সাক্ষাৎকার

শিল্পী মুর্তজা বশীর: বাংলাদেশে কেউ শহীদুল্লাহকে নিয়ে কোনো গবেষণা করেনি

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ মে ২০১৮ ৩:১৪ অপরাহ্ন

শিল্পী মুর্তজা বশীরের এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে তার বাসায়। এই সাক্ষাৎকারে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিলেন তার পিতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। অডিও সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি.স.
Shahidulla n Murtaja
রাজু আলাউদ্দিন: ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে আমাদের সমাজে কিছু ধারণা অথবা ভুল ধারণা আছে। সেটা হলো, তার আচরিক জীবনে এমন কিছু ছিল যেগুলো পশ্চাৎপদতা বলে অনেকে মনে করেন। কিংবা প্রগতিশীল ধারণার অনুকূল না–এ রকম মনে করা হয়। যেমন ধরেন, ছবি আঁকা পছন্দ করতেন না। গান শুনতে উনি পছন্দ করতেন না। বা গানকে উৎসাহিত করতেন না। ছবি আঁকাকে উৎসাহিত করতেন না। আরো এমন সাংস্কৃতিক দিক আছে, যেগুলো সম্পর্কে উনার ভূমিকা নেতিবাচক বলে ধারণা করা হয়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই। কারণ, আপনি উনার অন্যতম সন্তান। আপনি নিজে ছবি আঁকেন। আপনি তাকে পিতা হিসেবে দেখেছেন।

মুর্তজা বশীর: আমার বড়বোনের লেখার মাধ্যমে গানবাজনা সম্পর্কে আমার পিতার কথা যেটা আমি জেনেছি সেটা এরকম: আমার বোন নাকি হারমোনিয়াম দিয়ে গান গাচ্ছিলেন, আমার বাবা হারমোনিয়াম ভেঙে ফেলেছেন। অন্যান্যদের কাছে শুনেছি, কোনো সভা-সমিতিতে যখন গান হতো, তিনি কানে আঙুল দিয়ে থাকতেন। আবার ঢাকার জগন্নাথ হলের এক প্রাক্তন ছাত্র, সুকুমার রায়ের এক লেখায় পড়েছি( বাসন্তিকা, হিরকজয়ন্তী সংখ্যা), সে লিখছে, সে একটু গানবাজনা করত, শহীদুল্লাহ তাকে ধরে নিয়ে প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরির মালিক আবদুর রশীদ সাহেবের বাড়িতে নিয়ে গেলেন, এবং সেখানে শহীদুল্লাহ তাঁর বগলদাবা থেকে তাঁর অনুবাদ হাফিজের লেখা গান বের করলেন এবং বললেন যে, তুমি এটার সুর করো। Daily Star পত্রিকায় একটি ছবি দেখেছি সুরকার আবদুল আহাদ পিয়ানোয় সুর তোলা অবস্থায় শহীদুল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে তিনি গান পছন্দ করছেন না এটা ঠিক সত্য না। আর ছবি আঁকার ব্যাপারটা আমি ভালো বলতে পারব এই জন্য, যেহেতু আমি তার সন্তান হিসেবে ছবি এঁকেছি। তবে আমার আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পেছনে, এটা সত্যি যে তার আগ্রহ বা অনাগ্রহ কোনোটাই ছিল না। আমি কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে ওখানে ভর্তি হই। আমার নিজেরও কোনো ছবি আাঁকার ইচ্ছে ছিল না। এবং আমি ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকতাম না। এবং স্কুল লাইফে ক্লাশে যে ড্রইং হতো, সেই ড্রইংয়ে আমি সব সময় শূন্য পেতাম। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ ইকবাল: যুদ্ধ মানে রাইফেল নিয়ে, পতাকা নিয়ে দৌড়াচ্ছে— শুধু এটাই না

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৩০ এপ্রিল ২০১৮ ১:১৩ অপরাহ্ন

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

মোহাম্মদ ইকবালের ক্যানভাসে জাপানি কাগজে আঁকা বিস্ফোরিত ক্ষয়িষ্ণু চোখেরা তাড়িয়ে বেড়াবে যে কোন অনুভূতিপ্রবণ মানুষকে। জগতের সমস্ত অন্যায়, অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রঙ ও রেখায় যেনো প্রতিবাদ করছেন শিল্পী। জাপানে শিক্ষা নেয়া এই শিল্পী ২০০৫ সালে পেয়েছেন চিত্রকলায় দেশটির জাতীয়ভাবে প্রদত্ত আওকি সিগেরু গ্রান্ড প্রাইজ, অথচ নিজের দেশেই বলা যায় তার প্রতিভা প্রচারের আলোর বাইরে। ইকবাল তাঁর উদ্ভাবনী কৌশল, নিরীক্ষাপ্রবণতা ও স্বতন্ত্র বিষয়ের গুণে বাংলাদেশের চিত্রকলার ভুবনে এক সম্ভাবনাময় চিত্রকর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন চারুকলার শিক্ষার্থী থাকতেই। দীর্ঘ সময় তিনি কাজ করে সমাজবিচ্ছিন্ন, গৃহত্যাগী, সংসারে উদাসীন মানব-মানবীর যে-চিত্র অঙ্কন করেছিলেন, তাতে তাঁর শিল্পীমনের আর্তি ছিল। এসব ছিন্নমূল মানুষের জীবনের অন্তর্গত বোধকে তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গে রূপায়িত করেছিলেন তার তেলরঙের ক্যানভাসে। শিল্পী ইকবাল তাঁর শিল্পীজীবনের এক পর্বে এবং সৃজনে এই ব্যবহার্য বস্তুসামগ্রী ঢালাওভাবে ব্যবহার করে নিজেকে আলাদা পরিচয়ে চিহ্নিত করেছিলেন।

