অক্তাবিও পাস: আমি প্রেমে পড়ি আর ভারতে আমরা বিয়ে করি

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩১ মার্চ ২০১৮ ১২:১৫ অপরাহ্ন

যে-মাসটি আমাদের স্বাধীনতার, তার শেষদিনেই ১৯১৪ সালে মেক্সিকো সিটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৯০ সালের নোবেলবিজয়ী কবি অক্তাবিও পাস। পাস ছিলেন এনসাইক্লোপেডিক ব্যক্তিত্বদের শেষ প্রতিনিধি। ইতিহাস, দর্শন, নৃবিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য, রাজনীতি, এককথায় মানুষের জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রায় সবগুলো শাখাতেই তার ছিল অপরিমেয় পাণ্ডিত্য। পাশাপাশি এসব বিষয়ে তার সুগভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তাকে করে তুলেছে অনন্য। লাতিন আমেরিকান লেখকদের মধ্যে পাসের তুল্য লেখক খুব কমই আছেন। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে লেখা ও মতামতের জন্য নিন্দিত হয়েছেন মাঝেমধ্যে কিন্তু অনুপক্ষেনীয় ছিলেন তার সুগভীর ও তীক্ষ্ণ বিচারশক্তির কারণে।
কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে পাসের বিশ্বব্যাপী পরিচয়ের পাশিপাশি আরেকটি কারণেও তিনি অনন্য: ভারতবীক্ষা। কর্মসূ্ত্রে তিনি দুদফায় ভারতে এসেছিলেন। ভারত ও এর সভ্যতাকে তিনি যে-গভীরতায় দেখেছেন ও বিশ্লেষণ করেছেন তা খুব কম বিদেশি লেখকই করতে পেরেছেন।
অলোকসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক বিপাশা চক্রবর্তীর অনুবাদে প্রকাশ করা হলো তার দীর্ঘ সাক্ষাতকারের অংশবিশেষ যেটি প্রকাশিত হয়েছিল সাক্ষাৎকারের জন্য বিখ্যাত সাহিত্যসাময়িকী প্যারিস রিভিউ পত্রিকায়। বি, স,

আলফ্রেড ম্যাক এ্যাডামের সাথে অক্তাবিও পাসের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার

বেটেখাটো এবং বয়সে সত্তর হলেও অক্তাবিও পাসের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির কারণে এখনো তাকে যথেষ্ট যুবকই মনে হয়। তার কবিতা ও গদ্য– উভয় লেখাতেই রাজনৈতিক গভীরতা ও পাণ্ডিত্যের ছোঁয়া আছে। মেক্সিকোতে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ইতিহাস বারবার লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে, যেমনটি দেখা গিয়েছিল আদিবাসী অতীতের প্রেক্ষাপটে; যেখানে তিনি ব্যক্ত করেছেন কিভাবে নিগূঢ় ভালোবাসা মানুষের প্রচন্ড একাকিত্বকে দূর করে। পাস বহুদিন থেকেই বিংশ শতাব্দির দুই বিখ্যাত দক্ষিণ আমেরিকান কবি সেসার বাইয়্যেহো ও পাবলো নেরুদার সঙ্গে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ১৯৯০ সালের কলম্বাস দিবসে এক সাক্ষাৎকার দেবার ঠিক তিন দিন পরে পাস সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে নেরুদাদের কাতারে শামিল হন।

একজন আইনজীবী বাবার সন্তান ও ঔপন্যাসিকের নাতি, পাস ১৯১৪ সালে মেক্সিকোতে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বেড়ে ওঠায় এই দু’জনের অপরিসীম প্রভাব ছিল। পাস তার বাবার কাছে থেকে সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি সম্পর্কে জানতে পারেন যিনি মেক্সিকান বিপ্লবী এমিলিয়ানো সাপাতার পরামর্শক ছিলেন। আর তাঁর পিতামহের লেখা চিঠিগুলি দিয়ে বিশ্বকে জানতে শিখেন। বালক পাস তাঁর পিতামহের বিশাল লাইব্রেরীতে অবাধ বিচরণের সুযোগ পেয়েছিলেন। আর এভাবেই তিনি স্প্যানিশ ও লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের অমূল্য ভান্ডারের স্বাদ নিতে পেরেছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকোতে সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করেন, কিন্তু ডিগ্রী অর্জনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান। (সম্পূর্ণ…)

শিমুল সালাহ্উদ্দিনের ‘সত্যিমিথ্যাচুমু’

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৯ মার্চ ২০১৮ ৭:৫৯ অপরাহ্ন

অ.

