সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির শিল্পী। তাঁর লেখার আবেদন গভীর এবং বহুমূখী। আমাদের স্মরণের ভেতর তাঁর মত লেখক হাতেগোনা। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র আবির্ভাব `কল্লোল যুগে’ ঘটলেও আধুনিকতায় তিনি সময়ের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে ছিলেন; এবং সবসময়ই আমাদের অগ্রজদের সামনে অবস্থান করেছেন– যখন সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন তখন- আর সময়-কাল ঘুরে অাজকের বাস্তবতায়ও ওয়ালীউল্লাহ সবার চেয়ে এগিয়েই […]
আমার কি আছে বলুন তো? ধ্বংসেরও কিছু স্মৃতি থাকে শেষ থাকে কষ্টেরও কিছু ক্ষত থাকে যেখানে চলে নিয়ত ক্ষরণ তারপরও সেখানেও কিছু থাকে বিধাতার দান। আমার বিবাহের শাড়িটি ছিল ৫ কেজি ওজন দারুণ ঐতিহ্যে বেনারসী কাতান জড়ি পুতি চুমকীর বাহারে হারিয়েছে যে নিজেরই বেশ। আমি তখন ইথিওপিয়া থেকে এসেছি কেবল বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ রুগ্ন […]
শিরোনাম দেখে চমকানোর কিছু নাই। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা কবি উৎপলকুমার বসুর পেইন্টিং-এর কোনো গোপন মহাফেজখানা আবিষ্কৃত হয়নি। তবু তাকে চিত্রশিল্পী বলছি। কেনো? কারণ, তিনি তার কবিতাকে ব্যবহার করেছেন পেইন্টিং-এর ক্যানভাস হিসেবে। যেখানে বিচিত্র সব চরিত্র, ঘটনা, রূপক, সেগুলোর নির্মাণ-ভাঙচুর-পুনঃনির্মাণ- এমন ইশারাভাষ্যে খোদিত যে তা কোনো অংশে পেইন্টং-এর চেয়ে কম মূর্ত-বিমূর্ত নয়। আধুনিক চিত্রকলায় শিল্পীর ছবিতে […]
বুলবন ওসমানের জন্ম ১৮ মার্চ ১৯৪০ সালে মামাবাড়ি হাওড়া জেলার ঝামাটিয়া গ্রামে। মা সালেহা ওসমান ও বাবা শওকত ওসমানের প্রথম সন্তান। পৈতৃক নিবাস সবলসিংহপুর, হুগলি। ১৯৪৭-এ দেশভাগে পর শওকত ওসমান চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে দুই বাংলায় বড় ধরনের দাঙ্গা বাধলে পুরো পরিবার চটগ্রামে চলে আসেন। চট্টগ্রামে স্কুল ও কলেজ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় […]
বকুল গাছের নিচ দিয়ে পথ। সবুজ ঘন ঘাসের ভেতর লম্বা হয়ে শুয়ে আছে মেটে রঙের চিকন রেখা। হঠাৎ দেখলে চুলের সিঁথির কথা মনে পড়ে যায়। আব্দুল করিম সিঁথি মাড়িয়ে ফজরের নামাজ পড়তে যাচ্ছে। আবছা আলো আবছা আঁধারের মিশেল চারপাশে। কোথাও মোরগ ডাকছে। আব্দুল করিমের মাথায় পাঁচকুল্লি টুপি। হঠাৎ কী ভেবে সে টুপিটা খোলে। দুই হাতে […]
বসন্ত বাউরির বাতাসে কোন লেবুফুলের গন্ধ ভেসে আসে। ভেসে আসে আমের বোল আর কাঁঠাল মুচির সুবাস ।সবুজ নরম এই ঘাসের বন, আর বহু প্রাচীন, বুড়িয়ে যাওয়া ছাল বাকলের বৃকোদর আম,কড়ই, শিমূল, নারকেল বৃক্ষের সারি। পলাশ আর পারিজাত গাছও চেখে পড়লো। এর পাশে কাজল পড়া অতি শান্ত ধীর স্রোতস্বিনী। এ নদীর পাড়ে ভূট্টা, গম আর যবের […]