পরবর্তীকালে সন্ন্যাস-জীবনের নানা অনুষঙ্গের পাশাপাশি তিনি অঙ্কন করেছিলেন সাধারণ মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক ও মানুষের নানা অভিব্যক্তির অবয়ব। কষ্ট ও যন্ত্রণার ছায়া ছিল এসব সাধারণ লোকের মুখাবয়বে। অভিনবত্বে, চমৎকারিত্বে ও রং-ব্যবহারের মনোজ সুষমার কারণে তাঁর সৃজনভূমি মৃত্তিকালগ্ন ও দেশভাবনার উজ্জ্বল প্রকাশ বলে বিবেচিত হয়েছিল।

মোহাম্মদ ইকবালের জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৮ই জুন চুয়াডাঙ্গা শহরে। বাবা আশরাফ উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মাতা নূরজাহান বেগমের দশ সন্তানের মধ্যে পঞ্চম পুত্র ইকবাল। ১৯৮২ সালে শিল্পী হবার স্বপ্ন নিয়ে শিল্পশিক্ষা শুরু করেছিলেন চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগে। ১৯৮৯ সালে সম্পন্ন হয় তার স্নাতকোত্তর।

চারুশিক্ষা পেয়েছেন মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাজী আবদুল বাসেত, রফিকুন নবীর মতো বড় শিল্পীদের। ইকবাল জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৯৯ সালে জাপান যান। চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা তাঁর মানসভুবনকে আরো পরিশীলিত, সমৃদ্ধ, নিরীক্ষাপ্রবণ ও শিল্পের অন্বিষ্টভুবন নির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। (সম্পূর্ণ…)

মার্কিন ঔপন্যাসিক জোসেফ হেলার: আমেরিকার রাজনীতি হাস্যকর

রেশমী নন্দী | ৮ এপ্রিল ২০১৮ ১১:২৭ অপরাহ্ন


মার্কিন লেখক জোসেফ হেলার রাজনীতির রঙ্গ আর রসিকতার গুরুত্বের সহাবস্থান ঘটিয়েছেন তাঁর কাজে। ছোট গল্প, নাটক, উপন্যাস সব কাজেই তিনি ‘এবসার্ডিটি’কে উপস্থাপন করেছেন অতুলনীয় ভঙ্গীতে। জীবদ্দশায় মোট সাতটি উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর লেখা সামথিং হ্যাপেন্ড আর গুড এজ গোল্ড বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে স্যাটায়ারধর্মী লেখার অনন্য উদাহরণ। আর ‘ক্যাচ ২২’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদী সাহিত্যকর্ম বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। অনূদিত লেখাটি ১৯৮৮ সালে প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকার। বিল মোয়েরসের সাথে জোসেফ হেলারের এই কথোপকথনটি জুড়েই রয়েছে ‘পলিটিক্যাল এবসার্ডিটি’ নিয়ে তাঁর কৌতুকজন কিন্তু চিন্তার খোরাক জোগানো মতামত।
হেলারের এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন বিখ্যাত সাংবাদিক বিল মোয়েরস। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অনুবাদক রেশমী নন্দী।

বিল মোয়েরস: `গুড এজ গোল্ড’ বইটি দ্বিতীয়বারের মতো পড়তে পড়তে একদিন রাত তিনটার সময় জোরে হেসে উঠেছিলাম-হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা যেখানটাতে বলছিলেন, ‘আমরা সত্যি কথা বলতে যাচ্ছি, এমনকি এর জন্য যদি আমাদের মিথ্যা বলতে হয়, তবুও।’ ; প্রেসিডেন্ট যিনি প্রথম বছরটা কোনো কাজ না করে কেবল একটি বই লিখছেন; অথবা সেই কর্মকর্তা যিনি বলছেন, ‘আমরা প্রশাসনে কোনো ইয়েস-ম্যান চাই না, আমরা চাই স্বাধীন সত্ত্বার একজন মানুষ যিনি আমরা যা ঠিক করবো সবটাতে সমর্থন দেবেন।’ রাজনীতি আপনার কাছে হাস্যকর লাগে কেন?

