তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির স্মরণে

আলম খোরশেদ | ১৪ আগস্ট ২০১৫ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির-এর অপঘাতে মৃত্যুর অল্প ক’দিন পর, ২৫ আগস্ট, ২০১১ সালে, ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে ক্যাথরিন মাসুদ আয়োজিত ‘তারেক মাসুদ স্মরণসভায়’ আলম খোরশেদ যে স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা দেন ইংরেজিতে, লেখক কর্তৃক তার বাংলা তর্জমা এখানে এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হলো।

tariqmishukcopy.jpgআমার দুই মেধাবী বন্ধু তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির, যাঁরা ’জীবন মরণের সিমানা ছাড়ায়ে’ আচমকাই আজ ছবি হয়ে গেছে, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আমার আরেক বন্ধু চিত্রশিল্পী ঢালি আল মামুন এখন ব্যাংককের হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। তাঁর জন্য আমার সমস্ত শুভ কামনা। তারেক ও মিশুকের জীবনসঙ্গিনী ক্যাথরিন এবং মঞ্জুলী কাজী, যে আমার প্রায় বাল্যবন্ধু, তারা বেঁচে থেকেও আজ প্রায় জীবন্মৃত। কিন্তু তাদের অদম্য প্রাণশক্তিতে তারা আজকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এক নতুন আন্দোলন, এক নতুন লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছে এই বীভৎস ঘটনার প্রতিকার চেয়ে। তাদের জন্য আমার সর্বাত্মক শুভ কামনা, সমবেদনা এব সহমর্মিতা জানিয়ে আমি আমার স্মৃতিচারণ শুরু করছি।

আমি থাকি অনেক দূরে রাজধানী থেকে, চাঁটগায়। অনেকটা প্রায় আত্মগোপনেই। তারপরও ছুটে এসেছি ঢাকায়, ক্যাথরিনের ফোন পেয়ে। শুধু তার এই কথাটির জন্য যে এটি কোনো গতানুগতিক শোকসভা হবে না। সে বলেছিল ’উই উইল সেলিব্রেট তারেক্স লাইফ’। তার এই ‘সেলিব্রেট’ কথাটি আমার ভিতরে অন্যরকম অনুরণন তুলেছিল। আমিও এই উদযাপন অনুষ্ঠানের অংশ হতে চাইলাম, তাই ছুটে এলাম। তারেকের জীবন সত্যিই উদযাপন করার মত জীবন। এক বহুমাত্রিক, বহুবর্ণিল, ব্যাতিক্রমী জীবন তার! এই বঙ্গদেশের মাটিতে সেই তারেকের সাহচর্য আমি পেয়েছি, তার বন্ধুত্ব লাভ করেছি, সেটাকে আমার জীবনের এক বড় প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি। (সম্পূর্ণ…)

ফকির সেলিমের ‘খোঁচা’

দেবাশীষ দেব | ১২ আগস্ট ২০১৫ ৫:৫৭ অপরাহ্ন

border=0 পাঠক যেমন মনের খোরাক খুঁজে ফেরেন বহুবিচিত্র লেখায়, তেমনি লেখকও পাঠকের তৃষ্ণা মেটাতে খুঁজে নেন লেখার বিষয়বস্তু। পাঠককে জাগিয়ে তুলতে হবে, সচেতন করে দিতে হবে। তাই লেখকের দায়িত্ব অনেক। কিন্তু সব লেখক কি পাঠককে সচেতন ও উজ্জীবিত করতে লেখেন? তা মনে হয় নয়। লেখকের একটি অকৃত্রিম সত্তা আছে, যেখানে রয়েছে ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভালোলাগা-মন্দলাগা, হাসি-কান্না, আনন্দ-বিনোদন। তাই কে কেন এবং কীভাবে লেখেন তা আমরা এক কথায় বলে দিতে মনে হয় পারি না।

নিউ ইয়র্কপ্ররবাসী লেখক ফকির সেলিম ছোটকাল থেকে বেড়ে উঠেছেন এমন একটি পরিবেশে যেখানে লেখার একটা আবহ ছিল। সেই কৈশোর থেকেই তিনি লেখালেখির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

প্রবাসজীবনে তিনি দেশ নিয়ে ভেবেছেন, ভেবেছেন সমাজ নিয়ে। তাই তার লেখা গ্রন্থ খোঁচায় তিনি কখনও মজা করেছেন, কখনও হাহাকার উঠে এসেছে তার ছড়ায়। (সম্পূর্ণ…)

