নাটক

আগা শাহিদ আলির `রিজওয়ান’

আভিষেক মজুমদার | ৪ নভেম্বর ২০১৭ ১:৪৮ অপরাহ্ন

RIZWAN 2নাট্যকারের ভূমিকা
২০১০-এর জানুয়ারি মাসে, FTII, পুনেতে রিজওয়ান নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়। FTII এর অভিনয় বিভাগের ছাত্রদের সাথে একটি নাটক করার প্রস্তাব আমার কাছে আসে এবং আমি আগা শাহিদ আলির ‘Country without a Post Office’ নাটকটি নিয়ে সেখানে যাই।

এই বইটি আমাকে একজন উপহার দিয়েছিলেন কয়েক বছর আগে। তারপর থেকে টানা চার-পাঁচ বছর ধরে কবিতাগুলো আমার মাথায় ঘুরছিলো। ছাত্রদের সাথে কবিতাগুলো পড়ে আমার মাথায় আসে যে বইটিতে তিন বার রিজওয়ানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ আছে। প্রথমে একটি কবিতায় যেখানে আগা শাহিদ স্বপ্নে দেখেন রিজওয়ান তাকে নিজের মৃত্যুর কথা বলছে, এবং বলছে, ‘Don’t Tell my Father’। আরেকটি জায়গায়, যেখানে আগা শাহিদ একটি চিঠি পান, যাতে রিজওয়ানের মৃত্যুর কথা ওনাকে জানানো হয় এবং শেষের দিকে একটি কবিতায়, যেখানে রিজওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাটি লেখা হয়। এইখান থেকেই আমরা এই প্রশ্নটি নিয়ে কাজ করতে শুরু করি যে কোনও মানুষ বা জায়গা বা সময়ের মৃত্যু আসলে কখন হয়? যখন সেটা বাস্তবে ঘটে, যখন সেটা স্বপ্নরূপে দেখা যায না কি যখন আমরা তার সংবাদ পাই?

এইখান থেকে ইম্প্রোভাইজেশন, দিনে আর রাতে লেখা। সেখান থেকে নাটক তৈরী। পরবর্তী সময়ে এই নাটক আমাদের কোম্পানি ইন্ডিয়ান অন্‌সম্বল মঞ্চস্থ করে এবং First Festival of Contemporary Indian Plays, Paris-এ নির্বাচিত হয়। Theatre Du Solleil-এর পঞ্চাশ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে ফরাসী ভাষায় এটির একটি পাঠ হয় এবং Paris Review-তে নাটকটি ফরাসীতে প্রকাশিত হয়। আমার নিজের কাছে যেটা এই নাটকের সব থেকে বড় প্রাপ্তি বলে মনে হয়েছে, সেটা হল কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের আগা শাহিদ আলি সেমিনারে এই নাটকটি নিয়ে একটি সেশন হয় এবং আমি সেখানে গিয়ে এই নাটকটি নিয়ে চর্চা করার সুযোগ পাই। তারপরেই ঋদ্ধিবেশ ভট্টাচার্যের বাংলা অনুবাদে এবং ড. জামিল আহমেদের নির্দেশনায় ঢাকায় এই আলোচিত মঞ্চায়ন। (সম্পূর্ণ…)

রিজওয়ান, মঞ্চে প্রতিধ্বনিত বিপ্লবের ডাক

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:৪২ অপরাহ্ন

RIZWAN 1
আলোকচিত্র:গনি আদম

জাতশিল্পীর জন্য এই মৃতের নগরী প্রস্তুত না। প্রস্তুত না এমনকী এর শিল্পীসমাজও। সৈয়দ জামিল আহমেদের জন্য আমার তাই দুঃখ হয়। এক মৃত, প্রতিবাদহীন, ভালোবাসতে পারার সামর্থ্যহীন সমাজকে তিনি শুনিয়েছেন জীবনের, প্রতিবাদ করার, ভালোবাসতে পারার গল্প, বহুমাত্রিক পূর্ণ এক থিয়েটার মাধ্যম ব্যবহার করে। আফসোস, এই দেশের থিয়েটারের রথিমহারথিরাও থিয়েটার বলতে কেবলই ‘মেথড অ্যাকটিং’ বোঝেন।

