কবি বেলাল চৌধুরী : পথিক না পরিব্রাজক?

বিভুরঞ্জন সরকার | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ন

বেশ কিছুদিন থেকেই তার শরীর ভালো যাচ্ছিল না। ২০১৪ সালের পর থেকে মাঝে মাঝেই তাকে হাসপাতালে যেতে হচ্ছিল। কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আবার বাসায় ফিরছিলেন। এবার ফিরলেন, তবে কিন্তু না-ফেরার দেশে যাওয়ার জন্য। এবার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল ১৮ এপ্রিল। টানা কয়েক দিন লাইফসাপোর্টে থাকার পর ২৪ এপ্রিল দুপুর ১২ টার দিকে মৃত ঘোষণা করা হয় কবি বেলাল চৌধুরীকে। তাকে কবি বলা হয়, কবি হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত কিন্তু তিনি আসলে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন মানুষ। জন্ম ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর। সে হিসেবে প্রায় ৮০ বছরের জীবন। একেবারে ছোট নয়। এই এক জীবনে বহু কাজ করেছেন ফেনির সন্তান বেলাল চৌধুরী।
কি না করেছেন তিনি। বামপন্থি রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। জেল খেটেছেন। পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে কলকাতা গিয়ে উদ্বাস্তু জীবন কাটিয়েছেন। অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। প্রবন্ধ লিখেছেন। বিদেশি সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেছেন। সাংবাদিকতা করেছেন। পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন। আর সব থেকে যেটা বেশি করেছেন সেটা হলো চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেন, বেলাল ভাই যদি একটু কম আড্ডা দিতেন, সময়টাকে যদি এতো কম মূল্যবান ভেবে ওভাবে খরচ না করতেন, তাহলে তিনি আরো অনেক বেশি লিখতে পারতেন। বাংলা সাহিত্য তার কাছ থেকে আরো বেশি সোনালি ফসল পেতে পারতো।
কিন্তু বেলাল ভাই বলতেন অন্য কথা। তিনি বলতেন তিনি ততোটুকুই করেন যতোটুকু তার করার কথা। সময়ের সঙ্গে তার কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের ফাঁকি দিয়ে ওপার বাংলায় গিয়ে প্রথম দিকে খুবই কষ্টের জীবন কাটিয়েছেন। থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। তার নিজের কথায় ‘যেখানে রাত, সেখানে কাত’ অবস্থায় কেটেছে অনেক দিন। তারপর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়সহ কলকাতার কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় এবং সখ্য গড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে একধরনের স্থিতি এসেছিল তার জীবনে। (সম্পূর্ণ…)

মেধাসম্পদ বিকাশে কপিরাইটের ভূমিকা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

মেধাসম্পদ কি? – খুব সহজ কথায় বলা যায়, মানুষ নিজে যে মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, সেই মেধা সচেতনভাবে খাটিয়ে যে ধরনের সম্পদ তৈরি করতে সক্ষম, তা-ই মেধাসম্পদ। রবীণ্দ্রনাথ জন্মসূত্রে কবিতা লেখার মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই মেধা খাটিয়ে তিনি ‘গীতবিতান’ রচনা করেছেন। অতএব তাঁর সৃষ্ট ‘গীতবিতান’ তাঁর মেধাসম্পদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

এই সম্পদ মানুষের গতানুগতিক সম্পদ অর্থাৎ জমিজমা, টাকাপয়সা বা সোনারূপার চেয়ে আলাদা এক সম্পদ। জমিজমা, দালানকোঠা ইত্যাদিকে আমরা বলি স্থাবর সম্পদ; অন্যদিকে টাকা-পয়সা কিংবা সোনা-রূপা ইত্যাদিকে বলি অস্থাবর সম্পদ। এগুলোর মালিকানা সহজেই হস্তান্তরযোগ্য। মেধা-সম্পদ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক অস্তিত্ব, সক্ষমতা ও তার প্রয়োগ-কুশলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিধায় তাকে ব্যক্তি-স্রষ্টা থেকে আলাদা করা যায় না। তাই ব্যক্তির সত্তালীন সৃষ্টিশীলতাই এই সম্পদের উৎস।