টমাস ট্রান্সট্রয়মারের হাইকু

আনিসুর রহমান | ১০ আগস্ট ২০১৫ ৩:০৫ অপরাহ্ন

ttrans.jpgটমাস ট্রান্সট্রয়মার সুইডেনের কবি| তিনি ২০১১ সালে কবিতার জন্যে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন| তাঁর আগেই জগৎ জুড়ে তাঁর কবি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে| এ বছরের ২৬ মার্চ তিনি পরলোকে চলে গেলন| তারঁ বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর|

সব মিলিয়ে তাঁর কবিতার বইয়ের সংখ্যা ১০, একটি পত্রগুচ্ছ, একটি হাইকু সংগ্রহ এবং কয়েক পাতার একটি ছেলেবেলার কথা|

টমাস সহজ সরল ভাষায় তারঁ কবিতায় চিত্রকল্প নির্মাণ করেছিলেন, কবিতায় অনুভূতির গভীরে যেতে পেরেছিলেন| তিনি সুইডেনে তো বটে, একই সাথে সমসাময়িক আন্তর্জাতিক কবিতার কিংবদন্তী প্রতিভা| তিনি কবিতার বিবিধ কাঠামোয় কলম ধরেছিলেন| কিন্তু প্রকাশের ব্যাপারে ছিলেন অতিশয় লাজুক| তাঁর প্রকাশিত রচনাবলীর চেয়ে অপ্রকাশিত লেখা ঢের বেশি| একবার কথা প্রসঙ্গে এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম |তিনি হেসেছিলেন আমার প্রশ্নের জবাবে| তাঁর স্ত্রী মনিকা যোগ করে বলেছিলেন বাক্সবন্দী কবিতাগুলো টমাসের মনের মতো হয়নি| কবিতার সাথে বাক্সবন্দী রয়েছে টমাসের আঁকিবুকি করা অনেক স্কেচ| (সম্পূর্ণ…)

বিপাশা’র স্মৃতির ভাঁড়ার

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৮ আগস্ট ২০১৫ ১১:১৬ অপরাহ্ন

bipasha-1.jpgশিল্পের যিনি অভিযাত্রী – তাঁর বিস্ময় ও অন্বেষণ তো সর্বত্র: দেখায়, আঁকায়, যাপনে, পরিভ্রমণে, জীবনের নানা পরতে পরতে। একজন শিল্পী কখনো কখনো আনন্দ-ভ্রমণকারীও। চেনা, চিরপরিচিত জায়গাতে, অভ্যস্ত সংসারে, সদাব্যস্ত পৃথিবীতেও তাঁর জন্য অবাক করা সৌন্দর্য, সোনালী অতীত কিংবা বিস্ময়াবিষ্ট রূপ কিংবা কালিমাক্লিষ্ট মদিরা অপেক্ষা করে থাকে।

বিপাশা হায়াৎ যত বড় অভিনয় তারকা, শিল্পী হিসেবে ঠিক ততটা খ্যাতিমান নন, কিন্তু তাঁর শিল্পের প্রতি নিবেদন, সাধনা যে কোনো বড় শিল্পীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সাড়ে তিন বছর ধরে একটি সিরিজ নিয়ে নিমগ্ন, ধ্যানমগ্ন থেকেছেন শিল্পী বিপাশা হায়াৎ। সিরিজটির নাম Realm of Memory বা স্মৃতির রাজ্য। নিজের সমস্ত স্মৃতির টুকরোটাকরা তিনি জড়ো করেছেন তাঁর ক্যানভাসে, বিমূর্ত প্রকরণে।

৩ আগস্ট, বিকেলবেলায় বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জের কর্মীদের নিয়ে নিজের শিল্পকর্মগুলো স্থাপন করছিলেন গ্যালারিতে বিপাশা। তাঁর নিমগ্নতা, দেয়ালে ঝোলানো-সাজানো নিয়ে খুঁতখুঁতানি প্রমাণ করে, বিষয়টা নিয়ে তিনি কত বেশি মনোযোগী। সেখানেই, দুটো ক্যানভাসের সামনে বেঞ্চ পেতে আলাপ হলো শিল্পীর সাথে তাঁর চতুর্থ একক প্রদর্শনী নিয়ে। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের অনুবাদ

