বাৎস্যায়নের কামসূত্র: ‘অশ্লীলতার’ ঔপনিবেশিক কূটচাল এবং আমাদের ভ্রান্তি

হোসেন আলমগীর | ৩০ জুলাই ২০১৮ ৬:৩৭ অপরাহ্ন

প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত সাহিত্যে মালঙ্গ বাৎস্যায়নের ‘কামসূত্র’ একটি কালজয়ী গ্রন্থ। নারী ও পুরুষের দাম্পত্য জীবন, কামকলা, অভিজাত শ্রেণীর সংস্কৃতি, এবং আমোদ-ফুর্তি বিষয়ে এ গ্রন্থটি বিগত দু’হাজার বছর ধরে পাঠকদের আকৃষ্ট করে রেখেছে। ১৮৭৬ সালে রিচার্ড ফ্রান্সিস বার্টন, ভগবান-লাল ইন্দ্রজি, ফস্টার ফিটজজেরাল্ড আর্বাথনট, এবং শিবরাম পরশুরাম ভিড়ে’র সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘কামসূত্র’র ইংরেজি তর্জমা প্রকাশিত হয়। পাশ্চাত্যে বইটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে, তবে সেটা ‘কামসূত্র’র সামগ্রিক বিষয়বস্তুর কারণে নয়; মূলত বাণিজ্যের স্বার্থে একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপনের কারণে। পন্ডিতজনের ধারণা, প্রাচীন ভারতে সংস্কৃত ভাষায় যখন এ বইটি লেখা হয়েছিল তখন সমাজের অভিজাত শ্রেণীর ভেতরে ধর্ম এবং অর্থশাস্ত্রের পাশাপাশি কামশাস্ত্রের চর্চা ছিল। সংস্কৃত ‘কাম’ এর অর্থ বাসনা, প্রেম, আনন্দ, এবং যৌনক্রিয়া। অর্থাৎ পঞ্চ-ইন্দ্রিয়লব্ধ যে কোন আনন্দই কামের আওতাভুক্ত, আর ‘সূত্র’র অর্থ কোন নীতি বা তত্ত্বের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। এ পদ্ধতিতে লেখার সুবিধা হলো শিক্ষার্থীরা সূত্রগুলো সহজেই স্মরণ করতে পারে। প্রাচীন ভারতে প্রায় সব উল্লেখযোগ্য সংস্কৃত গ্রন্থ, যেমন: যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, এবং দর্শনশাস্ত্র এ সূত্ররীতিতে লেখা হয়েছে। বাৎস্যায়নের এ গ্রন্থের উদ্দেশ্য ‘কাম’ অর্থাৎ আমোদ- প্রমোদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারেপাঠকদের যথাযথ ধারনা প্রদান করা। উল্লেখ্য, ‘কামসূত্র’ শুধুমাত্র যৌনতার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; প্রাচীন ভারতের সমাজ জীবনের হরেক রকম বিষয়ে বিস্তারিত এবং বাস্তব-ধর্মী তথ্যাবলীর সমাবেশ ঘটেছে এখানে, যেমন: পোশাক, প্রসাধনী, বিনোদন, সমাজ, ক্রীড়া, বাড়ির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এবং বহিরাঙ্গনের নান্দনিকতা। উপরন্তু, বাৎস্যায়ন কমবেশি মনোবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব, যৌন বাসনা, সমকামিতা, ভেষজ চিকিৎসা, এবং নারী যৌনকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নসহ আরও অনেক বিষয়ে এখানে পরামর্শ দিয়েছেন। অতএব, এ বিষয়গুলো বিবেচনায় আনলে ‘কামসূত্র’ সম্পর্কে গতানুগতিক ধারণা (marriage manual, sex guide, pillow book) বদলে যাবে। মূলত, ‘কামসূত্র’ প্রাচীন ভারতের মৌর্য এবং গুপ্ত সভ্যতার ৮০০ বছরের শিল্প সংস্কৃতির একটি লিখিত প্রমাণ। প্রকাশের পর থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত ‘কামসূত্র’ ভারতের সাহিত্য এবং শিল্পকলাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রাচীন কাল থেকে ১৮ শতক পর্যন্ত ভারতে কামশাস্ত্রের চর্চা অব্যাহত ছিল, এবং এ বিষয়ে রচিত একাধিক গ্রন্থ তার সাক্ষ্য বহন করছে। কিন্তু ভারতে ইংরেজ শাসনামলে এ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।
ঔপনিবেশিক আমলে ইংরেজ প্রশাসন এ সাহিত্যচর্চায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং সু-পরিকল্পিতভাবে ভারতবাসীর মতামত এর বিপক্ষে নিয়ে যায়। যৌনতার প্রতি ভারতীয়দের উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলার জন্য খ্রিস্টান মিশনারি, ইংরেজ প্রশাসন, এবং তাদের সৃষ্ট ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী ভারতের শৃঙ্গাররস-কেন্দ্রিক সাহিত্য, শিল্পকলা, অভিনয়, এবং সঙ্গীতের প্রতি অশ্লীলতার অভিযোগ এনে এর নিয়ন্ত্রণ শুরু করে, এবং একটি আইন (Obscene Publication Act) প্রণয়নের মাধ্যমে এধারার সাহিত্যকর্মের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে দেয়। ফলশ্রুতিতে, ভারত উপমহাদেশে দু’হাজার বছর ব্যাপী প্রবহমান কামশাস্ত্রের চর্চা উনিশ শতকে এসে ব্যাহত হয়, এবং তখন থেকেই এ সাহিত্যধারার প্রতি ভারতীয়দের, বিশেষত: শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। এ প্রবন্ধে ভারতের শিল্প-সাহিত্যের আঙিনায় কামসূত্রের প্রভাব, ইংরেজদের এ সাহিত্যধারার প্রতি বিরূপ মনোভাবের কারণ, এবং এর নিয়ন্ত্রণের পরিণাম বিশ্লেষণ করা হবে।
অধ্যাপক হারাণচন্দ্র চাকলাদারের মতে বাৎস্যায়ন দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের অধিবাসী ছিলেন। কামসূত্রে ভারতের প্রায় সব অঞ্চল সম্পর্কে অল্পবিস্তর আলোচনা থাকলেও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত সম্পর্কে লেখকদের ব্যাপক এবং গভীর ধারণা লক্ষ্য করা যায়। যশোধরা’র মতানুযায়ী ‘বাৎস্যায়ন’ হচ্ছে তাঁর বংশ এবং ‘মালঙ্গ’ তাঁর নিজের নাম। বাৎস্যায়নের জন্মকাল নিয়েও বিতর্ক আছে। শ্যামশাস্ত্রীর (কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের সম্পাদক) ধারণা তিনি ১৩৭-২০৯ খ্রিস্টাব্দে মধ্যে কোন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভান্ডারকরের মতে তাঁর জন্ম ১০০ খ্রিস্টাব্দের ভেতরে। এ বি কিথ এর দাবী, বাৎস্যায়নের জন্ম চতুর্থ শতাব্দীতে। অধ্যাপক হারানচন্দ্র চাকলাদার এ সমস্যাটি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে ‘কামসূত্র’ ৪০০ খ্রিস্টাব্দের আগে লেখা হয়েছে এবং সেটা কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ এবং পতঞ্জলির ‘মহাভাষ্য’র পরে, কেননা বাৎস্যায়ন এ দুটি গ্রন্থ দ্বারা কমবেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন। অতএব, উপরিউক্ত মতামতের ভিত্তিতে অন্তত এটা ধরে নেয়া যায় যে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৩০০ এর মাঝে কোন এক সময়ে বাৎস্যায়ন ‘কামসূত্র’ রচনা করেছিলেন। কামসূত্রে অভিজাত শ্রেণির ভোগ-বিলাস এবং আভিজাত্যের ফিরিস্তি থেকে অনুমান করা যায় যে এ ধরণের গ্রন্থ রচনা তখনই সম্ভব যখন রাষ্ট্র ছিল সমৃদ্ধশালী, নগরবাসীরা ছিল ধনবান এবং বিলাস-ব্যাসনে মশগুল। সন্দেহ নেই যে, সময়টা ছিল সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ওই জনপদ ছিল কোন রকমের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, এবং বিদেশী আগ্রাসন থেকে মুক্ত। গুপ্ত যুগ (৩০০ -৩০০ খ্রি:) ছিল এমনই একটা সময় যখন শিল্পকলা এবং সাহিত্য চর্চা সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল। (সম্পূর্ণ…)

