arts.bdnews24.com » 2018 » April

মোহাম্মদ ইকবাল: যুদ্ধ মানে রাইফেল নিয়ে, পতাকা নিয়ে দৌড়াচ্ছে— শুধু এটাই না

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৩০ এপ্রিল ২০১৮ ১:১৩ অপরাহ্ন

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

মোহাম্মদ ইকবালের ক্যানভাসে জাপানি কাগজে আঁকা বিস্ফোরিত ক্ষয়িষ্ণু চোখেরা তাড়িয়ে বেড়াবে যে কোন অনুভূতিপ্রবণ মানুষকে। জগতের সমস্ত অন্যায়, অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রঙ ও রেখায় যেনো প্রতিবাদ করছেন শিল্পী। জাপানে শিক্ষা নেয়া এই শিল্পী ২০০৫ সালে পেয়েছেন চিত্রকলায় দেশটির জাতীয়ভাবে প্রদত্ত আওকি সিগেরু গ্রান্ড প্রাইজ, অথচ নিজের দেশেই বলা যায় তার প্রতিভা প্রচারের আলোর বাইরে। ইকবাল তাঁর উদ্ভাবনী কৌশল, নিরীক্ষাপ্রবণতা ও স্বতন্ত্র বিষয়ের গুণে বাংলাদেশের চিত্রকলার ভুবনে এক সম্ভাবনাময় চিত্রকর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন চারুকলার শিক্ষার্থী থাকতেই। দীর্ঘ সময় তিনি কাজ করে সমাজবিচ্ছিন্ন, গৃহত্যাগী, সংসারে উদাসীন মানব-মানবীর যে-চিত্র অঙ্কন করেছিলেন, তাতে তাঁর শিল্পীমনের আর্তি ছিল। এসব ছিন্নমূল মানুষের জীবনের অন্তর্গত বোধকে তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গে রূপায়িত করেছিলেন তার তেলরঙের ক্যানভাসে। শিল্পী ইকবাল তাঁর শিল্পীজীবনের এক পর্বে এবং সৃজনে এই ব্যবহার্য বস্তুসামগ্রী ঢালাওভাবে ব্যবহার করে নিজেকে আলাদা পরিচয়ে চিহ্নিত করেছিলেন।

পরবর্তীকালে সন্ন্যাস-জীবনের নানা অনুষঙ্গের পাশাপাশি তিনি অঙ্কন করেছিলেন সাধারণ মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক ও মানুষের নানা অভিব্যক্তির অবয়ব। কষ্ট ও যন্ত্রণার ছায়া ছিল এসব সাধারণ লোকের মুখাবয়বে। অভিনবত্বে, চমৎকারিত্বে ও রং-ব্যবহারের মনোজ সুষমার কারণে তাঁর সৃজনভূমি মৃত্তিকালগ্ন ও দেশভাবনার উজ্জ্বল প্রকাশ বলে বিবেচিত হয়েছিল।

মোহাম্মদ ইকবালের জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৮ই জুন চুয়াডাঙ্গা শহরে। বাবা আশরাফ উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মাতা নূরজাহান বেগমের দশ সন্তানের মধ্যে পঞ্চম পুত্র ইকবাল। ১৯৮২ সালে শিল্পী হবার স্বপ্ন নিয়ে শিল্পশিক্ষা শুরু করেছিলেন চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগে। ১৯৮৯ সালে সম্পন্ন হয় তার স্নাতকোত্তর।

চারুশিক্ষা পেয়েছেন মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাজী আবদুল বাসেত, রফিকুন নবীর মতো বড় শিল্পীদের। ইকবাল জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৯৯ সালে জাপান যান। চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা তাঁর মানসভুবনকে আরো পরিশীলিত, সমৃদ্ধ, নিরীক্ষাপ্রবণ ও শিল্পের অন্বিষ্টভুবন নির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। (সম্পূর্ণ…)

