বইয়ের আলোচনা

জীবনের অকপট ও অন্তরঙ্গ বয়ানে বারট্রান্ড রাসেল

লীনা দিলরুবা | ১৪ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০৬ অপরাহ্ন

Russel picরাসেল-এর আত্মজীবনী-‘দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব বার্ট্রান্ড রাসেল’কে পৃথিবীর ইতিহাসে এ-পর্যন্ত লিখিত আত্মজীবনীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনী বলা হয়ে থাকে। ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। তাকে বিশ্লেষণী দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হয়। জীবনের আলোকিত দিকের গুণকীর্তন কেবল নয়, নিজের জীবনের অন্ধকার দিকের কথা রাসেল তাঁর আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন। বয়ঃসন্ধিতে শারীরিক পরিবর্তনের যে অভিজ্ঞতা সেটি তাঁর মনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। স্ব-মেহনের অভ্যেস বিশ বছর পর্যন্ত বজায় রেখে তিনি মনে মনে পুড়তেন। এটি বন্ধ করার অভিপ্রায়ের কথাও বলেন। যখন প্রেমে পড়েন তখন অভ্যেসটি বন্ধ হয়ে যায়। নারী শরীরের প্রতি অতি আগ্রহ কমিয়ে আনতে নানা কায়দা-কানুনের আশ্রয় নিতেন। কিন্তু এক সময় এসব নিয়ে মনোযাতনায় ভুগলেও বিষয়গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন ধারণা করে মানসিক ব্যাধিগ্রস্ততা বলে মনে করতেন না। নারী শরীরের প্রতি মোহমুগ্ধতার কারণেই কবিতার প্রেমে পড়ে যান। ষোল-সতের বছর বয়সেই মিলটন, বায়রন, শেলীর কবিতা পড়ে শেষ করেছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম বার্ট্রান্ড আর্থার উইলিয়াম রাসেল। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা এই মহান দার্শনিক ৯৭ বছর আয়ু পেয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

দক্ষিণে সূর্যোদয় : রাজু আলাউদ্দিনের ব্যতিক্রমী রবীন্দ্রানুশীলন

সনৎকুমার সাহা | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫০ অপরাহ্ন

Dokkhine Razuবইটির কথা আমি আগেই শুনেছি। অনেকে এর সপ্রশংস উল্লেখ করেছেন। আমারও কৌতূহল ছিল। কিন্তু পড়া হয়নি। আমার দুরারোগ্য আলসেমি বাদ সেধেছে। এতদিনে, ঢাকার ‘অবসর প্রকাশনা সংস্থা’ থেকে ২০১৫-য় ছেপে বেরোবার দু’বছর পরে, পড়তে পারলাম। পেরে খুশি হয়েছি। বইটি আমায় হতাশ করেনি। চমৎকার নির্ভার গদ্য। সেইসঙ্গে অনেক অজানা তথ্য ভিন্ন প্রেক্ষাপটে মেলে ধরা। তাতে ফাঁকির কারবার নেই। বিষয়নিষ্ঠা অনুকরণীয়। নিরাসক্ত শ্রদ্ধা এতে বিপর্যস্ত হয় না। ভিন্ন সংস্কৃতির সাড়া পাবার সাড়া দেবার প্রতিক্রিয়ায়, যাকে ঘিরে কথা বলা, সেই রবীন্দ্রনাথও খাটো হন না। যদিও পুরোপুরি মুখোমুখি হই না, এ আক্ষেপ থাকে। অবশ্য সেজন্য এই বইয়ের লেখক দায়ী নন। স্থান-কাল-পাত্রের বস্তুগত ও মনোজাগতিক ব্যবধান পেরিয়ে, ভাষান্তরনে অনুভবের প্রকৃত উপলব্ধি ফুটিয়ে তোলার সমস্যা মোকাবেলা করে এবং ওই সময়ে দুই ভূখন্ডের দুই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দূরত্ব অতিক্রম করে রবীন্দ্রনাথ যতটা ও যেমন উদিত ও উদ্ভাসিত হয়েছিলেন তা স্বয়ং একটা সীমা বেঁধে দেয়। লেখক তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মান্য করেন, এবং এইটিই কাম্য। আমরা পরস্পর যোগাযোগের নির্মোহ ও যথাযথ রূপটি এখানে তুলে ধরার প্রয়াস লক্ষ করি। তাতে কোথাও কোন অসংযম নেই। এতে বইটির গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব আরো বেড়েছে। দূরত্ব ও বিস্তার বিষয়ের আকর্ষণ বাড়ায়। পড়ে ঋদ্ধ হই। (সম্পূর্ণ…)

