পুলক হাসানের পাঁচটি কবিতা

পুলক হাসান | ২০ জুন ২০১৮ ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন


সার্কাস সুন্দর

ভেবেছি তোমার প্রেম
একটি স্বপ্নযাত্রা
স্বপ্নভঙ্গের উপশম
এখন দেখি দৃষ্টির বিভ্রম
অহেতু দিবানিদ্রার ঢেউ
শুকনো পাতা খরস্রোতা
যে ছায়াটি পুষি
তাকেই মনে হয় গুপ্তচর
মনে হয় খুনি, ছদ্মবেশী
ভাবতে পারি না সহচর
হৃদয়ের আদান-প্রদান করি
ব্যাকুল তিয়াসে আশাবরী
নেই কেউ
কেউ নেই মুক্ত নিঃশ্বাসে
দোর খুলে বেরিয়ে এসে
জানায় স্বাগতম
তবু তুমি নীলাম্বরী
সার্কাস সুন্দর। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের কবিতাগুচ্ছ

মোহাম্মদ রফিক | ১৬ জুন ২০১৮ ২:২৮ অপরাহ্ন


অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

সাতরঙা জল

এক

থই থই নীলদরিয়ায়
মাঝরাতে নেমে এল ঢল
আমুণ্ড গ্রাসের ক্ষণে বলি

হায় রে যৌবন দেখিনি তো
কণ্টিকারি ঝোপ উপচে পড়ে
বেনা ফুল চোখ খোলে ধীরে

লাজনম্র কিশোরী ভ্রমরা
স্বর্নলতা বুনে গেল কোন
একদিন বরষা মেদুর

মহাকাব্য প্রেমকাহিনির
কাজলদিঘির কালোজলে
চঁদভাঙা রাতে অন্তহীন

কারাগার শিক বেয়ে পুঁই
অচিন খাচার তালা ভাঙে
লালনের বাউল একতারা

ওরে ও মানুষ ভাই ভাই
আর বুঝি সত্য কিছু নাই
হত্যা করে মানুষে মানুষ

হৃদয়গগনে ওঠে চাঁদ
নিচে সাদা লাশের পাহাড়
ঘিরে শুরু মাছির কোরাস

তার ঘ্রাণ জলের ওপরে
কুয়াশায় ভারি হয়ে নামে
শীত স্যাঁতস্যাঁতে মৃত্যুহিম (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: সপ্তর্ষির জন্য কবিতা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ জুন ২০১৮ ১১:১৫ অপরাহ্ন

৪৫

সপ্তর্ষি সংসার করে কবির অধরে
কবিও সংসার করে সপ্তর্ষির ঘরে
ঘরে করে চরে করে করে চরাচরে
এ নিয়ে তুমুল তর্ক কামরাঙ্গা চরে

অঙ্গ মেশে অঙ্গ-ভাঁজে, মন মেশে মনে
কবি ও সপ্তর্ষি মেশে সতৃষ্ণ বন্ধনে,
সাতপাঁকে লগ্ন তারা মগ্ন আবরণে

৪৬

ঘর ছেড়ে করে ঘর বাহির-ভেতর
কে কোথায় ঘোরে ফেরে নগর-বন্দর
দিন যায় রাত যায় দরিয়া কহর
অষ্টপ্রহরের সাথে অধিক প্রহর

কবির করবী নিত্য ফুল্ল পুষ্প-ধ্যান;
সপ্তর্ষি কি বসে থাকে মত্ত-ধাবমান?
কবি ঘোরে মনে-বনে সাতআসমান (সম্পূর্ণ…)