বালির শহর যে ধূলোর শহরে তোমাকে রেখে এসেছিলাম তার আর কোন খবর নেইনি কখনো তুমি হয়ে গেলে নানান রঙের প্রজাপতি আর আমি ডানা সদৃশ ভূপালী এক প্রাণী কেবল সুরের জিকির তুলি নিয়নের আলোয় পাথর কেটে কেটে তৈরী করি টিউনিক পথ বিশ্বাসের বিভ্রমে গড়ে তুলি পাললিক শহর এখানে সেখানে নদী-বিল আর ছায়া রাখি আরতিসম আহবানে কাঠ […]
সূর্য উঠল; দিনের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, হঠাৎ কী যে হল! বাড়ি পুড়ছে, ঘর পুড়ছে, সকলে ছোটাছুটি শুরু করে দিল: প্রথমে আগুন দিল দক্ষিণের ঘরে, এরপর একে একে সারা গাঁও পুড়ে সাবাড় করে; দিনেদুপুরে ওরা আমাকেও তাড়া করেছিল ! সকলে প্রাণভয়ে দৌড়ে পেছনে জঙ্গলে চলে যাই। বাড়িঘরে ওরা আগুন দিতে থাকে, সে আগুন আমি দেখি জঙ্গলের […]
তুমি অনেক বেশি বিশ্বাসী- না? বিশ্বাস করো ঈশ্বরকে, বিশ্বাস করো দেবতাকে, বিশ্বাস করো আমাকে, তোমার চারপাশকে। এ বিশ্বাস তুমি কোথা থেকে পেলে? আমি তো শুধু বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম নদীকে, ভেবেছিলাম সেই আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সাগরে। অথচ দেখ কী অদ্ভুত, সেই কবে থেকে এই চড়ায় বসে আছি অথচ নদী ভাসায় না আমাকে। এই আমার সামনে […]
কাগজ এবং ক্যানভাস–দুয়েই তার স্বাচ্ছন্দ্য । কাগজে তিনি আঁকেন তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে এমন এক ভাষায় যা চিত্রল গুণে ঋদ্ধ। অন্যদিকে ক্যানভাসে তিনি তুলে ধরেন রংয়ের সেই বর্ণময় সম্ভার যা কথার অমরাবতী হয়ে উঠেছে। বর্ণ ও বর্ণমালা অভিন্ন মর্যাদায় রফিকুননবীর কাছে উদ্ভাসিত, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়ে শিল্পী রফিকুন নবীকে অনন্য করে তুলেছে। চিত্রশিল্পী, […]
সার সার লোহার খাট। তাতে বসতেই “কেউউওও…উক” করে সমস্বরে মুচড়ে উঠল খাটগুলো। প্রজাপতিরমত তিনটে মেয়ে একে অপরের সাথে লেপ্টে বসে দেখে, ছয় সাতটা গ্রাম্য সরল মুখ ওদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। প্রত্যেকের নাকেই একাধিক নাকফুল। প্রত্যেকেই কানে পরেছে অধিক প্রচলিত ডিজাইনের গ্রাম্য কারিগরের বানানো সোনার কানপাশা। কারো কারো মাথায় আধা ঘোমটা। কেউ কেউ আবার ওদের দেখে […]
“একজন প্রকৃত কবি প্রতিনিয়ত পরম সুন্দরকে নিত্য আবিষ্কার করতে চান। তাকে পেতে চান এবং না পাওয়ার বেদনায় কবির হৃদয়ে রক্তপাত হয়। বেদনার চিরন্তন এই বোধ প্রতিটি মানুষের জীবনেই কম বেশি থাকে। আমরা সবাই একধরণের অন্তঃসারশূন্যতায় ভুগি। তখন আমাদের ইচ্ছা জাগে কোনো সুন্দরকে পাওয়ার, তাকে ধারণ করার। আর সেই না পাওয়ার বেদনা থেকেই জন্ম নেয় এক […]