পিতলের প্রজাপতি ও অন্যান্য

প্রদীপ কর | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১০:২৬ অপরাহ্ন

border=0“রবীন্দ্রনাথ, তার বজরায় করে গ্রামের পর গ্রাম পার হয়ে যেতে যেতে নৌকোর জানালা দিয়ে তীরবর্তী জীবনধারা দেখেছেন। এই জানালা যেমন কাঠামো হিসেবে কাজ করেছে, তেমনি কাজ করেছে ছাঁকনি হিসেবেও। জানালার ভিতর দিয়ে যতটুকু দেখা যায়, কেবল ততটুকুই তাঁর দৃষ্টি কেড়েছে, আর তার রূপরেখা নির্ধারিত করে দিয়েছে ঐ জানালার সীমানা।”

রবীন্দ্রনাথের ছোটোগল্পের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক হুমায়ুন কবির উপর্যুক্ত কথাগুলি বলেছেন। রবীন্দ্রনাথের দেখা এবং ছোটগল্প রচনায় কবির অন্তর্দৃষ্টির প্রকাশ ছোটোগল্পগুলিকে চিরন্তন সাহিত্যে উত্তীর্ণ করেছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ বদলেছে। বদলেছে সামাজিক বোধ, নীতি নৈতিকতাও। একই সঙ্গে বদলেছে সাহিত্যের ভাষা বিষয় আঙ্গিকও।

কবি মাহী ফ্লোরা-র ছোটগল্পের বই ‘পিতলের প্রজাপতি’ পড়তে গিয়ে এসব কথা মনে এলো। কবির গদ্য পড়তে গিয়ে একধরণের কাব্যিক আচ্ছন্নতা তৈরি হয়, এ বই অবশ্য সেরকম নয়। পনেরটি গল্পের এই সংকলনে আপাত কবিকৃতি নেই, তবে প্রচ্ছন্নে কবির দর্শন প্রবাহিত। একেবারে হৃদয়সংবেদী পাঠকের মর্মমূলে টান দেয়।

বইটির নামকরণ বেশ আশ্চর্যের, ‘পিতলের প্রজাপতি’। প্রজাপতি বলতেই মনের ভেতর যে রঙিন ওড়াউড়ি শুরু হয়, তা ক্ষণেকেই স্তব্ধ হয়ে যাবে, যদি, ‘প্রজাপতি’ শব্দটির আগে ‘পিতলের’ মতো একটি ধাতব শব্দ সংযুক্ত হয়। নামকরণেই বইটির চরিত্র কিছুটা প্রকাশিত। মুগ্ধতাবোধের সঙ্গে কাঠিন্যের ঠোকাঠুকি… কঠোর কোমলের সংঘর্ষ! (সম্পূর্ণ…)

