সেই ভয়ংকর দিনের স্মৃতি কিছু আমারও ছিল

ফারুক আলমগীর | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১:২৬ পূর্বাহ্ন

Mujibশেষ শ্রাবণের রাত। আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকলেও বৃষ্টি ছিলো না। কালো মেঘ মাঝে মাঝে ঢেকে দিচ্ছিলো চাঁদকে। হয়তো বৃষ্টি হয়েছে কাছে কোথাও। বাতাস তাই শীতল। কিন্তু রমনায় বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি হয়নি ধানমন্ডী লেক ঘেঁষে বত্রিশ নম্বর সড়কের বাড়ীটিতে; যেখানে থাকেন বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যান্সেলর। আগামীকাল তাই তিনি আসবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। উৎসবের সাজে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। স্বাধীনতার আগে মধ্যষাটে আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ; ১৯৬৫ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুধু বর্জন করিনি; আমাদের যুগপৎ আন্দোলনে ষাটের দশকে কোন সমাবর্তন হতে পারেনি। তারপরের ইতিহাস- ঊনসত্তরের উত্তাল গণআন্দোলনের জোয়ার আর বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ ও অভ্যুদ্যয়ের ইতিহাস যার অংশীদার আমরা, যারা তখন নবীন, যুবা, তারুন্যে টগবগ। আমাদের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতার এমন মিলিত ঐক্য বাংলাদেশ আর দেখেনি। সেই দুর্মর সময়ে কত ভয়ংকর রাত ও দিন পেরিয়ে এসেছি তা আমাদের সকলের অভিজ্ঞতায় কত রকম বেদনার দুঃসহ দাগ কেটেছে ,কিন্তু স্বাধীনদেশে যে এমন একটা সময়ে আমাদের হৃদয়ে কালো রক্তাক্ত ক্ষত সৃষ্টি হবে তা কি আমরা কখনো স্বপ্নে ভেবেছি? (সম্পূর্ণ…)

কাব্য সুষমায় বঙ্গবন্ধু

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

Mujiburবাঙালির হাজার বছরের শিল্প-সাহিত্য-শিক্ষা-ক্রীড়া-সংস্কৃতি অথবা গ্রামীণ জীবন, যেখানেই ইতিহাস ও প্রত্নবিদের পর্যবেক্ষণী দৃষ্টিতে অনুসন্ধান করা যায়; মহাকালের আবর্তে বাঙালির সংগ্রামী জীবনে মহাকাব্যিক দ্যোতনায় নায়োকোচিত সৌর্য-বীর্য আর দীপ্যমান ঔজ্জ্বল্য নিয়ে যে বাঙালি মহানায়ক অনিবার্য ভাস্বর হয়ে ওঠেন, তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিজের অপরিসর যাপিত জীবনে বড় মাপের মানুষ যত প্রত্যক্ষ করেছি সামনা-সামনি অথবা পত্রপত্রিকায়, যাদের জীবন পাঠের সুযোগ পেয়েছি, তাতে নিজের সাথে পরামর্শ করে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি বঙ্গবন্ধুর যাপিত জীবন, বেড়ে ওঠা, বিকশিত হওয়া, বাঙালির জন্য তাঁর আপোশহীন সংগ্রাম এবং তাঁর প্রয়াণ—সব কিছুর মধ্যে রয়েছে মহাকাব্যিক দ্যুতির ব্যাঞ্জনা। বঙ্গবন্ধুর জীবনের সেই মহাকাব্যিক দ্যুতিতে যদি কেউ নিজেকে আলোকিত করে নিতে পারেন তাহলে তার নিজের ভেতরের কিছু অন্ধকার অনায়াসেই দূর করে নিতে পারবেন। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে

রাজু আলাউদ্দিন | ১২ আগস্ট ২০১৭ ৯:২৩ অপরাহ্ন

কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে দেখা যতটা হয় তার চেয়ে আলাপ হয় বেশি । সে আলাপ মূলত ফোন-নির্ভর। গত রমজানের মাঝামাঝি ফোনে আলাপ শুরু হয়েছিল হাইকোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে তার নিরবতা দিয়ে, পরে একে একে আলাপের অংশ হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, হেফাজত, লেখক ফরহাদ মজহার, তসলিমা নাসরিন, অভিনেত্রী কবরী, সুচিত্রা সেন, মুনমুন সেন, সাম্প্রদায়িকতা, লেখকের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়। এসব নিয়ে বরাবরেরই মতো কবি তার স্বভাবসুলভ অকপট ও কৌতুকরসের সমন্বয়ে জানিয়েছেন তার পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য। তার সাথে আমার এই আলাপচারিতার লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। –রাজু আলাউদ্দিন।
goon.jpg
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যালো গুণদা, শুনতে পাচ্ছেন? আমি রাজু আলাউদ্দিন। এই পবিত্র রমজান মাসে আপনাকে নমস্কার।
নির্মলেন্দু গুণ: আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা।
রাজু আলাউদ্দিন: আর এই পবিত্র রমজান মাসেই আপনার সম্পর্কে সামান্য নিন্দাও করছি, আমি খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করেছি(ফেসবুকে) আপনার নিরবতায়।
নির্মলেন্দু গুণ: : কী সেটা?
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি এই যে মূর্তি নিয়ে কিছুই বললেন না! সেজন্য কথা বলতে একটু উৎসাহ প্রকাশ করছি। ভাস্কর্য সরানো বা রাখার বিষয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণদা তো কিছুই বললেন না! তিনি কাশবনে সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি নিয়ে কী করবেন!
নির্মলেন্দু গুণ: কিছু বলিনি, সেজন্য একজন বলেছে কাশবন থেকে (বঙ্গবন্ধুর)ভাস্কর্যটি নিয়ে যাওয়া হবে। (সম্পূর্ণ…)

সক্কলে কবি নয়

আনন্দময়ী মজুমদার | ১১ আগস্ট ২০১৭ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

সক্কলে কবি নয়,
কেউ কেউ কবি —
এই বোধোদয়-বিভা
গ্রহপথে সত্যময় পাঠ
কবে হয়ে গেছে!
Mohammed Kibria

তবু,
তবু, দোলনচাঁপা আগুনে
ফুলে-ওঠা মশারির ভিতর
জাহাজের স্বপ্নসফর
বাধা নেই মহাকাশ,
বাধা নেই
তারাবাতি হয়ে ফেরা কবিতার
সমুদ্রের শ্বাস

লেখার ক্ষমাহীন লোভে
সারসের উড্ডীন বাগান,
খাতা ভ’রে ওঠে (সম্পূর্ণ…)

কবি ইউসেফ কমুনিয়াকার কবিতা: মোকাবেলা

বিপাশা চক্রবর্তী | ১০ আগস্ট ২০১৭ ৯:১৭ পূর্বাহ্ন

B-Kমার্কিন কবি ইউসেফ কমুনিয়াকা(৬৯)। মার্কিন কবিতার ইতিহাসে একটি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। প্রথম পুরুষ কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান কবি যিনি পুলিতজার পুরস্কার পেয়েছেন। জন্ম নিয়েছিলেন আমেরিকার লুইসিয়ানা প্রদেশে । বাবা ছিলেন ছুতোর মিস্ত্রি। ভাষার শক্তি সম্পর্কে কমুনিয়াকা প্রথম ধারণা পান দাদা দাদীর কাছ থেকে। তারা চার্চে প্রায়ই ওল্ড টেস্টামেন থেকে স্তবক আবৃত্তি করতেন, এভাবে কবিতার সাথে পরিচয় হয় ইউসেফ কমুনিয়াকার। তাঁর কবিতার প্রতিটি অক্ষর আফ্রিকা, ভিয়েতেনামের কথা বলে। সেসময় মার্কিন সমরনীতির কারণে তাঁকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেতে হয়েছিল। ইউসেফ বর্তমানে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। এখানে তাঁর বিখ্যাত একটি কবিতার বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো। অনুবাদ করেছেন প্রাবন্ধিক বিপাশা চক্রবর্তী। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: বেহুলা ভাসান

