জয়তু জাতিসত্তার কবি

মোস্তফা তোফায়েল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:২৪ পূর্বাহ্ন

nurul-huda.jpgআপনি পূর্বপুরুষের কথা বলেছেন
তামাটে দ্রাবিড়দের কথা বলেছেন
কৈবর্ত কুলের কথা বলেছেন
সাদা আর্যদের কথা বলেছেন

জেলেদের কথা, হেলেদের কথা বলেছেন।

আপনি পাখিদের কথা, পশুদের কথা বলেছেন,
কামুক জানোয়ারদের কথা, বানরের কথা, মানব-মানবীর কথা বলেছেন।
আপনি অগ্নি উদ্গীরণকারী ড্রাগনের কথা বলেছেন,
বায়ু-পায়ী উদ্ভিদের কথা বলেছেন,
বিদ্যুৎ-গতি ভুজঙ্গমের কথা বলেছেন,
মৃত্তিকাভোজী মহীলতার কথা বলেছেন,
আপনি আমার পূর্বজনমের কথা বলেছেন,
বাঙালির পূর্বপুরুষদের কথা বলেছেন।

আপনার হাতের খড়ি ধরে আমি কথা বলা শিখতে চাই;
রাজহাঁসের ছদ্মবেশধারী আমার জন্মদাতা জিউসের কথা বলতে চাই;
আমি ডাচ দস্যুদের লোহার শেকলের ঝনন ঝন স্মরণ করতে চাই;
পর্তুগিজ ডাকাতদের ধারালো ক্ষুরে আমার পিতামহদের
দেহের মাংশ কর্তনের কথা স্মরণ করতে চাই;
আমার পিতামহ মাতামহীগণ জন্মগতভাবে ক্রীতদাস ছিলেন না, (সম্পূর্ণ…)

জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা

ফরিদ আহমদ দুলাল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:১৩ পূর্বাহ্ন

nurul-huda-1.jpgকবি ও কাব্যকোবিদ মুহম্মদ নূরুল হুদার সাহিত্যজীবনকে যদি ব্যবচ্ছেদ করা যায়, দেখবো, অগ্রজ-সমসাময়িক বন্ধু এবং পরবর্তী প্রজন্মের অনুজ কবিদের এবং তাঁদের কবিতা সম্পর্কে অসংখ্য গদ্য লিখেছেন তিনি, লিখেছেন নানান সামাজিক- সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক নিবন্ধ, আত্মজৈবনিক গদ্য- স্মৃতিকথা এবং শিল্প-সাহিত্যের নানান অনুষঙ্গ নিয়ে বিস্তর রচনা। তাঁর এসব গদ্য রচনার প্রবণতা, দায় এবং উপলক্ষ নিয়ে ভাবতে বসলে অবাক হতে হয়। তাঁর গদ্যে যেমন আছে স্বীকৃতি, তেমনি আছে স্বীকারোক্তি। সব রচনায়-ই যে তাঁর সুদূর পরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাবে তা নয়, বরং অধিকাংশের ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যাবে সাময়িক আবেগ। এবং একটি আবেগকে যখন অন্য একটি আবেগ ভাসিয়ে নিয়ে যায় তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আগের আবেগটি খোয়া গেছে; যদি পূর্ব পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার ছক কাটা থাকতো তবে নিশ্চয়ই পরিকল্পনা অনুযায়ী সব গুছিয়ে রাখতেন এবং গুছিয়ে করতেন। অবশ্য রবীন্দ্রনাথের মতো এমন গোছানো লেখক ক’জনই বা আছেন বাংলা সাহিত্যে? সে অর্থে মুহম্মদ নূরুল হুদা সেই ধারার লেখক যাঁকে আবিষ্কারের জন্য প্রয়োজন হয় আরও অনেক ক’জন গবেষকের। নিষ্ঠ গবেষকের অভাবে এ ধারার লেখকরা অনেক সময় কালের আবর্তে হারিয়ে যান এ কথাও মিথ্যে নয়। কিন্তু মুহম্মদ নূরুল হুদার বিস্তৃতি ও ব্যাপ্তি, তাঁর প্রজ্ঞা ও মনীষা, সমাজঘনিষ্ঠতা এবং মানুষের সাথে সম্পৃক্তি এতটাই গভীর, যে তাঁকে হারিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব। (সম্পূর্ণ…)

