শামীম আজাদের চূর্ণ-কবিতা

শামীম আজাদ | ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

 কুলুঙ্গীতে তোলা ছিলো অবশিষ্ট চুম্বন
সুদসহ নিয়ে নিচ্ছ তুলে
এমন সিঁদকাটা কর্ণিয়া কোথা থেকে পেলে

 রাত, হে আমার নৃত্বাত্তিক নদী
বালির এ বালখিল্য খেলায়
বুক ভরে শ্বাস আট্‌কে অভিজ্ঞানহীন হলে
আমি এখন ভাসবো কোথায়

 বাজুবন্দে বেঁধেছি অপুষ্ট বাঞ্ছা
দেখো একদিন ঠিক বাহুবল হবো
জানি এমন প্লাবন শুধু কবি ও কাঙালেই পাবো
তাই আমি কবি ছাড়া হবো না কাহারো

 যে সম্পর্ক সবচেয়ে প্রগাঢ় প্রবীণ
সে সম্পর্কই হতে পারে অতি তুচ্ছ ক্ষীণ
সে শুধু থাকা না থাকার গল্পে
সে শুধু তোমার আমার ঋণে (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী অাফ্রিদা তানজীম মাহী

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ ৮:৪৭ অপরাহ্ন

আমাদের মেয়েরা কেনো এ ভাবে আমাদেরকে কাঁদায়!
তারা তো আমাদের নিমফুলের পারফিউম, আনন্দাকাশ
কালো কালো পাথরে, মেঘে ঢেকে দেয় সূর্যের সৌন্দর্য!

#

আয়নায় দেখি মাহীদের মুখ; ঘুমন্ত মুখ এতো স্নিগ্ধ!
আমরা স্বপ্ন চাষ করি, স্বপ্নে বাস করি, প্রবাস খাটি-
এই সব বেদনা, ভাতফুল, সবই তো সন্তানদের জন্য!

#

আমাদের মেয়েরা কবিতা না হয়ে কেনো সিলভিয়া প্লাথ হয়!
রং-ব্রাশের বদলে তারা কেনো ভালোবাসে সিলিংফ্যান?
তারা কেনো পার্থ না গিয়ে চলে যায় হায় পৃথিবীর বিপরীতে! (সম্পূর্ণ…)

কামাল চৌধুরী: রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ’র মুখোমুখি এক সপ্রতিভ কবি

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী | ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ ১০:২৭ অপরাহ্ন

বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে আবির্ভূত বাঙ্গালী কবিদের সম্মুখে রবীন্দ্রনাথ এবং জীবনানন্দ এই দুই অগ্রজ কবি চরম প্রতিবন্ধকতার মতো দাঁড়িয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ মনুষ্য আবেগ ও অনুভূতির নানা স্তর ও প্রকোষ্ঠ শতহস্তে হাতড়ে শুষে নিয়েছিলেন তাবৎ রসদ। তাঁর বহু ব্যাপ্ত প্রতিভা দীর্ঘ প্রায় আশি বৎসরব্যাপী ও কর্মমুখর জীবনের সুযোগ নিয়ে কবিতার উপচার ভাণ্ডার উজাড় ক’রে ফেলেছিল। “আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমন পশিল প্রাণের পর” থেকে “অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে সে পায় তোমার হাতে শান্তির অক্ষয় অধিকার” অবধি এই দীর্ঘ যাত্রা তার সাক্ষী। তিরিশ এবং চল্লিশের মহাপ্রতাপশালী কবিদের তাই হাত প্রসারিত করতে হয়েছির পশ্চিমের কাছে। এই অকপট ঋণ তাদের কাব্যে বৈচিত্র্যের ও বৈশিষ্ট্যের মূল উৎস; হয়তো একই সঙ্গে তাদের সীমাবদ্ধতারও সূত্র। কিন্তু আজ অর্ধশতাব্দী পরে প্রতীয়মান হয় যে তাদের অধিকাংশ কবিতা কালোত্তীর্ণ হতে পারে নি। জীবনানন্দ যে টিঁকে গেলেন, এবং সেটিও পরম বৈভবের সঙ্গে, সেটির অন্যতম কারণ তাঁর বিশিষ্ট কাব্যবোধ ও স্বকীয় কাব্যভাষা। পাশ্চাত্য তাঁর কাব্যবোধ শাণিত করেছে; কখনো ঋণ দিয়েছে কবিতার বীজ; কিন্তু তিনি জন্মেছিলেন এমন একটি কাব্যবোধ নিয়ে এবং একই সঙ্গে আয়ত্ব করেছিলেন এমন একটি অন্তর্জাত কাব্যভাষা, যা বাঙলা কবিতাকে একই সঙ্গে শিল্পসম্মতি ও উপভোগ্যতার শীর্ষে তুলে দিয়েছিল। (সম্পূর্ণ…)

