প্রকাশ বিশ্বাসের অনুগল্প: বনভূমি

প্রকাশ বিশ্বাস | ৩১ december ২০১৭ ১:১৮ অপরাহ্ন

bow-and-arrowবনভূমির ঠিক মধ্যিখানে অনেকগুলো আপেলগাছ হরেক রকমের গাছের সাথে মিলেমিশে দাঁড়িয়ে। সেখানে চোখবাঁধা অবস্থায় এই মাত্র একদল তীরন্দাজদের ধরে নিয়ে আসা হলো। তাদের বলা হলো তোমাদের সামনে ঐ যে বড় আপেলবৃক্ষ যা তোমরা দেখতে পাচ্ছোনা তাতে অসংখ্য লাল টুকটুকে পাকা আপেল ফল ঝুলে আছে। তোমরা প্রত্যেকেই তীর ছুঁড়ে সেগুলোকে ভূপাতিত করবে। আর তখন এক এক করে এই সব অন্ধ তীরন্দাজরা তাদের তীর ছুঁড়তে লাগলো। আর আশ্চর্য প্রত্যেক তীরের মাথাই সেগুলোকে বিদ্ধ করে নীচে ফেলে দিল এবং চারদিকের বাতাস মিষ্টি আপেলের গন্ধে দ্রবীভূত হয়ে গেল। (সম্পূর্ণ…)

সোহরাব সুমনের কবিতা: জন্মদাগ

সোহরাব সুমন | ২৮ december ২০১৭ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

butterflies
চুপথাকে
ভালোবাসা চুপথাকে
না পাওয়ার নির্বাকে
কিছু কি বলার থাকে?
চুপ থাকে!
বলার যখন কিছু নেই
ফেরাবার বৃথা চেষ্টাতেই
তুমি যে ছাড়িয়ে নিলে হাত
পাশাপাশি বসে থেকে থেকে…

মন বোঝ না
ডাকো শরীরের টানে
দেহ কি মনের মতো
ওত যাদু জানে

গহীনে শব্দেরে রেখে বলি কার কথা
নৈঃশব্দেরা কি বোঝে
নীরব মনের
ভাষা (সম্পূর্ণ…)

শাপলা সপর্যিতা: জন্মমাসের পদাবলী

শাপলা সপর্যিতা | ২৭ december ২০১৭ ৮:৩৭ অপরাহ্ন

Monirul Islam
চলো ধরে রাখি পৃথিবীর যৌবন।
কাম ও প্রেমের বিস্তৃত আলয়ে
জ্বলে উঠুক দীপাবলি।
অনঘ ক্রোধের আগুন
নখ থেকে নাভীতে নেমে আসুক।
ত্রিবেণী সংগতে বেজে উঠুক
আমাদের ব্যথাগুলি।


নাও……
আর পূর্ণ করে দাও তোমার সকল।
বেদনাগুলি ফুল হোক
ফুঠে উঠুক আমার বাগান জুরে।
এ বিপুল অন্ধকারে জ্বলতে দাও চাঁদ।
অথবা জ্বলে উঠুক আজ কিছু নক্ষত্র তোমার
আমার সারা আকাশ ‍ভরে।
এর নাম যদি ভালোবাসা বল
তবে সুর হোক কিছু কাব্য কথায়। (সম্পূর্ণ…)

