গল্প

কখনো নেভে না

মাজহারুল ইসলাম | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৬:১৭ অপরাহ্ন

মাছের মুড়োটা কাটতে গিয়ে তর্জনীটা কেটে ফেললেন জাহানারা বেগম। অনেকটা কেটেছে, রক্তারক্তি অবস্থা। মাছের রক্ত আর জাহানারা বেগমের রক্ত মিলেমিশে একাকার। আঙুল যতটা কেটেছে তার চেয়ে বেশি তাঁর চিৎকার চেঁচামেচিতে বাসায় হুলস্থুল পড়ে গেছে। কাজের মেয়ে রহিমা নিজের ওড়না পেঁচিয়ে শক্ত করে ধরে আছে যেন রক্ত পড়া বন্ধ হয়। আকবরের মা এদিক-ওদিক দৌড়াচ্ছে, ডেটল-তুলা কিছুই খুঁজে পাচ্ছে না। বিড়বিড় করে কী যেন বলছে। এদিকে জাহানারা বেগম চিৎকার করছেন, আগে তোর খালুজানকে খবর দে। ফোন কর। হাসপাতালে না গেলে রক্ত বন্ধ হবে না। রহিমা উঠে গিয়ে ফোনের ডায়াল ঘোরাচ্ছে। এপাশে রিং হচ্ছে, কিন্তু কেউ ধরছে না। এরমধ্যে আকবরের মা এসে বলল, খালাম্মা, ডেটল খুঁইজা পাইলাম না। সেভলন পাইছি।
জাহানারা বেগম কপাল কুঁচকে বললেন, জিনিস তো একই। সব মূর্খের দল কোথাকার!
আকবরের মা কাটা আঙুলে সেভলন লাগিয়ে দিল।
জাহানারা খুব অল্পতেই হইচই করে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেন। নাইনটি নাইন জ্বর হলে মাথায় পানি ঢালা, জলপট্টি দেওয়া, বাড়িতে ডাক্তার ডেকে এনে হুলস্থুল কাণ্ড বাধিয়ে ফেলা তার জন্য নতুন কোনো বিষয় না। একবার এক শ’ দুই জ্বর হলো তাঁর। প্যারাসিটামল টেবলেট দুইটা একসঙ্গে খাওয়ানো হলো। রহিমা মাথায় পানি দিচ্ছে। আকবরের মা রশুন দিয়ে সরিষার তেল গরম করে পায়ের তলায় মালিশ করছে। খলিকুজ্জামান খাটের একপাশে চুপচাপ বসে আছেন। আধা ঘণ্টা মাথায় পানি দেওয়ার পর থার্মোমিটার লাগিয়ে দেখা গেল জ্বর কমা তো দূরের কথা বেড়ে এক শ’ তিন হয়ে গেছে। জাহানারার ধারণা তার জ্বর আর কমবে না এবং তিনি মারা যাচ্ছেন। খলিকুজ্জামানের হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমাকে তুমি মাফ করে দাও। আমি মনে হয় আর বাঁচব না। তুমি মসজিদের ইমাম সাহেবকে ডেকে আনো। আমি তওবা পড়ব। অনেক পাপ করেছি। মৃত্যুর আগে তওবা পড়তে চাই। এরপর বাচ্চাদের মতো হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন।
জাহানারা বেগমের কান্না দেখে আকবরের মা ও রহিমাও কান্না শুরু করল। আকবরের মা প্রায় দশ বছর ধরে এ সংসারে আছে। রহিমা সাত বছর। খলিকুজ্জামান পড়ে গেলেন মহা বিপদে। কোনোভাবেই জাহানারাকে বোঝাতে পারছেন না এক শ’ তিন জ্বর এমন কিছু না। ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। জ্বর কমতে একটু সময় লাগবে। রহিমা কাঁদতে কাঁদতে বলছে, খালুজান, খালাম্মারে হাসপাতালে নিয়া যান। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। খলিকুজ্জামানের সঙ্গে রহিমাও গিয়েছিল হাসপাতালে। খলিকুজ্জামান ডাক্তারকে বলেছিলেন, হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। ভীতু মানুষ। বাসায় ম্যানেজ করা কঠিন। ডাক্তার থার্মোমিটার লাগিয়ে দেখেছিলেন জ্বর একশ’তে নেমে এসেছে। সামান্য জ্বরে এত রাতে বাড়ি থেকে ডেকে আনায় ডাক্তার খানিকটা বিরক্ত। তার উপর হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলায় ডাক্তার খুব অবাক হয়েছিলেন। বলছিলেন, খলিকুজ্জামান সাহেব, ঘাবড়াবেন না, ভাবিকে বাসায় নিয়ে যান। একশ ডিগ্রি জ্বরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছু নাই। রহিমা এসব দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। খালুজানকে ফোন করতে করতে পুরোনো কথা মনে পড়ছিল তার।
রহিমা বলল, খালুজান তো ফোন ধরতাছে না। মনে হয় কোনো মিটিং ফিটিংয়ে আছে। (সম্পূর্ণ…)

