হোর্হে লুইস বোর্হেসের চাকতি

আনিসুজ্জামান | ৩০ মে ২০১৮ ১:৪৩ অপরাহ্ন

আর্হেন্তিনার কবি ও কথাসাহিত্যিক হোর্হে লুইস বোর্হেসের জন্ম ১৮৯৯ সালে বুয়েনোস আইরেসে। বনেদি পরিবারে জন্ম নেয়া এই লেখক সারা পৃথিবীর পাঠকদের কাছে তার অতুলনীয় গল্পগুলোর জন্য পরিচিত। কথাসাহিত্যে মৌলিকতা ও সুক্ষ্ণ শিল্পকুশলতা–এই দুই অনন্য অর্জন তাকে লেখকদের লেখক হওয়ার কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। মূল থেকে অনূদিত এই গল্পটি তিনি রচনা করেছিলেন যখন তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তিহীন। ১৯৮৬ সালে তিনি জেনেভায় মৃত্যুবরণ করেন। বি.স.

স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ: আনিসুজ জামান

আমি এক কাঠুরে। নামে কী বা আসে যায়। যে-কুটিরে জন্মেছি আর সম্ভবত যেখানে খুব শিগগিরই মারা যাব, সেটা এক বনের প্রান্তে।
শুনেছি বনটা নাকি সমুদ্রের মতোই বিস্তৃত যা সমস্ত পৃথিবীকে ঘিরে আছে, যেখানে আমারটার মতোই অনেক কাঠের কুটির আছে। কোনোদিন সমুদ্র দেখিনি; তাই জানিও না। বনের অপর প্রান্তটিও কখনো দেখিনি। আমার বড় ভাই, যখন আমরা ছোট, আমাকে দিয়ে শপথ করিয়েছিল, দু’জনে মিলে বনের শেষ গাছটিও কেটে ফেলব। বড় ভাই মরে গেছে। আর এখন আমি যা খুঁজছি এবং ভবিষ্যতেও যা খুঁজব তা অন্য কিছু। পশ্চিম দিকে যে নদীটি বয়ে গেছে সেখানে খালি হাতে মাছ ধরি। বনে অনেক নেকড়ে কিন্তু আমি ওদেরকে ভয় করি না। আর আমার কুঠার কোনোদিন আমার সাথে বেইমানি করেনি।
বয়স কত হয়েছে হিসাব করিনি। তবে জানি অনেক বছর পেরিয়ে এসেছি। চোখে আর তেমন দেখি না। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে গ্রামে যাওয়ার ঝুঁকি নিই না। কৃপণ হিসেবেই আমাকে সবাই জানে। কিন্তু বনের এক কাঠুরে কীই বা জমাতে পারে! (সম্পূর্ণ…)

ডেভিড বোয়ির প্রিয় শত বই

ফাহমিদা জামান ফ্লোরা | ২৮ মে ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ন


পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের যাদু ছড়ানো শিল্পী ডেভিড বোয়ি, যিনি তার নিজস্ব গায়কী এবং প্রতিভা দিয়ে পপ এবং রক দুনিয়ায় বিপ্লব এনেছিলেন। গায়ক, সুরকার, গীতিকার, অভিনয়শিল্পী, স্যাক্সোফোন বাদক-শিল্পের নানান শাখাতেই ছিল তার বৈশিষ্টপূর্ণ উপস্থিতি।
১৯৪৭ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বোয়ি মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের প্রথম ব্যান্ড তৈরি করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পর ১৯৬৯ সালে তার প্রকাশিত “স্পেস ওডিটি” এ্যালবামটি তাকে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। জিগি স্টারডাস্ট খ্যাত এ তারকা শুধু গান নয়, অভিনয়েও ছিলেন সমান পারদর্শী। অসংখ্য জনপ্রিয় এবং শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে সাড়া জাগানো গানের পাশাপাশি তার ভক্তদের ৩০ টিরও বেশি সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি বোয়ি ৬৯তম জন্মদিনে প্রকাশ করেন তার জীবনের শেষ এ্যালবাম “ব্লাকস্টার”। কিন্তু প্রত্যাশিত এ এ্যালবামটির সাফল্য স্বচক্ষে দেখে যেতে পারেন নি তিনি। অবশেষে ডেভিড বোয়ি ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মেনে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন।

