শিরোনামহীন মানুষ

দিলরুবা আহমেদ | ৩১ অক্টোবর ২০১৭ ১২:৫০ অপরাহ্ন

farzanaদীপু গলির মোড়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরেই ভাবছে একবারের জন্য হলেও হয়তোবা লেবানন আসবে। যদিও এখনও পাত্তা নাই। লা-পাত্তা। তবে সে এখনও ভাবছে আসবে। আশা ছাড়ে নাই। দীপু পালোয়ানকে অগ্রাহ্য করার সাহস করবে না এই মহল্লার কেও-ই। পরিচিত বেশ কয়েকজনকেই বলেছে লেবাননকে পাঠাও এখানে। শেষমেষ চেচিয়ে চেচিয়ে যাকে পেয়েছে তাকেই বলেছে ‘লেবাননইন্যাকে আইসতে ক আমার সামনে’। তখনও, এখনও,তারপরও সামনে ফাকা। খোলা ময়দান। গোল দেওয়ার বলের দেখা নাই। আসে নাই এখনও। লেবাননইন্যা। গেলো কই। লেবানন এ ভাগছে নাকি! কোথায় সেই দেশ, নিজেও জানে না। তবে শুনেছে লেবাননে পয়দা হয়ছে বলে এ-কে ডাকে সবাই লেবানন। আসল নাম হারায় গেছে। মুখে মুখে ঘুরতে ফিরতে ফিরতে এখন ঐ নামই খাড়া একপায়ে, তালগাছ টাইপে দাড়ায়ে গেছে। জানে সে খুব ভাল করেই জানে পেছনে টিটকারী মারে তাকেও,তাকেও লোকে ডাকে ধোলাই খাল। বাপের পরিচয় নাই তাই এমন নাম। ধোলাই খাল। জিজ্ঞিরা মেড। কিছু মনে করে না সে। কি মনে করতে হয় তাই সে আসলে জানে না। তবে এটা জানে লেবানন খুব চায় মহল্লার লিডার হইতে। এত-ই সহজ ‘লেবানন বান জায় গি লিডার’। সে নিজে একটু এদিক ওদিক গেলেই উঠে আসে কুয়া থেকে। শালা কুয়ার ব্যাঙ। আজ আসুক শুধু। বাপের নামও ভুলাইয়া দেবে। ঐ-টারও বাপ নাই। নাই মানে মারা গেছে। সেও জানে না কোথায় তার বাপ। তারও নাই। ওর-ও নাই। তারপরও সবাই ভাবটা দেখায়, মাইরী সে জলে ভাইসা বেড়ানো কচু আর লেবানন সাহেব জলে ভাসা পদ্ম। সাগরিকার ভাই সে রকমই বলে। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং মেহিকোর সঙ্গে তার সংযোগ

অরুন্ধতী ভট্টাচার্য | ২৯ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৫৪ অপরাহ্ন

garcia-marquez-unoগাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের জন্ম কলোম্বিয়ায় হলেও কার্যত মেহিকোই হয়ে উঠেছিল তার জন্মভূমির মতো। সিআইএর তাড়া খেয়ে সেই যে ১৯৬১ সনের ২ জুলাই মাসে এই দেশটিতে আশ্রয় নিয়ে তারপর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কলম্বিয়ায় তিনি নিয়মিত যাতায়াত করলেও তার কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল মেহিকোই। পরে অবশ্য তিনি একেবারে স্থায়ীভাবেই আমৃত্যু মেহিকোতে থেকে যান। মেহিকোর সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে Televisa.news পত্রিকায় ৬ মার্চ ২০১৭ সালে Gabriel García Márquez y su relación con México শিরোনামে যে-নিবন্ধটি প্রকাশিত এটি তারই অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন প্রাবন্ধিক অনুবাদক অরুদ্ধতী ভট্টাচার্য। (সম্পূর্ণ…)

