ব্যক্তিত্ব

মারিও বার্গাস যোসা, আপনাকে শুভেচ্ছা

রাজু আলাউদ্দিন | ২ এপ্রিল ২০১৬ ২:১১ অপরাহ্ন

mario-with-my-book.jpg
ছবি: রাজু আলাউদ্দিনের লেখা বই হাতে মারিও বার্গাস যোসা, সঙ্গে যুবায়ের মাহবুব, স্পেন।
গত ২৮ মার্চ ছিল নোবেলবিজয়ী লেখক মারিও বার্গাস যোসার ৮০তম জন্মদিন। নানান কাজ-অকাজের কুয়াশায় এই দিনটি আড়াল হয়ে গিয়েছিল বলে আমার নজরে পরেনি। এ জন্য নিজেকে খানিকটা অপরাধীই মনে হচ্ছে। যদিও জানি আমার এই অপরাধবোধের কথা তিনি কখনোই জানবেন না। তার জীবন এতই কর্মমুখর যে পৃথিবীর কোন প্রান্তে কোথাকার কোন পাঠক তার জন্য অপরাধ বা আনন্দে ভুগলো– এতে তার কীইবা আসে যায়। কিন্ত আমার আসে যায়, কারণ তার লেখার হাত ধরে হাটতে শিখেছি সাহিত্যের রাজপথে, জানতে শিখেছি তার লেখার মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সব রত্নের মর্মার্থ। মারিও বার্গাস যোসার মতো অসামান্য লেখকদের লেখা পাঠ মানে পাঠক হিসেবে রুচির উন্নয়ন ঘটানো, সময়ের অপচয় না ঘটিয়ে। তাদের মতো লেখক পাঠকের সময়ের কেবল অপচয়ই রোধ করেন না, পাঠককে সাহিত্যপাঠের আনন্দলোকের স্থায়ী নাগরিকত্বে ভূষিত করেন। (সম্পূর্ণ…)

কবি রফিক আজাদের প্রয়াণে কবিদের প্রতিক্রিয়া

অলাত এহ্সান | ১৪ মার্চ ২০১৬ ১২:০৫ অপরাহ্ন

kobi_rafiqazad-091.jpgস্বাধীনতার সময়ে বাংলা কবিতা তার ভিত পেয়েছিল যে কয়জন কবির হাতে, রফিক আজাদ তার উজ্জ্বলতম প্রতিনিধি। তিনি সেই বিরল কবিদের একজন যিনি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও তিনি বাংলা কবিতার প্রধানতম স্বর। কবিতা দিয়ে কিছুই হবে না–এই কথার বিরুদ্ধে তিনি একসময় বলেছিলেন ‘কবিতা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাবে’। ‘পদ্য-প্রবন্ধ’, তার সেই বিখ্যাত কবিতা চর্চার ধরন আজো নিরীক্ষার বিষয়। ষাটের দশকের ভাবলুকতাকে তিনি উপেক্ষা করেছিলেন সদম্ভে। তাঁর কবিতায় সমাজ-সময়-রাষ্ট্রের চরিত্র যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে মাটি ও গণমানুষের সংগ্রামের প্রাণশক্তি। শান্তির জন্য যুদ্ধ কিংবা সৌন্দর্য্যকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি তার কবিতায় নানানভাবেই এসেছে।
গত ১২ মার্চ, ৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন এই কবি। তাঁর প্রস্থান যেমন ব্যক্তিগত শোকের, তেমনি সাহিত্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতিও। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন তিনি। তার প্রয়াণ নিয়ে কথা বলেছেন তার অগ্রজ, সমসাময়িক এবং অনুজ কবিগণ। তাদের কথা এখানে গ্রন্থণা করেছেন তরুণ লেখক অলাত এহ্সান। (সম্পূর্ণ…)

