গল্প

রিন রিন…ক্রিং ক্রিং…হুম হুম…শুনশান শুনশান

আফসান চৌধুরী | ৩ december ২০১৭ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

রিন রিন
——
Shilpaguru Safiuddin ahmedসাত তলায় অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছি, উপরে ছাদ নেই, তাই অনেক সময় রোদে তেতে বেশ গরম হয়ে যায়। তাই একটু অস্বস্তি। আমার চলবে। জানালা দিয়ে বাড়ির উল্টো দিকের ছাদে থাকা পরিবারটিকে দেখা যায়। লোকটা বোধহয় বাড়িটার কেয়ারটেকার। একজন নারী কয়েকটা কাপড় টাঙিয়ে, তাবু বানিয়ে তার নিচে বসে রান্না করে। ছেলেটা খালি গায়ে ছাদের ওপর দৌঁড়ে দৌঁড়ে খেলে। বাড়িতে একটাই জানালা।

দরজা বন্ধ করতে গিয়ে আওয়াজ পাই…রিন রিন…। একটু হালকা, কিন্তু নিশ্চিত। মাঝে মাঝে দরজা বন্ধ করি, শুনতে পাই। বোঝার আগেই আওয়াজটা মিলিয়ে যায়।

ক্রিং ক্রিং
——-
একা থাকি, নিজে রান্না করি। পাশের বাড়িটা উঠছে, কেউ থাকে না…তেলাপিয়া মাছ ভাজতে গিয়ে হঠাৎ ফোনটা বাজছে শুনলাম। ইচ্ছা হলো না গিয়ে ধরতে, যদি মাছটা পোড়া যায়। কাজ সেড়ে গিয়ে দেখলাম, কোনো মিসকল নেই।

ফেসবুক করে আধাঘণ্টা পরে খেতে বসে আবার ক্রিং ক্রিং শুনলাম। হ্যালো, কোনো নম্বর উঠলো না, কোনো কণ্ঠস্বর নেই…কিছুই না। (সম্পূর্ণ…)

অদৃশ্য আয়নার ছায়া

আশরাফ জুয়েল | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২০ অপরাহ্ন

Murtaja Baseerসদ্যপ্রসূত আরেকটি শুক্রবার অতিক্রমের প্রাক্কালে ঠিক এর বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আমি। আমার চেহারা জড়িয়ে রেখেছে বিছানা লেপটে থাকা আলস্য। বর্তমান থেকে ঘুমের কুঁড়েমিকে মুছে ফেলতে ব্যস্ত আমি। আমার খুলির ভেতরে বাস করা প্রায় সাড়ে বারশ গ্রামের ঘিলু আলোড়িত হবার প্রবণতার দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করছে, অরক্ষিত ভাবনা-জগতে প্রবেশ করার জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তারা।
‘গুড মর্নিং স্যার।’
‘গুড মর্নিং, হাউ আর ইউ?’ কৃত্রিম হাসির মুখোশটা চেহারায় ঠিকমতো সেঁটেছে কিনা তা যাচাই করতে করতে বললাম আমি।
‘স্যার, খুব সুন্দর দেখাচ্ছে আপনাকে।’ পুতুলের চেয়েও নিখুঁত সেজেছে মায়মুনা।
‘তাই নাকি মাইমুনা, থাঙ্ক ইউ।’ মায়মুনাও ইতোমধ্যে মুখোশ পরা শিখে নিয়েছে।
আঁধার ভাঙা ভোরের মুখে লেগে আছে সৈকত ধোয়া সূর্যরশ্মি। কাঁচের স্বচ্ছ বাধা উপেক্ষা করে অবজ্ঞা ভরে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে সন্তর্পণে প্রবেশ করছে লবিতে। সেই আগুনভাষী সূর্যরশ্মি চোখের রেটিনাতে টোকা মারা মাত্র আমার দৃষ্টির সক্ষমতা সতর্ক কুকুরের মত আনাচকানাচে ঘুরে বেড়াতে থাকল।
‘নাজিব কোথায়? ইটস এইট থারটি…’ (সম্পূর্ণ…)

