নাটক

সেলিমের জন্য

ফরহাদ মজহার | ১৯ জানুয়ারি ২০০৮ ২:৪১ অপরাহ্ন

আমি যাদের সঙ্গে ষাট ও সত্তর দশকে বড় হয়েছি, এক ঘরে থেকেছি, গাদাগাদি করে এক ঘরে তিনচারজন ঘুমিয়েছি, তারাশংকরের রাইকমল পড়ে জগৎময় শ্রীমতি রাধিকাকে দর্শন করে বেড়িয়েছি তাদের মধ্যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সেলিম আল দীন। আজ বুঝতে পারি ঘনিষ্ঠ হবার বিস্তর
sad-2000.jpg………
২০০০ সালে জনৈক ছাত্রের তোলা সেলিম আল দীনের ছবি, মাহবুব মোর্শেদের সৌজন্যে পাওয়া
………
কারণের মধ্যে একটা কারণ ছিল সেলিম নোয়াখালির আর আমিও নোয়াখাইল্যা। না, নোয়াখাইল্যা বলে ওর সঙ্গে আমার উঠতি যৌবনের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়েছিল বলা যাবে না। কিন্তু সংবাদ হিশাবে সকলকে বলে রাখা ভাল—আমি ও সেলিম আল দীন আমাদের মাতৃভাষা বলতে নোয়াখাইল্যা ভাষা বুঝতাম—ঘরে আম্মার সঙ্গে যে-ভাষায় দৈনন্দিন কথা বলি সেই কথাশৈলীর বাকমাধুর্য, ধ্বনি ও কলিজার ভেতর থেকে পদ প্রকরণ তৈরির কারখানার আওয়াজ রহস্যজনক ব্যাপার-স্যাপার হয়েই আমাদের তাড়া করত। সোজা কথা, প্রমিত ভাষা বলে কোনো স্থির ও খাপ খাপ ভাষা আছে সেটা আমরা মানতাম না। কসম খোদার। সব ভাষাই ভাষা, যদি যুৎ মতো কওন যায়—এটা আমাদের চেয়ে খিস্তিখেউড়ে পারঙ্গম আর কোন্ শালা জানত? (সম্পূর্ণ…)

শুধু দেহ লুপ্ত হয়

ফৌজিয়া খান | ১৯ জানুয়ারি ২০০৮ ১:৩৩ অপরাহ্ন

২০০১ সাল থেকে আমি বাংলা নাটকের অভিনয়রীতি এবং সেই রীতির
sad_fish.jpg………
ধামরাইয়ে শিমূলের বাড়িতে, পুকুরে ছিপ ফেলেছেন সেলিম আল দীন
……..
ভেতরে অভিনেত্রী শিমূল ইউসুফের বিচরণ বিষয়ক গঠিত হই শূন্যে মিলাই-এর চিত্র ধারণ এবং গবেষণার কাজ করছিলাম।

২০০৭ সালে শরতের কোনো একদিন, ধামরাইয়ে ‘শিমূলেরবাড়ি’তে (অভিনয়শিল্পী শিমূল ইউসুফ-এর নামে এলাকার নাম ‘শিমূলেরবাড়ি’ হয়েছে। গ্রামে ঢোকার মুখেই সাইনবোর্ডে বেশ বড় করেই লেখা ‘শিমূলেরবাড়ি’) ওই ছবিরই শ্যুটিং-এর কাজে নাসির উদ্দীন ইউসুফ, শিমূল ইউসুফ এবং সেলিম আল দীন আসবেন। নিমজ্জন নাটকটি তাঁরা পাঠ করবেন। ঢাকা থিয়েটারের সাম্প্রতিক প্রযোজনা নিমজ্জন তখনো মঞ্চায়িত হয়নি। প্রস্তুতি চলছে। তাঁদের একত্রিত পাঠ প্রামাণ্যচিত্র গঠিত হই শূন্যে মিলাই-এর জন্য ক্যামেরায় ধারণ করব। (সম্পূর্ণ…)

চাকা: দেশ নেই কাল নেই

মোসাদ্দেক মিল্লাত | ১৯ জানুয়ারি ২০০৮ ১২:১৩ অপরাহ্ন

sad-3.jpg
সেলিম আল দীন, ছবি: ইফতেখার ওয়াহিদ ইফতি

গভীর রাত। রাত গাঢ় হয় কিন্তু ঘুমে ঘোর লাগে না। ভোরে ঘুম ভাঙতেই ছুটতে হবে ঢাকায়। রাজনীতি করি না, কিন্তু রাজপথ ডাকে। প্রায় সকল স্তরের শিল্প ও সংস্কৃতিকর্মীরা তখন রাজপথে। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অস্থির বাংলাদেশ।

অস্থির সেলিম আল দীন দ্রুতগতিতে পায়চারি করেন তাঁর বেডরুম থেকে ডাইনিং স্পেসের পাশের প্যাসেজ ধরে বাইরে বেরুবার দরজা পর্যন্ত। কয়েকগজ জায়গায় এপাশ ওপাশ করেন।

ঠিক তার পাশেই খোলা ড্রয়িংরুমে কাঠের নিচু খাটে আধো ঘুমে বা ঘুমের ভান করে পড়ে আছি আমি।

এমন করে হাঁটাটা সেলিম আল দীনের অভ্যাস। দীর্ঘদিন ধরেই দেখছি। কতক্ষণ হেঁটে কতক্ষণ লিখবেন। আবার শোবেন। আবার উঠবেন, হাঁটবেন, লিখবেন কয়েক পৃষ্ঠা। আবার শোবেন।

দাঁড়ালেন তিনি আমার শিয়রে। আমি নিশ্চিত টের পেলাম। একবার ডাকলেন আমার নাম ধরে। একবারই। চলে গেলেন বেডরুমে। আমি উঠে পড়লাম দ্রুত। বেডরুম থেকে বেরিয়ে এলেন শার্ট পরতে পরতে। বললেন আয়। দরজা খুলে প্রায় নিঃশব্দে বাইরে বেরিয়ে এলেন তিনি। পেছন পেছন আমিও। তালা-চাবি ধরিয়ে দিলেন হাতে। বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিলাম। ভেতরে ঘুমুচ্ছেন ভাবী বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা পারুল। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com