ঢাকার মঞ্চ এমন ঘটনা কখনো দেখেনি আগে। প্রায় দুই যুগ পর শ্রেণিকক্ষের বাইরে নাট্যনির্দেশনা দিলেন দেশের বরেণ্য নাট্যজন সৈয়দ জামিল আহমেদ। আমেরিকা প্রবাসী কাশ্মিরী বংশোদ্ভুত কবি আগা শাহিদ আলীর `দ্যা কান্ট্রি ইউদাউট আ পোস্ট অফিস’ অবলম্বনে এ নাটকের নাম রিজওয়ান। নাট্যকার অভিষেক মজুমদার, কাব্যনাটকটির ভাষান্তর করেছিলেন ঋদ্ধিবেশ ভট্টাচার্য। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহ্বান নিয়ে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে নাটবাংলার এ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে, উদ্বোধনী দিন ছাড়া, প্রতিদিন, দুটি করে মঞ্চায়ন হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ, ১০ দিনে ঊনিশটি মঞ্চায়ন।

মঞ্চায়নের সংখ্যা শুনে আপনার মনে হতে পারে, তাহলে তো সহজ এক নাটক হবার কথা, বায়ে হাতকা খেলের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীরা করে ফেলেন এ নাটক। নাটকটি দেখার অভিজ্ঞতা না থাকলে, আপনি বুঝবেনই না কত বড় এক ঘটনা রিজওয়ান। শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের কতটা চূড়ায় অবস্থান করে এই নাটকের দলটি, তাদের দশদিনের এ ‘নতুনের অভিযান’সম এক দুর্লঙ্খ অভিযাত্রা শেষ করেছে। অসামান্য টিমওয়ার্কের জন্য যেকোন দর্শকের স্যালুট পাবে রিজওয়ানের প্রযোজক নাট্যদল, নাটবাংলা। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকার মঞ্চে সৈয়দ জামিল আহমেদের পুনরাবির্ভাব এবং রিজওয়ান-এর অর্জন ও ‍অভিঘাত

আলম খোরশেদ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৭:৫২ অপরাহ্ন

Jamilসৈয়দ জামিল আহমেদ। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নাট্যচিন্তক ও নির্দেশক। তাঁকে জানি সেই ১৯৮০ সাল থেকেই,যখন তিনি দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অভ ড্রামার,সংক্ষেপে এনএসডি, স্নাতক হিসাবে ঢাকায় ফিরে ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এর তৎকালীন প্রযোজনা, রবীন্দ্রনাথের ‘অচলায়তন’ নাটকের- যার একটি চরিত্রে আমিও অভিনয় করছিলাম তখন- মঞ্চভাবনা ও সজ্জার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
এর কয়েক বছর বাদে, প্রথমে ঢাকা ও পরে দেশত্যাগের কারণে তাঁর কোন পূর্ণাঙ্গ নাটক দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার কখনোই। তবে, প্রবাসে বসেও বাংলাদেশের নাট্যজগতে তার অতুলনীয় ভূমিকা ও অবদানের কথা কানে আসত প্রায়শই। তিনি ততদিনে একজন নাট্যকর্মী মাত্র নন, বিলেতে নাটক নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা এবং তার একজন নিবেদিতপ্রাণ, একনিষ্ঠ শিক্ষক হিসাবে প্রভূত সুনাম ও সম্মানের অধিকারী বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব। নাট্যনির্দেশনার জন্য দেশের বাইরে থেকেও তাঁর কাছে ডাক আসে তখন হামেশাই; দেশের ও বিদেশের বনেদি সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর নাট্যবিষয়ক বিদ্যায়তনিক গ্রন্থও প্রকাশ পেতে থাকে নিয়মিত ব্যবধানে।
পাশাপাশি,বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চেও তিনি নানাবিধ নিরীক্ষা ও বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড ঘটাতে থাকেন। বিশেষ করে, দেশজ আঙ্গিকে নির্মিত, প্রায় ছয় ঘন্টার মহাকাব্যিক নাট্যনির্মাণ,‘বিষাদ সিন্ধু’ নাট্যরসিকদের কাছে রীতিমত কিংবদন্তির খ্যাতি পায়,এবং ‘চাকা’,‘বেহুলার ভাসান’ ইত্যাদি আরও কিছু অসামান্য প্রযোজনার কৃতিত্বও জমা হয় তাঁর অর্জনের ঝুলিতে। কিন্তু প্রলম্বিত প্রবাসজীবনের কারণে এসবের কোনটারই স্বাদ গ্রহণের সৌভাগ্য হয় না আমার। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকাবাসীর নাসিরুদ্দিন শাহ্ দর্শন ও কয়েকটি প্রশ্ন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৫ এপ্রিল ২০১৭ ৩:২৭ অপরাহ্ন