প্রজাপতির ভেজা পাখায় ক্ষুদ্র জলের ভারি আহবান

রুবাইয়াৎ সিমিন | ৯ নভেম্বর ২০১৭ ৮:২৭ অপরাহ্ন

butterflies
‘চিত্রকর্ম: সালভাদর দালির আঁকা The Landscape with Butterflies,1956
মনমোহর গিলাফের মধ্যে চারু প্রজাপতি ভাবনার দিনে কেউ সত্যিই ভাবে না প্রজাপতিটা চারুর জন্যই অপেক্ষা করেছিল একদীর্ঘ ঘন কুয়াশাময় রাতের শেষটা ধরে। ঘন কুয়াশার টুপ টুপ ঝরে পড়বার শব্দে সচকিত জনদের একজনের খেয়ালে আসে গিলাফ! ফুল তোলা গিলাফ। ঝালরশোভিত চমৎকার লালকাপড়, লেস, চুমকির কারুকার্যময় গিলাফ। প্রয়োজনীয়তা আর অপ্রয়োজনীয়তার দ্বন্দে তাদের কথা হয়, খাজা মইনুদ্দিন চিশতির নাম আসে, তাকে ধরেই চিনিয়ে দিতে হয় এটা গিলাফ। পুণ্যাত্মার চিরঘুমকে স্তব্ধতা, শীতলতা, মোহ, বাসনা, দ্বারা ঢেকে বুকে চাঁপা পাষাণের বেদনাসম টানটান বিছিয়ে থাকা গিলাফের কথা উঠতে কারো আর চিনতে অসুবিধা হয় না। এখানে স্তব্ধতা নেই, কন্ঠ আছে। বহু কন্ঠ নয়, জোড়কন্ঠের অনুচ্চরব যা পরস্পর লগ্ন হয়ে মেতে রয় রাত্রির নিস্তব্ধতাকে না মাড়িয়ে বরং নিস্তব্ধ রাত্রিকে সঙ্গ দিতে দিতে।
খাজা মইনুদ্দিন চিশতির পরিবর্তে নিজেদেরই গিলাফের মধ্যে আবিষ্কার করার আনন্দ উষ্ণতা হয়ে ঘন হয় শূন্য দূরত্বের মধ্যকার স্থানটাকেও না-থাকার করে দিতে। গিলাফের নিচে জীবন্ত মানুষ! অনুচ্চ কন্ঠে প্রশ্ন! খাজা মইনুদ্দিন তো মরে নাই, বরং জীবিত, গিলাফের প্রান্ত ধরে ঝুলে ড্যাবড্যাবিয়ে মানুষসঙ্গ উপভোগ করে যাচ্ছে।
নক্ষত্রদের বাবার বাড়ি, শশুরবাড়ি ঘুরে আবার এই মুলুকে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে কেটে যায় এক একটি ঋতুচক্র; বদলে যায়, যোগ হয় নতুন স্তরের মাটি! তারপর এমন শতরাত পেরিয়ে যায় তবুও মানুষের মনে শঙ্কা কাটে না এই মাটি কিভাবে দাঁড়িয়ে রয়। সূচিমুখ সমেত আর একটি ভূ-ভাগে গেঁথে দাঁড়িয়ে থাকার শঙ্কা জাগে, শঙ্কা জাগে ভাসমান হয়ে ভেসে থাকা না থাকার অবস্থায় ভেসে যাবার। ভেসে যাওয়াটা উজানে না ভাটিতে বুঝে উঠতে সময় নিতে হয়, সে সময় অতিক্রান্তির ব্যাপ্তি এতটাই বিস্তৃত হয় যে তা কল্পনার ছায়াকেও মায়ায় পরিণত করে আরো দূরে সরে যায়, যেখান থেকে আঁধার আলো অপেক্ষা অধিকতর নিকটবর্তী হয়ে ওঠে। (সম্পূর্ণ…)

