সাক্ষাৎকার

‘মেমসাহেব’-এর নিমাই ভট্টাচার্য: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যার পেছনেও মৌলবাদীরা ছিল

মিন্টু চৌধুরী | ২৬ আগস্ট ২০১৮ ৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

বহুল পঠিত উপন্যাস ‘মেমসাসেহব’-এর আলোচিত মেমসাহেব চরিত্রটি একেবারেই কাল্পনিক বলে জানালেন বইটির লেখক নিমাই ভট্টাচার্য। তার মতে, ‘রিপোর্টার’ যেমন একটি বই, ‘মেমসাহেব’ও তেমনি একটি। পাঠক পড়ে যেটা ভাববে সেটাই আসল কথা।

বিখ্যাত এ লেখক-সাংবাদিক সম্প্রতি কলকাতার টালিগঞ্জের মোর এভিনিউতে নিজ বাসায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

‘মেমসাহেব’ ছাড়াও ‘রিপোর্টার’, ‘ডিপ্লোম্যাট’, ‘বংশধর’, ‘পিকাডেলি সার্কাস’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘কয়েদী’সহ অসংখ্য বই লিখেছেন নিমাই ভট্টাচার্য। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দেড়শ’র অধিক। তিনি তার লেখক ও সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন সাক্ষাৎকারে।

এপার এবং ওপার বাংলা মিলিয়ে তার সবচেয়ে বেশি পঠিত ও জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মেমসাহেব’ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসটি এ বছর প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে।

নিমাই ভট্টাচার্য জানান, ‘‘আমার ৩৫ বছর বয়সে বইটি লিখেছি। তখন আমি রিপোর্টার। এটি অসম্ভব জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বিক্রিত বই। এবারে এটি প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে। আমার লেখা বইয়ের মধ্যে এটি এখনও পর্যন্ত সমানভাবে জনপ্রিয় বই।’’

‘মেমসাহেব’ প্রকাশের ৫০ বছরে এসে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘খুবই খুশি। ৫০ বছর ধরে একটা বই সমানভাবে জনপ্রিয় তা খুব একটা দেখা যায় না।’’ (সম্পূর্ণ…)

শামসুজ্জামান খান: নিজের দলের কোনো সমালোচনা করব না, অন্যদের করব– তাহলে তো সে পার্সিয়াল হয়ে গেল

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ আগস্ট ২০১৮ ৭:২০ পূর্বাহ্ন


রাজু আলাউদ্দিন: আমি যদ্দুর জানি, লেখালেখির একদম শুরুর দিকে আপনি গল্প এবং কবিতা লিখতেন। এখন আপনি আর গল্প কবিতা লেখেন না। প্রচুর ননফিকশন, অর্থাৎ গবেষণা বা প্রবন্ধ এইগুলোতে আপনি এখন অনেক বেশি লিপ্ত। তো এরপরে আর কখনোই কেন গল্প এবং কবিতা লিখলেন না?
শামসুজ্জামান খান: এটা বলতে গেলে আমাকে শুরু করতে হবে একেবারে প্রাইমারি স্কুল থেকে। আমার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা সব্বাই খুবই বিদ্বান তো ছিলেনই, সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাংলার যিনি শিক্ষক ছিলেন, তিনি জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়তেন, আমরা বুঝতাম না, তবু তিনি আমাদের সামনে সেসব কবিতা পড়তেন। সাহিত্যের ব্যাপারে আমার আগ্রহটা তখন থেকেই শুরু হয়েছিল। তার চার বা পাঁচ বছর পরে যখন আমি হাইস্কুলে এলাম, আমার বাড়ি হলো বর্তমান মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার চারিগ্রামে। এই গ্রামের স্কুলের নাম হলো এস. এ. খান হাইস্কুল। আমার দাদা-শ্বশুর এই স্কুলটা দিয়েছিলেন। তো সেই স্কুলে আমি ভর্তি হলাম। ভর্তি হওয়ার পর যে শিক্ষকদের পেলাম, তারা সব্বাই ভালো লেখাপড়া জানা মানুষ। প্রধান শিক্ষক ছিলেন ইংরেজির শ্রীযুক্ত বাবু রাজ্যেশ্বর চৌধুরী। অসাধারণ ইংরেজি জানতেন।
রাজু আলাউদ্দিন: তখনকার দিনে বোধহয় সব স্কুল বা কলেজের শিক্ষকরাই একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করতেন।
শামসুজ্জামান খান: খুব স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করতেন। বাংলার শিক্ষক যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে ফজলুল করিম স্যার ছিলেন, আনোয়ারুল ইসলাম সাহেব ছিলেন, এঁরাও খুব ভালো বাংলার শিক্ষক ছিলেন। এবং আরেকজন শিক্ষক এলেন, তিনি বাংলা ছাড়াও অন্য বিষয় পড়াতেন। তার নাম খলিলুর রহমান। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। এইটুকু আমরা পরে জানতে পেরেছি। তিনি বামপন্থী চেতনার সাথে আমাদের পরিচিত করেন। তিনি এবং কার স্ত্রী রুকাইয়া সুলতানা; রুকাইয়া সুলতানা পরবর্তীকালে ডক্টর জি. সি. দেবের পালিতা কন্যা হয়েছিলেন। এই দুইজনই আমাদের গ্রামে তখন থাকেন। তারা আমাকে নিয়ে ‘পূর্বাভাস’ নামে একটা পত্রিকা বার করলেন।
রাজু আলাউদ্দিন: এটা কত সালের ঘটনা বলছেন?
শামসুজ্জামান খান: ১৯৫৩/৫৪ সন। এই সময় পত্রিকা বার করলেন। তো একটা মজার ব্যাপার হলো, আমাদের গ্রামেরই কবি মঈনুদ্দীন সাহেব.. (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী রফিকুন নবী: ওই বাড়িতে আমরা বঙ্গবন্ধুকে বইটা দিলাম

