arts.bdnews24.com » 2011 » July

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৮)

| ২৬ জুলাই ২০১১ ১১:০৭ অপরাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক কিস্তি ৪-এর লিংক কিস্তি ৫-এর লিংক কিস্তি ৬-এর লিংক কিস্তি ৭-এর লিংক

(কিস্তি ৭-এর পর । শেষ কিস্তি))
————-

ফরহাদ মজহার: একটা ছিল রেসিয়াল ইন্টারপ্রিটেশন অব নাইনটিন সেভেনটি ওয়ান। মানে, আমরা বাংলাদেশী জাতিরা, আমরা লড়াই করেছি পাঞ্জাবিদের বিরুদ্ধে। আমরা এ পর্যন্ত যত উপন্যাস লিখেছি, যত কিছু দেখেছি, আমরা যা শুনলাম একটু আগে—সবই ছিল যে, আমাদের—পাঞ্জাবিরা ধর্ষক, পাকিস্তানিরা ধর্ষক, তারা আমাদের অত্যাচার করেছে, এটা ঔপনিবেশিক এবং ফলে এটা ছিল—এই বয়ানটা একটা রেসিয়াল বয়ান, রেসিজম। এটা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বয়ান হয় নাই। মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে যখন আসবে তখন কিন্তু পিপল্‌সের জায়গা থেকে, যেটা সেলিম ইঙ্গিত দেবার চেষ্টা করছে, পিপল্‌সের জায়গা থেকে, শ্রমিকের লড়াইটা আগে ছিল। বাংলাদেশ শ্রমিক আন্দোলনগুলো ছিল, আদমজী জুট মিলে শ্রমিকদের বড় আন্দোলন ছিল, কৃষকদের আন্দোলন ছিল। ওই বয়ানের কোনো উপস্থিতিই নাই, আমাদের যে, রেসিয়াল মুক্তিযুদ্ধের যে কথন। মানে আমি আশ্চর্য, যেটা শুনে বিস্মিত হয়েছি, আমি নিজেও এখানে, বলবো যে, হকচকিয়ে যাইতেছি, কথা বলতে ভয় পাচ্ছি, যে, আমরা এখন পর্যন্ত সেভেনটি ওয়ান থেকে শুরু করে ২০১১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের নন-রেসিয়াল, একটা পিপল্‌স্‌ বয়ান আমরা তৈরি করতে পারিনি।


ভিডিও: মেহেরজান বিতর্ক, শেষ পর্ব

আমরা এখনও বারবারই একটা জাতীয়তাবাদী জীবন—জাতীয়তাবাদে কোনো অসুবিধা নাই আমার। যেটা আমি, আবারো আমি ফাহমিদুলকে কোট, মানে বলতেছি ওর লেখা সম্পর্কে, যে আমাদের একটা স্ট্র্যাটেজিক এসেনশিয়ালিজম বলে—যে জাতীয় বা জাতীয় মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন করা আর জাতীয়বাদকে সমর্থন করার মধ্যে একটা বড় ধরনের পার্থক্য আছে। জাতীয়বাদ একটা ডেফিনিটলি এইটা রেসিয়াল ইডিয়োলজি, এবং একইসঙ্গে এটা ফ্যাসিজমকে জন্ম দেয়। এটা তার চরিত্রগত লক্ষণ, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্টটা আমরা কখনো ডিসওন করব। যেটা আমি মনে করি যে, সেলিমের সঙ্গে বা অন্য সবার সঙ্গে আমি একশ বার একমত। এটা কোনো প্রশ্নই আসে না। সেভেন্টি ওয়ান ইজ এ পয়েন্ট অব ডিপারচার, কারণ সেভেন্টি ওয়ানে আমরা একইসঙ্গে কিন্তু–রেসিয়াল আইডেন্টিটির জায়গা থেকে কিন্তু উতরে যাচ্ছিলাম আমরা। কারণ আমরা এই প্রথম রেসিয়াল এবং কমিউনাল আইডেনটিটির মধ্যে ঢুকছি না, কারণ বাঙালি মুসলমানরা এই প্রথম তাদের কালচারাল আইডেনটিটিকে তারা খুঁজে পাচ্ছে, বাঙালির মধ্যে। কারণ বাঙালি মুসলমানরা এই পর্যন্ত, প্রথমত, ইংরেজি শিখে নাই একশ বছর ইংরেজ শাসনের সময়ে। এর পরবর্তীতে ইংরেজি যখন শিখতে গেছে তখন হয়ে গেছে কমিউনাল। তার পর তার মধ্যে কমিউনাল টেন্ডেন্সি ডেভেলপ করেছে।
(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২৪ জুলাই ২০১১ ৮:০৮ অপরাহ্ন
[এখানে আমার জীবনের কোনো কোনো অংশ নিয়ে খণ্ডিতভাবে এখনকার চলতি ভাষায় আপনাদের জন্য বলছি। জীবন এখানে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন পর্ব বা অধ্যায় নিয়ে কোনো সচেতন বাছাই ছাড়াই বলা হচ্ছে। আমার এই ‘খণ্ডিত জীবন’ আপনাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে আমি উপকৃত হবো।
–ফয়েজ আহ্‌মদ
]
fa_1a.jpg
(bdnews24.com অফিসে অতিথি ফয়েজ আহ্‌মদ, ছবি. ব্রাত্য রাইসু ২০১০)