জোসেফ হেলার: রাজনীতি আমার কাছে হাস্যকর লাগে কারণ এটা হাস্যকর। আমরা কথা বলছি আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে। আপনি আমার বই থেকে তিনটা উদাহরণ দিলেন। আমার মনে হয়, গুড এজ গোল্ড-এর যে অংশগুলো পাঠকদের হাসায় সেগুলোর প্রায় সবই বাস্তব জীবনে অহরহ ঘটে। আমেরিকার রাজনীতি হাস্যকর। এর অনেক অনেক বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা যায়, খুব কম কিছুই আছে যেগুলো প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু এর সম্পর্কে প্রশংসা বা সমালোচনা যে কোনভাবেই যে কথাটা বলা যায় তা হলো, এটা হাস্যকর রকমের মজার। (সম্পূর্ণ…)

অক্তাবিও পাস: আমি প্রেমে পড়ি আর ভারতে আমরা বিয়ে করি

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩১ মার্চ ২০১৮ ১২:১৫ অপরাহ্ন

যে-মাসটি আমাদের স্বাধীনতার, তার শেষদিনেই ১৯১৪ সালে মেক্সিকো সিটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৯০ সালের নোবেলবিজয়ী কবি অক্তাবিও পাস। পাস ছিলেন এনসাইক্লোপেডিক ব্যক্তিত্বদের শেষ প্রতিনিধি। ইতিহাস, দর্শন, নৃবিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য, রাজনীতি, এককথায় মানুষের জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রায় সবগুলো শাখাতেই তার ছিল অপরিমেয় পাণ্ডিত্য। পাশাপাশি এসব বিষয়ে তার সুগভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তাকে করে তুলেছে অনন্য। লাতিন আমেরিকান লেখকদের মধ্যে পাসের তুল্য লেখক খুব কমই আছেন। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে লেখা ও মতামতের জন্য নিন্দিত হয়েছেন মাঝেমধ্যে কিন্তু অনুপক্ষেনীয় ছিলেন তার সুগভীর ও তীক্ষ্ণ বিচারশক্তির কারণে।
কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে পাসের বিশ্বব্যাপী পরিচয়ের পাশিপাশি আরেকটি কারণেও তিনি অনন্য: ভারতবীক্ষা। কর্মসূ্ত্রে তিনি দুদফায় ভারতে এসেছিলেন। ভারত ও এর সভ্যতাকে তিনি যে-গভীরতায় দেখেছেন ও বিশ্লেষণ করেছেন তা খুব কম বিদেশি লেখকই করতে পেরেছেন।
অলোকসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক বিপাশা চক্রবর্তীর অনুবাদে প্রকাশ করা হলো তার দীর্ঘ সাক্ষাতকারের অংশবিশেষ যেটি প্রকাশিত হয়েছিল সাক্ষাৎকারের জন্য বিখ্যাত সাহিত্যসাময়িকী প্যারিস রিভিউ পত্রিকায়। বি, স,

আলফ্রেড ম্যাক এ্যাডামের সাথে অক্তাবিও পাসের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার

বেটেখাটো এবং বয়সে সত্তর হলেও অক্তাবিও পাসের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির কারণে এখনো তাকে যথেষ্ট যুবকই মনে হয়। তার কবিতা ও গদ্য– উভয় লেখাতেই রাজনৈতিক গভীরতা ও পাণ্ডিত্যের ছোঁয়া আছে। মেক্সিকোতে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ইতিহাস বারবার লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে, যেমনটি দেখা গিয়েছিল আদিবাসী অতীতের প্রেক্ষাপটে; যেখানে তিনি ব্যক্ত করেছেন কিভাবে নিগূঢ় ভালোবাসা মানুষের প্রচন্ড একাকিত্বকে দূর করে। পাস বহুদিন থেকেই বিংশ শতাব্দির দুই বিখ্যাত দক্ষিণ আমেরিকান কবি সেসার বাইয়্যেহো ও পাবলো নেরুদার সঙ্গে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ১৯৯০ সালের কলম্বাস দিবসে এক সাক্ষাৎকার দেবার ঠিক তিন দিন পরে পাস সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে নেরুদাদের কাতারে শামিল হন।

একজন আইনজীবী বাবার সন্তান ও ঔপন্যাসিকের নাতি, পাস ১৯১৪ সালে মেক্সিকোতে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বেড়ে ওঠায় এই দু’জনের অপরিসীম প্রভাব ছিল। পাস তার বাবার কাছে থেকে সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি সম্পর্কে জানতে পারেন যিনি মেক্সিকান বিপ্লবী এমিলিয়ানো সাপাতার পরামর্শক ছিলেন। আর তাঁর পিতামহের লেখা চিঠিগুলি দিয়ে বিশ্বকে জানতে শিখেন। বালক পাস তাঁর পিতামহের বিশাল লাইব্রেরীতে অবাধ বিচরণের সুযোগ পেয়েছিলেন। আর এভাবেই তিনি স্প্যানিশ ও লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের অমূল্য ভান্ডারের স্বাদ নিতে পেরেছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকোতে সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করেন, কিন্তু ডিগ্রী অর্জনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান। (সম্পূর্ণ…)

