গুচ্ছ কবিতা

নাসের হোসেন | ১১ নভেম্বর ২০১২ ৯:৪৪ অপরাহ্ন

হিরামন
হিরামন একটি তোতার নাম, তার বাস কোথায়
আমরা জানি না, কোন্ বাঁশবনের উপর দিয়ে
সে উড়ে আসে আমরা জানি না, তবু যখন
কাগজ তৈরির প্রকল্পের সুবাদে হাসনাবাদের
নন্দন পুকুরের পাশের বিশাল বাঁশগুলিকে কেটে
নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আর সেই কেটে ফেলার
শব্দ ধ্বনিত হচ্ছিল আকাশে বাতাসে এবং
নন্দন পুকুরের আশেপাশেই আরো নানা ছোটো
ছোটে জলাশয়ে, ঠিক সেই সময় নন্দন পুকুর
থেকে উঠে এলো হিরামনের ছায়া, ছায়া হলেও
হিরামনের মতনই বর্ণময়, সবুজে-হলুদে মেশানো। (সম্পূর্ণ…)

নদীর চোখে পানি ও অন্যান্য কোয়াটরেন

ইমতিয়াজ মাহমুদ | ১১ নভেম্বর ২০১২ ৯:২৯ অপরাহ্ন

দেনা
ও পায়রা নদী
লাখ টাকা পাই যদি
এক উথাল চৈত্রের দিন
আমি শোধ করে দেব তোর ঋণ!

দাবী
ঝরাপাতাগুলো কার
পাতা কুড়োনীর? না পথের?
পাতারা কী আজ বাতাসের? কার?
বৃক্ষটার কোন দাবী নেই আর! (সম্পূর্ণ…)

বহুব্রীহি ও ‘তুই রাজাকার’

শাকুর মজিদ | ৯ নভেম্বর ২০১২ ১:৪০ অপরাহ্ন

১৯৮৮-৮৯ সালের কথা। আমাদের তিতুমীর হলের কমনরুমে এক সন্ধ্যায় মহাগ্যাঞ্জাম শুরু হয়ে যায়। নাটক দেখার জন্য টিভিরুমে চেয়ার দখল করার কোনো নিয়ম নাই। কেউ একজন সামনের দিকে একটা খালি চেয়ার দেখে বসে গিয়েছিল, অপর এক লিডার গোছের ছাত্র এসে দাবি করে এটা তার চেয়ার। লিডার বলে, সে এখানে পেপার রেখে গেছে। পেপার পাওয়া যাচ্ছে না, প্রমাণও নাই, যে বসেছে সে চেয়ার ছাড়বে না। মহাগ্যাঞ্জাম। আশেপাশে কেনো খালি চেয়ারও নাই। বেশ কিছু ছেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। কারন, বিটিভিতে নতুন একটা ধারাবাহিকের প্রচার শুরু হয়েছে, নাম ‘বহুব্রীহি’। পনেরো দিন পরপর প্রতি মঙ্গলবার রাত ন’টায় প্রচার হয়। পুরা একঘন্টার ধারাবাহিক, নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদ। শুনলাম, ‘এইসব দিন রাত্রি’ থেকে এটা বেশ আলাদা। এটা খালি হাসির। দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্বের এক মঙ্গলবার তাড়াতাড়ি টিউশনী শেষ করে চলে আসি। কিন্তু হলে কমন রুমে কোনো অবস্থাতেই বসার মতো কোন জায়গা নাই।
anis-rupi-asaduzzaman-nur.gif (সম্পূর্ণ…)

গিরিশ কারনাডের নাইপল-সংহার

বিনয় বর্মন | ৭ নভেম্বর ২০১২ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত বিখ্যাত ভারতীয় লেখক, নাট্যকার ও অভিনেতা গিরিশ কারনাড সম্প্রতি মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে নোবেন লরিয়েট ভি. এস. নাইপলের ওপর বিরূপ মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। তাঁর আক্রমণের বিষয় নাইপলের ইসলাম-বিরোধী মনোভাব এবং ভারত-বিদ্বেষ। তিনি নাইপলকে দেওয়া লিটফেস্ট সম্মাননার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
naipaul-m.gif (সম্পূর্ণ…)

