বইয়ের আলোচনা

শিশুদের চিঠির জবাবে অজানা আইনস্টাইন

হোমায়রা আদিবা | ১৮ মে ২০১৮ ৫:২১ অপরাহ্ন

১৯১৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে কাজ শেষ করেন। দু’পাতার এই মাস্টারপিসই পরবর্তীতে তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেয়। একই বছরের ৪ নভেম্বর বার্লিন থেকে আইনস্টাইন ভিয়েনাতে তাঁর ১১ বছরের ছেলে হান্স আলবার্ট আইনস্টাইনকে লিখলেন,

‘প্রিয় আলবার্ট,
তোমার মিষ্টি চিঠি পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমি আনন্দিত যে তুমি পিয়ানো বেশ উপভোগ করছ, আমার মতে তোমার বয়সীদের জন্য এটা আর ছুতোরের কাজটি অবসরের প্রিয় বিনোদন, এমনকি স্কুলের চেয়েও বেশি প্রিয়। পিয়ানোর ক্ষেত্রে সেই সুরগুলোই বাজিয়ো যা তুমি উপভোগ করো, তোমার শিক্ষক যদি তা নাও বলে থাকে, তবুও। যে-কাজ করে তুমি এত বেশি আনন্দ পাও যে কখন সময় পার হয়ে যায় তা তুমি টেরই পাও না—এই ধরনের কাজ থেকেই তুমি সবচেয়ে বেশি শিখবে। মাঝে মাঝে আমি কাজে এতোটাই মগ্ন হয়ে যাই যে দুপুরের খাবার খেতেও ভুলে যাই। টেটের সাথে রিং টসও(এক ধরনের খেলা) খেলতে পারো, এতে তুমি আরও চটপটে হবে।
তোমাকে ও টেটেকে চুমু
বাবা

তোমাদের মাকে শুভেচ্ছা’ (সম্পূর্ণ…)

জীবনবোদ্ধা গল্পকার নাসরীন নঈম

দিল মনোয়ারা মনু | ১৩ মে ২০১৮ ১০:৩২ অপরাহ্ন

নাসরীন নঈম কবি হিসেবে জনপ্রিয়। আমি যতদুর জানি তিন দশক ধরে কবিতার সাথে তার বসবাস। দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় তার কবিতা প্রকাশিত হয়। আমি দীর্ঘদিন দুটি পত্রিকায় সম্পাদনার দায়িত্বে থাকায় তার কবিতার সাথে আমার নিরবচ্ছিন্ন জানাশোনা। আমি জানি কতখানি ভালোলাগা ও ভালোবাসায় তার কবিতার বেড়ে ওঠা এবং সেই কারণে ক্রমান্বয়ে তার কবিতার বহুমাত্রিক বিষয়, শব্দচয়ন ও মুক্তচিন্তা ও প্রগতির পথে ধাবমানের আধুনিক মনোভঙ্গী সহ প্রকাশের অভিনবত্ব, তাকে সকল কবিতাপ্রিয় মানুষের কাছে নিয়ে যায়। কবি হিসেবে পেয়েছেন স্বীকৃতি। কিন্তু একমাত্র কবিতায়ই নিবিষ্ট থাকতে চাননি তিনি। তার চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনা তাকে নাড়া দেয়। তার ভাবনাকে প্রসারিত করে। একসময়ে এইসব ঘটনা তিনি জনসমক্ষে আনতে চান। কারণ ছোটবেলা থেকেই তিনি গল্প শুনতে এবং বলতে খুব ভালবাসতেন। এ প্রসঙ্গে নাসরিন বলেছেন জীবন জগৎ সম্পর্কে তার নিরন্তর কৌতুহলের কথা। জোৎস্নায় ভিজে যেতে যেতে তাই বাবার কাছ থেকে হিন্দুস্তান পাকিস্তান রায়টের গল্প নিমগ্ন হয়ে শুনতেন, শুনে শুনে স্বার্থপরতা, নৃশংসতা, ভাঙ্গাগড়ার ঘটনা তার মনের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ধর্ম শিক্ষকের ছাত্রীর প্রতি নোংড়া আচরণসহ সমাজের চারপাশের অসংগতি বৈষম্য, অকথিত যন্ত্রণার নানা ঘটনা তার ভেতর বাহিরকে মোহিত ও মথিত করে রাখতো। আর তা প্রকাশের আকুলতাই পরবর্তী সময়ে তাকে গল্প লেখার প্রেরণা দিয়েছে। গল্প লেখার হাতটিও চমৎকার। সহজ সরল শব্দ ব্যবহারের নিপুনতা, গল্পের মজবুত গাঁথুনী, প্রকাশের সাবলীলতা এবং সর্বোপরি লেখকের দৃষ্টিভঙ্গী তার গল্পকে সুখপাঠ্য এবং অনবদ্য করে তোলে। পাক্ষিক অনন্যায় তার বেশ কিছু গল্প প্রকাশ করার সুযোগ হয়েছে আমার। তার একটি গল্প যার নাম ‘উঠলো বাই কটক যাই’। আমার পড়া গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। গল্পটির চমৎকার বিষয়ের সাথে লেখকের প্রচন্ড রসবোধ ও আধুনিক চিন্তা এক ধরনের ভিন্নতা দিয়েছিলো। চারপাশের পারিপার্শ্বিকতাকে মজা করে তুলে ধরার চমৎকার একটি অসাধারন গুন রয়েছে তার। এই বিষয়টি তিনি এখনও বিবেচনায় রাখতে পারেন। যদিও তিনি নিজেকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ও সময়ে বেধে রাখতে চাননা। তিনি মনে করেন লেখক সর্বক্ষণের সর্বযুগের। তবে নারীর বেদনা যন্ত্রণা সর্বোপরি নারীর প্রতি সহিংসতা অবমূল্যায়ন তাকে বিদ্রোহী করে তোলে এবং গল্পে প্রতিভাত হয়ে তার অন্যরকম মর্যাদা পায়। (সম্পূর্ণ…)

