এপিটাফ, এপিটাফ-কবিতা: মৃত্যু-মাদ্রিগাল

কুমার চক্রবর্তী | ১৭ জুলাই ২০১৮ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

কীভাবে মানুষ মরে যায়? কী আশ্চর্যের, কেউ ভাবে না তা নিয়ে!
আর যারা ভাবে, তারা যেন ক্রুসেড বা সালামিস যুদ্ধের ইতিহাস
থেকে স্মরণ করে কিছু একটা।
তথাপি মৃত্যু হলো এমন কিছু যা ঘটে: কীভাবে মানুষ মরে?
এসব না-জেনেও প্রত্যেকেই পেয়ে যায় নিজ নিজ মৃত্যু,
তার মৃত্যু, শুধু তার নিজের, যা বর্তায় না অন্যের ওপর
আর এই মৃত্যু-মৃত্যু খেলার নামই যে জীবন।

গ্রিক কবি জর্জ সেফেরিস-এর এই কাব্যিক উচ্চারণ বস্তুত বলতে চায় মৃত্যুর অনিবার্যতা ও তার উপস্থিতির উদ্ভটতার কথা। সত্যিই, মানুষের মৃত্যুর মতো আশ্চর্যের আর কিছু নেই। প্রতিদিন ঘটছে তা, তবুও তা এক অলীক বাস্তবতা বলে মনে হয়। মহাভারতের ধর্মবকের প্রশ্নেও তাই এই আশ্চর্যতা অন্তর্ভূত, প্রতিনিয়ত এই যে মৃত্যুর খেলা চলে তবু মানুষ তা নিয়ে ভাবে না। বেঁচে থাকতে কত ইহকালিক-পরকালিক প্রজ্জ্বলিত লণ্ঠন ধরিয়ে দেওয়া হয় ব্যক্তির হাতে যেন মৃত্যুর পথ পাড়ি দেওয়া যায় নির্বিঘ্নে, কিন্তু মৃত্যুর মুহূর্তে সবকটি লণ্ঠনই নিভে যায়, অন্ধকারে নেভা লণ্ঠনই সম্বল হয় তার। মৃত্যু নিয়ে যত দর্শন আর সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যকিছুতে তেমনটা নয় আর। বুদ্ধদর্শনে জন্ম আর মৃত্যুকে ‘সমগ্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, বলা হয়েছে যে মৃত্যু হলো জীবনেরই আরেক অধ্যায়ের সূত্রপাত; মৃত্যু হলো মুকুর যেখানে জীবনের সামগ্রিক অর্থময়তা প্রতিফলিত। বুদ্ধের কাছে অস্তিত্ব শরৎকালের মেঘের মতোই ক্ষণস্থায়ী, আর সত্তার জন্মমৃত্যুর অবলোকন নৃত্যের গতিময়তাকে অবলোকনেরই মতো এক ব্যাপার।
মৃত্যু মানসিক ও শারীরিক। মৃত্যুতে মন তাৎক্ষণিক নিশ্চিহ্ন হলেও শরীর পড়ে থাকে, আর প্রয়োজন হয় তার ব্যবস্থাপনার যাকে বলে সৎকার। মৃতদেহ সৎকারের পদ্ধতি মোটাদাগে দুটো: পুড়িয়ে ফেলা আর মৃত্তিকাভূত করা; এর বাইরেও পদ্ধতি আছে, যেমন জরাথুস্ট্রীয়রা মৃতদেহ রেখে দেয় সাইলেন্স টাওয়ারে যেন শকুন বা অন্য শবভূক পাখিরা এসে ভক্ষণ করতে পারে গলিত মাংস। কোনো কোনো গোত্রে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয় শব যেন তা সমুদ্রপ্রাণিদের খাদ্য হতে পারে। একসময় আমাদের দেশে শর্পদংশিত অচেতন দেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। প্রাচীন মিশরীয়রা মমি করে রাখত বিখ্যাতদের শব। প্রাচীন গ্রিসে দাহ ও কবর, দুটোরই প্রচলন ছিল; ইলিয়াদ-এ দেখা যায়, পাত্রোক্লুস মারা যাওয়ার পর তাকে চিতায় ওঠানো হয়েছিল। অনেকসময় দেহভস্ম ধাতুপাত্রে রেখে তা মাটিতে সমাহিত করা হতো। সাধারণত ভারতবর্ষীয় ধর্মবিশ্বাসীদের দাহ করা হয় কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, আর সেমেটিক ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে কবর দেওয়ার রীতি বহমান যদিও পাশ্চাত্যে দাহপদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে এখন। (সম্পূর্ণ…)