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সমস্যা ও সম্ভাবনা

আহমেদ জাভেদ চৌধুরী রনি | ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

KSA-MFS-Bookepsনতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন প্রযুক্তির নবতর উৎকর্ষ আজ বিশ্বকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। সরকার এই নতুন প্রযুক্তিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেশব্যাপী তার বড় পরিসরের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে তৃণমূল পর্যায়ে পরিবর্তন দৃশ্যমান। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক আজ দেশের সকল প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে। আর এটিই সুযোগ সৃষ্টি করেছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মত সেবা অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার।
দেশের বেশীরভাগ মানুষকে উন্নয়ন কর্মকান্ডের বাইরে রেখে, দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন দর্শনের আলোকে, এটি মোটেও নতুন কোন কথা নয়। তবে সাম্প্রতিককালে উন্নয়ন দর্শনে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির কথা বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বেশ জোরেসোরেই আলোচিত হচ্ছে। এসডিজিতে (২০১৫-২০৩০) আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশে স্বাধীনতাপরবর্তী এই অন্তর্ভুক্তিকরণের প্রথম উদ্যোগ ছিল ক্ষুদ্র ঋণ। আর স্বাধীনতার প্রায় চল্লিশ বছর পর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হলো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)। আর এই সেবা খাতটি গড়ে উঠেছে সরকারের নীতি-সহায়ক অবস্থানের কারণে। প্রথমত ১৯৯৬ সালে এ সরকারের নীতি সহায়তার কারণে গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়। যার ফলে গরীব মানুষের মোবাইল ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত: ২০০৮ সালে দ্বিতীয় বারের মত ক্ষমতায় আসার পর তারা ডিজিটাল রূপকল্প ২০২১ গ্রহণ করে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নীতির কারণে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের এই সাফল্য। (সম্পূর্ণ…)

দীপিত আশার বঙ্গীয় বদ্বীপ

রুখসানা কাজল | ২৯ জুন ২০১৭ ১০:০৭ অপরাহ্ন

border=0একটা সময় ছিল বাংলাদেশ ডুবে যাবে মহাসমুদ্রের কোলে এটা ভাবলেই প্রচন্ড ভয় পেতাম। আর যাই হোক নাকেমুখে খাবি খেতে খেতে পানিতে ডুবে মরা খুব একটা ভালো মানের মৃত্যু নয়। আমি প্রবাহিত নদীপারের মেয়ে। নদীর নানা রকম মনখেয়ালের সাথে বেশ ভালো জানাশোনা আছে আমার। নদী যে মানুষের কতটা আপন আবার কত বৈরি হয়ে উঠতে পারে তার সাক্ষী নদীপারের এই আমরা। একেক সময় দেখতাম আমাদের চেনা ছোট নদীটাই কেমন অচেনা রাক্ষুসীর মত গিলে গিলে খাচ্ছে পরিচিত নদীপাড়, জমি, ফসলের মাঠ, এমনকি ঘরবাড়ি, সখের বাগান। আবার কখনো কখনো দেখেছি নদীর জলে পূজোর ফুলের সাথে ভেসে আসা অপার সৌন্দর্যকে। শান্ত স্নিগ্ধ প্রিয় বন্ধুর মত। আবার কখনোবা উত্তাল নদীর খর স্রোতধারার সাথে ভেসে আসত মানুষ, গরু, ছাগলের লাশ। সব লাশের পেট থাকত ঢোলের মত ফোলা আর ঊর্ধ্বমুখী। তাতে কাক শকুনের হল্লা। এই তো বছর কয়েক আগে দেখতে গিয়েছিলাম ফরিদপুরের কিছু গ্রাম। পদ্মার ভাঙনে দিন রাতের যে কোনো সময়ে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামগুলো। কয়েকদিন আগেও যেখানে ছিল মুখর জনপদ, জীবনের শত সহস্র কলরব, সেখানে এখন অজস্র ফণা তুলে মহা আনন্দে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জলদানবের উর্মি ও স্রোতধারা। সেই সময়, পদ্মার ভাঙনে ডুবে যাওয়া একটি নারকেল গাছ দেখেছি, হিজল পানির নীচে সবুজ হাত পা ছড়িয়ে সটান দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ, পরমূহূর্তেই দুলে দুলে অদৃশ্য হয়ে গেলো গভীর থেকে মহাজলের গভীরে। এমন নদীর জলে পা ধুতেও কেঁপে ওঠে প্রাণ। অথচ নদী এক মহানির্মাতাও বটে। সহস্র পলি সঞ্চিত করে নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ নামের এই বদ্বীপটাকে। আর আশ্চর্য এই তথ্যটি জানতে পেরেছি লেখক দীপেন ভট্টাচার্যের বিজ্ঞান ভিত্তিক বই বঙ্গীয় বদ্বীপের অতীত ও ভবিষ্যৎ পড়ে। (সম্পূর্ণ…)