সেলিম জাহানের ‘বেলা-অবেলার কথা’-র সূত্র ধরে

সনৎকুমার সাহা | ১০ মে ২০১৮ ৩:২০ অপরাহ্ন

সেলিম জাহানকে প্রথম দেখি বোধ হয় তিন দশকেরও আগে। আমার স্যর ডক্টর মুশাররফ হোসেন তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর থাকা মানেই উন্মুখ মেধাবী মনকে আকর্ষণ করা। ফুলার রোডে পুরোনো লাল বাংলোটিতে তিনি থাকতেন দোতলায়। নিচের তলায় প্রবাদ-প্রতিম জ্ঞানবৃদ্ধ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক। দুজনই আকর্ষণ করেন মেধাকে। অবশ্য একই ধাঁচের নন দুজন। আমার স্যর উচ্ছল, প্রাণবন্ত। আকর্ষণী ক্ষমতা চুম্বকের মতো। কেউ ফাঁকা মন নিয়ে তাঁর কাছে গেলেও ফিরে আসে ভাবনা-চিন্তার নানা বিষয় মাথায় নিয়ে। ছক বেঁধে তত্ত্ব সাজাবার মতো তিনি সেসব গেঁথে দেন না। হৈ-চৈ হুল্লোড়ের ভেতরেও তাঁর শাণিত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু অন্তরঙ্গ কথার তোড়ে তারা অবলীলায় বেরিয়ে আসে। চারপাশে ছড়ায়। কখনো কখনো জমাট বাঁধে। যখনই গেছি, দেখেছি ওই সময়ে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ সহকর্মীরা, তাঁদের মতো বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনাময় উচ্চাভিলাষী মেধার কারবারিরা কেউ কেউ– আরো অনেকের সঙ্গে সেখানে আসর জমিয়ে মশগুল। স্যর-এর সমসাময়িক তুখোড় পণ্ডিতরা থাকতেন। এতটুকু বেমানান মনে হতো না। অপরদিকে প্রফেসর রাজ্জাকের, আমার মনে হয়েছে, কিছু বাছ-বিচার ছিল। যদিও চলনে-বলনে খাস মাটির কাছাকাছি অতি সাধারণ এক মানুষ। তারপরেও যাঁদের তিনি দীক্ষা দেন, তাঁদের তিনি বাজিয়ে নেন। তাঁর সঙ্গে মনের তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মিললে তবেই তিনি সহজ হন। এছাড়া তাঁকে লাজুক-মুখচোরাই মনে হতো। যেন অনেকের জন্য তিনি নন। তাঁর কৃপা বাছাই করা কতিপয়ের জন্য। এবং সেই কতিপয় অবশ্যই ভাগ্যবান। (সম্পূর্ণ…)

মগ্নচৈতন্যের চক্রব্যূহ: তাপস গায়েনের কবিতা

প্রদীপ কর | ৬ এপ্রিল ২০১৮ ১:০৫ অপরাহ্ন


কবি তাপস গায়েনের কবিতার বই সময়ব্যূহে অভিমন্যু পড়বার পর নেশাগ্রস্তের মতো আচ্ছন্ন ছিলাম। ধীরে ধীরে বোধিতে চৈতন্য ফিরে এলে বুঝতে চেষ্টা করেছি এই আবিষ্ট শক্তির রহস্যটি ঠিক কী?