A kiss makes the heart young again
And wipes out the years.

—Rupert Brooke


‘চিত্র: পাবলো পিকাসোর আঁকা Kissing figures-at-seaside

প্রাণের ভেতরে মিথ্যামিথ্যি জমিয়ে রেখেছো বেহুদা সত্যচুমু

জেনো একাকিনী, আমাকে না পেয়ে তোমার প্রভূত ক্ষয়ই হচ্ছে—
প্রতিমুহূর্তে তোমা-কর্পুর-আতরকৌটো প্রাণের রেকাবি থেকে
উড়ে যায় সবুজ ঘ্রাণ

বিন্দু বিন্দু সেই সবুজ কণারা ক্রমাগত মিশে যাচ্ছে বাতাসে—
যেখান থেকেই অঙ্গার-অম্লজান একা বুকের ভেতরে নিয়ে
বেঁচে থাকো গুণগুণ গান গাও স্নান ঘরে,
রান্না করো জীবনের নির্মম সালুন,
শ্যামল সন্তান নিয়ে যাও ভোরের রাস্তা ধরে,
ভালো না বেসেও ঠিক তোমার স্বামীকে
ঘুম পাড়িয়ে দাও ঠোঁটে…

সাবধান হও সোনা, মিথ্যাচুমুতে ঘা হয়ে যায় মুখে (সম্পূর্ণ…)

নাসির উদ্দীন ইউসুফ: দেখতে পাচ্ছি, সমাজ এবং রাষ্ট্র ধর্মের সাথে একটি অবৈধ চুক্তিতে যাচ্ছে

রাজু আলাউদ্দিন | ২৭ মার্চ ২০১৮ ১০:০০ অপরাহ্ন

নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আমাদের চিরকালের গৌরব, তিনি সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা যিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলেন। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসেছিলেন আমাদের জন্য অমূল্য উপহার হাতে নিয়ে: আমাদের কাঙ্ক্ষিত সবুজ ও লালের এক অমর স্বাধীনতা। তিনি যদি জীবনে আর কিছুই না করতেন, তারপরেও তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরভাস্মর হয়ে থাকবেন। কিন্তু তার ব্যক্তিত্বের আছে আরেকটি দিক যেটি শিল্পিত স্বভাবে বর্ণময়। তিনি অামাদের নাট্যজগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের একজন। নাসির উদ্দীন ইউসুফ নির্দেশিত/পরিচালিত নাটক মানেই মঞ্চসাফল্যে তুঙ্গস্পর্শী। সফল তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনায়ও। নাটক ও চলচ্চিত্রে অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি অসংখ্যবার পুরস্কৃত হয়েছেন। যিনি আমাদের সবার অহংকার, কিন্তু নিজে পুরোপুরি নিরহংকারী স্বভাবের। কয়েকদিন আগে তার সাথে দীর্ঘ এক আলাপচারিতা হলো বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর অফিসে। যুদ্ধকালীন লোমহর্ষক নানান অভিজ্ঞতা আর তার নাট্যকলা নিয়ে শৈল্পিক বয়ান এই আলাপচারিতার মূল আকর্ষণ। বাচ্চু ভাইয়ের অননুকরণীয় বাচনভঙ্গি আর কথার তরঙ্গায়িত প্রবাহ দীর্ঘ আলাপচারিতাকে করে তুলেছে শ্রুতিসুভগ। তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদের শ্রুতিলিখনে থাকছে সেই আলাপচারিতার পূর্ণাঙ্গ পাঠের প্রথমার্ধ। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা: শর্ত একটাই

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৬ মার্চ ২০১৮ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতা চাও?
– তবে তুমি নিজেই স্বাধীন হও।

স্বাধীনতা চাও?
– তবে তুমি কাউকেই অধীন করো না।
তোমার সুন্দর তুমি নিজ কাঁধে বও।
নিজেই সশস্ত্র যদি, কাউকেই নিরস্ত্র করো না।
স্বাধীনতা মানবতা পরস্পর সশস্ত্র সুন্দর।
পরস্পর প্রতিবেশী, শক্তিশুভ্র গড়ো নিজ ঘর।