‘রাজনীতি’ উপন্যাস: পুরস্কারটা প্রাপ্য ছিল মাজহার সরকারের

হাবিব ইমরান | ১৭ জুন ২০১৭ ৩:২৫ পূর্বাহ্ন

Majhar-Book-cover (1)নি:সন্দেহে মাজহার সরকারের ‘রাজনীতি’ বইটির ‘দেহ’টা উপন্যাসের, কিন্তু প্রাণ ‘কবিতা’র। পড়তে পড়তে মনে হয়েছে আধুনিক কবিতার ঢংয়ে লেখা একটি ‘উপন্যাস’, ‘কাব্য উপন্যাস’ বললে মোটেও বাড়িয়ে বলা হয় না।
সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে লেখা উপন্যাস পড়তে খুব একটা আগ্রহ জাগার কথা নয়। কিন্তু মাজহার সরকারের কাব্যিক উপস্থাপন শুরুতেই আগ্রহ তৈরি করে!
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাজনীতি’ বলতে যে ধরনের চিত্র- খুন, জখম, চাঁদাবাজি, গণরুম, বেঁচে থাকা ও টিকে থাকার লড়াই ভেসে ওঠে, এ উপন্যাসের উপজীব্য সেটাই। তবে গল্প বলার কাব্যিক ভঙ্গি তৈরি করেছে বৈচিত্র্য। মনে হয়েছে ছোটো ছোটো কবিতা জোড়া লাগানো হয়েছে।
‘রাজনীতি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যার বর্ণনা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, পাঠকের মনে হবে আসলে সে একটি গ্রাম দেখতে পাচ্ছে। লেখক উপন্যাসের চরিত্রগুলো এমনভাবে বেছে নিয়েছেন যাদের নিয়ে আসলে পুরো একটা তরুণ সমাজের চিত্র আঁকা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এল’ শেইপের একটি আবাসিক হল দিয়ে উপন্যাসটি শুরু। ওই হলের ক্ষমতায় থাকা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন। সে হলের প্রেসিডেন্ট, কিন্তু মাজহার সরকার তার চরিত্রটি এমনভাবে এঁকেছেন, যেন তিনি একটা দেশের প্রেসিডেন্ট, এমনকি দুনিয়ার। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরা জানেন, আসলে হলের প্রেসিডেন্টের এমন চরিত্র আঁকার ব্যাপারটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়, বরং প্রতীকি।
হুমায়ুনের জন্মদিন দিয়ে উপন্যাসের শুরু। মাজহার লিখেছেন- “জন্মদিন উপলক্ষ্যে আজ হলের পুকুর থেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছে। এটাই তার একমাত্র শখ।…. (সম্পূর্ণ…)

মাতৃভূমি ত্যাগ করা আত্মহত্যার শামিল: শহীদ কাদরী

প্রদীপ কর | ১ জুন ২০১৭ ৭:৪৫ অপরাহ্ন

cover-page“একজন প্রকৃত কবি প্রতিনিয়ত পরম সুন্দরকে নিত্য আবিষ্কার করতে চান। তাকে পেতে চান এবং না পাওয়ার বেদনায় কবির হৃদয়ে রক্তপাত হয়। বেদনার চিরন্তন এই বোধ প্রতিটি মানুষের জীবনেই কম বেশি থাকে। আমরা সবাই একধরণের অন্তঃসারশূন্যতায় ভুগি। তখন আমাদের ইচ্ছা জাগে কোনো সুন্দরকে পাওয়ার, তাকে ধারণ করার। আর সেই না পাওয়ার বেদনা থেকেই জন্ম নেয় এক ধরনের তীব্র জীবন পিপাসা।”