সামাজিক অঙ্গীকারের কবি হাসান হাফিজুর রহমান

পুলক হাসান | ১৫ জুলাই ২০১৮ ১২:১৮ অপরাহ্ন

তাঁর ছিল স্থির এক প্রত্যয় সামনে রেখে আলোকিত কর্মবলয়। ছিলেন আপসহীন ব্যক্তিত্বে সমুজ্জ্বল। কিন্তু সাহিত্য গগণে তিনি যে নক্ষত্রপ্রতিম তা আরও ঘটনাবহুল। সেখানে তিনি আরও উদার, আরও মানবিক। যে-কারণে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা ও সাহিত্য ভাবনা একসূত্রে গাঁথা। পঞ্চাশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় দাঙ্গা বিরোধী একমাত্র ঐতিহাসিক গল্প সংকলন ‘দাঙ্গার পাঁচটি গল্প’ প্রকাশ, একুশের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় একুশের প্রথম সংকলন (১৯৫৩ সালের মার্চে প্রকাশিত) ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সম্পাদনা এবং সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর ষোল খণ্ডে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিল পত্র প্রকাশ’ নিঃসন্দেহে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমৃত্যু ছিলেন তিনি অটল। তাঁর মেধা ও শ্রমে এ দেশে সূচিত হয় আধুনিক সাহিত্যের এক স্বর্ণালী অধ্যায়, যা থেকে আজকের অগ্রযাত্রা শুরু। বলা হয়ে থাকে, আমাদের কবিতাকে পাঠকপ্রিয় করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব যদি কাঁধে নিয়ে থাকেন কবি শামসুর রাহমান তবে তার সামাজিক দায়িত্বটি পালন করে গেছেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান। তিনি সেখানে অগ্রনায়ক তো বটেই। অনেক অনেক ক্ষেত্রে হাতে কলমে শিক্ষাদাতাও অর্থাৎ তিনি এতটাই সাহিত্য মহৎপ্রাণ ছিলেন যে, ভেতরে সর্বদা কাজ করেছে একটা সমবায়ী চিন্তা অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে দেশীয় সাহিত্য সংস্কৃতিকে চূড়ায় পৌঁছে দেয়া। এ জন্য সমসাময়িক, অনুজ ও অগ্রজ সবার কাছেই স্পষ্ট তাঁর বিরাটত্ব। মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহেবের বিখ্যাত ‘সওগাত’ পত্রিকা এ বঙ্গে পুনরায় চালুর পেছনে তাঁরই ছিল বড় ভূমিকা। তিনি সহকারী হিসেবে দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন কাঁধে। আর যেহেতু তিনি কবি তাই পত্রিকাটি ঘিরে গড়ে উঠেছিল সাহিত্যের নির্মল এক আড্ডা। যা থেকে পরবর্তীতে গঠিত হয় ‘পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ’ যার নেপথ্যে ছিলেন তিনি। এ রকম বহু সাহিত্য সংগঠনের নেপথ্য প্রাণশক্তি ছিলেন তিনি। ছিলেন তিনি কবি সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত স্বনামধন্য ‘সমকাল’ পত্রিকারও অন্যতম কাণ্ডারি। সাহিত্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন উঁচু স্তরের সাংবাদিক। তিনি অলংকৃত করেন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের পদ। পালন করেন বিদেশে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস সচিবের দাযিত্বও। (সম্পূর্ণ…)