Heeba Shah in an Unique momentতার গল্প নিয়ে এ সমস্ত কারবার দেখে কী ইসমত চুঘতাই হেসে খুন হয়ে যেতেন?— এই প্রশ্ন নিয়েই বেরুলাম বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হল থেকে, গত শুক্রবার রাতে।

অঝোর বৃষ্টি তখন, এই শহরের অভিজাত নাট্যামোদী মানুষেরা, যাদের চেহারা আমি শিল্পকলা একাডেমি কিংবা নাটমণ্ডলে কোনদিন দেখিনি, আমার প্রায় এক দশকের সাংস্কৃতিক সাংবাদিকতার জীবনে, তারা তখন পার্কিং লটের যানজট ভেঙে গাড়ি আসার অপেক্ষায় মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে—অনেকক্ষণ দেখলাম ঘুরে ঘুরে তাদের মুখ, হাস্যোজ্জ্বল সামাজিক গণযোগাযোগ। কারো মুখেই নাটক নিয়ে কোন কথা নেই।

থিয়েটারের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদারের সাথে দেখা হলো পার্কিং লটে, আমার অফিসের বাহনও তখন আটকে পড়ে আছে।

—— আপা কেমন লাগলো নাটক?
—— ভালো, খুব ভালো। বিশেষত সর্বশেষটা, নাসিরুদ্দিন শাহ বড় অভিনেতা।

আচ্ছা, নাটকের তৃপ্ত মানুষ পাওয়া যাচ্ছে তাহলে। বেশ লাগলো আমার ত্রপা আপার মুগ্ধতা। (সম্পূর্ণ…)

এডওয়ার্ড অ্যালবি’র অভিজ্ঞানহীন নান্দনিক জীবনাবসান

আবদুস সেলিম | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:০৩ অপরাহ্ন

Albeeনাট্যকার এডওয়ার্ড অ্যালবি গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬) ৮৮ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি সর্বমোট সতেরটি নাটক, বেশকিছু প্রবন্ধমালা এবং তার নিজ নাটক দ্য জ্যু স্টোরির জন্য সঙ্গীত রূপরেখা রচনা করে গেছেন তার এই দীর্ঘ নান্দনিক জীবনযাত্রায়।
বিংশ শতাব্দীর একজন প্রথম সারির মার্কিন তথা বিশ্বের নাট্যকার হিসেবে এডওয়ার্ড অ্যালবিকে গণ্য করা হয় ইউজিন ও’নীল, আর্থার মিলার এবং টেনেসি উইলিয়ামস-এর সাথে। অ্যালবি একমাত্র নাট্যকার যিনি তিনবার পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
চরিত্রের সুক্ষ্ম চিত্রনের কারণে অ্যালবির ওপর চেখভ এবং টেনিসি উলিয়ামসের প্রভাবের বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না, যদিও অ্যালবি ‘ল্যাবেলিং’ বা গায়ে অভিজ্ঞান লাগানো পছন্দ করতেন না।
এডওয়ার্ড অ্যালবি-র জম্ম ১৯২৮ সালে। অ্যালবি গত শতাব্দির পঞ্চাশের দশক থেকে নাটক লেখা শুরু করেন। পরবর্তি কয়েক বছরে তাঁর রচিত বেশ ক’টি একাঙ্কিকা লক্ষনীয়ভাবে লোকগ্রাহ্য হয়ে ওঠে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৫৯-এ রচিত দ্য জু স্টোরি। কিন্তু অ্যালবির খ্যাতি মূলত ১৯৬২-তে তার প্রথম লেখা পূর্ণাঙ্গ নাটক হু’জ আফ্রেইড আভ ভার্জিনিয়া উল্ফ্-এর মাধ্যমে যেটি এলিজাবেথ টেইলর ও রিচার্ড বার্টন-এর অভিনয়ে ১৯৬৬ সালে চলচ্চিত্রায়িত হয়। (সম্পূর্ণ…)