সমসময়ের কবিতা নিয়ে নানা ধরনের সাধারণ প্রথানুগমনকারী কথাবার্তার অপর মেরুতেই অবস্থান করে এই বই।

যে কবিতা আমার মেধাকে আক্রান্ত করতে পারে না, মননকে মগ্নতা দেয়না, বহুদূরের সময়কে হাতের তালুর মধ্যে নান্দনিকতায় উপস্থাপন করতে পারে না, সে রকম কবিতা সুখপাঠ্য হলেও আত্মায় আন্দোলনের মতো নিবিড়পাঠ্য নয়।

কবি তাপস গায়েনের সময়ব্যূহে অভিমন্যু তৃতীয় কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল ২০১৭ । এর আগে সাঁকোশূন্য মহাদেশ (২০০১) এবং একলব্য নিঃসীম নগরে (২০১০) প্রকাশিত হয়েছে।

বোঝাই যায়, একটি গ্রন্থ নির্মাণের জন্য কবি যথেষ্ট সময় নিয়েছেন। প্রগলভ-বহুপ্রসবী নন। এই স্থিতধী নির্মাণের জন্য যে অনুধ্যান প্রয়োজন তাতে একটি গ্রন্থ থেকে পরবর্তী গ্রন্থে যেতে এরকম সময় সত্যিই অপরিহার্য ছিল।

বইটির ব্লার্বে লেখা আছে: ‘পাথরে প্রহৃত জল’ নামে তার পংক্তির অসূর্য-স্পর্শা কবিতামালার নিঃশব্দ অন্তরাল ভেঙে, পরিভ্রমণের পথে কবি তাপস গায়েন ‘সাঁকোশূন্য মহাদেশ’ পাড়ি দিয়ে ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকেন গদ্যপ্রসারী কবিতার টানা অবয়বে- একলব্য নিঃসীম নগরে কাব্যগ্রন্থে, যার পূর্ণপরিব্যাপ্তী নিয়ে এবার প্রকাশিত হল সময়ব্যূহে অভিমন্যু। আপাত অন্তর্মুখী ও নির্বিরোধ, কিন্তু ভেতরে গভীর রক্তক্ষরণে সিক্তমানুষ ও সভ্যতার ক্রান্তিদশা নিয়ে কবি নিবিড় আশ্রয় খোঁজেন দর্শন ইতিহাস বিজ্ঞান ও সাহিত্যের আলোকিত পাঠে, মহামানবদের চৈতন্যধামে; প্রেম ও প্রজ্ঞার ফোটন ভরে দেন পংক্তিমালায়, যখন নিশ্চিত জানেন এমন কালের মুখোমুখি তিনি, যখন তার সময়ের নায়কেরা চক্রবূহ্যে বন্দি পৌরাণিক বীরযোদ্ধা অভিমন্যুর মতো।’ (সম্পূর্ণ…)

কবি কুমার চক্রবর্তী’র কবিতায় অধিবিদ্যক চিন্তা-ভ্রমণ

মতিন বৈরাগী | ৫ এপ্রিল ২০১৮ ১:৪৬ অপরাহ্ন

অর্জুন জানত, যুদ্ধ হলো নিজেকে
গৌরাবান্বিত করার এক বিপর্যয়কর পথ, ও প্রত্যাহার
এক সার্থক খেলার বিপর্যাস,
আর কুরুক্ষেত্র উপহার দেয় এমন এক মনস্তত্ত
যেখানে জয়ীরা পরাজিত আর পরাজিতরাই জয়ী
[ অধিবিদ্যাসিরিজ কাব্য]

মানুষ চিন্তা করতে পারে। চিন্তাশীল মানুষই সংবেদনশীল। চিন্তা মূলত একধরণের নিজস্ব ভ্রমণ। চিন্তাই মানুষকে অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে। চিন্তাই উপলব্ধিকে বাড়িয়ে দেয়, সচেতন করে, মনজগতে নিষ্ক্রয় চিন্তাকে চেতনস্তরে নিয়ে আসে। চিন্তার এই ভ্রমণ থেকে দর্শনের সৃষ্টি। অধিবিদ্যক ধারণাগুলো চিন্তার ভ্রমণ থেকেই সংগৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত, কল্পনা ও অভিজ্ঞতায় যুক্ত হয়ে অনুসন্ধানকে নিয়ে যায় নির্মাণের দিকে। লেখক কবি বা সৃজনশীল মানুষ চিন্তার ভ্রমণ থেকেই নির্মাণকলায় উদ্দীপনাগুলোকে কাজে লাগায়। প্রকাশে সে সব হুবহু তেমন থাকেনা, এগুলো স্বপ্নের দৃশ্যপটের মতো বদলায়, তখন প্রকাশে এর জটিলতাগুলো স্ফূর্ত হয়।

