গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

গোলাম কিবরিয়া পিনু | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন

পেটে ধরে রাখা জন্তু

নদীটার স্বচ্ছজল ও উল্লোল দেখে
আমারও ভালো লেগেছিল!
তার পারে গিয়ে বসলাম–
অন্যান্য দূষিত নদী থেকে
তাকে আলাদা ভাবতে লাগলাম!
যখনই তার জলে নেমে
সাঁতরাতে থাকলাম
তখন কী কাণ্ড!
নদীটার ভাণ্ডভরা জল
এঁদোপুকুরের জল হয়ে গেল
মজাপুকুরের জল হয়ে গেল!
আমি ভাবলাম–
নদীও কি পেটে ধরে রাখে কোনো জন্তু
তার জলহস্তী দূষণ তৈরিতে পটু! (সম্পূর্ণ…)

পুলক হাসান: শিরোনামহীন ও অন্যান্য কবিতাগুচ্ছ

পুলক হাসান | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:২৫ অপরাহ্ন


শিরোনামহীন

সময়ের বরফ যে গলে
সে তোমার উষ্ণতার ফলে
যেন তুমি সুন্দরী এক বালিকা
শূন্য বুকে নামাও স্বস্তির চাকা।
মনে হয় তখন আশাহত অতীত
পেল বুঝি মজবুত এক ভিত
সহসা হচ্ছে না আর নড়বড়ে
হঠাৎ পাওয়া কোনো ঝড়ে!
বিপর্যয় যদিওবা ঢুকে পড়ে
তার নিবিড় বেষ্টন ভেদ করে
বেরুবার পথ আছে খোলা
তুমি সেই নির্ভরতার ডালা।
কিন্তু তারপরও থাকে গুপ্ত ভয়
যখন এসে ভর করে সন্দেহ সংশয়
নিমিষে খান খান তাসের ঘর
চির আপন হয়ে যায় দ্রুতই পর।
এই যে প্রাপ্তির পরও হৃদয় ফাঁকা
সে আদপে সুখের অসুখ
যেন তুমি জীবনমন্ত্র সুবর্ণরেখা
তুমি ছাড়া প্রান্তর বিমুখ
হে আমার অমল ধবল টাকা। (সম্পূর্ণ…)

কখনো নেভে না

মাজহারুল ইসলাম | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৬:১৭ অপরাহ্ন