ঝড়ের পর ঝড়

মতিন রহমান | ১১ মার্চ ২০১৬ ৬:২৪ অপরাহ্ন

khalid-mahmud_mithu.jpg৭ মার্চ, খবরে প্রকাশ গত রাতের ঝড়ে রাজধানীর রামপুরায় নির্মানাধীন ভবনের ওপর থেকে রেলিংসহ ভিমের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে কারিশমা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে । ৪ নং ধানমন্ডি সড়কে একটি কৃষ্ণচুড়া বৃক্ষ ঝড়ের ঝাঁকুনিতে নড়ে উঠেছে। নড়ে ওঠা বৃক্ষকে পথচারী জিজ্ঞাসা করলো, বৃক্ষ তোমার বয়স কত? বৃক্ষটি উত্তর দিল, জানি না। জানে আমার নগর পিতা। যিনি আমাকে রোপণ করেছে। নগর পিতা, আপনি কি জানেন, এই মহানগরের বৃক্ষগুলোর কোনটার কত বয়স? কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ আছে কি আপনার নগর ভবনের বৃক্ষ রোপণ লেজার বইয়ে? গৃহায়ন অধিদপ্তর ও রাজউক তো জানে এই শহরে কতটি ইমারত আছে। শহরের কোন কোন ইমারত ঝুঁকিপূর্ণ। আপনার শহরে প্রতিবছর ঘটা করে বৃক্ষ রোপন উৎসব হয়। অথচ আপনার কর্মীদের জানা নেই এই শহরে কোন বৃক্ষ হঠাৎ বয়সের ভারে ঢলে পড়বে এবং আপনার সন্তানের প্রাণহানি ঘটাবে। যদি জানতেন তাহলে ঝড়ের পড়েই বেড়িয়ে পরতো আপনার বেতনভুক্ত কর্মীদল। খবর নিতে ছুটতো কোন বিদ্যুতের খুটি অথবা বৃক্ষগুলো নড়ে উঠেছে। নগর পিতা যদি এই খবর নিতে পারতো তাহলে জাতীয় চলচিত্র পুরুস্কার প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুকে উপড়ে পড়া বৃক্ষতলে প্রাণ হারাতে হতো না। (সম্পূর্ণ…)

একো-কে নিয়ে এক চিলতে

আলম খোরশেদ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:১৭ অপরাহ্ন

umberto-eco.jpgনয়ের দশকের মাঝামাঝি নাগাদ দ্বাদশ কাহিনি নামে সমকালীন বিশ্বের ছোটগল্পের একটি তরজমা সঙ্কলনের কাজ হাতে নিয়েছিলাম। এই সঙ্কলনে অন্তর্ভুক্তির প্রধান পূর্বশর্ত ছিল অর্ন্তভুক্ত লেখকদের অবশ্যই জীবিত এবং সাহিত্যচর্চায় সক্রিয় থাকতে হবে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার গল্পকার ও গল্প নির্বাচন হয়ে গেল সহজেই। গোল বাঁধল ইউরোপে, বিশেষ করে ইতালিতে এসে। গুন্টার গ্রাস, মিলান কুন্ডেরা, সালমান রুশদির গল্প বাছার পর চেয়েছিলাম ইতালি থেকে তাঁদেরই মতো কোন ডাকসাঁইটে লেখককেই নির্বাচন করতে। তখন ইগনাসিয়ো সিলোন, ইতালো কালভিনো, প্রিমো লেভি কেউই বেঁচে নেই। মোরাভিয়া ও নাতালিয়া গীনসবার্গও গত হয়েছেন কিছুদিন হল। সবেধন নীলমনি বেঁচে আছেন উমবের্তো একো। অতঃপর তাই তাঁকে নেয়ার কথাই ভাবা গেল। একো The Name of the RoseFoucault’s Pendulum – এর মতো আকারে ও প্রকারে ভারি কিছু উপন্যাস লিখে ইতোমধ্যে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। এছাড়া ভাষাতত্ত্বে, বিশেষ করে Semiotics বা চিহ্নবিদ্যার পণ্ডিত হিসেবেও তাঁর নামডাক রয়েছে, বিশেষত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে। আশা ছিলো সেই একোর একখানা গল্প হয়তো যোগাড় করতে পারব। কিন্তু এ-লাইব্রেরী, সে-লাইব্রেরী তন্ন তন্ন করে খুঁজেও নিরাশ হতে হল শেষ পর্যন্ত। তবে শাপে বর হিসাবে এই অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই হাতে এসে পড়েছিলো তাঁর অভিনব একটি গ্রন্থ্, যা পড়ে তাঁর গল্প না পাবার বেদনা ভুলে যেতে পেরেছিলাম বেমালুম। (সম্পূর্ণ…)