বিচিত্র প্রতিভার অধিকারী এই ডেভিড বোয়ি ছিলেন একনিষ্ঠ পাঠক, যেমনটা আমরা দেখতে পাই বব ডিলানের ক্ষেত্রেও। তিনি ১৯৭৬ সালে মেক্সিকোতে “দ্যা ম্যান হু ফেল টু আর্থ” চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় সঙ্গে শতাধিক বই বহন করেছিলেন যা ছিলো একধরনের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর মতোই। “বই রাখার জন্য আমার এই কেবিনেটগুলো ছিল যেগুলো দেখতে অ্যামপ্লিফায়ার রাখার যে মস্ত বক্সগুলো দেখা যায় ঠিক সেগুলোর মতো”, বলছিলেন তিনি। “সহশিল্পী বাক হেনরি আরো বলেছিলেন, বোয়ি যে লিমোজিনে চড়তেন সেটাতেও এক ব্যাগ ভর্তি বই থাকতো। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: মন্ত্রী হবার পরে

স্বদেশ রায় | ২৭ মে ২০১৮ ১:২৪ পূর্বাহ্ন


আফরিদা তানজিম মাহির চিত্রকর্ম

মন্ত্রী হবার পরে আমার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাটা একটু বেড়ে গেলো
নিজের কাছে এ তাপমাত্রাটা ভালোই লাগে।
আগে এ তাপমাত্রা হলে আমি জ্বরাক্রান্ত রোগীর মত শুয়ে থাকতাম
শ্রমিক এলাকার খুপরী ঘরটিতে তখন কোন ফ্যান ছিলো না
তারপরেও আমার শীত করতো। আর এখন এ তাপমাত্রায় এসিটা
যত বেশি চালিয়ে দেই ততই আমার ভালো লাগে।
এখন হাঁটতে গেলে নিজেকে একটু বেশি দীর্ঘদেহী মনে হয়,
আগে যাদের দেহ দীর্ঘ বলে জানতাম তাদেরকে এখন খাটো মনে হয়-
যাদের বিদ্যাবুদ্ধির জন্যে সম্মান করতাম, তাদের সকলকে
এখন আমার নির্বোধ মনে হয়। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মুর্তজা বশীর: বাংলাদেশে কেউ শহীদুল্লাহকে নিয়ে কোনো গবেষণা করেনি

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ মে ২০১৮ ৩:১৪ অপরাহ্ন

শিল্পী মুর্তজা বশীরের এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে তার বাসায়। এই সাক্ষাৎকারে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিলেন তার পিতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। অডিও সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি.স.
Shahidulla n Murtaja
রাজু আলাউদ্দিন: ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে আমাদের সমাজে কিছু ধারণা অথবা ভুল ধারণা আছে। সেটা হলো, তার আচরিক জীবনে এমন কিছু ছিল যেগুলো পশ্চাৎপদতা বলে অনেকে মনে করেন। কিংবা প্রগতিশীল ধারণার অনুকূল না–এ রকম মনে করা হয়। যেমন ধরেন, ছবি আঁকা পছন্দ করতেন না। গান শুনতে উনি পছন্দ করতেন না। বা গানকে উৎসাহিত করতেন না। ছবি আঁকাকে উৎসাহিত করতেন না। আরো এমন সাংস্কৃতিক দিক আছে, যেগুলো সম্পর্কে উনার ভূমিকা নেতিবাচক বলে ধারণা করা হয়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই। কারণ, আপনি উনার অন্যতম সন্তান। আপনি নিজে ছবি আঁকেন। আপনি তাকে পিতা হিসেবে দেখেছেন।