কাজী লাবণ্যর গল্প: আরশি

কাজী লাবণ্য | ২৭ অক্টোবর ২০১৭ ১০:৪২ অপরাহ্ন

Fakirসোফায় পা তুলে বসে আজকের পেপারটা হাতে নিয়ে আমেরিকার নির্বাচনে ট্রাম্প নাকি হিলারি কে এগিয়ে থাকবে শিরোনামে চোখ রাখতে না রাখতে দরজায় দাঁড়ানো ড্রাইভারের বগলের তলা দিয়ে, ওকে পাশ কাটিয়ে এক মহিলার সপ্রতিভ প্রবেশ। মহিলা না বলে মনে হয় মেয়ে বলাই ভাল। যেন এক অলরাউন্ডার-এর মাঠে প্রবেশ। এসেই বেশ ঝনঝনে কন্ঠে সালাম দেয় –
-আসসালামুয়ালাইকুম।
-ওয়াইলাকুমাসসালাম। ওর আপাদমস্তক যাচাই করতে করতে কিছুটা নির্বিকার কন্ঠে উত্তর দেয় মেমসাহেব
-আফা, ভালা আছেন?
-স্তিমিত জবাব হু… কিন্তু মেমসাহেবের স্তিমতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সে কলকল করে ওঠে-
-আফা, আপনের ডেরাইভার আমারে সব কইছে, তারপরও আফনে কন কি কি করন লাগত, আর মাসে আমারে কত কইরা দেবেন? কুন কুন টাইমে আইতে হইব? খোলাখুলি সব ফয়সালা কইরা ফেলা ভালা। পরে এইসব নিয়া খ্যাঁচাখেঁচি আমি পছন্দ করিনা। ফারাজের মা পেপার হাতে নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। এ তো দেখি চোখে মুখে কথা বলে! মনোযোগ দিয়ে দেখে- বেশ স্বাস্থ্যবতী, গায়ের রঙ উজ্জ্বল, মাথার উপর চুড়ো করে চুল বাঁধা। আলগা একটা ঢলো ঢলো চেকনাই আছে…আর বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আজকাল কাজের বুয়ারা যে ময়লা ম্যাক্সি পরে ল্যাতা ল্যাতা থাকে এ তেমন নয়। মনে হচ্ছে গৃহস্ত বাড়ির বউ এখুনি একটা পান মুখে দিয়ে চুন লাগানো আঙ্গুল সামলে বড় বটি ফেলে চকচকে তাজা সরপুটি মাছ কুটতে বসে যাবে…
-আমার তো একজন চব্বিশ ঘন্টার কাজের মানুষ দরকার… ফারাজের মায়ের কথা শেষ নাহতেই সে তুফান ছোটায়… (সম্পূর্ণ…)

জুননু রাইনের শিরোনামহীন কবিতা

জুননু রাইন | ২৫ অক্টোবর ২০১৭ ২:৪৮ অপরাহ্ন

Rien১৭.
তখন একা একা হাঁটতুম, একা মানে একাই, যাওয়া থাকত না, দাঁড়ানো থাকত না, ফেরা থাকত না, তোমাকে দেখা বা না দেখার ভয়ও থাকত না; কেবল রাত্রির কথা বলা থাকত।
সে রাতের সংঘর্ষে থিয়া রক্তাক্ত হয়েছিল, রক্তগুলো কয়েক’শ আলোকবর্ষের বৃষ্টি, বৃষ্টিরা হাসছিল জোছনা, অথবা কাঁদছিল, ফ্যাকাসে বোবা কান্না। নীল রাঙা সবুজে জীবন ফুটছ, আর হাসছ অথবা কাঁদছ, আমি হাঁটতুম আর সেই কান্না ফুলের গন্ধে ডুবে যেতে থাকতুম, ডুবতে ডুবতে পৃথিবীর ওপর এক হাত রেখে দাঁড়াতুম, আলোর কসম, আমি একা এবং একাই তোমার দিকে হাটঁছিলুম, পৃথিবীর সব ডাক তোমাকেই ডাকছিলুম। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে নারীর ক্রমবিকাশ