রাজু আলাউদ্দিন | ৩ আগস্ট ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ন



কাগজ এবং ক্যানভাস–দুয়েই তার স্বাচ্ছন্দ্য । কাগজে তিনি আঁকেন তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে এমন এক ভাষায় যা চিত্রল গুণে ঋদ্ধ। অন্যদিকে ক্যানভাসে তিনি তুলে ধরেন রংয়ের সেই বর্ণময় সম্ভার যা কথার অমরাবতী হয়ে উঠেছে। বর্ণ ও বর্ণমালা অভিন্ন মর্যাদায় রফিকুননবীর কাছে উদ্ভাসিত, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়ে শিল্পী রফিকুন নবীকে অনন্য করে তুলেছে। চিত্রশিল্পী, কার্টুনিষ্ট, ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, শিল্পসমালোচ এবং চিত্রকলার শিক্ষক এখন পরিচয়ের ব্যাপ্তির কারণে কেবলই ‘রনবী’ নামে সুপরিচিত, যিনি অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেছেন টোকাই নামক এক চরিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখক-শিল্পীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৮ নভেম্বর রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।
পুলিশ অফিসার বাবার বদলির চাকুরির সুবাদে রফিকুন নবীর বাল্য ও কৈশোরকাল কেটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়৷ পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝিতে ঢাকায় স্থায়ী হন তাঁরা। পুরান ঢাকাতেই কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কাটে রফিকুন নবীর৷ ১৯৫০-এর মাঝামাঝিতে স্কুলে ভর্তি হন তিনি৷ পুরান ঢাকার পোগোজ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫৯ সালে ঢাকার সরকারি আর্ট কলেজে ভর্তি হন৷ এখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দিন আহমেদ, কামরুল হাসানসহ দেশের খ্যাতিমান দিকপালের সান্নিধ্যে থেকে পড়াশোনা করেন৷
পড়াশোনা শেষ করে রফিকুন নবী সে সময়ে ঢাকার প্রথম সারির পত্রিকাগুলিতে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। নিয়মিত কার্টুন আঁকতেন সাপ্তাহিক পূর্বদেশ পত্রিকায় কবি আবদুল গনি হাজারির কলাম কাল পেঁচার ডায়েরীতে৷১৯৬৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষক হিসেবে জীবন শুরু করেন৷ আর্ট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নিয়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু হয়৷ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অন্যান্য শিল্পীদের সাথে দলবদ্ধ হয়ে ঢাকায় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, কাপড় ও খাদ্য সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে গ্রীক সরকারের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন বৃত্তি নিয়ে তিনি ভর্তি হন গ্রীসের এথেন্স স্কুল অব ফাইন আর্ট-এ৷ পড়াশোনা করেছেন ছাপচিত্র বা প্রিন্ট মেকিং-এর ওপর৷ ১৯৭৬ সালে দেশে ফিরে আসেন৷ শিক্ষক থেকে ধীরে ধীরে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপকের পদে অধিষ্ঠিত হন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস-এর ড্রইঙ ও পেইন্টিং বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের পরিচালক। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রথম নির্বাচিত ডিন হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
রফিকুন নবী পেয়েছেন একুশে পদক, চারুকলায় জাতীয় সম্মাননা শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, বুক-কভার ডিজাইনের জন্য ১৩ বার ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার৷২০০৮ সালে তাঁর আঁকা খরা শীর্ষক ছবির জন্য ৮০টি দেশের ৩০০ জন চিত্রশিল্পীর মধ্যে ‘এক্সিলেন্ট আর্টিস্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে মনোনীত হন।
লেখক-শিল্পী রনবীর দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত বছর তার বাসায়।
কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রনবী তার শিল্পী ও লেখক জীবনের নানাদিক তুলে ধরেন। অডিওতে ধারণকৃত এই সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

সাসকিয়া নোর্ট: আমার ধর্ষক যদি এখনও বেঁচে থাকতো তাহলে এই বইটি আমি লিখতাম না

তানবীরা তালুকদার | ২৬ জুলাই ২০১৮ ৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

সাসকিয়া নোর্ট এর প্রথম উপন্যাস স্ট্রমবলি। এক জোড়া সফল লেখক দম্পত্তি তাদের বিয়েকে কিভাবে ধ্বংসের রাস্তায় নিয়ে যায় সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা রযেছে এতে। লেখক দম্পত্তি এইভা হুকে আর মারসেল ভান রোজমারেন তার সাথে কথা বলেছেন তার সাফল্য, নেদারল্যান্ডসের মেরুকরণ, তার উপন্যাসের বিষয়বস্তু আর যৌন সহিংসতা নিয়ে।
ভাবা হচ্ছিলো কোন এক লেখক দম্পত্তি যেন সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাসের লেখকের সাক্ষাতকার নেয় কারণ উপন্যাসটিও আবর্তিত হয়েছে একটি লেখক দম্পত্তিকে কেন্দ্র করে। উপন্যাসের কারেল ভান বোহেমেন আর সারা যোমার-এর অকপট সংলাপে, তাদের সংসার, তাদের ঝগড়া, বিদ্বেষ, হিংস্রতা, বিরক্তি আসলে ছদ্মরূপে সাসকিয়া’রই নিজের জীবন কথা।
তখন ফোল্কস ক্রান্ত আমাদের কথা ভাবলো।
সাসকিয়া’র সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন ছিলো?
বেশ কয়েক বছর আগে একদম শেষ মুহূর্তে আমরা ভান দ্যা ডাইকের “ওভার হার” কনসার্টের টিকেট কিনি। সেই টিকেট আনতে আমাদেরকে যেতে হয়েছিলে লাইস্টারপ্লাইনের ক্যাফে ওয়েবারে যেখানে সাসকিয়া তার পরিবারের সাথে বিয়ার পান করত। ওর ভাইয়ের ছেলে ইয়ান রুফও সেখানে ছিল। কথাবার্তা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমাদের মধ্যে ঝগড়া হল কারণ একজন অপরজনকে দোষ দিচ্ছিলো যে আমরা একে অপরের প্রতি যথেষ্ঠ ভদ্র ছিলাম না।