দ্বৈত ও অদ্বৈতের প্রসারিত যাত্রা

আবদুস সেলিম | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:১৪ অপরাহ্ন

Gohonjatraজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন তাঁর সেলিম আল দীনের নাট্য নির্দেশনা নন্দন ভাষ্য ও শিল্পরীতি গ্রন্থের ভূমিকায় বলছেন, ‘দ্বৈতাদ্বৈত’ শিল্পতত্ত্বভাষ্যকার নির্দেশক সেলিম আল দীন আমৃত্য ব্যাপৃত ছিলেন মঞ্চ দৃশ্যকলা, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা প্রভৃতির সমন্বয়ে একটি মঞ্চকাব্য সৃজনপূর্বক নিজস্ব নন্দনভাষ্য এবং শিল্পরীতির কাঠামো নির্মাণ কল্পে।’ সেলিম আল দীনের এই প্রচেষ্টা তার শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সঞ্চারণ করতে পেরেছেন, তার অন্তত একটি সজীব উদাহরণ সম্প্রতি মঞ্চস্থ রুবাইয়াৎ আহমেদরচিত একক অভিনিত নাটক ‘গহনযাত্রা’। নাটকটির শরীরে সেলিমের নন্দন-দর্শন খুবই স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয়, বিশেষ করে এর অাখ্যায়িক চরিত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদ শিল্পচেতনার কারণে যার মধ্যে সমন্বিত হয়েছে ড. হারুণ উল্লিখিত ‘দৃশ্যকলা’, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা’। স্পষ্টতই এই উপাদানগুলো ‘ন্যারটিভ-এরই উপাদান।

নাট্যকার রুবাইয়াৎ আহমেদ এই নাটকের নামকরণ করেছেন ‘দ্বৈত ও অদ্বৈতের আখ্যান, গহনযাত্রা’। বাংলাদেশের নাট্যামোদী মাত্রই জানেন, দ্বৈত-অদ্বৈতবাদের জনক সেলিম আল দীন, যাঁর সরাসরি ছাত্র রুবাইয়াৎ। কাঠামোগতভাবেও নাটকটি সেলিম-এর তাত্ত্বিক ধারায় অনুসৃত, যেমন প্রতিটি অপবর্তনের একটি করে শিরোনাম সংযোজন হয়েছে এবং নাটকের ভূমিকা হয়েছে ‘যাত্রারম্ভ’ নামকরনে। এই বিষয়টিও আমার কাছে প্রতিকী মনে হয়–প্রথমত যাত্রা অর্থে অন্তরের ভেতরে এক পরিশুদ্ধির অন্তহীন ভ্রমণ যার মূলমন্ত্র ‘সবার মনে জাগ্রত হোক প্রেম, সবার সর্বান্তকরণ ভরে উঠুক শুভবোধে, সবাই সুন্দর আর নির্মল হোক।’ (সম্পূর্ণ…)

আদিম লতাগুল্মময় শেকসপিয়রের নগ্ন প্রদর্শনী

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুন ২০১৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