নাসির উদ্দীন ইউসুফ: দেখতে পাচ্ছি, সমাজ এবং রাষ্ট্র ধর্মের সাথে একটি অবৈধ চুক্তিতে যাচ্ছে

রাজু আলাউদ্দিন | ২৭ মার্চ ২০১৮ ১০:০০ অপরাহ্ন

নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আমাদের চিরকালের গৌরব, তিনি সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা যিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলেন। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসেছিলেন আমাদের জন্য অমূল্য উপহার হাতে নিয়ে: আমাদের কাঙ্ক্ষিত সবুজ ও লালের এক অমর স্বাধীনতা। তিনি যদি জীবনে আর কিছুই না করতেন, তারপরেও তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরভাস্মর হয়ে থাকবেন। কিন্তু তার ব্যক্তিত্বের আছে আরেকটি দিক যেটি শিল্পিত স্বভাবে বর্ণময়। তিনি অামাদের নাট্যজগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের একজন। নাসির উদ্দীন ইউসুফ নির্দেশিত/পরিচালিত নাটক মানেই মঞ্চসাফল্যে তুঙ্গস্পর্শী। সফল তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনায়ও। নাটক ও চলচ্চিত্রে অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি অসংখ্যবার পুরস্কৃত হয়েছেন। যিনি আমাদের সবার অহংকার, কিন্তু নিজে পুরোপুরি নিরহংকারী স্বভাবের। কয়েকদিন আগে তার সাথে দীর্ঘ এক আলাপচারিতা হলো বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর অফিসে। যুদ্ধকালীন লোমহর্ষক নানান অভিজ্ঞতা আর তার নাট্যকলা নিয়ে শৈল্পিক বয়ান এই আলাপচারিতার মূল আকর্ষণ। বাচ্চু ভাইয়ের অননুকরণীয় বাচনভঙ্গি আর কথার তরঙ্গায়িত প্রবাহ দীর্ঘ আলাপচারিতাকে করে তুলেছে শ্রুতিসুভগ। তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদের শ্রুতিলিখনে থাকছে সেই আলাপচারিতার পূর্ণাঙ্গ পাঠের প্রথমার্ধ। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

বিজ্ঞানী এ এম হারুন-অর-রশিদ: উনি যখন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না তখন এটা দেব

রাজু আলাউদ্দিন | ৪ মার্চ ২০১৮ ১১:৪৪ অপরাহ্ন


এ এম হারুন-অর-রশিদ বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে, পদার্থবিজ্ঞানে তাঁর অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন।
অধ্যাপক ড. এ এম হারুন অর রশীদ ১৯৩৩ সালের ১লা মে বরিশাল জেলার নলছিটি উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ছয় বছর বয়সে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর রামবঙ্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে ড. রশীদ তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন৷ সেখানে কয়েক বছর পড়ার পর তাঁর বাবা তাঁকে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল-এ পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন৷ স্কুলের প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্যে বা ক্লাসে ভালো উপস্থিতির জন্যে প্রতিবারই তিনি বিভিন্ন বই পুরস্কার পেয়েছেন৷ দশম শ্রেণি পর্যন্ত ড. রশীদ কৃষ্ণনগরের ঐ স্কুলেই লেখাপড়া করেছেন৷ ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভাগ হলে তাঁর বাবাকে বদলি করে ঢাকা পাঠানো হলো৷ ঢাকা এসে বাবা ঢাকা কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলেন৷ ঢাকা এসে তাঁর বাবা তাঁকে ভর্তি করিয়ে দিলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে৷ তখন তাঁর ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার মাত্র তিন মাস বাকি ছিল৷ তিনি ১৯৪৮ সালে তত্‍কালীন East Bengal Secondary Education Board-এর অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে স্টারমার্কসসহ তিনটি বিষয়ে লেটার মার্কস (শতকরা ৮০ নম্বর এবং তার উপরে) পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন এবং এই ফলাফলের জন্যে একটি প্রথম গ্রেড সরকারি বৃত্তি লাভ করেন৷ তিনি ১৯৫০ সালে ইন্টারমিডিয়েট সায়েন্স পরীক্ষায় স্টারমার্কস সহ চারটি প্রধান বিষয়ের সবগুলিতে (ইংরেজী, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও গণিত) লেটার মার্কস পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন এবং এই ফলাফলের জন্যেও একটি প্রথম গ্রেড সরকারি বৃত্তি লাভ করেন৷ তাঁর ইংরেজিতে লেটার মার্কস পাওয়াটা ছিল তখনকার সময়ে একটা বিরল ঘটনা৷ তাঁর স্কুল ও কলেজের কোনো পরীক্ষায় কখনো দ্বিতীয় হননি। এরপর তিনি এসে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে৷ তিনি ১৯৫৩ সালে এই বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বি.এস.সি. সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন৷ ১৯৫৪ সালে তিনি ঐ বছর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সব স্নাতকের মধ্যে সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজা কালীনারায়ণ বৃত্তি লাভ করেন৷ তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পুনরায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এম.এসসি. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওভারসীস বৃত্তি (Overseas Scholarship) নিয়ে উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Glasgow, UK) যান৷ গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি প্রফেসর আর. জি. মুরহাউজ এবং প্রফেসর বি. এইচ. ব্রান্সডেনের (Professor R.G. Moorhouse and Professor B.H. Bransden) তত্ত্বাবধানে ক্ষেত্র তত্ত্বে টাম-ডানকফ আসন্ন মান (Tamm-Dancoff Approximation in Field Theory) ব্যবহার করে কে-মেসন নিউক্লিয়ন-এর একটি সমস্যার উপর কাজ করে ১৯৬০ সালে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন৷ তিনি দুই দফায় পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে নোবেল পুরস্কার কমিটির প্রস্তাব ছিলেন। সম্ভবত পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর আবদুস সালামের মনোনয়ন বিষয়ক অন্যতম প্রস্তাব ছিলেন।
তার এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি গৃহিত হয়েছিল ২০১৩ সালে তার ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিখন করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। (সম্পূর্ণ…)