ফিরে দেখা: কবি কায়সুল হক ও আমাদের কায়সুল ভাই

মঞ্জু সরকার | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১:৫৪ অপরাহ্ন

kaisul-haq.jpgপঞ্চাশ উত্তীর্ণ বয়সে প্রকাশিত হয় কবি কায়সুল হকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ শব্দের সাঁকো । এই একটি মাত্র তথ্য থেকেও তাঁর ব্যতিক্রমী কবি স্বভাব ও চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্য আন্দাজ করা যায় অনেকখানি। নিজের কবিখ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা বাড়ানোর তোয়াক্কা না করেই, সারা জীবন সাহিত্যের জন্য ছিলেন আত্মনিবেদিত। পাকিস্তান আমলে রংপুর জেলাশহরে বাস করেও উন্নতমানের সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। উভয় বাংলার বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন তাঁর সম্পাদিত পত্র-পত্রিকায়। সেই সুবাদে শামসুর রাহমান, জীবনানন্দ দাশ, অন্নদাশঙ্কর রায়, বুদ্ধদেব বসু, নরেশ গুহ, শিবরাম চক্রবতীর মতো অনেক বিখ্যাত কবি-লেখকের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল নিয়মিত পত্র-যোগোযোগ। স্বাধীনতার অব্যাবহিত পরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু কবি শামসুর রাহমান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্যোগে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় সপরিবার স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যোগ দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের চাকরিতে। সংস্থাটির দ্বিতীয় প্রধান কর্তাব্যক্তি হিসেবে মাসিক ‘বই’ পত্রিকা সম্পাদান করেছেন, বহু কবি লেখকের গ্রন্থের প্রকাশ ও প্রসারে সহযোগিতা করেছেন, সাহিত্যের আড্ডা-আলোচনায় উৎসাহিত করেছেন প্রিয় লেখক-কবি বন্ধুদের, কিন্তু আপন কাব্যপ্রতিভার প্রচার ও গ্রন্থ প্রকাশের ব্যাপারে ছিলেন উদাসীন। শব্দের সাঁকোর পর আরো একটি কাব্যগ্রন্থসহ রবীন্দ্রনাথের নিরুপম বাগান, স্বদেশ সংস্কৃতি রবীন্দ্রনাথ, আলোর দিকে যাত্রা ও অনিন্দ্য চৈতন্য শিরোনামে কয়েকটি গদ্যগ্রন্থ বেরিয়েছে মাত্র। কবিতায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০১ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। মৃত্যুর কয়েকমাস আগে, ২০১৫-এর ডিসেম্বরে বাংলা একাডেমির মাধ্যমে পেয়েছেন সাদাত আকন্দ সাহিত্য পুরষ্কার। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ নাসেরের চলে যাওয়া

সনৎকুমার সাহা | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৯:০৬ অপরাহ্ন

naser.jpgএ যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত। সকালের কুয়াশা কেটে রোদ ফুটতে শুরু করেছে। গতানুগতিক নানা বিষয় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মনে জাগছে। আবার একই রকমভাবে মিলিয়ে যাচ্ছে। তেমন কোনো বাড়তি উদ্বেগ নেই। যা আছে, তা বেঁচে থাকার খেসারত। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। এটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। মাঝে-সাঝে বাজে। কোনো কিছু না ভেবেই ফোন ধরি। আর তখনই উল্টো দিক থেকে দুঃসংবাদ আছড়ে পড়ে। এক পরিচিত জন জানালেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ নাসের আর নেই। মাত্র কিছুক্ষণ আগে তাঁর পরিসংখ্যান বিভাগে নিজের ঘরটিতেই আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তড়িঘড়ি করে এ্যাম্বুলেন্স ডেকে মেডিক্যাল-কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে সব শেষ। চিকিৎসায় সান্তনার চেষ্টাটুকুরও তর সইলো না। সেদিন বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি। তখন বেলা প্রায় এগারোটা।