pic-1.jpgনা সেদিন আকাশ ভেঙ্গে পড়েনি মাটিতে। মান সম্মান আর রীতিনীতির সুতোয় বোনা সভ্যতার চাদরও টুটে যায়নি কোথায়ও। সেদিন সূর্যাস্তের ঘন্টাখানেক আগে। নিউইয়র্ক শহরের সেন্ট্রাল পার্কের সবচেয়ে উঁচু যে জায়গাটি সামিট রক, সেখানে তারা জড়ো হলেন। আট জন অসাধারণ অভিনয়শিল্পী, তিন জন মেধাবী নৃতশিল্পী ও দক্ষ দুইজন বাদ্যযন্ত্রী। ১৩ জনের সবাই নারী । তারা প্রদর্শন করলেন উইলিয়াম শেকসপিয়রের অমরকীর্তি জাদু আর বিভ্রমের নাটক ‘দ্য টেমপেস্ট’। খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে। অভিনয় করলেন নগ্ন হয়ে। সম্পূর্ণ নগ্ন বলতে যা বোঝায়–উলঙ্গ হয়ে। পুরো দু’ঘন্টা। মাত্র একশ গজ দূর থেকে শুরু হয়েছে দর্শকের সারি। পার্কে আগত স্থানীয় লোকজন, পর্যটক, ছেলেবুড়ো নারী পুরুষ সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন দর্শনার্থী। উপভোগ করলেন অভিনব কায়দায় উপস্থাপিত ঐতিহাসিক নাটকটি। কিন্তু এ ঘটনা ২০০ জন দর্শকের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকল না। ছড়িয়ে গেল সারা পৃথিবীতে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ডেইলী মেইল, নিউ ইয়র্ক নিউজ ডে’সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা আর অগুনতি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। বেশ গুরুত্ব দিয়ে তারা প্রকাশ করল ‘দ্য টেমপেস্ট’ নাটকের এই বিশেষ প্রদর্শনীর কথা। একদিন না পরপর দুদিন। একইস্থানে ১৯ ও ২০মে হল এই প্রদর্শনী। ঝড় আর বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও রচিত হল ডাকিনীবিদ্যা আর ষড়যন্ত্রের ইন্দ্রজাল ‘দ্য টেমপেস্ট’। মহান নাট্যকার ও কবি শেকসপিয়রের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে ২০১৬ তে। এ উপলক্ষে সারা বিশ্ব জুড়ে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। এমনকি প্রকাশনী সংস্থা হোগার্থ-এর উদ্যোগে ‘দ্য টেমপেস্ট’ কে একুশ শতকের পাঠকের জন্য নতুন রূপে পরিচয় করিয়ে দিতে উপন্যাস আকারে লিখছেন বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও কবি মার্গারেট এটউড। নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত নাটকটিও শেকসপিয়রের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের অংশ ছিল। কিন্তু কেবল মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনই এর মূল উদ্দেশ্য না-কি অন্য কিছু? (সম্পূর্ণ…)

খুঁজে ফিরি অসমাপ্ত পথরেখা, ব্যর্থতার বিন্দুগুলি

সোহেল হাসান গালিব | ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ৫:১৫ অপরাহ্ন

selim-1.jpgবাংলাদেশে, শিক্ষিত বাঙালির কাছে নাটক আর সেলিম আল দীন কথা দুটো প্রায় সমার্থক। কারণ সহজেই অনুমেয়। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে নাটক নিয়ে যে-সব কর্মতৎপরতা তিনি চালিয়েছেন, বাংলা ভাষার আর কোনো লেখক, গবেষক, নির্দেশক, চিন্তক এককভাবে কেউ তা করেন নি। একদিকে নাটকের নানা তত্ত্ব উদ্ভাবন, অন্যদিকে তার মৌলিক রচনায় সে-সবেরই সফল প্রয়োগ। পাশাপাশি পাঠ, চর্চা ও গবেষণার প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠা করেছেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র একটি বিভাগ হিশেবে এর যাত্রা, অন্তত বাংলাদেশে, তারই হাত ধরে।

যদিও সেলিম আল দীন বাংলাভাষীদের কাছে নাট্যকার হিশেবেই পরিচিত, তবু লেখক নিজে তার রচনাকে নাটকমাত্র বিবেচনা করেন না। মূলত তিনি আখ্যান নির্মাণ করেন। আর তার সমস্ত রচনাই বারবার পাঠযোগ্য, পাঠযোগ্য কাব্যগুণেই। সাহিত্যকে গদ্যপদ্যের বিভাজিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কখনো বিচার করেন নি তিনি। কাব্য, সঙ্গীত, আখ্যান ও নৃত্য–প্রাক-ইউরোপীয় বাংলাসাহিত্যের সমস্ত প্রবণতাকে অঙ্গীকার করে নিয়েই এক অখণ্ড শিল্পভুবনের দিকে তার যাত্রা। বহুকে তিনি একসূত্রে অর্থাৎ এক অদ্বয়-সম্বন্ধে গেঁথে তোলেন। এর নাম দিয়েছেন তিনি ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’। খণ্ড খণ্ড পরিচয়ের মধ্যে জগৎ ও জীবনের যে অখণ্ড রূপাভাস, তার রচনায় সেই রূপেরই উন্মোচন। (সম্পূর্ণ…)

