সাক্ষাৎকার

যে পেল সেই রূপের সন্ধান

ফিরোজ এহতেশাম | ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০৯ অপরাহ্ন

tuntun১লা কার্তিক ১৪২৪ (১৬ অক্টোবর ২০১৭) ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৭তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়ায় আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব। এ উপলক্ষে টুনটুন ফকিরের এ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফিরোজ এহতেশাম।
২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথে একটি বাড়িতে টুনটুন ফকিরের সাথে আমার কথা হয়। যথাসম্ভব তাঁর ভাষা অক্ষুণ্ন রেখে কথপোকথনটি এখানে তুলে দিচ্ছি-
ফিরোজ এহতেশাম: বাউলদের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত আছে-‘আপন ভজন কথা, না কহিবে যথা-তথা, আপনাতে আপনি সাবধান’- ভজন কথা কহিলে সমস্যা কী?
টুনটুন ফকির: আসলে সাধনের যে কথা সে বড় গুপ্ত কথা, গোপন কথা। যে লোক, গোপনে সাধন করার যার ইচ্ছা জাগবে তার কাছে বলা যায়। বলা যাবে না এমন কোনো কথা না। ইশারা-ইঙ্গিতে ওটাকে বুঝায়ে দেয়া যায়। এবং সাধারণ মানুষকে ইশারা-ইঙ্গিতের ওপরই বোঝানো হয়। যেমন, ধর্মটা কী? বাউল মানে- বাও মানে বাতাস, উল মানে সন্ধান। বাউল বাতাসের সন্ধান করে। নাসিকাতে চলে ফেরে। বাউল, ফকির এসব একই স্তরেরই জিনিস। তো, আপন ধর্মকথা না কহিও যথা-তথা, তার মানে কী? আমার গুরু আমাকে যে পথ দেখিয়েছেন, সেই পথে আমি হইছি কিনা জানার পর তখন তিনি যোগ্য পাত্র পাইল একটা, যোগ্য পাত্র তিনি খুঁজে পান। (সম্পূর্ণ…)

নোবেলজয়ী ইশিগুরোর সাক্ষাৎকার: কিছু কিছু ব্যাপারে তারা প্রবল জাতিবিদ্বেষী

নাহিদ আহসান | ১১ অক্টোবর ২০১৭ ১০:০১ অপরাহ্ন

Ishiguroকাজুও ইশিগুরো হঠাৎই যেন বিশ্বসাহিত্যের একজন প্রিয় লেখক হিসেবে জায়গা করে নিলেন। জাপানে জন্মেছেন তিনি , শৈশব কৈশোর কেটেছে ইংল্যান্ডে। সূক্ষ্ম নির্জন ভাষা ভঙ্গির উপন্যাস লেখেন তিনি। তার উপন্যাসের চরিত্ররা অদ্ভুত সব পরিস্হিতিতে তাদের অতীতের সাথে সম্পর্কযুক্ত থেকে যান । পঞ্চাশোর্ধ ইশিগুরো,তার স্মৃতি,তার দ্বিধা বিভক্ত ঐতিহ্য এবং তার সাম্প্রতিক উপন্যাস নিয়ে কথা বলেছেন্। তেইশ বছর ধরে মাত্র ছয়টি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। যার মধ্যে সাম্প্রতিকতম হচ্ছে,‘নেভার লেট মি গো’। জার্মান সাময়িকী Der Spiegel-এর অনলাইন ইংরেজি সংস্করণে ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবরে ইশিগুরোর একটি সাক্ষাৎকার গৃহীত হয়। সাক্ষাৎকরাটি নিয়েছিলেন Michael Scott Moore এবং Michael Sontheimer, এই সাক্ষাৎকারে ইশিগুরো নেভার লেট মি গো ছাড়াও তার অন্যান্য উপন্যাস নিয়েও কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারছি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও অনুবাদক নাহিদ আহসান। বি, স

Der Spiegel: গত ২৩ বছরে আপনার নেভার লেট মি গো ষষ্ঠ উপন্যাস। মনে হচ্ছে আপনার লেখালিখির গতি খুব ধীর। কেন বলুনতো?
ইশিগুরো: আসলে আমার কখনও মনে হয়নি যে আরও দ্রুত লেখা দরকার। আমি কখনো ভাবিনি আরও বই বের করা জরুরী। কিছুটা ভিন্নধর্মী বই লেখাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ।
Der Spiegel: আপনার বইয়ের বিক্রয় সংখ্যা তো ইতিমধ্যে দশ লক্ষ কপি ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া আঠাশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরোর সাক্ষাৎকার: দস্তয়ভস্কির নিদারুণ বিশৃঙ্খলায় আমি ঈর্ষাবোধ করি