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ৭ আগস্ট ২০১৫ ১২:২১ পূর্বাহ্ন

rt.gifঅনুবাদ একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম। কবিতা নাটক উপন্যাস প্রবন্ধ ইত্যাদির মতো এরও রয়েছে একটি স্বতন্ত্র এলাকা যা ওইসব মাধ্যমের মতোই নানা উপকরণ ও বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ। যদিও অনুবাদ বিপুলাংশে স্থাপিত হয় কোনো একটি উৎস মাধ্যমের ওপরই, এবং সেই উৎসকে একটি লক্ষ্যভাষায় রূপান্তরিত করাই অনুবাদের কাজ, তবু অনুবাদও বিবেচিত হয় একটি সৃজনশীল শিল্পমাধ্যম হিসেবে। মূলের কতটা অনূগামী হলে শিল্প হিসেবে অনুবাদ উতরে যাবে বা ব্যর্থ হবে সেই নির্বাচন ক্ষমতার ওপরই প্রকাশ পায় অনুবাদের সৃজনশীলতা।
রবীন্দ্রনাথ মূলত একজন কবি; বস্তুত তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন বহুমাত্রিক সৃজনশীল প্রতিভা হিসেবে অনন্য। এই সাহিত্যের সব শাখা তাঁর প্রতিভার স্পর্শে দারুণভাবে আন্দোলিত হয়েছে। মূল ইংরেজি ভাষায় তাঁর লেখা নেহায়েত স্বল্প নয়। আবার বাংলা থেকে ইংরেজিতে এবং ইংরেজি, ফরাসী, জার্মান থেকে বাংলায় অনুবাদের কাজেও তিনি যথেষ্ট সময় দেন। সৃজনশীল সাহিত্যিক অনুবাদকর্মে নিয়োজিত হলে সাধারণত ব্যর্থই হন কারণ অনুবাদ করতে গিয়ে নিজের কল্পনা ও মনের মাধুরি মেশানোর প্রবণতা তাঁকে মূল থেকে ক্রমে বহু দূরে সরিয়ে নেয়। তখন অনূদিত কর্মটিকে অনুবাদ না বলে তাঁর নিজস্ব রচনা বললেই যথার্থ হয়। উদাহরণ দেওয়া যায় শেক্সপীয়র, ড্রাইডেন, পোপ থেকে। উৎস কাহিনীতে ভর করে শেক্সপীয়র তাঁর নাটকগুলোয় কি দারুণ সব কান্ডই না করে বসেছেন। অন্যদিকে ড্রাইডেন, পোপ–এঁরাও হোমার, ভার্জিল অনুবাদ করতে গিয়ে এমন কর্ম উপস্থাপন করলেন যে সেখানে গ্রীস ও ইতালির হতভাগ্য কবিদের আর চেনাই যায় না। বেশি সৃজনশীল কবি সাহিত্যিকের পক্ষে তাই সার্থক অনুবাদ অর্থাৎ যাতে মূলও বজায়ে থাকবে আবার নতুন একটি শিল্পকর্মও রচিত হবে-এমন ঘটনা কমই ঘটে থাকে। (সম্পূর্ণ…)

গভীর প্রেরণার কবি আবুল হাসান

ফরিদ আহমদ দুলাল | ৫ আগস্ট ২০১৫ ১১:৪৫ অপরাহ্ন

border=0পাঠ্য পুস্তকে পড়া কবিতার বাইরে, কবির বাইরে কোন কবিতা বা কবি এভাবে আচ্ছন্ন করতে পারে তা কিন্তু তখনি বুঝতে পারিনি, যখন আবুল হাসানের কবিতায় ডুবে যাচ্ছি; যখন বুঝেছি, তখন আকণ্ঠ ডুবে গেছি আবুল হাসানে। আবুল হাসানের উন্মূল যৌবনে যখন কবিতার জন্য ওঁরা দিশেহারা, সদ্য স্বাধীন দেশে আমরা তখন কবিতার সুঘ্রাণ পেতে চেষ্টা করছি। মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-যতীন্দ্রমোহন বাগচী-নজরুল-জীবনানন্দ ছাড়াও বাংলা ভাষায় কবি আছেন, জানলাম নির্মলেন্দু গুণ পড়ে; নির্মলেন্দু গুণ আমাদের কবি, এক শহরের কবি; তাঁর প্রতি এক স্বাভাবিক পক্ষপাত কাজ করেছে; কিন্তু নির্মলেন্দু গুণের ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে চিনেছিলাম আবুল হাসানের নাম। ১৯৭২-এর শেষদিকে প্রকাশিত রাজা যায় রাজা আসে ১৯৭৩-এ পড়েই গোপনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমাকেও কবি হতে হবে। কৈশোরের আবেগে আরো আগেই দু’একটি কবিতা লিখলেও বলা যায় আবুল হাসান-ই হাত ধরে আমায় নিয়ে এলেন কবিতা সড়কে। রাজা যায় রাজা আসে কাব্যের কবিতাগুলোয় কী ছিলো? সে কথা আজও ভাবি। (সম্পূর্ণ…)