মঈনুল আহসান সাবেরের গল্প: দি নিউ হযবরল

মঈনুল আহসান সাবের | ২৭ জুলাই ২০১৮ ৭:২৯ অপরাহ্ন

বেশ ক’বছর আগে আমি ‘ওয়াল্ডারল্যান্ড’ নামে একটা গল্প লিখি। তবে ‘ওয়াল্ডারল্যান্ড’ লেখার আগে আমি যে গল্পটা লিখেছিলাম, তার নাম ‘সুকুমারের লজ্জা’ এ গল্পটার কথাও বলতে হবে। সুকুমারের লজ্জার যে মূল চরিত্র, মূল চরিত্র বলে আমার অনেক গল্পে যেহেতু কিছু থাকে না, কাউকে মূল চরিত্র আখ্যা দেওয়া উচিত না, কারণ আশপাশে অন্যান যে চরিত্রগুলো আছে, সেগুলো কোনো না কোনো ভাবে মূলের দায়িত্ব পালন করে। এই যেমন আবদুল হক, তার স্ত্রী রেবা, তাদের সন্তান রেবা, আবদুল হকের বন্ধু গোলাম হায়দার, সবাই হযবরল গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শান্তাকে এখানে অসুস্থ দেখানো হয়েছে, মানসিকভাবে অসুস্থ, সে ক্লাস টেনে পড়ে, ক্লাস টেনে পড়লে তার মানসিক বিকাশ সে অনুযায়ী নয়ই, বরং দেখা যায় ছোট বাচ্চাদের মতো তার মাথার পাশে বসে তাকে গল্পের বই পড়ে শোনালে তার ঘুম আসে না। এই কাজটি করে আবদুল হক।