বিনয় বর্মন | ৮ অক্টোবর ২০১৭ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

Kazuo২০১৭ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী কথাসাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরোর ভূমিকা সম্বলিত এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় বম্ব সাময়িকীর ২৯তম সংখ্যায় (ফল ১৯৮৯)। লন্ডনে বসে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন আরেক জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক গ্রাহাম সুইফট। এটি অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন।

কাজুও ইশিগুরো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস অ্যান আর্টিস্ট অব দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড প্রকাশের পর থেকে। এটি ১৯৮৬ সালে হুইটব্রেড বুক অব দ্য ইয়ার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয় এবং বুকারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায়। বইটি লেখা পূর্বতন সময়কার একজন চিত্রকরকে নিয়ে তিনি পোস্ট-ওয়ার রিভিশনিস্ট কালচারের শিকারে পরিণত হন। তিরিশের দশকের ভুল রাজনৈতিক আদর্শের জন্য তাকে নানাভাবে হেনস্তা হতে হয়। বছরের শেষদিকে কনম্ফ থেকে প্রকাশিত দ্য রিমেইন্স অব দ্য ডে প্রায় একই বিষয় নিয়ে রচিত। এখানে গল্পের কথক হিসেবে দেখা মেলে একজন ইংরেজ বাটলারের যিনি তিরিশের দশকের একজন সম্ভ্রান্ত শীর্ষ রাজনীতিকের সেবাকর্মে নিয়োজিত থাকার সময়কার স্মৃতিচারণ করেন।

অন্যদিকে, স্টিভেন্স এক গৌরবময় সৃষ্টি, বাইরে কঠিন, স্পর্শগতভাবে অন্ধ এবং ভেতরে দুঃখভারাতুর। কিভাবে ‘মহৎ’ বাটলার হওয়া যায়, মর্যাদা কী এবং কিভাবে মজা করার দক্ষতা অর্জন করা যায় তা ভেবে ভেবে তিনি হয়রান। ইশিগুরোর নির্মাণশৈলিতে, সংবেদনশীলতার সূক্ষ্ম স্পর্শে তার চরিত্র একদিকে হালকা হাসির খোরাকে পরিণত হয়, অন্যদিকে সে জমাটবাঁধা আবেগের গভীর বিষণ্ণতাকে প্রকট করে তোলে। তিরিশের দশকের ব্রিটিশ অ্যান্টি-সেমিটিজমের নিরব পরীক্ষা আছে এই উপন্যাসের মর্মমূলে। (সম্পূর্ণ…)

সদ্যপ্রয়াত কবি জন অ্যাশবেরির সাক্ষাৎকার: সমালোচনা লেখা একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রক্রিয়া