মাছের মুড়োটা কাটতে গিয়ে তর্জনীটা কেটে ফেললেন জাহানারা বেগম। অনেকটা কেটেছে, রক্তারক্তি অবস্থা। মাছের রক্ত আর জাহানারা বেগমের রক্ত মিলেমিশে একাকার। আঙুল যতটা কেটেছে তার চেয়ে বেশি তাঁর চিৎকার চেঁচামেচিতে বাসায় হুলস্থুল পড়ে গেছে। কাজের মেয়ে রহিমা নিজের ওড়না পেঁচিয়ে শক্ত করে ধরে আছে যেন রক্ত পড়া বন্ধ হয়। আকবরের মা এদিক-ওদিক দৌড়াচ্ছে, ডেটল-তুলা কিছুই খুঁজে পাচ্ছে না। বিড়বিড় করে কী যেন বলছে। এদিকে জাহানারা বেগম চিৎকার করছেন, আগে তোর খালুজানকে খবর দে। ফোন কর। হাসপাতালে না গেলে রক্ত বন্ধ হবে না। রহিমা উঠে গিয়ে ফোনের ডায়াল ঘোরাচ্ছে। এপাশে রিং হচ্ছে, কিন্তু কেউ ধরছে না। এরমধ্যে আকবরের মা এসে বলল, খালাম্মা, ডেটল খুঁইজা পাইলাম না। সেভলন পাইছি।
জাহানারা বেগম কপাল কুঁচকে বললেন, জিনিস তো একই। সব মূর্খের দল কোথাকার!
আকবরের মা কাটা আঙুলে সেভলন লাগিয়ে দিল।
জাহানারা খুব অল্পতেই হইচই করে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেন। নাইনটি নাইন জ্বর হলে মাথায় পানি ঢালা, জলপট্টি দেওয়া, বাড়িতে ডাক্তার ডেকে এনে হুলস্থুল কাণ্ড বাধিয়ে ফেলা তার জন্য নতুন কোনো বিষয় না। একবার এক শ’ দুই জ্বর হলো তাঁর। প্যারাসিটামল টেবলেট দুইটা একসঙ্গে খাওয়ানো হলো। রহিমা মাথায় পানি দিচ্ছে। আকবরের মা রশুন দিয়ে সরিষার তেল গরম করে পায়ের তলায় মালিশ করছে। খলিকুজ্জামান খাটের একপাশে চুপচাপ বসে আছেন। আধা ঘণ্টা মাথায় পানি দেওয়ার পর থার্মোমিটার লাগিয়ে দেখা গেল জ্বর কমা তো দূরের কথা বেড়ে এক শ’ তিন হয়ে গেছে। জাহানারার ধারণা তার জ্বর আর কমবে না এবং তিনি মারা যাচ্ছেন। খলিকুজ্জামানের হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমাকে তুমি মাফ করে দাও। আমি মনে হয় আর বাঁচব না। তুমি মসজিদের ইমাম সাহেবকে ডেকে আনো। আমি তওবা পড়ব। অনেক পাপ করেছি। মৃত্যুর আগে তওবা পড়তে চাই। এরপর বাচ্চাদের মতো হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন।
জাহানারা বেগমের কান্না দেখে আকবরের মা ও রহিমাও কান্না শুরু করল। আকবরের মা প্রায় দশ বছর ধরে এ সংসারে আছে। রহিমা সাত বছর। খলিকুজ্জামান পড়ে গেলেন মহা বিপদে। কোনোভাবেই জাহানারাকে বোঝাতে পারছেন না এক শ’ তিন জ্বর এমন কিছু না। ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। জ্বর কমতে একটু সময় লাগবে। রহিমা কাঁদতে কাঁদতে বলছে, খালুজান, খালাম্মারে হাসপাতালে নিয়া যান। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। খলিকুজ্জামানের সঙ্গে রহিমাও গিয়েছিল হাসপাতালে। খলিকুজ্জামান ডাক্তারকে বলেছিলেন, হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। ভীতু মানুষ। বাসায় ম্যানেজ করা কঠিন। ডাক্তার থার্মোমিটার লাগিয়ে দেখেছিলেন জ্বর একশ’তে নেমে এসেছে। সামান্য জ্বরে এত রাতে বাড়ি থেকে ডেকে আনায় ডাক্তার খানিকটা বিরক্ত। তার উপর হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলায় ডাক্তার খুব অবাক হয়েছিলেন। বলছিলেন, খলিকুজ্জামান সাহেব, ঘাবড়াবেন না, ভাবিকে বাসায় নিয়ে যান। একশ ডিগ্রি জ্বরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছু নাই। রহিমা এসব দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। খালুজানকে ফোন করতে করতে পুরোনো কথা মনে পড়ছিল তার।
রহিমা বলল, খালুজান তো ফোন ধরতাছে না। মনে হয় কোনো মিটিং ফিটিংয়ে আছে। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়-এর ইঁদুর

স্বদেশ রায় | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:২৭ অপরাহ্ন


সেদিন একটা গ্রামের পথে গিয়েছিলাম আমরা ক’জন হাঁটতে।
না, আমরা কোন শখের গ্রাম দেখা লোকজন নই বরং ঘরকুনো আর মহল্লাকুনো।
বছরের পর বছর আমরা আমাদের শহরের এই কয়েকটি মাত্র গলিতে কাটিয়ে দেই-
যা নিয়ে আমাদের কোন কিছুই পাপ তাপ নেই, হেরফের হয়না জীবনের কোন কিছু।
এমনকি বিদেশে গেলেও কোন কাজ না থাকলে হোটেলের রুমেই আমরা কাটিয়ে দেই সময়।
তাই সেদিন হঠ্যাৎ গ্রামের রাস্তায় আমাদেরকে আবিস্কার করে আমরা বিস্মিত হই-
যা হবার নয়, হবার কথা ছিলো না কেমন করে ঘটলো তা, সেটা ভাবি কিছুক্ষণ।
গ্রামের চারপাশের সবুজ দেখে আমরা খুব উদ্বেলিত হইনি, কয়েকটি হাঁসকে
শাদা জলে ভাসতে দেখে আমাদের শরীরে কোন পুলক জাগেনি। বরং রোদে
আমরা কিছুটা ঘেমে গিয়েছিলাম, যেমন আগে ঘামতাম আমরা বিদ্যুত চলে গেলে
অন্ধকার রাতে। সে সব রাতে কখনও কখনও আমরা রাস্তায় বেরিয়েছি, দেখেছি
কয়েকটি ইঁদুর পাশ কেটে চলে গেছে, ওরা আমাদের মহল্লার ড্রেনের ইঁদুর কিনা তাও ভাবিনি
কোনদিন। আমাদের রাস্তায় বৃষ্টি নামলে জলে ভরে ওঠে, রিকসাগুলো সাতার কাটে,
তখন ইঁদুরগুলো কোথায় থাকে তাও ঠিক জানা নেই আমাদের। (সম্পূর্ণ…)