‘আবদুল হকের যে ঘনিষ্ট বন্ধু, কিংবা একমাত্র বন্ধুও বলা যায়, যার কথা আমরা বলেছি, গোলাম হায়দার, তার এক অদ্ভুত বাতিক আছে। সে প্রতিদিন পত্রিকায় পাতা থেকে নানা নিউজ কেটে তার মোটা খাতায় পেস্ট করে। মোটা খাতা তার অনেকগুলো। একেক পাতায় একক ধরনের নিউজ। কোনোটায় আছে ধর্ষন ও গণধর্ষনের কথা, কোনোটায় টেন্ডার বাজির কথা, কোনোটায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষের কথা (আমার ঠিক মনে পড়ছে ‘নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষ’দের নিয়ে কোনো কিছু গোলাম হায়দার বানিয়েছিল কি না। সম্ভবত তখন ছিল না, তবে এখন থাকতেই পারে। একদিন গিয়ে দেখে আসতে হবে)। যাক, যা বলছিলাম, কোনোটায় হয়তো ব্যাংক লুটপাটের কথা, কোনোটায় হয়তো নানা নৈরাজ্য আর অবক্ষয়ের কথা, এমন তরো না। এই কাজটি গোলাম হায়দার গভীর মনোযোগের সঙ্গে করে যাচ্ছে। খাতাগুলো সে মাঝে মাঝে আবদুল হককে পড়তে দেয়। এ নিয়ে আবদুল হকের আপত্তি আছে, না উৎসাহ, অনেক দিন আগে লেখা গল্প– বলেছি, ঠিক মনে নেই, আমরা আপাতত কেবল এরকম অনুমান করতে পারি, আবদুল হক ঠিক বিরক্ত হয় না, ঠিক খুশিও না। সে হয়তো বলল–আহা, গোলাম হায়দার, আমার!
কে নয়! কতদূর এগোলাম, দেখবে না!
দেখছি তো!
কোথায়! খাতাই খোলোনি।
চারপাশে দেখছি না?
অবশ্য দেখছ।
আমিও কি, তুমি যা দেখছ, তার মধ্যে নেই? (সম্পূর্ণ…)

সাসকিয়া নোর্ট: আমার ধর্ষক যদি এখনও বেঁচে থাকতো তাহলে এই বইটি আমি লিখতাম না

তানবীরা তালুকদার | ২৬ জুলাই ২০১৮ ৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

সাসকিয়া নোর্ট এর প্রথম উপন্যাস স্ট্রমবলি। এক জোড়া সফল লেখক দম্পত্তি তাদের বিয়েকে কিভাবে ধ্বংসের রাস্তায় নিয়ে যায় সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা রযেছে এতে। লেখক দম্পত্তি এইভা হুকে আর মারসেল ভান রোজমারেন তার সাথে কথা বলেছেন তার সাফল্য, নেদারল্যান্ডসের মেরুকরণ, তার উপন্যাসের বিষয়বস্তু আর যৌন সহিংসতা নিয়ে।
ভাবা হচ্ছিলো কোন এক লেখক দম্পত্তি যেন সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাসের লেখকের সাক্ষাতকার নেয় কারণ উপন্যাসটিও আবর্তিত হয়েছে একটি লেখক দম্পত্তিকে কেন্দ্র করে। উপন্যাসের কারেল ভান বোহেমেন আর সারা যোমার-এর অকপট সংলাপে, তাদের সংসার, তাদের ঝগড়া, বিদ্বেষ, হিংস্রতা, বিরক্তি আসলে ছদ্মরূপে সাসকিয়া’রই নিজের জীবন কথা।
তখন ফোল্কস ক্রান্ত আমাদের কথা ভাবলো।
সাসকিয়া’র সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন ছিলো?
বেশ কয়েক বছর আগে একদম শেষ মুহূর্তে আমরা ভান দ্যা ডাইকের “ওভার হার” কনসার্টের টিকেট কিনি। সেই টিকেট আনতে আমাদেরকে যেতে হয়েছিলে লাইস্টারপ্লাইনের ক্যাফে ওয়েবারে যেখানে সাসকিয়া তার পরিবারের সাথে বিয়ার পান করত। ওর ভাইয়ের ছেলে ইয়ান রুফও সেখানে ছিল। কথাবার্তা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমাদের মধ্যে ঝগড়া হল কারণ একজন অপরজনকে দোষ দিচ্ছিলো যে আমরা একে অপরের প্রতি যথেষ্ঠ ভদ্র ছিলাম না।

যখন আমরা প্রথম বারের মত এক সাথে ছুটি কাটাতে গেলাম, সমুদ্রতটে বসে এইভা প্রথমবারের মত সাসকিয়া নোর্ট-এর Koorts বইটা পড়লো। তারপরেই হোটেলের সুইমিংপুলের কাছে রাখা বইয়ের তাক থেকে নিয়ে সে De verbouwing en De eetclub বইটাও পড়লো। (সম্পূর্ণ…)