ফাতেমা খান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৩:২৩ অপরাহ্ন

Ashberyজন অ্যাশবেরি গত পঞ্চাশ বছর যাবত “মহত্তম জীবিত কবি” – এই অভিধার যথার্থ প্রতিদ্বন্দী হিসেবে ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি লিখেছেন প্রথমে Art news এবং পরে New York Herald Tribune ও Newsweek এর প্যারিস সংস্করণের জন্য। স্তেফান মালার্মে, আর্তুর র‌্যাঁবো, রেমোঁ রাসেল এবং জর্জিও চিরিকোর রচনাসহ ফরাসী আভাগার্দ লেখকদের গীতল ও নির্ভরযোগ্য অনুবাদের মাধ্যমে মার্কিন ও ফরাসী ভাবনার নান্দনিকতার মাঝে এক কেন্দ্রীয় সংযোগ হিসেবে ছিলেন। জ্যারেট আর্নেস্টের সঙ্গে সদ্যপ্রয়াত কবি জন অ্যাশবেরি কথা বলেছিলেন তাঁর জীবন ও লেখার বিভিন্ন দিক নিয়ে এই সাক্ষাতকারে। এটি প্রকাশিত হয়েছিল The Booklyn Rail পত্রিকায় ২০১৬ সালের ৩ মে। এই সাক্ষাৎকারের থাকছে অ্যাশবেরির আঁকা চিত্রকর্মও। সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন ফাতেমা খান।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনার কবিতা সম্পর্কে আমি অন্য সবার মত গতানুগতিক কবিসুলভ প্রশ্ন করার পরিবর্তে আপনার জীবন ও কাজ নিয়ে মানবোচিত প্রশ্ন করব, যদি তাতে আপনার সম্মতি থাকে।
জন অ্যাশবেরি: ঠিক আছে।
জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: Ashbery: Collected Poems 1956–1987 বইটির জীবনপঞ্জীতে আশ্চর্য হয়েছিলাম আপনার সম্পর্কে এই কথাগুালো দেখে: “Life ম্যাগাজিনে নিউ ইয়র্কের মডার্ন আর্ট মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত সুররিয়ালিজমের শীর্ষস্থানীয় প্রদর্শনী সম্পর্কে পড়ে সুররিয়ালিস্ট চিত্রশিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ” আপনার বয়স তখন নয় বছর। এটা লক্ষ্য করা বেশ মজার ব্যাপার যে আপনি কবিতা নয়, বরং চিত্রকলার মা্ধ্যমে সুররিয়ালিজমের সাথে পরিচিত হয়েছেন।
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ – আসলে ওই নিবন্ধের মাধ্যমে। মূলতঃ সেই সময় প্রতি সপ্তাহে আমার Life পত্রিকাটি পড়া হত, যেমন এদেশের আর সবাই পড়ত। মনে হয় না আমি এই পত্রিকাটি পড়ে সুরিয়ালিস্ট পেইন্টার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি রচেস্টার মিউজিয়ামে আর্ট ক্লাসে আর্ট শিখিয়েছিলাম, আমার বড় হয়ে ওঠা সেখানেই। আর্ট ক্লাসে আমি আমার শিক্ষককে সুররিয়ালিজম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি আমাকে বলেছিলেন “ সুররিয়ালিস্ট ধরনের কিছু চেষ্টা করছ না কেন?” তো আমি আমার আঁকায় সাধারণ পেইন্টিঙের পরিবর্তে সুরিয়ালিজম প্রয়োগের চেষ্টা করতাম। আমার কাছে এটা মহৎ ধারণা বলে মনে হয়েছিল। প্রতিদিন আমি এই কাজটি করতাম– বিশেষতঃ মহিলাদের পোষাকের ছবি। আমি ভাবতাম আমি বড় হয়ে একজন ড্রেস ডিজাইনার হব যেটায় আমি আসলেই ভাল ছিলাম। সময়টা ছিল ’৩০-এর দশকের শেষের দিকে। কিছু শিশুতোষ পদক্ষেপের কথা বাদ দিলে আমি সত্যিকার কবিতা লেখা শুরু করিনি ’৪০-এর দশকের আগ পর্যন্ত। এরপর যখন থেকে কবিতা লেখা শুরু করলাম তখন থেকে এটা আমার জীবনে আমৃত্যু সঙ্গী হয়ে রইল। (সম্পূর্ণ…)

কবি তরুণ সান্যাল: এই যে ইংরেজিতে কথা বলছে এটা আমার ভালো লাগছে না

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৪:০১ অপরাহ্ন

Tarun Sannyalসম্প্রতি প্রয়াত, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু কবি তরুণ সান্যালের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

আমার অপার বাংলা
দেবী প্রতিমার দীর্ঘ চোখের আলস্যে ঘুম ভেঙে যায়
মুখগুলি দৃশ্যহীন, মধ্যরাতে
একা পানসী ভাসানো বৈরাগ্যে
কোন অশ্রুময়তায়
অন্ধতায়
লাবণ্যনীহার ভার একা অঙ্গে ধরা যায় না বলে
পাকাধান ভেজা পাটে
দূরের বাঁশির সুরে
মনে হয়
অশ্রুত বিষাদ, শ্যামলিমা, এই
বিধ্বস্ত প্রতিমা বাংলাদেশ

(আমার অপার বাংলা/ তরুণ সান্যাল)

বাঙালি যে মানুষদের ভুলে গেলে অন্যায় করবে তাদের একজন তিনি। ১৯৭১-এ রচিত ও প্রকাশিত সেই কবির কাব্যগ্রন্থের ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামের কবিতায় বেজে উঠেছিলো নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্মজয়ঢাক। অপার ভালোবাসায় সেসময়ের হানাদার-আক্রান্ত পূর্ববাংলার মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। এক অপার ভালোবাসায় তিনি লিখেছিলেন বাংলাদেশের হয়ে ওঠার এক বিশ্বাস্য চিত্র। নিভৃত, প্রচারের আলো থেকে অনেক দূরে থাকা এ কবির নাম তরুণ সান্যাল। একান্ত সাধনায়, পরম অভিনিবেশে যারা উজ্জ্বল করে গেছেন বাংলা কবিতার ভাণ্ডার তিনি তাদেরই একজন। (সম্পূর্ণ…)