এই ব্যক্তিলীন সৃষ্টিশীলতার দুই প্রধান উপাদান : স্বজ্ঞা ও প্রজ্ঞা। স্বজ্ঞা তার জন্মগত জ্ঞান; আর প্রজ্ঞা তার অধীত, চর্চিত ও অভিজ্ঞতালব্ধ বোধ-বুদ্ধি, বিদ্যা, চর্চা ও প্রয়োগকৌশলের ফসল। এ দুয়ের সমন্বয়েই তার সৃষ্টিশীলতার ফলপ্রসূতা। এই সৃষ্টিশীলতাই ব্যক্তিস্রষ্টার অস্তিত্বের সমার্থক। তাই তার অধিকার বা সুফল-কুফলও একমাত্র তারই কর্তৃত্বাধীন। আসলে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, যেমন জমিদারের জমিজমা বা লেখকের কালি-কলমের চেয়েও ব্যক্তির সৃষ্টিশীলতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।ব্যক্তির সৃষ্টিশীলতার উৎসজাত ও স্রষ্টার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ-কর্ম কতো বেশি মূল্যবান তা একবিংশ শতাব্দীর ধনীগরীবসহ জগতের সকল সম্প্রদায়ই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে চলেছেন। আশার কথা, বাংলাদেশেও সেই বোধ-বুদ্ধিকেন্দ্রিক সৃষ্টিসম্পদের অপরিহার্যতার বার্তা এসে পৌঁছেছে। তাই মেধাসম্পদকে সুরক্ষা দেয়া আজ যুগের দাবি। (সম্পূর্ণ…)

শামীম আজাদ: তাকিয়ে দেখি তলানীতে রক্ত পড়ে আছে

শামীম আজাদ | ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ২:৩০ অপরাহ্ন


বলেছিলাম চলো,
পেয়ালা ভরে পান করি
চা দিয়ে বেরিয়ে গেলে
চোখ বুজে চা নিঃশেষ করে
তাকিয়ে দেখি তলানীতে রক্ত পড়ে আছে


কেন সে কঠিন শব্দগুলোর মালিকানা নিলে
এখন তুমি ও তারা ত্বক হয়ে গেছ আর
কিছুতেই আমার গা থেকে খুলছ না


আমি যখন হাঁটি
আমার কাঁধে চড়ে
পরিভ্রমন করে
তিন সিঁড়ি নব্বুই জন
তাদের গন্ধ পাই না
দেখতেও পাই না
শুধু দুঃসহ ভার টের পাই (সম্পূর্ণ…)

অনেক অনেক চুমু ও ভালোবাসা নিও

মাজহার সরকার | ২২ এপ্রিল ২০১৮ ৭:৫৫ অপরাহ্ন

১.
আজও আমি লাল বাস, দুপুর ও যুথীকে ভালোবাসি
হাত ফসকে উড়ে যায় পাখি পাখি
পাখি উড়ে যায়
এই ভয়ে চোখ বুজে রাখি।
আজও আমি যাই মহাখালী, বিদ্যুৎবিকীর্ণ হাতে
ভালোবাসা শুইয়ে রাখি
শুধু টুকরো রুমাল নাড়ি, ক্ষতের চারপাশে ওড়ে রক্তলিপ্সু মাছি।
আজও টুপটুপ টুপটুপ মাংস ঝরে যায়
বাগানগুলো বধ্যভূমি হয়ে ওঠে, পুড়ে যায় অমল খামার
বাড়ি,
আজও পৃথিবী শেকড় বাকড় অবিরল আগাছা কেবল
চড়া বাল্ব মাছের বাজারে ভাঙা বরফ বাঁশের ঝুড়ি
মহাখালী মহাখালী, চারদিকে ইতস্তত শসার খোসা
মাথা নিচু করে হাঁটি, মাথা নিচু করে হাঁটি। (সম্পূর্ণ…)