আমি তাকে যে-কারণে খুন করেছিলাম

মোস্তাক শরীফ | ৬ নভেম্বর ২০১৭ ৪:২৯ অপরাহ্ন

mostakআমি যখন ধলপুরে ফিরে এলাম তখন সন্ধ্যা নেমেছে।
ট্রেনটা আমাকে নামিয়ে দেয়ার পর খানিক ইতস্তত করল, বোধহয় বুঝতে চাইল জনমানুষহীন এই ছোট স্টেশনে আসলেই আমি একা থেকে যাব, নাকি ফের আশ্রয় খুঁজে নেব তার উষ্ণ অভ্যন্তরে।
আমি ট্রেনটার দিকে তাকিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। একসময়, যেন আমার নীরব প্রত্যাখ্যান বুঝতে পেরেই ধীরে ধীরে নড়ে উঠল তার শরীর। লম্বা একটা হুইসেল বাজিয়ে রওনা দিল পরের স্টেশনের দিকে। এক এক করে ট্রেনের এগারোটা বগিকে চোখের আড়ালে চলে যেতে দেখলাম। রেল লাইনটাকে মনে হল মাছের শুকনো কাঁটার মত, আর তার ওপর দিয়ে প্রাগৈতিহাসিক কোনো সরীসৃপের মত চলে গেল ট্রেনটা। দৃশ্যটার মধ্যে চূড়ান্ত কী একটা ব্যাপার যেন আছে। এ যেন সিনেমার শেষ দৃশ্যটা দেখে ফেলা।
সকালবেলা বাড়ি থেকে বেরোনোর পর এই প্রথম খারাপ লাগার একটি বোধে আক্রান্ত হলাম আমি। খুব কি দরকার ছিল ধলপুরে ফিরে আসার?
কাঁধ থেকে ছোট ব্যাগটা নামিয়ে এদিক সেদিক তাকালাম। একসময় প্রতিদিন অন্তত একবার পাহাড়ি এই ছোট স্টেশনে আসতাম, স্টেশন মাস্টারের লাল দালানের পাশের ঝুপড়ি দোকানের বেঞ্চিতে পা ছড়িয়ে বসে চা খেতাম, গল্প গুজব করতাম। বলতে গেলে, ধলপুর আর তার ছোট্ট এই স্টেশনআমার আত্মার আত্মীয় ছিল। এ এলাকার প্রতিটি মানুষকে আমি চিনতাম, প্রতিটি ঘরে আমার পা পড়েছিল।
কেন আবার ফিরে এলাম? খুব কি দরকার ছিল এই প্রত্যাবর্তনের?
স্টেশনমাস্টারের লাল দালান এখনও আছে, তবে দেখে মনে হয় পোড়োবাড়ি। বৃটিশদের হাতে তৈরি তিন রুমের ছোট্ট ভবনটা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এটা স্পষ্ট, এখন আর এখানে কেউ থাকে না। ওটার হাত বিশেক দূরে টিনশেড হলুদ একটা দালান চোখে পড়ছে। দালানটার দেয়াল বেয়ে ছাদের ওপর উঠে গেছে শিম লতা, ওগুলো ছাপিয়ে একটা টিভি অ্যান্টেনা মাথা তুলে আছে। বাড়িতে কোনো আলো চোখে পড়ছে না। কেউ কি থাকে ওখানে? লাল দালানের পাশের চায়ের দোকানটাও আর নেই। একটা জায়গা আমূল বদলে যাওয়ার জন্য পাঁচ বছর আসলেই যথেষ্ট। আমি চোখ ফিরিয়ে স্টেশনের দিকে তাকালাম। (সম্পূর্ণ…)