সুদূরে দিগন্ত : বাঙালি নারী-জীবনের নিপুণ বয়ান

মোহাম্মদ শেখ সাদী | ২৪ জুলাই ২০১৮ ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

এক
‘সুদূরে দিগন্ত’ ঐতিহাসিক ও সমাজতাত্ত্বিক বীক্ষার আলোকে রচিত চারশত পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস । ২০১৮ সালের একুশে বইমেলায় ‘দেশ পাবলিকেশন্স’ থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি মেহেরুন্নেছা রোজীর প্রথম সৃজনশীল কর্মপ্রয়াস হলেও এর আঙ্গিক-গঠন, প্লট-কাহিনি নির্মাণ, ভাষা ও পরিবেশ রচনা, চরিত্র-সৃজন দক্ষতা ও সংলাপ-বয়নের অপূর্ব নিপুণতা সহজেই সকল দুর্বলতা ও আড়ষ্টতাকে ছাপিয়ে গেছে। বোঝা যায়, সুদীর্ঘ পাঠ-পরিক্রমাকে আত্মস্থ করে, বাঙালির বহুকালের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার নিবিড় পাঠ এবং অনুধাবনের মধ্য দিয়েই নিজের অভিজ্ঞতাকে শাণিত করে নিয়েছেন লেখক। এছাড়া লেখকের আত্মজৈবনিক জীবনবীক্ষাও চমৎকারভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে উপন্যাসটির শৈল্পিক নির্মিতিতে।

দুই
‘সুদূরে দিগন্ত’বাঙালি নারী জীবনের পূর্ণাঙ্গ বয়ান- একথা বললে অত্যুক্তি হবে না। ভারতবর্ষীয় বাঙালি সমাজ-জীবনে নারীর সার্বিক অবস্থান, দেশ-কাল- সমাজ-রাষ্ট্রের পরিবর্তন-বিবর্তনের ধারায় নারী-জীবনের সমাজ-ইতিহাস অনুপুঙ্খভাবে উঠে এসেছে উপন্যাসটিতে। মধ্যযুগের সমাজব্যবস্থায় নারীর অবনমনের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু সমাজ-ইতিহাসের ক্রমবিকাশের ধারায় অধুনা বিশ্বে নারীর অবস্থান কোথায়? এমনকি আজকের এই একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে দাঁড়িয়েও বাঙালি নারী-জীবন কতটুকু মুক্তি ত্বরান্বিত হয়েছে? – সম্ভবত এই মৌলিক প্রশ্নটির যুক্তি-গ্রাহ্য উত্তর খুঁজে পাবার শৈল্পিক ও সংবেদনশীল অনুসন্ধান রয়েছে ‘সুদূরে দিগন্ত’ গ্রন্থটিতে। নারীও যে আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন সম-তাৎপর্যে উদ্ভাসিত মানুষ- আমাদের সমাজব্যবস্থায় এই প্রত্যাশিত জীবনদৃষ্টি নেই বলেই কখনও নারী-জীবনের সার্বিক মুক্তি ও বিকাশ সম্ভব হয়নি। ঔপন্যাসিক মেহেরুন্নেছা রোজী বাঙালি নারী-জীবনকে ঊনিশ শতকের সূচনালগ্ন থেকে সাম্প্রতিককাল সীমায় স্থাপন করে প্রায় দু’শো বছরের সমাজ-ইতিহাসের নিরিখে নারীর সামূহিক অবস্থানকে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। ইউরোপে শিল্প-বিপ্লবের কিছুটা সময় অতিবাহিত হলে ভারতবর্ষেও রেনেসাঁসের হাওয়া বইতে লাগলো। এই নবজাগরণ কলকাতা-কেন্দ্রিক সমাজে বেশ ভালোভাবেই সূচিত হয়েছিল। প্রায় দু’শো বছরের ইংরেজ আমলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শাসন-শোষণের কথা সকলেরই জানা। তবে ইংরেজ শাসন কিছুটা হলেও আশীর্বাদ বয়ে এনেছিল বাঙালি জীবনে। (সম্পূর্ণ…)

রেজওয়ান তানিমের কয়েকটি কবিতা

রেজওয়ান তানিম | ২১ জুলাই ২০১৮ ১০:০৫ অপরাহ্ন


চিত্রকর্ম: শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল
দুপুরের রোদ, একা…