নায়করাজ রাজ্জাক: আজকের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের যে বিকাশ এটা বঙ্গবন্ধুরই অবদানের ফল

| ২১ আগস্ট ২০১৭ ১০:২৭ অপরাহ্ন

razzak+01৯৬ সালে রাজ্জাকের এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলাম আমি এবং কবি ব্রাত্য রাইসু অধুনাবিলুপ্ত দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার জন্য। ফোনে আগেই এপয়েন্টমেন্ট করে তার গুলশানের বাসায় আমরা দুজনে হাজির হয়েছিলাম। সকালের দিকে বোধহয় তিনি আমাদেরকে সময় দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের সময় তার পরিচিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল “জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২। কলিকাতা চারুচন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েট। ১৯৬২ তে বিয়ে করেন। এরপরে বাংলাদেশে আগমন ১৯৬৪ সালে। ৩ ছেলে ২ মেয়ে। অভিনীত ছবির সংখ্যা ২৮০।” — রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন: রাজ্জাক ভাই, আপনার বয়স কত হলো?
আবদুর রাজ্জাক: ফিফটি ফোর।
রাজু: সিনেমা থেকে আপনি তাহলে একরকম বিদায়ই নিলেন?
রাজ্জাক: না, তা নয়। সে রকম অর্থে তো বিদায় নেয়া যায় না। আমি যেটা করলাম, গত দু’বছর আমি একটু সিলেকটিভ ছবি করলাম। একটু ‘আদারওয়েজ’ ব্যস্ত ছিলাম, এদিকে গত দু’বছর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটু অগোছালো হয়ে গেছে। এ কারণে নিজেকে একটু সরিয়ে রাখলাম আর কি।
রাজু: ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অগোছালো হয়ে গেল মানে?
রাজ্জাক: মানে হইচইটা একটু বেশি এসে গেল না গত দু’বছর? উত্তেজনাটা যেন একটু বেশি হয়ে গেছে। এটা নর্মালি আমার জন্যে একটু প্রোব্লেম।
রাইসু: নতুনদের আপনি নিতে পারেন না?
রাজ্জাক: না, নতুনদেরকে আমি সব সময় একসেপ্ট করেছি। টোটাল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে হঠাৎ করে একটু চেঞ্জ হয় না? এতে করে হইচইটা একটু বেশিই হয়। এ জন্যে আমি একটু সরে থাকলাম ওদের কাছ থেকে।
রাজু : আপনার নিজের তৈরি ছবির সংখ্যা কত এখন?
রাজ্জাক: ১৪ টার মতো।
রাজু: একটু আগে আপনি যে সিলেকটিভ ছবির কথা বললেন, সেটা কোন কোন ছবি?
রাজ্জাক: আমি এবার যে ছবিটি করছি সেটা হলো ‘জজ সাহেব’ যমুনা ফিল্মস-এর। মাঝখানে গেস্ট আর্টিস্ট হিসেবে অভিনয় করেছি। পুরোনো লোকরা ধরলে তো আর না করতে পারি না।
রাইসু: এগুলোতে কি নায়কের রোলেই অভিনয় করলেন?
রাজ্জাক: এখনতো আর নায়কের রোলে অভিনয় করা যায় না। সেন্ট্রাল ক্যারেক্টারে অভিনয় করছি। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে

রাজু আলাউদ্দিন | ১২ আগস্ট ২০১৭ ৯:২৩ অপরাহ্ন

কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে দেখা যতটা হয় তার চেয়ে আলাপ হয় বেশি । সে আলাপ মূলত ফোন-নির্ভর। গত রমজানের মাঝামাঝি ফোনে আলাপ শুরু হয়েছিল হাইকোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে তার নিরবতা দিয়ে, পরে একে একে আলাপের অংশ হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, হেফাজত, লেখক ফরহাদ মজহার, তসলিমা নাসরিন, অভিনেত্রী কবরী, সুচিত্রা সেন, মুনমুন সেন, সাম্প্রদায়িকতা, লেখকের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়। এসব নিয়ে বরাবরেরই মতো কবি তার স্বভাবসুলভ অকপট ও কৌতুকরসের সমন্বয়ে জানিয়েছেন তার পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য। তার সাথে আমার এই আলাপচারিতার লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। –রাজু আলাউদ্দিন।
goon.jpg
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যালো গুণদা, শুনতে পাচ্ছেন? আমি রাজু আলাউদ্দিন। এই পবিত্র রমজান মাসে আপনাকে নমস্কার।
নির্মলেন্দু গুণ: আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা।
রাজু আলাউদ্দিন: আর এই পবিত্র রমজান মাসেই আপনার সম্পর্কে সামান্য নিন্দাও করছি, আমি খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করেছি(ফেসবুকে) আপনার নিরবতায়।
নির্মলেন্দু গুণ: : কী সেটা?
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি এই যে মূর্তি নিয়ে কিছুই বললেন না! সেজন্য কথা বলতে একটু উৎসাহ প্রকাশ করছি। ভাস্কর্য সরানো বা রাখার বিষয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণদা তো কিছুই বললেন না! তিনি কাশবনে সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি নিয়ে কী করবেন!
নির্মলেন্দু গুণ: কিছু বলিনি, সেজন্য একজন বলেছে কাশবন থেকে (বঙ্গবন্ধুর)ভাস্কর্যটি নিয়ে যাওয়া হবে। (সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: কেউ হিজাব পরলে বা বোরখা পরলে বলবে এটাতো ধর্ম–এখানেই মুশকিলটা হচ্ছে