শিরোনামহীন মানুষ

দিলরুবা আহমেদ | ৩১ অক্টোবর ২০১৭ ১২:৫০ অপরাহ্ন

farzanaদীপু গলির মোড়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরেই ভাবছে একবারের জন্য হলেও হয়তোবা লেবানন আসবে। যদিও এখনও পাত্তা নাই। লা-পাত্তা। তবে সে এখনও ভাবছে আসবে। আশা ছাড়ে নাই। দীপু পালোয়ানকে অগ্রাহ্য করার সাহস করবে না এই মহল্লার কেও-ই। পরিচিত বেশ কয়েকজনকেই বলেছে লেবাননকে পাঠাও এখানে। শেষমেষ চেচিয়ে চেচিয়ে যাকে পেয়েছে তাকেই বলেছে ‘লেবাননইন্যাকে আইসতে ক আমার সামনে’। তখনও, এখনও,তারপরও সামনে ফাকা। খোলা ময়দান। গোল দেওয়ার বলের দেখা নাই। আসে নাই এখনও। লেবাননইন্যা। গেলো কই। লেবানন এ ভাগছে নাকি! কোথায় সেই দেশ, নিজেও জানে না। তবে শুনেছে লেবাননে পয়দা হয়ছে বলে এ-কে ডাকে সবাই লেবানন। আসল নাম হারায় গেছে। মুখে মুখে ঘুরতে ফিরতে ফিরতে এখন ঐ নামই খাড়া একপায়ে, তালগাছ টাইপে দাড়ায়ে গেছে। জানে সে খুব ভাল করেই জানে পেছনে টিটকারী মারে তাকেও,তাকেও লোকে ডাকে ধোলাই খাল। বাপের পরিচয় নাই তাই এমন নাম। ধোলাই খাল। জিজ্ঞিরা মেড। কিছু মনে করে না সে। কি মনে করতে হয় তাই সে আসলে জানে না। তবে এটা জানে লেবানন খুব চায় মহল্লার লিডার হইতে। এত-ই সহজ ‘লেবানন বান জায় গি লিডার’। সে নিজে একটু এদিক ওদিক গেলেই উঠে আসে কুয়া থেকে। শালা কুয়ার ব্যাঙ। আজ আসুক শুধু। বাপের নামও ভুলাইয়া দেবে। ঐ-টারও বাপ নাই। নাই মানে মারা গেছে। সেও জানে না কোথায় তার বাপ। তারও নাই। ওর-ও নাই। তারপরও সবাই ভাবটা দেখায়, মাইরী সে জলে ভাইসা বেড়ানো কচু আর লেবানন সাহেব জলে ভাসা পদ্ম। সাগরিকার ভাই সে রকমই বলে। (সম্পূর্ণ…)

কাজী লাবণ্যর গল্প: আরশি

কাজী লাবণ্য | ২৭ অক্টোবর ২০১৭ ১০:৪২ অপরাহ্ন

Fakirসোফায় পা তুলে বসে আজকের পেপারটা হাতে নিয়ে আমেরিকার নির্বাচনে ট্রাম্প নাকি হিলারি কে এগিয়ে থাকবে শিরোনামে চোখ রাখতে না রাখতে দরজায় দাঁড়ানো ড্রাইভারের বগলের তলা দিয়ে, ওকে পাশ কাটিয়ে এক মহিলার সপ্রতিভ প্রবেশ। মহিলা না বলে মনে হয় মেয়ে বলাই ভাল। যেন এক অলরাউন্ডার-এর মাঠে প্রবেশ। এসেই বেশ ঝনঝনে কন্ঠে সালাম দেয় –
-আসসালামুয়ালাইকুম।
-ওয়াইলাকুমাসসালাম। ওর আপাদমস্তক যাচাই করতে করতে কিছুটা নির্বিকার কন্ঠে উত্তর দেয় মেমসাহেব
-আফা, ভালা আছেন?
-স্তিমিত জবাব হু… কিন্তু মেমসাহেবের স্তিমতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সে কলকল করে ওঠে-
-আফা, আপনের ডেরাইভার আমারে সব কইছে, তারপরও আফনে কন কি কি করন লাগত, আর মাসে আমারে কত কইরা দেবেন? কুন কুন টাইমে আইতে হইব? খোলাখুলি সব ফয়সালা কইরা ফেলা ভালা। পরে এইসব নিয়া খ্যাঁচাখেঁচি আমি পছন্দ করিনা। ফারাজের মা পেপার হাতে নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। এ তো দেখি চোখে মুখে কথা বলে! মনোযোগ দিয়ে দেখে- বেশ স্বাস্থ্যবতী, গায়ের রঙ উজ্জ্বল, মাথার উপর চুড়ো করে চুল বাঁধা। আলগা একটা ঢলো ঢলো চেকনাই আছে…আর বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আজকাল কাজের বুয়ারা যে ময়লা ম্যাক্সি পরে ল্যাতা ল্যাতা থাকে এ তেমন নয়। মনে হচ্ছে গৃহস্ত বাড়ির বউ এখুনি একটা পান মুখে দিয়ে চুন লাগানো আঙ্গুল সামলে বড় বটি ফেলে চকচকে তাজা সরপুটি মাছ কুটতে বসে যাবে…
-আমার তো একজন চব্বিশ ঘন্টার কাজের মানুষ দরকার… ফারাজের মায়ের কথা শেষ নাহতেই সে তুফান ছোটায়… (সম্পূর্ণ…)