যখন আমরা প্রথম বারের মত এক সাথে ছুটি কাটাতে গেলাম, সমুদ্রতটে বসে এইভা প্রথমবারের মত সাসকিয়া নোর্ট-এর Koorts বইটা পড়লো। তারপরেই হোটেলের সুইমিংপুলের কাছে রাখা বইয়ের তাক থেকে নিয়ে সে De verbouwing en De eetclub বইটাও পড়লো। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মুর্তজা বশীর: বাংলাদেশে কেউ শহীদুল্লাহকে নিয়ে কোনো গবেষণা করেনি

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ মে ২০১৮ ৩:১৪ অপরাহ্ন

শিল্পী মুর্তজা বশীরের এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে তার বাসায়। এই সাক্ষাৎকারে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিলেন তার পিতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। অডিও সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি.স.
Shahidulla n Murtaja
রাজু আলাউদ্দিন: ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে আমাদের সমাজে কিছু ধারণা অথবা ভুল ধারণা আছে। সেটা হলো, তার আচরিক জীবনে এমন কিছু ছিল যেগুলো পশ্চাৎপদতা বলে অনেকে মনে করেন। কিংবা প্রগতিশীল ধারণার অনুকূল না–এ রকম মনে করা হয়। যেমন ধরেন, ছবি আঁকা পছন্দ করতেন না। গান শুনতে উনি পছন্দ করতেন না। বা গানকে উৎসাহিত করতেন না। ছবি আঁকাকে উৎসাহিত করতেন না। আরো এমন সাংস্কৃতিক দিক আছে, যেগুলো সম্পর্কে উনার ভূমিকা নেতিবাচক বলে ধারণা করা হয়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই। কারণ, আপনি উনার অন্যতম সন্তান। আপনি নিজে ছবি আঁকেন। আপনি তাকে পিতা হিসেবে দেখেছেন।

মুর্তজা বশীর: আমার বড়বোনের লেখার মাধ্যমে গানবাজনা সম্পর্কে আমার পিতার কথা যেটা আমি জেনেছি সেটা এরকম: আমার বোন নাকি হারমোনিয়াম দিয়ে গান গাচ্ছিলেন, আমার বাবা হারমোনিয়াম ভেঙে ফেলেছেন। অন্যান্যদের কাছে শুনেছি, কোনো সভা-সমিতিতে যখন গান হতো, তিনি কানে আঙুল দিয়ে থাকতেন। আবার ঢাকার জগন্নাথ হলের এক প্রাক্তন ছাত্র, সুকুমার রায়ের এক লেখায় পড়েছি( বাসন্তিকা, হিরকজয়ন্তী সংখ্যা), সে লিখছে, সে একটু গানবাজনা করত, শহীদুল্লাহ তাকে ধরে নিয়ে প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরির মালিক আবদুর রশীদ সাহেবের বাড়িতে নিয়ে গেলেন, এবং সেখানে শহীদুল্লাহ তাঁর বগলদাবা থেকে তাঁর অনুবাদ হাফিজের লেখা গান বের করলেন এবং বললেন যে, তুমি এটার সুর করো। Daily Star পত্রিকায় একটি ছবি দেখেছি সুরকার আবদুল আহাদ পিয়ানোয় সুর তোলা অবস্থায় শহীদুল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে তিনি গান পছন্দ করছেন না এটা ঠিক সত্য না। আর ছবি আঁকার ব্যাপারটা আমি ভালো বলতে পারব এই জন্য, যেহেতু আমি তার সন্তান হিসেবে ছবি এঁকেছি। তবে আমার আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পেছনে, এটা সত্যি যে তার আগ্রহ বা অনাগ্রহ কোনোটাই ছিল না। আমি কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে ওখানে ভর্তি হই। আমার নিজেরও কোনো ছবি আাঁকার ইচ্ছে ছিল না। এবং আমি ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকতাম না। এবং স্কুল লাইফে ক্লাশে যে ড্রইং হতো, সেই ড্রইংয়ে আমি সব সময় শূন্য পেতাম। (সম্পূর্ণ…)

ভূমেন্দ্র গুহ: পশ্চিমবঙ্গ বলে একটা দেশ যার কোনো পিতা নেই, মাতা নেই, চরিত্র নেই, কিচ্ছু নেই