থাকো ধরণীতে থাকো আকাশে

আকতার হোসেন | ২২ এপ্রিল ২০১৮ ৭:৩৭ অপরাহ্ন

তুমি ঢাকতে থাকো। ঢাকতে থাকো। ঢাকতে ঢাকতে আদিম মমি হয়ে যাও যেন নিজেকেই আর চিনতে পার না। পারলে চলন ঢাকো। বলন ঢাকো। প্রেমময় অনুভূতি ঢাকো।
তুমি স্বতন্ত্র ছিলে, আজ সেই স্বাতন্ত্র্য ঢাকো। তুমি মায়া ঢাকো, ছায়া ঢাকো, তুমি বিশালতাকে ঢেকে রাখো। অনিশ্চিত আক্রোশ কামনায় তুমি আবৃত কর মায়ার বাঁধন। অভিমানে, বিচ্ছেদের খেলা খেল। তুমি অন্তহীন নিজেকে আড়াল করে রাখো, তুমি ঢাকতে থাকো।
এখানে ঢাকো। ওখানে ঢাকো। দুই তিন কিংবা চারবার করে ঢাকো। ওটা ঢাকো, সেটা ঢাকো। সবদিক দিয়ে ঢেকে রাখো। জগতে ঢাকাঢাকি ছাড়া তোমার অন্য কোন কাজ নেই। যতোটুকু চিনি মেশালে পানি সরবত হয়ে যায়, তার থেকে বেশি ঢালতে থাকো। পানি আর চিনি একই পাত্রে অবস্থান তবুও ওরা পারবে না মিশতে। কারণ সে অতিরিক্ত। তুমি তেমনি অতিরিক্ত ঢাকতে থাকো নিজেকে।
আমিও ঢাকি। যতোটুকু যেখানে প্রয়োজন ততোটুকু মান্য করি। কাউকে অবিশ্বাস করে কিছু ঢাকি না। ঢাকি লজ্জা না পেতে। তোমার ঢাকাঢাকি আমাকে লজ্জা দেয়। আমি যতোটুকু ঢেকে রাখি, যে কারণে ঢাকি, তুমি তার থেকে অনেক বেশি ঢেকে রাখো। ভুলে যাও যে, আমি হাজার বার বলি, বারবার বলি এক সঙ্গে থাকবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছি আমরা। আমি পদে পদে তোমার লুপ্ত সম্মানের কথা বলি, বলি হারানো মর্যাদার কথা। বলি সমতার কথা। তবুও আমার আর তোমার মধ্যে একটা অবিশ্বাসী গিলাফ চড়িয়ে রাখো তুমি। তুমি নাকি তাতে শান্তি পাও।
তোমার ঢাকাঢাকি থেকে একদিন দূরে চলে যাব। জানি, তোমার তাতে কিছু আসে যায় না। কেননা তোমার সুখ ওই ঢাকাঢাকির মাঝে। অতএব, তুমি একাকী সুখে থাকো। আরও ঢাকতে থাকো। আমি কোথাও থাকবো না। এর চেয়ে বেশি অভয় কি করে দেবো? তুমি তোমার মধ্যে সুখ খুঁজে নাও। তুমি একাই থাকো। (সম্পূর্ণ…)

জেমস জয়েসের গল্প: বোর্ডিং হাউজ

নূর-ই-ফাতিমা মোশাররফ জাহান | ১৯ এপ্রিল ২০১৮ ৮:২২ অপরাহ্ন

জেমস জয়েস (২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২- ১৩ জানুয়ারি, ১৯৪১)। পুরো নাম জেমস অগাস্টিন অ্যালয়েশাস জয়েস। জন্ম আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে। আইরিশ এই ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার ও কবিকে বিংশ শতকের অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসাবে গণ্য করা হয়। ডাবলিনার্স (১৯১৪), আ পোর্ট্রেট অফ দি আর্টিস্ট অ্যাজ আ ইয়াং ম্যান (১৯১৬), ইউলিসিস্ (১৯২২) এবং ফিনেগান্স ওয়েক (১৯৩৯) তাঁর বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য কিছু সাহিত্যকর্ম । তাঁর গল্পে ব্যবহৃত ভিন্নমাত্রার ভাষাশৈলী ও বিষয়বস্তু তাঁর সমসাময়িক সাহিত্য-জগতে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং পরবর্তীতে সাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করে। “বোর্ডিং হাউজ” গল্পটি তাঁর ডাবলিনার্স গল্পগ্রন্থে প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে। মোট ১৫টি গল্প নিয়ে সাজানো এই বইয়ের পাতায় পাতায় ফুটে উঠেছে বিংশ শতকের প্রথম দিকের ডাবলিন শহরের মধ্যবিত্ত সমাজের প্রতিচ্ছবি। গল্পটি অনুবাদ করেছেন নূর-ই-ফাতিমা মোশাররফ জাহান। বি.স. ।