আমাদের বাড়িতে পড়াশুনার একটা মিনিমাম পরিবেশ ছিলো। বাবায় লেখাপড়া জানতো বইলা গ্রামে একমাত্র আমাদের বাড়ি যেইখানে লেখাপড়ার একটা পরিবেশ ছিল। অনেক সময় মাস্টার রাখা হইত বাড়িতে। আমরা—চাচাতো ভাই, আমার ভাই একসাথে পড়তাম। গ্রামে ধর্মশিক্ষার ব্যাপার ছিলো। গ্রামের লোকজন নানারকম কথাবার্তা বলতো। সেইজন্য আমাদের বাড়ি ধর্মীয় ব্যাপারে সজাগ ছিলো। বাবা আমাদের ছেপাড়া পড়ার জন্য হুজুর ঠিক কইরা দিয়েছিলেন। আমাদের গ্রামের শব্দ হচ্ছে ছেপাড়া। ছেপাড়া মানে অধ্যায়। ত্রিশটা টুকরা, যেমন ত্রিশ ছেপাড়ায় কোরান শরীফ হয়।

প্রাইমারি স্কুল ছিলো না আমাদের গ্রামে। মাদ্রাসা দিয়াই পড়ালেখা শুরু হইতো। স্কুলে যাওয়ার জন্য মাদ্রাসা একটা ধাপ। আমাদের গ্রামে যে মাদ্রাসা, ছোট মাদ্রাসা, সেই মাদ্রাসায় যিনি প্রধান ছিলেন—তাঁর নাম গণি মাওলানা। গণি মাওলানা সাহেবের অসাধারণ কণ্ঠস্বর ছিলো। এবং অবিশ্বাস্য সুন্দর আজান দিতে পারতেন তিনি।

একদিন বাবার সাথে গণি মাওলানার কথাবার্তা ঠিক হইলো যে আমি পরদিন থেকে মাদ্রাসায় যাবো। বাংলা, ইংরেজি, অংকে হাতেখড়ির আগে মাদ্রাসা দিয়া আমার পড়া শুরু হইলো। আমাদের বাড়ির নিয়ম এইটা। প্রধান নিয়ম হচ্ছে—আমরা কোরান শরীফ শেষ করবো। তারপর জেনারেল স্কুলের জন্য পাঠ্যপুস্তকে চইলা যাবো।

ভোর সাতটায় মাওলানা সাহেব আসতেন মাদ্রাসায়, পড়াইতে। আমরা ভাইবোনরা মাদ্রাসায় যাইতাম সকালে। মেয়েরা আসতো মাথায় ঘোমটা-টোমটা দিয়া। আমরা এক ঘণ্টা পড়তাম আমাদের বাংলায়–বাংলা হইলো বৈঠকখানা। এই বৈঠকখানায়ই ছিলো মাদ্রাসা। ভাই বোন মিইলা পড়তাম। চাচাতো ভাই, খালাতো ভাই—যারা যারা গ্রামে ছিলো।

আমি কোরান শরীফ ত্রিশ ছেপাড়া শেষ করছি। একবার রিডিং দেওয়া। অর্থ বুঝতাম না কোনো। একটা অক্ষরও হয়তো আমরা অর্থ বুঝলাম না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইম্পর্ট্যান্ট দুই-একটা জায়গায় হয়তো তাঁরা ব্যাখ্যা দিতেন—এই জায়গাটায় এই আছে। মওলানা আমাদের নামাজও শিখাইছেন। বাড়িতে মাওলানাই নামাজ-টামাজ পড়াইতেন। কিন্তু বাবা আমাদের নামাজে নিয়ে যেতেন না। (সম্পূর্ণ…)