ফসল ফলাতে চোও?
– নিজ হাতে করো জমি চাষ।
আকাশ-সমুদ্র-ভূমি তোমার নিবাস।
মানুষ নিজের প্রভু, নয় কারো দাস।

ভুমিপুত্র ভূমিপুত্রী জন্মসূত্রে সবাই স্বাধীন।
জাতিতে জাতিতে জ্ঞাতি, খেলুক চড়ুইভাতি,
এ ব্রহ্মাণ্ডে কেউ নয় কারো পরাধীন। (সম্পূর্ণ…)

স্বাধীনতার সূর্য ওঠে

মুহাম্মদ সামাদ | ২৬ মার্চ ২০১৮ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’–
শেখ মুৃজিবের বজ্রকণ্ঠে
গর্জে ওঠে বাংলাদেশ
বীর বাঙালি শপথ করে
ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে।

পঁচিশে মার্চে কালরাতে
ঝাঁকে ঝাঁকে নামে কনভয়
ঘুমন্ত মানুষ কেঁপে ওঠে
ভয়, চোখে মুখে শুধু ভয়!

যেনো খুনের নেশায়
যমদূতের হিংস্র কড়া নাড়া।
নবজাতকের আর্তনাদে
হায়! স্তব্ধ হয়ে যায় পাড়া।
লেলিহান শিখায় শহর বস্তি
ছাত্রাবাস যায় পুড়ে।

এ কেমন ভয় নামে ভয়!
আমার সবুজ দেশে
হলোকাস্ট বা ভিয়েতনাম আজ
গণহত্যার উপমা হয়!

পাখির পাখায় হাওয়ায় হাওয়ায়
গাঁয়ে গঞ্জে মাটিতে পাহাড়ে
পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে
উথাল ঢেউয়ে ছাব্বিশে মার্চ
শেখ মুজিবের ডাক আসে:
মুক্তি পাগল ভাইরে আমার
মুক্তি পাগল বোনরে আমার
এক হও জোট বাঁধো
কণ্ঠে তোলো জয় বাংলা
হাতে নাও যার যা আছে–
অস্ত্র ধরো অস্ত্র ধরো অস্ত্র ধরো..
বাংলাদেশ স্বাধীন করো।
সেই বসন্তে ঝরাপাতায়
রোদে জলে দিনে রাতে
অস্ত্র কাঁধে অস্ত্র হাতে
মুক্তিযুদ্ধ ছুুটে আসে।

পথে ঘাটে বন বাদাড়ে
নদীর বুকে ঝড় বাদলে
বাংলা মায়ের দামাল ছেলে
বাংলা মায়ের রুদ্র মেয়ে
জীবন দিয়ে সম্ভ্রম দিয়ে
গুলি বন্দুক গ্রেনেড ছুড়ে
যুদ্ধ করে… যুদ্ধ করে…
বীর বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ।

যুদ্ধ শেষে মুক্ত দেশে
রক্তমাখা পুব আকাশে
আলোয় আলোয় স্বপ্ন ফোটে
ঘাসে গাছে ফুলে ফুলে
স্বাধীনতার সুর্য ওঠে
স্বাধীনতার সুর্য ওঠে।।

Flag Counter

বিপ্লবী এম. এন. রায়ের সাম্যবাদ: “শুরুটা ছিল মেক্সিকোতে”