নূরুল হুদার কাব্য: বিষয় ও রূপের রসায়ন

মতিন বৈরাগী | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

nurul.gifপ্রতিভাধর কবি, সাহিত্যিক,শিল্পী কখনোই জীবনবিমুখ হন না। সৃষ্টিতে নানা ব্যতিক্রম থাকলেও তাঁদের প্রতিভার প্রকাশ শেষমেষ মানুষের পক্ষে থেকে যায় । দা’ ভিঞ্চি বলেছিলেন ‘একজন শিল্পী তখনই শিল্পী যখন অন্য মানুষের চকিতে অনুভব করা সত্যকে সৃষ্টিযোগ্য বিষয় রূপে দেখেন’ । বহু কবিতার বিশাল ভাণ্ডার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার। তাঁর কবিতাগুলো সবটাই পড়ে নিয়ে একজন পাঠকের দু’কথা বলতে হলে অনেক সময় ও ভাবনার প্রয়োজন। তবু কোনো সচেতন পাঠক লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন যে তাঁর ব্যাপক সৃষ্টিতে নানামুখী বৈচিত্র্য রয়েছে। তিনি যেমন বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোযোগী থেকেছেন তেমনি বিষয়কে বলবার ক্ষেত্রে রূপের নতুনত্ব এনেছেন। এ কারণে তার কবিতা একঘেয়েমীতে পড়ে না, এবং প্রায় কবিতা ‘ন্যারেটিভ বা বিমূর্তভাবনা মূর্তায়নের ইঙ্গিতময় হোক’, এমন নির্মাণগুণে পারঙ্গম হয়েছে দৃশ্য ও ভাবযোজনায় বহুতল সৃষ্টিতে। ইদানিং প্রকাশিত কাব্য ‘বেদনার বংশধর’ অন্যরকম ভাব অনুসন্ধানের কাব্য পাঠকচিত্তকে নানাভাবে দোলায়িত করবে।

‘অনন্ত বসন্ত এসে
অনন্তর খেলে কানামাছি;
আছি তবু আছি,
চিবুকে চিবুক রেখে
হৃদয়ের খুব কাছাকাছি
***
আমরা আদম হাওয়া
বেদনার চির বংশধর’ [ বেদনার বংশধর] (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: শুভ হোক শান্তিজন্ম

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:২৮ পূর্বাহ্ন

Hasina-1
জননী বেগম ফজিলতুন্নেছা, জন্মদেশ বাংলাদেশ
বাবা মুজিবের বুক সন্তানের আশ্রয় অশেষ

ঘরে ঘরে জাতিভাই, ঘরে ঘরে জাতিবোন
তোমার বাঙালি ভাই, তোমার বাঙালি বোন
জাতিবাঙালির দিকে জগতের দৃষ্টি নির্নিমেষ

তুমি সেই বাঙালির প্রতিকৃতি জগৎ-সভায়
সম্প্রীতির শরণার্থী এ পৃথিবী তোমাকেই চায়
শান্তির সোয়ারি তুমি দেশে দেশে সোনার নৌকায়

পিতৃহীন মাতৃহীন হে অনাথ যাও ভেসে যাও
পিতৃহীন মাতৃহীন জগতের সব শিশু কোলে তুলে নাও
অনাথ শান্তির মুখে জননীর বুক খুলে দাও (সম্পূর্ণ…)

মাজহার সরকারের কবিতা: শুভ জন্মদিন আপা

মাজহার সরকার | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:০৫ পূর্বাহ্ন

Hasinaবাংলাদেশের মানুষ তোমার দিকে তাকিয়েই
নিজের শক্তি সম্বন্ধে সচেতন হয়
মুহূর্তে মনে হয় আমাদের আর বন্দি করা যাবে না
তুমি যখন বঙ্গোপসাগরে হেঁটেছিলে
সাগরের জল পা দুটোকে ঘিরে ধরেছে
এত সুন্দর পা, একটা আগে একটা পিছে
বালুর শরীরে শুভ্র শঙ্খের আকুতি নিয়ে হেঁটে গেছে
তুমি যখন জেলখানায় বন্দি ছিলে
ছাত্ররা রাজপথে স্লোগান দিয়েছে
অপসৃয়মাণ গ্রাম
আন্দোলিত ধানখেত
ধু-ধু প্রান্তরের দিকে
তোমাকে আর কখনো বন্দি দেখতে চাই না
এমনকি ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ডে, সোনার পয়সার পিঠে
এবার গান হবে (সম্পূর্ণ…)