ব্রডওয়েতে যেভাবে অপেরার ভূত দেখতে পেলাম

রাজু আলাউদ্দিন | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৩:৪৫ অপরাহ্ন

সত্যি বলতে কি, ন্যু ইয়র্কে গিয়ে নাটক দেখার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার ছিল না। বহু বছর যাবৎ যে-কারণে সিনেমা দেখা হয় না, অনেকটা একই কারণে নাটক দেখা হয় না। আমার আগ্রহের কেন্দ্রে গুটেনবার্গ একটু বেশি জায়গা করে নিয়েছে। আর এখন এই বয়সে শিল্পের অন্য যেকোনা মাধ্যমের চেয়ে গ্রন্থধৃত শিল্পকর্মগুলোই আমাকে বেশি আকৃষ্ট করে। যদিও এরই মধ্যে নাটক না-দেখলেও সিনেমা আমি দেখেছি, এর কারণ নাটকের তুলনায়–অন্তত দেখার তৃপ্তি বেশি বলেই–সিনেমা দেখেছি। বাংলাদেশে আমার সর্বশেষ নাটক, মানে মঞ্চনাটক দেখার অভিজ্ঞতা জামিল আহমেদের বিষাদসিন্দু। ঠিক ওই কাছাকাছি সময়েই আরেকটি নাটক দেখেছিলাম–নামটা মনে নেই, তবে সেটি ছিল ইংরেজ কোনো অভিনেতার অভিনীত শেক্সপিয়রের কোন একটি নাটক, সম্ভবত ম্যাকবেথ –একক অভিনয়ে বহুচরিত্র। ভদ্রলোক–তার নামটা ভুলে গিছে–অসামান্য অভিনয় করেছিলেন। অামি অভিভূত হয়েছিলাম বিষাদসিন্দু ও ওই শেক্সপিয়রে। তার অল্প পরেই চলে গিয়েছিলাম দূর পৃথিবীর গন্ধে অন্য এক প্রান্তের টানে। সেখানেও নাটক দেখার দেদার সুযোগ ছিল কিন্তু ইচ্ছে করেই দেখিনি, প্রথমত নাটকের নাটুকেপনাকে অতিক্রম করে যদি তা মঞ্চায়িত হতে না পারে তাহলে সেটা আমার কাছে আবেদন তৈরি করে না। অভিনয়–শিল্পের কৃত্রিমতা যখন প্রাকৃতিকতা, অর্থাৎ সহজ স্বাচ্ছন্দ্য অর্জন করতে পারে তখনই আমার কাছে তা উপভোগ্য হয়ে ওঠে। সেটা এদেশে কিংবা ওদেশেও কদাচিৎ ঘটে বলে আমি পারতপক্ষে মঞ্চ এড়িয়ে গেছি। সেই অাশংকা থেকেই আমি ব্রডওয়েতেও যেতে চাইনি। কিন্তু আমার বান্ধবী প্রাবন্ধিক, গবেষক ও অনুবাদক Maria Barrera-Agarwal–যিনি নজরুল ইসলামের কবিতা স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন– এতই বদ্ধপরিকর ছিল যে আমাকে সে ব্রডওয়েতে নাটক দেখিয়েই ছাড়বে। (সম্পূর্ণ…)

হোর্হে লুইস বোর্হেসের কবিতা

মুম রহমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:৫৭ অপরাহ্ন


কসাইদের মাঝে

একটা পতিতালয়ের চেয়ে নগণ্য
মাংসের বাজার নিজেই জাঁক দেখায় রাস্তার উপর
একটা অপমানের মতো।
দরজার উপর
এক কচি বলদের মাথা অন্ধ-চোখে তাকায়
দেখে পবিত্র রবিবারের ডাইনীর উৎসবের
উড়ন্ত মাংস আর মার্বেলের খ-
এক দূরাগত মহিমান্বিত স্বর্গের মূর্তির মতো।