গ্লোবের হ্যামলেটে মুগ্ধতা

রুবাইয়াৎ আহমেদ | ১৭ জুলাই ২০১৫ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

drama-hamlet-4.JPGসারাদিনই বৃষ্টি ছিল ঢাকায়। কখনও মুষলধারে আবার কখনও বা গুঁড়িগুঁড়ি। তবে সরকারি ছুটি থাকায় যানবাহনের তেমন ভিড় রাস্তায় ছিল না। রোজার এই সময়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ওয়ানডে ম্যাচের ফলের দিকেও দেশবাসীর দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা। যে কারণে কোথাও তেমন ভিড় নেই। বেশিরভাগ মানুষই টেলিভিশনের সামনে।

কিন্তু একটি জায়গা ছিল ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা। বুধবার বিকাল থেকেই সেখানে লোকে লোকারণ্য। কারণ একটি নাট্যদল আজ এখানেই মঞ্চস্থ করবে বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের সর্ববৃহৎ ট্র্যাজেডি ‘হ্যামলেট’। তবে বিষয়টি এখানে শেষ হলে মানুষের আগ্রহের নেপথ্য রহস্যটুকু ঠিক উন্মোচিত হবে না। (সম্পূর্ণ…)

ইতিহাসের তাসের দেশে: অনূদিত অনুভবগুলো

চয়ন খায়রুল হাবিব | ৯ মে ২০০৮ ১০:৩৫ অপরাহ্ন

rabi.jpg
রবীন্দ্রনাথ, ১৯২১ সালে লন্ডনে

11prince-merchant-cards.jpg
লন্ডনে হাই চিংয়ের পরিচালনায় তাশের দেশ অপেরা। রাজকুমার, বণিক আর তাসেরা। ছবি: Simon Richardson

পূর্বকথন
এ-সপ্তাহের শুরুতে দেখলাম চৈনিক তরুণ হাই চিঙ্গয়ের পরিচালনায় Foundation for Indian Performing Arts প্রযোজনা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুশীলবদের সমাবেশে রবীন্দ্রনাথের তাশের দেশ অপেরাটির একটি td3.jpg……..
তাশের দেশ অপেরায় সিড সাহা ও অনুজ মিশ্র, ছবি: Simon Richardson
……….
বিশ্বস্ত মঞ্চায়ন। পশ্চিম লন্ডনের প্রাচ্যকলা বিদ্যালয়ের ব্রুনেই গ্যলারির মঞ্চ ছোট হওয়ায় একক ও দ্বৈত নাচগুলো দেখানো হল মঞ্চে আর দলীয় পরিবেশনাগুলো দেখানো হল আগে ধারণ করা ভিডিওতে, পর্দায়। সূত্রধরের ভুমিকায় হাই চিং নিজে দিলেন ইংরেজি ধারাভাষ্য।
—————————————————————–
বীরপুরুষ ধরনের এক রাজকুমার অজানাকে জয় করতে বেরিয়েছে। তাসগুলো হচ্ছে বর্ণাশ্রমের, শ্রেণিভেদের, অচলায়তনের প্রতীক। রাজকুমারের জংলিপনা ধূলিস্মাৎ করে দেবে হরতন, ইস্কাপন, রুইতনের জরদগব শৃঙ্খলা!
—————————————————————–
সপ্তাহের শেষে এক আন্তর্জাতিক অনুবাদ ওয়ার্কশপে দেখলাম ও শুনলাম তাসের দেশে কবিগুরু যে ব্রটিশ রাজের পরোক্ষ সমালোচনা করেছিলেন তারই নাক উঁচু ভৌতিক প্রতিধ্বনি। (সম্পূর্ণ…)

উইলিয়াম শেক্সপিয়র-এর ট্র্যাজেডি অবলম্বনে

এ নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট

সাইমন জাকারিয়া | ২৫ এপ্রিল ২০০৮ ১২:০৪ অপরাহ্ন

কথামুখ
‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’-এর কাহিনীকার হিসেবে উইলিয়াম শেক্সপিয়র-এর নামটি জানা থাকলেও আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, এর কাহিনীটি অতি প্রাচীন এবং শেক্সপিয়র এ কাহিনীটি ধার romeo_and_juliet_brown.jpg
…….
১৮৭০-এ আঁকা ফোর্ড ম্যাডক্স ব্রাউনের তেলছবি, রোমিও জুলিয়েট-এর বিখ্যাত ব্যালকনি দৃশ্য
…….
করেছিলেন তাঁর থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে লেখা ইংরেজ লেখক আর্থার ব্রুকস্-এর দি ট্র্যাজিক্যাল হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট নামের একটি মহাকাব্যিক রচনা থেকে।