‘মইরা গ্যালে ওজন থাহে না’

আফসান চৌধুরী | ৪ অক্টোবর ২০১৭ ১২:৪২ অপরাহ্ন

Shilpaguru Safiuddin ahmedমইরা যাওনের পর উপরে উইঠা হারান পোর্থমে জিগাইল, হের পাশে বহা বুড়াডারে। ‘এহানে রুটি-রুজির কী ব্যবস্থা?’
এমনে এমনে যে কেউ কাউরে খাওন দেয় না হেইডা সে বুজে। বুড়াডা একটা সিগরেট খাইতেছিল, হেইডা ফালাই দিয়া কইল, ‘ওইহানে কী কাম করতিস?’
‘তেমন কিছু না, এইডা-সেইডা করতাম।’
‘তাইলে ওইডাই হইব। মরছিস তো কী হইছে, জ্যাতা-মরায় তফাত নাই। হালায় আছিলি ফালতু, এহানেও ফালতু থাকবি।’ বুড়াডা ফালাই দেওয়া সিগরেটটা খোঁজে ময়লার ভেতরে। টোকাই টোকাই কয়েক টুকরা পায়, হ্যাতে আগুন দেয়, ধোঁয়া খায় বইয়া বইয়া।

দিন দুই পর হারান যেহানে উঠছে, হেই ক্যাম্পে লোক আইয়া হের লগে আলাপ করে। ‘কী কাম পার? পানির মিস্ত্রির কাম পার? মিস্ত্রিগো অনেক দাম, নিচে কী করতা? মাগির দালাল আছিলা?’ লোকটা হাইসা হাইসা কথা হয়।
‘না, কলের কাম পারি না, আর ওই হগল আকাম-কুমামও করি নাই কোনো দিন। তয় একবার লাশ টানছিলাম। খানকিটা মইরা গেছিল, কেউ মাটি দিতে চায় নাই। আমি কান্ধে লইছিলাম, হের পর গর্ত কইরা পুইতা দিছি টানার মাটিতে।’ (সম্পূর্ণ…)

ইকতিজা আহসানের গল্প: চন্দ্রকথা

ইকতিজা আহসান | ২ অক্টোবর ২০১৭ ৫:২৮ অপরাহ্ন

Mohammed Kibriaমহাকালের কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে এই অপার পৃথিবীতে হয়ত কোনো চন্দ্রলগ্ন ছিল, আর তখন হয়ত তার নাম শোভন উচ্চারণ করেছিল। তার ধারণা ছিল না, চন্দ্রলগ্নে সেইসব নাম উচ্চারিত হয়, যারা জীবনে একটা লগ্ন তৈরি করে…এবং কুণ্ডলি পাকায়ে থাকে জীবনের পরতে পরতে। এই কুণ্ডলি একটা বৃত্তের মতো… চক্রের পর চক্র গড়ে দিগভ্রান্ত করে। চন্দ্রের সাথে চক্রের এই যোগ আজন্ম। চন্দ্রের আলোর নাম জ্যোৎস্না হলেও আদতে সে যে এক বিভ্রম এটা শোভন ভালভাবেই জানে। জানলেও চন্দ্রের আকর্ষণ সে এড়াতে চায়নি কোনোকালে। সে কোন ছার! খোদ সমুদ্র যেখানে জেগে ওঠে চন্দ্রের ডাকে! সেখানে সে কেন এড়াতে যাবে চন্দ্রের আকর্ষণ। দেখা যাক না কী ঘটে…. চন্দ্র কোথায় কতদূর ভাসাতে পারে! চিরকাল এই হচ্ছে শোভনের মনোভঙি।