একজন কবি বা শিল্পী অন্যদের থেকে অনেকখানি ভিন্নতর। যদিও সে সামাজিক মানুষ এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের সংগে সমানভাবে যুক্ত। কিন্তু তার ভিন্নতা এইটুকু যে সে গতানুগতিকতার বাইরেও চিন্তা করে, এবং চিন্তা থেকে উদ্ভুত বিষয়াবলী তার মনে প্রাণে যে আবেগ সঞ্চার করে তা প্রকাশে গতি দেয়। শিল্পকলাও মানুষের চিন্তাপ্রসূত সৃষ্টি। আবেগ আর কল্পনা এর মূল বাহন হলেও উদ্ভবে রয়েছে চিন্তারই আনুকুল্য। শিল্পকলায় চিন্তাভ্রমণ থেকে নানাকিছুর যোগ নতুন চিন্তার পরিধি তৈরি করেছে। (সম্পূর্ণ…)

কাজী জহিরুল ইসলামের “থাবড়া হামিদ”

পূরবী বসু | ১২ মার্চ ২০১৮ ৮:০৭ অপরাহ্ন

border=0“থাবড়া হামিদ” কাজী জহিরুল ইসলামের সদ্য প্রকাশিত একটি উপন্যাস। কাজী জহিরুল ইসলাম একজন কবি হিসেবে বাঙালি পাঠকের কাছে পরিচিত। তাঁর লেখা, আমার জানা মতে, এটি-ই প্রথম উপন্যাস। ছিয়ানব্বই পৃষ্ঠার ছোট্ট পরিসরের উপন্যাসটি আগাগোড়া অত্যন্ত মনোগ্রাহী এবং সাবলীল ভাষায় লিখিত। একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত পাঠকের মনোযোগ টেনে ধরে রাখে এই বই। ফলে বলাই বাহুল্য উপন্যাসটি সুখপাঠ্য।

বাংলাদেশের কোনো উপশহর কিংবা গ্রামের অতি পরিচিত পরিবেশে কিছু চেনা চরিত্রের প্রথাগত চলাফেরা, কথাবার্তা, জীবনযাত্রা, স্থানীয় রাজনীতি, ক্ষমতার প্রতাপ, সেই সঙ্গে হাসিঠাট্টা মিলে একটি জনপদের দৈনন্দিন জীবনের সংস্কার, কুসংস্কারসহ বেঁচে থাকার নানা বৈচিত্র্যময় অনুষঙ্গ রয়েছে এই উপন্যাসে। এই বইয়ের সবেচেয়েদৃষ্টিগ্রাহ্য ও নান্দনিকউপকরণ বোধহয়অল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত সহজ সরল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহৃত কথাবার্তা। ছোট ছোট বাক্য গঠনে তৈরি, কৌতুকপূর্ণ কথোপকথন শুরু থেকেই মন কাড়ে। লেখকের চরিত্র নির্মাণ, তাদের মজাদার কিছু রুটিন শব্দ প্রয়োগ, বিশেষ কিছু কাজকর্ম বা স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য (এই ক্ষেত্রে যেমন যথেষ্ট আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে চেয়্যারম্যান হামিদের “থাবড়া”দানের উৎসব) আমাদের বারে বারে বাংলাদেশের সবচাইতে পাঠকনন্দিত ঔপন্যাসিক ও জনপ্রিয় নাট্যকার হুমায়ুন আহমেদের পরিহাসপ্রিয়তা ও রসিকতা বোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রাত্যহিক গৃহস্থালীতে ব্যবহৃত পরিচিত আরবী ফারসী শব্দ, এমন কি কিছু অতি ব্যবহৃত ইংরেজি শব্দ-ও তুলে এনে তিনি যেভাবে ব্যবহার করেছেন, যেভাবে পশুপাখির সঙ্গে মানুষের পার্থক্য নির্ণয়ে দু’টি পরিনত ব্যক্তি নিবিড় পর্যবেক্ষণে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করেন, তা হুমায়ূনের কথা মনে করিয়ে দেয় নিঃসন্দেহে।
উদাহরণস্বরূপ, কাজী জহিরুল ইসলামের লিখিত “থাবড়া হামিদ” এর প্রথম অধ্যায়ের (পৃষ্ঠা ১২) একটি ছোট অংশের বর্ণনা ও বাক্য গঠনের রীতি তুলে ধরছি। (সম্পূর্ণ…)