ডেকান অডিসি

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২২ জুলাই ২০১১ ৫:৩৩ অপরাহ্ন


তামিলনাড়ুর ভেলোরে ক্রিস্টিয়ান মেডিক্যাল কলেজের মূল ভবন

সেই ছেলেবেলায় ভূগোল বইয়ে পড়েছি, ভারতবর্ষের দক্ষিণ অংশ দাক্ষিণাত্য–ইংরেজিতে ‘দ্য ডেকান প্ল্যাটৌ’ নামে পরিচিত। ইতিহাসে দাক্ষিণাত্যের বীর টিপু সুলতান, শিবাজিরা বারবার আপন আপন মহিমায় বীরত্ব আর স্বাধীনতার মন্ত্র ও স্বপ্ন নিজ নিজ অনুসারীদের মধ্যে চারিয়ে দিয়েছেন। সেই দাক্ষিণাত্য–হালে যাকে আমরা তেলেঙ্গানা বলে জানছি, সেখানে ঘুরতে যাবার বাসনা তো সুপ্ত ছিলই, যেমন অপূর্ণ রয়েছে ভারতের ডেজার্ট সার্কিটে ভ্রমণের ঈপ্সা এখনো… । যে কাজের উপলক্ষ্যে যাওয়া হল, তার একটু ব্যাকগ্রাউন্ড সংক্ষেপে বাখান করি শুরুতে।

wdek_1.jpg………
শিশু হাসপাতালে বিছানায় রুবাই
………
আমাদের মেয়ে রুবাই যে একটি কানে কোন কারণে কম শোনে, সেটা বিশেষজ্ঞ ডা. আফজাল বুঝতে পেরেছিলেন যখন ওর বয়স পাঁচ বছর। রুবি এবং আমিও তার আগে জানতে পারিনি, কেন ওর কথাবার্তা একটু গার্বল্ড শুনতে–সকলে বোঝে না। প্রফেসর আফজল যথাসাধ্য চিকিৎসা করেন দীর্ঘদিন। নব্বই দশকের শুরুতে, যখন রুবাই আটে পড়ল, বিশেষজ্ঞ ডা. আলাউদ্দিন ওকে পরীক্ষা করে জানিয়ে দিলেন, হিয়ারিং এইড পরলে ও অন্য সবার মতোই শুনবে–দূরের, কাছের সব ধরনের শব্দ। আমি সুইৎস্যল্যান্ড থেকে এক জোড়া এইড আমদানির ব্যবস্থা করলাম। বিশ্বখ্যাত এইড নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এক জোড়ার নিচে বিক্রি করে না–অনেকটা জুতোর মতো ব্যাপার। রুবাই কানে এইড পরতে কনভিন্সড না হওয়ায় আমরা ওকে নিয়ে তখন যেমন আমাদের মতো সীমিত সাধ্যের মানুষ ভারতের কোলকাতা-চেন্নাই যেত, তেমনি একবার দেখিয়ে আসবার সিদ্ধান্ত নিই। অর্থাৎ, দাক্ষিণাত্যে আমাদের যেতে হল, তবে শখ করে, রিল্যাক্সড্‌ মোডে যেমন ভ্রমণে যায় মানুষ, তেমন নয়। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৫)

আবু সুফিয়ান | ১৮ জুলাই ২০১১ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪

(গত সংখ্যার পর)

46.jpg………
দূরে সিডনি হারবার ব্রিজ। দাঁড়িয়ে লেখক
……..
বনদাই বীচ থেকে আমরা রওয়ানা হলাম “মিলিয়ন ডলার” হাউস দেখতে। সরল বাংলায় বললে ওগুলো সিডনি শহরের টাকাঅলাদের বাসা। বাংলাদেশের হিসাবে এখানকার যে কোনো বাড়ির মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দুনিয়ার প্রায় সব মানুষই বড় শহরে আসতে চায়। ভালো জায়গায় থাকতে চায়। নিজের একটা দামি বাড়ি চায়। এই ক্ষেত্রে আমীর থেকে ফকিরের চাহিদার মধ্যে তেমন তফাত নেই।