ভাষার মারপ্যাঁচ

বেলাল চৌধুরী | ৫ নভেম্বর ২০১২ ১০:০৪ অপরাহ্ন

সেদিন এমন অসহ্য গরম পড়ছিল যে তা আর বলার নয়। অথচ বিদ্যুত ঘাটতি বাঁচানোর কত না ফন্দি-ফিকিরের কথা রোজই না শোনা যাচ্ছে। আগেকার সরকারগুলোর বিদ্যুত সংক্রান্ত বাগাড়ম্বরের কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গিয়েছিল। নিত্য নতুন একই চর্বিতচর্বণ। ভেতরে ভেতরে শুধু চুরি চামারি নয় ডাকাতি। আর আমাদের মিডিয়াগুলোরও এই সংক্রান্ত চমকপ্রদ সব খবরাখবরে আমরা আমজনতা বার বার শিহরিত হয়ে উঠতাম। তবে বর্তমান সরকার আসার পর তাদের বাস্তবসম্মত কার্যকালাপে কিঞ্চিৎ আশান্বিত হওয়া গেলেও মাঝে মাঝে কিছু খটকা থেকেই যাচ্ছে। আর বিদ্যুত নিয়ে এতকাল যে লুটপাট ঘটেছিল তার ক্রমশ প্রকাশিতব্য এক এক খবর দেখছি আর রীতিমতো শুধু ভিরমিই খাচ্ছি না রীতিমতো দাঁত কপাটি লাগার দশা। এতকাল তাহলে যা দেখেছি যা শুনছি সবই সর্বৈব মিথ্যার ফুলঝুরি ছাড়া আর কিছুই না। এখন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর তাদের সদিচ্ছাজনিত কার্যকলাপে অনেক বাধা-বিপত্তি থাকলেও উন্নতি হবে। প্রতিদিন এরা নিয়ম করে সন্ধ্যা সাতটার পর যাতে বিদ্যুতের অপচয় না হতে পারে তার জন্য কিছু অবশ্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট সবই বন্ধ করে দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এতে কতটা বিদ্যুতের সাশ্রয় হচ্ছে সেটা জটিল অঙ্কের বিষয়। (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছ কবিতা

সাখাওয়াত টিপু | ৪ নভেম্বর ২০১২ ৯:৫৭ অপরাহ্ন

একমগ প্রেম

এই অঙ্গ খাটো
খানিকটা বাঁকা
যদ্দুর বাকানো যায়

তবু তুমি সোজা
মানে সহজের বোন
যদ্দুর সরল করা যায়।

হাতে হতে মাথা
মুখে মুখ মুখাগ্নির
ধারালো ঠোঁটের টান

সাড়ে তিন দেহ
ক্ষণে ক্ষণে অবরোহ
নাকি আরহের গায় গান।

উরু যেন অঙ্ক
বীজ হতে উঠা
যেন যুক্তিনাশক হরিণ (সম্পূর্ণ…)

জ্বলছে বাংলাদেশ

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১ নভেম্বর ২০১২ ১১:১৭ অপরাহ্ন

জননীর আচঁলে দাউ দাউ পাগলা আগুন, আগুন, আগুন…
অগ্নি খেলায় জ্বলছে শান্তি, পুড়ছে বাতাস, বাতাসের ভার্জিন।

হিংস্রতার লাভা লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটে যাচ্ছে সাপের ছোবল
মুহূর্তে দাবানল দ্রুত অতিক্রম করছে নিয়ন্ত্রনের মাত্রা, মুমূর্ষু।

গ্রাস করছে ধাবমান ক্যাঙ্গারুর ক্রন্দন, হরিণের হাহাকার
অশ্লীল অগ্নি হুলির নিচে জমছে অসহায় ভস্মীভূত ছাই,
দগ্ধ সিদ্ধার্থ, পুড়ছে মৌনব্রত গৌতম, জ্বলছে বাংলাদেশ…

অক্টোবর ১৩, ২০১২

Flag Counter

দুটি কবিতা

ফেরদৌস নাহার | ১ নভেম্বর ২০১২ ৯:৫৫ অপরাহ্ন

দাহকাল

যা কিছু লাঞ্ছনা,দূরাগত শব্দের ঐক্য বাহারে মনে করিয়ে দেয়
পরাজয় স্ত্রীলিঙ্গ হবে,জয় বিজয় হলে তা হতো পুরুষ প্রতীক
লেখা নেই তবু তাই হতো। অশ্বখুরের শব্দে ধুলায় লুটাত পৃথিবী
তুলে দিত ঋতুমতী রমণীর ফলন লব্ধ ফল, ছল ছল নদীজল
দু’হাত ভরে পেত রমণীয় বারিধারা, অব্যর্থ অঞ্জলি,এবং
বজ্রবোধের সমবেত সঙ্গীত গেয়ে উঠতো মন্দাক্রান্তা নগরী।

জঙ্গলের গাছ কেটে যে নৌকা তৈরি হলো দক্ষিণে যাবে বলে
তাতে করে বাপ আমার কত যে চেয়েছেন যেতে,হয়নি যাওয়া
ধু ধু হাওয়া, বাজান বাজান চিৎকারে গলায় তুলেছে জমানা
নিদ্রাহীন বৈরাগ্যকাল বুনে রাখে ধাবমান জগত,সমূহ সংহার
কতদিন কতরাত এভাবে শিকর উপড়ে শব্দসংকেতে কেঁদেছে
ছন্দের বাহাদুরি জানা ধ্রুপদ নৃত্যের কারিগর,এদিকে এসো
তোমাদের লয় থেকে আরেকটি ভিন্ন লয় নেচে উঠছে দেখো,
প্রাচীন ভাষা ভাসে,নাড়িতে টান লাগে,কাঁদে দাহকাল ব্রত। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com