আকস্মিক এই খবর পেয়ে আমি একরকম হতবাক। কী করবো, কিছুই ভেবে পাই না। নাসের বয়সে আমার চেয়ে কত ছোট, যাঁর দিকে আমরা তাকিয়ে থাকি ছেলেমেয়েদের সামনে চলার পথ দেখাবে বলে― সে-ই এমন কথা নেই, বার্তা নেই, কাউকে কোনো প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে দুম করে চলে গেল! নাজনিনের মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। নাসেরের স্ত্রী। একই রকম সাধাসিধে। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী ছিল। ডক্টরেট। তবু কোনো জাঁক নেই। তাঁর সামনে গিয়ে কী করে দাঁড়াবো? সত্যি সত্যি ‘নত হয় মন’। তাঁদের এক মেয়ে, নমি, সেও তো ঢাকায়। কুয়েটে পড়তো, এখন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। বড় দিশেহারা লাগে। (সম্পূর্ণ…)

আমার দেখা আবদুশ শাকুর

দিলরুবা আহমেদ | ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ১:১৪ অপরাহ্ন

abdus-sakur.jpg‘গুয়ানজু’ এয়ারপোর্টে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। দিনটি ছিল ১৫ই জানুয়ারি ২০১৩। ঢাকা থেকে ফিরছিলাম টেক্সাসে। সে-বার টিকেট কিনতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত গুয়ানজু নাম-টাই ছিল অচেনা। ভূগোলের কোন পৃষ্ঠায় কোনদিন চোখেও পড়েনি। অথচ এখন ইমতিয়াজ (আবদুশ শাকুরের ছোট ছেলে) প্রায়ই বলে ‘চীনের দুঃখ হোয়াংহো, আমাদের দুঃখ গুয়ানজু’। বোডিং হয়ে গিয়েছিল, একজন স্টুয়ার্ড এসে বলল, তোমরা দেশে ফোন কর জরুরি খবর আছে। সেই খবরটাই ছিল যে এতটা মারাত্মক মর্মভেদী তা বোধ হয় ভাবতেও ভয় পেয়েছিলাম ঐ ক্ষণে কিন্তু যেতে হলো তারই ভেতর দিয়ে। সম্পূর্ণ অচেনা দেশে, প্লেনের মাঝে বসে জানলাম আমাদের বাবা আবদুশ শাকুর মারা গেছেন। আমরা যে ফিরবো ১৫ই জানুয়ারি সেটা উনি জানতেন, দুইতিন মাস আগে থেকেই জানতেন। টিকেট কেটেই ওনাকে জানিয়েছিলাম। উনি জেনে রাখলেন আমাদের ফেরার দিন ১৫ই জানুয়ারি ২০১৩। বললাম ২০১২তে ঢাকায় যাচ্ছি, ফিরবো ২০১৩তে, অনেক দিন। আসলে মাত্র একমাস, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি। বাবা তাতে খুব হাসলেন। আজ ভাবতে অবাক লাগে বাবা জানতেন দিনটির কথা, ১৫ই জানুয়ারি, শুধু জানতেন না ঐ দিনে আমাদের সাথে সাথে উনারও ফেরা হবে কোথাও, যাত্রা করবেন শেষ যাত্রায়। না ফেরার দেশটি ওনারও দেখা হয়ে যাবে। গুয়ানজু হয়ে যাব শুনে উনি বলছিলেন, ভালই তো নতুন রুটে আসছো, আটলান্টিক হয়ে তো অনেক এসেছো এবার আস পেসিফিক হয়ে, পৃথিবীকে পেচিয়েও ধরা হলো দুদিক থেকে। (সম্পূর্ণ…)