মুর্তজা বশীর: তুমি বিশ্বাস করো, হুমায়ূন আহমেদের কোনো বই পড়ি নি

রাজু আলাউদ্দিন | ২৫ december ২০১৭ ১১:৫৯ অপরাহ্ন

murtaza-2শিল্পী মুর্তজা বশীরের এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল ২০১৪ সালে তার জন্মদিনের( ১৭ আগস্ট) অল্প কয়েক সপ্তা আগে। কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউ্দ্দিন কর্তৃক গৃহীত এই সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহসান।
রাজু আলাউদ্দিন : বশীর ভাই, আপনার জন্ম তো ১৯৩২ সালে আগস্টে। (১৭ই আগস্ট—মুর্তজা বশীর)। তাহলে আগামী ১৭ আগস্টে হবে…
মুর্তজা বশীর : ৮১ পেরিয়ে ৮২তে গিয়ে পা দেব। আমার জন্মক্ষণ আমার পিতা স্বহস্তে লিখে গিয়েছিলেন। তখন কৃষ্ণপক্ষ দ্বিতীয়া, আরবি সনসহ পুরো দিনক্ষণটাই। কারণ আমাদের বাসায় ছোটবেলায় দেখেছি যে, একটা ছোট খাতা ছিল মেরুন কালার চামড়ার বাঁধাই করা। ওখানে আমার পিতা সন্তানদের নাম নিজের হাতে লিখতেন। আমারটাও তার নিজের হাতে লেখা। ওখানে লেখা ছিল : একটি পুত্রসন্তান লাভ, নাম আবুল খায়ের মুর্তজা বশীরুল্লাহ। উঁনি আবার বাংলা বানান, আরবি বানানটা, প্লাস পহেলা ভাদ্র, বুধবার, ইংরেজি সন-তারিখ, অর্থাৎ পুরো জিনিসটাই উনি লিপিবদ্ধ করেছিলেন। প্রত্যেক ভাইয়েরই ওরকম করা ছিল। ওটা শিল্পকলা একাডেমি থেকে আমার যে বইটা বের হয় সেখানে এর রিপ্রিন্ট করা আছে।
রাজু আলাউদ্দিন : আপনার জন্ম তো ঢাকাতেই।
মুর্তজা বশীর : ঢাকায় মানে… ঢাকাতেই। আমার বাবা তো তখন ইউনিভার্সিটিতে, এখন যেটা ব্রিটিশ কাউন্সিল, ওটা ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পাশে কলার বাগান। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উত্তর দিকে, ওখানে গম্বুজ দেয়া একটা বিল্ডিং ছিল যার সামনে জোড়া কবর—আলু শাহ, মালু শাহ বলে দুইভাই। ওই বিল্ডিংটায় আমার জন্ম। ওটা পরিচিত ছিল হাসান সাহেবের কুঠি বলে। মামুদ হাসান সাহেব ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছিলেন। ওটা ছিল প্রোভস্টের বাড়ি। উঁনি যখন বিলেতে যান তখন আমার বাবা অস্থায়ী প্রোভস্ট হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন উনি ওই বাড়িতে ওঠেন। ওই বাড়িতে আমার জন্ম। (সম্পূর্ণ…)

গাজী তানজিয়ার গল্প: বিম্ব বদল

গাজী তানজিয়া | ২৩ december ২০১৭ ২:০৩ অপরাহ্ন

slave womanমেসেজটা আসার সাথে সাথে আমূল কেঁপে ওঠে ইরিনা। প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত এক তীব্র ্আতঙ্কের সাথে বসবাস তার। একবার ভেবেছিল ফোন আর ব্যাবহার করবে না। ফেসবুক বা ওই জাতীয় স্যোসাল মিডিয়া থেকে নিজের আইডেনটিটি প্রত্যাহার করে নেবে। কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন এক ভয়ঙ্কর কুৎসিত অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে ইটের পর ইট গাঁথার মতো এক একটা পরিকল্পনা সে জড়ো করে; আবার এর বিপরীত সম্ভাবনা এবং তার প্রয়োগের কথা ভেবে সবটাই ভেঙ্গে চুর চুর হয়ে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় সে যেন মধ্যযুগে বাস করছে। এই একবিংশ শতক, এই উন্নত প্রযুক্তির সর্বৈব ব্যাবহার, সর্বত্র আধুনিকতার ছোঁয়া! এই যে দৃশ্যত উদার নারী বান্ধব দুনিয়া এ সব কিছু যেন মিথ্যা। এক গভীর ষড়যন্ত্রের জালে সে জড়িয়ে যাচ্ছে। আর তলিয়ে যাচ্ছে গভীরে, আরো গভীর পুঁতিগন্ধময় এক গহ্বরে। বেশ কয়েকদিন ধরে মেসেজটা আসাছিল। ওরা ডাকছে। ঠিকানা দেয়া আছে, সেখানে যেতে বলছে। প্রথম দুএকদিন ইগনোর করে গেছে। কিন্তু সেই দিন! গোটা পৃথিবীটা যেন ধ্বসে গেছে ইরিনার চোখের সামনে। সেই ডকুফিল্মে দেখা হিরোশিমা-নাগাসাকিতে অ্যাটম বোমার আঘাতে যেভাবে ধ্বস নেমেছিল আভূমি দিগন্ত জুড়ে। সেভাবেই যেন ধ্বস নামলো তার গোটা অস্তিত্ব জুড়ে। মুহূর্তে বুঝতে পারে কত বড় ফাঁদে পড়েছে সে। (সম্পূর্ণ…)