তো এবারও শোভন নিজেকে ছেড়ে দিল। শোভন চেয়েছিল একটা কংক্রিট কোনোকিছুর দিকে যেতে। যদিও কংক্রিট নামের যে কাঠামোর নরোম আয়েশে সাধারণ গড়পরতা মানুষ নিজেকে বন্দি করে রাখতে পছন্দ করে; শোভন সে রকম ছেলে মোটেই নয়। সে জানে তথাকথিত অকংক্রিট বলে মনুষ্য সমাজে যা প্রচলিত তাও আসলে একটা কাঠামোর নামান্তর। তাদের গড়নে, আকারে পার্থক্য হয়ত আছে, কিন্তু দুটোতেই জীবন ঠিকঠাক চলে। জীবন তো একটা মুর্তি…তাকে পছন্দের ছাচে গড়ে নিতে হয়। আর পছন্দ তৈরি হতে লাগে দর্শন।মিডিয়ার তৈরি করা দর্শনে শোভন চলে না। নিজেকে সে গড়েছে প্রতিমুহূর্তে। ভেঙেছে প্রতিমুহূর্তে। সে জানে গড়তে হলে প্রথমে ভাঙতে হয়। (সম্পূর্ণ…)

ধূসর বর্ষণমুখর বিকেলে স্বপ্নার প্রত্যাবর্তন

আনিসুজ্জামান | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

anisur.jpgখোকন একটি ম্যাচবাক্স বানিয়েছিল, দুফুট বাই তিনফুট, উইয়ে খাওয়া কাঠের জানালার মরচে পরা শিকগুলোর পিছনে বসে শ্রাবনের এক ধুসর বর্ষণমুখর বিকেলে। যেটিকে হাতে নিয়ে স্কুল ও ৯ বছর বয়সী ছেলেকে যৌনশিক্ষা দেবার অনুমতি দেবার ফর্ম সামনে নিয়ে বহু বছর পর সূদুর ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা-ভিস্তায় আরেক বর্ষণমুখর দিনে চুপটি করে বসে থাকবে। প্রজাপতি মার্কা বাক্সটিতে কাঠির সংখ্যা ছয়, ছয়টি ছয় সাইজের। সবচেয়ে লম্বাটার মাথাটা ওটার থেকে অপেক্ষাকৃত খাটোটির চাইতে একটু ছোট। তার পরের চারটি লম্বায় বড়গুলোর চাইতে অনেক খাটো কিন্তু ওগুলোর মাথাগুলো একই আকারের হলেও সবগুলোই লম্বায় আলাদা। ওগুলোকে বলাকা ব্লেডের অর্ধেকটা দিয়ে কেটে বানাচ্ছিল আর দেখছিল মাঝে মাঝে মেঘ ফুঁড়ে আসা সামনের বিস্তীর্ণ মাঠের ওপারে সাততলার উপরে পরা এক ঝলক প্রায় সন্ধ্যের রোদের খেলা যেটি দেখে কাজের মেয়ে রুমা বলেছিল “এউগা বেটা বইয়্যা রইছে হচ্চিমদি” আর ওরা মাসহ তিন ভাইবোন মিলে খুব হেসেছিল তাই নিয়ে কারণ ছোটটির তখনও বোঝার বয়স হয় নি। খুব সম্ভবত ঢাকায় তখন ওটি ছিল সবচেয়ে লম্বা দালানগুলোর মধ্যে একটি আর এর জন্য খোকনের মনের ভিতরে ছিল একধরনের গর্ব। মাঠটির ডানদিকে ছিল একটি লম্বা খালের মত খাঁদ যেটাতে সকালে ময়লা ফেলত আর পানি জমলে কোত্থেকে যেন রাজ্যের ব্যাঙ এসে একটার উপর আরেকটা চড়ে গান জুড়ে দিত, সন্তানকে পিঠে করে বয়ে সাঁতরে বেড়াতে মা ব্যাঙের কোনো কষ্টই হতো না। খাঁদটার অন্যপাশে ছিল সরকারী পশু খামার । ম্যাচ বাক্সটি বানিয়ে একটি কাপড়ে মুড়িয়ে ওর জীবনের সবচেয়ে গোপন জায়গায় রেখে দিয়ে উঠে পরে চিংড়ির গন্ধওয়ালা চালের উপর থেকে পেরে নেওয়া পুঁইশাক ও পাতলা ডাল দিয়ে রেশনের চালের ভাত খেয়ে শুয়ে পরবে বলে। মা ভাত বেড়ে ডাকছে আর দেরি করলে এই কষ্ট করে জোগার করা শেষ হবে কেরোসিন পুড়ে। বাবার তখন বিকেলের শিফট, আসবে সাইকেল চালিয়ে। রাত এগারোটার দিকে যখন ও টের না পেলেও আরও পরে পাশের ঘড়ের অদ্ভুত কিছু শব্দে বুঝবে মা বাবা আবারও ঝগড়া করছে কি নিয়ে যেন। কিন্তু ও কিছু মনে করবে না কারণ পরদিন সকালে দেখতে পাবে মায়ের মুখটা আগের দিনের থেকেও হাস্যোজ্জ্বল। (সম্পূর্ণ…)