মুর্তজা বশীর: আমার বড়বোনের লেখার মাধ্যমে গানবাজনা সম্পর্কে আমার পিতার কথা যেটা আমি জেনেছি সেটা এরকম: আমার বোন নাকি হারমোনিয়াম দিয়ে গান গাচ্ছিলেন, আমার বাবা হারমোনিয়াম ভেঙে ফেলেছেন। অন্যান্যদের কাছে শুনেছি, কোনো সভা-সমিতিতে যখন গান হতো, তিনি কানে আঙুল দিয়ে থাকতেন। আবার ঢাকার জগন্নাথ হলের এক প্রাক্তন ছাত্র, সুকুমার রায়ের এক লেখায় পড়েছি( বাসন্তিকা, হিরকজয়ন্তী সংখ্যা), সে লিখছে, সে একটু গানবাজনা করত, শহীদুল্লাহ তাকে ধরে নিয়ে প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরির মালিক আবদুর রশীদ সাহেবের বাড়িতে নিয়ে গেলেন, এবং সেখানে শহীদুল্লাহ তাঁর বগলদাবা থেকে তাঁর অনুবাদ হাফিজের লেখা গান বের করলেন এবং বললেন যে, তুমি এটার সুর করো। Daily Star পত্রিকায় একটি ছবি দেখেছি সুরকার আবদুল আহাদ পিয়ানোয় সুর তোলা অবস্থায় শহীদুল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে তিনি গান পছন্দ করছেন না এটা ঠিক সত্য না। আর ছবি আঁকার ব্যাপারটা আমি ভালো বলতে পারব এই জন্য, যেহেতু আমি তার সন্তান হিসেবে ছবি এঁকেছি। তবে আমার আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পেছনে, এটা সত্যি যে তার আগ্রহ বা অনাগ্রহ কোনোটাই ছিল না। আমি কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে ওখানে ভর্তি হই। আমার নিজেরও কোনো ছবি আাঁকার ইচ্ছে ছিল না। এবং আমি ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকতাম না। এবং স্কুল লাইফে ক্লাশে যে ড্রইং হতো, সেই ড্রইংয়ে আমি সব সময় শূন্য পেতাম। (সম্পূর্ণ…)

আশেক ইব্রাহীমের কবিতা: অপেক্ষা

আশেক ইব্রাহীম | ২৩ মে ২০১৮ ১:১৪ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ ইকবালের চিত্রকর্ম

১.
আমার পূর্বপূরুষের মৃত্যু
আমাকে ব্যাথিত করেনি
পৃথিবীর যত ক্লেদ-কান্না আর বিভৎস পাপ
আমাকে আহত করেনি
আমি অপেক্ষা করতে শিখেছি

আমার ঘরে
দরজার ওপাশে ওৎ পেতে অপেক্ষায় আছে মৃত্যু—
কাঁচের জানালার ওপাশ থেকে মিহিন আঙুলের ইশারায়
আমার ঘরের সমস্ত আসবাব অদ্ভুদ এক কোরাসে
আমাকে ঘুমিয়ে রাখে ঘুমের ভেতর
কোন কোন গভীর রাতে
অদ্ভুদ রিংটোনে বেজে ওঠে সিম্ফনি
ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি সেলফোনটা অন্ধ হয়ে পড়ে আছে
আমি নৈঃশব্দকে কাছে ডাকি—
কাছে এসো, আমার বাহুতে মাথা রেখে
একটু ঘুমোও
কি হবে আর
আমাকে অহেতুক শত্রুর মত পাহারায় রেখে! (সম্পূর্ণ…)

মারুফুল ইসলামের কবিতা: সাতজনের সংসার

মারুফুল ইসলাম | ২১ মে ২০১৮ ১২:০৩ অপরাহ্ন

১.