শান্তা মারিয়া | ২৩ অক্টোবর ২০১৭ ১০:৩১ অপরাহ্ন

tagoreরবীন্দ্রসৃষ্টির কল্যাণে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে অবিস্মরণীয় সব নারী চরিত্র। উপন্যাস ও বড়গল্পে ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্য, ‘ল্যাবরেটরি’র সোহিনী, ‘যোগাযোগে’র কুমু, ‘দৃষ্টিদানে’র কুমু, ‘মালঞ্চ’র সরলা ও নীরজা, ‘দুইবোনে’র শর্মিলা ও ঊর্মিলা, ‘গোরা’র সুচরিতা, ‘নৌকাডুবি’র হেমনলিনী, ‘নষ্টনীড়ে’র চারুলতা, ‘ঘরে-বাইরে’র বিমলা, ‘চোখের বালি’র বিনোদিনীর, তুলনা পুরো বাংলাসাহিত্যেই বিরল। সেই সঙ্গে অবিস্মরণীয় ছোটগল্পের নারীচরিত্ররাও। ‘স্ত্রীর পত্রে’র মৃণাল, ‘সমাপ্তি’র মৃন্ময়ী, ‘দেনাপাওনা’র নিরুপমা, ‘হৈমন্তী’র হৈমন্তী, ‘রাসমণির ছেলে’র রাসমণি, ‘মণিহারা’র মণি, ‘পোস্টমাস্টারে’র রতন, ‘ঘাটের কথা’র কুসুম, ‘সুভা’র সুভাষিণী, ‘খাতা’র ঊমা, ‘শাস্তি’র চন্দরা তাদের চরিত্রের দৃঢ়তায় বাংলা সাহিত্যের পাঠকের স্মৃতিতে নিজস্ব জ্যোতিতে ভাস্বর। বিচিত্র সব নারী চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে রবীন্দ্রনাটকেও। ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী, ‘রাজা ও রাণী’র রাণী , নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’র সুন্দরীপ্রধানা শ্যামা, ‘মায়ার খেলা’র প্রমদা সকলেই অনন্যা।
রবীন্দ্রমানসে নারী শুধুই কোমলতা, স্নেহ বা প্রেমের প্রতিভু নয় বরং অনেক সময়ই নারী নীতির প্রশ্নে আপোষহীন, সভ্যতার সংকটে বিবেক এবং সমাজ কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে চিত্রিত। রবীন্দ্রবিশ্বের নারীরা পুরুষের ছায়ামাত্র নয় যা সেযুগের প্রেক্ষাপটে খুবই স্বাভাবিক বলে গণ্য হতে পারতো। বরং যুগের তুলনায় আশ্চর্যরকম অগ্রসর তার নারী চরিত্ররা। হয়তো ঠাকুরবাড়ির নারীদের মধ্যে এমন অনেকের দেখা রবীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন বলেই সাহিত্যে এমন স্বতন্ত্রবৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নারী চরিত্রের সৃষ্টি তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। ব্যক্তিজীবনে রবীন্দ্রনাথ দেখেছিলেন কাদম্বরী, জ্ঞানদানন্দিনী, স্বর্ণকুমারী, সরলা ঘোষাল, ইন্দিরা দেবীর মতো বিশিষ্ট প্রতিভার অধিকারী নারীদের। সেইসঙ্গে নিজের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, কন্যা মাধুরীলতা, রেণুকা, মীরাদেবীর মতো নারীর ছায়াও প্রতিফলিত হয়েছে তার সৃষ্ট চরিত্রে। নিঃসন্তান কাদম্বরী দেবীর বিপুল নিঃসঙ্গতা এবং নিঃসন্তান ও অকালমৃত বড়কন্যা মাধুরীলতাও নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তার লেখায়। তার তিনকন্যার একজনও দাম্পত্যজীবনে সুখী ছিলেন না। সেই অসুখী দাম্পত্যের প্রতিফলন ও আত্মহত্যাকারী কাদম্বরীর আদিগন্ত অভিমানের ছোঁয়াও পাওয়া যায় তার সৃষ্টির ভুবনে আকাশচারী নারীদের মানসে। বৈচিত্রের দিক থেকেও রবীন্দ্রসাহিত্যের নারীরা বিচিত্রগামী। গ্রাম্য বালিকা, কৃষক পরিবারের গৃহবধূ, বিধবা মুসলমান বৃদ্ধা, মোগল রাজকুমারী, ব্রাহ্ম পরিবারের তরুণী, হিন্দু কূলবধূ, স্বদেশী বিপ্লবী, অবাঙালি ও সংস্কারমুক্ত বিজ্ঞানমনস্ক নারী, স্বাধীন চাকরিজীবী নারীর ছবি তিনি এঁকেছেন। এই বিচিত্র সৃষ্টি সম্ভারের মধ্যেও গল্পগুচ্ছের এমন পাঁচটি নারী চরিত্র চোখে পড়ে যারা একে অন্যের প্রায় প্রতিরূপ। তবে পাঁচটি বিভিন্ন গল্পের মধ্য দিয়ে এরা এমনভাবে বিকশিত হয়েছে যে এ কথা ধারণা করা যায় রবীন্দ্রনাথ নিজেই এই পাঁচটি গল্পের ভিতর দিয়ে নারীর মুক্তির পথ অন্বেষণ করেছেন। তার চিন্তায় নারীর মুক্তির পথ যত বিকশিত হয়েছে গল্পগুলোর মধ্য দিয়েও নারীর স্বাধীনতার পথ তত উন্মোচিত হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ দাশ: হৃদয়ের কাছাকাছি যার বসবাস