মিরাকেল চুরি

কিযী তাহনিন | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

Monirul Islamবাহ্, একেই কি বলে মিরাকেল? বাংলায় যাকে বলে অলৌকিক কোনো ঘটনা। তবে, এক্ষেত্রে আমার ইংরেজি শব্দটি বেশি ভালো লাগে। মিরাকেল, কেমন ছন্দ আছে, জাদুময়। মনে হয়, হলো বুঝি তেমন কিছু, যেমন আগে হয়নি, তেমন কিছু, যেমন ভাবি অনেক ভাবার মাঝে। এ জীবনে, তেমন মিরাকেল কিছু হয়নি। বা ঘটেছে। হয়তো ভুলে গেছি। আমরা দুঃখ পুষতে ভালোবাসি। কিন্তু আনন্দময় কিছু ঘটে যাবার পরে, অতি দ্রুত তার সুঘ্রাণটুকু হারিয়ে ফেলি। রয়ে যায় পুরোনো ঘটনার শুকনো রসহীন কুঁচকে যাওয়া চামড়া। আর তাকে ছুঁড়ে ফেলে আবার আবার নতুন কিছু খুঁজি। ভুলে যাই পুরোনো সুঘ্রাণ কেমন ছিল। খুঁজি নতুন মিরাকেল, অলৌকিক কিছু। পুরোনোটুকু ভুলে যাওয়াতেই তখন সুখ, নতুন খোঁজায় তখন সব ভালোলাগার ঘর-বাড়ি। তাই ঠিক মনে পড়ছেনা এ মুহূর্তে, মিরাকুলাস কিছু ঘটেছিলো কিনা।

যে মুহূর্তে কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে, ঘুম ঘুম চোখে সকালের প্রথম দরজা খুলছিলাম, ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে। বুঝিনি দরজার সামনে বসে সে আমার অপেক্ষা করবে। দরজা খুলে প্রতিদিনের মতন, সদ্য ঘুমভাঙা এলোমেলো আমি, মেঝে থেকে আজকের পত্রিকাটি তুলে নিলাম। পত্রিকায় বিল গুঁজে গেছে করিম হকার। বিলটি হাতে নিয়ে দেখবো যখন, তখন দু তিন পলক এদিক সেদিন হতে হতেই দেখি তিনি বসে আছে। আসনপিঁড়ি হয়ে। ঘুম পালালো, কেঁপে উঠলাম আমি, যেন বেঁচেও উঠলাম। এক প্রতিদিনের একইরকম সকাল মুহূর্তে লন্ডভন্ড, আনন্দের কাঁচভাঙ্গা ঝনঝন – মিরাকেল একদম। সামনে বসা, চোখ বন্ধ, আসনপিঁড়ি, বাম হাত তাঁর গায়ে জড়ানো টেরাকোটা রঙের চাদরে লুকোনো, অন্য হাত ডান হাঁটুর উপরে, শান্ত তিনি, তাড়াহীন, আমার সামনে তিনি। পত্রিকাটি মাটিতে নামিয়ে রেখে, খুব আলতো করে দুহাতে দুলে নিলাম তাকে। (সম্পূর্ণ…)