মিজান রহমান ও তাঁর কবিতা

সরকার মাসুদ | ২২ december ২০১৭ ২:৩১ অপরাহ্ন

mizanঊনষাট বছর বয়সে কবি মিজান রহমান (১৭ ফের্রুয়ারি , ১৯৫৮) প্রয়াত হলেন গত ৩০ সেপ্টেম্বর। আশির প্রজন্মের প্রথম সারির কবি ছিলেন মিজান। ৪৪/৪৫ বছর পর্যন্ত তিনি শুধুই লিটল ম্যাগাজিনে লিখেছেন। তারপর নিজেকে বিস্তৃত করেন দৈনিকের সাহিত্যপাতা পর্যন্ত। তার অনেক কবিতাপ্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো, কালের কন্ঠ, সমকাল এবং যায় যায় দিন- এর সাহিত্য সাময়িকীতে।
মিজান রহমান জীবনের শেষ ১৭/১৮ বছর কাটিয়েছেন ঢাকা জেলার দোহার থানাস্থ হাতুরপাড়া গ্রামে। ঠিক এ ধরনের পল্লীকেই কবি আবুবকর সিদ্দিক বলেছেন ‘কবিতাসর্বস্ব মফস্বল।’ তো এরকম নির্ভৃত গ্রামে বসে মিজান লিখে গেছেন ভাবমগ্ন, দর্শনদীপিত ছোট ছোট কবিতা। মিজান যখন ঢাকায় থাকতেন, ধানমন্ডি ১৫ নং- এর ভেতরে একটা টিনশেড ছিল তার বাসা, তখনো তার কবিতা আরও ছোট ছিল, ভাবসমৃদ্ধ ছিল। উত্তরকালে সেই তন্ময়তা এবং ভাবাতুরতা একটা বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ-বলয় তৈরি করতে পেরেছিল, আমার এমনই ধারণা। কেননা, হাতুরপাড়ার পৈত্রিক ভিটেয় থিতু হওয়ার পর তিনি কবিতা নিয়ে ভাবার অবসর পেয়েছিলেন অনেক বেশি।
ব্যক্তি মিজানের মতো তারঁ কবিতাও অন্তর্মুখি। ব্যক্তির মনের একান্ত নিবিড় অনুভব ও গভীরাশ্রয়ী জীবনভাবনা তার কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মিজানের কবিতায় অন্ধকার, সূর্য, নক্ষত্র, ছায়াপথ, শিশির, সরিসৃপ প্রভৃতি শব্দের পৌনপুনিক ব্যবহার মনে করিয়ে দেয় জীবনানন্দ দাশের কথা। কিন্তু এইসব মিলে যে মুখোস তৈরি হয় তার পেছনেই আছে কবি মিজানের আসল মুখটি। প্রথমত, তিনি জীবনানন্দের মতো পয়ারের আশ্রয় নেননি। প্রথানুগ অন্য কোন ছন্দও ব্যবহার করেননি। দ্বিতীয়ত, ‘সূর্য মনি-কর্নিয়ার প্রতিবিম্ব হয়ে’ প্রখর রশ্মি ছড়াচ্ছে এমন কবিকল্পনা কিংবা ‘বিশালতা গ্রাস করে কুঁকড়ে যায় ঘাস’ এ জাতীয় কল্পছবি মিজানকে আলাদা করেছে জীবনানন্দ থেকে। (সম্পূর্ণ…)