শায়েস্তানগরে আমাদের পাশের বাসায় এক সকালে ওরা এলো
ফুটফুটে ছোট্ট মেয়েটার নাম নাহিন

আমরা তখন তিন ভাই
এক বোন
নাহিনের মাকে আমি খালা ডাকতাম
তিনি সারাদিন খাটে শুয়ে থাকতেন
আমি আর নাহিন খেলতাম
কখনো আমদের বাসায়
কখনো ওদের
দুজনেই তখন পাঁচ


জলরংয়ে আঁকা ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

এক রাতে নাহিনের মার মৃত্যু হলে ওরা চলে গেল
আমাদের আর কখনোই দেখা হয়নি
আম্মাকে বললাম
আমার একটা বোন হলে ওর নাম রাখব
নাহিন (সম্পূর্ণ…)

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের কবিতা: মানুষের দেশে

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২০ মে ২০১৮ ৮:৩৮ অপরাহ্ন


চিত্রকর্ম:শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল

কিছুকাল মানুষের দেশে বসবাস করেছি,
নিজের ছায়াও তাদের শত্রু।
তারা হুমায়ূন আজাদকে খুন করে, নিহত করে ভোর।
বইয়ের বুকে চালায় চাকু, কালো অক্ষর রক্তাক্ত হয়ে কাঁদে।

পরশ্রীকাতর। স্ত্রীর চেয়ে বেশি ভালোবাসে অন্য নারী,
তার চেয়েও অনেক বেশী পছন্দ করে টাকা এবং মিথ্যে
মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণী মিথ্যে বলেনা,
অদ্ভূত দেশে সেই মানুষের সাথ বসবাস করে না পরীরা,
চাঁদও ভ্রমণে আসেনা, পাঠিয়ে দেয় জোছনা।

বুড়িগঙ্গার ওপাড়ে কন্যাসন্তান হলে তারা দুধের বদলে
খেতে দেয় জলগলানো আটাদুধ।
তারা বই পড়েনা কিন্তু বই লেখে, অযথা কবিতা লিখে
বাদ মাগরেবে আর কোনো কাজ করেনা! (সম্পূর্ণ…)

শিশুদের চিঠির জবাবে অজানা আইনস্টাইন

হোমায়রা আদিবা | ১৮ মে ২০১৮ ৫:২১ অপরাহ্ন

১৯১৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে কাজ শেষ করেন। দু’পাতার এই মাস্টারপিসই পরবর্তীতে তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেয়। একই বছরের ৪ নভেম্বর বার্লিন থেকে আইনস্টাইন ভিয়েনাতে তাঁর ১১ বছরের ছেলে হান্স আলবার্ট আইনস্টাইনকে লিখলেন,

‘প্রিয় আলবার্ট,
তোমার মিষ্টি চিঠি পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমি আনন্দিত যে তুমি পিয়ানো বেশ উপভোগ করছ, আমার মতে তোমার বয়সীদের জন্য এটা আর ছুতোরের কাজটি অবসরের প্রিয় বিনোদন, এমনকি স্কুলের চেয়েও বেশি প্রিয়। পিয়ানোর ক্ষেত্রে সেই সুরগুলোই বাজিয়ো যা তুমি উপভোগ করো, তোমার শিক্ষক যদি তা নাও বলে থাকে, তবুও। যে-কাজ করে তুমি এত বেশি আনন্দ পাও যে কখন সময় পার হয়ে যায় তা তুমি টেরই পাও না—এই ধরনের কাজ থেকেই তুমি সবচেয়ে বেশি শিখবে। মাঝে মাঝে আমি কাজে এতোটাই মগ্ন হয়ে যাই যে দুপুরের খাবার খেতেও ভুলে যাই। টেটের সাথে রিং টসও(এক ধরনের খেলা) খেলতে পারো, এতে তুমি আরও চটপটে হবে।
তোমাকে ও টেটেকে চুমু
বাবা

তোমাদের মাকে শুভেচ্ছা’ (সম্পূর্ণ…)

লতিফুল ইসলাম শিবলীর কবিতা ‘ফাদি আবু সালাহ্’