দুটি চিনা কবিতার অনুবাদ ও প্রাসঙ্গিক সূত্র

কিশোর বিশ্বাস | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:১৯ অপরাহ্ন

[ মুখবন্ধ: কবি কামিনী রায়ের “দুটি কবিতার” নামের আদলে এই কলামের নামকরণ । এখানে মূলতঃ বিখ্যাত কিছু চীনা কবিতার বাংলা অনুবাদ এবং অনুবাদের রেশ ধরে চীনা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির রূপ-রস ও নানা আঙ্গিক বাংলাভাষীদের কাছে তুলে ধরাই মূল প্রতিপাদ্য । ছোট ছোট পর্বে ভাগ করা এই লেখায় প্রতিবার পরিবেশন করা হবে দুটি করে চীনা কবিতার অনুবাদ। সঙ্গে থাকবে আনুষঙ্গিক শব্দার্থ ও সরল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। হায়ারোগ্লিফিক্সের কঙ্কালের উপর চীনা সাহিত্যের যে হৃষ্টপুষ্ট সুমধুর অবয়ব, সরল বাংলায় তার স্বরূপ অবলোকন ও নিরূপণে লেখকের চেষ্টা থাকবে অকৃপণ ।
তবে অনুবাদ নিয়ে এখানে যে দুটি কথা না বললেই নয়, তাহলো “ভাব” ভাষান্তরিত হলে অনূদিত ভাবার্থের মাঝে প্রায়শই কিছু না কিছু অন্তরায় থেকে যায় । যেমন “আমড়া কাঠের ঢেঁকি” কিংবা “উদোর পিণ্ডী বুদোর ঘাড়ে” কথাগুলোর ভাবার্থ পরিপূর্ণভাবে অন্যসব ভাষায় অনুবাদ করা প্রায় অসম্ভব । কেননা যে ভাষায় অনুবাদ করতে হবে সেই ভাষা- সংস্কৃতিতে আমড়া গাছ, ঢেঁকি বা পিণ্ডীর ধারণাগুলো থাকতে হবে । এসবের অনুপস্থিতিতে অন্য কোন উপমা দিয়ে অনুবাদ করা যদিও যায় তাতেও মূল ভাবের আদি রসে টান পড়ে বৈকি । দ্বিতীয়ত, বিবিধ বিষয়বস্তু অনুবাদের মধ্যে কবিতা আর গানের অনুবাদ সবচেয়ে বেশি দুরূহ। এর কারণ, কবিতা আর গানে ভাবের প্রকাশ ঘনীভূত; অল্প কথায় বেশি ভাব, তা রূপক আর ঘটনায় বৈচিত্র্যময়। কবিতার অন্তর্নিহিত অর্থ অনেকাংশেই স্থান, কাল, পাত্র ও সমসাময়িক সমাজ-নির্ভর, যার প্রসঙ্গ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা বুঝতে ছোটবেলায় আমাদের বিদ্যালয়ে কখনো বা পণ্ডিত মশাইয়ের বেত্রও অপরিহার্য হতো । তদুপরি এই লেখায় কবিতা অনুবাদের ক্ষেত্রে কতগুলো বিশেষ লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে । যেমন, প্রাচীন চিনা কবিতাগুলো বাংলায় অনুবাদের সময় মূলভাব অপরিবর্তিত রাখা, হুবহু বা সমার্থক প্রচলিত উপমা ব্যবহার করা, মূল কবিতার ছন্দ ও মাত্রা অনূদিত বাংলা কবিতাতেও অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সর্বোপরি সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষার ব্যবহারে এই “কবিতানুবাদকে” মূল কবিতার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া ।
এতগুলো শর্ত মেনে লেখকের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে সর্বাঙ্গ সুন্দর অনুবাদ হয়ত সম্ভব নয় । তাই এই লেখাটি আগ্রহী পাঠক, বিজ্ঞ অনুবাদক ও সমালোচকদের জন্য উন্মুক্ত রইল । অনুবাদগুলো পড়ে কারো যদি কোন মূল্যবান মতামত, সংশোধন বা দিকনির্দেশনা থাকে আমরা তা সবিনয়ে স্বাগত জানাই । যাহোক, কবিতানুবাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আশা করি কোনো কাব্যপ্রেমিক একে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো বলে ভাববেন না । বরং অচেনা চিনা দুগ্ধামৃতের ননি একটু একটু করে তুলে ধরে, চিনা ভাষা জানা বা না জানা সবার কাছে কিঞ্চিত চৈনিক কাব্য রস পৌঁছে দিতে পারলেই লেখকের এ উদ্যোগ সার্থক হবে । চলুন এবার “ধান ভানতে” মনোনিবেশ করা যাক …] (সম্পূর্ণ…)

