অতিপ্রাকৃত থেকে মানব মনের গভীরে হুমায়ূন আহমেদ

শান্তা মারিয়া | ১৪ নভেম্বর ২০১৪ ৭:২৬ অপরাহ্ন

humayun.gifহুমায়ূন আহমেদ এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। দেশজুড়ে তার অসংখ্য পাঠক। তার উপন্যাস, আত্মজীবনী, নাটক, চলচ্চিত্র, গান প্রতিটিই জনপ্রিয়। লিখেছেন ‘নন্দিত নরকে’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘সাজঘর’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’সহ অনেক অবিস্মরণীয় উপন্যাস। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রধান স্তম্ভ ছিলেন তিনি। গত চার দশক ধরে তিনি ছিলেন বইমেলায় সর্বাধিক বিক্রীত লেখক।

বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের জীবন তার চেয়ে সার্থকভাবে আর কোনো লেখকের কলমে উঠে আসেনি। তার উপন্যাসের চরিত্র ‘হিমু’, ‘মিসির আলি’, ‘শুভ্র’ পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। হুমায়ূন আহমেদ সমকালে কতটা জনপ্রিয় তা শুধু হিমু চরিত্রের প্রতি তরুণদের ভালোবাসা দেখলেই বোঝা যায়। হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক খেয়ালি যুবক যে জীবনের সব ছকবাঁধা হিসেবনিকেশ পাল্টে দিতে পারে তার প্রতি তরুণদের আকর্ষণ অনিবার্য । ‘হিমু-প্রেমী’দের সংগঠনও রয়েছে। সারাদেশে রয়েছে তাদের সদস্য। এরা হিমু ও তার প্রেমিকা রূপার মতো হলুদ পাঞ্জাবি ও নীলশাড়ি পরে, সমাবেশ করে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে। কোনো লেখকের সৃষ্ট চরিত্র নিয়ে এমন আয়োজন তার সর্বব্যাপী জনপ্রিয়তার প্রমাণ নিঃসন্দেহে। হুমায়ূন আহমেদ যে জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা পেয়েছেন তার পাঠকদের কাছ থেকে সারা বিশ্বে তেমন নজির খুব বেশি নেই। (সম্পূর্ণ…)

হুমায়ূন আহমেদের লেখায় ‘চাবি-বিষয়’

নওশাদ জামিল | ১৩ নভেম্বর ২০১৪ ১:০৪ পূর্বাহ্ন

hamayun-young.jpgবাংলা সাহিত্যে বোধ হয় ‘হিজিবিজি’-এর রয়েছে একটা ঐতিহাসিক ঘটনা, রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন লেখার ভেতর আনন্দ পাচ্ছিলেন না, ভিন্নধারার কোনো সৃষ্টিসুখের জন্য পিয়াসী, তখন লেখার খাতায় হিজিবিজি নানা কিছু কাটাকুটি করতেন মনের খেয়ালে। একদিন হঠাৎ তাঁর ওই খাতা চোখে পড়ে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর। খাতা দেখেই বিস্মিত হন তিনি। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন খাতার দিকে। ওকাম্পো খেয়াল করেন যে, কবিগুরুর লেখার খাতায় কাটাকুটির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে ‘সব রকমের মুখ, প্রাগৈতিহাসিক দানব, সরীসৃপ অথবা নানা আবোলতাবোল’। তারপরের ইতিহাস জানেন সবাই। হুমায়ূন আহমেদের শেষজীবনের লেখা বেশ কয়েকটি বই পড়তে পড়তে মনে পড়ে গেল এ কথা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাটাকুটি আর হুমায়ূন আহমেদের রচনার সঙ্গে দৃশ্যত কোনো মিল নেই। তবে কেন এ কথা মনে পড়ল? বইয়ের নাম যখন ‘হিজিবিজি’, ‘বলপয়েন্ট’, ‘কাঠপেন্সিল’, ফাউন্টেইন পেন’ ও ‘রংপেন্সিল’ হয়, তখন চলে আসে আঁকিবুঁকির প্রসঙ্গ। আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ বয়সে রংতুলির কাছে সঁপে দিয়েছিলেন, চিত্রশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজেকে। হুমায়ূন আহমেদ ঠিক তেমন নন, যদিও আমরা তাঁর ছবি আঁকার কথা জানি। এ কারণেই প্রসঙ্গের অবতারনা। (সম্পূর্ণ…)