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর আখতারুজামান ইলিয়াস সবচেয়ে বড় লেখক

শুভরঞ্জন দাশগুপ্ত | ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

আখতারুজামান ইলিয়াস-এর সৃজন ও অঙ্গীকার প্রসঙ্গে আমি নির্দ্বিধায় দাবি করতে পারি যে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর বাংলা কথাসাহিত্যের প্রাঙ্গনে তাঁর চেয়ে বড় লেখকের প্রবেশ ঘটেনি। শুধু আমার মতো অকিঞ্চিতকর বিশ্লেষক এই দাবি করছে না। মহাশ্বেতা (দেবী)দি এবং হাসান আজিজুল হক ভাইও সম্ভবত আমার মূল্যায়নের প্রতি ওঁদের সমর্থন জ্ঞাপন করবেন। ইলিয়াস-এর মৃত্যু সংবাদ শুনে শোকগ্রস্ত মহাশ্বেতা দিদি বলেন, “আমাকে এই মুহূর্তে বলতেই হবে যে দুই বাংলায় তাঁর চেয়েও অধিক প্রতিভাবান কথাসাহিত্যিক বর্তমানে নেই আমি বারংবার এই মূল্যায়ন ব্যক্ত করেছি এবং আবার কোরবো।” অন্যদিকে এপারের শ্রেষ্ঠ গল্প লেখক হাসান আজিজুল হক বলেন, “বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ দিকপালদের অবদান স্মরণে রেখেও বলব, ইলিয়াস ছিলেন তাঁদের সমগোত্রীয়। আমি এক নিঃশ্বাসে ইলিয়াস, মারকুয়েজ ও গুন্টার গ্রাস-এর নাম উচ্চারণ করব।” উনিশ বছর আগে, ঢাকায় শীতের রাত্রে আমার হাসান ভাই-এর সঙ্গে কথা হয় টেলিফোনের মাধ্যমে। তখনই তিনি এই মুল্যায়ন করেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, “Within a very very brief period he created a variegated, startlingly, unfamiliar world of literature and then departed.” ইলিয়াস আর মহাশ্বেতা দিদির সম্পর্ক ছিল দিদি আর-ভাই-এর মতো। ইলিয়াস-এর সহধর্মিনী সুরাইয়া আমাকে বলেন, “ওদের আন্তরিক ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক অপু-দুর্গার কথা মনে করিয়ে দেয়। ওরা এতটাই ঘনিষ্ঠ ছিল”। (সম্পূর্ণ…)

প্রাকৃতজনের প্রদোষে শিল্পীর মুক্তিবাসনা

সোহেল হাসান গালিব | ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ ৬:২৯ অপরাহ্ন