স্বদেশ রায় | ৮ আগস্ট ২০১৭ ৮:১৪ অপরাহ্ন

Shakil-story
জানাইতেছি- জানাইতেছি- জানাইতেছি- আজ রাতের আকর্ষণ
বেহুলা ভাসান, বেহুলা নিজেই গাবে এ ভাসান গান।
আপনারা বেহুলার কন্ঠে শুনিতে পাইবেন, কেমন করে বেহুলা ভেলায়
ভেসে ভেসে পার হয়েছিলো বাংলার সব নদী, কেমন করে পাড়ি
দিয়েছিলো উত্তাল ঢেউ। বেহুলাই জানাইবেন আপনাদেরকে- কেমন করে
একের পর এক নিস্তব্দ গভীর অন্ধকার রাত পাড়ি দিয়েছিলো
ভেলায় বসে ভরা নদীর মত বাংলার এই বেহুলা একা- মৃত এক মানুষের
দেহ সঙ্গে নিয়ে। তা ছিলো কি বেহুলার প্রেম না পতি শুধু তার-
আজ তা গানের সুরে গাহিয়া শুনাবেন, বেহুলা আপনাদের।
আপনারা শুনিতে পাইবেন সেই সব কালো কালো রাতের কথা ,
তার পাশে কাপড়ে ঢাকা পুরুষের মতই দেখতে জীবন্ত পুরুষরা
কেমন করে নারী শরীর খুবলে খাবার দাঁত নিয়ে ঝাপটে ধরতে গেছে
বেহুলাকে। সে সব রাতে কীভাবে রক্ষা করেছে বেহুলা (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ ও জাপান

সৌরভ সিকদার | ৬ আগস্ট ২০১৭ ৮:১১ অপরাহ্ন

tagore1 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন বহুমাত্রিক লেখক। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলির জন্য ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি এশিয়ার কবি-লেখকদের মধ্যে প্রথম যে এই পুরস্কার লাভ করেন। তাই সঙ্গত কারণেই এই মরমী (Mystic) কবিকে নিয়ে জাপানি জনগণ এবং সেদেশের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। বিশ শতকের সূচনালগ্ন থেকেই জাপান ছিল এশীয় দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থ ও সমর শক্তিতে অগ্রসর। এমনকি শিল্প-সাহিত্য চর্চায় ও তারা কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছিল।
জাপানীদের কাছে রবীন্দ্র বিষয়ে আগ্রহ তৈরি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির কারণে হলেও জাপান বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছিল বেশ আগেই। তিনি জমিদার পরিবারের সন্তান হওয়ায় যুবক বয়সে ইউরোপ তথা ইংল্যান্ড ভ্রমন করেছিলেন। পাশ্চাত্যের সমাজ, সভ্যতা ও সাহিত্য জ্ঞান ক্ষেত্রের বিষয়ে তাঁর একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জাপানে যাবার এবং সেখানকার জীবন আচরণের অভিজ্ঞতা তখনও তার হয়নি- অর্থাৎ সুযোগ ছিল না। কবির নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি সে দরোজা খুলে দিলো। জাপানের আমন্ত্রনে তাই ১৯১৬ সালে প্রথম কলকাতা থেকে জাহাজে তার জাপান যাত্রা শুরু হল। (সম্পূর্ণ…)

বাইশে শ্রাবণে রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত কবিতা

প্রদীপ কর | ৬ আগস্ট ২০১৭ ১২:০৬ অপরাহ্ন

RabindranathTagore_Lettersঘুমন্ত পাখি ভরাবর্ষার গাছে
ভোরবেলা স্নানে জাগ্রত হয়ে আছে
 