সাব্বির আজম | ৫ আগস্ট ২০১৭ ৪:০৫ পূর্বাহ্ন

Partha-Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায় এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসবিদদের মধ্যে অন্যতম। দৈনন্দিন রাজনীতিকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তত্ত্বায়নে তাঁর জুড়ি নাই। ‘আধুনিকতা’, ‘গণতন্ত্র’, ‘সেকুলারিজম’, ‘জাতীয়তাবাদ’, ‘সিভিল সোসাইটি’ ইত্যাদি ধারণাগুলো এখন পোস্টকলোনিয়াল রাষ্ট্রগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বাহাসের কমতি নাই। অনেকেই মনে করেন এই ধারণাগুলো দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোতে ঠিকভাবে প্রোথিত হতে পারে নাই। খামতি থেকে গেছে। এখানকার গণতন্ত্র, সেকুলারিজম, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি বিকৃত বা অপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশে যেকোনো আলোচনায় এই ধারণাগুলাকে খুব কমই মোকাবেলা করা হয়। এগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ ক্যাটেগরি আকারে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় একে একদম ভিন্ন তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক থেকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেন। তাঁর মূল কথা হল, এইসব ধারণাগুলো পশ্চিমা সমাজ ও ইতিহাসের ক্রমবিকাশ থেকে আমদানি করা হলেও, এখানকার স্থানীয় বাস্তবতার সাথে মিলেমিশে এগুলো নিজস্ব আকার লাভ করেছে। একে ঘাটতি আকারে দেখা বা পশ্চিমা ছাঁচে দেখা যথেষ্ট নয়। বরং উপরোক্ত ধারণাগুলো সর্বজনীনতা দাবি করলেও, তাতে সবসময়ই স্থানিকতার কাদা-মাটি লেগে থাকে। লিনিয়েজেস অব পলিটিকাল সোসাইটি (২০১১) বইয়ে দেখিয়েছেন, কেন আধুনিক বা পশ্চিমা রাজনৈতিক তত্ত্ব দিয়ে পোস্টকলোনিয়াল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। আজ [৫ই অগাস্ট] পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ৭০তম জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁকে জানাই শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।

গত বছর হলি আর্টিজানের ঘটনার সময় রাতে আমরা সবাই সহি-সালামতে আছি কি না জানতে চেয়ে পার্থ-দা ইমেইল করেন। তখন তাঁকে জানাই কয়েকদিন বাদে কলকাতা যাচ্ছি, উনি কলকাতায় থাকবেন কি না। ১১ জুলাই সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস-এ তার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। আলাপচারিতার সময় আমার দুই বন্ধু আবদুল্লাহ আল মেহেদী ও ব্যারিস্টার আহমেদ ইশতিয়াক রুপম আমার সাথে ছিল।- সাব্বির আজম (সম্পূর্ণ…)

মার্কেস-অনুবাদক আনিসুজ্জামান: মৌলিক আসলে কিছুই নাই, সবই অনুবাদ

অলাত এহ্সান | ২ আগস্ট ২০১৭ ৭:২৯ অপরাহ্ন

anis.gif
বহুভাষি অনুবাদক আনিসুজ্জামানের উজ্জ্বলতম কাজ নোবেল জয়ী কলাম্বিয়ান সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের জগৎখ্যাত Cien años de soledad নামক উপন্যাসটি স্প্যানিশ থেকে প্রথমবারের মতো বাংলায় অনুবাদ। ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে উপন্যাসটি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের বছরই উদযাপিত হচ্ছে স্প্যানিশে মূল বইটি প্রকাশের ৫০ বছর পূর্তি। বইটির গুরুত্ব, অনুবাদের বিশেষত্ব ও সংকটসহ সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি কথা বলেছেন এই সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। –বি.স