মোঁপাসার ফেকায়

ইকতিয়ার চৌধুরী | ১৫ জুন ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ন

লুক্সেমবুর্গ বাগানের পাশেই ‘আন্তর্জাতিক লোক প্রশাসন ইনস্টিটিউট’। আটলান্টিক সাগর পাড়ের ফেকা যাত্রা সেখান থেকেই। ওই প্রতিষ্ঠানে আমরা জড়ো হয়েছি ৩৩টি দেশ হতে। তরুণ কুটনীতিবিদ আর প্রশাসকদের জন্যে এক বছর মেয়াদী কোর্সে আপাতত সবাই ছাত্র। প্যারিসে যতগুলো সুন্দর জার্দা বা বাগান আছে তার মধ্যে লুক্সেমবুর্গ একটি। পাশেই সিনেট ভবন। বাগানে নিসর্গ প্রেমীদের জন্যে চমৎকার বৃক্ষের সারি, ছাটা ঘাস, দীঘি, নানা রকম পাখি ও কবুতরের ঝাঁক সেই সাথে বসার জন্যে ছড়ানো চেয়ার।
১৯৯২ সাল। ইউরোপে এখন গ্রীষ্ম। ভোর ছটায় আমাদের লুক্সেমবুর্গ পৌঁছুতে বলা হয়েছে। তাতে খুব একটা অসুবিধে নেই। তাপমাত্রা গড়ে ১৬-১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া এত চমৎকার যে আমেরিকা আর কন্টিনেন্টের নানা প্রান্ত থেকে শানানো তরুণী আর তুখোড় যুবকেরা ছুটে আসছে প্যারিসে। গরমের কয়েকটি দিন প্রাণ খুলে র‌্যালা করতে। কিন্তু তারপরেও কথা থেকে যায়। প্রায় প্রতি সকালেই কুয়াশা জমে। ঠাণ্ডা। সূর্য আমার ঘুম ভাঙ্গাক এই আশায় প্রতিদিন আমি আমার চারতলার কাচের জানালার পর্দা সরিয়ে রাখি। কিন্তু তিনি ওঠেন দেরিতে। ততক্ষণে বেলা প্রায় আটটা। বিদেশি ছাত্রছাত্রিদের জন্যে আবাসিক এলাকা সিতে ইউনিভারসিতেয়ারে ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের ছেলে মেয়েদের হল ‘কলেজ ফ্রাঙ্কো-ব্রিটানিক’-এ পাকভারত উপমহাদেশ থেকে থাকছি চারজন। আমি ছাড়া মিয়ানমারের চো টিন্ট আর পাকিস্তানের নাসির আজহার ও শেরওয়ানী। তিনজনেই স্ব স্ব বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। ভেতরে ভেতরে বাঙালিদের প্রতি চো’র রয়েছে প্রচণ্ড নিচু ধারণা ও উন্মাষিকতা। সে এত লাজুক ও ভীত যে তা বাইরে প্রকাশের সাহস নেই। শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা নাসির যে পরিমাণ সরল, শেরওয়ানী সেই পরিমাণ ধূর্ত। যে কারণে তার সঠিক পেশা আমরা আজও উদ্ধার করতে পারিনি। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আমার সহপাঠী আর ইউরোপীয় শিক্ষকদের সামনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ১৯৭১-এ পাকিস্তানিরা ত্রিশ লক্ষ মানুষ হত্যা, দুলক্ষ নারী ধর্ষণ এবং প্রায় এক কোটি বাঙালিকে ভারতে বিতাড়নের মধ্য দিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছে তা বলার পরও নাসির আর শেরওয়ানী সম্পর্ক বজায় রাখতে কুণ্ঠিত নয় দেখে আমিও ওদের সাথে মিশছি অন্যান্যদের মতোই। (সম্পূর্ণ…)