লতিফুল ইসলাম শিবলী | ১৬ মে ২০১৮ ৮:৫১ অপরাহ্ন


তোমাকে দেখার আগে
জানা ছিল না-
মানুষের পা কেড়ে নিলে
তার পিঠে গজায় ডানা,
আর হাঁটতে বাধা দিলে
মানুষ শিখে যায় উড়তে।

ওরা শুরু করেছিল তোমার পায়ের নিচের মাটি থেকে,
তাই প্রথমে ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার জমিন।

দেশ নামের যে এক চিলতে জেলখানায় তুমি থাকতে
সে জমিন শত শত শহীদের ভিড়ে কবেই হয়ে গেছে মর্ত্যের জান্নাত।

এরপর ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার শৈশব,
অথচ তুমি কখনোই শিশু ছিলে না,
তুমি ছিলে সেই জান্নাতের সবুজ আবাবিল। (সম্পূর্ণ…)

প্রকাশ বিশ্বাসের গল্প: আমাদের ইন্দ্রনাথ

প্রকাশ বিশ্বাস | ১৬ মে ২০১৮ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

১.
গাবের ম্যাজেন্টা রংয়ের পাতা আর জামের পাতলা কিশলয়, বরুণ—বৈন্যা গাছের সাদা ফুলের ঝাড়, বান্দরনলা–সোনালু গুচ্ছের আবডাল থেকে ঝিরঝিরি বাতাস হঠাৎ বেগ পেয়ে বাউকুড়ানির রূপ নিয়ে ধেয়ে আসে। চৈত্রের এই সব দুপুরে রোদে জ্বলা দোআঁশ মাটির গ্রাম হালটের বুক পিঠে বাতাসের ঝাপটা এসে লাগে নাকে মুখে, খসে যাওয়া ঝরা পাতা আর ধুলার ঘূর্ণি পমেট, ট্যালকম পাউডারের মতো আমাদের সবার কাঁচা মুখগুলো ধূসরিত করে যায়।
আমাদের গ্রামগুলোতে সে মাসে দোল আসে, শিবের গাজন, আর দেল নামে, চড়ক পূজা হয় দূরের গ্রামে, আসে মুইখ্যা কাচ (মুখোস নৃত্য) খেলার বাহার।

অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরা
আমরা তখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বেজায় দুরন্ত, কেউ আলাভোলা, কেউ বা পরিপাটী কেতা দুরস্ত ভালোছাত্র। কেউ স্কুলে যাওয়ার নাম করে ঘুড্ডি উড়িয়ে বেড়ায়, কেউ মার্বেল-ডাংগুলিতে আসক্ত, গরু চড়ানোর নড়ি দিয়ে ছ্যুল খেলা খেলে, আবার কেউ সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়াবান্ধা। (সম্পূর্ণ…)

ভূমেন্দ্র গুহ: পশ্চিমবঙ্গ বলে একটা দেশ যার কোনো পিতা নেই, মাতা নেই, চরিত্র নেই, কিচ্ছু নেই