নির্ভুল না হবার পরও যখন স্মৃতিরা সত্য

সোহরাব সুমন | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:৪৯ অপরাহ্ন

Stroutসম্প্রতি পুলিৎজার পুরস্কার বিজেতা ঔপন্যাসিক এলিজাবেথ স্ট্রাউট কবি লুইস গ্লুক-এর “নস্টোস” কবিতা এবং স্মৃতিকে আশ্রয় করা সম্ভব–সাহিত্যের এমন শক্তিশালী উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দ্য আটলান্টিক ডেইলি’র প্রতিবেদক জো ফাসলা-এর সঙ্গে।
গত বছর প্রকাশিত এলিজাবেথ স্ট্রাউট-এর সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস ইন মাই নেম-এ, অসুস্থ এক বর্ণনাকারী তার মায়ের গল্পের সাহায্যে তার শিশুবেলাকে স্মরণ করেন। এবছর প্রকাশিত, এনিথিং ইজ পসিবল, নতুন উপন্যাসে স্ট্রাউট আমাদেরকে সেই বর্ণনাকারী লুসির নিজ শহরে নিয়ে যান এবং আমরা সেখানকার আরো অনেক গল্প জানতে পারি। এমন নয় যে ছেলে বেলার সেই অবিস্মরণীয় দুঃখজনক বেড়ে ওঠার ব্যাপারে লুসি অপরিহার্যতই অতি বিনয়ী, আদতে সে যা উপস্থাপন করেছে বাস্তব পরিস্থিতি যে তার চেয়ে সঙ্গীন ছিল, তা খুব সহজেই আঁচ করতে পারা যায়। বরং উপন্যাসটি পড়লে মনে হবে এর কোনো কোনো খুঁটিনাটি তার জন্য এতটাই যন্ত্রণা দায়ক ছিল যে সচেতনভাবে সেখানে প্রবেশ তার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। নতুন এই বইটির একটি দৃশ্যে, তার ভাই-বোনদের পারিবারিক অশান্তির স্মৃতি নিয়ে আলাপচারিতা থেকে লুসির মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া সন্ত্রস্ত অতীত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
অতীত এবং স্মৃতি এই দুয়ের মাঝখানের ঘোলাটে চৌহদ্দিই একজন লেখক হিসেবে স্ট্রাউটের অন্যতম একটি মূল বিষয়, এবং এ প্রসঙ্গেই তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। কীভাবে ফিকশনে স্মৃতি কাজ করে থাকে এবং কীভাবে স্ট্রাউট তার বিষয়কেন্দ্রীক ও কখনো কখনো অনেক বেশী স্মরণশক্তির ব্যঞ্জনাময় চরিত্র সমূহের সঙ্গে তার উদ্দেশ্য এবং বাস্তব ইতিহাসের ভারসাম্য প্রতিপাদন করতে, কবি লুইস গ্লুক-এর একটি কবিতার আলোকে তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ করেন। তার লেখনীর উপরিতলে ভাসমান তার নিজের দীর্ঘকালীন স্মৃতিকে যুক্ত করবার বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার উপলব্ধিটিও স্ট্রাউট এখানে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন : পাঠকের মনের গহীনে নিমজ্জিত অনুভূতিকে উন্মুক্ত করতেও এই অভিজ্ঞতা সাহিত্যের লক্ষ্য হওয়া উচিত। (সম্পূর্ণ…)