সপসপে মন কেউ নেই তার কাছে
 
ঝমঝমধারা অনুযোগহীন মাঠে
নিশীথ শরীর ভিজিয়ে যৌনপাঠে
 
ভোরে সে দাঁড়ায় গৃহস্থ চৌকাঠে
 
কীর্তন গায় বৃষ্টি কিশোরী কানে
খঞ্জনী ভেজে ভানুসিংহের গানে
 
গহনকুসুমকুঞ্জের মাঝখানে (সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: কেউ হিজাব পরলে বা বোরখা পরলে বলবে এটাতো ধর্ম–এখানেই মুশকিলটা হচ্ছে

সাব্বির আজম | ৫ আগস্ট ২০১৭ ৪:০৫ পূর্বাহ্ন

Partha-Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায় এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসবিদদের মধ্যে অন্যতম। দৈনন্দিন রাজনীতিকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তত্ত্বায়নে তাঁর জুড়ি নাই। ‘আধুনিকতা’, ‘গণতন্ত্র’, ‘সেকুলারিজম’, ‘জাতীয়তাবাদ’, ‘সিভিল সোসাইটি’ ইত্যাদি ধারণাগুলো এখন পোস্টকলোনিয়াল রাষ্ট্রগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বাহাসের কমতি নাই। অনেকেই মনে করেন এই ধারণাগুলো দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোতে ঠিকভাবে প্রোথিত হতে পারে নাই। খামতি থেকে গেছে। এখানকার গণতন্ত্র, সেকুলারিজম, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি বিকৃত বা অপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশে যেকোনো আলোচনায় এই ধারণাগুলাকে খুব কমই মোকাবেলা করা হয়। এগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ ক্যাটেগরি আকারে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় একে একদম ভিন্ন তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক থেকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেন। তাঁর মূল কথা হল, এইসব ধারণাগুলো পশ্চিমা সমাজ ও ইতিহাসের ক্রমবিকাশ থেকে আমদানি করা হলেও, এখানকার স্থানীয় বাস্তবতার সাথে মিলেমিশে এগুলো নিজস্ব আকার লাভ করেছে। একে ঘাটতি আকারে দেখা বা পশ্চিমা ছাঁচে দেখা যথেষ্ট নয়। বরং উপরোক্ত ধারণাগুলো সর্বজনীনতা দাবি করলেও, তাতে সবসময়ই স্থানিকতার কাদা-মাটি লেগে থাকে। লিনিয়েজেস অব পলিটিকাল সোসাইটি (২০১১) বইয়ে দেখিয়েছেন, কেন আধুনিক বা পশ্চিমা রাজনৈতিক তত্ত্ব দিয়ে পোস্টকলোনিয়াল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। আজ [৫ই অগাস্ট] পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ৭০তম জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁকে জানাই শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।

গত বছর হলি আর্টিজানের ঘটনার সময় রাতে আমরা সবাই সহি-সালামতে আছি কি না জানতে চেয়ে পার্থ-দা ইমেইল করেন। তখন তাঁকে জানাই কয়েকদিন বাদে কলকাতা যাচ্ছি, উনি কলকাতায় থাকবেন কি না। ১১ জুলাই সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস-এ তার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। আলাপচারিতার সময় আমার দুই বন্ধু আবদুল্লাহ আল মেহেদী ও ব্যারিস্টার আহমেদ ইশতিয়াক রুপম আমার সাথে ছিল।- সাব্বির আজম (সম্পূর্ণ…)

জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য: ৭৪-এ বঙ্গবন্ধুর আর্শীবাদপুষ্ট কবি মহাদেব সাহা