তুমি ডক্টর, আমি ডাক্তার

শাহাব আহমেদ | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:৩৪ অপরাহ্ন

১.
কলেজে অধ্যাপনার কাজটাই হল সমুদ্র মহাসমুদ্র তোলপাড় করে অমৃত খোঁজার মত। তুমি আসলেই জ্ঞানের গভীরের ডুবুরী। এবং অবশ্যই তুমি সুন্দর।
না হলে লিখতামই না।

আমার কাজের ধরনটা অন্যরকম।
আমার রোগীদের সাথে সংলাপের মতই অতৃপ্ত ও অসমাপ্ত।
“এই রোগের কারণ কি?”
“কারণ এখনও অজানা।”
“পরিণতি কি?”
“বলা মুশকিল, ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে, তবে মারা যাবার সম্ভাবনা কম।”
“চিকিৎসা আছে?”
“নাই । একটা ঔষধ আছে কিন্তু অফিসিয়ালি এপ্রুভড নয়।”
“আমি আমার বাচ্চাকে অষুধ দিতে চাই না।”
“তাহলে আমার কাছে কেন এসেছেন? আমি এলোপ্যাথিক ডাক্তার, অষুধের প্রেশক্রিপশন লিখাই আমার মূল কাজ।”
“মাল্টি ভাইটামিন খেলে চলবে না?
“চেষ্টা করে দেখতে পারেন, চলতেও পারে। “প্লাসিবো এফেক্ট ” বলে একটা কথা আছে। যা কাজ করার কথা নয়, তা যদি কাজ করে আমরা তাকেই প্লাসিবো এফেক্ট বলি।” (সম্পূর্ণ…)

প্রেমের জীবনচক্র

সাব্বির জাদিদ | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ৯:৪৯ অপরাহ্ন

নয়ন ও লাইজু পর্ব:
সিঁড়ির মুখে দেখা। কলেজের ইউনিফর্ম গায়ে হন্তদন্ত হয়ে নিচে নামছিল মেয়েটা। নয়ন দোকান থেকে ফিরছিল। হাতে লবণের প্যাকেট। গতকাল বাজারে লবণ কিনতে ভুলে গিয়েছিল বাবা। আজ সকালে ছেলেকে লবণ কিনতে দোকানে পাঠিয়েছিলেন মা। কেনার সময় ডেট দেখতে মনে নেই। এখন, প্যাকেটটা উল্টেপাল্টে মেয়াদ শেষের তারিখটা খুঁজছিল সে, বাসায় ঢোকার সময়। হঠাৎই সিঁড়ির সরু রাস্তাটা সুবাসিত হয়ে উঠল। বেলি ফুলের ঘ্রাণ। যেন আস্ত একটা বেলির ঝাড় এই কংক্রিট ঘেরা গলির ভেতর এসে পড়েছে। অবাক নয়ন লবণের প্যাকেট থেকে চোখ তুলল। তখনই চোখাচোখি হলো মেয়েটার। সদ্য প্রসব হওয়া বকনা বাছুরের মতো টানা টানা চোখ। কাজল পরেছে। পানপাতার মতো সামান্য লম্বাটে মুখ। যেমনটা নয়নের পছন্দ। নাকের নিচে বিন্দু বিন্দু ঘাম। যেন ঘাসের ডগায় রুপালি শিশির। কয়েক সেকেন্ডের দেখা। অথচ ওই অল্প সময়ের মধ্যেই নয়নের মনে হলো–যদি ঘামের ফোঁটাগুলো মুছে দেয়া যেত!
বিস্ময়ের ঘোর যেন কাটে না নয়নের। অপ্সরীর মতো এই মেয়েটা কোথা থেকে টুপ করে ঝরে পড়ল তার সামনে! ইউনিফর্ম দেখে বোঝাই যাচ্ছে, সরকারি কলেজে পড়ে। কিন্তু এই বাসায় কবে থেকে? বাসাটা নয়নদের নিজস্ব। নিচতলায় বাবা-মা আর ছোট একটা ভাইকে নিয়ে নয়নরা থাকে। উপরতলা ভাড়া খাটে। গেল মাসে অনেক দিনের পুরনো ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে চলে গেছে। টাঙ্গাইলের ওইদিকে না কোথায় যেন আঙ্গেল বদলি হয়েছে। শহরের ধারেই নয়নদের এই বাসা। সুযোগ সুবিধা প্রচুর। পুরনোর বিদায়ের সাথে সাথে তাই নতুন ভাড়াটিয়া বাসা বেঁধেছে। একটা মাসও বিশ্রামের সুযোগ পায়নি ব্যস্ত বাসাটা। বেলি ফুলের সেন্ট মাখা এই মেয়ে তাহলে নতুন ভাড়াটিয়ার কন্যা। নয়নের বুকের ভেতর টুপটুপ করে উত্তেজনার বৃষ্টি পড়তে লাগল। সেই সকালে, খালি পেটে, লবণের প্যাকেট হাতে প্রর্থনায় মগ্ন হলো নয়ন–আল্লাহ, কখনোই যেন নতুন আঙ্কেলের বদলির আদেশ না আসে। তার রিটায়ার্ড, মৃত্যু, দাফন-কাফন এমনকি হাশর-নাশরও যেন এই শহরেই হয়। (সম্পূর্ণ…)