মারিয়ার নজরুল-অনুবাদ ও মূল্যায়ন

রাজু আলাউদ্দিন | ১৩ জুলাই ২০১৮ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

১৯১৫ সালে প্রকাশিত হলো রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ অনুবাদে। অনুবাদক ছিলেন সেনোবিয়া কাম্প্রুবি দে আইমার নামের এক নারী; হুয়ান রামোন হিমেনেস ছিলেন তার সহযোগী। ঠিক একশ বছর পর রবীন্দ্রনাথের পরের প্রজন্মের সবচেয়ে প্রবল ব্যক্তিত্ব কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদ প্রকাশিত হলো স্প্যানিশ ভাষার আরেক বিদুষী নারীর কল্যাণে: মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়াল। শত বর্ষের ব্যবধানে স্প্যানিশ ভাষায় দু’জনেরই সূচনা হয়েছে দুই নারীর মাধ্যমে।

কিন্তু কেন এই শতবর্ষের ব্যবধান? সন্দেহ নেই যে নোবেল-এর রাজতিলক রবীন্দ্রনাথকে অগ্রগামী করে রেখেছে। অগ্রগামী থাকার আরও একটি বড় কারণ রবীন্দ্রনাথের রচনার ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের সহজলভ্যতা। দুখু মিয়ার ভাগ্য এই দিক থেকে সুপ্রসন্ন ছিল না। আজও নজরুলের রচনা পশ্চিমের কোনো শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনী থেকে ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হয়নি। হয়নি মারিয়ার স্প্যানিশ অনুবাদে নজরুলের আলোচ্য গ্রন্থটিও। তারপরেও, এই অনুবাদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ঐতিহাসিক মর্যাদার দাবী রাখে। ঐতিহাসিক এই জন্য যে এই প্রথম স্প্যানিশ ভাষায় নজরুল অনূদিত হলেন। আর গুরুত্বপূর্ণ এই জন্যে যে লাতিন আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের একজন শীর্ষস্থানীয় প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক ও ভারতীয় সাহিত্য বিশারদের হাতে নজরুল যথার্থ গুরুত্ব ও সফলতায় অনূদিত হলেন। (সম্পূর্ণ…)

শেখ সাহেব বাজার লেন

সাধনা আহমেদ | ১১ জুলাই ২০১৮ ৪:৪১ অপরাহ্ন

শেখ সাহেব বাজার লেনের সাতটি বাড়ির ১৯-এ হাফিজা ভিলার চারতলার ভাড়াটিয়া আব্দুল মজিদ বিচার চাইতে গেছে এলাকার বড়ভাইয়ের কছে। বড়ভাই, সমস্যা কী জানতে চাইলে আব্দুল মজিদ বললো– আমার বউরে। বড় ভাই জিজ্ঞাসা করলেন– তুমার বউরে কী? কিভাবে বলবে তা বুঝতে না পেরে আবদুল মজিদ তোতলাতে শুরু করলো। বড়ভাই আবারো জিজ্ঞাসা করলেন– আরে কউ না ক্যালা তুমার বউরে কী? আব্দুল মজিদ আবারো বললো– আমার বউরে। বড়ভাই রেগে বললো– আরে হালায় জাবর কাটতাচ ক্যালা, কইতাচ না ক্যালা, তুমার বউরে কী? এবার আব্দুল মজিদ একটানে বলে ফেলে– আমার বউরে বটি নিয়া মারবার আইচিল লিটন মিয়া। বড়ভাই এবার কৌতূহলী হয়ে মজিদের মুখের কাছে মুখ এনে বলে– কুন লিটন মিয়া? এবার আব্দুল মজিদ একটানে বলে– আমগো নিচতলার লিটন মিয়া। লিটন মিয়াগো আসল বাড়ি অইতাছে কুমিল্লার বাঞ্ছারামপুর থানা। লিটন মিয়ারা দুই ভাই এক বুন– লিটন, মিলটন আর লিমা।

অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরার জলরং চিত্রকর্ম

হেগোর বাপ হাকিম মিয়া একটা ভাদাইম্যা, টাউট। কয় ঠিকাদারির ব্যাবসা করে, আসলে হালায় কিচুই করে না, মহল্লার সব দুকান থিক্যা বাকি খায়া রাখচে পয়সা দেয় না, অহন সবার থিক্যা পলায়া বেড়ায়, কারুর সামনে পরে না। ভোরবেলা ঘুম থিক্যা উঠ্যাই বাইরয়া যায়, আর দুকান সব বন্দ অইবার পর বাড়ি আহে। এসব ফিরিস্তি শুনে ধমক দিয়ে মজিদকে থামিয়ে বড়ভাই বললে, আরে মিয়া, লিটন মিয়ার চৌদ্দগুষ্টির ঠিকুজি হুনবার চাইচিনি তুমার কাচে। আছল কতা কউ, লিটন মিয়া তুমার বউরে মারবার আইচিল ক্যালা? বড় ভাইয়ের রাগ দেখে মজিদ খুকখুক করে কাশতে কাশতে বলে, ক্যাঠায় নাকি লিটন মিয়ার মায়রে কইচে যে আমার বউ নাকি হেরে গাইল পারচে। লিটন মিয়া ইস্কুল থিক্যা আইতেই হের মায় কাইন্দা বিচার দিয়া কইচে, আমারে গাইল পারে? আমারে গাইল পারে ওই খানকি মাগি, আইজ যদি অর বিচার না করচচ তয় আমারে মা কইয়া ডাকবি না। আর হেই কতা হুইন্যা আমি দোকানে থাকারসুম লিটন মিয়া বটি লয়া আইয়া আমার বউরে কাইট্যা হালাইব কইরা ধমক পাইরা গেচে। শুনে বড়ভাই তার ভুড়ি নাচিয়ে হাসতে হাসতে বলে, লিটন মিয়া ইস্কুলে পড়ে! ইস্কুলে পড়ে এক ছ্যামরায় তুমার বউরে বটি লয়া ধমকায়া গেচে আর তুমি আইচ আমার কাচে বিচার দিবার! তুমি হালায় মাইগ্যা নিহি? যাও, গিয়া আবার নিজের পেগাম্বরি করাও!

বড়ভাই মজিদকে আবার নিজের খৎনা করাতে বলেছেন। কথাটা শেখসাহেব বাজার লেনের একেবারে শেষ মাথার ছাপড়া মসজিদের সামনের সালাম ট্রেডার্স পর্যন্ত চাউর হয়ে যায়। আর ওই লেনের সবাই হাসির গুল্লোড় তুললে কথা গড়িয়ে যেতে থাকে বিভিন্ন দিকে– হুনচি আব্দুল মজিদের বউটা নিহি পরির লাহান ছুন্দর। একজনের কথার মাঝখানে আরেকজন ফোড়ন কেটে বলে, আব্দুল মজিদের বউটা ছুন্দরী বইল্যাই হের অত জ্বালা অইচে। হুনচি মজিদের দেখভাল নিহি ঠিক মতন করে না। দেমাগ দেখায়া সারাদিন বইয়া থাকে। অন্যজন আবার তা উড়িয়ে দিয়ে বলে, আরে না না, মজিদ সিক্ষিত মাইয়া সাদি করচে, বউ নাকি সারাদিন বইয়ের দিক চায়া থাকে। হের লিগ্যাই নিজে অসিক্ষিত অয়া সিক্ষিত মাইয়া সাদি করতে নাই। আরেকজন নিজের মত দিয়ে বলে, বউ অইতাচেগা ঘরের লক্ষ্মী, হের অত বই পড়নের কাম কি? মগর মজিদের বউ লিটন মিয়ার মায়েরে গাইল পারছে ক্যালা? (সম্পূর্ণ…)

হাতেম মাঝি স্মরণে

রুদ্র সাইফুল | ১০ জুলাই ২০১৮ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

