কুমার চক্রবর্তীর প্রবন্ধ: প্রেমের স্বর্গ নরক

কুমার চক্রবর্তী | ৩১ আগস্ট ২০১৭ ১:১০ অপরাহ্ন

rene magritteপ্রেম: যেন নিষিদ্ধ দরজার উন্মোচন,
সেই প্রস্থানপথ
যা আমাদের পৌঁছে দেয় সময়ের অন্য পারে।
মুহূর্তটি: মৃত্যুর বিপ্রতীপতা,
আমাদের ভঙ্গুর শাশ্বততা।
ভালোবাসা মানে সময়ের গভীরে আত্মকে হারিয়ে ফেলা,
অসংখ্য আয়নার ভেতর এক আয়না হয়ে ওঠা।

[বিশ্বাসপত্র: ভেতরে একটি গাছ: অক্তাবিয়ো পাস]
হেসিয়োদ তাঁর বিশ্বসৃষ্টির কাহিনিতে বলেছেন, শুরুতে ছিল অন্ধকার আর নিঃসীম শূন্যতা। এই আকারহীন শূন্যতা থেকে জন্ম নিল দুই সন্তান: রাত্রি আর এরিবাস, রাত্রি হলো অন্ধকার আর এরিবাস হলো অনন্ত গভীরতা যেখানে মৃত্যুর বসবাস। এছাড়া বিশ্বে আর কিছুই ছিল না। তারপর বিশাল বিস্ময়ের মাঝে অসীম শূন্যতা থেকে রহস্যজনকভাবে জন্ম নিল সেরাটি। আরিস্তোফেনেসের ভাষায়, কালো ডানার রাত্রি অন্ধকার এরিবাসের বুকে পাড়ল এক বাতাসতাড়িত ডিম্ব আর ঋতুচক্র সামনে এলে স্বর্ণময় ডানা থেকে জেগে উঠল আকাঙ্ক্ষিত ‘‘প্রেম’’। প্রেম থেকে এল ‘‘আলো’’ আর তার সহচর হিসেবে ‘‘দিন’’।
জার্মান মনস্তত্ত্ববিদ ও যৌনসংস্কারক ইভান ব্লোখ তাঁর আমাদের সময়ের যৌনজীবন: আধুনিক সভ্যতার সাথে তার সম্পর্ক গ্রন্থে বলেছেন, ‘‘প্রেমের ইতিহাস হলো মানবতার, সভ্যতার ইতিহাস।’’ ব্লোখ বলতে চেয়েছেন, সভ্যতার ইতিহাস এবং অস্তিত্বের উচ্চতর ভাবের প্রতি মানুষের অগ্রগমন যৌনানুশীলনের পরিবর্তনের দ্বারা মৌলিকভাবে প্রভাবিত হয়, আর এর কারণেই যৌনতার ইতিহাস নির্মাণে মানুষ তৎপর হয়ে ওঠে, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে শরীরকে বোঝার বিষয়াদি। প্লাতোন বলেন, প্রেমের অভিজ্ঞতা হলো এমন কিছুর জন্য অস্থিরতা যা আসলে এক ধারণা, এজন্যই প্রেম-উচাটনে সর্বজনীনতার বিষয় নিহিত থাকে। দান্তে তাঁর নবীন জীবন-এ বলেছেন, প্রেম কোনো বস্তুতে নিহিত আপতিক গুণ; তার মানে দান্তে বলতে চেয়েছেন, বস্তুটি হলো মানুষ, এবং গুণটি শরীরী:
…আমার কথায় প্রেমের স্বকীয় সত্তাকে আমি এক বস্তু রূপে ধরেছি,–শুধু চেতনাযুক্ত সত্তারূপে নয়, কিন্তু দেহধারী পদার্থ রূপে। প্রকৃতপক্ষে এইটি অলীক, কারণ প্রেম স্বয়ং এক বস্তু নয়, তা কোনো বস্তুতে নিহিত আপতিক গুণ। আামি তার সম্বন্ধে তিনটি ব্যাপার বলেছি যা থেকে স্পষ্ট যে আমি তাকে যেন শরীরী, এমনকি যেন মানুষের মতো ধরি। বলেছি, আমি তাকে আসতে দেখি। যেহেতু আগমন স্থানীয় গতি বোঝায়, এবং স্থানীয় গতি সেই দার্শনিকের (অ্যারিস্টটলের) মতানুসারে কেবল অবয়বধারীর থাকতে পারে, তাই মনে হয় প্রেমকে আমি দেহী ধরি। আমি আরও জানিয়েছি সে হেসেছিল, আর কথাও বলেছিল। মনে হয় এসব, বিশেষত সহাস হওয়া, এক মানবিক গুণ। তাই দেখিয়েছে, আমি তাকে মানুষ ধরি।
[অনুবাদ: শ্যামলকুমার গঙ্গোপাধ্যায়] (সম্পূর্ণ…)