ইমরান খান | ২৪ মার্চ ২০১৮ ৩:৪২ অপরাহ্ন

দানিয়েল কেন্ট-কাররাসকো

দানিয়েল কেন্ট-কাররাসকোর জন্ম মেক্সিকোয়। পেশায় ইতিহাসবিদ। সমসাময়িক ভারতীয় রাজনৈতিক চিন্তা এবং তৃতীয় বিশ্বের আন্ত:সম্পর্কিত ইতিহাস বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে তিনি পিএই্চ করেছেন। বর্তমানে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় `উনাম’ (Universidad Nacional Autonoma de Mexico)-এর পোস্টডক্টোরাল ফেলো হিসেবে আছেন। দক্ষিণ এশিয়া ও মেক্সিকোয় বামপন্থী রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস নিয়ে অসংখ্য গবেষণা ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায়। বর্তমানে তিনি ভারতে সাংস্কৃতিক ঠাণ্ডা যুদ্ধ ও সিআইএ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করছেন।
উপমহাদেশের বিখ্যাত বিপ্লবী ও রাজনৈতিক নেতা এম এন রায় সম্পর্কে বাঙালি জনগোষ্ঠী অনেক কিছু জানলেও গত শতাব্দির প্রথম দশকে সিআইএর তাড়া খেয়ে মেক্সিকোতে তার দুই বছরের অবস্থানকাল সম্পর্কে খুব কমই জানেন। রায়ের এই অজানা দিক নিয়ে গবেষক দানিয়েল ইংরেজিতে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছেন যেটি প্রকাশিত হয়েছিল কানাডার বাংলা জার্নাল পত্রিকার সাম্প্রতিকতম সংখ্যায়। লেখকের অনুমতি নিয়ে তার সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেছেন ইমরান খান। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

সকল হারাবার পরে

আনিসুর রহমান | ২৪ মার্চ ২০১৮ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

ঘর পুড়ে, কাপড় পুড়ে, বই পুড়ে খাতা পুড়ে, সহায়সম্বল পুড়ে
সকল হারিয়ে সকলে ওরা বস্তির বাসিন্দারা হাজারে হাজারে
জিডিপির সাত পারদের পরে খোলা আকাশে নিচে জগতের
ঘরবাড়ি করে, নারী শিশু সকলে পোড়াবস্তির পোড়ার নগরে !

পোড়ার পরে, কে ওদের জীবনের মানে বাতলে দিতে পারে?
পোড়খাওয়া ওরা দুমুঠো খাবারের আশা করে, রাত পেরোয়
দিন যায়, মেলে না চাল, মেলে না ডাল, ওদের জান যায় যায়
পোড়া দুনিয়া মরা সময় কে দেবে ভাত, বাড়াবে ভরসার হাত?

‘এই যে এত মানুষ আইতাছে, মানুষ যাইতাছে, ছবি তুলতাছে
একটার পর একটা প্রশ্ন করতাছে, এত প্রশ্ন দিয়া কি অইব?
উত্তর জাইন্যা কি অইব? এসব দিয়া পেটের জ্বালা মিটতাছে?
দেয় না খাবার কেউ! দেয় আগুন বস্তির ঘরে, বছরে বছরে?’ (সম্পূর্ণ…)

বিন লাদেন যে-বইগুলো পড়েছিলেন

বিপাশা চক্রবর্তী | ২২ মার্চ ২০১৮ ৫:০৬ অপরাহ্ন

পৃথিবীর মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কখনো কখনো যেমন সহজে বোঝা যায়, কখনো আবার তা অতি দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। বিপরীতমুখী এই দুই উদাহরণ পৃথিবীতে কম নয়। বিষয়টি যদি বই সংগ্রহের বেলায় ঘটে তাহলে কিভাবে তা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে? বিশ্বে মহান ব্যক্তিত্বদের যেমন বই সংগ্রহ ও পড়ার নেশা রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অনেক সাধারণ মানুষের মাঝেও এই অভ্যাস আসন গেড়ে আছে। এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা কিছু নেই্। কিন্তু যদি কোন কুখ্যাত মানুষের এমন অভ্যাস থাকে তাহলেই আমাদের ভ্রু কুঁচকে যায় বা মস্তিস্কের কোণে ধাক্কা লাগে। যদি সেই কুখ্যাত ব্যক্তিটির নাম হয় ওসামা বিন-লাদেন তা হলে কি অনুভূতি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ কম্পাউন্ডে সিআইএ-্এর নেতৃত্বে ‘অপারেশন নেপচুন স্পার’ পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে আল-কায়েদা প্রধান লাদেনকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা সবার জানা থাকলেও সেই অপারেশনের বিস্তারিত তথ্য আজও সকলের কাছে উন্মুক্ত নয়। তবে সম্প্রতি মার্কিন সরকার সে দেশের তথ্য প্রকাশের আইন অনুসরণ করে লাদেনের ব্যাপারে কিস্তি আকারে তথ্য প্রকাশ করা শুরু করে। এরই উদ্যোগ হিসেবে সম্প্রতি মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) লাদেনের বুক শেলফ নামে তার পঠিত বিভিন্ন বই, চিঠি, ম্যাগাজিন, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি তাদের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছে। সেই প্রকাশিত তথ্যভান্ডার থেকেই চমক জাগানো এক তথ্য জনগণের সামনে আসে, আর তা হলো বিন লাদেনের বইয়ের প্রতি আগ্রহ ও সংগ্রহের বৈচিত্র্য।