দিলরুবা আহমেদের ‘কোকোনাট ককটেল’

দিলরুবা আহমেদ | ৫ আগস্ট ২০১৮ ৭:১৫ অপরাহ্ন


অলংকরণ: শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল

টগর নামটা শুনলেই আমার মনে হয় তুমি বুঝি টগবগ টগবগ করে ঘোড়া ছুটিয়ে চলে যাচ্ছো। আমি অবাক হয়ে ভাবলাম এরকম মনে কেন হচ্ছে। তুমি কি ঘোড়া চালাতে জান। টেক্সাসে তো অনেক ঘোড়া আছে জেনেছিলাম।
টগর শুনে থাকলো। জবাব দিল না। ম্যাসেঞ্জার আবিস্কৃত হবার পর থেকে যত পরপুরুষ আছে সবার সুবিধা হয়েছে বড় বেশি। ফোন দেয়, যখন তখন। আলাপ চালাতে চায় বিরতিহীন ভাবে। তার ঘুম পাচ্ছে। কিন্তু ঐ লোকের দেশে এখন আলো। দিন। সে কথা বলবেই। বলেই যাবে। গত তিনদিনে তিনবার ফোন করেছে। প্রথম দিনেই তুমিতে নেমে গেছে বা উঠে এসেছে। নিচের তলার আন্টির ছাত্র ছিলেন। আন্টির ধারণা এই মানুষটা একজন অতি উত্তম এবং প্রয়োজনীয় পাত্র। ফেলে দিলে ভাংবে না। ছুড়ে মারলেও চৌচির হবে না। ফিরে ফিরে আসবে। অসাধারণ পাত্র। সেই অসাধারণ লা-জবাব পাত্র জানতে চাইছে বা চালিয়ে যাচ্ছে সেই একই ঘোড়া কথন,
 ওয়েস্টার্ন মুভিতে তো দেখতাম মরুভূমিতে বিশাল বিশাল ঘোড়ায় চড়ে ঘুরছে হ্যাট পরে সবাই, টেক্সাস আরিজোনায়।
কিন্তু কোথায় ঘোড়া এখানে! টগর চোখ বড় করে ডানে বায়ে চেয়ে অবাক হবার ভান করে ভাব ধরে ভঙ্গীমা করলো। টেক্সাসের ডালাসের এই লোকালয়ের চারদিকে তো এত বছরেও ঘোড়ায় চড়ে কোন মানুষকে ঘুরতে দেখেনি সে। মানুষও যেমন না! একটা মুভিতে কি দেখলো ব্যাস ঐটাই বুকে আগলে জিন্দেগী পার করে দিলো।
 এখানে কোন ঘোড়া নেই। ঘোড়াবিহীন জীবন যাপন আমাদের। আপনি এলে না হয় একটা ঘোড়া কিনে দেব। টাট্টু ঘোড়া।
 না না , কি যে বল না। আমি ঘোড়ায় চড়তে জানি নাকি!
 শিখে আসবেন।
 ম্যাডাম যে বললেন গাড়ি চালাতে জানা মাস্ট।
 জী আন্টি আপনাকে ঠিকই বলেছেন। প্লেন চালাতে পারলে আরো ভাল। বাংলাদেশ থেকে একটা প্লেন নিয়ে সোজা আমাদের এ্যাপার্টমেন্টের মাথায় নামতে পারতেন।
 তুমি কি আমার উপর বিরক্ত হচ্ছো টগর।
 এখন রাতের তিনটা বাজে, আমি ঘুমাবো,ড্রিম দেখবো ।
 অবশ্যই অবশ্যই। গুড নাইট। কাল কথা হবে। (সম্পূর্ণ…)