অপরূপকথা মেঘমল্লার

সলিমুল্লাহ খান | ১০ নভেম্বর ২০১৪ ৬:৪১ অপরাহ্ন

আমার পরম সৌভাগ্য, সর্বসাধারণ দেখিতে পাইবার আগে আমি ‘মেঘমল্লার’ দেখার সুযোগ পাইয়াছি। এ পর্যন্ত দুইবার দেখিয়াছি। আশা করি ভবিষ্যতেও দেখিব। প্রথমেই ছবির রূপের কথা বলিতে হয়। এই ছবির রূপ এককথায় অপরূপ। ছবি দেখিবার পর আমার সঙ্গে যাঁহারা আলাপ করিয়াছেন তাঁহাদের এক একজন বলিতেছেন–বাংলা ছবিতে বহুদিন এমন বৃষ্টি হয় না। আমার এক মহান বন্ধু তবুও এই ছবি দেখিয়া চোখ ভিজান নাই। তিনি বৃষ্টির ফোটার খুঁত ধরিয়াছেন। দেখিয়াছেন প্রতিদিনই বৃষ্টির ফোটা একই জায়গায়–একই জানালায়–একই ধারায় ঝরিয়াছে। তিনি বলিয়াছেন–মানুষ এমন নিখুঁত ভাষায় কথা বলে! এ কেমন মফস্বল যেখানে কিষাণের পদপাত নেই!

border=0আমার ধারণা–এই খুঁত আরো খুঁত অনেকেই ধরিবেন। আমি এই মাননীয় মহোদয়কে বলিয়াছি–এই ছবিকে ‘উপকথা’ মনে করিবেন তো ভুল করিবেন। তো জানি, অনেকেই বলিবেন ‘মেঘমল্লার’ বাংলাদেশের–১৯৭১ সালের অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের–উপকথা। এমন বলায় হয়ত কোন ভুল নাই। উপকথা বা পরাকথা (ফ্যাবল বা প্যারাবল) আকারে ছবিটি দেখা যাইতেই পারে। এই ছবি মুক্তিযুদ্ধের ছবি ইহাই বা কে অস্বীকার করিবে! (সম্পূর্ণ…)

খলিলের কার্টুন : জনমনের প্রতিচ্ছবি

শাকিল মাহমুদ | ৮ নভেম্বর ২০১৪ ১০:১৩ অপরাহ্ন

nazrul-1.gif২০০৮ সাল। সারাদেশে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সবাইকে দৌড়ের উপর রেখেছে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকার। ঠিক সে সময়ে খলিলের আঁকা একটি কার্টুনে দেখানো হয়েছে, সামনের সিটে চালকের আসনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ। পেছনে অন্য একজন গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাচ্ছেন। সেনা সমর্থিত সেই সরকারের সময়ে বিভিন্ন পত্রিকার মন্তব্য প্রতিবেদনে ও টেলিভিশনের টকশোর আলোচনায়ও উঠে আসে তার কার্টুন। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৭ নভেম্বর ২০১৪ ১:২৭ পূর্বাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