হে অগ্নি, শ্মশান-চণ্ডাল

সুধীর দত্ত | ২২ december ২০১৫ ৮:২১ অপরাহ্ন

vumendra2.jpg২০ ডিসেম্বর ২০১৫, রবিবার ভোর রাতে বহুতর অভিমান নিয়ে চলে গেলেন কবি ভূমেন্দ্র গুহ, আমাদের ভূমেনদা, ক্রোধে ও করুণায় ভয়ঙ্কর জীবন্ত যে-মানুষটি ভরিয়ে রেখেছিলেন আমাকে গত দু’বছর। প্রায় দেড় দশকের দূরত্ব যা তাঁর আকস্মিক ক্রোধ রচনা করেছিল আমাদের মধ্যে, ‘কবি সম্মেলন’-এ ভূমেন্দ্র গুহ’র উপর শ্রী শঙ্খ ঘোষের লেখা যার ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছিল ডাক্তার ভূমেন্দ্রের মানবিক ঔদার্য্য ও উদাসীনতা, মুছে দিয়ে আমাকে প্রণত করেছিল তাঁর কাছে। আক্ষরিকভাবেই পা ছুঁয়ে তাঁকে প্রণাম করেছিলাম সে-দিন। মানুষটি ভালবাসায় আর্দ্র হয়ে গেছিলেন। তাঁর চোখে জল এসে গেছিল। আমার বাড়ি থেকে তাঁর বাড়ি মিনিট পাঁচেকের হাঁটা-পথ। সেই সুবাদে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতাম তাঁর সঙ্গে। তাঁর জ্ঞানের বিস্তার ও গভীরতা আমাকে আবিষ্ট করত। ঋদ্ধ হতাম। কবিতার ভুবন ছাড়িয়ে আমরা চলে যেতাম বেদ-বেদান্তে, সাঙ্খ্যে ও পাতঞ্জল যোগে। কখনও-বা গীতা ও ভাগবতে। তাঁর মনে হয়েছিল জীবনানন্দকে বুঝতে চাই ভারতীয় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। আক্ষেপ করতেন — না চর্চা, না চর্যা আছে তাঁর। আমি বলতাম, যে মানুষকে এমন করে ভালোবাসতে পারে, বিনিময়ে প্রত্যাশা করে না কিছু, সে-ই তো আসল আধ্যাত্মিক মানুষ। এটাই তো চর্যা। যতটুকু জানতাম, বুঝতাম, বলতাম তাঁকে। মন দিয়ে শুনতেন সব কিছু। এখানেই ছিল আমাদের সখ্য ও আত্মীয়তা। ভারতীয় মনিষীদের সম্বন্ধে তাঁর ছিল প্রগাঢ় শ্রদ্ধা। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার বিরোধ হ’ত যখন তিনি প্রান্তিকতাকে ভাবতেন সবকিছুর গজকাঠি। রাম ঠাকুরের ওপর একটি জীবনী-গ্রন্থ দিয়েছিলাম তাঁকে। তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন ঠাকুরের প্রান্তিকতায়। একই কারণে তিনি মুগ্ধ ছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতিও। শ্রীঅরবিন্দকে পছন্দ করতেন না কারণ তাঁর মতে তিনি প্রান্তিক ছিলেন না। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর মত পরিবর্তন করেছিলেন এবং পড়তে শুরু করেছিলেন শ্রীঅরবিন্দকে। সামান্য হলেও এখানে আমার একটা ভূমিকা ছিল। তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাধতো যখন জীবনানন্দকে বড় করতে গিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথকে ছোট করতেন। এখানে তিনি ছিলেন আপোষহীন। প্রসঙ্গক্রমে, টেনে আনতেন কাঙাল হরিচরণকে– ঠাকুর পরিবার যাকে হেনস্থার একশেষ করেছিল। (সম্পূর্ণ…)