মাজুল হাসানের সাতটি কবিতা

মাজুল হাসান | ২৯ আগস্ট ২০১৭ ৫:০৭ অপরাহ্ন

Murtaja Baseer

হরিণ

তুলে দিলুম শব্দতবল, বাজাও, দৃশ্যরা বাজুক তুমুল
পোড়া বনস্থালীতে বসে বসে হাসতে পারাটাই জীবন
সারথি তোমার ত্রিশূলতৃণ। তোমার স্মৃতিভ্রষ্ট আতাগাছ
কামঐশে পূর্ণ। কে দেখায় রঙশেকল?
হাঁটো। দৌড়াও। বসো-স্থিত। দ্যাখো লম্ফমান মূর্ধন্য…

অদ্বৈতবৃক্ষ

মেঘমোহিত আপাতত এটুকু বলা। স্থির পড়ে আছে প্রেম
জবা। চক্তচোখ। আমি কি তবে শোনাব না দেহকাণ্ডবীণ?
কিভাবে তৈরি হয় মনোমালিন; পৃথক আয়না?
রোজ দেখছি স্ফুটন, তবু দেখছি না—হে জড় ক্রিয়াপদ
হারিয়ে ফেলেছি পাখি ও লাউডগা সাপ-প্রিয় দংশন
সপ্তরিপুর প্রকৃত অর্থ নিয়ে শুয়ে-বসে থাকা, ফেউলাগা
গোয়েন্দার মতো
রহস্য—তোমার অদ্বৈতবৃক্ষ চিরকালই অরক্ষিত
প্রতিবেশীর ভিটায় খসিয়ে দেয় ছায়াফল… (সম্পূর্ণ…)

ইংরেজ-রাজের রোষানলে নজরুল : ফিরে দেখা

মুহিত হাসান | ২৭ আগস্ট ২০১৭ ৫:০৯ অপরাহ্ন

Nazrul islamমনোবিকারগ্রস্ত নিন্দুককুল ও বিদ্রোহত্রস্ত ঔপনিবেশিক সরকারি মহল, এই দুই মহল নজরুলের উত্থানকাল থেকে তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়ার আগ অব্দি তাঁকে হেনস্তা করতে উদ্যোগী ছিল– এমনটা বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে না। তবে ব্রিটিশরাজের তুলনায় নিন্দুকদের পীড়ন ছিল নেহাতই মামুলি। তারা কুরুচিপূর্ণ লেখায়-কথায় তাঁকে হেয় করতে চাইতো। আর ব্রিটিশরাজ নজরুলকে ঘায়েল করতে চেয়েছিল বই নিষিদ্ধ করে, এমনকি জেলে ভরেও।
নজরুল ঠিক কোন সময়টায় প্রথমবারের মতো ইংরেজ-রাজের নজরে পড়েন, তা দিনক্ষণ মিলিয়ে বলা মুশকিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে কর্মরত নজরুল রুশ বিপ্লবের খবর জেনে উৎসাহিত হয়েছিলেন এমন খবর তাঁর সহ-সৈনিক শম্ভুনাথ রায় দিয়েছেন। পল্টন থেকে ফিরে আইরিশ বিপ্লবী রবার্ট এমেটের জীবনকথাও রচনা নজরুল করেছিলেন ছদ্মনামে। কাজেই ব্রিটিশরাজ-বিরোধী মনোভাব যে পরাধীন স্বদেশে জন্ম নেওয়া নজরুলের মধ্যে তরুণ বয়স থেকেই প্রবাহিত হচ্ছিল এমনটা বলা অসংগত নয়। এসব কর্মকান্ড ইংরেজ সরকারের স্বভাবতই ভালো লাগবার কথা নয়। তবে পল্টনে থাকার সময়েই তিনি বিপ্লবপ্রীতির কারণে ব্রিটিশরাজের গোয়েন্দাদের নজরে পড়েছেন, এমন খবর মেলে না। গবেষক শিশির করের ধারণা, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রথম প্রকাশের পর থেকেই পুলিশ দপ্তর নজরুলের ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছিল। কিন্তু তখন কবির বিরুদ্ধে আইনানুগ পথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে কীভাবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছিল। কারণ, ঠিক কোনদিক থেকে এখানে সরাসরি ইংরেজ সরকারকে আক্রমণ করা হয়েছে, তা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নির্ণয় করতে পারেননি। নজরুলের সমসাময়িক কথাসাহিত্যিক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ধারণা ছিল যে “এ কবিতায় হিন্দু-মুসলমান দু’জনেরই এত পুরাণ প্রসঙ্গ ঢুকেছে যে ব্রিটিশ সরকার সরাসরি একে রাজদ্রোহ বলে চিহ্নিত করতে পারলো না।…একে রাজদ্রোহ বলতে গেলে ধর্মের উপরে হাত দেওয়া হবে।” (সম্পূর্ণ…)