চাঁদ

সেই স্বর্ণের মধ্যে এমন এক নিঃসঙ্গতা রয়েছে।

এইসব রাত্রির চাঁদ সেই চাঁদ নয়
যা আদম প্রথম দেখেছিলো। বহু শতাব্দীর
মানবের নিশিযাপন ভরে আছে তার সাথে
এক পুরনো বেদনার মতো। দেখো, সে তোমার আয়না। (সম্পূর্ণ…)

সাইয়েদ জামিলের কবিতা

সাইয়েদ জামিল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২:১৩ অপরাহ্ন


চিত্রশিল্পী রনি আহম্মেদের রেখাচিত্র

বেদখল রবীন্দ্রনাথ

কাদম্বরী, তোমার রবীন্দ্রনাথ বেদখল হ’য়ে গেছে
তুমি যাঁকে স্নেহ দিয়ে, প্রেম দিয়ে,
বড়ো করেছিলে, সেই বালক রবীন্দ্রনাথ
তুমি যাঁকে সঁপে দিয়ে তোমার যৌবন,
পুরুষ করেছিলে, সেই যুবক রবীন্দ্রনাথ
সেই হার্ডকোর রকার আজ বেদখল

কাদম্বরী, দুঃখ হয়, তুমি যাঁকে
তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলে
নিজেকে নিঃশেষ ক’রে, সেই তোমার
রবীন্দ্রনাথ আজ কতিপয় ব্যাকডেটেড
অধ্যাপকের মগজ-বন্দী,
য্যানো তাঁরা ইজারা নিয়েছে

এবং আরও অনেক ভণ্ড মিলে গড়েছে
রবীন্দ্র গবেষণা পরিষদ,
গড়েছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পরিষদ
এইসব নপুংসকের দল সারাদিন সারারাত
কেবলই ‘রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ’ জপ করতে করতে
সারাদেশ রবীন্দ্রনাথময় ক’রে তুলছে

কাদম্বরী, বিশ্বাস করো,
রবীন্দ্রনাথ এখন এক শব্দ দূষণ (সম্পূর্ণ…)

রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা

রেজাউদ্দিন স্টালিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১:৩৭ অপরাহ্ন

বঙ্গবাহাদুর

তখন তার মাথার মধ্যে চক্কর দিচ্ছিলো
শত শত গ্যালিলিও গ্যালিলে
পৃথিবী হুমড়ি খেয়ে পড়লো তার পায়ের কাছে
জল স্পর্শ করে শপথ নিলো
মৃত্যু হলেও সে থেকে যাবে এই বাঙলায়
ঐ ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে তার মনে পড়লো
হিয়েন সাঙের প্রিয়
ইবনে বতুতার প্রশংসা ধন্য এই দেশ
বেনোজল বেয়ে এসে বঙ্গদেশ তার ভালো লেগেছিলো
অপূর্ব অথৈ সবুজ–আকাশের অর্ধেক পা নদীর ভেতর
কৌতুহলী দিগন্ত চারিদিকে
প্রচুর প্রণালী পট ও পাটের বিস্তার
তার প্রিয় আহার্য কদলীবৃক্ষ নাগালের অত্যন্ত নিকটে (সম্পূর্ণ…)

তুমি ডক্টর, আমি ডাক্তার

শাহাব আহমেদ | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:৩৪ অপরাহ্ন

১.
কলেজে অধ্যাপনার কাজটাই হল সমুদ্র মহাসমুদ্র তোলপাড় করে অমৃত খোঁজার মত। তুমি আসলেই জ্ঞানের গভীরের ডুবুরী। এবং অবশ্যই তুমি সুন্দর।
না হলে লিখতামই না।

আমার কাজের ধরনটা অন্যরকম।
আমার রোগীদের সাথে সংলাপের মতই অতৃপ্ত ও অসমাপ্ত।
“এই রোগের কারণ কি?”
“কারণ এখনও অজানা।”
“পরিণতি কি?”
“বলা মুশকিল, ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে, তবে মারা যাবার সম্ভাবনা কম।”
“চিকিৎসা আছে?”
“নাই । একটা ঔষধ আছে কিন্তু অফিসিয়ালি এপ্রুভড নয়।”
“আমি আমার বাচ্চাকে অষুধ দিতে চাই না।”
“তাহলে আমার কাছে কেন এসেছেন? আমি এলোপ্যাথিক ডাক্তার, অষুধের প্রেশক্রিপশন লিখাই আমার মূল কাজ।”
“মাল্টি ভাইটামিন খেলে চলবে না?
“চেষ্টা করে দেখতে পারেন, চলতেও পারে। “প্লাসিবো এফেক্ট ” বলে একটা কথা আছে। যা কাজ করার কথা নয়, তা যদি কাজ করে আমরা তাকেই প্লাসিবো এফেক্ট বলি।” (সম্পূর্ণ…)