রাজু আলাউদ্দিন | ১৫ মে ২০১৮ ৬:৪০ অপরাহ্ন


২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল একেবারে অপরিকল্পিতভাবেই দেখা হয়েছিল কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ভূমেন্দ্র গুহর সাথে কোলকাতায় তার নিজস্ব বাসভবনে। অসামান্য এই ব্যক্তিত্বের সাথে দেখা করার সুযোগটা করে দিয়েছিল আমার বন্ধু কবি রাহুল পুরকায়স্থ। বিকেলের দিকে রাহুলের সাথে কফি হাউজে দেখা করার কথা। লক্ষ্য ওখানে বসে আড্ডা দেয়া কিংবা রাহুলের হাত ধরে কোলকাতার অলিগলি ঘুরে দেখা। কফি হাউজে পৌঁছাতেই রাহুল বললো, ভূমেনদার সাথে তোমার কখনো আলাপ হয়েছে, পরিচয় আছে তার সাথে? আমি বললাম, এই মশহুর মানুষটির খ্যাতির সুবাস পাচ্ছি অনেক বছর থেকেই, কিন্তু কোনদিন দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। দেখা হয়নি কখনো? না। তাহলে চলো ভূমেনদার সাথে তোমার দেখা করিয়ে দেই। সে কি? এখনই? হ্যাঁ, অসুবিধা আছে কোনো? না না, অসুবিধা নেই। আমিতো ভাবতেই পারছি না কিংবদন্তীতুল্য এই মানুষটির সাথে এত সহজেই দেখা করা সম্ভব। রাহুল আমার বিস্ময়সূচক সম্মতি পেয়েই বলে উঠলো, চলো তাহলে। কিন্তু তাকে আগে জানাবে না যে আমরা আসছি? রাহুল প্রায় তোয়াক্কাহীন ভঙ্গিতে বললো, বলতে হবে না, চল। তক্ষুণি একটা ট্যাক্সি ধরে আমরা রওয়ানা হয়ে গেলাম করুণময়ী সল্ট লেকের দিকে। তখন বোধহয় কোন এক ছুটির দিন ছিল সেটা। রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা। রাহুল মাঝেমধ্যেই কথার ফাঁকে ফাঁকে আশেপাশে কী যেন খুঁজছিল। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম বোধহয় ভূমেনদার বাড়ি খুঁজছে। কী খুঁজছ জিজ্ঞেস করে তখন কোনো সদুত্তর পাইনি। এর উত্তর পাওয়া গেল পরে, ভূমেনদা আর রাহুলের আলাপচারিতার ভেতরে। সম্ভবত ২০/২৫ মিনিট লেগেছিল তার বাসায় পৌঁছুতে। সুউচ্চ এক ফ্ল্যাট বাড়ির তৃতীয় তলায় গিয়ে রাহুল কলিং বেল-এ টিপ দিতেই এক যুবতী নারী দরজা খুলে দিলেন। সম্ভবত ভূমেনদার মেয়ে হবেন। ভূমেনদা আছেন না?–এটা প্রশ্ন হলেও রাহুল এমনভাবে বললো যেন ভূমেনদা আছেন, রাহুলের এতে কোনো সন্দেহ নেই। স্রেফ সৌজন্যের খাতিরে জিজ্ঞেস করে প্রবেশ করতে হয়, তাই এই প্রশ্ন। সেই নারী আমাদেরকে অতিথি কক্ষে বসিয়ে ভূমেনদাকে ডাকতে গেলেন। অতিথি কক্ষের দক্ষিণদিকে একটা দরজা যেটা যুক্ত হয়েছে এই বাসার একদিলের বারান্দার সাথে। ওখানে একটা
জলচৌকিতে বসে উবু হয়ে বসে আছেন তিনি, চারিদিকে শিশুর খেলনার মতো পাণ্ডুলিপি অার বইপত্র ছড়ানো ছিটানো। পরনে একটা চেক লুঙ্গি, গায়ে হাতাকাটা গেঞ্চি। রাহুলের আওয়াজ পেয়েই তিনি কাত হয়ে রাহুলকে দেখতে পেয়ে উঠে এলেন অতিথি কক্ষে। গায়ের রং ফর্সা। তিনি প্রবেশ করতেই রাহুল তার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমি উঠে দাঁড়িয়ে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। আমার সম্পর্কে রাহুল এটা সেটা বললো, প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা যেমনটা করি থাকি। রাহুলের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, সাহেবকে নিয়ে এলেন, কিন্তু ‘জিনিস’ নিয়ে এলেন না যে। আমি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে ফেললাম এই ‘জিনিস’-এর মানে। রাহুল জবাবদিহির ভঙ্গিতে জানালো, খুঁজেছি, পেলাম না। সবগুলোই বন্ধ পেলাম। ভূমেনদা রাহুলের উত্তরে নির্বাপিত না হয়ে অন্য একটা ঠিকানা দিলেন। রাহুল সেখানে যেতে উদ্যত হতেই, আমি সদ্য জ্বলে ওঠা উৎসাহের শিখাটিকে ফু দিয়ে নিভিয়ে দেয়ার জন্য বললাম, ভূমেনদা, আজ নয়, কারণ বৌবাচ্চাদেরকে হোটেলে রেখে এসেছি। ওরা ক্লান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে। উঠেই আমার উপস্থিতি আশা করবে। সুতরাং, পরের বারের জন্য এই আতিথেয়তা বরাদ্দ থাকুক। ভূমেনদার বয়স তখন ৮২ বছর, এই বয়সেও তিনি দিব্য সিগারেট ফুকছেন, এমনকি সোমরসেও তার আসক্তি অটুট আছে দেখে আমি সত্যি অবাক হয়েছি। নিজে ডাক্তার ছিলেন, খুবই বড় নামকরা ডাক্তার। কিন্তুু বাঙালি-কথিত এইসব ‘বদভ্যাস’ থেকে নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে রাখেননি। তার সাথে এটা সেটা টুকটাক কথাবার্তা চলতেই আমি তার সাথে কথাবার্তা রেকর্ড করার অনুমতি এক প্রশ্ন করার অনুমতি চাইতেই তিনি উদারতার সাথে সম্মতি দিলেন। প্রয়াত ভূমেনদার সাথে আমার আলাপচারিতার পূর্ণ বিবরণটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বিডিআর্টসের পাঠকের জন্য অপ্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারটি শ্রতি থেকে লিপিরূপটি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহসাত।–রাজু আলাউদ্দিন। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ ইকবাল: যুদ্ধ মানে রাইফেল নিয়ে, পতাকা নিয়ে দৌড়াচ্ছে— শুধু এটাই না