প্রদোষে প্রাকৃতজন শওকত আলীর, বলা চলে, সব থেকে পঠিত, আলোচিত উপন্যাস। উপন্যাসের পটভূমি হাজার বছর আগের বঙ্গভূমি ও তার জনপদ; যদিও লেখকের দৃষ্টি ও মন বিচরণ করেছে মূলত পুনর্ভবা, আত্রেয়ী ও করতোয়া নদীতীরবর্তী অঞ্চল। আখ্যানের মূল চরিত্র শ্যামাঙ্গ, মৃত্তিকামূর্তি-নির্মাতা, গুরু-কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে ফিরে আসছে নিজ গ্রামে–তার সেই ফিরে আসবার পথই লেখকের ফোকাস, কেননা এই প্রত্যাবর্তন–পথেই গল্পের শুরু এবং শেষ। শ্যামাঙ্গ শেষ অব্দি পারে নি সেখানে পৌঁছুতে–স্বাধীন শিল্পিসত্তার উন্মেষ ঘটতেই যেন মৃত্যু হলো তার। ‘নিরপরাধ হলেই তুমি রক্ষা পাবে, এমন নিশ্চয়তা কি কেউ তোমাকে দেবে’–এই বলে যে উক্তিটি করেছিল কৃষ্ণা বসন্তদাসকে লক্ষ্য করে, সমগ্র আখ্যানটি সে সুরেই বাঁধা।

এই অসহায়ত্ব কার? সকলের নয় নিশ্চয়ই। ‘গৌড়বঙ্গের রাজধানী লক্ষণাবতীতে মহামহিম পরম ভট্টারক শ্রীলক্ষণ সেন দেব সিংহাসনে অধিষ্ঠিত। রাজসভায় উমাপতি, ধোয়ী এবং জয়দেবের কাব্যগীতির সুললিত মূর্চ্ছনায় সভাস্থল বিমুগ্ধ। জয়দেবের কৃষ্ণলীলার বর্ণনা শ্রবণে সভাসদবর্গ তুরীয়ানন্দে বিহ্বল, ধোয়ীর পবনদূতের বর্ণনায় কামকলানিপুণা রমণীকুলের উল্লেখে শ্রোতৃবর্গ অহো অহো উল্লসিত স্বর উচ্চারণ করে উঠছেন। স্মার্ত পণ্ডিতের ভাগবত বিশ্লেষণে মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সাধু সাধু রব।… ব্রাহ্মণ সুখী, কায়স্থ সুখী, বৈশ্য সুখী। কেবল ব্রাত্য শূদ্রদের গৃহে অন্ন নেই, দেহে বস্ত্র নেই, মস্তকোপরি গৃহের আচ্ছাদন থাকে না।… ’ তথাপি প্রজাকুল সুখী! (সম্পূর্ণ…)

শওকত আলী : ইতিহাসের অমৃতপুত্র

সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম | ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১:১৫ অপরাহ্ন

প্রস্তুতির পরও যে মৃত্যুর খবর স্তব্ধ করে, তার ব্যাপ্তি জীবনেরই সমান। বেঁচে থাকলে নতুন কিছু লিখতেন না তিনি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণের হাতে হয়ত তুলে দিতে পারতেন না পুরস্কার। মাইক্রোফোনের সামনে মূল্যবান শব্দ উচ্চারণও অসম্ভব ছিল গত এক বছর ধরে। তবুও সত্যি যে, কথা সাহিত্যিক শওকত আলীর প্রয়াণে পাঠক বেদনা-ভারাক্রান্ত। তাঁর দীর্ঘ স্মৃতিই তাকে অমূল্য করে তুলেছিল। ৮২ বছর বয়সের অনেক মানুষই হয়ত আছেন যারা স্মৃতি-ভ্রষ্ট নন, গুছিয়ে বলতে পারেন সব কথা। সমাজ ও মানুষ দেখার জীবনবোধে শওকত আলী স্বতন্ত্র,স্মৃতি বিভ্রমে যেন তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষ সবচেয়ে বেশি অকপট হয়ে উঠেন তাঁর ব্যক্তিগত দিনলিপির কাছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর কয়েকটা দিনলিপি দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। কিছু পড়ে দেখা, কিছু ছবি তুলে আনা। অধিকাংশ ধূলিধূসর আর বেশ কিছুদিন আগের। সেই দিনলিপি দেখে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, তথ্য আর হিসেবের অমন আতিশয্যে ভারাক্রান্ত মানুষ কেমন করে দরদ দিয়ে সৃষ্টি করেন লীলাবতী বা শ্যামাঙ্গদের মতো মানবিক চরিত্র! বরাবরই হয়ত তিনি তাই নিজের আবেগকে সুসংহত করে রেখেছেন শুধু লিখবেন বলে। নিজের শব্দ বাক্যের কাছে যে লেখক আত্মসমর্পণ করেন এমনই তো হওয়ার কথা তাঁর। ভি.এস. নাইপল তাঁর নোবেল বক্তৃতায় তেমনই তো বলেছিলেন। “আমাকে ভাষণ দিতে বললে, বলে দিয়েছি যে ভাষণ দেওয়ার মতো কিছু আমার কাছে নেই। এবং কথাটা সত্যি। বলতে কী, একজন লোক, যে কিনা প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে কথা, নানা আবেগ এবং ধারণা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছে, তার কাছ থেকে ক’টা কথা পাওয়া যাবে না, এ আশ্চর্যজনক বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু আমার তরফে মূল্যবান যা কিছু, সব আমার বইগুলোতে রয়েছে। এর অতিরিক্তি যেটুকু কোনও এক ক্ষণে আমার কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে, তা যে ঠিকমত কোনও সুস্পষ্ট অবয়ব ধারণ করে থাকে এমন নয়। (সম্পূর্ণ…)