লালাভ রোদের জিভ

ঝর্না রহমান | ১৫ জুন ২০১৮ ১১:১০ অপরাহ্ন


আমার ছায়াটা কোথায়? কোথায় উধাও হলো আমার ছায়াটা?
দারুণ ছায়াবাজি খেলতে খেলতে ফুটপাথ ধরে হাঁটছিলাম। পোষা পাখির মত ঝুপ ঝুপ নেমে আসছিল আমার ছায়া। হাত থেকে দানা খুঁটে খাচ্ছিল। আবার রোদের কারচুপিতে ঘুলঘুলিতে ফুড়ুৎ করে উড়ে যাচ্ছিল।
নতুন টাইলস বসানো ফুটপাথ। গোল গোল নকশা। ঘূর্ণিঝড়ের চোখের মতন ধারালো গোল। নকশা দেখতে সুন্দর। কিন্তু খানিকক্ষণ ঘূর্ণির চোখে চোখ রাখলে ধাঁধা লেগে যায়। ধাঁধার সমাধান করতে করতে আমি একবার ডান চোখ একবার বাঁ চোখ ছুঁয়ে যাই। আমার ভালো লাগে।
টাইলসের ওপর রোদ্দুরের ধাঁধা। গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা গোখুরের মত ফণা তুলে জ্বলতে থাকে রোদ। তার ওপর আমার ছায়া। আমার ঢেউ তোলা দেহের ছায়া। আমার পনিটেল করা চুল– চরকিবাজি টাট্টুর লেজ। আমি টাট্টু লেজ দুলিয়ে ছুটকি চালে হাঁটি। আমার ছায়াও ছুটকি চালে হাঁটে। ঘুমু ঘুমু হাঁটা ভালো লাগে না আমার। ছুটকি ছুটকি হাঁটা ভালো লাগছে। বিকেলের রোদ্দুর ভালো লাগছে। রোদ্দুরে ছায়াবাজিও। শীতঘুম ভেঙে বেরিয়ে আসা গোখরার লালচে আভা– দারুণ লাগে!
ফুটপাথের একপাশে খাঁজকাটা সিঁড়ি। আমার শরীরের ছায়াটা খাঁজের ভেতর নেমে পড়ে। ওয়ান্ডারফুল! দারুণ ইসথেটিক! ধাপে ধাপে ঢেউয়ের ছন্দে নামতে থাকে আমার ছায়া। ততক্ষণে রোদ্দুর ছায়ার জন্য কামাতুর হয়ে উঠছে! কামরাঙা রঙ লেগেছে রোদে। ওরে রোদ, দেখছিস না, আমার গাল লাল হয়ে উঠছে! আমি ছায়ার রেণু দিয়ে রোদ্দুরের নাম লিখে দিলাম– পার্থ! (সম্পূর্ণ…)

নাহার মনিকার গল্প: রূপান্তর

নাহার মনিকা | ১৫ জুন ২০১৮ ১:১০ অপরাহ্ন


মতামতে এই লেখাটা আপলোড হয়েছে। হোমপেজে দিয়ে দিন।অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরা।

ডিসকভারি চ্যানেলে একঝাঁক পাখি উড়ে যাওয়ার শব্দ চিড়ে মুহতারিমার স্বভাব-মৃদু কন্ঠ তীক্ষ্ণ হয়ে শোবার ঘরের বাতাস ফালা ফালা করে ভেসে আসছে- ‘আমি তো আগেই বলছি তোমার আম্মা আমাকে দেখতে পারে না, এখন বুঝছো?’
একটু পরে ইমন বেরিয়ে এসে থমথমে মুখ করে সোফায় বসে।
হামিদা বেগম টেলিভিশন দেখার চেষ্টা করছেন। মনের ভেতরের ঘূর্ণিঝড় বাইরে প্রকাশ না করার দক্ষতা আছে তার। শান্ত মুখে ছেলেকে বলেন- ‘ চলো তাহলে, আমাদেরকে বাসষ্ট্যান্ডে নামায় দিয়া আসো’।
-’আম্মা, ইতিকে নিয়া যাওয়া কি এতই জরুরী?’
এমন অনুনয় আসবে, জানতেন। জবাব না দিয়ে ইতিকে ডাক দেন হামিদা- ‘ ব্যাগগুলা উঠা, চল’।

এপ্রিল মাসের সকাল দ্রুত তেতে ওঠে! হামিদা বাসের জানালার পর্দ্দা টেনে দেন, ঢাকা-দিনাজপুর দূরপাল্লার এসি বাসগুলো এখন আরামদায়ক। ছেলে আর বৌমাকে খুশী রেখে ফিরছেন না, এটা কাঁটার মত বিঁধছে, কিন্তু ওরা যা করেছে তা মানা যায় না।