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৩০ এপ্রিল ২০১৮ ১:১৩ অপরাহ্ন

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

মোহাম্মদ ইকবালের ক্যানভাসে জাপানি কাগজে আঁকা বিস্ফোরিত ক্ষয়িষ্ণু চোখেরা তাড়িয়ে বেড়াবে যে কোন অনুভূতিপ্রবণ মানুষকে। জগতের সমস্ত অন্যায়, অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রঙ ও রেখায় যেনো প্রতিবাদ করছেন শিল্পী। জাপানে শিক্ষা নেয়া এই শিল্পী ২০০৫ সালে পেয়েছেন চিত্রকলায় দেশটির জাতীয়ভাবে প্রদত্ত আওকি সিগেরু গ্রান্ড প্রাইজ, অথচ নিজের দেশেই বলা যায় তার প্রতিভা প্রচারের আলোর বাইরে। ইকবাল তাঁর উদ্ভাবনী কৌশল, নিরীক্ষাপ্রবণতা ও স্বতন্ত্র বিষয়ের গুণে বাংলাদেশের চিত্রকলার ভুবনে এক সম্ভাবনাময় চিত্রকর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন চারুকলার শিক্ষার্থী থাকতেই। দীর্ঘ সময় তিনি কাজ করে সমাজবিচ্ছিন্ন, গৃহত্যাগী, সংসারে উদাসীন মানব-মানবীর যে-চিত্র অঙ্কন করেছিলেন, তাতে তাঁর শিল্পীমনের আর্তি ছিল। এসব ছিন্নমূল মানুষের জীবনের অন্তর্গত বোধকে তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গে রূপায়িত করেছিলেন তার তেলরঙের ক্যানভাসে। শিল্পী ইকবাল তাঁর শিল্পীজীবনের এক পর্বে এবং সৃজনে এই ব্যবহার্য বস্তুসামগ্রী ঢালাওভাবে ব্যবহার করে নিজেকে আলাদা পরিচয়ে চিহ্নিত করেছিলেন।

পরবর্তীকালে সন্ন্যাস-জীবনের নানা অনুষঙ্গের পাশাপাশি তিনি অঙ্কন করেছিলেন সাধারণ মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক ও মানুষের নানা অভিব্যক্তির অবয়ব। কষ্ট ও যন্ত্রণার ছায়া ছিল এসব সাধারণ লোকের মুখাবয়বে। অভিনবত্বে, চমৎকারিত্বে ও রং-ব্যবহারের মনোজ সুষমার কারণে তাঁর সৃজনভূমি মৃত্তিকালগ্ন ও দেশভাবনার উজ্জ্বল প্রকাশ বলে বিবেচিত হয়েছিল।

মোহাম্মদ ইকবালের জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৮ই জুন চুয়াডাঙ্গা শহরে। বাবা আশরাফ উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মাতা নূরজাহান বেগমের দশ সন্তানের মধ্যে পঞ্চম পুত্র ইকবাল। ১৯৮২ সালে শিল্পী হবার স্বপ্ন নিয়ে শিল্পশিক্ষা শুরু করেছিলেন চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগে। ১৯৮৯ সালে সম্পন্ন হয় তার স্নাতকোত্তর।

চারুশিক্ষা পেয়েছেন মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাজী আবদুল বাসেত, রফিকুন নবীর মতো বড় শিল্পীদের। ইকবাল জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৯৯ সালে জাপান যান। চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা তাঁর মানসভুবনকে আরো পরিশীলিত, সমৃদ্ধ, নিরীক্ষাপ্রবণ ও শিল্পের অন্বিষ্টভুবন নির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। (সম্পূর্ণ…)

মার্কিন ঔপন্যাসিক জোসেফ হেলার: আমেরিকার রাজনীতি হাস্যকর

রেশমী নন্দী | ৮ এপ্রিল ২০১৮ ১১:২৭ অপরাহ্ন


মার্কিন লেখক জোসেফ হেলার রাজনীতির রঙ্গ আর রসিকতার গুরুত্বের সহাবস্থান ঘটিয়েছেন তাঁর কাজে। ছোট গল্প, নাটক, উপন্যাস সব কাজেই তিনি ‘এবসার্ডিটি’কে উপস্থাপন করেছেন অতুলনীয় ভঙ্গীতে। জীবদ্দশায় মোট সাতটি উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর লেখা সামথিং হ্যাপেন্ড আর গুড এজ গোল্ড বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে স্যাটায়ারধর্মী লেখার অনন্য উদাহরণ। আর ‘ক্যাচ ২২’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদী সাহিত্যকর্ম বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। অনূদিত লেখাটি ১৯৮৮ সালে প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকার। বিল মোয়েরসের সাথে জোসেফ হেলারের এই কথোপকথনটি জুড়েই রয়েছে ‘পলিটিক্যাল এবসার্ডিটি’ নিয়ে তাঁর কৌতুকজন কিন্তু চিন্তার খোরাক জোগানো মতামত।
হেলারের এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন বিখ্যাত সাংবাদিক বিল মোয়েরস। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অনুবাদক রেশমী নন্দী।

বিল মোয়েরস: `গুড এজ গোল্ড’ বইটি দ্বিতীয়বারের মতো পড়তে পড়তে একদিন রাত তিনটার সময় জোরে হেসে উঠেছিলাম-হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা যেখানটাতে বলছিলেন, ‘আমরা সত্যি কথা বলতে যাচ্ছি, এমনকি এর জন্য যদি আমাদের মিথ্যা বলতে হয়, তবুও।’ ; প্রেসিডেন্ট যিনি প্রথম বছরটা কোনো কাজ না করে কেবল একটি বই লিখছেন; অথবা সেই কর্মকর্তা যিনি বলছেন, ‘আমরা প্রশাসনে কোনো ইয়েস-ম্যান চাই না, আমরা চাই স্বাধীন সত্ত্বার একজন মানুষ যিনি আমরা যা ঠিক করবো সবটাতে সমর্থন দেবেন।’ রাজনীতি আপনার কাছে হাস্যকর লাগে কেন?