একদা শপথ করেছিলাম কবি হবো এই পৃথিবীর,
কবিতায় বুনবো ঘাসফড়িংয়ের ওড়াউড়ি,
জীবনের রঙিন লেনদেন; আমার স্বাধীনতা।

হাতেম মাঝির কথাও কবিতায় বুনবো ভেবেছিলাম,
যে হাতেম মাঝি উত্তাল একাত্তরের জীবন্ত কিংবদন্তি,
সেবার প্রবল বর্ষণে চারিদিকে বান ডেকেছিলো-
নদী পার করার নামে মাঝ নদীতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন
হাফ ডজন খান সেনা, হাতেম মাঝি তখন টগবগে যুবা।

হাতেম মাঝি মেধাবী ছিলেন না কিন্তু বাঙালি ছিলেন,
ঘরে বৃদ্ধ মা আর অন্তঃসত্ত্বা বউ, এই তাঁর সংসার;
ধারালো অস্ত্র, থ্রি নট থ্রি কিংবা স্টেনগান নয়,
নৌকাই ছিলো তাঁর একমাত্র হাতিয়ার। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের প্রচুর ভালোবাসতে হবে

মাজহার সরকার | ৮ জুলাই ২০১৮ ৫:৩৩ অপরাহ্ন


অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

জিজ্ঞাসা

একদিন আমি মাটি খুঁড়ছিলাম, দীর্ণ ব্যথায় কাতর বিষধর পৃথিবীর রুদ্ধ কপাট খোলে না আর। চারপাশে মানুষ জড়ো হয়ে গেছে, করছোটা কী মাজহার? জল তোল জল! তেষ্টা পেয়েছি বুঝি আহারে বন্ধুর মতো। দুই হাতে খালি কাদা উজ্জ্বল সড়কের চেটোয় হামা দিয়ে মাথা গুঁজে এইখানে হ্যাঁ এইখানেই তো রেখেছিলাম, কোথায় গেলো শহরের শবের ছোট্ট লাশের মতো ব্যাগটা, সোনা নাকি? না। মুক্তোর মালা? না না, উৎসবের দর্পনে লম্বমান আর তারার ঝুলির ভেতর কোনোখানে নেই তেমন হৃদয়, দিয়েছে কর্মের ত্রাণহীন ব্যর্থসম সঞ্চয়। গর্তটা আমার আহত স্বরূপখানা কিছুই পড়ে না চোখে, ওটা কী! লুক্কায়িত বেদনার দানা, ঝরা দিনের দাহ, যাকে ফুল মনে করে হাতে নিয়েছিলাম। আজ কাদায় ডোবানো কব্জিতে আরও খুঁড়ে যেতে হবে, কতটুকু যেতে হবে ধমনীর লুকানো গহ্বরে নেমে পাশের ক্ষুদ্র নদীটাকে দেখে উবুড় হয়ে মহিষের মতো জল টেনেছি মুখে মাঠে মাঠে বেড়াতে। পেয়েছি পেয়েছি, বিশ্বব্যাপী অস্তির স্বর্ণরঙ ফলে হারিয়ে কি সে আত্মলোপী বীজ। মাটির গভীরে পুঁতে আরও মাটি চাপা দিয়ে জীবনের শব যেন হেঁটে এসেছি এইখানে। আজ গর্তটা খুঁড়ে দেখি ন্যূনতম ত্রুটির মোহে নিজের একক দেহ টেনে মানবজীবন কাকে বলে, এগিয়ে এসে কেউ আমাকে করেনি জিজ্ঞাসা। (সম্পূর্ণ…)

গায়িকা সাহসিকা টোভ লোর স্বতন্ত্র স্বর

ফাহমিদা জামান ফ্লোরা | ৬ জুলাই ২০১৮ ৩:২৬ অপরাহ্ন

সুইডিশ গায়িকা এবং গীতিকার টোভ লো সারা বিশ্বে “সুইডিশ সেরা ডার্ক পপ শিল্পী” হিসেবে পরিচিত। ৩০ বছর বয়সী সুইডিশ এই পপ তারকা জন্মেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন স্টকহোমের উত্তরের জেলা ড্যান্ডেরাইড-এর জোরশলমে, যে অঞ্চলটি মূলত সাংগীতিক ঐতিহ্যবাহী স্কুল রিটমাস মিউজিকারজিমনাসেট-এর জন্য বিখ্যাত।