অলাত এহ্সান : প্রতিটি লেখার ভেতরই লেখকের জীবনের একটা ছাপ-ছায়া থাকে; অনুবাদের ক্ষেত্রে কি অনুবাদকের জীবনের সেই প্রভাব থাকে?
আনিসুজ্জামান : বাদকের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা খুব একটা নেই। অনুবাদের মাধ্যমে পাঠককে মূল বইয়ের স্বাদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই অনুবাদকের মূল লক্ষ্য। সেখানে অনুবাদকের ব্যক্তিত্বের ছাপ বা ব্যক্তিগত অভিরুচির অনুপ্রবেশ অনুচিত বলে মনে করি আমি।
অলাত এহ্সান : গল্পের সন্ধান পাওয়ার মতো গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের Cien años de soledad’, (আপনার অনুবাদে ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’) উপন্যাসটাও কি আপনার কাছে অনুসন্ধান পাওয়ার মতো কিছু? মানে, একজন লেখক যেমন গল্পের অনুসন্ধান বা প্লট খুঁজে পান, অনুবাদের ক্ষেত্রে আপনিও কি তেমন কিছু অনুভব করেছেন?
আনিসুজ্জামান : আমি একবার বাংলাদেশে আসি, সম্ভবত ২০১০ সালে বা আরো পরে। সে সময় হাবীব (অনুবাদক ও অধ্যাপক জিএইচ হাবিব) ভাইয়ের বইটা প্রথম প্রকাশিত হয়েছে।
অলাত এহ্সান : সম্ভবত ২০১১ সালে।
আনিসুজ্জামান : ২০১১ সালে বইটা আমি কিনি প্লেনে পড়ার জন্য। অনেকগুলো বই কিনেছিলাম তখন। ওর মধ্যে হাবীবের বইটাও ছিল। প্লেনে বসে তার অনুবাদটির দু তিনটা পরিচ্ছেদ আমি পড়েছিলাম। পড়ার পর হঠাৎ করে মনে হলো বইটা যদি আমি এখনই পড়ে ফেলি তাহলে মূল ভাষা থেকে পড়ার ইচ্ছাটা চলে যাবে। ওটা আমি ওখানেই স্টপ করে দেই। যাই হোক, উনি আসলে আমাকে এই বইটার সাথে পরিচয় করে দিয়েছেন–এজন্য আমি তার কাছে কুতজ্ঞ। মজার ব্যাপার হলো বইটা আমি মূল ভাষা থেকে অনুবাদের আগেও সম্পূর্ণটা পড়িনি। আমি পড়তে পড়তে অনুবাদ করেছি। তারও কারণ আছে। আমার ভয় হচ্ছিল আগেই পুরোটা পড়ে ফেললে আমি অনুবাদ করার প্যাশন হারিয়ে ফেলবো। আমার মতে, আমি যদি একবার-দুইবার বইটা পড়তাম, তারপর যদি অনুবাদ করতাম তাহলে হতো কি, খুব সম্ভবত আমি অজান্তেই আমার নিজস্ব বিশ্বাস ও সংস্কারগুলো ঢুকিয়ে দিতাম। আমি তা করিনি। আমি পড়তে পড়তে অনুবাদ করেছি। একেকটা অংশ অনুবাদ করেছি, তারপর দ্বিতীয় বার সেই অংশটা আবার পড়েছি, অনুবাদ ঠিক হয়েছে কিনা দেখার জন্য–এভাবেই করেছি। (সম্পূর্ণ…)

দু’বার চেষ্টা করেও শহীদুল জহিরকে পুরস্কার দিতে পারি নি: হাসান আজিজুল হক

অলাত এহ্সান | ৫ জুলাই ২০১৭ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

Hasan-3বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণমানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে বাংলা সাহিত্যে তিনি প্রাতঃস্মরণীয়। বাংলা ছোটগল্পের রাজপুত্র অভিধায় তাকে খ্যাত করেন কেউ কেউ। তার সাহিত্য চর্চায় ছোটগল্পই প্রধান। এ ছাড়া তিনি লিখেছেন প্রবন্ধ, গদ্য, স্মৃতিকথা। তার প্রধান উপন্যাস ‘আগুন পাখি’। অনুবাদ করছেন হেমিং ওয়ের গল্প। দীর্ঘদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপনা করেছেন তিনি। থাকেন সেখানেই। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ আয়োজিত এক সেমিনারে অতিথি হয়ে এসেছিলেন তিনি। সেখানে দুইপর্বে সম্পন্ন হয় এই দীর্ঘ আলাপ। প্রথমে পর্বে দর্শন বিভাগ অধ্যাপকের রুমে সাক্ষাৎকার পর্বে তিনি অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে তার থাকার জন্য গেস্ট হাউসের রুমে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি সাহিত্য, সাহিত্যিক, সাহিত্য তর্ক, সমালোচনা, উভয় বাংলায় সাহিত্যের বর্তমান লেখা ও লেখক, নিজের সাহিত্য কর্ম, অন্যকে নিয়ে লেখা, অনুবাদ, বিশ্বসাহিত্য প্রসঙ্গ, পুরস্কার ও শহীদুল জহির নিয়ে কথা বলেছেন।
এই দীর্ঘ আলাপে অংশ নেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। তার সঙ্গে ছিলেন তরুণ লেখক কে এম রাকিব।—বি.স