জোসেফ হেলার: রাজনীতি আমার কাছে হাস্যকর লাগে কারণ এটা হাস্যকর। আমরা কথা বলছি আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে। আপনি আমার বই থেকে তিনটা উদাহরণ দিলেন। আমার মনে হয়, গুড এজ গোল্ড-এর যে অংশগুলো পাঠকদের হাসায় সেগুলোর প্রায় সবই বাস্তব জীবনে অহরহ ঘটে। আমেরিকার রাজনীতি হাস্যকর। এর অনেক অনেক বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা যায়, খুব কম কিছুই আছে যেগুলো প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু এর সম্পর্কে প্রশংসা বা সমালোচনা যে কোনভাবেই যে কথাটা বলা যায় তা হলো, এটা হাস্যকর রকমের মজার। (সম্পূর্ণ…)

অক্তাবিও পাস: আমি প্রেমে পড়ি আর ভারতে আমরা বিয়ে করি

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩১ মার্চ ২০১৮ ১২:১৫ অপরাহ্ন

যে-মাসটি আমাদের স্বাধীনতার, তার শেষদিনেই ১৯১৪ সালে মেক্সিকো সিটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৯০ সালের নোবেলবিজয়ী কবি অক্তাবিও পাস। পাস ছিলেন এনসাইক্লোপেডিক ব্যক্তিত্বদের শেষ প্রতিনিধি। ইতিহাস, দর্শন, নৃবিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য, রাজনীতি, এককথায় মানুষের জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রায় সবগুলো শাখাতেই তার ছিল অপরিমেয় পাণ্ডিত্য। পাশাপাশি এসব বিষয়ে তার সুগভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তাকে করে তুলেছে অনন্য। লাতিন আমেরিকান লেখকদের মধ্যে পাসের তুল্য লেখক খুব কমই আছেন। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে লেখা ও মতামতের জন্য নিন্দিত হয়েছেন মাঝেমধ্যে কিন্তু অনুপক্ষেনীয় ছিলেন তার সুগভীর ও তীক্ষ্ণ বিচারশক্তির কারণে।
কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে পাসের বিশ্বব্যাপী পরিচয়ের পাশিপাশি আরেকটি কারণেও তিনি অনন্য: ভারতবীক্ষা। কর্মসূ্ত্রে তিনি দুদফায় ভারতে এসেছিলেন। ভারত ও এর সভ্যতাকে তিনি যে-গভীরতায় দেখেছেন ও বিশ্লেষণ করেছেন তা খুব কম বিদেশি লেখকই করতে পেরেছেন।
অলোকসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক বিপাশা চক্রবর্তীর অনুবাদে প্রকাশ করা হলো তার দীর্ঘ সাক্ষাতকারের অংশবিশেষ যেটি প্রকাশিত হয়েছিল সাক্ষাৎকারের জন্য বিখ্যাত সাহিত্যসাময়িকী প্যারিস রিভিউ পত্রিকায়। বি, স,

আলফ্রেড ম্যাক এ্যাডামের সাথে অক্তাবিও পাসের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার

বেটেখাটো এবং বয়সে সত্তর হলেও অক্তাবিও পাসের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির কারণে এখনো তাকে যথেষ্ট যুবকই মনে হয়। তার কবিতা ও গদ্য– উভয় লেখাতেই রাজনৈতিক গভীরতা ও পাণ্ডিত্যের ছোঁয়া আছে। মেক্সিকোতে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ইতিহাস বারবার লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে, যেমনটি দেখা গিয়েছিল আদিবাসী অতীতের প্রেক্ষাপটে; যেখানে তিনি ব্যক্ত করেছেন কিভাবে নিগূঢ় ভালোবাসা মানুষের প্রচন্ড একাকিত্বকে দূর করে। পাস বহুদিন থেকেই বিংশ শতাব্দির দুই বিখ্যাত দক্ষিণ আমেরিকান কবি সেসার বাইয়্যেহো ও পাবলো নেরুদার সঙ্গে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ১৯৯০ সালের কলম্বাস দিবসে এক সাক্ষাৎকার দেবার ঠিক তিন দিন পরে পাস সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে নেরুদাদের কাতারে শামিল হন।

একজন আইনজীবী বাবার সন্তান ও ঔপন্যাসিকের নাতি, পাস ১৯১৪ সালে মেক্সিকোতে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বেড়ে ওঠায় এই দু’জনের অপরিসীম প্রভাব ছিল। পাস তার বাবার কাছে থেকে সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি সম্পর্কে জানতে পারেন যিনি মেক্সিকান বিপ্লবী এমিলিয়ানো সাপাতার পরামর্শক ছিলেন। আর তাঁর পিতামহের লেখা চিঠিগুলি দিয়ে বিশ্বকে জানতে শিখেন। বালক পাস তাঁর পিতামহের বিশাল লাইব্রেরীতে অবাধ বিচরণের সুযোগ পেয়েছিলেন। আর এভাবেই তিনি স্প্যানিশ ও লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের অমূল্য ভান্ডারের স্বাদ নিতে পেরেছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকোতে সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করেন, কিন্তু ডিগ্রী অর্জনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান। (সম্পূর্ণ…)