কাহিনী হিসেবে রোমিও-জুলিয়েটের ইতিহাস শুধু এটুকুই নয়, বরং তা সুদূর অতীত পর্যন্ত বিস্তৃত। গবেষণায় জানা যায়, রোমিও-জুলিয়েটের এই সকরুণ bandello.jpg…….
মাতিয়ো বান্দেলো (১৪৮০-১৫৬২)
…….
প্রেমকাহিনী সংঘটিত হয়েছিল ইতালিতে। সেখানে এই প্রেমময় জীবন-গাঁথা উপাখ্যান হিসেবে আনুমানিক ১৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ পেলেও মূল কাহিনীটি সম্ভবত ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের। আর মূলকাহিনীতে দেখা যায়, প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবার চেয়ে আত্মহত্যাকেই শ্রেয় বলে মেনে নেয়।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ইতালির এমন ঘটনার একশত বছর আগে প্রায় একই রকম আরেকটি কাহিনীর সন্ধান পাওয়া যায় স্পেনের তেরুয়েলে। অবশ্য স্প্যানিশ আখ্যানে এ কাহিনীর একটু ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। রোমিও সেখানে আত্মগোপন করে রয়েছেন, আর জুলিয়েট সেই সময়ে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে বসেন এবং নতুন বিয়ে করা স্বামীর সাথে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পর তার (জুলিয়েটের আগের) স্বামী এসে তাদেরকে একসঙ্গেই সমাহিত করেন।

shex.jpg…….
উইলিয়াম শেক্সপিয়র (১৫৬৪-১৬১৬), শিল্পী: Martin Droeshout, ১৬২৩
…….
গবেষক মনে করেন, স্পেনে সংঘটিত ওই প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলের গল্পটা একসময় ইতালিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে তা কিংবদন্তীর আকার লাভ করে। সে কিংবদন্তীকে অবলম্বন করে ইতালির লেখক মাতিয়ো বান্দেলো একটি উপন্যাস রচনা করেন। ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে বান্দেলোর সে উপন্যাস থেকেই কাহিনী ধার করে ইংল্যান্ডের লেখক আর্থার ব্রুকস্ তাঁর মহাকাব্যিক রচনা দি ট্র্যাজিক্যাল হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট প্রকাশ করেন। তারও ত্রিশ বছর পরে আনুমানিক ১৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে আর্থার ব্রুকস্-এর কাহিনী ধার করে শেক্সপিয়র বিখ্যাত ট্র্যাজেডি রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট রচনা করেন।

সত্যি কথা বলতে কী, বর্তমান নাটকটি লেখার আগ পর্যন্ত এ সব তথ্য আমার নিজেরও জানা ছিল না। কিন্তু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে শেক্সপিয়রের আখ্যান নির্ভর এই নাট্য রচনার পর আমার মনে অনেকগুলো প্রশ্ন জন্ম নিল, তার মধ্যে প্রধান প্রশ্নটি হলো — শেক্সপিয়রের অন্যান্য নাট্যাখ্যানের মতো এ আখ্যানটিকে নিয়েও বহুভাবে, বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিশ্চয় সারা পৃথিবীতে ব্যাপক নাট্যকর্ম সৃজিত হয়েছে, এক্ষেত্রে নিজের অজ্ঞতায়, অজ্ঞানে পৃথিবীর অন্য কোনো নাট্যকারের নাট্যচিন্তা ও নাট্যকর্মের পুনর্বয়ান বা পুনর্নিমাণ করলাম না তো? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশের তরুণতর বিশ্বসাহিত্যের পাঠক থেকে শুরু করে বিশ্বসাহিত্য বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্বনাট্য দর্শনে অভিজ্ঞ নাট্যনির্দেশক ও কাছের বন্ধুদেরকে নাটকটি পাঠ করতে দেই, সর্বোপরি ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করি।