লীনা দিলরুবা | ২২ অক্টোবর ২০১৭ ৭:২৮ অপরাহ্ন

J das-1
‘চিত্র: বিয়ের আসনে জীবনানন্দ ও লাবণ্য দাশ
এক.
মুহূর্তের আনন্দময় অনুভূতি যেন সুখ নয়। ওট প্রপঞ্চ, ইল্যুশন। দুঃখবোধ প্রকৃত প্রস্তাবে সুমহান করে তোলে মানবজীবন। যেমনটি ঘটেছিল জীবনানন্দ দাশ-এর জীবনে। প্রহেলিকার মতন দেখা দেয়া কিছু সুন্দর সময় বিপরীতে সুদীর্ঘ বিষাদময় অভিজ্ঞতা তাঁকে কখনোই স্বস্তিদায়ক কোনো পরিস্থিতির নিশ্চয়তা দেয়নি কিন্তু ঘটনাটিতে বাংলাসাহিত্য, সর্বোপরি বিশ্বসাহিত্য পেয়েছিল এমন এক নিভৃত কবিকে, এমন এক সুরেলা কবিকে, যার কবিতা না পড়লে অজানা থেকে যেত অনেক কিছু। অজানা থেকে যেত কারো কারো সকালের বিষন্ন সময় অলস মাছির শব্দে ভরে থাকে, আমার কথা সে শুনে নাই কিছুই তবু আমার সকল গান ছিল তাকেই লক্ষ্য করে…।
অজানা থেকে যেত, অন্ধকারের গায়ে ঠেস দিয়ে বসে থাকা যায়। যেমনটি তিনি লিখেছিলেন–
যেদিন শীতের রাতে সোনালি জরির কাজ ফেলে
প্রদীপ নিভায়ে র’ব বিছানায় শুয়ে।
অন্ধকারে ঠেস দিয়ে জেগে র’ব
বাদুড়ের আঁকাবাঁকা আকাশের মতো।
স্থবিরতা, কবে তুমি আসিবে বল তো।

এই বায়বীয় অন্ধকার কেমন? যার শরীর রয়েছে। যাকে স্পর্শ করা যায়? (সম্পূর্ণ…)

শীতের রাত, প্রকৃতি কিংবা ‘মৃত্যুর আগে’

নাহিদ আহসান | ২২ অক্টোবর ২০১৭ ৫:৫০ অপরাহ্ন

winterব্যাখ্যায় কবিতার স্নিগ্ধতা ঝলসে যায়–এটা বহু সময় অনুভব করি। তবু কিছু কিছু পংক্তি আমাদের এমন বোধের ভেতর নিক্ষেপ করে; আনন্দময় অনুরণনে এমনভাবে কম্পিত করে, যাতে পাঠক হিসেবে নীবর ভূমিকা আর পালন করা যায় না। কাউকে বলতে ইচ্ছে করে, বহুকে বলতে ইচ্ছে করে। মনের ভেতর গুঞ্জন সৃষ্টি হয় যা আসলে অব্যক্ত, কিন্তু তা ব্যক্ত করার দুঃসাধ্য চেষ্টা আমাদের পেয়ে বসে।
আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীত-রাত্রিটিরে ভালো:
চমক্ দেয়া চিত্রকল্প, সাংগীতিক মাধুর্য, গভীর বক্তব্য- তেমন কিছুই নেই এখানে; তবু জীবনানন্দ দাশের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতাটির এই পংক্তি আমাকে আলোড়িত করে যায় একমাত্র প্রকৃতিকে যারা প্রতিটি রোমকূপ দিয়ে অনুভব করে– ত্বকে তার স্পর্শ পায়– তারাই এর বক্তব্যকে সনাক্ত করতে পারবে হৃদয়ের মধ্যে। ‘অনুভব’ এই শব্দটির ওপর আমি জোর দিতে চাই। কারণ এখানে মস্তিস্ক দিয়ে বোঝার প্রায় কিছুই নেই। মনে হয়, একটি শীতের রাত তার সমস্ত কুহকী বৈশিষ্ট্য নিয়ে এই বাক্যে উপস্থিত হয়েছে।
প্রকৃতির বহু ঐশ্বর্য আছে যা ঝলমলে; চোখকে নিমেষেই অধিকার করে নেয়। ধরা যাক-একটি ফুলে ফুলে রঞ্জিত কৃষ্ণচূড়া কিংবা ঘোর কৃষ্ণবর্ণ ঝমঝমে বর্ষা। (সম্পূর্ণ…)