35.jpg
সস্ত্রীক লেখক। পেছনে সাগরের উড়োযান-সী-প্লেন

ঢাকাতে মনতুর মিয়া নামে এক ভিক্ষুককে চিনি। তারও ইচ্ছা ঢাকাতে থাকা। এক খণ্ড জমি কেনা এবং বাড়ি করা। কিন্তু ঢাকাতে জমির দাম এখন এত বেড়ে গেছে, সারা জীবনের ভিক্ষা দিয়েও তার পক্ষে বাড়ি করা সম্ভব না। তাই বলে সে হতাশও না। ঢাকাতে তাকে থাকতেই হবে। মনতুর মিয়া এখন টাকা জমাচ্ছে বনানী গোরস্থানে একটা কবর কেনার জন্য। মরার পরে হলেও ঢাকার বড়লোকদের পাশে প্রতিবেশি হয়ে তাদের সাথে থাকার বড় শখ।

‘টাকাঅলা’ বা ‘বড়লোকদের’ প্রতি সবারই আকর্ষণ। মনতুর মিয়ার চিন্তা প্রশংসনীয়।

প্রসঙ্গক্রমে চাচি শ্যারনদের স্কুলের একটি ঘটনা বললেন। এক বাচ্চা মেয়ে তার কোনো একটি অ্যাসাইনমেন্ট নোটস-এ লিখেছে তার টার্গেট একজন ধনী অস্ট্রেলিয়ান মিলিয়নেয়ারকে বিয়ে করা। বিয়ে করলে এরকম বাড়িতে থাকা যাবে। (সম্পূর্ণ…)

পাশ্চাত্য সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথ

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান | ১৭ জুলাই ২০১১ ৭:৫৬ অপরাহ্ন

বিশ্ববিহারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৭৮ সালের অক্টোবরে প্রথমে ব্রিটেনে যান। সেবার সেখানে তিনি মাস চারেক ছিলেন। এরপর তিনি ১১—১২ বার ব্রিটেনে যান। আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, কানাডা এবং ইউরোপের ফ্রান্স, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া ও গ্রিসে কবি ভ্রমণ করেন। কোনো কোনো দেশে একাধিকবার।

main_1-london-e-rabindranath-1921.jpg
লন্ডনে রবীন্দ্রনাথ, ১৯২১

ইউরোপের সাহিত্য শুধু পাঠ নয়, কবি ভিক্তর উগো, শেলি, আর্নেস্ট মায়ার্ন, অদ্রে দ্য ভের, পিবি মার্সন, মুর, মিসেল ব্রাঙনিং, ক্রিস্টিনা রসেটি, সুইনবার্ন, হুড, টি এস এলিয়ট এবং জার্মান ভাষায় হাইনরেখ হাইনে ও গ্যেটের কিছু লেখার অনুবাদ করেন।

রবীন্দ্রনাথের রচনা পরবর্তীকালের একাধিক নোবেল বিজয়ী–ইয়েটস, রঁমা রল্যা, আঁদ্রে জিদ, জেনোভিয়া ইমেনেজ, আইভান বুনিন ওস্যঁ-জন পার্স অনুবাদ করেন।
১২৯৪ সালের বৈশাখে ‘সাহিত্য ও সভ্যতা’য় বলেন, ‘দূর হইতে ইংলন্ডের সাহিত্য ও সভ্যতা সম্বন্ধে কিছু বলা হয়তো আমার পক্ষে অনধিকার চর্চা। এ বিষয়ে অভ্রান্ত বিচার করা আমার উদ্দেশ্য নয় এবং সেরূপ যোগ্যতাও আমার নাই। আমাদের এই রৌদ্রতাপিত নিদ্রাতুর নিস্তব্ধ গৃহের এক প্রান্তে বসিয়া কেমন করিয়া ধারণা করিব সেই সুরাসুরের রণরঙ্গভূমি ইউরোপীয় সমাজের প্রচণ্ড আবেগ, উত্তেজনা, উদ্যম, সহস্রমুখী বাসনার উদ্দাম উচ্ছ্বাস, অবিশ্রাম মথ্যমান ক্ষুব্ধ জীবন-মহাসমুদ্রের আঘাত ও প্রতিঘাত–তরঙ্গ ও প্রতিতরঙ্গ–ধ্বনি ও প্রতিধ্বনি, উৎক্ষিপ্ত সহস্র হস্তে পৃথিবী বেষ্টন করিবার বিপুল আকাঙ্খা! দুই-একটা লক্ষণ মাত্র দেখিয়া, রাজ্যের আভ্যন্তরীণ অবস্থার মধ্যে লিপ্ত না থাকিয়া, বাহিরের লোকের মনে সহসা যে কথা উদয় হয় আমি সেই কথা লিখিয়া প্রকাশ করিলাম এবং এই সুযোগে সাহিত্য সম্বন্ধে আমার মত কথঞ্চিৎ স্পষ্ট করিয়া ব্যক্ত করিলাম।’
(সম্পূর্ণ…)