রাজু আলাউদ্দিন | ১৫ মে ২০১৮ ৬:৪০ অপরাহ্ন


২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল একেবারে অপরিকল্পিতভাবেই দেখা হয়েছিল কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ভূমেন্দ্র গুহর সাথে কোলকাতায় তার নিজস্ব বাসভবনে। অসামান্য এই ব্যক্তিত্বের সাথে দেখা করার সুযোগটা করে দিয়েছিল আমার বন্ধু কবি রাহুল পুরকায়স্থ। বিকেলের দিকে রাহুলের সাথে কফি হাউজে দেখা করার কথা। লক্ষ্য ওখানে বসে আড্ডা দেয়া কিংবা রাহুলের হাত ধরে কোলকাতার অলিগলি ঘুরে দেখা। কফি হাউজে পৌঁছাতেই রাহুল বললো, ভূমেনদার সাথে তোমার কখনো আলাপ হয়েছে, পরিচয় আছে তার সাথে? আমি বললাম, এই মশহুর মানুষটির খ্যাতির সুবাস পাচ্ছি অনেক বছর থেকেই, কিন্তু কোনদিন দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। দেখা হয়নি কখনো? না। তাহলে চলো ভূমেনদার সাথে তোমার দেখা করিয়ে দেই। সে কি? এখনই? হ্যাঁ, অসুবিধা আছে কোনো? না না, অসুবিধা নেই। আমিতো ভাবতেই পারছি না কিংবদন্তীতুল্য এই মানুষটির সাথে এত সহজেই দেখা করা সম্ভব। রাহুল আমার বিস্ময়সূচক সম্মতি পেয়েই বলে উঠলো, চলো তাহলে। কিন্তু তাকে আগে জানাবে না যে আমরা আসছি? রাহুল প্রায় তোয়াক্কাহীন ভঙ্গিতে বললো, বলতে হবে না, চল। তক্ষুণি একটা ট্যাক্সি ধরে আমরা রওয়ানা হয়ে গেলাম করুণময়ী সল্ট লেকের দিকে। তখন বোধহয় কোন এক ছুটির দিন ছিল সেটা। রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা। রাহুল মাঝেমধ্যেই কথার ফাঁকে ফাঁকে আশেপাশে কী যেন খুঁজছিল। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম বোধহয় ভূমেনদার বাড়ি খুঁজছে। কী খুঁজছ জিজ্ঞেস করে তখন কোনো সদুত্তর পাইনি। এর উত্তর পাওয়া গেল পরে, ভূমেনদা আর রাহুলের আলাপচারিতার ভেতরে। সম্ভবত ২০/২৫ মিনিট লেগেছিল তার বাসায় পৌঁছুতে। সুউচ্চ এক ফ্ল্যাট বাড়ির তৃতীয় তলায় গিয়ে রাহুল কলিং বেল-এ টিপ দিতেই এক যুবতী নারী দরজা খুলে দিলেন। সম্ভবত ভূমেনদার মেয়ে হবেন। ভূমেনদা আছেন না?–এটা প্রশ্ন হলেও রাহুল এমনভাবে বললো যেন ভূমেনদা আছেন, রাহুলের এতে কোনো সন্দেহ নেই। স্রেফ সৌজন্যের খাতিরে জিজ্ঞেস করে প্রবেশ করতে হয়, তাই এই প্রশ্ন। সেই নারী আমাদেরকে অতিথি কক্ষে বসিয়ে ভূমেনদাকে ডাকতে গেলেন। অতিথি কক্ষের দক্ষিণদিকে একটা দরজা যেটা যুক্ত হয়েছে এই বাসার একদিলের বারান্দার সাথে। ওখানে একটা
জলচৌকিতে বসে উবু হয়ে বসে আছেন তিনি, চারিদিকে শিশুর খেলনার মতো পাণ্ডুলিপি অার বইপত্র ছড়ানো ছিটানো। পরনে একটা চেক লুঙ্গি, গায়ে হাতাকাটা গেঞ্চি। রাহুলের আওয়াজ পেয়েই তিনি কাত হয়ে রাহুলকে দেখতে পেয়ে উঠে এলেন অতিথি কক্ষে। গায়ের রং ফর্সা। তিনি প্রবেশ করতেই রাহুল তার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমি উঠে দাঁড়িয়ে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। আমার সম্পর্কে রাহুল এটা সেটা বললো, প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা যেমনটা করি থাকি। রাহুলের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, সাহেবকে নিয়ে এলেন, কিন্তু ‘জিনিস’ নিয়ে এলেন না যে। আমি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে ফেললাম এই ‘জিনিস’-এর মানে। রাহুল জবাবদিহির ভঙ্গিতে জানালো, খুঁজেছি, পেলাম না। সবগুলোই বন্ধ পেলাম। ভূমেনদা রাহুলের উত্তরে নির্বাপিত না হয়ে অন্য একটা ঠিকানা দিলেন। রাহুল সেখানে যেতে উদ্যত হতেই, আমি সদ্য জ্বলে ওঠা উৎসাহের শিখাটিকে ফু দিয়ে নিভিয়ে দেয়ার জন্য বললাম, ভূমেনদা, আজ নয়, কারণ বৌবাচ্চাদেরকে হোটেলে রেখে এসেছি। ওরা ক্লান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে। উঠেই আমার উপস্থিতি আশা করবে। সুতরাং, পরের বারের জন্য এই আতিথেয়তা বরাদ্দ থাকুক। ভূমেনদার বয়স তখন ৮২ বছর, এই বয়সেও তিনি দিব্য সিগারেট ফুকছেন, এমনকি সোমরসেও তার আসক্তি অটুট আছে দেখে আমি সত্যি অবাক হয়েছি। নিজে ডাক্তার ছিলেন, খুবই বড় নামকরা ডাক্তার। কিন্তুু বাঙালি-কথিত এইসব ‘বদভ্যাস’ থেকে নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে রাখেননি। তার সাথে এটা সেটা টুকটাক কথাবার্তা চলতেই আমি তার সাথে কথাবার্তা রেকর্ড করার অনুমতি এক প্রশ্ন করার অনুমতি চাইতেই তিনি উদারতার সাথে সম্মতি দিলেন। প্রয়াত ভূমেনদার সাথে আমার আলাপচারিতার পূর্ণ বিবরণটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বিডিআর্টসের পাঠকের জন্য অপ্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারটি শ্রতি থেকে লিপিরূপটি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহসাত।–রাজু আলাউদ্দিন। (সম্পূর্ণ…)