অতঃপর, তিনি এলেন ছুটির নিমন্ত্রণে

অলভী সরকার | ৩১ জুলাই ২০১৭ ১২:৩১ অপরাহ্ন

Shilpaguru Safiuddin ahmedবেশ ভোরে আমার ঘুম ভেঙে গেল।

ঘর থেকে বেরিয়ে, লম্বা করিডোর ধরে এগোই, একেবারে শেষ মাথায় গ্রিল দেয়া বারান্দা। এখান থেকে তাকালে হলের মূল দরজা দেখা যায়। গার্ড মামা গেইট খোলেন নি এখনো। অত তাড়াও নেই, দরজা খোলার। গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনেকেই বাড়ি গিয়েছে। আমরা অল্প কজন থেকে গিয়েছি হলে। ছুটি শেষ হলেই মাস্টার্স পরীক্ষা।

সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। কেমন শীতের মতো ঠাণ্ডা। গাছের নরম পাতাগুলো ঝকঝক করছে। কামিনী, মধুমঞ্জরী, হাসনাহেনা- চারপাশে বিচিত্র সুঘ্রাণ। দক্ষিণদিকের এই বারান্দায় দাঁড়িয়ে বামে তাকালে পাশাপাশি দুটি নিমগাছ। পাঁচ বছর আগে, যখন হলে প্রথম সিট পাই, তখনও বর্ষাকাল। হল-সুপারকে বলে দুটো দেশি নিমের চারা বুনেছিলাম। ওঁরা অবশ্য বেশ খুশিই হয়েছিলেন। বসতির পুব দিকে নিম গাছ থাকা খুব ভাল এমন কথাও জানলাম সেদিন।
বিশ্বাস-অবিশ্বাস বা অভিজ্ঞতানির্ভর জ্ঞান- এত কিছু ভেবে অবশ্য কিছু করিনি আমি। নেহাত, ইচ্ছে হয়েছিল তাই। এখন গাছ দুটো তিনতলার চেয়েও উঁচু। আমার হাতে লাগানো গাছ, আমার চেয়ে বড় হয়ে গেল!
এমন হয় অবশ্য।
গাছেরও হয়; এমনকী মানুষেরও…

এইসব কল্পনাবিলাসের সময় এখন নেই। (সম্পূর্ণ…)

ফারুক মঈনউদ্দিনের গল্প: শারীরবৃত্তীয়

ফারুক মঈনউদ্দীন | ২৪ জুলাই ২০১৭ ৭:২২ পূর্বাহ্ন

Shakil-story
গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের মতো লম্বা টানা ভাড়া ঘরগুলোর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালো ময়লা জলের নালাটা লাফ দিয়ে পার হওয়ার মুহূর্তে চারপাশের ছাড়া ছাড়া টিম টিম করে জ্বলতে থাকা হলদেটে আলোর বাতিগুলো নিভে যায়। আলকাতরার মতো কালো কাদায় পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নেয় রাজিয়া। কিছুক্ষণ আগে মাগরেবের আজান পড়ে গেছে, এ সময়টাতে চারপাশের সবকিছু কেমন যেন অদ্ভুত নিস্তব্ধ হয়ে যায়। কেবল আশপাশের ঝোপঝাড় থেকে পতঙ্গের ডাক করাতের মতো শব্দ করে আধো অন্ধকারের ভেতর গেঁথে যেতে থাকে। দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর পচা পানির নালা এবং ময়লার ডাঁই থেকে নিশাচর দুর্গন্ধ চোরের মতো চুপি চুপি বাতাসের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে ময়লা ভেজা কাপড়ের মতো ভারি হয়ে ঝুলে থাকে যেন। বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে উগড়ে দেওয়া মেয়েদের ক্লান্ত অবসন্ন মিছিল থেকে কিছু কিছু অংশ খসে পড়তে পড়তে এ দিকটায় পৌছে মিছিলটা মরা নদীর মতো মিলিয়ে যায়। রাজিয়াদের সঙ্গে একই বস্তিতে থাকা কয়েকটা মেয়ে স্যান্ডেল ঘষটাতে ঘষটাতে ওকে ছাড়িয়ে চলে গেলে চলার গতি বাড়িয়ে দেয় ও। একটা কুনো ব্যাঙ এ সময় ওর পায়ের পাতায় পেচ্ছাব করে দিয়ে লাফিয়ে সরে যায়। এসব উপেক্ষা করে দ্রুত ঘরে ফেরার তাগিদ অনুভব করলেও পা দুটো আর চলতে চায় না যেন। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com