কবি ও মুক্তিযোদ্ধা সাবদার সিদ্দিকি

পুলক হাসান | ২ december ২০১৫ ৯:০৯ অপরাহ্ন

যেখানেই পা রাখি
ভিন গ্রহে কিংবা ভিন গাঁয়ে দেখি
পায়ের নিচে টুকরো দুই জমি
হয়ে যায় আপন মাতৃভূমি

sabdar.jpgচির ভ্রামণিক কবি সাবদার সিদ্দিকি (১৯৫০-১৯৯৪) তাঁর চুয়াল্লিশ বছরের সংক্ষিপ্ত উদ্বাস্তু উন্মুল জীবনকে রঙিন বেলুনের মতো উড়িয়ে দিয়ে গত হয়েছেন আজ একুশ বছর। ১৯৯৪ সালে ঘুরতে ঘুরতে দিল্লি গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কোলকাতা হয়ে ঢাকায় ফেরার পথে সাতক্ষীরা সীমান্তে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই নাম না জানা এক গ্রামে সমাহিত হন। সাবদার সিদ্দিকি প্রকৃত একজন কবি ছিলেন। কিন্তু দেশের উল্লেখযোগ্য কাব্যসংকলনে তিনি উপেক্ষিত আজও পর্যন্ত। তাঁর প্রথম কবিতা ১৯৬৫ সালে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দেশাত্মবোধক কবিতা সংকলন ‘অনন্য স্বদেশ’-এ ছাপা হয়। সে-হিসেবে তিনি ষাটের দশকের কবি। আবার বয়স বিবেচনায় তাঁকে বেঁধে দেয়া যায় সত্তরেও। কিন্তু এই সময়ে একজন প্রথম দশকের কবির যেখানে গ্রন্থের ছড়াছড়ি সেখানে ‘পা’, ‘গুটি বসন্তের সংবাদ’, ‘সোনার হরিণ’ নামের কয়েকটি ক্ষুদে কবিতা সংকলন ছাড়া তাঁর শক্ত বাঁধাই ও পুরো মলাটের কোনো কবিতাগ্রন্থই নেই। যদিও এসব ক্ষুদ্র কবিতা সংকলনের মধ্য দিয়েই তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন সাবদার সিদ্দিকি, হয়ে উঠেছিলেন সাম্প্রতিক বাংলা কবিতার নতুন এক কণ্ঠস্বর। তাঁর পরিচয় হয়ে যায় তীব্রভাবে প্রথাবিরোধী এক নাগরিক কবি হিসেবে। প্রথাবিরোধী তো বটেই, সেই সঙ্গে তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং জীবনযাপন নিয়ে উঠতি তরুণ কবিকুলে ছিল বিশেষ কৌতুহল কিন্তু সমসাময়িক ও অগ্রজরা ছিলেন ততটাই উদাসীন। হয়তো বিরক্তও। ফলে মুত্যুর পর তাঁকে নিয়ে কোনো রকম হইচই হয়নি। না এপারে, না ওপারে। অথচ এপার ওপার দু’পারেই ভেসেছে তাঁর জীবন নৌকো। জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণার বশিরহাটে। পিতা আইনজীবী, তাই পরিবারের বসবাস ছিল মহানগর কোলকাতাতে। সাবদার সিদ্দিকির শৈশব-কৈশোরও কেটেছে সেখানেই। ১৯৬৪ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় বাবা গোলাম মাওলা সিদ্দিকি পুরো পরিবার নিয়ে চলে আসেন সাতক্ষীরায় এবং ১৯৭১ সালে ফের চলে যান কোলকাতায়। সাবদার থেকে যান এখানেই এবং মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে আট নম্বর সেক্টরে কিছুদিন যুদ্ধও করেন। তারপর ঐসময়েই তিনিও চলে যান ওপারে। তাঁর মধ্যে যেমন ছিল সেই দাঙ্গার ক্ষত, তেমনি তারুণ্যের টগবগে দেশপ্রেমে নতুন একটি দেশের স্বপ্নও। পরে দেখলেন বিপরীত বাস্তবতা। কোলকাতার দাঙ্গা ও তৎপরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। সেসব উঠেও এসেছে তাঁর ‘কোলকাতা, আমি এক তরুণ মহাপুরুষ’ শিরোনামের আটাত্তর লাইনের দীর্ঘ কবিতায়। (সম্পূর্ণ…)