কিবরিয়ার অনুপস্থিতি ও তাঁর চিত্রভাষা

মোস্তফা জামান | ১৫ জুলাই ২০১১ ১২:৩৫ অপরাহ্ন

kiria_2004.jpg……..
মোহাম্মদ কিবরিয়া, ২০০৪
…….
গত ৭ জুন শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়ার অন্তর্ধানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিমূর্ত শিল্প আন্দোলনের প্রধান পুরুষের অনুপস্থিতি কলা অঙ্গনে কী প্রভাব ফেলবে তা আন্দাজ করতে না পারলেও এ কথা হলফ করে বলা যায়, ষাটের দশকের এই মগ্ন ও স্বল্পভাষী ব্যক্তিত্বের বিদায়ের মধ্য দিয়ে একটা যুগের সমাপ্তি ঘটল।

এই যুগের হাওয়া আমাদের শোকাহত হওয়া থেকে দূরে রাখবে হয়তো। কারণ নানান ডায়ভার্শনে লীন হয়ে আমরা শিল্পকলার ‘অরা’ বা আলোকবর্তিকা সম্পর্কে উদাসীন হয়ে উঠছি। মানুষের অনুপস্থিতিতেও আমরা আর তেমন ভাবিত হই না।

mk_1975.jpg……..
পেইন্টিং ইন ব্ল্যাক, তেল, ১২০X১২০ সেমি; ১৯৭৫
…….
বলতে গেলে কিবরিয়া ‘অরা’তে বিশ্বাসী শিল্পীদের অন্যতম প্রতিনিধিত্ব শীল ব্যক্তিত্ব। শিল্পের অটোনমিতে বিশ্বাসী হিসেবেও এই মৃদুভাষী (জীবন ও কর্ম উভয় অঙ্গনে) শিল্পী ব্যক্তিত্বকে চিহ্নিত করা যায়। বস্তুত, ষাটের দশকের তারুণ্যের বিলিফ সিস্টেমে এইটি ছিল অন্যতম বিশ্বাস। আধুনিকতার যে জোয়ার তিরিশের দশকের কবিদের একাকিত্ববাদিতার পিছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, তেমন ষাটের দশকের শিল্পাঙ্গনে ‘অটোনমি’ বা ‘স্বশাসন’ ছিল মূল ধারণা। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

জীবনানন্দ দাশের ‘সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)’

| ১৩ জুলাই ২০১১ ১০:৪২ অপরাহ্ন

সাতটি তারার তিমির

প্রথম প্রকাশ: ১৯৪৮

জীবনানন্দ দাশ

(১৮৯৯ ১৯৫৪)

cover.jpg

সাতটি তারার তিমির জীবনানন্দ দাশের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ, প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, বাংলা অগ্রহায়ণ ১৩৫৫ সনে। প্রকাশক আতাওয়ার রহমান, কলকাতার ‘গুপ্ত রহমান এন্ড গুপ্ত’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশ করেন সাতটি তারার তিমির। প্রচ্ছদ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। ৪০টি কবিতা নিয়ে ৬+৮০ পৃষ্ঠার ডিমাই সাইজের বইটির মূল্য রাখা হয়েছিল আড়াই টাকা। বইটি জীবনানন্দ দাশ উৎসর্গ করেন হুমায়ুন কবিরকে।

হুমায়ুন কবির ফরিদপুরের লোক, কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলে তিনি ভারতে থেকে যান, যদিও ফরিদপুর পাকিস্তানের অংশ হয়। পাকিস্তান থেকে যাওয়া জীবনানন্দ এসময় কলকাতায় চাকরি খুঁজছিলেন। আর হুমায়ুন কবির ছিলেন একাধারে কংগ্রেস সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদের অধীনে ভারতের যুগ্ম শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান।

‘সাতটি তারার তিমির’ প্রকাশিত হবার পরে জীবনানন্দ দাশ ‘স্বরাজ’ নামে এক দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক নিযুক্ত হন। ‘স্বরাজ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হুমায়ুন কবির।
(সম্পূর্ণ…)