আশির স্বতন্ত্র কবিকণ্ঠ মিজান রহমান

পুলক হাসান | ২১ december ২০১৭ ৮:৪৭ অপরাহ্ন

mizanপাখি নেই পাখির প্রতীক্ষায়
পাখির প্রতীক্ষায় উন্মুখ আকাশ

তবে কী মানব এ জীবন পাখির মতন? মর্ত্যের খাঁচা ছেড়ে তাকে উড়ে যেতেই হয় আকাশের ঠিকানায়? পৃথিবীর বন্ধন মুক্ত হওয়ার আগে উপরোক্ত দুই লাইনের ছোট্ট ‘পাখি নেই’ কবিতায় এ কথাই যেন জানিয়ে দিয়ে গেলেন কবি মিজান রহমান যে, আকাশই ছিল তার প্রতীক্ষায় উন্মুখ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটায় ঢাকার দোহার থানার হাতুরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। তার এই হঠাৎ বিদায় আমার জন্য একই সঙ্গে বিস্ময় ও বেদনাদায়ক। কারণ, মাত্র দুইদিন আগে তার সঙ্গে আমার কথা হয়। তাকে কুরিয়ার করার জন্য আমাকে তার গ্রামের ঠিকানাটা দেয় এবং বলেছিল, কন্টিনেন্টাল-এ যেন পাঠাই। এখন তাকে আমি কোন ঠিকানায় কুরিয়ার করব?
বয়সে সে আমাদের চেয়ে বছর তিনেকের বড় কিন্তু সমসাময়িক। তার জন্ম ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮। কবি সরকার মাসুদ সূত্রে অনেকটা বিলম্বে পরিচয় হলেও কবিতাকেন্দ্রিক অকৃত্রিম সম্পর্কটা গড়িয়েছিল অনেক দূর। তার কবিতাই সে-সম্পর্ক গভীর করে তুলেছিল। মৃত্যুর খবরটাও দিয়েছিল সরকার মাসুদই, সুদূর কুড়িগ্রাম থেকে। ওর সঙ্গেই সম্পর্কটা ছিল গভীর এবং নিবিড়। তাই মিজানের আকস্মিক বিদায়ের খবরটা জানাতে কণ্ঠ ভিজে উঠেছিল ওর। আমারও খারাপ লেগেছে বৈকি। কিন্তু সবারই তো যেতে হবে ও-পথে। মিজান একটু আগে এই হিংস্র উন্মত্ত পৃথিবী ও মেকি সামাজিক বন্ধন থেকে দূরে চিরশান্তির দেশে গিয়ে হয়তো ভালোই আছে এবং আমাদেরকে তারুণ্য ও সাম্যের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর সেই বিখ্যাত গানের চরণ শুনিয়ে জীবনের চরম সত্য মেনে নিতে উদ্বুদ্ধ করছে : ‘ভাল আছি ভাল থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’। (সম্পূর্ণ…)

সাব্বির জাদিদের গল্প: পড়শি

সাব্বির জাদিদ | ২০ december ২০১৭ ৪:৩৭ অপরাহ্ন

Fakirতোবারক আলির শরীর খারাপ। জ্বর আর গলার ভেতর খুশখুশানি কাশি। তার উপর বয়সের ভার। দুই সপ্তাহ যাবত বিছানায় শোয়া সে। চলাফেরার ক্ষমতা নেই। অথচ একটা সময় কত দাপটের সাথেই না সে সংসারের কাজকর্ম করে বেড়িয়েছে। মাঠে, গনগনে রোদে বসে গরুর ঘাস কেটেছে। ধান লাগিয়েছে। নদী সাঁতরে ওপার গেছে মাছ ধরতে। সে সব কথা আজ ভাবতে গেলেও হাত-পা অবশ হয়ে আসে।
তোবারক আলির মনে হচ্ছে এ-যাত্রা সে আর টিকবে না। এর আগেও সে কয়েকবার এমন সপ্তাব্যাপী বিছানায় পড়েছিল। বিছানা তাকে আটকে রাখতে পারেনি। বারবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। মোষ যেভাবে দীর্ঘ সময় ধুলোয় শুয়ে থাকার পর হঠাৎ দাঁড়িয়ে গা ঝাড়া দেয়, তেমন। এবার আর সেই শক্তি নেই। অনেকে বলে, তোবারক আলি শুনেছে, কেউ কেউ নাকি মৃত্যুর আগে আজরাইলের গন্ধ পায়। তোবারক আলিও গন্ধ পাচ্ছে, তার সময় শেষ। কিন্তু চলে যেতে ইচ্ছে করছে না। কারই বা করে! তার মনে পড়ছে বড় ছেলের কথা। তালাক খাওয়া দুই মেয়ের মাকে বিয়ে করে বাড়ি উঠতে চেয়েছিল শরিফুল। তোবারক আলি মানেনি এই সম্বন্ধ। কী করে মানবে! সে গরিব হতে পারে, তাই বলে কি তার মানসম্মান জ্ঞান নেই! দুনিয়ায় কুমারী মেয়ের এতই আকাল পড়ল যে স্বামী খেদানো বুড়িকে তার বিয়ে করা লাগবে! শরিফুল বউ আর উপরি হিসেবে পাওয়া দুই মেয়েকে নিয়ে সেই যে গেল, আর ফেরেনি। কোথায় গেছে কেউ জানে না। ছোট ছেলে চোরাচালানির কেসে জেলে পচছে। ছেলেদুটোর একটাও যদি আজ পাশে থাকত, তোরাব আলি হয়ত এ-যাত্রায় বেঁচে যেত। না বাঁচুক, অন্তত দুই বোতল জ্বরের সিরাপ খেয়ে আরামে মরতে পারত। বিনা চিকিৎসায় মরা– এই লজ্জা থেকে রেহাই পেত।
(সম্পূর্ণ…)