সত্তুরে কবি মতিন বৈরাগী

গোলাম কিবরিয়া পিনু | ১৫ নভেম্বর ২০১৫ ৭:২১ অপরাহ্ন

matin.jpgকবি মতিন বৈরাগীর জন্ম ১৬ নভেম্বর ১৯৪৬। এবছরের ১৬ নভেম্বর তাঁর ৭০তম জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনের সময় পড়ছিলাম তাঁরই কবিতা সমগ্র গ্রন্থটি। এই গ্রন্থে ১০টি কাব্যগ্রন্থের কবিতা আছে, অনেক কবিতা একসঙ্গে পড়ে একজন কবির পরিচয় ভালোভাবে পাওয়া যায় একজন পাঠক হিসেবে। এই গ্রন্থটি বের হয় ২০০৮ সালে, তারপর আরও দু’টি কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে তাঁর। কবিতাগ্রন্থগুলো হলো: বিষণ্ন প্রহরে দ্বিধাহীন (১৯৭৭), কাছের মানুষ পাশের বাড়ি (১৯৮০), খরায় পীড়িত স্বদেশ (১৯৮৬), আশা অনন্ত হে (১৯৯২), বেদনার বনভূমি (১৯৯৪), অন্তিমের আনন্দ ধ্বনি (১৯৯৮), অন্ধকারে চন্দ্রালোকে (২০০০), দূর অরণ্যের ডাক শুনেছি (২০০৫), স্বপ্ন এবং স্বাধীনতার গল্প (২০০৭) এবং অন্য রকম অনেক কিছু (২০০৮)। এই ৮টি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে তাঁর ‘কবিতা সমগ্র’ গ্রন্থটি । এর পরবর্তী সময়ে আরও দু’টি কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে, খণ্ডে খণ্ডে ভেঙে গেছি (২০১২) এবং দুঃখ জোয়ারের স্রোতে (২০১৪)। (সম্পূর্ণ…)

জাপানে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি

প্রবীর বিকাশ সরকার | ৭ নভেম্বর ২০১৫ ৯:০১ অপরাহ্ন

pic-1.jpg
য়োকোহামার সানকেইএন বাগানবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাঁদিক থেকে নোমুরা য়োওজোও, হারা তোমিতারোও, আরাই কাম্পো এবং অপূর্বকুমার চন্দ

১৯২৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষবারের মতো জাপানে আসেন। এটা তাঁর পঞ্চম ভ্রমণ। আমন্ত্রিত হয়ে কানাডা থেকে আমেরিকায় যান বক্তৃতা দেবার জন্য। কিন্তু তাঁর পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেন সহযাত্রী এবং ব্যক্তিগত সচিব অধ্যাপক অপূর্বকুমার চন্দ। যে কারণে তিনি আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারেননি। অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অপমানিত হয়ে ব্যথাভারাক্রান্ত মনে স্বদেশে ফেরার পথে জাপানে নেমে মানসিক ক্লান্তি ও বিষাদ দূর করবেন বলে স্থির করেন। জাহাজ থেকেই বার্তা পাঠান তাঁর ভক্ত ও দোভাষী মাদাম কোরা তোমিকে। সে-বার্তা গিয়ে পৌঁছায় জাপানে রাজনৈতিকভাবে আশ্রিত মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বসুর কাছে।

গুরুদেব আসবেন তাঁর থাকার জন্য উপযুক্ত একটি আবাস খুঁজে বের করার দায়িত্ব বর্তালো তাঁর ওপর। কবিগুরুর বয়স তখন ৬৮ এবং অসুস্থ। তিনি বিশ্রাম গ্রহণ এবং লেখালেখি করতে পারেন এমন একটি বাসস্থান কোথায় আছে খুঁজতে লাগলেন।