মঈনুল আহসান সাবেরের গল্প: দি নিউ হযবরল

মঈনুল আহসান সাবের | ২৭ জুলাই ২০১৮ ৭:২৯ অপরাহ্ন

বেশ ক’বছর আগে আমি ‘ওয়াল্ডারল্যান্ড’ নামে একটা গল্প লিখি। তবে ‘ওয়াল্ডারল্যান্ড’ লেখার আগে আমি যে গল্পটা লিখেছিলাম, তার নাম ‘সুকুমারের লজ্জা’ এ গল্পটার কথাও বলতে হবে। সুকুমারের লজ্জার যে মূল চরিত্র, মূল চরিত্র বলে আমার অনেক গল্পে যেহেতু কিছু থাকে না, কাউকে মূল চরিত্র আখ্যা দেওয়া উচিত না, কারণ আশপাশে অন্যান যে চরিত্রগুলো আছে, সেগুলো কোনো না কোনো ভাবে মূলের দায়িত্ব পালন করে। এই যেমন আবদুল হক, তার স্ত্রী রেবা, তাদের সন্তান রেবা, আবদুল হকের বন্ধু গোলাম হায়দার, সবাই হযবরল গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শান্তাকে এখানে অসুস্থ দেখানো হয়েছে, মানসিকভাবে অসুস্থ, সে ক্লাস টেনে পড়ে, ক্লাস টেনে পড়লে তার মানসিক বিকাশ সে অনুযায়ী নয়ই, বরং দেখা যায় ছোট বাচ্চাদের মতো তার মাথার পাশে বসে তাকে গল্পের বই পড়ে শোনালে তার ঘুম আসে না। এই কাজটি করে আবদুল হক।

‘আবদুল হকের যে ঘনিষ্ট বন্ধু, কিংবা একমাত্র বন্ধুও বলা যায়, যার কথা আমরা বলেছি, গোলাম হায়দার, তার এক অদ্ভুত বাতিক আছে। সে প্রতিদিন পত্রিকায় পাতা থেকে নানা নিউজ কেটে তার মোটা খাতায় পেস্ট করে। মোটা খাতা তার অনেকগুলো। একেক পাতায় একক ধরনের নিউজ। কোনোটায় আছে ধর্ষন ও গণধর্ষনের কথা, কোনোটায় টেন্ডার বাজির কথা, কোনোটায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষের কথা (আমার ঠিক মনে পড়ছে ‘নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষ’দের নিয়ে কোনো কিছু গোলাম হায়দার বানিয়েছিল কি না। সম্ভবত তখন ছিল না, তবে এখন থাকতেই পারে। একদিন গিয়ে দেখে আসতে হবে)। যাক, যা বলছিলাম, কোনোটায় হয়তো ব্যাংক লুটপাটের কথা, কোনোটায় হয়তো নানা নৈরাজ্য আর অবক্ষয়ের কথা, এমন তরো না। এই কাজটি গোলাম হায়দার গভীর মনোযোগের সঙ্গে করে যাচ্ছে। খাতাগুলো সে মাঝে মাঝে আবদুল হককে পড়তে দেয়। এ নিয়ে আবদুল হকের আপত্তি আছে, না উৎসাহ, অনেক দিন আগে লেখা গল্প– বলেছি, ঠিক মনে নেই, আমরা আপাতত কেবল এরকম অনুমান করতে পারি, আবদুল হক ঠিক বিরক্ত হয় না, ঠিক খুশিও না। সে হয়তো বলল–আহা, গোলাম হায়দার, আমার!
কে নয়! কতদূর এগোলাম, দেখবে না!
দেখছি তো!
কোথায়! খাতাই খোলোনি।
চারপাশে দেখছি না?
অবশ্য দেখছ।
আমিও কি, তুমি যা দেখছ, তার মধ্যে নেই? (সম্পূর্ণ…)

শেখ সাহেব বাজার লেন

সাধনা আহমেদ | ১১ জুলাই ২০১৮ ৪:৪১ অপরাহ্ন

শেখ সাহেব বাজার লেনের সাতটি বাড়ির ১৯-এ হাফিজা ভিলার চারতলার ভাড়াটিয়া আব্দুল মজিদ বিচার চাইতে গেছে এলাকার বড়ভাইয়ের কছে। বড়ভাই, সমস্যা কী জানতে চাইলে আব্দুল মজিদ বললো– আমার বউরে। বড় ভাই জিজ্ঞাসা করলেন– তুমার বউরে কী? কিভাবে বলবে তা বুঝতে না পেরে আবদুল মজিদ তোতলাতে শুরু করলো। বড়ভাই আবারো জিজ্ঞাসা করলেন– আরে কউ না ক্যালা তুমার বউরে কী? আব্দুল মজিদ আবারো বললো– আমার বউরে। বড়ভাই রেগে বললো– আরে হালায় জাবর কাটতাচ ক্যালা, কইতাচ না ক্যালা, তুমার বউরে কী? এবার আব্দুল মজিদ একটানে বলে ফেলে– আমার বউরে বটি নিয়া মারবার আইচিল লিটন মিয়া। বড়ভাই এবার কৌতূহলী হয়ে মজিদের মুখের কাছে মুখ এনে বলে– কুন লিটন মিয়া? এবার আব্দুল মজিদ একটানে বলে– আমগো নিচতলার লিটন মিয়া। লিটন মিয়াগো আসল বাড়ি অইতাছে কুমিল্লার বাঞ্ছারামপুর থানা। লিটন মিয়ারা দুই ভাই এক বুন– লিটন, মিলটন আর লিমা।

অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরার জলরং চিত্রকর্ম

হেগোর বাপ হাকিম মিয়া একটা ভাদাইম্যা, টাউট। কয় ঠিকাদারির ব্যাবসা করে, আসলে হালায় কিচুই করে না, মহল্লার সব দুকান থিক্যা বাকি খায়া রাখচে পয়সা দেয় না, অহন সবার থিক্যা পলায়া বেড়ায়, কারুর সামনে পরে না। ভোরবেলা ঘুম থিক্যা উঠ্যাই বাইরয়া যায়, আর দুকান সব বন্দ অইবার পর বাড়ি আহে। এসব ফিরিস্তি শুনে ধমক দিয়ে মজিদকে থামিয়ে বড়ভাই বললে, আরে মিয়া, লিটন মিয়ার চৌদ্দগুষ্টির ঠিকুজি হুনবার চাইচিনি তুমার কাচে। আছল কতা কউ, লিটন মিয়া তুমার বউরে মারবার আইচিল ক্যালা? বড় ভাইয়ের রাগ দেখে মজিদ খুকখুক করে কাশতে কাশতে বলে, ক্যাঠায় নাকি লিটন মিয়ার মায়রে কইচে যে আমার বউ নাকি হেরে গাইল পারচে। লিটন মিয়া ইস্কুল থিক্যা আইতেই হের মায় কাইন্দা বিচার দিয়া কইচে, আমারে গাইল পারে? আমারে গাইল পারে ওই খানকি মাগি, আইজ যদি অর বিচার না করচচ তয় আমারে মা কইয়া ডাকবি না। আর হেই কতা হুইন্যা আমি দোকানে থাকারসুম লিটন মিয়া বটি লয়া আইয়া আমার বউরে কাইট্যা হালাইব কইরা ধমক পাইরা গেচে। শুনে বড়ভাই তার ভুড়ি নাচিয়ে হাসতে হাসতে বলে, লিটন মিয়া ইস্কুলে পড়ে! ইস্কুলে পড়ে এক ছ্যামরায় তুমার বউরে বটি লয়া ধমকায়া গেচে আর তুমি আইচ আমার কাচে বিচার দিবার! তুমি হালায় মাইগ্যা নিহি? যাও, গিয়া আবার নিজের পেগাম্বরি করাও!

বড়ভাই মজিদকে আবার নিজের খৎনা করাতে বলেছেন। কথাটা শেখসাহেব বাজার লেনের একেবারে শেষ মাথার ছাপড়া মসজিদের সামনের সালাম ট্রেডার্স পর্যন্ত চাউর হয়ে যায়। আর ওই লেনের সবাই হাসির গুল্লোড় তুললে কথা গড়িয়ে যেতে থাকে বিভিন্ন দিকে– হুনচি আব্দুল মজিদের বউটা নিহি পরির লাহান ছুন্দর। একজনের কথার মাঝখানে আরেকজন ফোড়ন কেটে বলে, আব্দুল মজিদের বউটা ছুন্দরী বইল্যাই হের অত জ্বালা অইচে। হুনচি মজিদের দেখভাল নিহি ঠিক মতন করে না। দেমাগ দেখায়া সারাদিন বইয়া থাকে। অন্যজন আবার তা উড়িয়ে দিয়ে বলে, আরে না না, মজিদ সিক্ষিত মাইয়া সাদি করচে, বউ নাকি সারাদিন বইয়ের দিক চায়া থাকে। হের লিগ্যাই নিজে অসিক্ষিত অয়া সিক্ষিত মাইয়া সাদি করতে নাই। আরেকজন নিজের মত দিয়ে বলে, বউ অইতাচেগা ঘরের লক্ষ্মী, হের অত বই পড়নের কাম কি? মগর মজিদের বউ লিটন মিয়ার মায়েরে গাইল পারছে ক্যালা? (সম্পূর্ণ…)