মাস দুই আগে ভোরের কুয়াশা ছিন্ন করে ইমন ফোন করেছিল। সকালবেলা ওদের ব্যস্ততার কথা জানেন হামিদা, কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ নিয়ে ফোন ধরেছিলেন।
‘আম্মা, একজনও পাওয়া গেল না?’- মীমকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ইমন। সোয়াদকে নিয়ে মুহতারিমা অফিস কামাই দিচ্ছে। একদিন ইমন অফিস বাদ দেয় তো আরেকদিন বউমা। প্রায় মাসখানেক তাদের কাজের বুয়া বাড়ি গিয়ে আর ফিরছে না। খোঁজ তো হামিদা করছেনই, কতজনকে বলে রেখেছেন। ভালো বেতন, থাকা খাওয়া সব। কিন্তু কেউ রাজী হয় না।
হামিদার স্বভাব জেনেও ইমন বায়না করে-‘ আম্মা, তুমি চলে আসো। কি এমন রাজ্যপাট তোমার ঐখানে, এখানে নাতি নাতনীর সঙ্গে সময় কাটবে’। (সম্পূর্ণ…)

টি. এস. এলিয়ট: শবদেহের সৎকার

আবদুস সেলিম | ১২ জুন ২০১৮ ৪:৪৯ অপরাহ্ন

মুল: টি. এস. এলিয়ট
অনুবাদ: আবদুস সেলিম

টমাস স্টার্ন এলিয়ট (১৮৮৮-১৯৬৫), আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম প্রধান পুরুষ, তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড-এর অধিকাংশ কবিতা রচনা করেছিলেন ১৯২১ সালে যা মুদ্রিত হয়েছিল ১৯২২-এ। পাঁচ ভাগে বিভক্ত দীর্ঘ ধারাবাহিক কবিতাগুলো হল: The Burial of the Dead; A Game of Chess; The Fire Sermon; Death by Water; এবং What the Thunder Said. কবিতাগুলো রচনার পেছনে, এলিয়ট-এর নিজ স্বীকারোক্তি মতে, মার্কিন কবি এজরা পাউন্ড-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পেয়েছিলেন। যে দু’টি ক্ষেত্রে তিনি এলিয়টকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সে দু’টি হলো: কবিতাগুলো থেকে দীর্ঘ অংশগুলো বাদ দিয়ে ঘণবিন্যাসে সাজানো, এবং ছন্দ-বিন্যাসকে ভেঙ্গে ফেলা। কবিতাগুলো তিনি এজরা পাউন্ডকেই উৎসর্গ করেছেন। ভিভিয়েন—এলিয়ট-এর স্ত্রী—তাঁর কাছ থেকেও তিনি অনেক পরামর্শ নিয়েছিলেন কবিতাগুলোর প্রকাশনার চূড়ান্ত পর্যায়ে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত য়ূরোপে আধুনিক সংস্কৃতির নামে যে অবক্ষয় নেমেছিল তার‍ই প্রতিচ্ছবি এই কবিতাগুলো, যদিও এলিয়ট তাঁর কবিতার মূল বাহন হিশেবে গ্রহণ করেছিলেন আবেগের চেয়ে বুদ্ধীদীপ্তি, বা বলা যায় বুদ্ধীদীপ্ত আবেগ। দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড-এ যে হতাশা আশ্রিত কবিতা তিনি রচনা করেছেন তাঁর উৎসমূল খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর প্রান্তভাগে রচিত লাতিন উপন্যাসিক গাইউস পেত্রনিতাস রচিত স্যাটিরিকন উপন্যাসের ট্রাইম্যালচিও চরিত্রের মুখে শোনা সিবিল নামে এক মহিলার উক্তি: আমি মরতে চাই। এই কালদর্শী মহিলা তাঁর ভবিষ্যতের ভয়াবহতার কথা বুঝতে পেরে ঐ উক্তি করেছিল। শুধু তাই নয়, এলিয়ট আরও দু’টি গ্রন্থ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন: জেসি ওয়েস্টন-এর From Ritual to Romance, (যার স্বীকারোক্তি মেলে তাঁর Notes on The Waste Land-এ), এবং জেমস জর্জ ফ্রেইজার-এর The Golden Bough. বর্তমান চিন্তাচেতনা এবং ধর্ম আচরণেও যে সেই পুরনো fertility ritual বা উর্বরতার ধর্মাচারের ধারাবাহিকতা উপস্থিত সে বিষয়টিই বিধৃত হয়েছে এই দুই গ্রন্থে। এলিয়ট এই দুই গ্রন্থে উল্লেখিত ফিশার কিং-কে প্রতীকী হিশেবে ব্যবহার করেছেন তাঁর কবিতাগুচ্ছে। (সম্পূর্ণ…)