খুঁজতে গিয়ে তাঁর হঠাৎ মনে হলো কাগজ আমদানীকারক শিল্পপতি ও আধ্যাত্মিক গবেষক ড.ওকুরা কুনিহিকোর নাম। গভীর জাতীয়তাবোধসম্পন্ন এশিয়াবাদী কুনিহিকো ছিলেন রাসবিহারীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনিই প্রথম জাপানে আধুনিক আধ্যাত্মিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ওকুরা সেইশিন কেনকিউজো’ অর্থাৎ ‘ওকুরা স্পিরিচুয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ স্থাপন করেন য়োকোহামা বন্দরনগরের ওকুরায়ামা শহরে। তাঁর সঙ্গেই গুরুদেবের মিলমিশ হবে ভালো বলে রাসবিহারী মনে করলেন এবং বাস্তবে তাই-ই হয়েছিল। রাসবিহারী দূরদৃষ্টিসমপন্ন ছিলেন তিনি ওকুরা কুনিহিকোর সঙ্গে গুরুদেবের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিধ্বস্তপ্রায় জাপানে রবীন্দ্রনাথের শততম জন্মবর্ষ ঘটা করে উদযাপনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছিলেন ১৯৫৭ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তাঁর শেষজীবনের বন্ধু জাপানি মনীষী ড.ওকুরা কুনিহিকো। বহির্বিশ্বে এরকম বিরল ঘটনা আর দ্বিতীয়টি ঘটেছে বলে জানা নেই। (সম্পূর্ণ…)

রণেশ দাশগুপ্ত : ব্যতিক্রমী এক মানুষের কথা

মফিদুল হক | ৪ নভেম্বর ২০১৫ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

ranesh-das.jpgআমার জীবনের পরম সৌভাগ্য যে রণেশ দাশগুপ্তকে দেখেছি, তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা ও প্রশ্রয় পেয়ে ধন্য হয়েছি। আমি এবং আমার মতো আর যাঁরা রণেশদাকে জেনেছি তারা অন্তরে বিশেষ তাগিদ অনুভব করি তাঁর কথা বলবার। মনে হয়, আমরা যদি না বলি তবে কারা বলবে সেইসব কথা! বিশেষভাবে বাংলাদেশে এখন তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রজন্ম, যে প্রজন্মের রণেশদাকে দেখার, তাঁর সান্নিধ্যে আসার, তাঁর কথা জানবার সুযোগ বিশেষ ছিল না, যদিও রণেশদা দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন, ১৯১২ সালে তাঁর জন্ম এবং প্রয়াণ ১৯৯৭ সালের ৪ নভেম্বর, পঁচাশি বছর বয়সে। এখানে এটাও তো স্মরণ করতে হয়, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেই যে তিনি প্রিয় স্বদেশ এবং শহর ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় স্বেচ্ছানির্বাসন বেছে নিলেন আর তিনি ফিরে আসেননি। ফলে জীবনের শেষ পঁচিশ বছর দেশে তাঁর বাস ছিল না। রণেশ দাশগুপ্তের সত্তা প্রবলভাবে দেশের মাটিতে প্রোথিত, তারপরও কেন তিনি নিজের জন্য নির্বাসন-দণ্ড বেছে নিলেন–এর ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন। কলকাতায় টিনের চালা দেয়া যে ঘরটিতে তিনি থাকতেন সেটা মনুষ্যবাসের কতটা উপযোগী তাতে সন্দেহ প্রকাশ করা চলে। কিন্তু সেখানে রণেশ দাশগুপ্ত একান্ত স্বচ্ছন্দ, কেউ এলে অবাক হবে তাঁর খোশ মেজাজ দেখে, আর যারা তাঁকে যৎসামান্য চিনেছেন তারা বুঝবেন এমন প্রফুল্লতা রণেশ দাশগুপ্ত বহাল রাখতে পারেন জীবনের সকল অভাব-অনটন-দুর্গতির মধ্যেও। অভাব-অনটন কথাটা বোধ করি এখানে সুপ্রযুক্ত হলো না, কেননা জীবনের কাছে তাঁর চাহিদা ছিল এতই সামান্য যে কোনোরকম চলবার মতো অবলম্বন পেলেই তাতে তিনি তৃপ্ত, আর কোনো বাড়তি বাসনা তাঁর মধ্যে ছিল না। কাম্য অবশ্য তাঁর ছিল, সেটা গ্রন্থপাঠের প্রবল তাগিদ থেকে উৎসারিত, সেই তাগিদে সবসময়ে তিনি বুঁদ হয়ে থেকেছেন বই এবং পত্রপত্রিকার পাতায়। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com