এবং নজরুলের লাঙল

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক | ২৭ আগস্ট ২০১৭ ৪:৪৪ অপরাহ্ন

Nazrulজাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক ও সংগীতসহ সাহিত্য ধারার নানামাত্রিক সৃষ্টিশীলতার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। জীবনের একটি অধ্যায়ে যুক্ত ছিলেন সাংবাদপত্রের সাথে। সম্পাদক হিসেবে সম্পাদনা করেছেন একাধিক পত্রিকা। এই সম্পাদনার সুবাদে তিনি জাতীয় জাগরণের কবি হিসেবে জনগণকর্তৃক নন্দিত হয়েছেন। এ সমস্ত পত্রিকায় সাহিত্যকর্ম ছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ। সেনাবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর ছাত্র জীবনের ইতি ঘটলেও এ সময়েই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সাহিত্যাঙ্গনে পদার্পন করেন। করাচি সেনানিবাস থেকে প্রেরিত তাঁর গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় সওগাত, প্রবাসী ও বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্যসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ৪৯ নম্বর বেঙ্গলি পল্টন ভেঙে দেয়া হলে নজরুল আর আসানসোলে ফিরে যাননি, স্কুলের দিকেও পা বাড়াননি। কলকাতায় এসে বাল্যবন্ধু শৈলজানন্দের হোস্টেলে ওঠেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ কমরেড মুজফফর আহমদের আস্তানায় স্থিত হন। এই মহান কমরেডের সান্নিধ্য ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রবেশ করেন পত্রিকার পরিমণ্ডলে। এ সময়, ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ২ জুলাই এ. কে. ফজলুল হকের অর্থায়নে ও সম্পাদনায় ‘দৈনিক নবযুগ’ নামের সান্ধ্য দৈনিক প্রকাশ করা হলে, তার সার্বিক দায়িত্ব অর্পিত হয় কমরেড মুজফফর আহমদ এবং নজরুল ইসলামের উপর। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি যুক্ত হন যথাক্রমে ধুমকেতু ও ‘লাঙল’ এর সাথে। (সম্পূর্ণ…)

প্রহরগুলো প্রহরে নেই

তারিক সুজাত | ২৭ আগস্ট ২০১৭ ৭:১২ পূর্বাহ্ন

Fakir২১.
ব্যক্তিগত কিছু নেই,
যা ছিলো অন্তরে
তার দাড়ি, কমা, চন্দ্রবিন্দু
আগেই উজাড় করে দিয়েছি।
রোদের বুননে লেখা
দুপুরের পাণ্ডুলিপি
পাঁচটি আঙুল তুলে
অনন্তকে ডাকে!