পেন বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠিত

সাহেদ মন্তাজ | ১৯ december ২০১৭ ২:৩৭ অপরাহ্ন

PENঅনুষ্ঠিত হয়ে গেল পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সভা। কথাসাহিত্যিক, পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০.৩০টায় রাজধানীর অডিট ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে আলোচনা শুরু হয়।

বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১. বর্তমান সভাপতি ফরিদা হোসেন মেয়াদোত্তীর্ণের পরও দীর্ঘকাল অন্যায্যভাবে পদ ধরে রাখা এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হওয়ায়, পেন বাংলাদেশের নিজস্ব কনস্টিটিউশন না থাকায় পেন ইন্টারন্যাশন্যাল কনস্টিটিউশন-এর ১৬(সি) ধারা ‘ইন দা ইভেন্ট অব ইন্যাবিলিটি অব অ্যাক্ট’ মোতাবেক তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়। ২. সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদ আহমদকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ৩. নতুন আবেদকারীদের সদস্যপদ অনুমোদন করা হয়। পরে ইসি সভা সমাপ্ত হয়। (সম্পূর্ণ…)

এ দেশে তুমি মূল্যহীন

সুমন সাহা | ১৯ december ২০১৭ ১:১০ অপরাহ্ন

Kanu Bhuson Saha 2017বাবা, এ দেশে তুমি মূল্যহীন! কারণ তুমি সনদবিহীন মুক্তিযোদ্ধা। তুমি দেশ স্বাধীনের জন্য যুদ্ধ করেছিলে ১৯৭১ সালে আর এখন ২০১৭ সাল। ৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে। আমি প্রায়ই বলতাম তোমার সনদের কথা। তুমি তখন বলতে- ‘দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, সনদ দিয়ে কী হবে?’ ১৯৯৬ সালে একবার ভাবলাম তোমার সনদের জন্য আবেদন করবো। ময়মনসিংহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে আবেদনপত্র নিয়ে এলাম নিজেই। আবেদনপত্রটা তোমাকে দেওয়ার পর তুমি বললে, ‘কার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেবো?’ আমি চুপ হয়ে গেলাম। তা-ও তো ২০ বছর হয়ে গেলো। তোমার কী নিয়ে অভিমান ছিলো জানি না। তোমার মুখে কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনিনি। যেটুকু শুনেছি, যাদের কাছ থেকে শুনেছি, তারা হলেন তোমার মা-বাবা, আমার ঠাম্মা (ঠাকুরমা) ও দাদু আর পাশের বাসার খগেন (খগেন বষাক) জেঠার কাছে (তাদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই)। তুমি যুদ্ধে যাওয়ার বেশ কিছুদিন পরের ঘটনা (জুলাই ১৯৭১)। বাড়িতে এসে কয়েকজন দাদুকে বলে গেলো, রেল সেতুর কাছে তিনজন মুক্তিযোদ্ধার লাশ পড়ে আছে। তার মধ্যে তোমার লাশও আছে! (সম্পূর্ণ…)

গোলাম মুরশিদ: আপনি শত কোটি টাকা চুরি করে শুধুমাত্র যদি একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করে দেন, তাহলে পরকালে নিশ্চিত বেহেশত!