আমেরিকার স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক ওয়াল্টার মোসলে যেমন বলেছিলেন, একজন ব্যক্তি কেমন তা তার বুক শেল্ফ দেখলেই ধারণা পাওয়া যায়। মোসলে হয়তো লাদেনকে ভেবে এই কথাটি বলেন নি। তবে বই পছন্দের ধরণ দেখে অবশ্যই ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যগত আচরণ অনেকটা অনুমান করা যায়। (সম্পূর্ণ…)

আকাশ ও সমুদ্রে এত মাখামাখি

পুলক হাসান | ২১ মার্চ ২০১৮ ৮:৪৯ অপরাহ্ন


কক্সবাজার

সমুদ্র পাড়ের মেয়ে
সমুদ্র গর্জন তোমার অভ্যস্ত
দূর থেকে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের বুকে
সূর্যাস্তের লাল টিপে
বেশ চমৎকারই লাগে তোমায়
তরঙ্গের ফেনিল উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে যায়
সৈকতের পায়ের পাতা
পর্যটক পাখির সে কী আনন্দ!
নাগরিক জীবনের বালির বন্ধনে
এ আনন্দ যেন অবসাদ মুক্তির
তোমার মাঝে খুঁজে পায় তারা প্রশান্তির তীর
তাই বারবার ছুটে আসে সমুদ্র রোমন্থনে
তাই এত পাখি সমাবেশ।
এত কাছে টানে ঐ দূরের আকাশ
গোপন থাকে না মনের গোপন সন্ন্যাস।
তোমার মনেও রেখে গেছে তার রেশ
কোনো এক ভিনদেশি শাসক কিংবা শ্যাম
বদলে দিয়ে গেছে তোমার নাম
সেই নামের অলঙ্কার আজো তুমি আছ পরে
তোমাকে এখন কে চিনিবে দরিয়া নগরে? (সম্পূর্ণ…)

চক্করকাটা জটির অদৃশ্য হওয়ার আগে

মোজাফ্ফর হোসেন | ২০ মার্চ ২০১৮ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

উঠে দাঁড়িয়েই তিনটা চক্কর দিয়ে হাঁটা শুরু করলো মালতিপাড়ার দিকে। কোনো জায়গায় সে কিছুক্ষণ থেমে থাকলেই পুনরায় চলতে শুরু করার আগে একস্থানে দাঁড়িয়ে তিনটা চক্কর দেবে। কেনো দেবে তার সরল উত্তর ওর মাথায় সিট আছে। যার মাথায় সিট থাকে সে যা ইচ্ছা করার অধিকার রাখে। কোনো কার্য-কারণ তাকে কারো কাছে তুলে ধরতে হয় না। মাথায় সিট আছে শুনলে লোকজন তার প্রয়োজনও বোধ করে না। আমরা যারা ছোট ছিলাম তারা জটিকে থেমে থাকা দেখলে এটা-সেটা বলে বা অঙ্গভঙ্গি করে ফেউ দিতাম যেন সে চলতে শুরু করে। এর সরল কৈফিয়ত হলো, আমরা তার তিনটা চক্কর মারার দৃশ্য দেখে মজা পেতাম। যখন সে হাঁটতো তখন তার প্রতি আমাদের খেয়াল থাকতো না। কিন্তু বসে আছে বা থেমে আছে দেখলেই মনে হতো ওর চলাকে উসকে দেয়াটা দায়িত্বের ভেতর পড়ে। বড়রা আমাদের বকতেন বটে কিন্তু আশকারা দিতেন মুখ টিপে হেসে। (সম্পূর্ণ…)