কালো আর ধলো বাহিরে কেবল…

কিশোর বিশ্বাস | ২৬ জুন ২০১৮ ৮:৩৭ অপরাহ্ন

এই আগস্টের রাতেও নরম লেপ গায়ে শুয়ে আছে শিপন। আধা আঁধারির ঘরটায় এ.সি-র এল.ই.ডি নির্দেশিকায় চোখ পড়ছে বার বার। ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস । কয়েকবার খুঁজেও রিমোটটা না পাওয়ায় শেষমেশ লেপের তলে। এই কাজ সে আগেও করেছে । গরমে এসি ছেড়ে ঘরে কৃত্রিম শীত বানিয়ে পাতলা চাদর বা কাঁথা গায়ে ঘুম দেবার মজাই আলাদা। কিন্তু এদেশে সেই নকশা করার নকশি কাঁথা কই ? তবে অনেক দিন পর আজ একটা পূর্ণাঙ্গ স্বস্তির ঘুম ঘুমাবে সদ্য চীন প্রবাসী শিপন। অবশেষে তার স্বপ্ন সত্যি সত্যিই সত্যি হল। এখন আর কোন সন্দেহ বা দুশ্চিন্তা নেই । আলাদা কোন লাইন-ঘাট বা সিস্টেম করা ছাড়াও স্কলারশিপটা যে পেয়ে যাবে, এতদিন সে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে নি। তাই প্রথম দিন বিদেশ বিভূঁইয়ে অনাগত অজানাকে পাড়ি দেওয়ার চিন্তা ছাপিয়ে তার মনের সবটা জুড়ে এখন প্রাপ্তির প্রশান্তি। শুয়ে শুয়ে মনের কোণে উদয় হয় ফেলে আসা দেশের কথা আর পথিমধ্যে ঘটে যাওয়া বিচিত্র সব কাহিনী:
— এস্কুজ মি, হয়ার ইজ দা টয়লেট ? (সম্পূর্ণ…)

লালাভ রোদের জিভ

ঝর্না রহমান | ১৫ জুন ২০১৮ ১১:১০ অপরাহ্ন


আমার ছায়াটা কোথায়? কোথায় উধাও হলো আমার ছায়াটা?
দারুণ ছায়াবাজি খেলতে খেলতে ফুটপাথ ধরে হাঁটছিলাম। পোষা পাখির মত ঝুপ ঝুপ নেমে আসছিল আমার ছায়া। হাত থেকে দানা খুঁটে খাচ্ছিল। আবার রোদের কারচুপিতে ঘুলঘুলিতে ফুড়ুৎ করে উড়ে যাচ্ছিল।
নতুন টাইলস বসানো ফুটপাথ। গোল গোল নকশা। ঘূর্ণিঝড়ের চোখের মতন ধারালো গোল। নকশা দেখতে সুন্দর। কিন্তু খানিকক্ষণ ঘূর্ণির চোখে চোখ রাখলে ধাঁধা লেগে যায়। ধাঁধার সমাধান করতে করতে আমি একবার ডান চোখ একবার বাঁ চোখ ছুঁয়ে যাই। আমার ভালো লাগে।
টাইলসের ওপর রোদ্দুরের ধাঁধা। গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা গোখুরের মত ফণা তুলে জ্বলতে থাকে রোদ। তার ওপর আমার ছায়া। আমার ঢেউ তোলা দেহের ছায়া। আমার পনিটেল করা চুল– চরকিবাজি টাট্টুর লেজ। আমি টাট্টু লেজ দুলিয়ে ছুটকি চালে হাঁটি। আমার ছায়াও ছুটকি চালে হাঁটে। ঘুমু ঘুমু হাঁটা ভালো লাগে না আমার। ছুটকি ছুটকি হাঁটা ভালো লাগছে। বিকেলের রোদ্দুর ভালো লাগছে। রোদ্দুরে ছায়াবাজিও। শীতঘুম ভেঙে বেরিয়ে আসা গোখরার লালচে আভা– দারুণ লাগে!
ফুটপাথের একপাশে খাঁজকাটা সিঁড়ি। আমার শরীরের ছায়াটা খাঁজের ভেতর নেমে পড়ে। ওয়ান্ডারফুল! দারুণ ইসথেটিক! ধাপে ধাপে ঢেউয়ের ছন্দে নামতে থাকে আমার ছায়া। ততক্ষণে রোদ্দুর ছায়ার জন্য কামাতুর হয়ে উঠছে! কামরাঙা রঙ লেগেছে রোদে। ওরে রোদ, দেখছিস না, আমার গাল লাল হয়ে উঠছে! আমি ছায়ার রেণু দিয়ে রোদ্দুরের নাম লিখে দিলাম– পার্থ! (সম্পূর্ণ…)

নাহার মনিকার গল্প: রূপান্তর

নাহার মনিকা | ১৫ জুন ২০১৮ ১:১০ অপরাহ্ন


মতামতে এই লেখাটা আপলোড হয়েছে। হোমপেজে দিয়ে দিন।অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরা।