ইজাজ আহমেদ মিলন | ৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

Mahadev- ‘ আমি একটি বন্ধু খুঁজছিলাম যে আমার পিতৃশোক ভাগ করে নেবে, নেবে আমার ফুসফুস থেকে দূষিত বাতাস…/ আমি এই ঢাকা শহরের সর্বত্র, প্রেসক্লাবে, রেস্তোরাঁয়, ঘোড়দৌড়ের মাঠে এমন একজন বন্ধু খুঁজে বেড়াই যাকে আমি মৃত্যুর প্রাক্কালে উইল করে যাবো এইসব অবৈধ সম্পত্তি…/’ আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম কবি মহাদেব সাহা এভাবেই তাঁর কবিতায় একজন খাঁটি বন্ধু খুঁজে বেড়িয়েছেন। জীবনের এই সায়াহ্ণে এসেও কবি পাননি তাঁর আজন্ম বাসনার সেই প্রত্যাশিত বন্ধুর খোঁজ। যে বন্ধু কবির বাবা হারানো শোক ভাগ করে নেবে। ফুসফুস থেকে বের করে নেবে জমে থাকা দূষিত বাতাস। এ প্রসঙ্গে কবিই বলেছেন ‘ মানুষ কখনো মানুষের এতো বন্ধু হয় না। ঈশ্বরই মানুষের একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র বন্ধু। তার কাছেই সব কিছু পাওয়া যায়। তিনিই কেবল সুখ দুঃখের সমান অংশীদার। আমার দুঃখে ঈশ্বর যতো ব্যথিত হন- ততো ব্যথিত আমি নিজেও হই না। কিন্তু সবই আমার কৃতকর্মের ফল। ঈশ্বর আমার জন্য কাঁদেন। এমন কোন বন্ধু হয় না যে আমার জন্য কাঁদবে। মানুষ নিজের জন্যই কাঁদে।’ (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: জলবাংলা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ৩ আগস্ট ২০১৭ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

Sezanআকাশ সুনীল ঋষি, অনন্তের কানে কানে মন্ত্র পড়ে যায়;
ঋষির ধ্যানের সুরে ব্রহ্মাণ্ডের বুক জুড়ে বৃষ্টি ঝরে যায়।
ভোরের‌ আলোর সঙ্গে বৃষ্টি আজ সঙ্গোপনে করেছে মিতালি;
মেতেছে মেঘলা ধ্যানে, সূর্য আজ রুমুঝুমু মেঘের আড়ালী।
ধ্যানী সব বাড়িঘর, সরোবর; নদীতীরে খাড়া তরুবর;
বহতা ধ্যানের মন্ত্রে নিত্য সিক্ত, বৃষ্টি শুধু ধুধু ঝরোঝর।
নদীরা প্রমত্ত বেগে ধেয়ে চলে পাল তুলে মোহনার ধ্যানে,
তপস্বিনী তরঙ্গিনী দিকে দিকে সাঁতরায় বাঁকের সন্ধানে।
কালিদাস তন্দ্রাচ্ছন্ন, চণ্ডীদাস কাথা-মুড়ি ঘুমায় বেঘোরে,
শান্তিনিকেতন জুড়ে রবীন্দ্রনাথের চোখে জল-বুলেটেরা ওড়ে।
বজ্র ও বৃষ্টির সন্ধি, গগনে গর্জন-বন্দি, শুধু প্রমুক্ত অতন্ত্র শান্তি,
তিস্তার বিরান বুকে অকস্মাৎ ছলাৎ-ছলাৎ পুষ্ট জলের অমল কান্তি;
পদ্মা আর মহানন্দা মেঘে মেঘে মৈত্রী পাল তুলেছে সমান্তরাল;
সামাল সামাল মাঝি, শক্ত হাতে সামলাও ধর্মবর্ণ সওয়ারীর হাল;
থইথই জলবাংলা, বেনোজলে বুড়ো-আংলা, পড়ো – পাঠ করো,
আজ শুধু বৃষ্টিভাষা, সর্ববঙ্গ জলে ভাসা, পড়ো – জলমন্ত্র পড়ো;
আজ শুধু বৃষ্টিবঙ্গ, আজ শুধু সৃষ্টিবঙ্গ, হে সর্ববঙ্গের কবি পড়ো,
ক্ষমতার পাঠ শেষে মমতার পাঠ নাও, মা-গঙ্গার পাড়খানি ধরো; (সম্পূর্ণ…)