২২.
দুপুর কী আছো,
দুপুর তো নেই!
থাকা ও না-থাকা
আলোছায়ার এপিঠ ওপিঠ,
তোমার সম্মুখে তুমি
পেছনেও তোমার প্রতিবিম্ব হয়ে
দাঁড়িয়ে আছে
অনন্ত সকাল…

২৩.
সকাল খুলেছে
মেঘ মেঘ শুভ্র গালিচা,
মৃদু মৃদু পায়ে তুমি এসো
তোমার প্রতীক্ষায়
সারাপথ জুড়ে
ছিন্ন পালক পড়ে আছে… (সম্পূর্ণ…)

সব রায় রায় নয়

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৫ আগস্ট ২০১৭ ১২:৪৬ অপরাহ্ন

massসব রায় রায় নয়,
কিছু রায় ভালো রায়,
কিছু রায় কালো রায়
কিছু রায় কারসাজি রায়;
ভ্রান্ত বিচারিক রায়
চিরকাল হায়-হায় রায়;
উদ্দেশ্য-তাড়িত রায়
চিরকাল হায়-হায় রায়;
জনতার বেনোজলে
যায় ভেসে যায়
যে-রায় অন্যায়।

নিজে নিরাপদ থেকে অপরকে
সন্ত্রস্ত তটস্থ রাখে যেই রায়,
সেই রায় স্বেচ্ছাচারী রায়,
সেই রায় অজাচারী রায়;
জনতার বেনোজলে
চিরকাল ভেসে যায়
যে-রায় অন্যায়। (সম্পূর্ণ…)

ভাত দিও প্রভু

মাজহার সরকার | ২৪ আগস্ট ২০১৭ ১:৩১ পূর্বাহ্ন

vaht
কোন অভিযোগ নেই, প্রার্থনা এই
বোতামের ছিদ্রে কিছু ঘামের ফোঁটা
পায়ের গোড়ায় শুকনো রক্তের রেখা দেখে
বুঝে নিও সারাদিন খুব খেটেছি,
নগরের ভেতরে ক্ষরিত, আলোড়িত, নিরক্ষর,
মূলত প্রসাধন আর পোশাকের ভেতর শরীরটা খুব একা
একা আজ বেশ হেঁটেছি ঢাকার রাস্তায়
যানজটের পাশে ফুটপাতে বেশ শুয়েছি আয়নায়
ক্ষুধা তো পুরনো অসুখ, মানুষের অলীক খুঁত
ভুল করলেও ভাত দিও প্রভু
যে ক্ষুধা গোপন থাকে, মেলাতে চেয়েছি যতবার শূন্যে বুঁদ
দুই হাত, ক্লান্ত পায়ে দিয়েছি তাড়া (সম্পূর্ণ…)

নায়করাজ রাজ্জাক: আজকের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের যে বিকাশ এটা বঙ্গবন্ধুরই অবদানের ফল

| ২১ আগস্ট ২০১৭ ১০:২৭ অপরাহ্ন

razzak+01৯৬ সালে রাজ্জাকের এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলাম আমি এবং কবি ব্রাত্য রাইসু অধুনাবিলুপ্ত দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার জন্য। ফোনে আগেই এপয়েন্টমেন্ট করে তার গুলশানের বাসায় আমরা দুজনে হাজির হয়েছিলাম। সকালের দিকে বোধহয় তিনি আমাদেরকে সময় দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের সময় তার পরিচিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল “জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২। কলিকাতা চারুচন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েট। ১৯৬২ তে বিয়ে করেন। এরপরে বাংলাদেশে আগমন ১৯৬৪ সালে। ৩ ছেলে ২ মেয়ে। অভিনীত ছবির সংখ্যা ২৮০।” — রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন: রাজ্জাক ভাই, আপনার বয়স কত হলো?
আবদুর রাজ্জাক: ফিফটি ফোর।
রাজু: সিনেমা থেকে আপনি তাহলে একরকম বিদায়ই নিলেন?
রাজ্জাক: না, তা নয়। সে রকম অর্থে তো বিদায় নেয়া যায় না। আমি যেটা করলাম, গত দু’বছর আমি একটু সিলেকটিভ ছবি করলাম। একটু ‘আদারওয়েজ’ ব্যস্ত ছিলাম, এদিকে গত দু’বছর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটু অগোছালো হয়ে গেছে। এ কারণে নিজেকে একটু সরিয়ে রাখলাম আর কি।
রাজু: ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অগোছালো হয়ে গেল মানে?
রাজ্জাক: মানে হইচইটা একটু বেশি এসে গেল না গত দু’বছর? উত্তেজনাটা যেন একটু বেশি হয়ে গেছে। এটা নর্মালি আমার জন্যে একটু প্রোব্লেম।
রাইসু: নতুনদের আপনি নিতে পারেন না?
রাজ্জাক: না, নতুনদেরকে আমি সব সময় একসেপ্ট করেছি। টোটাল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে হঠাৎ করে একটু চেঞ্জ হয় না? এতে করে হইচইটা একটু বেশিই হয়। এ জন্যে আমি একটু সরে থাকলাম ওদের কাছ থেকে।
রাজু : আপনার নিজের তৈরি ছবির সংখ্যা কত এখন?
রাজ্জাক: ১৪ টার মতো।
রাজু: একটু আগে আপনি যে সিলেকটিভ ছবির কথা বললেন, সেটা কোন কোন ছবি?
রাজ্জাক: আমি এবার যে ছবিটি করছি সেটা হলো ‘জজ সাহেব’ যমুনা ফিল্মস-এর। মাঝখানে গেস্ট আর্টিস্ট হিসেবে অভিনয় করেছি। পুরোনো লোকরা ধরলে তো আর না করতে পারি না।
রাইসু: এগুলোতে কি নায়কের রোলেই অভিনয় করলেন?
রাজ্জাক: এখনতো আর নায়কের রোলে অভিনয় করা যায় না। সেন্ট্রাল ক্যারেক্টারে অভিনয় করছি। (সম্পূর্ণ…)