মানুষ যদি এতই ধর্মপ্রবণ হয়ে থাকে তাহলে এত দুর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ, লুটপাট কি হতে পারে!

রাজু আলাউদ্দিন | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:৫০ অপরাহ্ন

রাজু আলাউদ্দিন: নজরুল নিয়ে আপনি একাধিক লেখা লিখেছেন। এবং আপনার নতুন কিছু পর্যবেক্ষণ আছে যা অন্য কারো লেখায় পাওয়া যায় না।
শামসুজ্জামান খান: তবে নজরুল সম্পর্কে আমার লেখালেখি কিন্তু কম। আমার ইচ্ছা আছে, ভালো করে নজরুলের বিষয়টাকে ধরে লেখালেখি করার। আমার নানা বিষয়ে আগ্রহ। নজরুল-চর্চাটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাজু আলাউদ্দিন: তো আপনি নজরুল কোন বিষয়ে লেখার কথা ভাবছেন? কোন বিষয়ে আসলে লেখা উচিত বলে মনে করছেন?
শামসুজ্জামান খান: নজরুলের বাঙালিত্ব নিয়ে কিছুটা লিখেছি। তিনি বাঙালির কবি, এটি আমি বলার চেষ্টা করেছি। আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশ প্রধানত বাঙালির বাংলাদেশ। কিন্তু সেই বাঙালি হবে আধুনিক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং বিশ্বনাগরিকও বটে। এই সবটা মিলিয়ে বাঙালির বাঙালিত্ব। তার জন্য নজরুল সাহিত্য আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। যেমন একই সঙ্গে তিনি মুসলিম ঐতিহ্যের ব্যবহার করেছেন। সনাতন ধর্ম বা হিন্দুধর্মের ব্যবহার করেছেন। সেই সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব-ঐতিহ্যের ব্যবহার করেছেন। এবং বঙালিত্বের ব্যাপারেও তার যে অনুধাবন, সেগুলো এতটাই অসাধারণ, অন্য কোনো লেখকের মধ্যে সেটা প্রায় পাওয়া যায় না। এবং লৌকিক উৎসের নবায়নের ক্ষেত্রে নজরুল কিন্তু খুবই তাৎপর্যপূর্ণ কিছু কাজ করেছেন। সেইদিক নিয়ে আমার আরেকটু খোঁজখবর নেয়ার ইচ্ছা। যেমন গানের ক্ষেত্রেও তিনি আব্বাস উদ্দীনের সঙ্গে গিয়েছিলেন আব্বাস উদ্দীন সাহেবের সেই এলাকায়। সেখানে গিয়ে একটা লোকগীতি তিনি শোনেন। শুনে সেইটারই তিনি যে নবায়ন করলেন– নদীর নাম সুরঞ্জনা– কী অসাধারণ! লোকজ একটা বিষয়কে তিনি নিয়ে এলেন পরিশীলিত আঙ্গিকে, একটি চমৎকার বাংলা গান হিসেবে।
রাজু আলাউদ্দিন: আরেকটি বিষয় নজরুলের সাথে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যেটা ঘটেছে, এক হলো, বাঙালি মুসলমান বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছে। এমনকি নাস্তিকতা বা মুরতাদের অভিযোগ এনেছে। এবং উনি সাচ্চা মুসলমান না, ইসলামের সেবক না– এরকম নানা অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। এমনকি এটাও বলা হয়েছে, আমরা বাংলাদেশে তার সাহিত্যকর্ম যদি নিতেই চাই, তাহলে সেই নেয়াটা যেন মুসলমানিত্বের সাথে নেয়া যায়, সে জন্য এক সময়ে সম্পাদনারও প্রস্তাব এসেছে।
শামসুজ্জামান খান: খণ্ডিত নজরুল। খণ্ডিত নজরুলকে নিতে বলা হয়েছে। এবং তার কাব্যের কিছু অংশ বর্জন করে নজরুলকে গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এরচে’ অসাহিত্যিক এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য আর হতে পারে না। একজন সাহিত্যিককে তার সমগ্র দিয়েই বুঝতে হবে। এবং নজরুল একজন অসাধারণ বড় মাপের কবি। তিনি দুটি ঐতিহ্যের ব্যাপারে যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, তিনি একজন উদ্ভাবনাময় বড় মাপের কবি। যে কারণে তৎকালীন হিন্দু সম্প্রদায়ের বাঙালি কবিরা কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, আপনি নজরুলকে নিয়ে এত কথাবার্তা বলেন কেন! আপনি তাকে কবি বলেইবা এত আনন্দ লাভ করেন কেন! নজরুল এমন কী কবি! তিনি বলেছিলেন, তোমরা ঠিক বোঝ না। আমি যদি নজরুলের মতো এই সময়ে জন্মগ্রহণ করতাম, এবং এই যুগের মুখোমুখি হতাম, আমার কবিতাও এরকমই হতো। এই কারণে নজরুলকে আমি প্রশংসা করি। নজরুল শুধুমাত্র কবি নয়, নজরুল এক মহাকবি। এটা হলো রবীন্দ্রনাথের মূল্যায়ন। (সম্পূর্ণ…)

