা

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

ধর্মাশ্রয়ী কোপ

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

লাতিন আমেরিকার সাথে বাংলার বন্ধন

উপেক্ষিত কাভাফির অর্জুন ও আমরা

পাবলো নেরুদার প্রাচ্যবাসের অভিজ্ঞতা ও দুটি কবিতা

রবি ঠাকুরের নিখিল জগৎ

শিল্পী মুর্তজা বশীরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

ফুকোর হাসি, একটি গ্রন্থের জন্ম এবং বোর্হেস

নিরবতার দোভাষী সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: এন্থনি কুইনের বোকামি

‘কুইজদাতা’ শওকত ওসমানের দুটি উপহার

নগ্নপদ ইলিয়াড ও আসুয়েলার বিপ্লব

ভাষার বিকৃতি: হীনম্মন্যতায় ভোগা এক মানসিক ব্যাধি?

সাহিত্য মানুষকে পোকা হওয়া থেকে রক্ষা করতে চায়

রবীন্দ্রনাথ যে-কথা দিয়েও রাখেন নি
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Dr. Binoy Barman — আগস্ট ১৯, ২০১৭ @ ৮:০৮ অপরাহ্ন

      রাজু আলাউদ্দিনের ‘ভাষার প্রতিভা ও সৃষ্টির ডালপালা’ লেখায় বাংলার সঙ্গে স্প্যানিশের তুলনামূলক আলোচনাটি বেশ ভালো লেগেছে। লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে এটা মনে হয়েছে যে লেখকের সাহিত্যে জ্ঞান যেমন গভীর, তেমনি ভাষায়ও তার পাণ্ডিত্য প্রশংসনীয়। লেখক বহুভাষী; তার বহুদর্শী প্রতিভার বহুস্ফূরণ সত্যিই মুগ্ধকর।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোস্তফা তোফায়েল — আগস্ট ২৩, ২০১৭ @ ৯:৪৭ অপরাহ্ন

      আপনার ‘বোগোতান্ডব’ পড়লাম। আমাদের কাজী নজরুল করেছেন ‘ক্ষ্যাপাদুর্বাসা’। ভাষা যে আদিতে কাব্যময় ছিল, সে-কথার সঠিকতা মেলে আমাদের পরিচিত ভাষাগুলো প্রাথমিক রূপে কবিতা ছিল-এই সত্যে। বহু ধর্মবাণীই কাব্যময়। সাহিত্য তো সৃষ্টিশীলতা, তবে ছন্দোময়তার মধ্য দিয়ে; অর্থাৎ কাব্যময়তার মধ্য দিয়ে। নর-নারী ছন্দোময় মিলন কালে যে মুদ্রাগুলো ব্যবহার করে, সেগুলি কবিতা; সেগুলির ফসল নতুন শিশু। নবাগত শিশুটিও ছন্দোময়। “ছন্দে জগমঙ্গল চলিছে।” অনুবাদ প্রসঙ্গে প্রবন্ধটির বক্তব্য অনুবাদকদের জন্য শিক্ষণীয় । অনুবাদক গল্প, প্রবন্ধ বা কবিতা যা-ই অন্য ভাষায় স্থানান্তর করতে চান, তার মধ্যে কাব্যময়তা থাকা জরুরি। উৎস ভাষার মূল সুরেই কবিতা আছে; সেই কবিতার নাগাল পেতে হবে। এ যেন সেই পাশের বাড়ির আরশিনগর, “সেথা এক পড়শি বসত করে।” তাকে না চিনে, না জেনে, না দেখে অচিন পাখি ধরার চেষ্টা বৃথা যাবে।
      রাজু, আপনাকে অভিনন্দন। ভাষা নিয়ে আপনি বহুগামী। কিন্তু এ বহুগমন সফল হলো তখন, যখন সেখানে কবিতাসরস্বতীকে ধরতে পারলেন। সৈকত হাবিব, আপনি কী বলেন?

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com