কী এক অসভ্য সময়ের কাছে বন্ধক রেখেছি দুপুরের রোদ, নিজেও রাখিনি খোঁজ! ভেতরটুকু ওরা তিলে তিলে করেছে নিঃস্ব; আশ্চর্য নিপুণতায়। বর্ধিত আমিষযুক্ত খাবার, বাড়তি যোগানে যোগানে বানিয়েছে এক লোভী, উৎকট শকুন প্রজন্ম!
এইমাত্র বৃন্তখসা মিষ্টি ফল খেতে এখন অস্বীকার করে সবাই, ওতে নাকি বিষের সন্ধান মেলে। অথচ ওরাই প্যাকেট প্যাকেট বিষাক্ত মাংসের কাছে নিজেকে সঁপে নিশ্চিন্তে ঢেকুর তুলছে। আর নিয়ম করে ওদের নাকে ঘাই মারতে চায় মরা আত্মার আর্তনাদ, মাংসের মাতাল গন্ধের মত সেও ফিরে ফিরে যায় প্রতিক্রিয়াবিহীন!
এইসব দেখি শুনি, কানে তুলো গুঁজে হাটি। আমার রোদ নুয়ে এলেও কিছু আলো তো ছড়ায় এখনো। নগ্নতম নিষ্ঠুরতা গ্রাস করে নিতে এলে আবিষ্কার করি; আমার দুপুরের রোদ, একা!
হয়ে উঠি উন্মাদ ব্রহ্মচারী এক—বিদ্বেষের শীৎকার শুনি নিয়ত; মনে হয় মদিরার ঘোরে প্রলাপ বকছে কেউ মাথার ভেতরে। নির্জন এক কুলায় ফিরব বলে ক্ষ্যাপা বাউল হয়ে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াই। মেলে না তার দেখা। বোধ আসে বিচিত্র অন্ধকারে, সীমাহীন অসভ্যতার সঙ্গমে এইসব ডুবি ভাসি—সমস্তই মিথ্যা, ফেইক। এমনকি মৃত্যুর মত শাশ্বত সত্যটিও বানোয়াট, নত সে অন্ধকারের উজ্জ্বলতার কাছে। (সম্পূর্ণ…)

রনি আহম্মেদের সুফি কবিতা

রনি আহম্মেদ | ১৯ জুলাই ২০১৮ ৬:৫২ অপরাহ্ন

মায়ের গন্ধ মাখা আকাশ

অন্য জগতের
এই জগৎ রয়ে গেলো ,
নদীর ভিতর তোমার সাথে
হলো দেখা…..
যেন হয়নি আর
কিছুই কখনো!

যখন প্রভাতগুলো
জড়ো হয়
নিঃশব্দ ময়ূরের ঠোঁটে,
আমিতো নূর নাইতে
বসে আছি!

মহাগগন ভেদ করে
তাকিয়ে থাকা নবীকে
সালাম দাও…

মনে রেখো,
স্বপ্ন একটি জীবিত পাথর
যার মুখে লেখা আছে তার
গোপন নাম …

শুধু পিয়ানোগুলো
ভেসে যায়
দেহ থেকে দেহে… (সম্পূর্ণ…)

Two Veiled Ladies

Tonima Mahmud Antora

Saima is watching the two ladies in front of her. They are continuously talking about their lifestyle, shopping, jewelleries, children and most importantly husbands. The relationship between these two women is totally commercial. One is customer and other one is the ladies parlour owner. The name of the customer lady is Mina, middle aged, quite rich and beautiful. She has three children whom she has kept under her maid’s supervision while coming to the parlour. And now they call to order their mom to bring nun roti and kabab for dinner while going home.
-Oh my god! It seems like today my fate won’t allow me to eat rice. The whole day I have eaten burger and sandwich. And now the children demand to have nun roti at dinner. For me, it really seems like one long month that I have last eaten rice.
– Oh, Sister! You know, yesterday I had gone for shopping. The prices of the products were quite expensive that I have spent 23k in one day. All the dresses are pretty. And whenever you buy a dress, it becomes mandatory to have matching jewelleries with it. For me, not buying matching jewellery is a crime, heinous crime.
– 23k is a simple amount. Last month I have gone to India for the Eid shopping and I have spent 53k at once, and more money on jewelleries, approximately 55k. This is my shopping and my daughter bought dresses worth 25k. (More…)

এপিটাফ, এপিটাফ-কবিতা: মৃত্যু-মাদ্রিগাল

কুমার চক্রবর্তী | ১৭ জুলাই ২০১৮ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

কীভাবে মানুষ মরে যায়? কী আশ্চর্যের, কেউ ভাবে না তা নিয়ে!
আর যারা ভাবে, তারা যেন ক্রুসেড বা সালামিস যুদ্ধের ইতিহাস
থেকে স্মরণ করে কিছু একটা।
তথাপি মৃত্যু হলো এমন কিছু যা ঘটে: কীভাবে মানুষ মরে?
এসব না-জেনেও প্রত্যেকেই পেয়ে যায় নিজ নিজ মৃত্যু,
তার মৃত্যু, শুধু তার নিজের, যা বর্তায় না অন্যের ওপর
আর এই মৃত্যু-মৃত্যু খেলার নামই যে জীবন।