সুরমা জাহিদ: আমি আমার নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছি

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:২৪ অপরাহ্ন

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

অন্য অনেকের মতোই, ঊনপাঠক আমি, সুরমা জাহিদের নাম এবারই প্রথম শুনলাম। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তির পর। এবং তাকে পাঠ করার পর মনে হলো, আমাদের অগোচরে কত মানুষ যে নিভৃতে কত অমূল্য কাজ করে চলেছেন, তাদেরই একজন তিনি। রক্তক্ষয়ী এক মুক্তিসংগ্রামের ভেতর দিয়ে স্বাধীন দেশ পেয়েছি আমরা, অন্তত দুই লক্ষ নারীর সম্ভ্রমও হয়েছে লুট। বঙ্গবন্ধু তাদের দিয়েছিলেন সান্মানিক বীরাঙ্গনা উপাধী। ডেকেছিলেন বোন বলে। কিন্তু এই সমাজে এখনো অনেক বীরাঙ্গনাই বেঁচে আছেন কায়ক্লেশে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করে, তাদের সাথে কথা বলেছেন সুরমা জাহিদ। লিখেছেন বীরাঙ্গনাদের নিয়ে একাধিক বই। সেসব বইয়ে তাদেরই জবানীতে উঠে এসেছে একাত্তরে নির্যাতনের শিকার মানুষদের রোমহর্ষক বর্ণনা। তাদের ভয়ানক বেঁচে থাকার দলিল, নিঃসন্দেহে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেরই আরেক অধ্যায়। ১৯৯৭/৯৮ থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত সুরমা জাহিদ কাজটি অবিরত রেখেছেন। সহজ সরল নির্মোহ এই মানুষটির সাথে আলাপে তার সারল্য গভীরভাবে স্পর্শ করেছে আমাকে। সুরমা জাহিদের জন্ম নরসিংদীর রায়পুর থানার রাজাবাড়ি গ্রামে ১৯৭০ সালের দশই অক্টোবর। পিতা মরহুম আলফাজ উদ্দিন আহমেদ, মাতা আম্বিয়া আকতার, স্বামী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। দুই সন্তানের এ জননী বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য।

মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য বিভাগে এ বছর বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়ে একেবারেই স্বল্পপরিচিত লেখক থেকে আলোচিত সাহিত্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন বর্ষিয়ান মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সুরমা জাহিদ।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: স্লামালিকুম আপা, শুভসকাল। কেমন আছেন?
সুরমা জাহিদ: জ্বী,আসসালামু আলাইকুম, ভালো আছি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: স্যরি আপা, ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেলো।
সুরমা জাহিদ: না ঠিক আছে, আপনার ফোনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। (পাশে শিশুর কান্নার শব্দ)
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার নাতী মনে হয় উঠে গেছে, এখন আমরা কথা বলতে পারবো তো?
সুরমা জাহিদ: এখন কথা বলা, আহা, ও তো উঠে গেছে। ঘুমিয়েছিলো একটু আগে। যখন ঘুমায় তখনি আপনাকে ফোন করতে বলেছিলাম। ওর শব্দে কী সমস্যা হবে? (সম্পূর্ণ…)

শামসুজ্জামান খান: পাকিস্তান আমলেও যতটা অসাম্প্রদায়িক কথাবার্তা চলত, এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে

রাজু আলাউদ্দিন | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১০:৫৯ অপরাহ্ন