কবি শহীদ কাদরীর এই উপলব্ধি, এই জীবনবোধ আমাদের ভিন্নভাবে জীবনের তাৎপর্য বোঝায়। কীভাবে বাঙালির প্রবহমান জীবনে নাগরিক চেতনা এসে কড়া নাড়ে আর দরজা খুলতেই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে নাগরিক অভিশাপও। বাংলাকবিতার পরম্পরায় সরল গ্রাম্য মহাকাব্যিক জীবনপ্রবাহে পঞ্চাশের দশকই প্রথম নাগরিকতার উত্তরাধিকার নিয়ে উপস্থিত হয়। যদিও এই সময়ের নগর বলতে ইউরোপের কসমোপলিটন রঙচঙে বিষন্নতা আমাদের তৈরি হয়নি। শার্ল বোদলেয়র যেভাবে কবিতায় নগর জীবনের যন্ত্রনাময় ক্লেদাক্ত নারকীয় উল্লাস রচনা করেছেন, বাংলা কবিতায় পঞ্চাশ সেভাবে নগরকীর্তন করেনি।

এইক্ষনে আঁধার শহরে প্রভু, বর্ষায়, বিদ্যুতে
নগ্নপায়ে ছেঁড়া পাৎলুনে একাকী
হাওয়ায় পালের মতো শার্টের ভেতরে
ঝকঝকে, সদ্য, নতুন নৌকার মতো একমাত্র আমি,…

‘উত্তরাধিকার’ গ্রন্থে বৃষ্টি বৃষ্টি কবিতায় এভাবেই স্পষ্ট হচ্ছেন শহীদ কাদরী। বাংলাদেশের কবিতার সূচনালগ্নে, পঞ্চাশের দশকে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী প্রমুখ কবিদের কবিতায় বাংলাদেশের পরিবেশ প্রকৃতি দেশভাগ পরবর্তী সংগ্রাম যেই বোধ বা চেতনার আলোয় আলোকিত হয়েছে সেই সামগ্রিক ভাবনায় থেকেও শহীদ কাদরী ¯^তন্ত্র হয়ে উঠেছেন নগরিক জীবনচিত্র বর্ণনায় শব্দচয়ন রূপক ব্যবহারে অবচেতনের নিহিত অন্তরালে লোকজীবনের অনুষঙ্গ রচনায়। ফলতঃ সকলের মধ্যে থেকেও একা এই মানুষটিকে চিনে নিতে অসুবিধা হয়নি বাংলা কবিতার পাঠকদের। (সম্পূর্ণ…)

কবি ফরিদ কবিরের ‘আমার গল্প’: মুখোশোন্মোচনের ইতিবৃত্ত

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৮ মে ২০১৭ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

একজীবনে ক’জনকে যায় চেনা!
মুখোশ আঁটে মানুষ মুখে
লুকোতে ধারদেনা

পাঁজর খুলে দিলেও বলো
মানুষ কী যায় চেনা?

মানুষের মতো রহস্যময় প্রাণি আর নাই। বুকের পাঁজর খুলে দিলেও, সারাজীবন পাশে থেকেও মানুষ, সহযাত্রিনীকে একটুও না চিনে জীবন কাটিয়ে দিতে পারে। মানুষ নিজেকে চিনতে না দিতে পারে। মানুষ নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে পারে, নাই করে দিতে পারে তার একান্ত আবেগ, অনুভূতি, অভিমান।