বাঙালি হিপোক্রিট পুরুষ-লেখকদের চরিত্র — ১

তসলিমা নাসরিন | ২০ আগস্ট ২০১৭ ১০:০১ অপরাহ্ন

taslimaগত ১২ অগাস্ট ২০১৭ তারিখে রাজু আলাউদ্দিনের নেয়া কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল আর্টস বিভাগে। তাতে কথা প্রসঙ্গে– সাক্ষাৎকারগ্রহিতার প্রশ্নের জবাবে–কবি নির্মলেন্দু গুণ মন্তব্য করেন কবি কলামিস্ট তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে। সেই মন্তব্যের সূত্রে তসলিমা নাসরিন এই লেখাটিতে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বি. স.

বাঙালি পুরুষ-লেখকদের মধ্যে ভয়ংকর পুরুষতান্ত্রিক, ভয়ংকর নারীবিদ্বেষী, দুশ্চরিত্র, দু’নম্বর লোকের অভাব নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি ক’জনকে জানি, যাঁরা মানুষ হিসেবে অতি নিম্নমানের। তাঁরা ঈর্ষাকাতর, মিথ্যেবাদী। পুরুষ-লেখক বলেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাঁদের নিন্দে করার কেউ নেই। এঁদের দোষগুলোকে অবশ্য সমাজের বেশিরভাগ পুরুষের চোখে দোষ বলে মনে হয় না। কারণ ‘সেক্সিজম’ এ দেশে দোষের কিছু নয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, হুমায়ুন আজাদ,আহমদ ছফা, সৈয়দ শামসুল হকরা বিনা সমালোচনায় জনপ্রিয়তা ভোগ করতে পারেন বাংলায়, বাংলা বলেই সম্ভব। সভ্য দেশ হলে সম্ভব হতো না। তাঁদের জীবনাচরণের অসততা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। আজ নাস্তিক লেখক স্যাম হ্যারিসের সেক্সিজম নিয়ে নিন্দে হচ্ছে, নাস্তিকরাই নিন্দে করছেন। শুধু স্যাম হ্যারিস নয়, প্রচণ্ড জনপ্রিয় নাস্তিক-বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্সের কিছু নারীবিরোধী উক্তির কারণে তাঁকে নাস্তানাবুদ করেছেন নাস্তিক-নারীবাদীরা। ডকিন্স নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু বাংলার পুরুষ-লেখকদের ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া তো দূরের কথা, ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কাজটিতেও নির্বোধ স্তাবকদের আপত্তি। যেহেতু ভালো একটি বই লিখেছেন, সুতরাং তাঁর সাত খুন মাফ—নাস্তিক বাঙালির এই আবেগের সঙ্গে ধর্মান্ধ বাঙালির আবেগের কোনও পার্থক্য নেই।

সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ ডটকম কবি নির্মলেন্দু গুণের একটা সাক্ষাতকার ছাপিয়েছে। ওতে আমার বিরুদ্ধে একগাদা মিথ্যে কথা বলেছেন নির্মলেন্দু গুণ। সম্ভবত ‘স্বাধীনতা পদক’ পাওয়ার জন্য কিছুকাল আগে তাঁর মরিয়া হয়ে ওঠার সমালোচনা করেছিলাম বলে শোধ নিয়েছেন। আমি লিখেছিলাম – ‘শুনলাম কবি নির্মলেন্দু গুণ নাকি স্বাধীনতার পদক পাওয়ার জন্য ক্ষেপেছেন। অনেক তো পুরস্কার পেলেন। আরো পেতে হবে? কী হয় এসব পুরস্কারে? কিছু লোকের হাততালি পাওয়া যায় আর সম্ভবত কিছু টাকা পাওয়া যায়। টাকা তো সেদিনও শেখ হাসিনা দিয়েছেন তাঁকে। হয়তো তিনি মনে করেছেন স্বাধীনতা পদক পাওয়ার যোগ্য তিনি, তাই পদক দাবি করছেন। কত কেউ তো কত কিছুর যোগ্য। সবারই কি সব কিছু পাওয়া হয়? গ্রাহাম গ্রীন যে অত বড় লেখক, নোবেল তো পাননি। (সম্পূর্ণ…)

ভাষার প্রতিভা ও সৃষ্টির ডালপালা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ আগস্ট ২০১৭ ৪:২৬ অপরাহ্ন

Languages-1নিতান্ত কৌতূহলবশত ২০১০ সালের শুরুর দিকে ওয়েব-রাজ্যের একটি খবরে আমার নজর আটকে পড়েছিল। খবরটা বেদনাদায়ক, কিন্তু অবাক করার মতো কিছু নয়। ক্যামেরুনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফুরুবানার অধিবাসী এক মহিলা বিকিয়া ভাষায় কথা বলতেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এ ভাষাটি জানতেন। তার ভাষিক নিঃসঙ্গতার কথা ভাবলে আমরা বিষণ্ন না হয়ে পারি না। এই মহিলার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এ ভাষাটি। হয়তো এতদিনে তার মৃত্যুর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েও গেছে। একটি ভাষা গড়ে উঠতে কত সহস্র বছর লাগে–ভাবা যায়! কত সব সৃষ্টিশীল মনের অবদানের যোগফল যে-ভাষা, তা মাত্র একদিনেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে!
মার্টিন হাইডেগার, একালের দার্শনিকদের মধ্যে যিনি বিশিষ্ট হয়ে আছেন ভাষা এবং কবিতার ওপর আমাদের মনোযোগকে কেন্দ্রীভূত করার জন্য। তিনি বলেছিলেন, ‘যেখানে ভাষা কেবল সেখানেই বিশ্ব।’ কিংবা ‘ভাষার ভিত্তির ওপর অস্তিত্বের সমগ্র ধারণাটা দাঁড়িয়ে আছে।’ অর্থাৎ ভাষার বাইরে আমাদের আসলেই কোনো অস্তিত্ব সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এই বিশ্বজগতের ধারণা করা। কারণ, তা কোনো না কোনোভাবে ভাষাশ্রয়ী। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর তুলনায় বাংলা ভাষা কেবল অস্তিত্বশীলই নয়, রীতিমত পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলোর একটি। ভাবুন, বায়ান্ন সালে সত্যি সত্যি যদি আমাদের ভাষার বিজয় না হতো, তাহলে আমাদের সৃজনশীলতা বা আগের সব সৃজনশীলতার যোগফলটুকু ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়ে যেতে পারত চিরকালের জন্য। ইতিহাসে এমন নজির কম নয়। গোটা মানবসভ্যতার ইতিহাসে হাতে গোনা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন যিশু খ্রিষ্ট, তাঁর মুখের বুলি আরামায়িক বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও যে তা টিকে গেল, তার জন্য আমাদের গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা মহান ভাষাশহীদদের প্রতি, যাঁরা একেকজন আমাদের প্রাণের, আমাদের অস্তিত্বের চিরন্তন বর্ণমালা হয়ে আছেন। (সম্পূর্ণ…)