রাজু আলাউদ্দিন: আমি যদ্দুর জানি, লেখালেখির একদম শুরুর দিকে আপনি গল্প এবং কবিতা লিখতেন। এখন আপনি আর গল্প কবিতা লেখেন না। প্রচুর ননফিকশন, অর্থাৎ গবেষণা বা প্রবন্ধ এইগুলোতে আপনি এখন অনেক বেশি লিপ্ত। তো এরপরে আর কখনোই কেন গল্প এবং কবিতা লিখলেন না?
শামসুজ্জামান খান: এটা বলতে গেলে আমাকে শুরু করতে হবে একেবারে প্রাইমারি স্কুল থেকে। আমার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা সব্বাই খুবই বিদ্বান তো ছিলেনই, সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাংলার যিনি শিক্ষক ছিলেন, তিনি জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়তেন, আমরা বুঝতাম না, তবু তিনি আমাদের সামনে সেসব কবিতা পড়তেন। সাহিত্যের ব্যাপারে আমার আগ্রহটা তখন থেকেই শুরু হয়েছিল। তার চার বা পাঁচ বছর পরে যখন আমি হাইস্কুলে এলাম, আমার বাড়ি হলো বর্তমান মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার চারিগ্রামে। এই গ্রামের স্কুলের নাম হলো এস. এ. খান হাই স্কুল। আমার দাদা-শ্বশুর এই স্কুলটা দিয়েছিলেন। তো সেই স্কুলে আমি ভর্তি হলাম। ভর্তি হওয়ার পর যে শিক্ষকদের পেলাম, তারা সব্বাই ভালো লেখাপড়া জানা মানুষ। প্রধান শিক্ষক ছিলেন ইংরেজির শ্রীযুক্ত বাবু রাজ্যেশ্বর চৌধুরী। অসাধারণ ইংরেজি জানতেন।
রাজু আলাউদ্দিন: তখনকার দিনে বোধহয় সব স্কুল বা কলেজের শিক্ষকরাই একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করতেন। (সম্পূর্ণ…)

সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: ধর্ম সাধারণত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভেতরে অনৈক্যই সৃষ্টি করে বেশি

রাজু আলাউদ্দিন | ১১ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

জীবদ্দশায় দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্ত অভিমত ও মন্তব্য জানালেও মুহম্মদ হাবিবুর রহমান সাক্ষাৎকার দানে ছিলেন পুরোপুরি অনীহ। ইতোপূর্বে তার একমাত্র যে-সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছিল সেটি গ্রহণ করেছিলেন ইতিহাসবিদ গবেষক জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দীন আহমদ যা একটি দৈনিক পত্রিকার ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল তার জীবদ্দশায়। কবি ব্রাত্য রাইসু ও আমি তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রস্তাব করায় তিনি এক কথায় আমাদেরকে নিরুৎসাহিত করেন। পরে রাইসুর কথার কুহকী জালে আবদ্ধ হয়ে সাক্ষাৎকার দিতে সম্মতি জানিয়ে আমাদেরকে সময় দিলেন এক সকালে তার সাথে দেখা করার জন্য। ২০১১ সালের মাঝামাঝি নির্ধারিত সময়ে এক সকালে তার বাসায় হাজির হয়েছিলাম। তিনি তখন গুলশান-১-এ থাকতেন। রাইসু, আমি আর রাইসুর তৎকালীন এক সহকারীসহ যথাসময়ে উপস্থিত হই। রাইসুকে তিনি খুব স্নেহ করতেন। আমাকে তিনি অনেক আগে থেকে চিনলেও তার সাথে ঘনিষ্ঠতা রাইসুর পর্যায়ে ছিল না। কিন্তু ২০১০ সালে দেশে ফেরার পর থেকে রাইসুসহ তার সাথে আমার যোগযোগ শুরু হলে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এই ঘনিষ্ঠতার ফলে বহুমুখী বিদ্যায় ঋদ্ধ এক পরিশ্রমী ও সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্বকে জানার সুযোগ হয়েছিল আরও কাছ থেকে। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সৎ ও সজ্জন, কর্তব্য ও স্নেহপরায়ন। নানান বিষয়ে আমাদের লেখার আবদার তিনি রক্ষা করতেন আন্তরিকতার সাথে। সাক্ষাৎকারটি আয়োজন করার পেছনে রাইসুর উদ্যোগ ও উৎসাহ প্রধান হলেও প্রশ্নপর্বে তিনি উপস্থিত থাকেননি, তবে নেপথ্যে থেকে তিনি পুরো সাক্ষাৎকারটি ভিডিওতে ধারন করেছেন। আজ ১১ জানুয়ারি তার মৃত্যুদিবসে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাক্ষাৎকারটি ভিডিওসহ প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহসান। — রাজু আলাউদ্দিন (সম্পূর্ণ…)