প্রায় সব ধরনের অনুসন্ধানের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা তথ্যগুলো বর্তমান নাট্যকর্মের পক্ষে জোরালো কিছু যুক্তি এনে দেয়। কেননা, প্রাগৈতিহাসিক কালের রোমিও-জুলিয়েটের আসল কাহিনীকে ট্র্যাজেডি-নাট্যে রূপ দিতে মহাত্মা উইলিয়াম শেক্সপিয়র যা করেছিলেন তা সুচতুর একটি খেলা ছাড়া কিছু নয়, বর্তমান নাটকটি সে-কথাই প্রমাণ করেছে। এক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলে দেশ-কাল-পাত্রের সীমাবদ্ধ গণ্ডীকে অতিক্রম করে শিল্পের সার্বজনীন ভূখণ্ড, সময় এবং চরিত্র সৃজন করেছি মাত্র। যা নাট্যচিন্তা প্রকাশের তীব্রতাকে বাড়িয়েছে বলে আমার ধারণা। (সম্পূর্ণ…)

ভাঙা গড়ার রবীন্দ্রনাথ

প্রাচ্যনাট-এর ‌’রাজা …এবং অন্যান্য’

ব্রাত্য রাইসু | ৫ মার্চ ২০০৮ ২:২৩ পূর্বাহ্ন

raja-3.jpg
রাজা নাটকের দৃশ্যে আফসানা মিমি, প্রেসের জন্য দেয়া ছবি থেকে

দুইদিন আগে আমিরুল রাজীভ ফোন কইরা জানাইলেন, প্রাচ্যনাটের একটা নাটক হবে বৃটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে আমি যেন যাই। আমি ওনারে জিজ্ঞেস করলাম টিকেটের ব্যবস্থা আছে কিনা? জানাইলেন আছে, তবে আমারে এমনেই দেখাইবেন। আমি বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমাজে নাটকে আমন্ত্রিত হইতেছি এইটা ভালো লাগলো না। আমি ভাবলাম টিকেট কাইটাই ঢুকব নে। তো গিয়া দেখি টিকেট-এর দাম আছে কিন্তু টিকেট বিক্রয় হবে না। আমিরুলরে খোজ কইরা একটু পরে ওনার ফোন পাইলাম। এবং আমি ভিতরে যাইতেই খাতা বাড়াইয়া দিলেন। সই নিলেন। বললেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর-এর একজন হিসাবেই উনি আমারে দাওয়াত দিছেন। একটা সিডিও ধরাইয়া দিলেন। লেখক থিকা ধাক্কা দিয়া সাংস্কৃতিক রিপোর্টার বানাইয়া দিলেন। টাফ জব। তবে আমি তাতে অরাজি না। বুঝলাম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হইয়া উঠতে ঢের বিলম্বিছে, আপাতত সাংবাদিকখানি হওয়া গেছে, এই অনেক বটে।

raja-2.jpg
নাটকের দৃশ্য

রাজীভ দাড়ি রাখেন, লম্বা চুল, দেখতে নুরানী। অনুরোধ করলেন আমি যেন রিপোর্টটা করি। আমি জানাইলাম, ‘আমি তো ঠিক রিপোর্ট করি না।’ মানে বলতে চাইলাম, আমি তো লেখক! কিন্তু উনি আমারে লেখক হইতে দিবেন না। জানাইলেন, আমি লিখলে খুশি হইবেন।

তো সে কারণেই এই রিপোর্ট। নাটক দেইখা ভালো লাগল। অনেক পোস্ট মডার্ন ব্যাপার সেপার আছে। রবিবাবুর রাজা নাটকে লাদেন হুগো শ্যাভেজের নামও নেয়া হইছে। নানা এই কালের সরঞ্জাম ঢুকছে নাটকে। তবে মোবাইল ফোন বোধহয় নাই। (মাঝখানে টয়লেটে গেছি, তখন দেখাইয়া থাকলে বা রিং টোন শোনাইয়া থাকলে জানি না।) ছেলেমেয়েরা হিন্দি/তামিল (নাকি বাংলা?) সিনেমার ঢঙে নাচছেও। সাংস্কৃতিক গ্রহণ! ভালোই লাগছে। সদর্থে। তবে…

সেইটা পরের প্যারার পরে কই। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com