দক্ষিণে সূর্যোদয় : রাজু আলাউদ্দিনের ব্যতিক্রমী রবীন্দ্রানুশীলন

সনৎকুমার সাহা | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫০ অপরাহ্ন

Dokkhine Razuবইটির কথা আমি আগেই শুনেছি। অনেকে এর সপ্রশংস উল্লেখ করেছেন। আমারও কৌতূহল ছিল। কিন্তু পড়া হয়নি। আমার দুরারোগ্য আলসেমি বাদ সেধেছে। এতদিনে, ঢাকার ‘অবসর প্রকাশনা সংস্থা’ থেকে ২০১৫-য় ছেপে বেরোবার দু’বছর পরে, পড়তে পারলাম। পেরে খুশি হয়েছি। বইটি আমায় হতাশ করেনি। চমৎকার নির্ভার গদ্য। সেইসঙ্গে অনেক অজানা তথ্য ভিন্ন প্রেক্ষাপটে মেলে ধরা। তাতে ফাঁকির কারবার নেই। বিষয়নিষ্ঠা অনুকরণীয়। নিরাসক্ত শ্রদ্ধা এতে বিপর্যস্ত হয় না। ভিন্ন সংস্কৃতির সাড়া পাবার সাড়া দেবার প্রতিক্রিয়ায়, যাকে ঘিরে কথা বলা, সেই রবীন্দ্রনাথও খাটো হন না। যদিও পুরোপুরি মুখোমুখি হই না, এ আক্ষেপ থাকে। অবশ্য সেজন্য এই বইয়ের লেখক দায়ী নন। স্থান-কাল-পাত্রের বস্তুগত ও মনোজাগতিক ব্যবধান পেরিয়ে, ভাষান্তরনে অনুভবের প্রকৃত উপলব্ধি ফুটিয়ে তোলার সমস্যা মোকাবেলা করে এবং ওই সময়ে দুই ভূখন্ডের দুই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দূরত্ব অতিক্রম করে রবীন্দ্রনাথ যতটা ও যেমন উদিত ও উদ্ভাসিত হয়েছিলেন তা স্বয়ং একটা সীমা বেঁধে দেয়। লেখক তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মান্য করেন, এবং এইটিই কাম্য। আমরা পরস্পর যোগাযোগের নির্মোহ ও যথাযথ রূপটি এখানে তুলে ধরার প্রয়াস লক্ষ করি। তাতে কোথাও কোন অসংযম নেই। এতে বইটির গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব আরো বেড়েছে। দূরত্ব ও বিস্তার বিষয়ের আকর্ষণ বাড়ায়। পড়ে ঋদ্ধ হই। (সম্পূর্ণ…)

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: ফিরে এলাম মেহিকো শহরে

যুবায়ের মাহবুব | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৫:৪৯ অপরাহ্ন

M-1
আলোকচিত্র: মেহিকোতে সপরিবারে মার্কেস
সম্প্রতি ভূমিকম্পের শক্তিশালী আঘাতে মেহিকো শহরে প্রায় তিনশ’র মতো লোক প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত কথাসাহিত্যিক গার্সিয়া মার্কেস জীবনের একটা বিরাট অংশ কাটিয়েছেন এই শহরে । মেহিকোর সাথে গার্সিয়া মার্কেসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। লেখালেখির সূচনা এখানে না হলেও কিংবদন্তীতুল্য উপন্যাস একশ বছরের নিঃসঙ্গতা থেকে শুরু করে তার প্রধান সব সাহিত্যকর্মের জন্মভূমি এই মেহিকো। এই লেখাটির শেষের দিকে তিনি নিজেই বলেছেন: “এখানে লিখেছি আমার সমস্ত বই, এখানে লালনপালন করেছি আমার সন্তানদের, আমার জীবনবৃক্ষ রোপন করেছি ঠিক এখানেই।” মেহিকো হয়ে উঠেছিলো তার দ্বিতীয় মাতৃভূমি। সিআইএ’র হুমকি এড়াতে এই মাতৃভূমিতে তিনি এসেছিলেন ১৯৬১ সনের ২ জুলাই। এই সময় থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত মেহিকো এবং কলম্বিয়ায় তিনি নিয়মিত যাতায়াত করতেন, থাকতেন দুই দেশেই। পরে অবশ্য তিনি একেবারে স্থায়ীভাবেই আমৃত্যু মেহিকোতেই থেকে যান। স্প্যানিশ থেকে অনুবাদক যুবায়ের মাহবুব কর্তৃক অনূদিত মার্কেসের এই লেখাটিতে রয়েছে মেহিকোর প্রতি তার ভালো লাগার অনবদ্য স্মৃতিচিত্র। লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল El Pais পত্রিকায় ১৯৮৩ সালের ২৬শে জানুয়ারি। (সম্পূর্ণ…)