দক্ষিণ এশিয় ইংরেজি কথাসাহিত্যের মানচিত্র

রিফাত মুনিম | ১৮ মার্চ ২০১৮ ৯:১৭ অপরাহ্ন

এরকম একটি সেমিনারে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। শ্রোতাদের মধ্যে পরম পূজনীয় কয়েকজন লেখক রয়েছেন যাদের সামনে বক্তৃতা দেওয়াটা অনেক বড় প্রাপ্তি। সত্যি কথা বলতে তাঁদের সাহিত্যকৃতির বিভিন্ন দিকই সাহিত্যকে পেশা হিসেবে নেওয়ার জন্য আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাই শুরুতেই তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানকে আমাকে এরকম একটি বিরল সুযোগ প্রদানের জন্য।
আজ আমি দক্ষিন এশিয় সাহিত্য সম্পর্কে আমার কিছু ভাবনা উপস্থাপন করবো। একজন সাংবাদিক ও সাহিত্য সম্পাদকের দৃষ্টিকোণ থেকে আমি পর্যবেক্ষণগুলোকে ধরার চেষ্টা করেছি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হওয়ার সুবাদেই এ হাউস ফর মি. বিশ্বাস, দ্য গ্লাস প্যালেস, দ্য গাইড এবং দ্য গড অব স্মল থিংস-এর মতো উপন্যাসগুলোর সাথে আমার পরিচয় ঘটে। শুধু অরুন্ধতী রায়ের উপন্যাসখানির বাংলা অনুবাদ হাতে পেয়েছিলাম আগেই, তবে কখনো শেষ করা হয়নি। শ্রেণীকক্ষে নয়, এই বইগুলোকে প্রথম দেখেছিলাম মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্রদের আবাসিক হলের রুমে। এগুলো তাদের পাঠ্য ছিল। আমরা ছিলাম স্নাতক প্রথম কি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র; আমাদের ক্লাসরুম কিংবা হলরুম – দুইই জুড়ে থাকত রোমান্টিক, ভিক্টোরিয়ান ও আধুনিক যুগের সব ইংরেজি উপন্যাস। চেনা প্রতিবেশের বাইরে সম্পূর্ণ অচেনা পটভূমিকায় নির্মিত এই গল্পগুলোর মধ্যে প্রবেশ করতে আমার বেশ কষ্ট হত, যদিও এগুলো ছিল ইংরেজি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সব নিদর্শন, ভাষিক এবং নান্দনিক সৌকর্যে অতুলনীয়। (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা: স্বাধীনতার জন্ম

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৭ মার্চ ২০১৮ ৮:৩২ অপরাহ্ন

কোটি কোটি বছর ধরে বস্তু ও অবস্তুর গর্ভজাত
মহাকর্ষের মহাসাংঘর্ষিক মহামিলন থেকে সহজাত
জন্ম-সৌভাগ্য যে জাতিবাঙালির, তারই দিগন্তবিস্তৃত
পলিবাংলার প্রথম মুক্তপলিপুত্র তুমি,
হে আমার তামাটে পিতা।

তোমার শরীরে-মনে মিশে আছে
জগতের সব ধর্ম-কর্ম, সব গোত্রবর্ণ,
নন্দনবন্ধনের সব স্বর্ণাস্বর্ণ।

তুমি এই বঙ্গভূমি থেকে বিজয়সিংহের দিগন্তবিস্তারী সতৃষ্ণ সাঁতার,
রাখালরাজ গোপালের মাঠে মাঠে সর্বশস্যের ধুধু সোনালি খামার,
চর্যা-র পদকর্তা ভুসুকুর চিত্তে বংপ্রজাতির প্রথম প্রমুক্ত পঙক্তির ক্ষরণ,
মাতৃবাণী মাতৃউক্তি বাঙ্গালার সপক্ষে হাকিমের জাতিস্মর উচ্চারণ,
মধ্যযুগে স্বঘোষিত স্বাধীন সুলতান ইলিয়াস শাহের অনার্য ভাষা-তূর্য,
বিদ্যাপতি-আলাওল-চণ্ডীদাশের স্পর্শ-ও-বর্ণ-নিরপেক্ষ নন্দনসূর্য,
জাতিত্যাগী বিশ্বভিখারী মাইকেলের শ্রীমধূসূদন হয়ে নিশর্ত ঘরে ফেরা, –
তুমি জগতের তাবৎ জাতিতত্ত্বের সত্যাসত্য চুলচেরা; (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com