ডিসকভারি চ্যানেলে একঝাঁক পাখি উড়ে যাওয়ার শব্দ চিড়ে মুহতারিমার স্বভাব-মৃদু কন্ঠ তীক্ষ্ণ হয়ে শোবার ঘরের বাতাস ফালা ফালা করে ভেসে আসছে- ‘আমি তো আগেই বলছি তোমার আম্মা আমাকে দেখতে পারে না, এখন বুঝছো?’
একটু পরে ইমন বেরিয়ে এসে থমথমে মুখ করে সোফায় বসে।
হামিদা বেগম টেলিভিশন দেখার চেষ্টা করছেন। মনের ভেতরের ঘূর্ণিঝড় বাইরে প্রকাশ না করার দক্ষতা আছে তার। শান্ত মুখে ছেলেকে বলেন- ‘ চলো তাহলে, আমাদেরকে বাসষ্ট্যান্ডে নামায় দিয়া আসো’।
-’আম্মা, ইতিকে নিয়া যাওয়া কি এতই জরুরী?’
এমন অনুনয় আসবে, জানতেন। জবাব না দিয়ে ইতিকে ডাক দেন হামিদা- ‘ ব্যাগগুলা উঠা, চল’।

এপ্রিল মাসের সকাল দ্রুত তেতে ওঠে! হামিদা বাসের জানালার পর্দ্দা টেনে দেন, ঢাকা-দিনাজপুর দূরপাল্লার এসি বাসগুলো এখন আরামদায়ক। ছেলে আর বৌমাকে খুশী রেখে ফিরছেন না, এটা কাঁটার মত বিঁধছে, কিন্তু ওরা যা করেছে তা মানা যায় না।

মাস দুই আগে ভোরের কুয়াশা ছিন্ন করে ইমন ফোন করেছিল। সকালবেলা ওদের ব্যস্ততার কথা জানেন হামিদা, কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ নিয়ে ফোন ধরেছিলেন।
‘আম্মা, একজনও পাওয়া গেল না?’- মীমকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ইমন। সোয়াদকে নিয়ে মুহতারিমা অফিস কামাই দিচ্ছে। একদিন ইমন অফিস বাদ দেয় তো আরেকদিন বউমা। প্রায় মাসখানেক তাদের কাজের বুয়া বাড়ি গিয়ে আর ফিরছে না। খোঁজ তো হামিদা করছেনই, কতজনকে বলে রেখেছেন। ভালো বেতন, থাকা খাওয়া সব। কিন্তু কেউ রাজী হয় না।
হামিদার স্বভাব জেনেও ইমন বায়না করে-‘ আম্মা, তুমি চলে আসো। কি এমন রাজ্যপাট তোমার ঐখানে, এখানে নাতি নাতনীর সঙ্গে সময় কাটবে’। (সম্পূর্ণ…)

দিন আসে দিন ফুরায়

সাইফ বরকতুল্লাহ | ২ জুন ২০১৮ ৭:০৭ অপরাহ্ন


পেন্সিল ও প্যাস্টেলে আঁকা ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

আকাশে আমাবস্যার চাঁদ। জানালার ফাঁক গলে মেঝেতে আলো ঝলমল করছে। শুটকি মাছের ভর্তা, মুলা শাক, ডাল ভর্তা দিয়ে রাতের খাবারটা শেষ করে শুয়ে সেকান্দার আলী বলছে, খাবার শেষ হয়নি? পায়ের গোড়ালিতে খুব ব্যাথা, টিপে দাও গো। কোনো কথা বলল না হাপ্পু বেগম। থালা, বাটি ধুঁয়ে পান বানিয়ে চাবাইতে চাবাইতে সেকান্দার আলীর পাশে এসে শুয়ে পড়ল সে।

টিনের ঘর। চারপাশ পাঠশোলা, ছনের তৈরি বেড়া দেওয়া। সামনে ও পিছনের দরজা বাঁশের ফালি দিয়ে লাগানো। ফাজিলপুর গ্রামের কামারপুর সড়কের পাশেই এই ঘরটিতে সেকান্দার আলী থাকেন। হাপ্পু বেগমের সঙ্গে তের বছরের সংসার। দুঃখ, বেদনা, যাতনা-এই ঘরটাতেই মিশে আছে বছরের পর বছর। এই তো তিনদিন আগেই দুইজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়ে গেল। অবশ্য এই ঝগড়া বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরকম ঝগড়া, মান-অভিমান তাদের মধ্যে প্রায়ই হয়। কিন্তু সেদিনের ঝগড়াটা ছিল বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে।

আজ থেকে তের বছর আগে হাপ্পু বেগমকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে সেকান্দার আলী। কিন্তু তাদের ঘরে কোনো সন্তান আসেনি। গ্রামের কত ডাক্তার, কবিরাজ, হুজুরের কাছে চিকিৎসা ও পানি পড়া নেওয়া হয়েছে সন্তান জন্মদানের জন্য- তার ইয়ত্তা নাই। কিন্তু কোনো ওষুধ কাজে আসেনি। (সম্পূর্ণ…)