ধূসর বর্ষণমুখর বিকেলে স্বপ্নার প্রত্যাবর্তন

আনিসুজ্জামান | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

anisur.jpgখোকন একটি ম্যাচবাক্স বানিয়েছিল, দুফুট বাই তিনফুট, উইয়ে খাওয়া কাঠের জানালার মরচে পরা শিকগুলোর পিছনে বসে শ্রাবনের এক ধুসর বর্ষণমুখর বিকেলে। যেটিকে হাতে নিয়ে স্কুল ও ৯ বছর বয়সী ছেলেকে যৌনশিক্ষা দেবার অনুমতি দেবার ফর্ম সামনে নিয়ে বহু বছর পর সূদুর ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা-ভিস্তায় আরেক বর্ষণমুখর দিনে চুপটি করে বসে থাকবে। প্রজাপতি মার্কা বাক্সটিতে কাঠির সংখ্যা ছয়, ছয়টি ছয় সাইজের। সবচেয়ে লম্বাটার মাথাটা ওটার থেকে অপেক্ষাকৃত খাটোটির চাইতে একটু ছোট। তার পরের চারটি লম্বায় বড়গুলোর চাইতে অনেক খাটো কিন্তু ওগুলোর মাথাগুলো একই আকারের হলেও সবগুলোই লম্বায় আলাদা। ওগুলোকে বলাকা ব্লেডের অর্ধেকটা দিয়ে কেটে বানাচ্ছিল আর দেখছিল মাঝে মাঝে মেঘ ফুঁড়ে আসা সামনের বিস্তীর্ণ মাঠের ওপারে সাততলার উপরে পরা এক ঝলক প্রায় সন্ধ্যের রোদের খেলা যেটি দেখে কাজের মেয়ে রুমা বলেছিল “এউগা বেটা বইয়্যা রইছে হচ্চিমদি” আর ওরা মাসহ তিন ভাইবোন মিলে খুব হেসেছিল তাই নিয়ে কারণ ছোটটির তখনও বোঝার বয়স হয় নি। খুব সম্ভবত ঢাকায় তখন ওটি ছিল সবচেয়ে লম্বা দালানগুলোর মধ্যে একটি আর এর জন্য খোকনের মনের ভিতরে ছিল একধরনের গর্ব। মাঠটির ডানদিকে ছিল একটি লম্বা খালের মত খাঁদ যেটাতে সকালে ময়লা ফেলত আর পানি জমলে কোত্থেকে যেন রাজ্যের ব্যাঙ এসে একটার উপর আরেকটা চড়ে গান জুড়ে দিত, সন্তানকে পিঠে করে বয়ে সাঁতরে বেড়াতে মা ব্যাঙের কোনো কষ্টই হতো না। খাঁদটার অন্যপাশে ছিল সরকারী পশু খামার । ম্যাচ বাক্সটি বানিয়ে একটি কাপড়ে মুড়িয়ে ওর জীবনের সবচেয়ে গোপন জায়গায় রেখে দিয়ে উঠে পরে চিংড়ির গন্ধওয়ালা চালের উপর থেকে পেরে নেওয়া পুঁইশাক ও পাতলা ডাল দিয়ে রেশনের চালের ভাত খেয়ে শুয়ে পরবে বলে। মা ভাত বেড়ে ডাকছে আর দেরি করলে এই কষ্ট করে জোগার করা শেষ হবে কেরোসিন পুড়ে। বাবার তখন বিকেলের শিফট, আসবে সাইকেল চালিয়ে। রাত এগারোটার দিকে যখন ও টের না পেলেও আরও পরে পাশের ঘড়ের অদ্ভুত কিছু শব্দে বুঝবে মা বাবা আবারও ঝগড়া করছে কি নিয়ে যেন। কিন্তু ও কিছু মনে করবে না কারণ পরদিন সকালে দেখতে পাবে মায়ের মুখটা আগের দিনের থেকেও হাস্যোজ্জ্বল। (সম্পূর্ণ…)