প্রথম পর্ব : দর্শন বিভাগ

সাক্ষাৎকারগ্রহীতা : আপনার চার খণ্ডে আত্মজীবনী প্রকাশ হয়েছে, এটা যেখানে এসে শেষ হয়েছে, বোঝা যায়, এটা আরো এগুবে। তো, পরবর্তী খণ্ড নিয়ে কিছু ভাবছেন কি না?
হাসান আজিজুল হক: এই চার খণ্ড কেমন করে পাঠকরা নেয়, দেখি। তারা পছন্দ করে কিনা।
সাক্ষাৎকারগ্রহীতা : আত্মজীবনী নিয়ে আমাদের দেশে যে রকম অনেস্টি, তা নিয়ে হুমায়ূন আজাদ একটা কথা বলেছিলেন, যেন ফেরেশতা হয়তো শয়তানের আত্মজীবনী লিখছে। আপনি লেখাতে, জীবনে যে রকম একটা অনেস্টি মেইনটেইন করে এসেছেন…। সাধারণত হয় কি, আমাদের আত্মজীবনীগুলো নস্টালজিয়ায় বেশি আক্রান্ত, ভাবাবেগ সম্পন্ন হয়ে যায়। ওইটা আপনার আত্মজীবনীতে নেই।
হাসান আজিজুল হক: হুমায়ূন আজাদ কি বলেছেন?
সাক্ষাৎকারগ্রহীতা : একজ্যাক্ট কোটটা আমার মনে নেই। সেটা এমন ছিল যে, বাঙ্গালির আত্মজীবনী পড়লে মনে হয় যে, এটা হচ্ছে শয়তানের জীবন কিন্তু ফেরেশতার মত লেখা।
হাসান আজিজুল হক: ওই লোকটা অত্যন্ত অপ্রিয় কথা বলতেন, কিন্তু সব সময় অপ্রিয় সত্য কথা বলতেন না। অপ্রিয় সত্য কথা অনেক সময় বলতে হয়। প্রিয়ং ব্রুয়াত, অপ্রিয়ং অব্রুয়াত—প্রিয় কথা বলব, অপ্রিয় কথা অব্রুয়াত—বলো না। আর অপ্রিয় সত্য বলা দরকার। অপ্রিয় কথা শুধু অপ্রিয়, এতে সত্য-মিথ্যার কোনো ব্যাপার নাই, একটা মন্তব্য আর কি। (সম্পূর্ণ…)

বুলবন ওসমানের সাক্ষাৎকার: কলকাতায় একবার বাঙালি মুসলিমরা হামলা করেছিল বাবাকে

বিপাশা চক্রবর্তী | ৯ জুন ২০১৭ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

bulbon-1বুলবন ওসমানের জন্ম ১৮ মার্চ ১৯৪০ সালে মামাবাড়ি হাওড়া জেলার ঝামাটিয়া গ্রামে। মা সালেহা ওসমান ও বাবা শওকত ওসমানের প্রথম সন্তান। পৈতৃক নিবাস সবলসিংহপুর, হুগলি। ১৯৪৭-এ দেশভাগে পর শওকত ওসমান চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে দুই বাংলায় বড় ধরনের দাঙ্গা বাধলে পুরো পরিবার চটগ্রামে চলে আসেন। চট্টগ্রামে স্কুল ও কলেজ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বুলবন ওসমান পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন সমাজতত্ত্বে। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত প্রথম বই – কিশোর উপন্যাস কানামামা। ১৯৬৬ সালে চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিল্প সম্পর্কিত সমাজতত্ত্বের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত স্বরচিত কথিকা পাঠ করতেন। ১৯৭৩ সালে শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত চারুকলা ইনিস্টিউটে অধ্যাপনা করেন। অনুবাদ সাহিত্যেও কাজ করেছেন। একজন স্বশিক্ষিত শিল্পী হিসেবে ঢাকা ও কলকাতায় করেছেন জলরঙ, তেলরঙ, প্যাস্টেল ও ড্রাইপেইন্টের প্রদর্শনী। বর্তমানে আঁকা ও লেখালেখিতে পরিপূর্ণভাবে নিয়োজিত। বুলবন ওসমানের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল ২০১৬ সালে শওকত ওসমানের জন্মশত বর্ষে। এ বছর তার জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে প্রাবন্ধিক বিপাশা চক্রবর্তীর নেয়া বুলবন ওসমানের সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। বি. স (সম্পূর্ণ…)