মুর্তজা বশীরের ৮৫তম জন্মদিন: তাঁর তুলনা তিনি নিজেই

আশফাকুর রহমান | ১৭ আগস্ট ২০১৭ ৯:৫৭ অপরাহ্ন

Murtaja Baseerযদি তিনি শুধু মুদ্রাবিশারদ হতেন তাহলেও তিনি মুদ্রাবিশারদদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্য নিয়ে অবস্থান করতেন। তাঁর বাংলার হাবশি সুলতানের মুদ্রা নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ এককথায় অতুলনীয়। তিনি তো শুধু মুদ্রা, টাকা কিংবা ডাকটিকেটের সংগ্রাহক নন, তিনি তাতে পাঠ করেন একটি রাষ্ট্রের সমাজের আর মানুষের ইতিহাস। তিনি খোঁজেন মুদ্রার নকশায় শিল্পী ও শিল্পের স্থানীয় শক্তি। শুধু তাই নয়। তিনি যদি শুধু কবিতা, গল্প ও উপন্যাস লিখতেন, সেগুলোও পাঠক সমাজে নন্দিত হতো।
এভাবেই তিনি পাঠ করেন মানুষের মুখ, মানুষের শরীর। আবার দেখেন দেয়ালের দাগ কিংবা পাথরের তল। চিকন রেখায়, স্পষ্ট রেখায় আঁকেন মানুষের অনন্য অভিব্যক্তি। সেই মানুষটি তাঁর আঁকা রেখায় হয়ে ওঠে সবার থেকে আলাদা। রেখায় রেখায় আঁকা সেই স্বাতন্ত্রমণ্ডিত মানুষরা যেন হয়ে ওঠে আরও জীবন্ত। (সম্পূর্ণ…)

চিরদিন বিকল্পবিহীন

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৫৪ পূর্বাহ্ন

Mujib-2বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্যে বঙ্গবন্ধু চিরদিন বিকল্পবিহীন। কথাটি গতানুগতিক বা প্রথাসিদ্ধ শোনালেও আজ এই সত্যটিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সময় এসেছে। কারণ সময় ও পরিপ্রেক্ষিত দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বাস্তব ঘটনা বা তথ্যকে বিকৃত করে ইতিহাসকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার  চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন। এখন তা আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যাঁরা ঘোষিত বিরোধিতাকারী কেবল তাঁরাই নয়, যাঁরা তাঁকে জাতির পিতা হিসাবে স্বীকিৃতি দিয়ে থাকেন, সম্প্রতি তাদেরও কেউ কেউ কৌশলে বঙ্গবন্ধুর মৌলিক অবদানকে খাটো করে দেখতে ও দেখাতে  শুরু করেছেন। হয়তো এভাবেই তাঁরা নিজেদেরকে সমাজের নব্যবিবেক হিসেবে চিহ্নিত করে আত্মপ্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষী সিঁড়িটাকে মজবুত করতে প্রস্তুত। এটি সামষ্টিক স্বার্থ-প্রসূত বিবেচনা বলে মনে হয় না। বঙ্গবন্ধু বা অন্য কেউ একা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেনি, এটা কোনো নতুন তথ্য বা যুক্তি নয়। এই আটপৌরে যুক্তি তুলে বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।
বরং যে যুক্তি, তথ্য ও সত্য সর্বাধিক বাস্তবতাসম্মত সেটি হচ্ছে, একমাত্র বঙ্গবন্ধুর নিখুঁত ও নির্বিকল্প উপলব্ধি, তাঁর দ্বিধাহীন ঘোষণা, তৎপ্রণীত বাস্তবায়নযোগ্য পরিকলপনা, রাজনৈতিক কর্মসূচী, তার ধাপানুক্রমিক বাস্তবায়ন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি, সর্বোপরি দেশ ও জাতির জন্যে তার চূড়ান্ত আত্মদানের মাধ্যমেই বাঙালি জাতির নব-উত্থান-বাহিত একটি সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়েছে। রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর গুরু, পূর্বসূরী ও সহযাত্রী আছেন অনেক শ্রদ্ধেয় নেতা। কিন্তু  দ্বিতীয় কারো ভূমিকা বঙ্গবন্ধুর এই আনুপূর্বিক ভূমিকার সঙ্গে তুলনীয় নয়। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com