গ্রিক কবি জর্জ সেফেরিস-এর এই কাব্যিক উচ্চারণ বস্তুত বলতে চায় মৃত্যুর অনিবার্যতা ও তার উপস্থিতির উদ্ভটতার কথা। সত্যিই, মানুষের মৃত্যুর মতো আশ্চর্যের আর কিছু নেই। প্রতিদিন ঘটছে তা, তবুও তা এক অলীক বাস্তবতা বলে মনে হয়। মহাভারতের ধর্মবকের প্রশ্নেও তাই এই আশ্চর্যতা অন্তর্ভূত, প্রতিনিয়ত এই যে মৃত্যুর খেলা চলে তবু মানুষ তা নিয়ে ভাবে না। বেঁচে থাকতে কত ইহকালিক-পরকালিক প্রজ্জ্বলিত লণ্ঠন ধরিয়ে দেওয়া হয় ব্যক্তির হাতে যেন মৃত্যুর পথ পাড়ি দেওয়া যায় নির্বিঘ্নে, কিন্তু মৃত্যুর মুহূর্তে সবকটি লণ্ঠনই নিভে যায়, অন্ধকারে নেভা লণ্ঠনই সম্বল হয় তার। মৃত্যু নিয়ে যত দর্শন আর সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যকিছুতে তেমনটা নয় আর। বুদ্ধদর্শনে জন্ম আর মৃত্যুকে ‘সমগ্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, বলা হয়েছে যে মৃত্যু হলো জীবনেরই আরেক অধ্যায়ের সূত্রপাত; মৃত্যু হলো মুকুর যেখানে জীবনের সামগ্রিক অর্থময়তা প্রতিফলিত। বুদ্ধের কাছে অস্তিত্ব শরৎকালের মেঘের মতোই ক্ষণস্থায়ী, আর সত্তার জন্মমৃত্যুর অবলোকন নৃত্যের গতিময়তাকে অবলোকনেরই মতো এক ব্যাপার।
মৃত্যু মানসিক ও শারীরিক। মৃত্যুতে মন তাৎক্ষণিক নিশ্চিহ্ন হলেও শরীর পড়ে থাকে, আর প্রয়োজন হয় তার ব্যবস্থাপনার যাকে বলে সৎকার। মৃতদেহ সৎকারের পদ্ধতি মোটাদাগে দুটো: পুড়িয়ে ফেলা আর মৃত্তিকাভূত করা; এর বাইরেও পদ্ধতি আছে, যেমন জরাথুস্ট্রীয়রা মৃতদেহ রেখে দেয় সাইলেন্স টাওয়ারে যেন শকুন বা অন্য শবভূক পাখিরা এসে ভক্ষণ করতে পারে গলিত মাংস। কোনো কোনো গোত্রে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয় শব যেন তা সমুদ্রপ্রাণিদের খাদ্য হতে পারে। একসময় আমাদের দেশে শর্পদংশিত অচেতন দেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। প্রাচীন মিশরীয়রা মমি করে রাখত বিখ্যাতদের শব। প্রাচীন গ্রিসে দাহ ও কবর, দুটোরই প্রচলন ছিল; ইলিয়াদ-এ দেখা যায়, পাত্রোক্লুস মারা যাওয়ার পর তাকে চিতায় ওঠানো হয়েছিল। অনেকসময় দেহভস্ম ধাতুপাত্রে রেখে তা মাটিতে সমাহিত করা হতো। সাধারণত ভারতবর্ষীয় ধর্মবিশ্বাসীদের দাহ করা হয় কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, আর সেমেটিক ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে কবর দেওয়ার রীতি বহমান যদিও পাশ্চাত্যে দাহপদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে এখন। (সম্পূর্ণ…)

সামাজিক অঙ্গীকারের কবি হাসান হাফিজুর রহমান

পুলক হাসান | ১৫ জুলাই ২০১৮ ১২:১৮ অপরাহ্ন

তাঁর ছিল স্থির এক প্রত্যয় সামনে রেখে আলোকিত কর্মবলয়। ছিলেন আপসহীন ব্যক্তিত্বে সমুজ্জ্বল। কিন্তু সাহিত্য গগণে তিনি যে নক্ষত্রপ্রতিম তা আরও ঘটনাবহুল। সেখানে তিনি আরও উদার, আরও মানবিক। যে-কারণে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা ও সাহিত্য ভাবনা একসূত্রে গাঁথা। পঞ্চাশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় দাঙ্গা বিরোধী একমাত্র ঐতিহাসিক গল্প সংকলন ‘দাঙ্গার পাঁচটি গল্প’ প্রকাশ, একুশের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় একুশের প্রথম সংকলন (১৯৫৩ সালের মার্চে প্রকাশিত) ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সম্পাদনা এবং সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর ষোল খণ্ডে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিল পত্র প্রকাশ’ নিঃসন্দেহে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমৃত্যু ছিলেন তিনি অটল। তাঁর মেধা ও শ্রমে এ দেশে সূচিত হয় আধুনিক সাহিত্যের এক স্বর্ণালী অধ্যায়, যা থেকে আজকের অগ্রযাত্রা শুরু। বলা হয়ে থাকে, আমাদের কবিতাকে পাঠকপ্রিয় করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব যদি কাঁধে নিয়ে থাকেন কবি শামসুর রাহমান তবে তার সামাজিক দায়িত্বটি পালন করে গেছেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান। তিনি সেখানে অগ্রনায়ক তো বটেই। অনেক অনেক ক্ষেত্রে হাতে কলমে শিক্ষাদাতাও অর্থাৎ তিনি এতটাই সাহিত্য মহৎপ্রাণ ছিলেন যে, ভেতরে সর্বদা কাজ করেছে একটা সমবায়ী চিন্তা অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে দেশীয় সাহিত্য সংস্কৃতিকে চূড়ায় পৌঁছে দেয়া। এ জন্য সমসাময়িক, অনুজ ও অগ্রজ সবার কাছেই স্পষ্ট তাঁর বিরাটত্ব। মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহেবের বিখ্যাত ‘সওগাত’ পত্রিকা এ বঙ্গে পুনরায় চালুর পেছনে তাঁরই ছিল বড় ভূমিকা। তিনি সহকারী হিসেবে দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন কাঁধে। আর যেহেতু তিনি কবি তাই পত্রিকাটি ঘিরে গড়ে উঠেছিল সাহিত্যের নির্মল এক আড্ডা। যা থেকে পরবর্তীতে গঠিত হয় ‘পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ’ যার নেপথ্যে ছিলেন তিনি। এ রকম বহু সাহিত্য সংগঠনের নেপথ্য প্রাণশক্তি ছিলেন তিনি। ছিলেন তিনি কবি সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত স্বনামধন্য ‘সমকাল’ পত্রিকারও অন্যতম কাণ্ডারি। সাহিত্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন উঁচু স্তরের সাংবাদিক। তিনি অলংকৃত করেন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের পদ। পালন করেন বিদেশে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস সচিবের দাযিত্বও। (সম্পূর্ণ…)