গার্সিয়া মার্কেসের ডিজিটাল তথ্যনিকেতনে ২৭ হাজার ৫ শ আইটেম উন্মুক্ত

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৮ এপ্রিল ২০১৮ ৩:৪০ অপরাহ্ন

গার্সিয়া মার্কেসকে নিয়ে তৈরি নতুন ডিজিটাল তথ্যনিকেতনে উন্মুক্ত হলো ২৭ হাজারেরও বেশি চিঠিপত্র, পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা, আলোকচিত্র ও আরও বহু কিছু।


আলোকচিত্র: ১৯৬৬ সালের মার্চ মাসে গার্সিয়া মার্কেস কলোম্বিয়ার আরাকাতাকায়

২০১৪ সালের এপ্রিলে যখন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস মারা গেলেন, তখন বলা হয়েছিল, স্প্যানিশ ভাষায় কলাম্বিয়ান এই লেখকের সৃষ্টি কর্মের তুলনায় শুধুমাত্র বাইবেলই বেশি বিক্রি হয়েছে। ১৯৬৭ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস রিভিউতে এক পর্যালোচনা লিখতে গিয়ে বিখ্যাত আমেরিকান লেখক উইলিয়াম কেনেডি উল্লেখ করেন, “সাহিত্যের প্রথম পাঠ্যবই হিসেবে আদিপুস্তক জেনেসিসের পর সমগ্র মানব জাতিকে যদি কোন বই পড়তে হয়, তাহলে নিঃসঙ্গতার একশো বছর (One Hundred Years of Solitude ) পড়া উচিত”।
গার্সিয়া মার্কেস এ ধরনের অতি প্রশংসাকে অপছন্দ করতে শুরু করেছিলেন। কেননা, এসব প্রশংসা, স্তুতি প্রত্যাশার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। বিশেষ করে নিঃসঙ্গতার একশো বছর-এর অবিশ্বাস্য সফলতা অর্জনের পর মার্কেসের মনে হচ্ছিল, তিনি তার পরবর্তী লেখায় ঐরকমভাবে আর পুরোপুরি সফল হতে পারছেন না। বইটি সেসময় দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় প্রত্যেকেই পড়েছিল। বিপুল জনপ্রিয়তার চাপে ক্লান্ত মার্কেস ভীড় এড়ানোর জন্য স্পেন পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্ত তাতেও কি মুক্তি মেলে! সেখানে আরেক শক্তিমান লেখক মারিও বার্গাস য়োসা তাকে নিয়ে রীতিমত ডক্টরাল গবেষণা প্রবন্ধ লেখা আরম্ভ করলেন। (সম্পূর্ণ…)

বেলাল চৌধুরী: বাংলা কবিতার আজন্ম বাউল

কামরুল হাসান | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ ২:৩৭ অপরাহ্ন

আমাদের সাহিত্যাঙ্গণে তার চেয়ে বর্ণাঢ্য জীবন বোধকরি খুব কমজনই যাপন করতে পেরেছেন। এর তুলনীয় হতে পারে সৈয়দ শামসুল হকের বর্ণাঢ্য জীবন। যৌবনের প্রদোষকালে তিনি ঘর ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন পশ্চিমে। তবে পশ্চিম বলতে আমরা যে মহাদেশকে বুঝি, তিনি সেখানে যান নি, তিনি গিয়েছিলেন পশ্চিম বাংলায়, বাংলা সাহিত্যের রত্নভাণ্ডার যেখানে সজ্জিত।