বাজিকর আর চাঁদবেণে: একটি কাব্যের অছিলা

গৌতম চৌধুরী | ১২ জুলাই ২০১১ ৭:২১ অপরাহ্ন

gc01.jpg
গৌতম চৌধুরী। ছবি. সাম্পান চৌধুরী

মুখপাত

প্রথমে বন্দনা করি মাতা ভানুমতী
বাজিকর কুলে তেঞি দেবী সরস্বতী
হাড়ে হাড়ে যত ভেল্কি যত জাদুটোনা
সকলই তাঁহার লীলা – ছাই হৈতে সোনা
তাঁর আশীর্বাদ লয়ে বংশপরম্পর
চলিছে বাজির খেল গ্রাম গ্রামান্তর
এই ছিল শূন্য হস্ত এই আইল কড়ি
পাখির পালক হৈতে উইড়া গেল পরী
সে-পরী আকাশ থিকা ছুঁড়ে মুক্তামালা
বানর মালাটি গলে গাইয়া চলে পালা
যত গায় তত বাজে বেতাল ডমরু
দু’জোড়া লাঠিতে বান্ধা রশিখানি সরু
তাহার উপরে দেখ গুটিগুটি পায়ে
হাঁটি চলে বালিকাটি কলসী মাথায়
সকলই তাঁহার কৃপা আদি জাদুমাতা
তোমারে প্রণমি তবে খুলি শূন্য খাতা

আত্মপরিচয়

যে-গানের যেই রীতি
দিতে হবে পরিচিতি	কোন গোত্রগাঞী
কোন রাজ-অত্যাচারে
পলাইতে হৈল কারে	ছাড়ি সব ঠাঁই (সম্পূর্ণ...)

নিউ ইয়র্কে কয়েকদিন

মোহাম্মদ আসিফ | ১১ জুলাই ২০১১ ৮:৩৩ অপরাহ্ন

bangladeshi-people-area-jac.jpg
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অধ্যুষিত এলাকা

আমাদের হলুদ ট্যাক্সিক্যাব যখন হাডসন নদী পার হবার জন্য ব্রিজের উপর উঠল, সেদিন শনিবার হলেও ব্রিজে বেশ যানজট। অপর প্রান্তের শহরের চেয়েও শক্ত ইস্পাতের তৈরি, প্রায় শতবর্ষ পুরানো কুইনস্ বোরো ব্রিজটির কারুকার্য, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা মনোযোগ কাড়ছিল। তদুপরি নদীর অপর পারে সারি সারি বিভিন্ন আকারের, জড়াজড়ি করে থাকা শত শত ভবন দেখে বুঝতে বাকি রইল না যে ছোটবেলা থেকে ছবিতে, টিভি পর্দায় দেখা নিউ ইয়র্ক শহরে প্রবেশ করেছি।

শহর মঞ্জরী: নিউ ইয়র্ক প্রদেশের নিউ ইয়র্ক শহরটির গুরুত্ব বোঝাতে শহরটিকে কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থার সাথে তুলনা করা হয়। ঢাকার মতই প্রায় চার’শ বছরে গড়ে ওঠা এই বিখ্যাত শহরটি ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে এক পূর্ণাঙ্গ শহর। মার্কিনীদের শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল, নানান ঐতিহাসিক বৈচিত্রের দর্শনীয় স্থান, পর্যটকদের প্রধান ভ্রমণ স্থল। নিউ ইয়র্ক স্টক একচেঞ্জ ও জাতিসংঘের সদর দপ্তর এখানে থাকায় নিউ ইয়র্ক শুধু মার্কিনীদের কাছে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষেরও গন্তব্যস্থল। শহরে শতবর্ষের পুরানো ইমারত যেমন আছে, চল্লিশ, পঞ্চাশ তলা বা আরও সুউচ্চ নতুন ভবনও গড়ে উঠেছে।
(সম্পূর্ণ…)

ধারাবাহিক উপন্যাস

শতকিয়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ১০ জুলাই ২০১১ ৭:৫৭ অপরাহ্ন