কিন্তু এসব মানুষ কেনো করে! তার জীবনের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বসাহিত্য জুড়েই এসব প্রাথমিক প্রশ্ন নিয়ে মোটা মোটা গ্রন্থ রচিত হয়েছে। সত্যি কথাটা হলো, বড় গলায় ‘নিজেকে জানো’ বলা মানুষ নিজেকে চিনতে পারে কী না তা নিয়ে এক অসীম দ্বিধা বুকে পুষে রেখে জীবন কাটিয়ে ফেলে।

border=0যারা সেটা চায় না, তাদেরও একটি প্রজাতি এই পৃথিবীতে আছে। যুগে যুগে তারা নিজেদের হৃদয়ের কথা শুনেছে। নিজেকে ফাঁকি দেয়নি। কবি ফরিদ কবির সেই দুর্লভ মানুষদের একজন, যিনি নিজের কাছে এমনকী, তাকে নিজেদের মনে করা পাঠকদের কাছে স্বীকার করতে পারেন নিজের একান্ত গোপন অনুভূতিও। ‘পাঠকে ফাঁকি দিতে চান না’— এর চেয়ে আমার এই ক্ষেত্রে এই লেখক নিজেকেই ফাঁকি দিতে চান, তা আমার বেশি করে মনে হয়।
আসুন পড়া যাক, তার আমার গল্পের একটা অংশ থেকে—

আমার মনে হচ্ছিলো, আমি আবারও জড়িয়ে যাচ্ছি ক্রমশ নতুন এক ভালোবাসার জালে। মানুষের মনের চাইতে অদ্ভুত আর কিছু নাই! ছাব্বিশ বছর বয়সে আমি বিশাখার দুর্মর প্রেমে যেমনটা উন্মাদ হয়েছিলাম, অনেকটা তেমনই আবারও উন্মাদ হয়ে উঠলাম। তাকে নতুনভাবে অনুভব করতে শুরু করেছিলাম। এমন না যে আমি ঝর্নাকে ভালোবাসি না। এমনও না যে ঝর্নার সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব আদৌ তৈরি হয়েছে। ঝর্না মানুষ হিসেবে যেমন, বউ হিসেবেও এতোটাই তুলনাহীন যে তাকে উপেক্ষা করাই অসম্ভব। পুরুষরা একটা নারীর মধ্যে যা কিছু পেতে চায়, তার সবকিছুই আছে ওর মধ্যে। তাহলে আমি কেন বিশাখার সান্নিধ্য, বিশাখার প্রেম কামনা করছি? এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়া আসলেই কঠিন। আমার অনেক বন্ধুকেই বিবাহিত জীবনে অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হতে দেখেছি। অনেকে বলেন স্ত্রীর সঙ্গে যেসব স্বামীর সম্পর্ক বিভিন্ন কারণে চিড় ধরেছে তারাই অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয়। কিংবা উল্টোটা। স্বামীর অবহেলা পেয়েও অনেক নারী আসক্ত হয় অন্য পুরুষের প্রতি। কিন্তু আমার অবস্থাটা তো তেমন না! ঝর্নার সঙ্গে আমার চমৎকার একটা সম্পর্ক। বোঝাপড়াটা বেজায় ভালো। তবে, আমি কেন ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ছি বিশাখার প্রতি? এর কোনো সদুত্তর সত্যি আমার জানা নাই। (সম্পূর্ণ…)

দেবত্বের পথ রেখেছ আকীর্ণ করি

ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী | ১৭ মে ২০১৭ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

farseem-2ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি ইতিমধ্যে একজন কৃতবিদ্য অধ্যাপক এবং স্বনামধন্য লেখক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর পূর্বতন গ্রন্থ সেপিয়েন্স এরই মধ্যে পৃথিবীর চল্লিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, এমনকি বাংলা ভাষায়ও এর অনুবাদ প্রকাশের পথে। সে গ্রন্থটিতে মানবজাতির একটি পূর্বাপর ইতিহাস গ্রন্থিত হয়েছে। শুধু মানুষ বা মানুষের সভ্যতার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশই নয়, ১৩৮০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব-সৃজনের মাহেন্দ্রক্ষণ থেকে আরম্ভ করে মানবসভ্যতার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে ঐ গ্রন্থে। মানুষের ক্রমবিকাশের এক চমৎকার ইতিকাহিনি ঐ গ্রন্থে পাওয়া যায়। উপরন্তু হারারি’র লেখার ঢঙটি এতো মজাদার এবং রসে টইটম্বুর যে বিজ্ঞানের কথাবার্তার মাঝেও তিনি ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং সমকালীন ভাষিক বিভঙ্গ ভালোই ব্যবহার করেন। তাঁর গদ্য ঝরঝরে, একটানা আনন্দের সাথে পড়ে ফেলা যায়। বিজ্ঞানের কথা, অথচ কী সুন্দর ভঙ্গিতে বলে চলেছেন তিনি। মাঝে মাঝে বিদ্রূপ ঠেসে দিয়েছেন, এমনসব বাক্য ব্যবহার করেছেন যা দীর্ঘ অনুধাবন ছাড়া সম্ভব নয়। (সম্পূর্ণ…)