যে ভাষার প্রেমে পড়ে তিনি আজন্ম বাউল জীবন বেছে নিয়েছিলেন, স্কুল জীবনেই সেই বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার জন্য সোচ্চার হলেন। বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনে জড়িত হয়ে জেল পর্যন্ত খেটেছেন। এ ভারি গৌরবের। তাঁর ছিল সমুদ্রে মাছ ধরার বাতিক। একদিন সামুদ্রিক জাহাজে চড়ে হাজির হলেন কলকাতা বন্দরে। সেই যে নামলেন এক অপরূপ ডাঙ্গায়, রয়ে গেলেন পুরো দশটি বছর। কলকাতা তখন অনেকটা দূরের পথই ছিল। ঢাকার সাথে আজ যে যোগাযোগ কলকাতার, সেসময়ে এর সিকিভাগও ছিল না। দুই বাংলার সংযোগহীনতার সেইসব দিনে কবি বেলাল চৌধুরী ছিলেন সংযোগ। কলকাতা তাকে ঘরের ছেলের মতোই গ্রহণ করেছিল। আজন্ম বাউল স্বভাবের এ কবি দিনরাত কাটিয়েছেন পশ্চিমের সব রথীমহারথীদের সাথে, যারা ছিল তার বন্ধু, নৈশ আড্ডার সখা। সেখানকার লেখককুলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত, অনেকে ভাবতেন তিনি পশ্চিম বাংলারই লোক। তাঁর বন্ধু তালিকাটি ঈর্ষাজনক। কে নেই সেখানে? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, দেবেশ রায়, কমল কুমার মজুমদার, তারাপদ রায়, শিবনারায়ন রায়, কমল দে সিকদার, অরুণ ভাদুরী, উৎপল কুমার বসু প্রমুখ সব বড় বড় নাম। তুমুল আড্ডায় আর আনন্দে, যাকে বলে তূরীয়ানন্দে কেটেছে সেসব দিন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের বহুপৃষ্ঠায় লিখিত এইসব দিনরাত্রির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তার নাম। কলকাতায় বর্ণময় সময় কাটানোর সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং কিছুকাল বিখ্যাত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। (সম্পূর্ণ…)

কবি বেলাল চৌধুরী : পথিক না পরিব্রাজক?

বিভুরঞ্জন সরকার | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ন

বেশ কিছুদিন থেকেই তার শরীর ভালো যাচ্ছিল না। ২০১৪ সালের পর থেকে মাঝে মাঝেই তাকে হাসপাতালে যেতে হচ্ছিল। কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আবার বাসায় ফিরছিলেন। এবার ফিরলেন, তবে কিন্তু না-ফেরার দেশে যাওয়ার জন্য। এবার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল ১৮ এপ্রিল। টানা কয়েক দিন লাইফসাপোর্টে থাকার পর ২৪ এপ্রিল দুপুর ১২ টার দিকে মৃত ঘোষণা করা হয় কবি বেলাল চৌধুরীকে। তাকে কবি বলা হয়, কবি হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত কিন্তু তিনি আসলে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন মানুষ। জন্ম ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর। সে হিসেবে প্রায় ৮০ বছরের জীবন। একেবারে ছোট নয়। এই এক জীবনে বহু কাজ করেছেন ফেনির সন্তান বেলাল চৌধুরী।
কি না করেছেন তিনি। বামপন্থি রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। জেল খেটেছেন। পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে কলকাতা গিয়ে উদ্বাস্তু জীবন কাটিয়েছেন। অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। প্রবন্ধ লিখেছেন। বিদেশি সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেছেন। সাংবাদিকতা করেছেন। পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন। আর সব থেকে যেটা বেশি করেছেন সেটা হলো চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেন, বেলাল ভাই যদি একটু কম আড্ডা দিতেন, সময়টাকে যদি এতো কম মূল্যবান ভেবে ওভাবে খরচ না করতেন, তাহলে তিনি আরো অনেক বেশি লিখতে পারতেন। বাংলা সাহিত্য তার কাছ থেকে আরো বেশি সোনালি ফসল পেতে পারতো।
কিন্তু বেলাল ভাই বলতেন অন্য কথা। তিনি বলতেন তিনি ততোটুকুই করেন যতোটুকু তার করার কথা। সময়ের সঙ্গে তার কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের ফাঁকি দিয়ে ওপার বাংলায় গিয়ে প্রথম দিকে খুবই কষ্টের জীবন কাটিয়েছেন। থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। তার নিজের কথায় ‘যেখানে রাত, সেখানে কাত’ অবস্থায় কেটেছে অনেক দিন। তারপর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়সহ কলকাতার কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় এবং সখ্য গড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে একধরনের স্থিতি এসেছিল তার জীবনে। (সম্পূর্ণ…)