কার্তিকের গলে যাওয়া রাত্তিরে!

মারুফ কবির | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১১:৩১ অপরাহ্ন

jibananandaঅশত্থের ফাঁক গলে জীবনানন্দের শিয়রে পঞ্চমীর চাঁদ আলো ঢালে,
বেনো জলে ভেসে যায় বিপন্ন বিস্ময়, কার্তিকের বাতাসে এসে মেশে লক্ষ্মীপেঁচার দীর্ঘশ্বাস,
সোনালি ডানার চিল ছোঁ মেরে নিয়ে গেল বেঁচে থাকার সব অভিলাষ,
শুঁয়ো পোকার মতন ট্রাম এগিয়ে আসে জ্যোৎস্নার আলোতে কলকাতার রাজপথে,
শিশির ভেজা রাতে নক্ষত্রেরা মৃত আকাশ থেকে খসে পরে সফেদ সমুদ্রে।
স্বপ্নের পাণ্ডুলিপিতে রোদ্দুরের ঘ্রাণ তখনো ময়ূরের পেখম ব্যাকুল মুছে নিতে,
শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে রাত এগারটা পনের বাজে,
হেমন্তের রাত্রি চিরে স্থির হন কবি অবশেষে,
ঘন অন্ধকারে জোনাকির মতন হারিয়ে যায় কীর্তিনাশার দিকে। (সম্পূর্ণ…)

এলগিনটন স্কোয়ারে কানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবি

অনন্যা শিলা শামসুদ্দিন | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১১:০৩ অপরাহ্ন

canadaকানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবিকে নিয়ে এক আয়োজন ছিলো বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর। দর্শন-সমাজ-সংস্কৃতি-সাহিত্য-শিল্পকলা-বিজ্ঞানচর্চ্চা কেন্দ্র “পাঠশালা”র দ্বিতীয় আসরে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন বাংলাদশের কবি আসাদ চৌধুরী এবং কানাডার কবি রিচার্ড গ্রিন। পূর্ব ও পশ্চিমের দুই অগ্রগন্য কবির সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং নিজের লেখা কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে আসরটি ভিন্নরকম এক ব্যঞ্জনা পায়।

এগলিনটন স্কোয়ার টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরীতে অনুষ্ঠিত আসরে শুরুতে স্মরণ করা হয় সদ্য প্রয়াত আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয়-শক্তিশালী বর্ষীয়ান কবি জন অ্যাশব্যারীকে ও অভিনন্দন জানানো হয় সাহিত্যে সদ্য নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কাজ্যুও ইশিগুরোকে। সঞ্চালক ফারহানা আজিম শিউলী জন অ্যাশব্যারী ও কাজ্যুও ইশিগুরোর সাহিত্য জীবন নিয়ে এই পর্বে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন।

মূল পর্বের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর কাব্য ভাবনা, কবির দায় ইত্যাদি তুলে ধরেন এবং তাঁর অসংখ্য সৃষ্টিসম্ভার থেকে কিছু কবিতা স্বকন্ঠে পাঠ করে শোনান। তাঁর অতি বিখ্যাত “বারবারা বিডলারকে” কবিতাটির কবীর চৌধুরী কৃত অনুবাদটি পাঠ করেন সানন্দা চক্রবর্ত্তী। কবি আসাদ চৌধুরী এবং তাঁর সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের দীর্ঘসময়ের আড্ডার কেন্দ্র – একসময়ের ঢাকার শাহবাগের “রেখায়নে”র প্রাণপুরুষ রাগিব আহসান নিউইয়র্ক থেকে স্কাইপে যোগ দিয়ে তুলে ধরেন সেই সময়কার কিছু স্মৃতিকথা। (সম্পূর্ণ…)