ম্যান বুকার ও ওবামা দম্পতির পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকদের কাড়াকাড়ি

মুহিত হাসান | ১৭ মার্চ ২০১৭ ১:২২ অপরাহ্ন

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত যাঁরা
চীনের কমিউনিজম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বয়ান, আফ্রিকার পটভূমিতে রবিন হুড ঘরানার একটি গল্পের পুনর্কথন অথবা বিভক্ত জেরুজালেমে বেড়ে ওঠার গল্প– এ বছরের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত উপন্যাসগুলোর বিষয়বৈচিত্র্য দেখবার মতো বটে। সম্প্রতি বুকার কতৃর্পক্ষের প্রকাশ করা একটি ‘লংলিস্টে’ পাওয়া গেছে মোট বারো দেশের তেরোটি উপন্যাসের নাম। মোট আটটি উপন্যাসই অবশ্য মনোনীত হয়েছে ইউরোপ থেকে। এর বাইরে ইজরায়েলের দুটি এবং চীন, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার একটি করে উপন্যাস স্থান পেয়েছে উপন্যাসের জন্য প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়।
&NCS_modified=20161221133400&MaxW=640&MaxH=427&AR-161229871আলবেনিয়ার সুবিখ্যাত কথাকার ইসমাইল কাদারে, যিনি কিনা আগে তাঁর তাবৎ সাহিত্যকর্মের জন্য ২০০৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিলেন(ওই বছরই আদতে এই মূল্যবান পুরস্কার প্রদানের শুরু)– এ বছর ফের মনোনীত হয়েছেন তাঁর নতুন উপন্যাস The Traitor’s Niche-এর জন্য। যার মূল চরিত্র অটোমান সাম্রজ্যের রাজদরবারের একজন দূত তথা বাহক, যার কাজ হলো সুলতানের ধৃত শত্রুদের শিরচ্ছেদের পর তাঁদের কাটা মন্ডু বহন করে নিয়ে চলা। (সম্পূর্ণ…)

অবিশ্বাস্য অভিযান ও ঘটনায় পূর্ণ এক রোমাঞ্চকর আত্মজীবনী

সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ | ৭ মার্চ ২০১৭ ১২:৪৯ অপরাহ্ন