নাসির উদ্দীন ইউসুফ: দেখতে পাচ্ছি, সমাজ এবং রাষ্ট্র ধর্মের সাথে একটি অবৈধ চুক্তিতে যাচ্ছে

রাজু আলাউদ্দিন | ২৭ মার্চ ২০১৮ ১০:০০ অপরাহ্ন

নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আমাদের চিরকালের গৌরব, তিনি সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা যিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলেন। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসেছিলেন আমাদের জন্য অমূল্য উপহার হাতে নিয়ে: আমাদের কাঙ্ক্ষিত সবুজ ও লালের এক অমর স্বাধীনতা। তিনি যদি জীবনে আর কিছুই না করতেন, তারপরেও তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরভাস্মর হয়ে থাকবেন। কিন্তু তার ব্যক্তিত্বের আছে আরেকটি দিক যেটি শিল্পিত স্বভাবে বর্ণময়। তিনি অামাদের নাট্যজগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের একজন। নাসির উদ্দীন ইউসুফ নির্দেশিত/পরিচালিত নাটক মানেই মঞ্চসাফল্যে তুঙ্গস্পর্শী। সফল তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনায়ও। নাটক ও চলচ্চিত্রে অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি অসংখ্যবার পুরস্কৃত হয়েছেন। যিনি আমাদের সবার অহংকার, কিন্তু নিজে পুরোপুরি নিরহংকারী স্বভাবের। কয়েকদিন আগে তার সাথে দীর্ঘ এক আলাপচারিতা হলো বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর অফিসে। যুদ্ধকালীন লোমহর্ষক নানান অভিজ্ঞতা আর তার নাট্যকলা নিয়ে শৈল্পিক বয়ান এই আলাপচারিতার মূল আকর্ষণ। বাচ্চু ভাইয়ের অননুকরণীয় বাচনভঙ্গি আর কথার তরঙ্গায়িত প্রবাহ দীর্ঘ আলাপচারিতাকে করে তুলেছে শ্রুতিসুভগ। তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদের শ্রুতিলিখনে থাকছে সেই আলাপচারিতার পূর্ণাঙ্গ পাঠের প্রথমার্ধ। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

বিজ্ঞানী এ এম হারুন-অর-রশিদ: উনি যখন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না তখন এটা দেব

রাজু আলাউদ্দিন | ৪ মার্চ ২০১৮ ১১:৪৪ অপরাহ্ন


এ এম হারুন-অর-রশিদ বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে, পদার্থবিজ্ঞানে তাঁর অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন।
অধ্যাপক ড. এ এম হারুন অর রশীদ ১৯৩৩ সালের ১লা মে বরিশাল জেলার নলছিটি উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ছয় বছর বয়সে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর রামবঙ্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে ড. রশীদ তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন৷ সেখানে কয়েক বছর পড়ার পর তাঁর বাবা তাঁকে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল-এ পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন৷ স্কুলের প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্যে বা ক্লাসে ভালো উপস্থিতির জন্যে প্রতিবারই তিনি বিভিন্ন বই পুরস্কার পেয়েছেন৷ দশম শ্রেণি পর্যন্ত ড. রশীদ কৃষ্ণনগরের ঐ স্কুলেই লেখাপড়া করেছেন৷ ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভাগ হলে তাঁর বাবাকে বদলি করে ঢাকা পাঠানো হলো৷ ঢাকা এসে বাবা ঢাকা কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলেন৷ ঢাকা এসে তাঁর বাবা তাঁকে ভর্তি করিয়ে দিলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে৷ তখন তাঁর ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার মাত্র তিন মাস বাকি ছিল৷ তিনি ১৯৪৮ সালে তত্‍কালীন East Bengal Secondary Education Board-এর অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে স্টারমার্কসসহ তিনটি বিষয়ে লেটার মার্কস (শতকরা ৮০ নম্বর এবং তার উপরে) পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন এবং এই ফলাফলের জন্যে একটি প্রথম গ্রেড সরকারি বৃত্তি লাভ করেন৷ তিনি ১৯৫০ সালে ইন্টারমিডিয়েট সায়েন্স পরীক্ষায় স্টারমার্কস সহ চারটি প্রধান বিষয়ের সবগুলিতে (ইংরেজী, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও গণিত) লেটার মার্কস পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন এবং এই ফলাফলের জন্যেও একটি প্রথম গ্রেড সরকারি বৃত্তি লাভ করেন৷ তাঁর ইংরেজিতে লেটার মার্কস পাওয়াটা ছিল তখনকার সময়ে একটা বিরল ঘটনা৷ তাঁর স্কুল ও কলেজের কোনো পরীক্ষায় কখনো দ্বিতীয় হননি। এরপর তিনি এসে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে৷ তিনি ১৯৫৩ সালে এই বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বি.এস.সি. সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন৷ ১৯৫৪ সালে তিনি ঐ বছর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সব স্নাতকের মধ্যে সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজা কালীনারায়ণ বৃত্তি লাভ করেন৷ তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পুনরায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এম.এসসি. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওভারসীস বৃত্তি (Overseas Scholarship) নিয়ে উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Glasgow, UK) যান৷ গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি প্রফেসর আর. জি. মুরহাউজ এবং প্রফেসর বি. এইচ. ব্রান্সডেনের (Professor R.G. Moorhouse and Professor B.H. Bransden) তত্ত্বাবধানে ক্ষেত্র তত্ত্বে টাম-ডানকফ আসন্ন মান (Tamm-Dancoff Approximation in Field Theory) ব্যবহার করে কে-মেসন নিউক্লিয়ন-এর একটি সমস্যার উপর কাজ করে ১৯৬০ সালে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন৷ তিনি দুই দফায় পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে নোবেল পুরস্কার কমিটির প্রস্তাব ছিলেন। সম্ভবত পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর আবদুস সালামের মনোনয়ন বিষয়ক অন্যতম প্রস্তাব ছিলেন।
তার এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি গৃহিত হয়েছিল ২০১৩ সালে তার ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিখন করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। (সম্পূর্ণ…)

মানুষ যদি এতই ধর্মপ্রবণ হয়ে থাকে তাহলে এত দুর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ, লুটপাট কি হতে পারে!