তারিক সালমনের দশটি কবিতা

তারিক সালমন | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১:০১ অপরাহ্ন

Rashid Chowdhury
উড়াউড়ির দিন

এইখানে ধুলো নেই। বসবে এখানে?
ফুটপাথ রয়ে গেছে রৌদ্র যেখানে।

সেইখানে তুমি ছিলে। আমিও ছিলাম।
লেখা আছে ওইখানে রাস্তার নাম।

কেউ তা দেখে না, শুধু দেখি আমরাই।
আমরা এখানে বসি। ওখানেও যাই।

এখানেই আছো তুমি। আছো ওখানেও।
এখানে একটু বসো। ওখানেও যেও।

দৃশ্যাবলি

তুমিও থাকলে শব্দের মতো জড়িয়ে
একটিই শুধু খুলে পড়েছিল অক্ষর
ছাউনিও ছিল নিঃসীম এক আকাশে
দূরে দুলছিল তোমার কণ্ঠস্বর

একটানে এঁকে ছবিটি আবার মুছে দিচ্ছিল কেউ
বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছিল সেই ছবিটি
বাসের প্রথম সিটটিতে বসে তুমি
আমি লাস্ট বেঞ্চ, দূরে এক মেগাসিটি। (সম্পূর্ণ…)

আমার বন্ধুর মুখ

বিপাশা আইচ | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

Aniআমার অনেক দিনের বান্ধবী এ্যনি (Anne )। যার সাথে টিফিন টাইমে খাবার ভাগাভাগি থেকে শুরু করে কতো কিছুই না করেছি সারা জীবন। ও ক্লাসে আগে এলে পাশের সিট আমার জন্য রিজার্ভ থাকতো
। আমি আগে গেলেও ওরকমই হতো। কিছু দিন পরে ক্লাসের সবাই এটা জেনে গেল বলে কষ্ট করে জায়গা রাখতে হতো না।

বেশির ভাগ ও-ই টিফিন আনতো। সবচেয়ে প্রিয় টিফিন ছিল গরুর মাংস ভুনা ও ঘিয়ে ভাজা পরোটা। পরোটা আমার খুবই প্রিয় খাবার। সংগে গরুর মাংস থাকলে তো কথাই নেই। আহ জিবে জল এসে যায় এখনো। খালাম্মা ছিলেন রান্নায় খুব পটু। এ্যনির কল্যাণে ও বাড়ির সব খাবারই আমার রসনাকে তৃপ্ত করতো। শুধু কি বাসার টিফিন? কিনে খাওয়া আটকাবে কে? ডাসা পেয়ারা, সমুচা, সিঙ্গারা, জিভ লাল করা আইসক্রিম। কতো কি খেতাম।

আমরা যখন গিন্নীবান্নী হয়েছি তখনও বেড়াতে বেড়িয়ে খালাম্মার উত্তরসূরি এ্যনির হাতের মাংস পরোটা থাকতো আমাদের দুপুরের খাবার। (সম্পূর্ণ…)

কিশোর রাসেল

মোস্তফা তোফায়েল | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

russelবেহুলা বোনেরা যায় কলার ভেলায়
স্বর্গদেশ অভিমুখে, মুজিবের খোঁজে
বঙ্গবন্ধু মুজিবুর, শেখ মুজিবুর।
সে এক অনন্তপুরী স্বর্গভূমি দেশ,
হাজারো ঝরনাধারা ঝংকৃত পুরী:
সেখানে দিগন্ত জুড়ে বীথিকা বিলাস;
সেখানে অনন্তপুরে শারদ শাপলা;
হেমন্তের কুন্দকলি, শীতে লোধ্ররেণু;
বসন্তের কুরুবাক, গ্রীষ্মের শিরীষ;
বরষা বর্ষণ কালে কদম ও কেয়া।
ঈষৎ নীলাভ লাল মহুয়ার গুটি
ঝুলে আছে, দোল খাচ্ছে মৃদুমন্দ বায়ে;
ঠোঁটের সমুখে অতি সন্নিকটে ঝুলে
ইশারায় দিচ্ছে ডাক চুম্বন আবেগে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com