বোর্হেস নিয়ে মান্নান সৈয়দের একটি অপ্রকাশিত লেখা

রাজু আলাউদ্দিন | ৫ আগস্ট ২০১৫ ১:৪৪ অপরাহ্ন

with-mannan-bhai_n.jpgবিদেশের পাঠ চুকিয়ে আমি দেশে ফিরেছিলাম ২০০৯ সালের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে। বহু প্রতীক্ষিত আমার ‘বোর্হেস’ প্রকল্পের অপ্রকাশের ভারে যতটা না নুব্জ ছিলাম, তার চেয়ে বেশি লজ্জিত ও কুণ্ঠিত ছিলাম অন্তর্ভুক্ত নবীন প্রবীণ অনুবাদকদের পাশাপাশি বোর্হেস-প্রেমিক শুভানুধ্যায়ী বন্ধুদের প্রশ্নে: বইটি কবে বেরুবে? কী করে বুঝাই যে প্রবাসে থেকে বইটির প্রকাশনার তদারকি করা প্রায় অসম্ভব ছিল। তদারকির প্রশ্নটাও পরের কথা, আমিতো তখন কোনো যুৎসই প্রকাশকই পাচ্ছিলাম না ওখান থেকে। প্রকাশক পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সে এক অন্য কাহন, বাঘা বাঘা কত মগাদের অবহেলা আর অজ্ঞতা পোহাতে হয়েছে, সেখানেও যে আমার কত সময় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সেসব আলাদা করে অন্য কোথাও বলা যাবে।

যাইহোক, দেশে ফিরে আসার পরপরই বোর্হেস প্রকাশে উৎসাহী ঐতিহ্য প্রকাশনীর কর্ণধার আরিফুর রহমান নাঈমের সাথে আমার যোগাযোগ হলো। নাঈমের খুব উৎসাহ আর আগ্রহ দেখে আমি সত্যি সত্যিই খুব মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এদিকে নরম্যান টমাস ডি জিওভান্নির সঙ্গে পাণ্ডুলিপি নিয়ে আলাপের ফলে আমার পরিকল্পনাও খানিকটা বদলে যায়। প্রথমে আমার ইচ্ছা ছিল এক খন্ডে বের করার, কিন্তু তিনি বললেন পাঁচ খন্ডে আলাদা আলাদাভাবে বের করার জন্য। ফলে আমার কাজ গেল বেড়ে। নাঈমের ঘাড়েও এই বাড়তি চাপ পরলো। সে যেমন তার লোকজনকে খাটিয়েছে তেমনি আমাকেও খুব খাটিয়ে ছিল এই কারণে যে প্রায় আটশ পৃষ্ঠার পান্ডুলিপিটি ছিল নানান জনের হাতে লেখা। সুতরাং পাঠোদ্ধার, কম্পোজ এবং সবশেষে প্রুফ– থাক সেসব কাহিনী। মান্নান ভাই কিভাবে বোর্হেসের সাথে যুক্ত হলেন সে কথাই বরং স্মৃতি থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। (সম্পূর্ণ…)