মেধাসম্পদ বিকাশে কপিরাইটের ভূমিকা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

মেধাসম্পদ কি? – খুব সহজ কথায় বলা যায়, মানুষ নিজে যে মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, সেই মেধা সচেতনভাবে খাটিয়ে যে ধরনের সম্পদ তৈরি করতে সক্ষম, তা-ই মেধাসম্পদ। রবীণ্দ্রনাথ জন্মসূত্রে কবিতা লেখার মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই মেধা খাটিয়ে তিনি ‘গীতবিতান’ রচনা করেছেন। অতএব তাঁর সৃষ্ট ‘গীতবিতান’ তাঁর মেধাসম্পদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

এই সম্পদ মানুষের গতানুগতিক সম্পদ অর্থাৎ জমিজমা, টাকাপয়সা বা সোনারূপার চেয়ে আলাদা এক সম্পদ। জমিজমা, দালানকোঠা ইত্যাদিকে আমরা বলি স্থাবর সম্পদ; অন্যদিকে টাকা-পয়সা কিংবা সোনা-রূপা ইত্যাদিকে বলি অস্থাবর সম্পদ। এগুলোর মালিকানা সহজেই হস্তান্তরযোগ্য। মেধা-সম্পদ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক অস্তিত্ব, সক্ষমতা ও তার প্রয়োগ-কুশলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিধায় তাকে ব্যক্তি-স্রষ্টা থেকে আলাদা করা যায় না। তাই ব্যক্তির সত্তালীন সৃষ্টিশীলতাই এই সম্পদের উৎস।

এই ব্যক্তিলীন সৃষ্টিশীলতার দুই প্রধান উপাদান : স্বজ্ঞা ও প্রজ্ঞা। স্বজ্ঞা তার জন্মগত জ্ঞান; আর প্রজ্ঞা তার অধীত, চর্চিত ও অভিজ্ঞতালব্ধ বোধ-বুদ্ধি, বিদ্যা, চর্চা ও প্রয়োগকৌশলের ফসল। এ দুয়ের সমন্বয়েই তার সৃষ্টিশীলতার ফলপ্রসূতা। এই সৃষ্টিশীলতাই ব্যক্তিস্রষ্টার অস্তিত্বের সমার্থক। তাই তার অধিকার বা সুফল-কুফলও একমাত্র তারই কর্তৃত্বাধীন। আসলে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, যেমন জমিদারের জমিজমা বা লেখকের কালি-কলমের চেয়েও ব্যক্তির সৃষ্টিশীলতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।ব্যক্তির সৃষ্টিশীলতার উৎসজাত ও স্রষ্টার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ-কর্ম কতো বেশি মূল্যবান তা একবিংশ শতাব্দীর ধনীগরীবসহ জগতের সকল সম্প্রদায়ই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে চলেছেন। আশার কথা, বাংলাদেশেও সেই বোধ-বুদ্ধিকেন্দ্রিক সৃষ্টিসম্পদের অপরিহার্যতার বার্তা এসে পৌঁছেছে। তাই মেধাসম্পদকে সুরক্ষা দেয়া আজ যুগের দাবি। (সম্পূর্ণ…)

শামীম আজাদ: তাকিয়ে দেখি তলানীতে রক্ত পড়ে আছে

শামীম আজাদ | ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ২:৩০ অপরাহ্ন


বলেছিলাম চলো,
পেয়ালা ভরে পান করি
চা দিয়ে বেরিয়ে গেলে
চোখ বুজে চা নিঃশেষ করে
তাকিয়ে দেখি তলানীতে রক্ত পড়ে আছে


কেন সে কঠিন শব্দগুলোর মালিকানা নিলে
এখন তুমি ও তারা ত্বক হয়ে গেছ আর
কিছুতেই আমার গা থেকে খুলছ না


আমি যখন হাঁটি
আমার কাঁধে চড়ে
পরিভ্রমন করে
তিন সিঁড়ি নব্বুই জন
তাদের গন্ধ পাই না
দেখতেও পাই না
শুধু দুঃসহ ভার টের পাই (সম্পূর্ণ…)