মার্কেস-অনুবাদক আনিসুজ্জামান: মৌলিক আসলে কিছুই নাই, সবই অনুবাদ

অলাত এহ্সান | ২ আগস্ট ২০১৭ ৭:২৯ অপরাহ্ন

anis.gif
বহুভাষি অনুবাদক আনিসুজ্জামানের উজ্জ্বলতম কাজ নোবেল জয়ী কলাম্বিয়ান সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের জগৎখ্যাত Cien años de soledad নামক উপন্যাসটি স্প্যানিশ থেকে প্রথমবারের মতো বাংলায় অনুবাদ। ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে উপন্যাসটি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের বছরই উদযাপিত হচ্ছে স্প্যানিশে মূল বইটি প্রকাশের ৫০ বছর পূর্তি। বইটির গুরুত্ব, অনুবাদের বিশেষত্ব ও সংকটসহ সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি কথা বলেছেন এই সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। –বি.স

অলাত এহ্সান : প্রতিটি লেখার ভেতরই লেখকের জীবনের একটা ছাপ-ছায়া থাকে; অনুবাদের ক্ষেত্রে কি অনুবাদকের জীবনের সেই প্রভাব থাকে?
আনিসুজ্জামান : বাদকের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা খুব একটা নেই। অনুবাদের মাধ্যমে পাঠককে মূল বইয়ের স্বাদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই অনুবাদকের মূল লক্ষ্য। সেখানে অনুবাদকের ব্যক্তিত্বের ছাপ বা ব্যক্তিগত অভিরুচির অনুপ্রবেশ অনুচিত বলে মনে করি আমি।
অলাত এহ্সান : গল্পের সন্ধান পাওয়ার মতো গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের Cien años de soledad’, (আপনার অনুবাদে ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’) উপন্যাসটাও কি আপনার কাছে অনুসন্ধান পাওয়ার মতো কিছু? মানে, একজন লেখক যেমন গল্পের অনুসন্ধান বা প্লট খুঁজে পান, অনুবাদের ক্ষেত্রে আপনিও কি তেমন কিছু অনুভব করেছেন?
আনিসুজ্জামান : আমি একবার বাংলাদেশে আসি, সম্ভবত ২০১০ সালে বা আরো পরে। সে সময় হাবীব (অনুবাদক ও অধ্যাপক জিএইচ হাবিব) ভাইয়ের বইটা প্রথম প্রকাশিত হয়েছে।
অলাত এহ্সান : সম্ভবত ২০১১ সালে।
আনিসুজ্জামান : ২০১১ সালে বইটা আমি কিনি প্লেনে পড়ার জন্য। অনেকগুলো বই কিনেছিলাম তখন। ওর মধ্যে হাবীবের বইটাও ছিল। প্লেনে বসে তার অনুবাদটির দু তিনটা পরিচ্ছেদ আমি পড়েছিলাম। পড়ার পর হঠাৎ করে মনে হলো বইটা যদি আমি এখনই পড়ে ফেলি তাহলে মূল ভাষা থেকে পড়ার ইচ্ছাটা চলে যাবে। ওটা আমি ওখানেই স্টপ করে দেই। যাই হোক, উনি আসলে আমাকে এই বইটার সাথে পরিচয় করে দিয়েছেন–এজন্য আমি তার কাছে কুতজ্ঞ। মজার ব্যাপার হলো বইটা আমি মূল ভাষা থেকে অনুবাদের আগেও সম্পূর্ণটা পড়িনি। আমি পড়তে পড়তে অনুবাদ করেছি। তারও কারণ আছে। আমার ভয় হচ্ছিল আগেই পুরোটা পড়ে ফেললে আমি অনুবাদ করার প্যাশন হারিয়ে ফেলবো। আমার মতে, আমি যদি একবার-দুইবার বইটা পড়তাম, তারপর যদি অনুবাদ করতাম তাহলে হতো কি, খুব সম্ভবত আমি অজান্তেই আমার নিজস্ব বিশ্বাস ও সংস্কারগুলো ঢুকিয়ে দিতাম। আমি তা করিনি। আমি পড়তে পড়তে অনুবাদ করেছি। একেকটা অংশ অনুবাদ করেছি, তারপর দ্বিতীয় বার সেই অংশটা আবার পড়েছি, অনুবাদ ঠিক হয়েছে কিনা দেখার জন্য–এভাবেই করেছি। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com