রাজু আলাউদ্দিন | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:৫০ অপরাহ্ন

রাজু আলাউদ্দিন: নজরুল নিয়ে আপনি একাধিক লেখা লিখেছেন। এবং আপনার নতুন কিছু পর্যবেক্ষণ আছে যা অন্য কারো লেখায় পাওয়া যায় না।
শামসুজ্জামান খান: তবে নজরুল সম্পর্কে আমার লেখালেখি কিন্তু কম। আমার ইচ্ছা আছে, ভালো করে নজরুলের বিষয়টাকে ধরে লেখালেখি করার। আমার নানা বিষয়ে আগ্রহ। নজরুল-চর্চাটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাজু আলাউদ্দিন: তো আপনি নজরুল কোন বিষয়ে লেখার কথা ভাবছেন? কোন বিষয়ে আসলে লেখা উচিত বলে মনে করছেন?
শামসুজ্জামান খান: নজরুলের বাঙালিত্ব নিয়ে কিছুটা লিখেছি। তিনি বাঙালির কবি, এটি আমি বলার চেষ্টা করেছি। আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশ প্রধানত বাঙালির বাংলাদেশ। কিন্তু সেই বাঙালি হবে আধুনিক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং বিশ্বনাগরিকও বটে। এই সবটা মিলিয়ে বাঙালির বাঙালিত্ব। তার জন্য নজরুল সাহিত্য আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। যেমন একই সঙ্গে তিনি মুসলিম ঐতিহ্যের ব্যবহার করেছেন। সনাতন ধর্ম বা হিন্দুধর্মের ব্যবহার করেছেন। সেই সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব-ঐতিহ্যের ব্যবহার করেছেন। এবং বঙালিত্বের ব্যাপারেও তার যে অনুধাবন, সেগুলো এতটাই অসাধারণ, অন্য কোনো লেখকের মধ্যে সেটা প্রায় পাওয়া যায় না। এবং লৌকিক উৎসের নবায়নের ক্ষেত্রে নজরুল কিন্তু খুবই তাৎপর্যপূর্ণ কিছু কাজ করেছেন। সেইদিক নিয়ে আমার আরেকটু খোঁজখবর নেয়ার ইচ্ছা। যেমন গানের ক্ষেত্রেও তিনি আব্বাস উদ্দীনের সঙ্গে গিয়েছিলেন আব্বাস উদ্দীন সাহেবের সেই এলাকায়। সেখানে গিয়ে একটা লোকগীতি তিনি শোনেন। শুনে সেইটারই তিনি যে নবায়ন করলেন– নদীর নাম সুরঞ্জনা– কী অসাধারণ! লোকজ একটা বিষয়কে তিনি নিয়ে এলেন পরিশীলিত আঙ্গিকে, একটি চমৎকার বাংলা গান হিসেবে।
রাজু আলাউদ্দিন: আরেকটি বিষয় নজরুলের সাথে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যেটা ঘটেছে, এক হলো, বাঙালি মুসলমান বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছে। এমনকি নাস্তিকতা বা মুরতাদের অভিযোগ এনেছে। এবং উনি সাচ্চা মুসলমান না, ইসলামের সেবক না– এরকম নানা অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। এমনকি এটাও বলা হয়েছে, আমরা বাংলাদেশে তার সাহিত্যকর্ম যদি নিতেই চাই, তাহলে সেই নেয়াটা যেন মুসলমানিত্বের সাথে নেয়া যায়, সে জন্য এক সময়ে সম্পাদনারও প্রস্তাব এসেছে।
শামসুজ্জামান খান: খণ্ডিত নজরুল। খণ্ডিত নজরুলকে নিতে বলা হয়েছে। এবং তার কাব্যের কিছু অংশ বর্জন করে নজরুলকে গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এরচে’ অসাহিত্যিক এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য আর হতে পারে না। একজন সাহিত্যিককে তার সমগ্র দিয়েই বুঝতে হবে। এবং নজরুল একজন অসাধারণ বড় মাপের কবি। তিনি দুটি ঐতিহ্যের ব্যাপারে যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, তিনি একজন উদ্ভাবনাময় বড় মাপের কবি। যে কারণে তৎকালীন হিন্দু সম্প্রদায়ের বাঙালি কবিরা কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, আপনি নজরুলকে নিয়ে এত কথাবার্তা বলেন কেন! আপনি তাকে কবি বলেইবা এত আনন্দ লাভ করেন কেন! নজরুল এমন কী কবি! তিনি বলেছিলেন, তোমরা ঠিক বোঝ না। আমি যদি নজরুলের মতো এই সময়ে জন্মগ্রহণ করতাম, এবং এই যুগের মুখোমুখি হতাম, আমার কবিতাও এরকমই হতো। এই কারণে নজরুলকে আমি প্রশংসা করি। নজরুল শুধুমাত্র কবি নয়, নজরুল এক মহাকবি। এটা হলো রবীন্দ্রনাথের মূল্যায়ন। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com