রফিকুননবী : সৌদি আরবের শিল্পীরা ইউরোপে বসে ন্যুড ছবিটবি আঁকে

রাজু আলাউদ্দিন | ৩ জুন ২০১৭ ৬:১২ অপরাহ্ন

Razu-Ronobi-1
কাগজ এবং ক্যানভাস–দুয়েই তার স্বাচ্ছন্দ্য । কাগজে তিনি আঁকেন তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে এমন এক ভাষায় যা চিত্রল গুণে ঋদ্ধ। অন্যদিকে ক্যানভাসে তিনি তুলে ধরেন রংয়ের সেই বর্ণময় সম্ভার যা কথার অমরাবতী হয়ে উঠেছে। বর্ণ ও বর্ণমালা অভিন্ন মর্যাদায় রফিকুননবীর কাছে উদ্ভাসিত, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়ে শিল্পী রফিকুননবীকে অনন্য করে তুলেছে। চিত্রশিল্পী, কার্টুনিষ্ট, ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, শিল্পসমালোচ এবং চিত্রকলার শিক্ষক এখন পরিচয়ের ব্যাপ্তির কারণে কেবলই ‘রনবী’ নামে সুপরিচিত, যিনি অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেছেন টোকাই নামক এক চরিত্রের জন্ম দিয়ে।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখক-শিল্পীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৮ নভেম্বর রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।
পুলিশ অফিসার বাবার বদলির চাকুরির সুবাদে রফিকুন নবীর বাল্য ও কৈশোরকাল কেটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়৷ পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝিতে ঢাকায় স্থায়ী হন তাঁরা। পুরান ঢাকাতেই কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কাটে রফিকুন নবীর৷ ১৯৫০-এর মাঝামাঝিতে স্কুলে ভর্তি হন তিনি৷ পুরান ঢাকার পোগোজ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫৯ সালে ঢাকার সরকারি আর্ট কলেজে ভর্তি হন তিনি৷ এখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসানসহ খ্যাতিমান দিকপালের সান্নিধ্যে থেকে পড়াশোনা করেন৷
পড়াশোনা শেষ করে রফিকুন নবী সে সময়ে ঢাকার প্রথম সারির পত্রিকাগুলিতে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। নিয়মিত কার্টুন আঁকতেন সাপ্তাহিক পূর্বদেশ পত্রিকায় কবি আবদুল গনি হাজারির কলাম কাল পেঁচার ডায়েরীতে৷১৯৬৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষক হিসেবে জীবন শুরু করেন তিনি৷ আর্ট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নিয়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু হয়৷ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকায় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, কাপড় ও খাদ্য সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে গ্রীক সরকারের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন বৃত্তি নিয়ে তিনি ভর্তি হলেন গ্রীসের এথেন্স স্কুল অব ফাইন আর্ট-এ৷ পড়াশোনা করলেন প্রিন্ট মেকিং-এর ওপর৷ ১৯৭৬ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি৷ শিক্ষক থেকে ধীরে ধীরে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপকের পদে অধিষ্ঠিত হন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস-এর ড্রইঙ ও পেইন্টিং বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের পরিচালক।
রফিকুন নবী পেয়েছেন একুশে পদক, চারুকলায় জাতীয় সম্মাননা শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, বুক-কভার ডিজাইনের জন্য ১৩ বার ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার৷২০০৮ সালে তাঁর আঁকা খরা শীর্ষক ছবির জন্য ৮০টি দেশের ৩০০ জন চিত্রশিল্পীর মধ্যে ‘এক্সিলেন্ট আর্টিস্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে মনোনীত হন।
লেখক-শিল্পী রনবীর দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত ১৫ এপ্রিল শনিবার ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রক-এ।
কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রনবী তার শিল্পী ও লেখক জীবনের নানাদিক তুলে ধরেন। ভিডিওতে ধারণকৃত এই সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন গল্পকার সাব্বির জাদিদ। সাক্ষাৎকারটি ভিডিওতে ধারণ ও আলোকচিত্র গ্রহণে ছিলেন নয়ন কুমার। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com