shotokiya_sketch_tania.jpg
অলংকরণ: সাগুফতা শারমীন তানিয়া

প্রথম পর্ব

পৌষমাসের দুর্জয় শীতে যখন পাড়াগাঁয়ে মোষের শরীরে কাঁপই ধরিয়া যাইতো, আমরা তিনভাই মিলিয়া দোলাই গায়ে দিয়া হি হি করিতে করিতে আখি-গুড়ে পাক দেওয়া চিড়ার চাক কি ছোলার চাক খাইতাম, তখন পাগলা সাবু নিজের নগ্ন পৃষ্ঠে শিকলের বাড়ি দিতে দিতে আমাদের ঘরের সুমুখ দিয়া ভিখ মাঙিয়া হাঁটিয়া যাইতো। সাবু কোনকালে পাগল হইয়া আমাদের গ্রামে আসিয়া থান গাঁড়িয়াছিল, তাহা কেহ হলপ করিয়া বলিতে পারিত না। সাবুর গায়ের রঙ এককালে টকটকে ছিল শোনা যায়, অনাচারে তাহা ধূলিমলিন হইয়া গিয়াছে। পিঙ্গল পৃষ্ঠে কতকগুলি দড়ার ন্যায় পাকানো দীর্ঘ কালশিটা। চুলে জট। পিন্ধনে চট। গভীর মনোবৈকল্যে শাদা হইয়া আসা দৃষ্টি সত্ত্বেও বুঝা যাইতো–একদা সাবু পরম সুপুরুষ ছিল। আমরা ছেলেপুলেরা তাহাকে দেখিবামাত্র ভয়ে পলাইতাম। শুনিতে পাইতাম সাবুর আসল নাম সাহাবুদ্দীন। গোরাসাহেবদের অত্যাচারে পাগল হইয়া গিয়াছে। কেহ বলিতো সাহাবুদ্দীন শেখেদের পো, এক ব্রাহ্মণকন্যার প্রেমে পড়িয়াছিল, বিবাহ দূরে থাক, কন্যার পিতা তাহাকে জনসমক্ষে এমন বে-ইজ্জত করিয়াছিল যে সেই শোকে সে পাগল হইয়া ঘর ছাড়িয়াছে। মোটের উপর বুঝিতাম–সাবু জাতে মোসলমান। করুনাপরবশ হইয়া আমার মা তাহাকে ডাকিয়া ভাত খাওয়াইতেন। আউশ চালের রাঙা রাঙা ভাত। পুরাতন তেঁতুল আর চিটাগুড়। পাগল ছড়াইয়া ছিটাইয়া কলাপাতায় মোটা ভাত খাইয়া উঠিতো, উঠিয়া পগারের দিকে নিজের উচ্ছিষ্ট টান মারিয়া ফেলিয়া দিয়া আসিতো।

দুরন্তপনা করিলে কিংবা ঘুমাইতে দেরি করিলে আমার নানী তালপাখার ডাঁটা দিয়া দুইচারি ঘা বসাইয়া দিয়া কহিতেন–“সাবুর মাইয়ার লগে বিয়া দিমু তরে জুড়ান।” লোকমুখে শোনা যায়, সাবু নীলকুঠির গুপ্তধনের খোঁজ জানিত, কন্যার বিবাহে খরচ করিবে বলিয়া লুকাইয়া রাখিয়াছে। ঘোষেদের ঢোলগোবিন্দ বলিত–সে স্বচক্ষে দেখিয়াছে, সাবুর একটি কন্যা আছে এবং সে নিরতিশয় সুরূপা। কিন্তু সাবুকে শ্বশুর হিসাবে কে চাহিবে? অতএব পাগল শ্বশুরলাভের আশংকায় বাধ্য হইয়া ঘুমাইয়া পড়িতাম। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৪)

আবু সুফিয়ান | ৭ জুলাই ২০১১ ১:৩১ পূর্বাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩

251.jpg
বনদাই বীচে লেখক

(গত সংখ্যার পর)

ব্লু মাউনটেইনস দেখে মহা আনন্দে ‘মিন্টে’র বাসায় ফিরলাম।

চাচি বললেন, তন্ময় না যেয়ে মিস করেছে।

কাহিনী সত্য। কোনো কোনো জায়গা বা সঙ্গের সাথে মিশে শ্রেষ্ঠ বিরিয়ানী খেতেও অভক্তি হয়। বিস্বাদ লাগে। আবার কোনো কোনো স্থান বা কারো সাথে মিশে সাধারণ পান্তা ভাতও মনে হয় অসাধারণ। অমৃত। আমাদের ব্লু মাউনটেইনস সফরটা ছিলো সেরকম। পান্তা ভাত। কিন্তু অমৃত। কত কিছুই না দেখলাম।

তন্ময় জিজ্ঞাসা করলো, কোথায় কোথায় গেছেন আপনারা?

কাকু বললেন, ব্লু মাউনটেইনস, থ্রি সিস্টারস… সব ঘুরেছি।

স্কাইওয়ে দিয়ে আকাশে হেঁটেছো?

আমরা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছি–বলে কী!

উত্তর দিলাম না।

বিশ্বের সবচেয়ে steepest (খাড়া) রেইলে উঠেছেন? কাকু ও চাচির দিকে তাকিয়ে বললো, রেলে ওঠোনি?