মারিয়ার নজরুল-অনুবাদ ও মূল্যায়ন

রাজু আলাউদ্দিন | ১৩ জুলাই ২০১৮ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

১৯১৫ সালে প্রকাশিত হলো রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ অনুবাদে। অনুবাদক ছিলেন সেনোবিয়া কাম্প্রুবি দে আইমার নামের এক নারী; হুয়ান রামোন হিমেনেস ছিলেন তার সহযোগী। ঠিক একশ বছর পর রবীন্দ্রনাথের পরের প্রজন্মের সবচেয়ে প্রবল ব্যক্তিত্ব কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদ প্রকাশিত হলো স্প্যানিশ ভাষার আরেক বিদুষী নারীর কল্যাণে: মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়াল। শত বর্ষের ব্যবধানে স্প্যানিশ ভাষায় দু’জনেরই সূচনা হয়েছে দুই নারীর মাধ্যমে।

কিন্তু কেন এই শতবর্ষের ব্যবধান? সন্দেহ নেই যে নোবেল-এর রাজতিলক রবীন্দ্রনাথকে অগ্রগামী করে রেখেছে। অগ্রগামী থাকার আরও একটি বড় কারণ রবীন্দ্রনাথের রচনার ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের সহজলভ্যতা। দুখু মিয়ার ভাগ্য এই দিক থেকে সুপ্রসন্ন ছিল না। আজও নজরুলের রচনা পশ্চিমের কোনো শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনী থেকে ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হয়নি। হয়নি মারিয়ার স্প্যানিশ অনুবাদে নজরুলের আলোচ্য গ্রন্থটিও। তারপরেও, এই অনুবাদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ঐতিহাসিক মর্যাদার দাবী রাখে। ঐতিহাসিক এই জন্য যে এই প্রথম স্প্যানিশ ভাষায় নজরুল অনূদিত হলেন। আর গুরুত্বপূর্ণ এই জন্যে যে লাতিন আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের একজন শীর্ষস্থানীয় প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক ও ভারতীয় সাহিত্য বিশারদের হাতে নজরুল যথার্থ গুরুত্ব ও সফলতায় অনূদিত হলেন। (সম্পূর্ণ…)

শেখ সাহেব বাজার লেন

সাধনা আহমেদ | ১১ জুলাই ২০১৮ ৪:৪১ অপরাহ্ন

শেখ সাহেব বাজার লেনের সাতটি বাড়ির ১৯-এ হাফিজা ভিলার চারতলার ভাড়াটিয়া আব্দুল মজিদ বিচার চাইতে গেছে এলাকার বড়ভাইয়ের কছে। বড়ভাই, সমস্যা কী জানতে চাইলে আব্দুল মজিদ বললো– আমার বউরে। বড় ভাই জিজ্ঞাসা করলেন– তুমার বউরে কী? কিভাবে বলবে তা বুঝতে না পেরে আবদুল মজিদ তোতলাতে শুরু করলো। বড়ভাই আবারো জিজ্ঞাসা করলেন– আরে কউ না ক্যালা তুমার বউরে কী? আব্দুল মজিদ আবারো বললো– আমার বউরে। বড়ভাই রেগে বললো– আরে হালায় জাবর কাটতাচ ক্যালা, কইতাচ না ক্যালা, তুমার বউরে কী? এবার আব্দুল মজিদ একটানে বলে ফেলে– আমার বউরে বটি নিয়া মারবার আইচিল লিটন মিয়া। বড়ভাই এবার কৌতূহলী হয়ে মজিদের মুখের কাছে মুখ এনে বলে– কুন লিটন মিয়া? এবার আব্দুল মজিদ একটানে বলে– আমগো নিচতলার লিটন মিয়া। লিটন মিয়াগো আসল বাড়ি অইতাছে কুমিল্লার বাঞ্ছারামপুর থানা। লিটন মিয়ারা দুই ভাই এক বুন– লিটন, মিলটন আর লিমা।

অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরার জলরং চিত্রকর্ম

হেগোর বাপ হাকিম মিয়া একটা ভাদাইম্যা, টাউট। কয় ঠিকাদারির ব্যাবসা করে, আসলে হালায় কিচুই করে না, মহল্লার সব দুকান থিক্যা বাকি খায়া রাখচে পয়সা দেয় না, অহন সবার থিক্যা পলায়া বেড়ায়, কারুর সামনে পরে না। ভোরবেলা ঘুম থিক্যা উঠ্যাই বাইরয়া যায়, আর দুকান সব বন্দ অইবার পর বাড়ি আহে। এসব ফিরিস্তি শুনে ধমক দিয়ে মজিদকে থামিয়ে বড়ভাই বললে, আরে মিয়া, লিটন মিয়ার চৌদ্দগুষ্টির ঠিকুজি হুনবার চাইচিনি তুমার কাচে। আছল কতা কউ, লিটন মিয়া তুমার বউরে মারবার আইচিল ক্যালা? বড় ভাইয়ের রাগ দেখে মজিদ খুকখুক করে কাশতে কাশতে বলে, ক্যাঠায় নাকি লিটন মিয়ার মায়রে কইচে যে আমার বউ নাকি হেরে গাইল পারচে। লিটন মিয়া ইস্কুল থিক্যা আইতেই হের মায় কাইন্দা বিচার দিয়া কইচে, আমারে গাইল পারে? আমারে গাইল পারে ওই খানকি মাগি, আইজ যদি অর বিচার না করচচ তয় আমারে মা কইয়া ডাকবি না। আর হেই কতা হুইন্যা আমি দোকানে থাকারসুম লিটন মিয়া বটি লয়া আইয়া আমার বউরে কাইট্যা হালাইব কইরা ধমক পাইরা গেচে। শুনে বড়ভাই তার ভুড়ি নাচিয়ে হাসতে হাসতে বলে, লিটন মিয়া ইস্কুলে পড়ে! ইস্কুলে পড়ে এক ছ্যামরায় তুমার বউরে বটি লয়া ধমকায়া গেচে আর তুমি আইচ আমার কাচে বিচার দিবার! তুমি হালায় মাইগ্যা নিহি? যাও, গিয়া আবার নিজের পেগাম্বরি করাও!

বড়ভাই মজিদকে আবার নিজের খৎনা করাতে বলেছেন। কথাটা শেখসাহেব বাজার লেনের একেবারে শেষ মাথার ছাপড়া মসজিদের সামনের সালাম ট্রেডার্স পর্যন্ত চাউর হয়ে যায়। আর ওই লেনের সবাই হাসির গুল্লোড় তুললে কথা গড়িয়ে যেতে থাকে বিভিন্ন দিকে– হুনচি আব্দুল মজিদের বউটা নিহি পরির লাহান ছুন্দর। একজনের কথার মাঝখানে আরেকজন ফোড়ন কেটে বলে, আব্দুল মজিদের বউটা ছুন্দরী বইল্যাই হের অত জ্বালা অইচে। হুনচি মজিদের দেখভাল নিহি ঠিক মতন করে না। দেমাগ দেখায়া সারাদিন বইয়া থাকে। অন্যজন আবার তা উড়িয়ে দিয়ে বলে, আরে না না, মজিদ সিক্ষিত মাইয়া সাদি করচে, বউ নাকি সারাদিন বইয়ের দিক চায়া থাকে। হের লিগ্যাই নিজে অসিক্ষিত অয়া সিক্ষিত মাইয়া সাদি করতে নাই। আরেকজন নিজের মত দিয়ে বলে, বউ অইতাচেগা ঘরের লক্ষ্মী, হের অত বই পড়নের কাম কি? মগর মজিদের বউ লিটন মিয়ার মায়েরে গাইল পারছে ক্যালা? (সম্পূর্ণ…)

হাতেম মাঝি স্মরণে

রুদ্র সাইফুল | ১০ জুলাই ২০১৮ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

একদা শপথ করেছিলাম কবি হবো এই পৃথিবীর,
কবিতায় বুনবো ঘাসফড়িংয়ের ওড়াউড়ি,
জীবনের রঙিন লেনদেন; আমার স্বাধীনতা।

হাতেম মাঝির কথাও কবিতায় বুনবো ভেবেছিলাম,
যে হাতেম মাঝি উত্তাল একাত্তরের জীবন্ত কিংবদন্তি,
সেবার প্রবল বর্ষণে চারিদিকে বান ডেকেছিলো-
নদী পার করার নামে মাঝ নদীতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন
হাফ ডজন খান সেনা, হাতেম মাঝি তখন টগবগে যুবা।

হাতেম মাঝি মেধাবী ছিলেন না কিন্তু বাঙালি ছিলেন,
ঘরে বৃদ্ধ মা আর অন্তঃসত্ত্বা বউ, এই তাঁর সংসার;
ধারালো অস্ত্র, থ্রি নট থ্রি কিংবা স্টেনগান নয়,
নৌকাই ছিলো তাঁর একমাত্র হাতিয়ার। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com