বিশ শতকের বহুলপঠিত নারীবাদী কথাসাহিত্য

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৪ মে ২০১৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন


যদিও অসামান্য এই কথাসাহিত্যগুলো নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল নারীদের হাত থেকে, তার বিষয়বস্তুও ছিল নারী, কিন্তু তার পাঠক কেবল নারীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সর্বজনীনতার গুণে তার পাঠক ছিল নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলেই।
অন্য অনেক কিছুর মতোই অনেক আগে থেকেই সাহিত্য জগতও পুরুষশাসিত। সেখানে নারীদের লেখালেখি অনেকের জন্য যন্ত্রণাদায়কও বটে। .আঠারো শতকের শেষের দিকে গল্প পড়া–বিশেষ করে সেই লেখা যদি কোন নারীর হতো–তাহলে তা নারীদের জন্য মানসিক ও শারিরীকভাবে বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিত। পরিস্থিতির উদাহরণ দিতে গেলে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের বিখ্যাত দুই লেখিকা বোনের কথা বলা যেতে পারে, যারা ব্রন্টি সিস্টারস নামে সাহিত্য জগতে পরিচিত লাভ করেছেন; শুরুতে তারাও পুরুষের ছদ্মনামে লেখা প্রকাশ করতেন। প্রেম-ভালোবাসার গল্প রীতিমত নিষিদ্ধ এক বস্তু ছিল তাদের জন্য। ইংল্যান্ডে তখন বিদ্যমান ছিল এক কর্তৃত্বপূর্ণ সংস্কৃতি, নারীদের শিল্প-সাহিত্য চর্চা ছিল বিপজ্জনক। সেই পরিস্থিতি বদল হতে অনেক কাল লেগেছিল।

বর্তমানে প্রকাশক, বিক্রেতা ও সমালোচকরা কোন সাহিত্য কি ধরনের, তার জন্য শুরুতেই তারা একটি লেবেল বা মার্কা দিয়ে দেন; যাতে করে পাঠকরা সহজেই নির্দিষ্ট বইটি খুঁজে পেতে পারেন। যেমন একটি বইকে যদি “গোয়েন্দা গল্প” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে গোয়েন্দা বইয়ের পাঠকদের জন্য তা বিশেষভাবে সহায়ক হয়। প্রকাশক ও বই বিক্রেতারা এমন যুক্তিই তুলে ধরেন। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com