বিদায় নিকানোর পাররা

জাহেদ সরওয়ার | ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:০০ অপরাহ্ন

নিকানোর পাররার কবিতা পড়ে প্রতিক্রিয়া না দেখানো অসম্ভব। এখানেই হয়ত তাঁর কবিতার শক্তিমত্তা। কবিতা পড়তে পড়তে হয়ত মনে হতে পারে এ আদৌ কবিতা নয়। এতদিন ধরে গড়ে ওঠা কবিতার ধারণাকে ভেঙে ফেলার জন্যই বুঝি এই কবিতা। নিকানোর পাররার কবিতাগুলো যদি কবিতা হয়– প্রশ্ন জাগা অস্বাভাবিক নয় যে তাহলে আগে আমরা কবিতা নামে যা পড়েছি তা কী? তিনি তাঁর এই কবিতাসমূহের নাম দিয়েছিলেন প্রতিকবিতা। নিকানোর পাররার কবিতার বই প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে সত্যিকার অর্থে বিশ্বকবিতায় সূচিত হয়েছিল নতুন এক কবিতার যাত্রা। প্রতিকবিতা। বলা হয়ে থাকে যে কবিতা এখন কোথায় সেটা জানতে গেলে প্রতিকবিতা পড়তে হবে। এটি কবিতার ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। তিনি নিজেই তার একটা কবিতায় বলেন,

পৃথিবীতে কোনোকিছুই আপনাআপনি আলপটকা ঘটনা/দাদইজম/কিউবিজম/সুররিয়ালিজম/অথবা আত্মার আত্মপরাজয়/যা হয়/তা আগে যা ঘটেছে তারই যুক্তিসিদ্ধ ফলাফল। [হলোকস্ট; শ্রেষ্ট কবিতা ও প্রতিকবিতা, অনুবাদ: মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়] (সম্পূর্ণ…)

আলপস্‌ রজনীর তুষারপাতে

ইকতিয়ার চৌধুরী | ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ ১:১৬ অপরাহ্ন

১৯৯০।
ট্রেনটি ঘণ্টায় প্রায় দু’শ সত্তর কিলোমিটার বেগে শ্যামল প্রান্তর ছুঁয়ে প্যারিস থেকে লিওর দিকে ছুটছে। ফরাসিরা বলে তে জে ভে-থ্রা আ গ্রন্দ্ ভিতেজ। প্রচণ্ড গতির ট্রেন। জানালা দরজা বন্ধ। বিশাল একটি কামরা আমাদের দখলে। পুরো বহর যাচ্ছি মাঠ পর্যায়ে তুলনামূলক প্রশাসন বিষয়ে ধারণা নিতে। সংখ্যা সব মিলিয়ে আশির কাছাকাছি। আমাদের বর্তমান ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ইয়াপে, তার সকল প্রশিক্ষণার্থীই সেই যাত্রায় শামিল। ঘনিষ্ঠদের মধ্যে আসেনি মেধা গাডগিল আইএএস। ভিশিতে ক্যাভিলমে ফরাসি ভাষা শেখার সময় আমরা ছিলাম একই এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে। ওঁর ঘর ছিল নিচে, আমি থাকতাম তিনতলায়। মেধার শ্বশুর ভারতে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। কংগ্রেস দলের মুখপাত্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন এক সময়। ভিশির মতো প্যারিসেও মায়ের সাথে থাকছে মেধা।
লিও প্যারিস থেকে উত্তর পূর্বে। দূরত্ব পাঁচশ কিলোমিটারের বেশি। ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী । অবশ্য অনেকে বলে মার্শেই হচ্ছে দুনম্বরে। ইইসি’র বারোটি দেশ পরিকল্পনামতো যদি ১৯৯৭ সাল নাগাদ পুঁজি, পণ্য, কাজের জন্য নাগরিকদের দেশান্তর গমন ও পরিবহন অবাধ করতে পারে তবে অবস্থানগত কারণে লিওর গুরুত্ব বেড়ে যাবে। (সম্পূর্ণ…)