অনেক অনেক চুমু ও ভালোবাসা নিও

মাজহার সরকার | ২২ এপ্রিল ২০১৮ ৭:৫৫ অপরাহ্ন

১.
আজও আমি লাল বাস, দুপুর ও যুথীকে ভালোবাসি
হাত ফসকে উড়ে যায় পাখি পাখি
পাখি উড়ে যায়
এই ভয়ে চোখ বুজে রাখি।
আজও আমি যাই মহাখালী, বিদ্যুৎবিকীর্ণ হাতে
ভালোবাসা শুইয়ে রাখি
শুধু টুকরো রুমাল নাড়ি, ক্ষতের চারপাশে ওড়ে রক্তলিপ্সু মাছি।
আজও টুপটুপ টুপটুপ মাংস ঝরে যায়
বাগানগুলো বধ্যভূমি হয়ে ওঠে, পুড়ে যায় অমল খামার
বাড়ি,
আজও পৃথিবী শেকড় বাকড় অবিরল আগাছা কেবল
চড়া বাল্ব মাছের বাজারে ভাঙা বরফ বাঁশের ঝুড়ি
মহাখালী মহাখালী, চারদিকে ইতস্তত শসার খোসা
মাথা নিচু করে হাঁটি, মাথা নিচু করে হাঁটি। (সম্পূর্ণ…)

থাকো ধরণীতে থাকো আকাশে

আকতার হোসেন | ২২ এপ্রিল ২০১৮ ৭:৩৭ অপরাহ্ন

তুমি ঢাকতে থাকো। ঢাকতে থাকো। ঢাকতে ঢাকতে আদিম মমি হয়ে যাও যেন নিজেকেই আর চিনতে পার না। পারলে চলন ঢাকো। বলন ঢাকো। প্রেমময় অনুভূতি ঢাকো।
তুমি স্বতন্ত্র ছিলে, আজ সেই স্বাতন্ত্র্য ঢাকো। তুমি মায়া ঢাকো, ছায়া ঢাকো, তুমি বিশালতাকে ঢেকে রাখো। অনিশ্চিত আক্রোশ কামনায় তুমি আবৃত কর মায়ার বাঁধন। অভিমানে, বিচ্ছেদের খেলা খেল। তুমি অন্তহীন নিজেকে আড়াল করে রাখো, তুমি ঢাকতে থাকো।
এখানে ঢাকো। ওখানে ঢাকো। দুই তিন কিংবা চারবার করে ঢাকো। ওটা ঢাকো, সেটা ঢাকো। সবদিক দিয়ে ঢেকে রাখো। জগতে ঢাকাঢাকি ছাড়া তোমার অন্য কোন কাজ নেই। যতোটুকু চিনি মেশালে পানি সরবত হয়ে যায়, তার থেকে বেশি ঢালতে থাকো। পানি আর চিনি একই পাত্রে অবস্থান তবুও ওরা পারবে না মিশতে। কারণ সে অতিরিক্ত। তুমি তেমনি অতিরিক্ত ঢাকতে থাকো নিজেকে।
আমিও ঢাকি। যতোটুকু যেখানে প্রয়োজন ততোটুকু মান্য করি। কাউকে অবিশ্বাস করে কিছু ঢাকি না। ঢাকি লজ্জা না পেতে। তোমার ঢাকাঢাকি আমাকে লজ্জা দেয়। আমি যতোটুকু ঢেকে রাখি, যে কারণে ঢাকি, তুমি তার থেকে অনেক বেশি ঢেকে রাখো। ভুলে যাও যে, আমি হাজার বার বলি, বারবার বলি এক সঙ্গে থাকবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছি আমরা। আমি পদে পদে তোমার লুপ্ত সম্মানের কথা বলি, বলি হারানো মর্যাদার কথা। বলি সমতার কথা। তবুও আমার আর তোমার মধ্যে একটা অবিশ্বাসী গিলাফ চড়িয়ে রাখো তুমি। তুমি নাকি তাতে শান্তি পাও।
তোমার ঢাকাঢাকি থেকে একদিন দূরে চলে যাব। জানি, তোমার তাতে কিছু আসে যায় না। কেননা তোমার সুখ ওই ঢাকাঢাকির মাঝে। অতএব, তুমি একাকী সুখে থাকো। আরও ঢাকতে থাকো। আমি কোথাও থাকবো না। এর চেয়ে বেশি অভয় কি করে দেবো? তুমি তোমার মধ্যে সুখ খুঁজে নাও। তুমি একাই থাকো। (সম্পূর্ণ…)