মিসেস মুনি কসাইয়ের মেয়ে। মুখ দেখে তার মনের ভাব বোঝার উপায় নেই। বেশ শক্ত ধাতের মহিলা। বাবার কর্মচারীকে বিয়ে করে ‘স্প্রিং গার্ডেন্স’ এলাকায় একটা মাংসের দোকান খুলেছিল দু’জনে মিলে। কিন্তু শ্বশুর মারা যেতেই মি. মুুনি উচ্ছন্নে যেতে শুরু করল। মদ খেত, ক্যাশবাক্স তছনছ করত আর সারা বছর গলা পর্যন্ত দেনায় ডুবে থাকত । তাকে দিয়ে মদ ছাড়ানোর শপথ করিয়েও কোন লাভ হত না। ক’দিন গেলেই আবার যেই কে সেই। খদ্দেরের সামনেই বউয়ের সাথে ঝগড়া-ফ্যাসাদ করে আর দোকানের জন্য বাজে মাংস কিনে ব্যবসার বারটা বাজিয়ে ছেড়েছিল সে। এক রাতে বউকে চাপাতি নিয়ে এমন ধাওয়া করল যে বেচারিকে বাধ্য হয়ে পাশের বাড়িতে বাকি রাতটুকু কাটাতে হয়েছিল।

এরপর থেকে তারা আলাদা থাকতে শুরু করে। মিসেস মুনি পাদ্রীর কাছ থেকে পৃথকবাসের অনুমতি চেয়ে নেয়, আর সেই সাথে আদায় করে ছেলেমেয়ের অভিভাবকত্ব। তারপর স্বামীকে টাকা-পয়সা বা খাবার-দাবার তো দূরের কথা, বাড়িতে থাকার জায়গা পর্যন্ত দেয়নি। মি. মুুনি তাই বাধ্য হয়ে পৌরসভার বেকারের খাতায় নাম লেখায়। কুঁজো, বেঁটে-খাটো এই মাতাল লোকটা দেখতে বেশ জীর্ণ-শীর্ণ । তার ফ্যাকাশে চেহারায় ধবধবে সাদা একজোড়া গোঁফ। ছোট ছোট লালচে চোখের ওপর সাদা ভ্রু দু’টো ঠিক যেন তুলি দিয়ে আঁকা। দিনভর পৌরসভার অফিসঘরে বসে থাকে একটা কাজের আশায়। মাংসের ব্যবসার যা কিছু অবশিষ্ট ছিল তাই দিয়ে দশাসই চেহারার জাঁদরেল মিসেস মুনি হার্ডউইক স্ট্রিটে একটা বোর্ডিং হাউজ খোলে। তার এই মেস-বাড়ির দু’চার দিনের অতিথিদের বেশিরভাগই ‘লিভারপুল’ আর ‘আইল অভ ম্যান’ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক। মাঝেমাঝে অবশ্য গানের দলের শিল্পীরাও এসে থাকে এখানে। এখানকার মাসকাবারি ভাড়াটেরা সবাই শহরে কেরানিগিরি করে। মহিলা সুচারু কৌশলে অত্যন্ত দাপটের সাথে তার এই বোর্ডিং হাউজ চালায়। সে খুব ভাল করেই বোঝে কাকে কখন বিশ্বাস করে বাকিতে ঘর ভাড়া দেয়া যায়। কখন কোমল হতে হয় আবার কখন কঠিন রূপ ধারণ করতে হয় তাও খুব ভালো জানা আছে তার। ভাড়াটে ছেলেরা তাকে ‘বাড়িওয়ালি মাসি’ বলে ডাকে। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের জল ও পাখি

মোহাম্মদ রফিক | ১৬ এপ্রিল ২০১৮ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