অন্য রকম উচ্চতায় সুড়ঙ্গ

দিল মনোয়ারা মনু | ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ ৭:১৬ অপরাহ্ন

আমরা জানি মুক্তিযুদ্ধ বাঙালীর ইতিহাসে এক মহান অর্জন। সুখ ও শোকে মেশানো এক গৌরবময় বিজয় গাঁথা, বিজয় উপহার দিয়েছে একটি রক্তাক্ত মানচিত্র। যা প্রতিটি বালুকনা, ঘাস, ফুল, লতাপাতা, নদীর সাথে জড়িয়ে আছে ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্ত। সেই মানুষের একটি অংশ নারী। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁরা ঝাপিয়ে পড়েছিলো দেশমাতৃকার এই দুরূহ সংকট কাটাতে।
নারীর পরিপূর্ণ সহযোগিতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নিরঙ্কুশ ত্যাগ নিয়ে এগিয়ে চলেছে এই যুদ্ধ দিনের পর দিন। মুক্তিযোদ্ধারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় শত্রুর মোকাবেলায় ঝাপিয়ে পড়লে তাদের উৎসাহ প্রেরণা, অস্ত্র জোগানের সহায়তা করা, গোপনে সংবাদ আদান প্রদান, চিকিৎসা সেবা, নিরাপদ আশ্রয়, খাবারসহ নিজের সন্তানকে যুদ্ধে পাঠানোসহ কি না করেছে এই নারীরা। এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে তারা প্রতিরোধ সংগ্রামে এক মহান ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সেই অনন্য ভূমিকার কথা পত্র-পত্রিকায় সেভাবে উঠে আসেনি। তুলে আনা হয়নি সেই সকল নারীদের কথাও যারা স্বামী নিরুদ্দেশ হবার পর স্থায়ী গ্রামের বাড়ি বলে কোন ঠিকানা না থাকায় অন্যত্র আশ্রয় নিতে পারেননি। এমনি এক সাহসী প্রত্যয়ী নারী জাহেদা। সেলিম আজাদ চৌধুরীর ‘সুড়ঙ্গ’ গ্রন্থের আপসহীন নায়িকা। সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষক। আধুনিক রুচিশীল মনন মেধার অধিকারী, দৃঢ়চেতা। গ্রামে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় অন্যত্র গেলে স্বামী ফিরে এসে যদি খুঁজে না পায় সেই শঙ্কা রয়েছে। মুসলিম লীগ পন্থি তার স্কুল পরচালোনা পরষদের লালচক্ষু এবং বোরখা পরার আদেশ অমান্য করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে নিরলস থেকে যে সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন লেখক তা সহৃদয় ও দক্ষতার সাথে গুরুত্ব দিয়ে সাহসী ও অনালোচিত সে অংশটি তুলে ধরেছেন। (সম্পূর্ণ…)