ঘুড্ডি: বাংলাদেশের প্রথাবিরোধী ও প্রতিবাদী চলচ্চিত্র

নাদির জুনাইদ | ৫ নভেম্বর ২০১৪ ১১:২৩ অপরাহ্ন

ghuddi-1.jpgঘুড্ডি চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সুবর্ণা মুস্তফা
মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে এবং মুক্তিযুদ্ধের পরের দশকেও বাংলাদেশে মূলধারার বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্রের বিভিন্ন উপাদান যেমন কাহিনীর গতানুগতিক ও অতি সহজ ধারাবাহিকতা, উদ্ভাবনী ও জটিল চলচ্চিত্র কৌশলের অনুপস্থিতি, অভিনয়ে অতিরিক্ত আবেগের ব্যবহার প্রভৃতি প্রত্যাখ্যান করে বিকল্প ধারার ছবি নির্মিত হয়েছিল কেবল হাতে গোণা কয়েকটি। গতানুগতিক ছবির কাঠামো কিছুটা অনুসরণ করেও রূপকের মাধ্যমে শক্তিশালী রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে জহির রায়হান যেমন তার ছবি জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০) সম্পূর্ণ ভিন্ন করে তুলেছিলেন সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রসমূহ থেকে, তেমন রূপকধর্মী কাহিনীর মধ্য দিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনা প্রদানের চেষ্টাও স্বাধীনতার পরের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে চোখে পড়েনি। প্রাধান্য পায়নি সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার বিভিন্ন জরুরি দিককে সরাসরি মোকাবেলা করার প্রয়াস। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল আলমগীর কবির নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ। সত্তরের দশকে আলমগীর কবিরের কয়েকটি ছবির (ধীরে বহে মেঘনা, সূর্যকন্যা, রূপালী সৈকতে) মাধ্যমে এদেশের শৈল্পিক এবং প্রথাবিরোধী ছবির অনুরাগী দর্শকরা নিজ দেশে তৈরি নান্দনিকভাবে উদ্ভাবনী এবং বক্তব্যধর্মী চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই ছবিসমূহে কখনো সরাসরি, কখনো অপ্রত্যক্ষভাবে পরিচালক প্রকাশ করেছেন তার রাজনৈতিক বক্তব্যও। (সম্পূর্ণ…)

চোখ ভেসে যায় জলে

মোস্তফা তোফায়েল | ৪ নভেম্বর ২০১৪ ১:৪৯ অপরাহ্ন

border=0পঞ্চাশের মন্বন্তর-তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ নিয়ে পথের পাঁচালি নয়, উত্তরবঙ্গীয় জীবনের গদ্য-কাব্য রচনা করেছেন জীবন শিল্পী মাজহারউল মান্নান তাঁর চোখ ভেসে যায় জলে গ্রন্থে। চোখের জলেই লেখা এ গ্রন্থের ভেজা পাতাগুলো। এক পেঙ্গুইন মা কীভাবে তার জীবন-রক্তে ভরে দেন কালির দোয়াত, কীভাবে সে দোয়াতের কালির আঁচড়ে আঁকা হয় জয়নুল আবেদীনের দুর্ভিক্ষের ছবির জায়াগায় মাজহারউল মান্নানের জীবনের দর্পণ, সেটাই এ গ্রন্থের প্রতিপাদ্য। (সম্পূর্ণ…)

হুয়ান বিয়োরোর গল্প: রাশিচক্র

বিনয় বর্মন | ২ নভেম্বর ২০১৪ ১:৪১ পূর্বাহ্ন

villoro.gifহুয়ান বিয়োরো (Juan Villoro) মেক্সিকোর প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক। তাঁর জন্ম মেক্সিকো সিটিতে ১৯৫৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। কথাসাহিত্যিক হিসেবে তিনি লাতিন আমেরিকায় বিশেষ সুনাম কুড়িয়েছেন। তাঁর El Testigo (সাক্ষী) উপন্যাসের জন্য ২০০৪ সালে লাভ করেছেন সম্মানজনক হেরালদে পুরস্কার। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি প্রচুর গল্প লিখেছেন। তাঁর Patrón de Espera (Holding Pattern) গল্পটি এখানে ‘রাশিচক্র’ নামে অনূদিত হয়েছে। Lisa M. Dillman-কৃত ইংরেজি ভার্শন থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com