মুর্তজা বশীর: তুমি বিশ্বাস করো, হুমায়ূন আহমেদের কোনো বই পড়ি নি

রাজু আলাউদ্দিন | ২৫ december ২০১৭ ১১:৫৯ অপরাহ্ন

murtaza-2শিল্পী মুর্তজা বশীরের এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল ২০১৪ সালে তার জন্মদিনের( ১৭ আগস্ট) অল্প কয়েক সপ্তা আগে। কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউ্দ্দিন কর্তৃক গৃহীত এই সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহসান।
রাজু আলাউদ্দিন : বশীর ভাই, আপনার জন্ম তো ১৯৩২ সালে আগস্টে। (১৭ই আগস্ট—মুর্তজা বশীর)। তাহলে আগামী ১৭ আগস্টে হবে…
মুর্তজা বশীর : ৮১ পেরিয়ে ৮২তে গিয়ে পা দেব। আমার জন্মক্ষণ আমার পিতা স্বহস্তে লিখে গিয়েছিলেন। তখন কৃষ্ণপক্ষ দ্বিতীয়া, আরবি সনসহ পুরো দিনক্ষণটাই। কারণ আমাদের বাসায় ছোটবেলায় দেখেছি যে, একটা ছোট খাতা ছিল মেরুন কালার চামড়ার বাঁধাই করা। ওখানে আমার পিতা সন্তানদের নাম নিজের হাতে লিখতেন। আমারটাও তার নিজের হাতে লেখা। ওখানে লেখা ছিল : একটি পুত্রসন্তান লাভ, নাম আবুল খায়ের মুর্তজা বশীরুল্লাহ। উঁনি আবার বাংলা বানান, আরবি বানানটা, প্লাস পহেলা ভাদ্র, বুধবার, ইংরেজি সন-তারিখ, অর্থাৎ পুরো জিনিসটাই উনি লিপিবদ্ধ করেছিলেন। প্রত্যেক ভাইয়েরই ওরকম করা ছিল। ওটা শিল্পকলা একাডেমি থেকে আমার যে বইটা বের হয় সেখানে এর রিপ্রিন্ট করা আছে।
রাজু আলাউদ্দিন : আপনার জন্ম তো ঢাকাতেই।
মুর্তজা বশীর : ঢাকায় মানে… ঢাকাতেই। আমার বাবা তো তখন ইউনিভার্সিটিতে, এখন যেটা ব্রিটিশ কাউন্সিল, ওটা ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পাশে কলার বাগান। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উত্তর দিকে, ওখানে গম্বুজ দেয়া একটা বিল্ডিং ছিল যার সামনে জোড়া কবর—আলু শাহ, মালু শাহ বলে দুইভাই। ওই বিল্ডিংটায় আমার জন্ম। ওটা পরিচিত ছিল হাসান সাহেবের কুঠি বলে। মামুদ হাসান সাহেব ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছিলেন। ওটা ছিল প্রোভস্টের বাড়ি। উঁনি যখন বিলেতে যান তখন আমার বাবা অস্থায়ী প্রোভস্ট হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন উনি ওই বাড়িতে ওঠেন। ওই বাড়িতে আমার জন্ম। (সম্পূর্ণ…)

গোলাম মুরশিদ: আপনি শত কোটি টাকা চুরি করে শুধুমাত্র যদি একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করে দেন, তাহলে পরকালে নিশ্চিত বেহেশত!

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ december ২০১৭ ১০:৪৯ অপরাহ্ন

Murshid-8লন্ডন-প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক, গবেষক, সংবাদ-উপস্থাপক এবং আভিধানিক। জন্ম ১৯৪০, বরিশালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. এ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে। পি এইচ ডি-ঐতিহাসিক ডেভিড কফের তত্ত্বাবধানে। গবেষণার বিষয়, উনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু সমাজ সংস্কার আন্দোলন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দশক ধরে অধ্যাপনা। মাঝখানে দু’বছর কেটেছে মেলবোর্নে, শিবনারায়ণ রায়ের তত্ত্বাবধানে, পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণাকর্মে। ১৯৮৪ সাল থেকে লন্ডন-প্রবাসী। বেতার-সাংবাদিকতা এবং শিক্ষকতার অবসরে প্রধানত আঠারো শতকের বাংলা গদ্য এবং মাইকেল-জীবন নিয়ে গবেষণা। প্রধান নেশা গবেষণার-অতীতকে আবিষ্কারের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত বিদ্যাসাগর বক্তৃতামালার ওপর ভিত্তি করে রচিত গ্রন্থ: রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ, পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রচর্চা (১৯৮১)। পিএইচডি, অভিসন্দর্ভের ওপর ভিত্তি করে লেখা সমাজ সংস্কার আন্দোলন ও বাংলা নাটক (১৯৮৫)। মহিলাদের নিয়ে লেখা, ‘Reluctant Debutante: Response of Bengali Women to Modernization (১৯৮৩) (বাংলা অনুবাদ : সংকোচের বিহুলতা।[১৯৮৫]) এবং রাসাসুন্দরী থেকে রোকেয়া : নারীপ্রগতির একশো বছর (১৯৯৩)। উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থ: কালান্তরে বাংলা গদ্য (১৯৯২), যখন পলাতক (১৯৯৩) এবং বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার আদি-পর্ব (১৯৮৬)। প্রবন্ধ সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২)। আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে বক্তৃতা দান (১৯৯১-৯২)। ছদ্মনাম : হাসান মুরশিদ। এই নামে একটি উপন্যাসও লিখেছেন।
গত নভেম্বরের ২৪ তারিখে তার ধানমন্ডিস্থ বাসবভবনে তার সঙ্গে কবি প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের যে-দীর্ঘ
আলাপচারিতা হয় তারই শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com