প্রদীপ করের পাঁচটি কবিতা

প্রদীপ কর | ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:৪৯ অপরাহ্ন


অপরিচয়

হঠাৎ বৃষ্টির শেষে, শহরের বিশ্রী ঘেরাটোপে
গাড়ির জানলায় টোকা দিলো এক ভ্রমরকালো ছেলে
হাতে গোলাপের তোড়া।

অর্ধপ্রস্ফুটিত একগুচ্ছ গোলাপের পাশে ছেলেটির মুখ
উগ্র নোংরা আর বিশুদ্ধ কুৎসিত লাগে।

শুধু বালকের অপলক চোখ, তার সকরুণ চোখের আলোয়
গোলাপের পাপড়িগুলি ম্রিয়মান

ঝরে পড়ে আমার গভীরে।…

হাসি

হুইলচেয়ারে বসে হাসলে
ঝিলমিল করে উঠলো কাঞ্চনজঙ্ঘা।

এটা দক্ষিণভারতের কোনো হাসপাতাল নয়,
তুমিও নিছক কোনো শিশু নও
অসুখ নামের কোনো চিরায়ত পাতা
উড়ে এসে পড়েনি এখানে। (সম্পূর্ণ…)

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘আ‌য়েশা’ ও চল‌চ্চি‌ত্র বিষ‌য়ের সরল রাজনী‌তি

মৃদুল মাহবুব | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন


মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টে‌লি‌ফিকশন ‘আ‌য়েশা’ যারা দে‌খে থাক‌বেন তারা জা‌নেন ও বো‌ঝেন, ৭১ পরবর্তী বাংলা‌দে‌শের ই‌তিহা‌সে অগণন রাজ‌নৈ‌তিক গণকবর। ‌কিন্তু তা নি‌য়ে বাংলা‌দে‌শের সি‌নেমা কই? এ‌তো বড় এক ভূখ‌ণ্ডের এ‌তো এ‌তো রাজ‌নৈ‌তিক গণহত্যার ন্যা‌রে‌টিভ, সেই তুলনায় এসব আমা‌দের শিল্প, সা‌হি‌ত্যে খুবই কম এ‌সে‌ছ। মা‌র্কে‌জের ‘ওয়ান হা‌ন্ডেড ইয়ার অব স‌লি‌চ্যু‌ড‘এ যেমন সবাই ভু‌লে গি‌য়ো‌ছি‌লো কলা কোম্পা‌নির দ্বারা সংগ‌ঠিত গণহত্যার কথা, তেম‌নি আমা‌দের সি‌নেমা গণহত্যাহীন, পুতপ‌বিত্র, প্রেমময়। বাংলা ছ‌বি দু‌ষ্টের দমন, শি‌ষ্ঠের লালন, হৈহল্লায় ভরপুর। আমা‌দের কলাকোম্পা‌নিও এসমস্ত অস্বীকার ক‌রেই শিল্পের মো‌হিনী ফাঁদ পা‌তে। রাজ‌নৈ‌তিক হত্যাকাণ্ড নি‌য়ে সা‌হি‌ত্যে কিছু আভাস মিল‌লেও সি‌নেমায় তা খুবই বিরল একটা ঘটনা। এমন সম‌য়ে দা‌ঁড়ি‌য়ে ‘আ‌য়েশা’ সি‌নেমার কন‌টেক্সট খুবই রাজ‌নৈ‌তিক।