২০০৬ এ তিনি প্রথম তার রক ব্যান্ড “ট্রিমব্লেবি” গঠন করেন। ট্রিমব্লেবি ভেঙে যাওয়ার পর, তিনি গীতিকার হিসেবে সফলভাবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ২০১১ সালে ওয়ারনার/চ্যাপেল মিউজিক-এর সঙ্গে প্রকাশনা চুক্তিতে আবন্ধ হন। লো আলেকজান্ডার ক্রোনলান্ড, ম্যাক্স মারটিন, জেনোম্যানিয়ার মতো বিখ্যাত সংগীত পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন তিনি। তার বৈচিত্র্যময় রেকর্ডিং এবং কম্পজিশনের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে সফল গীতিকার হয়ে ওঠেন।

২০১৪ তে প্রকাশিত এ্যালবাম “কুইন অফ দ্যা ক্লাউডস”-এর মাধ্যমে তিনি রাতারাতি তারকা বনে যান। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এই এ্যালবামের “হ্যাভিটস (স্টে হাই)” গানটি ইউএস বিলবোর্ড টপ ১০০-এর ৩ নম্বরে উঠে আসে। পরবর্তীতে তার প্রকাশিত এ্যালবাম “লেডি উড”,”কুল গার্ল”,”ব্লু লিপস” জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছায়। তার একক কাজ ছাড়াও লর্ডের “হোমমেড ডাইনামাইট” এবং এলি গোল্ডিং-এর “লাভ মি লাইক ইউ ডু ” ছাড়াও অ্যালেসো, নিক জোনাস, সেভেন লায়ন্স, ব্রোডস, ম্যারুন ফাইভ এবং কোল্ডপ্লের সাথে কাজ করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের ভয়

স্বদেশ রায় | ৪ জুলাই ২০১৮ ১২:০৮ অপরাহ্ন

মানুষ মাঝে মাঝে ভয় পায়, যদিও ভীত নয় কেউ-
তারপরেও ভয়ের গন্ধ নামে মানুষের শরীরে।
সে গন্ধ পরিচিত কি অপরিচিত তা জানেনা যদিও,
জানানোর প্রয়োজনও পড়ে না, কারো কাছে।
কেবলি এক ফালি ভয়ের ঢেউ এসে মিলিয়ে
যায়, কিশোরীর মুখ থেকে ঠিকরে পড়া সূর্যের আলো যেন।
এইসব ভয় নিয়ে গল্প লেখা হয় অনেক, যেমন
গল্প লেখে সকলে, গর্ভীনি নারীদের সৌন্দর্য একে,
যে সৌন্দর্য কেবল নারীর শরীরেই নামে।
অথচ মানুষেরা বলে, মানুষ ভয় পায় হরিনীর মতো।
এ কেমন কথা তা জানতে চায় না কেউ গভীর চাঁদনী রাতে। (সম্পূর্ণ…)

এড্রিয়েন রিচের কবিতা: “জেনিফার কাকির বাঘেরা” ও “শক্তি”