আকেল হায়দারের একগুচ্ছ কবিতা

আকেল হায়দার | ১০ জুন ২০১৮ ১২:৫৫ অপরাহ্ন


স্ন্যাপচ্যাট

স্ন্যাপচ্যাটে আড্ডা দিতে গিয়ে সেদিন হঠাৎ বল্লে: আচ্ছা-আলাদীনের দুই দৈত্য যদি কখনো মুখোমুখি দাঁড়ায় কি হবে বল তো? শুনে খানিকটা ধন্ধে পড়ে গেলাম! খানিকটা বিরতি নিয়ে বললাম: কি আর হবে-? রোদেলা ফাগুন ফুঁড়ে একগুচ্ছ বর্ষণ মেঘ জন্ম নেবে- গুচ্ছ গুচ্ছ দমকা হাওয়া বইবে- স্রোতের তাড়া খেয়ে নদী মোহনায় ছুটবে-ঘাসবাহী নৌকাগুলো সবুজে লুটোপুটি খাবে-মেঘবাড়ী জানালায় বিজলী মেয়ে চোখটিপ দেবে-তরুণী ফুলগুলো কোমর দুলিয়ে গুলশানে হেঁটে বেড়াবে! ক্রমশঃ আরো ঘনীভূত হবে তাদের প্রেম! স্পর্শ দমকায় কেঁপে কেঁপে উঠবে মাটির পাটাতন। বৃষ্টিকলায় হিমবাহ জমবে পৃথিবী শরীরে। বৃক্ষরাজি কুর্নিশে করতালি দেবে। অতঃপর অথৈ জলস্রোতে নিমজ্জিত হবে তৃষ্ণার্ত বালিয়াড়ি। ঝড় থেমে গেলে পরস্পরকে খুঁজে বেড়াবে আপন বৃত্তে। আলাদীনের দৈত্যযুগল হয়তো ঘুমিয়ে যাবে ততক্ষনে!

জলদেবী

তুমি কি ঘাসফড়িং নাকি জলডিঙা? নাকি সমুদ্র কুঠুরীতে জেগে ওঠা খরস্রোতা দেবী। যাকে দেখে দাপাদাপি করে মেঘের শাড়ি। ঝিরঝির প্রোপাতে বাজে বাতাসী নুপুর। পাতার গ্রীবায় সম্মোহনে চুমু খেয়ে যায় লাল নীল প্রজাপতি। অনুভবে কেঁপে কেঁপে ওঠে যুবতী মাঠের বুক। বৈতরণী নাও চাতক দুপুর সওয়ারী করে ছোটে দিগন্তের দিকে। ঝিকিমিকি বিকেল পাঠ করে নদীর শরীর। সন্ধ্যাচোখে পালকীতে ফেরে একাকী জোনাকি। হৃদয়তারে বাজে করুণ সেতার। কে তুমি ক্ষণে ক্ষণে কড়া নাড়ো ঘুম দরোজায়? সুনামি হয়ে তোলপাড় করে যাও বুকের নির্জন সমভূমি। (সম্পূর্ণ…)