আবদুল মান্নান সৈয়দ: তাঁর আধুনিকতা

আহমাদ মাযহার | ৪ আগস্ট ২০১৫ ১২:২২ অপরাহ্ন

mannan-syed.jpgআবদুল মান্নান সৈয়দের লেখার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় সত্তরের দশকের শেষের দিকে। তখন আমি ছিলাম সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ তরুণ। লেখার নান্দনিক মর্ম ভালোভাবে বুঝে উঠতে পারার পর্যায়ে না পৌঁছালেও তাঁর লেখার নতুনত্ব বা স্বাতন্ত্র্য আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। আধুনিক সাহিত্যের মহলে তাঁকে যে তখন বেশ সমীহ করা হতো তা অনুভব করতাম। বাংলা সাহিত্যের ওয়াকিবহাল মহলে যেটুকু বিচরণ ছিল তা থেকে আমি বুঝতে পারতাম যে এর একটি কারণ তাঁর সৃষ্টিকর্মের নতুনত্ব আরেকটি কারণ বাংলাসাহিত্যে তাঁর ব্যাপক পঠনপাঠনপরিধি। বিশেষ করে বাংলা কবিতার মুখ্য-গৌণ সব ধরনের কবিরই কৃতির সঙ্গে তাঁর যতটা অন্তরঙ্গ পরিচয় ছিল ততটা অন্য কারো মধ্যে ছিল দুষ্প্রাপ্য। মনে পড়ছে কবি শামসুর রাহমানের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে শামসুর রাহমানের কবিকৃতি নিয়ে আলোচনার জন্য আবদুল মান্নান সৈয়দকেই নির্বাচন করা হয়েছিল। সবদিক বিবেচনা করে এ কাজের জন্য সে-সময় আবদুল মান্নান সৈয়দ ছাড়া আর কারও কথা ভাবা প্রায় সম্ভব ছিল না। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২ আগস্ট ২০১৫ ৮:৩৭ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

কবি চিতি মাচিয়া-এর কবিতা

মুহাম্মদ সামাদ | ২ আগস্ট ২০১৫ ১২:২১ পূর্বাহ্ন

jidi-majia.jpgচীনা ভাষার এ সময়ের অন্যতম প্রধান আলোচিত কবি চিতি মাচিয়া-এর জন্ম সিচুয়ান প্রদেশে। য়ি জনগোষ্ঠীর একজন হিসেবে পরিচয় দিতে গর্বিত বোধ করেন তিনি। য়ি জনগোষ্ঠীসহ চীনা জনসমাজের নানা রূপকথা-উপকথা, দেব-দেবীর বিচরণ, পূর্বপুরুষের গৌরবগাথা, সংগীত-বাদ্যযন্ত্র, আচার-উৎসব, পাহাড়ের পাদদেশ, নদী-ঝর্না ও উচুঁ-নিচু টিলার সবুজ বনানীর আলো-অন্ধকারে মানব-মানবীর চিরন্তন প্রেম, জন্ম-মৃত্যু আর আনন্দ-বেদনায় ভরপুর কবি চিতি মাচিয়া-এর কবিতা। চিতি মাচিয়া-এর কবিতা পড়লে মনে হয় এ যেন বাংলাদেশেরই যাপিত জীবনের গল্প। ইংরেজি, ফরাসি, জাপানি, হিস্পানি, বুলগেরিয়ান, সার্বিয়ো-ক্রোয়েশিয়ান, রুমানিয়ান, মেসিডোনিয়ান, মঙ্গোলিয়ানসহ অনেক ভাষায় অনুদিত হয়ে বিশ্বের কবিতানুরাগীদের নজর কেড়েছে মাচিয়ার কবিতা। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ দ্যা সঙস অব দ্যা ফার্স্ট লাভ (১৯৮৫), দ্যা ড্রিম অব অ্যা য়ি ন্যাটিভ (১৯৯০), সিলেক্টেড পোয়েমস বাই চিতি মাচিয়া, দ্যা বারিড ওয়ার্ডস প্রভৃতি। লেখালেখির পাশপাশি বর্তমানে চায়নিজ রাইটারস এসোসিয়েশন সচিবালয়ের সম্পাদক, চায়নিজ পোয়েট্রি সোসাইটি ও অল চায়না ইয়ুথ ফেডারেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট-এর দায়িত্ব পালন করছেন কবি চিতি মাচিয়া।

চীনা ভাষার আরেক কবি-অনুবাদক ইয়াঙ জোঙজি-এর সুবাদে বাঙালি পাঠকদের জন্যে কবি চিতি মাচিয়ার ইংরেজি অনুবাদ থেকে কয়েকটি কবিতা বাংলায় ভাষান্তর করা হয়েছে। ইয়াঙ জোঙজি কবি চিতি মাচিয়ার ইংরেজি অনুবাদক। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com