নূর-ই-ফাতিমা মোশাররফ জাহান | ১ জুলাই ২০১৮ ৩:২১ অপরাহ্ন

ভূমিকা ও অনুবাদ: নূর-ই-ফাতিমা মোশাররফ জাহান

মার্কিন নারীবাদী কবি ও প্রবন্ধকার এড্রিয়েন রিচকে (জন্ম-১৯২৯, মৃত্যু-২০১২) বলা হয়ে থাকে বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের অন্যতম বহুলপঠিত কবি। সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গ (১৯৬০-১৯৮০) এবং মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনে (১৯৫৪-১৯৬৮)। তার শক্তিশালী লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন নারীজীবনের নানান বেদনা, সঙ্কট আর অধিকার আদায়ের নানান চড়াই-উৎরাই। প্রবন্ধের পাশাপাশি কাব্যের মাধ্যমেও নারীর কথা পৌঁছে দিয়েছেন পাঠকের কাছে। নারী ও সমকামীদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার এই লেখিকা নিজে যেমন আলোচিত হয়েছেন, তেমনই আলোড়িত করেছেন বিশ্ববাসীকেও। ১৯৫১ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আ চেইঞ্জ অফ ওয়ার্ল্ড পড়ে প্রখ্যাত কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েট্স তাকে মনোনীত করেন “ইয়েল সিরিজ ফর ইয়ং পোয়েট্স অ্যাওয়ার্ড”-এর জন্য। এরপর ধীরে ধীরে তার আরো অনেক প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বহু পদক ও সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।

“অ্যান্ট জেনিফার্স টাইগার্স” কবিতাটি এড্রিয়েন রিচের প্রথম কাব্যগ্রন্থ আ চেইঞ্জ অফ ওয়ার্ল্ড (১৯৫১)-এ প্রকাশিত হয়। একজন প্রবীণ নারীর জীবনের আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তি এ কবিতার মূল বিষয়বস্তু। হয়তো বিষয়ের সাথে মিল রেখেই কবিতাটির গঠনশৈলী কিছুটা সেকেলে ধাঁচের- অনেকটা প্রথাগত পদ্যের মতো নিয়মতান্ত্রিক। এখানে এমন এক নারীর কথা উঠে এসেছে যে সারা জীবন তার প্রয়োজন ও স্বপ্নকে অবদমিত রেখে প্রচলিত রীতি-নীতির ছাঁচে নিজেকে চালিত করতে বাধ্য হয়। ঠিক যেন কলুর বলদের মতো জীবন। গৎবাঁধা পথের বাইরে যাবার কোন অনুমতি নেই তার। সমাজের বিধি-নিষেধের ঠুলি ভেদ করে বাইরের পৃথিবী দেখারও সুযোগ পায়না সে। নিজের একান্ত ভাবনাগুলো প্রকাশ করার স্বাধীনতাটুকু নেই। তবু এই নারী সঙ্গোপনে তার আজন্ম লালিত স্বপ্নের স্বাক্ষর রেখে যায় তার সূচিকর্মের মাঝে। তার নিজস্ব সৃষ্টি এই শিল্পকর্মই যেন তার স্বাধীন ভাষা। এভাবেই সে তার অদম্য স্বপ্নকে সময়ের গন্ডি পেড়িয়ে ছড়িয়ে দিতে চায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। (সম্পূর্ণ…)

চে গুয়েভারার প্রতি

আশরাফুল কবীর | ১ জুলাই ২০১৮ ১:৫৯ অপরাহ্ন

ওরা দেখেনি তোমার চোখ, কি মায়াময় তা
যেখানে খেলা করতো এক গভীর আবেগ।
ওরা বোঝেনি তোমার ভাষা, বুঝতে চায়নি
চেয়েছিল শুধু ঝাঁঝড়া করতে-
তোমার ঐ বুক, যা ফুলিয়েছিলে
গহীণ কাঠ কয়লার বলিভিয়ার জঙ্গলে।

কাটা হাত, সঙ্গী ফরমালডিহাইডের জারন
শুধু মিশ্রণই জানে তার রসায়ন,
আর জানে এই ব্রহ্মা-
কি অদ্ভুত এক তেজ, আর তার ঝাঁপটা।

এসেছিলে আটাশে জুনের কোনো এক সকালে –
বিপ্লবের দুয়ারে দুলতে, দোলাতে
ঠিক যেন চাবি দেয়া পেণ্ডুলামের মত
প্রতি ঘণ্টার প্রতিধ্বনি, শংকিত করে
কাঁপিয়ে দিতে শোষকদেরকে। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com