প্রথম নারী আলোকচিত্রী অ্যানা অ্যাটকিনস

দেবাশিস চক্রবর্তী | ৮ জুন ২০১৮ ১১:০২ পূর্বাহ্ন

ইংরেজ উদ্ভিদবিদ ও আলোকচিত্রী অ্যানা অ্যাটকিনসকে বিবেচনা করা হয় ইতিহাসের প্রথম নারী আলোকচিত্রী হিসেবে এবং তিনিই হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কিনা আলোকচিত্র সম্বলিত বই প্রকাশ করেছিলেন। এটিই ছিল বৈজ্ঞানিক গবেষণার মত জটিল কাজে আলোকচিত্রের প্রথম ব্যবহার। এই অগ্রগামী বিজ্ঞানী এবং শিল্পী ১৮৪৩ থেকে ১৮৫৪ পর্যন্ত তার সংগৃহীত জলজ উদ্ভিদ নমুনার আলোকচিত্র নিয়ে British Algae: Cyano type Impressions বইটি প্রকাশ করেন । পরবর্তীতে বইটির পরিবর্ধিত সংস্করণও প্রকাশিত হয়। প্রকৃত অর্থেই তিনি ছিলেন আলোকচিত্রের বই প্রকাশের পথিকৃৎ। এমন এক সময় তিনি কাজটি করেন, যখন প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞানচর্চায় নারীদের অগ্রযাত্রা ঠিক শুরু হয় নি। তখন এমন একটা সময় যখন মাত্রই নিপসে-ট্যালবট-দাগেরোর হাত ধরে আলোকচিত্র মাধ্যমের পথ চলা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কৌশল ব্যবহার করে মানবজাতি আলোকে বন্দী করার কৌশল রপ্ত করছে। কাছাকাছি সময়েই ১৮৪২ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিদ স্যার জন হার্শেল আলোকচিত্র মুদ্রণের একটি কৌশল আবিষ্কার করেন। সায়ানোটাইপ নামের এই বিশেষ বৈজ্ঞানিক কৌশলের আসল লক্ষ্য ছিল সহজ প্রক্রিয়ায় এবং কম খরচে স্থাপত্য সম্পর্কিত ড্রয়িং, স্কেচ, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি পুনর্মুদ্রণ করা। নীলচে বা সায়ান রঙের কারণে প্রক্রিয়াটি সায়ানোটাইপ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই কারণে আজও আমরা স্থাপত্য বিষয়ক প্রিন্টগুলোকে ‘ব্লু প্রিন্ট’ নামেই ডেকে থাকি। সায়ানোটাইপ আবিষ্কারের এক বছরের পরে, চুয়াল্লিশ বছরের অ্যানা অ্যাটকিনস অঙ্কন পদ্ধতির অসুবিধা কমানোর জন্য সামুদ্রিক উদ্ভিদের উপর এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা শুরু করেন। এতে করে বৈজ্ঞানিক চিত্রণকৌশলের এক নতুন দরজা খুলে যায়। (সম্পূর্ণ…)

প্রেম ও বর্ষার কবিতা

সৌরভ সিকদার | ৬ জুন ২০১৮ ১১:৩৩ অপরাহ্ন


অরুণা যেওনা তুমি, এই বর্ষায় যেওনা তুমি
তোমার শাড়ির সবুজ ঘাসে আজ
বসেছে রঙিন প্রজাপতি, ওর বড় উড়াউড়ি শখ
তোমার দীর্ঘ রেভলোন নখ
ছুঁয়ে যায় মহানগর থেকে মফস্বল
কৈশোরের প্রেমে আহত পুরুষ আজো ভয়ে নত
মনের গভীরে যে গভীর ক্ষত–
অরুণা, তাকে তুমি নতুন করে করো না আহত।
অরুণা যেওনা তুমি, যেওনা আমার সাথে
তোমার ডাইকরা চুল আজ উড়বে না মেঘের রাজ্যে,
বৃষ্টি আসবেই এবেলা নিশ্চিত জেনো
তোমার চিবুকে মেঘে মেঘে জমেছে অনেক ধূলো।