প্রকাশ বিশ্বাসের গল্প: আমাদের ইন্দ্রনাথ

প্রকাশ বিশ্বাস | ১৬ মে ২০১৮ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

১.
গাবের ম্যাজেন্টা রংয়ের পাতা আর জামের পাতলা কিশলয়, বরুণ—বৈন্যা গাছের সাদা ফুলের ঝাড়, বান্দরনলা–সোনালু গুচ্ছের আবডাল থেকে ঝিরঝিরি বাতাস হঠাৎ বেগ পেয়ে বাউকুড়ানির রূপ নিয়ে ধেয়ে আসে। চৈত্রের এই সব দুপুরে রোদে জ্বলা দোআঁশ মাটির গ্রাম হালটের বুক পিঠে বাতাসের ঝাপটা এসে লাগে নাকে মুখে, খসে যাওয়া ঝরা পাতা আর ধুলার ঘূর্ণি পমেট, ট্যালকম পাউডারের মতো আমাদের সবার কাঁচা মুখগুলো ধূসরিত করে যায়।
আমাদের গ্রামগুলোতে সে মাসে দোল আসে, শিবের গাজন, আর দেল নামে, চড়ক পূজা হয় দূরের গ্রামে, আসে মুইখ্যা কাচ (মুখোস নৃত্য) খেলার বাহার।

অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরা
আমরা তখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বেজায় দুরন্ত, কেউ আলাভোলা, কেউ বা পরিপাটী কেতা দুরস্ত ভালোছাত্র। কেউ স্কুলে যাওয়ার নাম করে ঘুড্ডি উড়িয়ে বেড়ায়, কেউ মার্বেল-ডাংগুলিতে আসক্ত, গরু চড়ানোর নড়ি দিয়ে ছ্যুল খেলা খেলে, আবার কেউ সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়াবান্ধা। (সম্পূর্ণ…)

থাকো ধরণীতে থাকো আকাশে

আকতার হোসেন | ২২ এপ্রিল ২০১৮ ৭:৩৭ অপরাহ্ন

তুমি ঢাকতে থাকো। ঢাকতে থাকো। ঢাকতে ঢাকতে আদিম মমি হয়ে যাও যেন নিজেকেই আর চিনতে পার না। পারলে চলন ঢাকো। বলন ঢাকো। প্রেমময় অনুভূতি ঢাকো।
তুমি স্বতন্ত্র ছিলে, আজ সেই স্বাতন্ত্র্য ঢাকো। তুমি মায়া ঢাকো, ছায়া ঢাকো, তুমি বিশালতাকে ঢেকে রাখো। অনিশ্চিত আক্রোশ কামনায় তুমি আবৃত কর মায়ার বাঁধন। অভিমানে, বিচ্ছেদের খেলা খেল। তুমি অন্তহীন নিজেকে আড়াল করে রাখো, তুমি ঢাকতে থাকো।
এখানে ঢাকো। ওখানে ঢাকো। দুই তিন কিংবা চারবার করে ঢাকো। ওটা ঢাকো, সেটা ঢাকো। সবদিক দিয়ে ঢেকে রাখো। জগতে ঢাকাঢাকি ছাড়া তোমার অন্য কোন কাজ নেই। যতোটুকু চিনি মেশালে পানি সরবত হয়ে যায়, তার থেকে বেশি ঢালতে থাকো। পানি আর চিনি একই পাত্রে অবস্থান তবুও ওরা পারবে না মিশতে। কারণ সে অতিরিক্ত। তুমি তেমনি অতিরিক্ত ঢাকতে থাকো নিজেকে।
আমিও ঢাকি। যতোটুকু যেখানে প্রয়োজন ততোটুকু মান্য করি। কাউকে অবিশ্বাস করে কিছু ঢাকি না। ঢাকি লজ্জা না পেতে। তোমার ঢাকাঢাকি আমাকে লজ্জা দেয়। আমি যতোটুকু ঢেকে রাখি, যে কারণে ঢাকি, তুমি তার থেকে অনেক বেশি ঢেকে রাখো। ভুলে যাও যে, আমি হাজার বার বলি, বারবার বলি এক সঙ্গে থাকবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছি আমরা। আমি পদে পদে তোমার লুপ্ত সম্মানের কথা বলি, বলি হারানো মর্যাদার কথা। বলি সমতার কথা। তবুও আমার আর তোমার মধ্যে একটা অবিশ্বাসী গিলাফ চড়িয়ে রাখো তুমি। তুমি নাকি তাতে শান্তি পাও।
তোমার ঢাকাঢাকি থেকে একদিন দূরে চলে যাব। জানি, তোমার তাতে কিছু আসে যায় না। কেননা তোমার সুখ ওই ঢাকাঢাকির মাঝে। অতএব, তুমি একাকী সুখে থাকো। আরও ঢাকতে থাকো। আমি কোথাও থাকবো না। এর চেয়ে বেশি অভয় কি করে দেবো? তুমি তোমার মধ্যে সুখ খুঁজে নাও। তুমি একাই থাকো। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com