আওয়ামী লীগ সরকা‌রের শাসনকা‌লে, ১৯৭৭ সা‌লের জিয়াউর রহমা‌নের আম‌লের বিমানবা‌হিনীর বি‌দ্রো‌হের পটভূ‌মি‌তে সি‌নেমা বানা‌নোকে অ‌নেকটা সহজ পথ হিসা‌বে দেখা যে‌তে পা‌রে। কিন্তু বিষয় অত সরল না কিন্তু। কা‌লে কা‌লে পোড়ামা‌টির যে রাজ‌নৈ‌তিক নী‌তি তার সমা‌লোচনার সূচনা এখা‌নে, ‘আ‌য়েশা’য়, আ‌মি ধ‌রে নি‌তে চাই। আশা রাখ‌তে চাই। যে‌কোন সম‌য়ের প‌লি‌টিক্যাল অনাচার‌কে বহু অং‌কের হিসাব মি‌লি‌য়ে একটা সুসম‌য়ে তা প্রকাশ করা দো‌ষের কিছু না। বরং তা অ‌নেক বু‌দ্ধির প‌রিচায়ক। এগু‌লো নি‌য়ে সি‌নেমা হওয়ার ভা‌লো সময় এখন। রাজ‌নৈ‌তিক বহু বিষয় নি‌য়েই এখ‌নো প্রচুর ছবি বানা‌নো বাদ আ‌ছে আমা‌দের। ধ‌রে নি‌চ্ছি বাংলা‌দে‌শে গণতা‌ন্ত্রিক ভা‌বে নানা রকম সরকার আস‌বে আগামী দিনগু‌লো‌তে। সে সময় ভ‌বিষ্য‌তে অন্যান্য বিষ‌য়ে ফিল্ম হওয়ার সু‌যোগ ও মান‌সিকতা তৈ‌রি হ‌বে। সু‌যোগ শিল্পী‌কে নি‌তে হয়। ত‌বে আমার স‌ন্দেহ থে‌কেই গেল বিএন‌পির আম‌লে এই ‘আ‌য়েশা’ ফারুকী বানা‌তেন কি না? চ্যা‌নেল আই তা প্রচার কর‌তো কি না? ত‌বে, হ্যাঁ বা না এর মত কোন সরল উত্তর আমরা আশা কর‌তে পা‌রি না। (সম্পূর্ণ…)

তাপস গায়েনের ‘সময়ব্যূহে অভিমন্যু’: একক দেবতা বহুস্বর

অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় | ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:৫৪ অপরাহ্ন


তাপস গায়েনের কবিতা আমি আগে পড়িনি। এটা আমার অনভিজ্ঞতা।
কোন বিচ্ছিন্ন অনভিজ্ঞতা নয়। এ সেই অনভিজ্ঞতা, যা জারী থেকেছে সত্তর বছরেরও পুরনো কাঁটাতার বরাবর। আমাদের বিনিময় মুদ্রায় পালটে গেছে। পদ্মার এপার আর ওপার। ভাগ হয়ে যাওয়া জল-জমি আর মুখের-কলমের ভাষা। ভাগ হয়ে বয়ে যাচ্ছে বাঙালির শতক। দুই পারের বাঙালির কলমের কাছাকাছি আসার সুযোগ ঘটে যায় অভিবাসীর জীবনে, পদ্মা পার না করে, এই হাডসনের ধারে।

তাপস গায়েনের কবিতা-গ্রন্থ সময়ব্যূহে অভিমন্যু পড়তে গিয়ে মনে হল- তিনি কোন ধ্যানাসন থেকে মন্দ্রস্বরে কিছু দূরাগত শ্রুতি, কিছু দর্শন, কিছু দেশ-বিভূঁই আর লোকায়ত জনপদের জন্যে বিলাপ করছেন। নতুন শব্দের, দিনের জন্ম হবে এই ভেবে। আমি ভিস্যুয়াল-শ্রাব্য মাধ্যমের মানুষ। শব্দ আমাদের কাছে ইমেজের অনুসারী নয়, পরিপূরক। তাপস গায়েনের কবিতা দৃশ্য ও শব্দকল্পে ঋদ্ধ।

তাপস ধ্রুপদী শিল্পী। তার ‘বাচিক’ ও শব্দচয়ন অনেক শতাব্দীর প্রাচীন ও একইসাথে উত্তর-আধুনিক। বাচিক-এর ব্যবহারে আমি বলতে চাইছি কবির নিজস্ব উচ্চারণের অনুস্বর। কবি পাঠকের কাছে পৌঁছোবার আগে, কলমের কাছে, নিজের কাছে যেভাবে উচ্চারণ করেন- সেই স্বর। পাঠের বহুস্বরিকতায় তা কখনও পাল্টে যায়। তাপসের কবিতার স্বর মন্দ্র। এইটিই উল্লেখ করতে চাইছিলাম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com