জেমস জয়েসের গল্প: বোর্ডিং হাউজ

নূর-ই-ফাতিমা মোশাররফ জাহান | ১৯ এপ্রিল ২০১৮ ৮:২২ অপরাহ্ন

জেমস জয়েস (২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২- ১৩ জানুয়ারি, ১৯৪১)। পুরো নাম জেমস অগাস্টিন অ্যালয়েশাস জয়েস। জন্ম আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে। আইরিশ এই ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার ও কবিকে বিংশ শতকের অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসাবে গণ্য করা হয়। ডাবলিনার্স (১৯১৪), আ পোর্ট্রেট অফ দি আর্টিস্ট অ্যাজ আ ইয়াং ম্যান (১৯১৬), ইউলিসিস্ (১৯২২) এবং ফিনেগান্স ওয়েক (১৯৩৯) তাঁর বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য কিছু সাহিত্যকর্ম । তাঁর গল্পে ব্যবহৃত ভিন্নমাত্রার ভাষাশৈলী ও বিষয়বস্তু তাঁর সমসাময়িক সাহিত্য-জগতে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং পরবর্তীতে সাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করে। “বোর্ডিং হাউজ” গল্পটি তাঁর ডাবলিনার্স গল্পগ্রন্থে প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে। মোট ১৫টি গল্প নিয়ে সাজানো এই বইয়ের পাতায় পাতায় ফুটে উঠেছে বিংশ শতকের প্রথম দিকের ডাবলিন শহরের মধ্যবিত্ত সমাজের প্রতিচ্ছবি। গল্পটি অনুবাদ করেছেন নূর-ই-ফাতিমা মোশাররফ জাহান। বি.স. ।

মিসেস মুনি কসাইয়ের মেয়ে। মুখ দেখে তার মনের ভাব বোঝার উপায় নেই। বেশ শক্ত ধাতের মহিলা। বাবার কর্মচারীকে বিয়ে করে ‘স্প্রিং গার্ডেন্স’ এলাকায় একটা মাংসের দোকান খুলেছিল দু’জনে মিলে। কিন্তু শ্বশুর মারা যেতেই মি. মুুনি উচ্ছন্নে যেতে শুরু করল। মদ খেত, ক্যাশবাক্স তছনছ করত আর সারা বছর গলা পর্যন্ত দেনায় ডুবে থাকত । তাকে দিয়ে মদ ছাড়ানোর শপথ করিয়েও কোন লাভ হত না। ক’দিন গেলেই আবার যেই কে সেই। খদ্দেরের সামনেই বউয়ের সাথে ঝগড়া-ফ্যাসাদ করে আর দোকানের জন্য বাজে মাংস কিনে ব্যবসার বারটা বাজিয়ে ছেড়েছিল সে। এক রাতে বউকে চাপাতি নিয়ে এমন ধাওয়া করল যে বেচারিকে বাধ্য হয়ে পাশের বাড়িতে বাকি রাতটুকু কাটাতে হয়েছিল।