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ december ২০১৭ ১০:৪৯ অপরাহ্ন

Murshid-8লন্ডন-প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক, গবেষক, সংবাদ-উপস্থাপক এবং আভিধানিক। জন্ম ১৯৪০, বরিশালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. এ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে। পি এইচ ডি-ঐতিহাসিক ডেভিড কফের তত্ত্বাবধানে। গবেষণার বিষয়, উনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু সমাজ সংস্কার আন্দোলন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দশক ধরে অধ্যাপনা। মাঝখানে দু’বছর কেটেছে মেলবোর্নে, শিবনারায়ণ রায়ের তত্ত্বাবধানে, পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণাকর্মে। ১৯৮৪ সাল থেকে লন্ডন-প্রবাসী। বেতার-সাংবাদিকতা এবং শিক্ষকতার অবসরে প্রধানত আঠারো শতকের বাংলা গদ্য এবং মাইকেল-জীবন নিয়ে গবেষণা। প্রধান নেশা গবেষণার-অতীতকে আবিষ্কারের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত বিদ্যাসাগর বক্তৃতামালার ওপর ভিত্তি করে রচিত গ্রন্থ: রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ, পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রচর্চা (১৯৮১)। পিএইচডি, অভিসন্দর্ভের ওপর ভিত্তি করে লেখা সমাজ সংস্কার আন্দোলন ও বাংলা নাটক (১৯৮৫)। মহিলাদের নিয়ে লেখা, ‘Reluctant Debutante: Response of Bengali Women to Modernization (১৯৮৩) (বাংলা অনুবাদ : সংকোচের বিহুলতা।[১৯৮৫]) এবং রাসাসুন্দরী থেকে রোকেয়া : নারীপ্রগতির একশো বছর (১৯৯৩)। উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থ: কালান্তরে বাংলা গদ্য (১৯৯২), যখন পলাতক (১৯৯৩) এবং বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার আদি-পর্ব (১৯৮৬)। প্রবন্ধ সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২)। আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে বক্তৃতা দান (১৯৯১-৯২)। ছদ্মনাম : হাসান মুরশিদ। এই নামে একটি উপন্যাসও লিখেছেন।
গত নভেম্বরের ২৪ তারিখে তার ধানমন্ডিস্থ বাসবভবনে তার সঙ্গে কবি প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের যে-দীর্ঘ
আলাপচারিতা হয় তারই শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

মানবতার জননীর জয়

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৬ december ২০১৭ ১:৪১ পূর্বাহ্ন

flagআজ বাঙালির বিজয়ের দিন, এই জয় অনন্ত অক্ষয়
আজ মানুষের বিজয়ের দিন, এই জয় অনন্ত অক্ষয়।

মানুষের জয় মানে মাতাধরণী ও ঘরনীর জয়
মুক্তিযুদ্ধে যুক্তিযোদ্ধা শুদ্ধ জাতিবাঙালির জয়;
যু্ক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা শুদ্ধ জাতিমানুষের জয়;
জাতিমঙ্গলের মানবতা আর তার জননীর জয়।

মানুষের জয় মানে মাতাধরণী ও ঘরনীর জয়
জলে-স্থলে হরিকেলে ক্ষিপ্র মুক্তিবাহিনীর জয়ঃ
রাঢ়ে-বঙ্গে-সমতটে মুক্তিপিতা মুজিবের জয়ঃ
দেশমঙ্গলের মানবতা আর তার জননীর জয়।

মানুষের জয় মানে মাতাধরণী ও ঘরনীর জয়:
ব্যক্তিমঙ্গলের মানবতা আর তার জননীর জয়
গণমঙ্গলের মানবতা আর তার সন্ততির জয়:
সর্বমঙ্গলের মানবতা আর তার জননীর জয়। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com