জল

কান্দে কান্দে পরাণ কান্দেরে
রয়ে রয়ে কান্দেরে পরাণ
সারা অঙ্গে দাঁড্ বাইছে কে

চুলোর ওপরে একটি হাডি্
যতটা সময় ফুটতে লাগে
সেই তবে একটি জনম

ও মেয়ে তোমার পরিচয়
ভাটির নদীকে জিগাওনা
পরিচয় এই মধ্যরাত (সম্পূর্ণ…)

চৈত্র সংক্রান্তির লোকনৃত্য

হিরণ্ময় হিমাংশু | ১৪ এপ্রিল ২০১৮ ১:২৮ অপরাহ্ন

চিরায়ত বাংলার জল, মাটি, আবহাওয়া ও মানুষের জীবিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এখানকার লোকসংস্কৃতি। লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন অনুসঙ্গের মধ্যে লোকনৃত্য অন্যতম। ‘কোন ব্যাকরণিক মুদ্রা ছাড়াই লোক মানুষের অংশগ্রহণে তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নাকে কেন্দ্র করে সমাজে যে নৃত্য পরিবেশিত হয় তাই লোকনৃত্য। লোকসংস্কৃতির বেশি মাত্রায় শৈল্পিক বোধ ও অভিব্যক্তিময় অংশের প্রকাশ ঘটে লোকনৃত্যের মাধ্যমে।’ সময়ের সঙ্গে লোকনৃত্যের আঙ্গিক পরিমার্জিত হয়ে সমাজ জীবনে তা কখনো উৎসব আবার কখনো ধর্মাচরণের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। চৈত্র সংক্রান্তি তথা বর্ষবরণ উৎসবের মধ্যদিয়ে লোকনৃত্যের বিভিন্ন ধারার স্বতস্ফুর্ত প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এলাকা ভেদে ঐতিহ্যবাহী লোকজ ধারায় বর্ষবরণের মাধ্যমে ফুটে উঠে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক রুচি বোধের। ভৌগলিক অবস্থান ভেদে বর্ষ বিদায়-বরণের সন্ধিকাল চৈত্র সংক্রান্তিতে যেমন বৈচিত্র্যময় লোকজ ধারার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, তেমনি ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করে। উত্তরাঞ্চলে চৈত্র সংক্রান্তিকে বলে বিষুয়া, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিউ বা বিহু, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে সংগ্রাইন বা মাস পইলা পূজা, ময়মনসিংহ অঞ্চলে সাক্রাইন বা হাক্রাইন, ফরিদপুরে চত্তির পূজা আর খুলনায় দেউল বা দেল। বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষবরণ উৎসবের অনুসঙ্গ হিসেবে যে সকল লোকনৃত্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো উত্তরাঞ্চলের গোমিরা নাচ, খুলনা, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ দেল বা দেউলের নাচ, গাজন নাচ ও অষ্টক নাচ, বরগুনায় নীলের নাচ, পুরান ঢাকায় শিব-গৌরীর নাচ উল্লেখযোগ্য। লোকনৃত্যগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোকগান বা পাঁচালী, মন্ত্র, বাজনা ও অভিনয় সহকারে দলবদ্ধভাবে পরিবেশিত হয়। কোন লোকনৃত্য আবার শুধু বাজনা বা হাত তালির মধ্যদিয়েও পরিবেশিত হয়।

উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নিলফামারী ও দিনাজপুরের বিষুয়ায় যেমন লোকসংস্কৃতির একাধিক অনুসঙ্গের সমাবেশ ঘটে, তেমনি মিথস্ক্রীয়া ঘটে একাধীক লোকাচারের। আর এর মধ্যদিয়েই এখানকার লোকজসংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। একাধিক অনুসঙ্গের মধ্যে অন্যতম হল লোকনৃত্য ‘গোমিরা নাচ’। (সম্পূর্ণ…)

আলো আঁধারের বসবাস

স্বদেশ রায় | ১৩ এপ্রিল ২০১৮ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