Cover Muhammal Ttakiullah‘যে দেশে গুনীর কদর নাই সেই দেশে গুনী জন্মায় না’, কথাটি বলেছিলেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। কি কাকতালীয় ব্যাপার, উনার ষষ্ঠ সন্তান, চতুর্থ পুত্র, আবুল জামাল মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ, যিনি কমরেড মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ নামে অধিক পরিচিত তার স্মৃতিকথার একটি অনুলিখন পড়তে গিয়ে ঐ কথাগুলাই মনে হচ্ছিল।
উচ্চশিক্ষিত, লেখালেখি আর ছবি তোলার গুনসম্পন্ন, সুদর্শন, বলশালী, প্রথম বাঙালী হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাবার পরেও কেবল ভাষা আন্দোলনের টানে সেটি ছেড়ে আসা এই অসামান্য মানুষটির গল্প নিয়ে কোন ছায়াছবি করলে সেটিকে কাল্পনিক বলে মনে হতে পারে কারণ তার জীবনে রয়েছে অবিশ্বাস্য সব অভিযান ও ঘটনাবলী।
আজীবন মার্ক্সবাদী, পিতার মতোই ধর্মপরায়ন এবং সততার প্রতীক এই মানুষটির জীবন যদি কেবল তার নিজের আলেখ্য হতো তাও তাকে নিয়ে উপেক্ষা মানা যেত, কিন্তু তিনি এক দুর্দান্ত সময়ের প্রতীক। দেশভাগের আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামানোর চেষ্টাকারী কিশোর, ভাষা আন্দোলনের সংগঠক, পাকিস্তানী স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ নাম, শ্রমিক-মেহনতী মানুষের কল্যানে লড়াই করা, দেশের জন্য জেলখাটা রাজবন্দী আর এসবের পরে একটু বেশী বয়সে এসে একজন গুরুত্বপূর্ণ গবেষক, যিনি বাংলার পঞ্জিকা বিনির্মাণ আর সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এতো কিছুর পরেও তিনি আমাদের কাছে অচেনা! অথচ তাঁকে চেনা মানে একটি অবিশ্বাস্য জীবনের স্বাদ পাওয়া নয়, বরং আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময়কে চেনা, সেই সময়কে ধারন করা। (সম্পূর্ণ…)

কবরীর জীবনস্মৃতি: কবির রচিত আত্মজৈবনিক গদ্য

নির্মলেন্দু গুণ | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

Cover-Smriti-Tuku-Thakসুচিত্রা সেনকে নিয়ে, তাঁর জীবদ্দশায় আমি একটি কবিতা লিখেছিলাম। ঐ কবিতায় সুচিত্রা সেনের অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর দৈহিক সৌন্দর্যের অকপট বর্ণনাও ছিল।
তাঁর মৃত্যুর বছর দশেক আগে লেখা আমার ঐ কবিতাটি সুচিত্রার মহাপ্রয়াণের পর আলোচনায় আসে।
তখন কেউ-কেউ কবিতাটির বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ হানেন।
সুচিত্রা সেন স্মরণে প্রযোজিত একটি টিভি অনুষ্ঠানে আমি এই কবিতাটি পাঠ করি। ঐ অনুষ্ঠানে প্রয়াত চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম, চিত্রপরিচালক ও কথাশিল্পী আমজাদ হোসেন ও নায়িকা কবরী উপস্থিত ছিলেন। নায়িকা কবরী আমার কবিতাটির প্রসংশা করেন। বলেন, ‘সুন্দরের সুষম বন্টন’ কথাটা সুচিত্রা সেনের বেলায় খুব যথাযথ হয়েছে।
পরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি কবিসভায় আমি ঐ কবিতাটি পুনরায় পড়ি। দর্শকসারিতে সেদিন উপস্থিত ছিলেন সুচিত্রা সেনের কন্যা নায়িকা মুনমুন সেন। আমার কবিতা শুনে তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। মঞ্চ থেকে নেমে আসার পর মুনমুন আমাকে পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন এবং বলেন – “আমার মাকে নিয়ে এমন কবিতা পশ্চিমবঙ্গের কোনো কবি লেখেননি।”
কবরী এবং মুনমুন দুই নায়িকাই যে কবিতা বোঝেন– এই তথ্যটি সকলের গোচরে আনার জন্যই এই ঘটনাটির উল্লেখ করেছি।

সম্প্রতি আমাদের কিংবদন্তীতুল্য চিত্রনায়িকা কবরীর লেখা আত্মজীবনী “স্মৃতিটুকু থাক” -এর পান্ডুলিপি পাঠ করে আমার মনে হলো, আমি কোনো কবির রচিত আত্মজৈবনিক গদ্য পাঠ করছি।
১৯৬৪ সালে, সুভাষ দত্ত পরিচালিত সুতরাং ছবিতে সদ্য কৈশোর পেরোনো কবরীর অভিনয় ও কবরীর দেহপট দর্শন করে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছিলাম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com