এরপর থেকে তারা আলাদা থাকতে শুরু করে। মিসেস মুনি পাদ্রীর কাছ থেকে পৃথকবাসের অনুমতি চেয়ে নেয়, আর সেই সাথে আদায় করে ছেলেমেয়ের অভিভাবকত্ব। তারপর স্বামীকে টাকা-পয়সা বা খাবার-দাবার তো দূরের কথা, বাড়িতে থাকার জায়গা পর্যন্ত দেয়নি। মি. মুুনি তাই বাধ্য হয়ে পৌরসভার বেকারের খাতায় নাম লেখায়। কুঁজো, বেঁটে-খাটো এই মাতাল লোকটা দেখতে বেশ জীর্ণ-শীর্ণ । তার ফ্যাকাশে চেহারায় ধবধবে সাদা একজোড়া গোঁফ। ছোট ছোট লালচে চোখের ওপর সাদা ভ্রু দু’টো ঠিক যেন তুলি দিয়ে আঁকা। দিনভর পৌরসভার অফিসঘরে বসে থাকে একটা কাজের আশায়। মাংসের ব্যবসার যা কিছু অবশিষ্ট ছিল তাই দিয়ে দশাসই চেহারার জাঁদরেল মিসেস মুনি হার্ডউইক স্ট্রিটে একটা বোর্ডিং হাউজ খোলে। তার এই মেস-বাড়ির দু’চার দিনের অতিথিদের বেশিরভাগই ‘লিভারপুল’ আর ‘আইল অভ ম্যান’ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক। মাঝেমাঝে অবশ্য গানের দলের শিল্পীরাও এসে থাকে এখানে। এখানকার মাসকাবারি ভাড়াটেরা সবাই শহরে কেরানিগিরি করে। মহিলা সুচারু কৌশলে অত্যন্ত দাপটের সাথে তার এই বোর্ডিং হাউজ চালায়। সে খুব ভাল করেই বোঝে কাকে কখন বিশ্বাস করে বাকিতে ঘর ভাড়া দেয়া যায়। কখন কোমল হতে হয় আবার কখন কঠিন রূপ ধারণ করতে হয় তাও খুব ভালো জানা আছে তার। ভাড়াটে ছেলেরা তাকে ‘বাড়িওয়ালি মাসি’ বলে ডাকে। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের জল ও পাখি

মোহাম্মদ রফিক | ১৬ এপ্রিল ২০১৮ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

জল

কান্দে কান্দে পরাণ কান্দেরে
রয়ে রয়ে কান্দেরে পরাণ
সারা অঙ্গে দাঁড্ বাইছে কে

চুলোর ওপরে একটি হাডি্
যতটা সময় ফুটতে লাগে
সেই তবে একটি জনম

ও মেয়ে তোমার পরিচয়
ভাটির নদীকে জিগাওনা
পরিচয় এই মধ্যরাত (সম্পূর্ণ…)

চৈত্র সংক্রান্তির লোকনৃত্য

হিরণ্ময় হিমাংশু | ১৪ এপ্রিল ২০১৮ ১:২৮ অপরাহ্ন

চিরায়ত বাংলার জল, মাটি, আবহাওয়া ও মানুষের জীবিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এখানকার লোকসংস্কৃতি। লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন অনুসঙ্গের মধ্যে লোকনৃত্য অন্যতম। ‘কোন ব্যাকরণিক মুদ্রা ছাড়াই লোক মানুষের অংশগ্রহণে তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নাকে কেন্দ্র করে সমাজে যে নৃত্য পরিবেশিত হয় তাই লোকনৃত্য। লোকসংস্কৃতির বেশি মাত্রায় শৈল্পিক বোধ ও অভিব্যক্তিময় অংশের প্রকাশ ঘটে লোকনৃত্যের মাধ্যমে।’ সময়ের সঙ্গে লোকনৃত্যের আঙ্গিক পরিমার্জিত হয়ে সমাজ জীবনে তা কখনো উৎসব আবার কখনো ধর্মাচরণের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। চৈত্র সংক্রান্তি তথা বর্ষবরণ উৎসবের মধ্যদিয়ে লোকনৃত্যের বিভিন্ন ধারার স্বতস্ফুর্ত প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এলাকা ভেদে ঐতিহ্যবাহী লোকজ ধারায় বর্ষবরণের মাধ্যমে ফুটে উঠে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক রুচি বোধের। ভৌগলিক অবস্থান ভেদে বর্ষ বিদায়-বরণের সন্ধিকাল চৈত্র সংক্রান্তিতে যেমন বৈচিত্র্যময় লোকজ ধারার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, তেমনি ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করে। উত্তরাঞ্চলে চৈত্র সংক্রান্তিকে বলে বিষুয়া, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিউ বা বিহু, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে সংগ্রাইন বা মাস পইলা পূজা, ময়মনসিংহ অঞ্চলে সাক্রাইন বা হাক্রাইন, ফরিদপুরে চত্তির পূজা আর খুলনায় দেউল বা দেল। বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষবরণ উৎসবের অনুসঙ্গ হিসেবে যে সকল লোকনৃত্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো উত্তরাঞ্চলের গোমিরা নাচ, খুলনা, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ দেল বা দেউলের নাচ, গাজন নাচ ও অষ্টক নাচ, বরগুনায় নীলের নাচ, পুরান ঢাকায় শিব-গৌরীর নাচ উল্লেখযোগ্য। লোকনৃত্যগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোকগান বা পাঁচালী, মন্ত্র, বাজনা ও অভিনয় সহকারে দলবদ্ধভাবে পরিবেশিত হয়। কোন লোকনৃত্য আবার শুধু বাজনা বা হাত তালির মধ্যদিয়েও পরিবেশিত হয়।

উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নিলফামারী ও দিনাজপুরের বিষুয়ায় যেমন লোকসংস্কৃতির একাধিক অনুসঙ্গের সমাবেশ ঘটে, তেমনি মিথস্ক্রীয়া ঘটে একাধীক লোকাচারের। আর এর মধ্যদিয়েই এখানকার লোকজসংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। একাধিক অনুসঙ্গের মধ্যে অন্যতম হল লোকনৃত্য ‘গোমিরা নাচ’। (সম্পূর্ণ…)

আলো আঁধারের বসবাস

স্বদেশ রায় | ১৩ এপ্রিল ২০১৮ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

স্বর্গে গিয়েও তুমি ঠিক ঠিক মানিয়ে নেবে যেমন মানিয়ে নিয়েছো আমার মতো একটা বুনো শুয়োরের সঙ্গে।
কাল রাতে এমন কথা হলো যার সঙ্গে সে আমার কেউ নয় আজ দিনের আলোতে।
অথচ আলোকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি, আলোতে আমার উজ্জলতা, আলোতেই আমার বসবাস।
মাঝে মাঝে রাতের অন্ধকারে আমি কোন কোন স্বপ্ন খুঁজি, স্বপ্নের সঙ্গে উড়ে যাই দূর আকাশে।
তখন কিছু শুকর, হরিন আর শেয়াল এসে আমার সারা শরীর আটকে ধরে, দেখি
চিতল হরিন আর বুনো শুয়োর কেমন পাশাপাশি শুয়ে আছে আমার শরীরে।
এই শরীর কে দিয়েছিলো আমাকে, ভগীরথী গঙ্গা না প্রলয় নৃত্যের শিব না আরো কোন অজানা কেউ?
আচ্ছা আমার শরীর যে দেয় সে দিক, নাই কোন ক্ষতি আর এখন, তুমি শুধু সত্য করে বলোতো
তুমি কি সেই, যে দিনের আলোয় এসে বেহুলা হও? টেমস নদীতে বেহুলা ভাসে না ,ভাসেনা দানিয়ুবে
কেবলই কালী গঙ্গায় তাদের যত ভাসাভাসি। দানিয়ুবের কুলে নাকি ভূত ছিলো অনেক, দীর্ঘ হতো
তাদের দেহ রাতের অন্ধকারে। তোমার দেহও কি দীর্ঘ হয় অন্ধকার রাতে- যেখানে স্বর্গ মর্ত কিছুই থাকে না
কেবল অন্ধকারের বসবাস। আমার কিন্তু কোন দীর্ঘশ্বাস আসে না অন্ধকারে বরং নীবিড় অন্ধকারে শ্বাস ফেলতে
অনেক বেশি ভালোবাসি আমি। আমাকে আসলে তুমি কী মনে করো -হাড়গোড় না রক্ত মাংস? (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com