স্বর্গে গিয়েও তুমি ঠিক ঠিক মানিয়ে নেবে যেমন মানিয়ে নিয়েছো আমার মতো একটা বুনো শুয়োরের সঙ্গে।
কাল রাতে এমন কথা হলো যার সঙ্গে সে আমার কেউ নয় আজ দিনের আলোতে।
অথচ আলোকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি, আলোতে আমার উজ্জলতা, আলোতেই আমার বসবাস।
মাঝে মাঝে রাতের অন্ধকারে আমি কোন কোন স্বপ্ন খুঁজি, স্বপ্নের সঙ্গে উড়ে যাই দূর আকাশে।
তখন কিছু শুকর, হরিন আর শেয়াল এসে আমার সারা শরীর আটকে ধরে, দেখি
চিতল হরিন আর বুনো শুয়োর কেমন পাশাপাশি শুয়ে আছে আমার শরীরে।
এই শরীর কে দিয়েছিলো আমাকে, ভগীরথী গঙ্গা না প্রলয় নৃত্যের শিব না আরো কোন অজানা কেউ?
আচ্ছা আমার শরীর যে দেয় সে দিক, নাই কোন ক্ষতি আর এখন, তুমি শুধু সত্য করে বলোতো
তুমি কি সেই, যে দিনের আলোয় এসে বেহুলা হও? টেমস নদীতে বেহুলা ভাসে না ,ভাসেনা দানিয়ুবে
কেবলই কালী গঙ্গায় তাদের যত ভাসাভাসি। দানিয়ুবের কুলে নাকি ভূত ছিলো অনেক, দীর্ঘ হতো
তাদের দেহ রাতের অন্ধকারে। তোমার দেহও কি দীর্ঘ হয় অন্ধকার রাতে- যেখানে স্বর্গ মর্ত কিছুই থাকে না
কেবল অন্ধকারের বসবাস। আমার কিন্তু কোন দীর্ঘশ্বাস আসে না অন্ধকারে বরং নীবিড় অন্ধকারে শ্বাস ফেলতে
অনেক বেশি ভালোবাসি আমি। আমাকে আসলে তুমি কী মনে করো -হাড়গোড় না রক্ত মাংস? (সম্পূর্ণ…)

ওবামার পছন্দের সেরা বই

বিপাশা চক্রবর্তী | ১১ এপ্রিল ২০১৮ ৯:০৯ পূর্বাহ্ন

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচিত হবার আগে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতি বিষয়ক একটি বই পড়েছিলেন। সেই বইটিই তার পড়া সেরা বই বলে সম্প্রতি মত দিয়েছেন।
সেই বইটির নাম Thinking, Fast and Slow, লিখেছেন ড্যানিয়েল কাহানেমেন। বইটিতে মানুষের বিচারশক্তির দুর্বলতা বা ভুল কিভাবে আপনার বুদ্ধিমত্তাকে প্রভাবিত বা পরিবর্তন করে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন।

এ ছাড়াও ওবামা আরও নয়টি উল্লেখযোগ্য বইয়ের কথা বলেছেন। তবে এই নয়টির মধ্যে যে-দুটিকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিযেছেন তাদের একটি হলো রবার্ট এ. কারোর The Power Broker: Robert Moses and the Fall of New York এবং অন্যটি হলো ক্যাথেরিন বো-এর Behind the Beautiful Forevers: Life, Death, and Hope in a Mumbai Undercity বইটি।

নোবেলজয়ী মনোবিজ্ঞানী ও আচরণগত অর্থনীতির উদ্ভাবক কাহানেমেন তার Thinking, Fast and Slow বইতে চিন্তা-ভাবনার দু’টি পদ্ধতির বিশ্লেষণ করেছেন। এ গুলোকে তিনি দু’টি ভাগে ভাগ করেছেন, তাহলো সিস্টেম-১ ও সিস্টেম-২।
সিস্টেম-১ চিন্তাধারা হলো অন্তর্নিহিত, অর্থাৎ, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। সিস্টেম-২ হলো চিন্তাশীল বা বিবেচনাপ্রসূত, অর্থাৎ মানুষের ধীর চিন্তার প্রতিফলন। কাহানেমেন বলেন, মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সিস্টেম-১’র পাঁকে আটকে থাকে। এ ক্ষেত্রে সমস্যাটি সমাধানের জন্য তার হাতে থাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। (সম্পূর্ণ…)