মিরাকেল চুরি

কিযী তাহনিন | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

Monirul Islamবাহ্, একেই কি বলে মিরাকেল? বাংলায় যাকে বলে অলৌকিক কোনো ঘটনা। তবে, এক্ষেত্রে আমার ইংরেজি শব্দটি বেশি ভালো লাগে। মিরাকেল, কেমন ছন্দ আছে, জাদুময়। মনে হয়, হলো বুঝি তেমন কিছু, যেমন আগে হয়নি, তেমন কিছু, যেমন ভাবি অনেক ভাবার মাঝে। এ জীবনে, তেমন মিরাকেল কিছু হয়নি। বা ঘটেছে। হয়তো ভুলে গেছি। আমরা দুঃখ পুষতে ভালোবাসি। কিন্তু আনন্দময় কিছু ঘটে যাবার পরে, অতি দ্রুত তার সুঘ্রাণটুকু হারিয়ে ফেলি। রয়ে যায় পুরোনো ঘটনার শুকনো রসহীন কুঁচকে যাওয়া চামড়া। আর তাকে ছুঁড়ে ফেলে আবার আবার নতুন কিছু খুঁজি। ভুলে যাই পুরোনো সুঘ্রাণ কেমন ছিল। খুঁজি নতুন মিরাকেল, অলৌকিক কিছু। পুরোনোটুকু ভুলে যাওয়াতেই তখন সুখ, নতুন খোঁজায় তখন সব ভালোলাগার ঘর-বাড়ি। তাই ঠিক মনে পড়ছেনা এ মুহূর্তে, মিরাকুলাস কিছু ঘটেছিলো কিনা।

যে মুহূর্তে কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে, ঘুম ঘুম চোখে সকালের প্রথম দরজা খুলছিলাম, ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে। বুঝিনি দরজার সামনে বসে সে আমার অপেক্ষা করবে। দরজা খুলে প্রতিদিনের মতন, সদ্য ঘুমভাঙা এলোমেলো আমি, মেঝে থেকে আজকের পত্রিকাটি তুলে নিলাম। পত্রিকায় বিল গুঁজে গেছে করিম হকার। বিলটি হাতে নিয়ে দেখবো যখন, তখন দু তিন পলক এদিক সেদিন হতে হতেই দেখি তিনি বসে আছে। আসনপিঁড়ি হয়ে। ঘুম পালালো, কেঁপে উঠলাম আমি, যেন বেঁচেও উঠলাম। এক প্রতিদিনের একইরকম সকাল মুহূর্তে লন্ডভন্ড, আনন্দের কাঁচভাঙ্গা ঝনঝন – মিরাকেল একদম। সামনে বসা, চোখ বন্ধ, আসনপিঁড়ি, বাম হাত তাঁর গায়ে জড়ানো টেরাকোটা রঙের চাদরে লুকোনো, অন্য হাত ডান হাঁটুর উপরে, শান্ত তিনি, তাড়াহীন, আমার সামনে তিনি। পত্রিকাটি মাটিতে নামিয়ে রেখে, খুব আলতো করে দুহাতে দুলে নিলাম তাকে। (সম্পূর্ণ…)

অলভী সরকারের পাঁচটি চতুর্পদী

অলভী সরকার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:৩৮ অপরাহ্ন

১.

দেখছি না মানুষের মাথাগুলো নেই,
দেখছি না তারপরও মাথাগুলো আছে।
সুড়ঙ্গে নেমে গ্যাছে আগুনের পাখি,
শিকারী আঙুলগুলো ঝুলন্ত গাছে।

২.

তর্কের শেষ নেই কথার পেছনে
আসুন তর্কে নামি, উঠিনি যেখানে।
নামলেও ওঠা যায়, উঠলেও নামা,
আমরা শিখেছি শুরু, শিখি নাই থামা!

৩.

আমি চাই তুমি হও উড়ন্ত চিল
রাজপথে থেমে যাক আহত মিছিল।
উড়ছে উড়ুক সব বাদামী বাদুড়,
তাল ভেঙ্গে জড়সড় শত শত তিল। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com