না।

এনশিয়েন্ট রেইন ফরেস্টে ঢুকেছো?

না।

তোমরা তো তাহলে ব্লু মাউনটেইনস-এ কিছুই দেখোনি। খামোখা সময় নষ্ট করেছো। (সম্পূর্ণ…)

অরুণ সোমের সঙ্গে সাহিত্য-সংলাপ

জাহেদ সরওয়ার | ৬ জুলাই ২০১১ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

arun-shome.jpg
অরুণ সোম

[ষাটের দশকে সোভিয়েত রাশিয়া যে সৃজন বিষয়ক কর্মযজ্ঞে মেতেছিল তাতে সামিল হতে অনুবাদকের চাকরি নিয়ে গিয়েছিলেন অরুণ সোম। প্রায় একদশক নিরন্তর অনুবাদ করেছেন, রুশ থেকে বাংলায়। এসময় অরুণ সোম প্রায় ৪০টির ও বেশি বই অনুবাদ করেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার পর তিনি রুশী স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে চলে আসেন কলিকাতায়। কলিকাতায় বসে তিনি এখনও একের পর এক অনুবাদ করছেন। ২৪.৫.২০১১ তারিখে কলিকাতায় অরুণ সোমের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে আলাপ করি।
arun-sum-jahed-sarwar-w.jpg
……….
কলকাতায় অরুণ সোমের সাথে জাহেদ সরওয়ার
……….

উল্লেখ্য স্কুলে পড়ার সময় চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট এলাকায় অরুণ সোম অনূদিত গোগলের রচনাসপ্তক পড়ে প্রথম তাঁর সম্পর্কে আগ্রহী হই। পরে ‘নির্মাণ’ লিটলম্যাগের সম্পাদক রেজাউল করিম সুমনের কাছ থেকে অরুণদার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁর সঙ্গে কলিকাতায় প্রথম দেখা করি এবং ইন্টারভিউর সম্মতি আদায় করি। দ্বিতীয় দেখায় তাঁর ইন্টারভিউ করি।

গড়িয়াপার্কে সবুজদলের মাঠঘেষা ছায়াঘেরা দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকেন অরুণ সোম। ক্যামেরা কাম রেকর্ডারের দায়িত্বরত মোবাইল ফোনটিকে টেবিলে রাখতে দেখেই “ইন্টারভিউ!” বলে অরুণদার স্ত্রী ভেতরের দিকে ছুটে পালালে আমাদের সংলাপ শুরু হয়ে যায়–যে সংলাপে অরুণদা কথা বলবেন সোভিয়েত রাজনীতি, সাহিত্য, অনুবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আর সংলাপের ফাঁকে ফাঁকে অরুণদার স্ত্রী সরবরাহ করবেন হাতে বানানো সব্জি-দেওয়া রুশ বিস্কুট, আচার, লাল ও সবুজ চা আর অরুণ সোমের তৈরি অসাধারণ ওয়াইন।–জাহেদ সরওয়ার]
—————————–

জা স: কেন আপনি রুশ সাহিত্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। রুশ শিখেছিলেন কোথায়?

অ সো: আমার রুশ শেখা কলকাতাতেই। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, সে সময় রুশ শেখার বিষয়ে আগ্রহী হই। রুশ শেখার ব্যাপারটা খানিক রাজনৈতিকও। এ ছাড়াও আমাদের ছাত্রাবস্থায় রুশ সাহিত্য বাংলা অনুবাদে কিছু আমরা পড়েছিলাম। প্রথম যে রুশ সাহিত্যের সাথে পরিচয় হয়–মাক্সিম গোর্কীর মা ও আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসসমূহ। মা’টা কলকাতাতেই অনুবাদ হয়েছিলো সে সময়। অনুবাদ করেছিলেন পুস্পময়ী বসু। যদিও ইংরেজি থেকে করা। তবুও আমার মনে হয় এই পর্যন্ত মা’র যত অনুবাদ বেরিয়েছে তার মধ্যে এই অনুবাদটি শ্রেষ্ঠ। আর যে বইটা আমার খুব ভাল লেগেছিল–গোর্কীর আমার ছেলেবেলা। ওটা মনে হয় বিষ্ণু চট্টোপাধ্যায়ের অনুবাদ ছিল। যাই হোক গোর্কীকে বলা যায় আমার রুশ সাহিত্যের প্রবেশিকা।
(সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com