শান্তিনিকেতনে শিক্ষক মুজতবা আলী ও কয়েকটি করুণ ঘটনা

মুহিত হাসান | ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

অল ইন্ডিয়া রেডিওর চাকরি চূড়ান্তভাবে ছেড়ে দেবার পর সৈয়দ মুজতবা আলী কলকাতায় ফিরে এলেন আবারও, ১৯৫৭ সালে। চাকরি নেই, বয়স বাড়ছে, শরীরও আগের তুলনায় দুর্বল। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত না থাকলেও আশেপাশে ভরসা জোগাবার মতো মানুষ কম। কলকাতার একাধিক বৃহৎ পুঁজির পত্রিকাগোষ্ঠী তাঁর কাছ থেকে লেখা চায়, কিন্তু উল্টোদিকে তাঁকে একটা সম্মানজনক বেতনে চাকরি দেবার ব্যাপারে সেসব প্রতিষ্ঠানের বড়ই অনীহা। অবশ্য তখন একবার বসুমতী পত্রিকার মালিকপক্ষ তাঁকে ওই পত্রিকার সম্পাদক করতে চেয়েছিল। তিনি তাতে সম্মত হননি। তখন ওই পত্রিকার খুব দুরবস্থা চলছিল, তাঁর মনে হয়েছিল, মালিকপক্ষ গ্যাঁড়াকলে পড়ে তাঁকে মই হিসেবে ব্যবহার করে হারানো জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। আর পত্রিকা পুনরায় দাঁড়িয়ে যখন যাবে, তখন পত্রপাঠ বিদায় করে দেবে। বরং আনন্দবাজার গোষ্ঠীর কোনো পত্রিকায় মুজতবা চাকরি পেতে আগ্রহী ছিলেন বলে অন্নদাশঙ্কর রায় জানিয়েছেন, কিন্তু সেখান থেকে পরে আর কোনো সাড়া তিনি পাননি। (সম্পূর্ণ…)

তারেক মাহমুদের ৫টি কবিতা

তারেক মাহমুদ | ২১ জানুয়ারি ২০১৮ ১১:২৮ অপরাহ্ন

বিদায় নেয়ার পরে

তোমার সাথে এমন এক সম্পর্ক হয়ে গেলো যে অদ্ভূদ
টেলিফোনে কথা বলতে বলতে বাই
আবার কথা বলা
আবেগের
বাস্তবতার
কল্পনার আবার বাই

বাই বলার পরে আবার অনেক কথা
বাই বা বিদায় বা এখন রাখি
এসব বলা মানে যেন আবার নতুন করে কথা বলা শুরু
এমন ঘটে এফবিতে চ্যাট করতে করতেও
আমাদের কতোবার বাই হয় কতোবার গুডবাই
বিদায় নিতে নিতে অদ্ভুত স্টাইলে আবার বল
‘একটা কথা মনে পড়ে গেলো’

তারপর আবার শুরু
ব্যাপারটা মজার, নাহ!
আমি তাই বারবার বাই বলি
যেন তুমি আরো বেশি করে কথা বলতে পারো (সম্পূর্ণ…)

মাহবুব আজীজের ছয়টি কবিতা

মাহবুব আজীজ | ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ ৯:১৫ অপরাহ্ন

কোন বদল নেই

আকাশ সেই একই। সন্ধ্যাও তাই।
বাতিগুলো জ্বলে উঠছে;
চোখের ভাষা মরে যাবার পরও সবই একই;
– মৃদু পায়ে আলতো এগিয়ে যাই।

কিভাবে সব বদলে যায় কিচ্ছু বুঝি না;
সামান্য স্পর্শে মাতাল শরীর কিভাবে হয় পাথর আবার!
ঝলমলে হাসি ভ্রুকুঞ্চনের ভাজে ঢাকে-
অবিরত অপেক্ষার মুহূর্তগুলো স্বপ্নের অন্তর্গত!

ত্রিশ কিলোমিটার পেরুতাম ত্রিশ সেকেন্ডে-
এখন তা তিন হাজার কিলোমিটার দূরত্বের আদিবাস!
যে হাসি একশ’ গোলাপ ফোটাতো নিমেষে;
এখন তা যে কোন হাসি- বিশেষত্বহীন, নির্বিকার!

কেবল সন্ধ্যার কোন বদল নেই- আদি, অকৃত্রিম
আমারই মতো- কোমল, দুঃখী, বেদনায় হিম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com