তারিক সুজাতের কবিতা: বসন্তের বাতাসটুকুর মতো

তারিক সুজাত | ১০ এপ্রিল ২০১৮ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

১.
যে বাতাসে সুরের রঙ
সে সুরে অনাবিল
আনন্দের স্রোত …

২.
যাওয়া-আসার মাঝে
যেটুকু স্নিগ্ধ রূপ
সেই অপরূপে
ছুঁয়েছি আঙুল
বেঁধেছি বীণা
জীবনের মন্ত্রে বাঁধি
সুদূরের সুর …

৩.
কে বলে তুমি নেই
সুরের অক্ষরে তুমি আঁকা
তোমাকে বেঁধেছি শব্দ-বন্ধনে
সুরের আকাশে
দলছুট মেঘগুলো দিশেহারা
আদি-অন্ত তোমাতেই প্রকাশিত … (সম্পূর্ণ…)

মার্কিন ঔপন্যাসিক জোসেফ হেলার: আমেরিকার রাজনীতি হাস্যকর

রেশমী নন্দী | ৮ এপ্রিল ২০১৮ ১১:২৭ অপরাহ্ন


মার্কিন লেখক জোসেফ হেলার রাজনীতির রঙ্গ আর রসিকতার গুরুত্বের সহাবস্থান ঘটিয়েছেন তাঁর কাজে। ছোট গল্প, নাটক, উপন্যাস সব কাজেই তিনি ‘এবসার্ডিটি’কে উপস্থাপন করেছেন অতুলনীয় ভঙ্গীতে। জীবদ্দশায় মোট সাতটি উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর লেখা সামথিং হ্যাপেন্ড আর গুড এজ গোল্ড বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে স্যাটায়ারধর্মী লেখার অনন্য উদাহরণ। আর ‘ক্যাচ ২২’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদী সাহিত্যকর্ম বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। অনূদিত লেখাটি ১৯৮৮ সালে প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকার। বিল মোয়েরসের সাথে জোসেফ হেলারের এই কথোপকথনটি জুড়েই রয়েছে ‘পলিটিক্যাল এবসার্ডিটি’ নিয়ে তাঁর কৌতুকজন কিন্তু চিন্তার খোরাক জোগানো মতামত।
হেলারের এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন বিখ্যাত সাংবাদিক বিল মোয়েরস। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অনুবাদক রেশমী নন্দী।

বিল মোয়েরস: `গুড এজ গোল্ড’ বইটি দ্বিতীয়বারের মতো পড়তে পড়তে একদিন রাত তিনটার সময় জোরে হেসে উঠেছিলাম-হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা যেখানটাতে বলছিলেন, ‘আমরা সত্যি কথা বলতে যাচ্ছি, এমনকি এর জন্য যদি আমাদের মিথ্যা বলতে হয়, তবুও।’ ; প্রেসিডেন্ট যিনি প্রথম বছরটা কোনো কাজ না করে কেবল একটি বই লিখছেন; অথবা সেই কর্মকর্তা যিনি বলছেন, ‘আমরা প্রশাসনে কোনো ইয়েস-ম্যান চাই না, আমরা চাই স্বাধীন সত্ত্বার একজন মানুষ যিনি আমরা যা ঠিক করবো সবটাতে সমর্থন দেবেন।’ রাজনীতি আপনার কাছে হাস্যকর লাগে কেন?

জোসেফ হেলার: রাজনীতি আমার কাছে হাস্যকর লাগে কারণ এটা হাস্যকর। আমরা কথা বলছি আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে। আপনি আমার বই থেকে তিনটা উদাহরণ দিলেন। আমার মনে হয়, গুড এজ গোল্ড-এর যে অংশগুলো পাঠকদের হাসায় সেগুলোর প্রায় সবই বাস্তব জীবনে অহরহ ঘটে। আমেরিকার রাজনীতি হাস্যকর। এর অনেক অনেক বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা যায়, খুব কম কিছুই আছে যেগুলো প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু এর সম্পর্কে প্রশংসা বা সমালোচনা যে কোনভাবেই যে কথাটা বলা যায় তা হলো, এটা হাস্যকর রকমের মজার। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com