অরুণা, তুমি কি শুধু একাই বেসেছো ভালো
হতে পারে আমার অপুষ্ট মনের ভুলও –
তবু তোমার কাজলে ঢাকা টলটলে চোখ
আমি সেখানেও পড়ি অনাগত শ্লোক।
অরুণা আমি জানি, তোমার বর আছে
বাইশ বছরে হয়নি নিজের ঘর। (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা: লুলা আন্ধা আল্লাহর বান্দা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ৪ জুন ২০১৮ ১১:২২ অপরাহ্ন

আমি সেই লুলা আন্ধা
আমি সেই আল্লাহর বান্দা
আমি সেই ত্রিভঙ্গ ফকির।
আমারও জানা আছে
জগতের তাবৎ ধান্ধা আর ফিক্কির।
শিবনৃত্যে জুড়েছি বটে অনঙ্গ জিকির।

বটে আমি প্রেমিক, বটে আমি ধার্মিক।
বটে আমি রাজনীতিক, বটে আমি তার্কিক।
বটে আমি কবি, বটে আমি নই নবী।
বটে আমি গেরুয়া বসনে নদী সন্ত,
বটে আমি বহমান অনাদি অনন্ত।

বটে আমি মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত।
বটে আমি প্রয়োজনে সারেন্ডার জানি দুর্দান্ত।
বটে আমি সারাবেলা,
বটে আমি বোবা নজরুলের পাগলা চেলা;
আমার হাতে আণবিক বোমার চেয়ে
শক্তিশালী বৈদিক যুগের মাটির ঢেলা।
আমি বসে থাকি পদ্মাসনে।
আমি পটু বটে ত্রিভুবনে গমনাগমনে। (সম্পূর্ণ…)

দিন আসে দিন ফুরায়

সাইফ বরকতুল্লাহ | ২ জুন ২০১৮ ৭:০৭ অপরাহ্ন


পেন্সিল ও প্যাস্টেলে আঁকা ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

আকাশে আমাবস্যার চাঁদ। জানালার ফাঁক গলে মেঝেতে আলো ঝলমল করছে। শুটকি মাছের ভর্তা, মুলা শাক, ডাল ভর্তা দিয়ে রাতের খাবারটা শেষ করে শুয়ে সেকান্দার আলী বলছে, খাবার শেষ হয়নি? পায়ের গোড়ালিতে খুব ব্যাথা, টিপে দাও গো। কোনো কথা বলল না হাপ্পু বেগম। থালা, বাটি ধুঁয়ে পান বানিয়ে চাবাইতে চাবাইতে সেকান্দার আলীর পাশে এসে শুয়ে পড়ল সে।

টিনের ঘর। চারপাশ পাঠশোলা, ছনের তৈরি বেড়া দেওয়া। সামনে ও পিছনের দরজা বাঁশের ফালি দিয়ে লাগানো। ফাজিলপুর গ্রামের কামারপুর সড়কের পাশেই এই ঘরটিতে সেকান্দার আলী থাকেন। হাপ্পু বেগমের সঙ্গে তের বছরের সংসার। দুঃখ, বেদনা, যাতনা-এই ঘরটাতেই মিশে আছে বছরের পর বছর। এই তো তিনদিন আগেই দুইজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়ে গেল। অবশ্য এই ঝগড়া বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরকম ঝগড়া, মান-অভিমান তাদের মধ্যে প্রায়ই হয়। কিন্তু সেদিনের ঝগড়াটা ছিল বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে।

আজ থেকে তের বছর আগে হাপ্পু বেগমকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে সেকান্দার আলী। কিন্তু তাদের ঘরে কোনো সন্তান আসেনি। গ্রামের কত ডাক্তার, কবিরাজ, হুজুরের কাছে চিকিৎসা ও পানি পড়া নেওয়া হয়েছে সন্তান জন্মদানের জন্য- তার ইয়ত্তা নাই। কিন্তু কোনো ওষুধ কাজে আসেনি। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com