ছোটগল্পের সম্ভাবনাময় গদ্য

মাজহার সরকার | ৬ মার্চ ২০১৮ ২:২৭ অপরাহ্ন

গল্পে কেবল গল্পই থাকবে তাতো নয়। তবে ঘটনাহীন আধুনিক গল্পের সময়েও চাই না গল্প থেকে গল্পটাই হারিয়ে যাক। তবে অতিরিক্ত গবেষণা, তথ্যমুখীতা, ভাঁড়ামো, লোক হাসানোর চেষ্টা ও নৈতিক বাণীর চাপে যখন প্রকৃত গল্পের সংখ্যা কমে আসছে তখন আমার হাতে এলো ‘মৃত্যু ও মিডিয়া এক্সপোজার’ ছোটগল্পের বইটি। বইটিকে আমি সাম্প্রতিক বাংলা ছোটগল্পের সম্ভাবনাময় গদ্য হিসেবে দেখছি।

‘খুন হওয়ার আগে একজন কী ভাবছে? একদল তরুণ তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেওয়ার পর কী করছে? একজন মানুষ সোশাল মিডিয়ায় একটা মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কী নিয়ে আলাপ করছে? প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও একজন প্রেমিক তার প্রেয়সীর বাড়িতে কেন যাচ্ছেন? একটি বাড়ির বারান্দায় কেন শিশুর লাল জামা ঝোলে, অথচ তাদের দেখা যায় না? বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে যাওয়ার পরও কেন একটি মাত্র দরিদ্রের গ্রাম থেকে যায়? বেতন না হওয়ার মাসে একজন মধ্যবিত্তের কী হয়? মুক্তিযুদ্ধে একজন যোদ্ধা বিল সাঁতরানোর পর কী হয়েছিলো? একটি জনপদের সবাই উকুন আক্তান্ত কেন হল? মানুষগুলো হারিয়ে কোথায় যায়? জীবনে প্রথম যৌনতার স্বাদ কেমন ছিল?’ বইটির প্রথম ফ্ল্যাপে এ কথাগুলো থেকে বইটি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেওয়া সম্ভব। মোট ঊনচল্লিশটি ছোট গল্প নিয়ে ‘মৃত্যু ও মিডিয়া এক্সপোজার’। লেখক গ্যারান্টি দিচ্ছেন, ‘৯৫ ভাগ গল্পের দৈর্ঘ্যই এক হাজার শব্দের নিচে।’ (সম্পূর্ণ…)

বইমেলায় বিপিএল-এর আরও তিনটি নতুন বই

মারুফ বিল্লাহ তন্ময় | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৩:০৫ অপরাহ্ন


ভাষা ও সাহিত্য সাধনা, ভাষা খণ্ড
মনিরুজ্জামান

ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্য বিষয়ক নির্বাচিত কিছু প্রবন্ধ নিয়ে ২ খণ্ডে ‘ভাষা ও সাহিত্য সাধনা’ প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়ে এই গ্রন্থের সূচনা। প্রথমে ভাষাখণ্ডটি এখানে নিবেদিত হলো।
ঐতিহাসিক, প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক ভাষাতত্ত্বের কয়েকটি প্রসঙ্গ নিয়ে এই বই। তুলনামূলক পুনর্গঠন তত্ত্ব, বানান ও প্রতিবণীকরণ, অভিধান ও ব্যুৎপত্তি প্রভৃতি বিষয় এর প্রথম পর্বের উপজীব্য। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও কয়েকজন বিশিষ্ট ভাষাবিদ এর দ্বিতীয় পর্বের বিষয়। তৃতীয় পর্বে ভাষার সামাজিক প্রসঙ্গ ও বিবিধ বিষয় অর্থাৎ সমাজ-ভাষা এবং উপভাষার নানা বিষয় নিয়ে এই গ্রন্থের আলোচনা শেষ করা হয়েছে। ভাষাতত্ত্বের ছাত্র ও গবেষকগণের কাছে আমার এই চিন্তাধারার কোনও মূল্য হলে নিজেকে সার্থক বিবেচনা করবো।
লেখাগুলি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রবন্ধগুলো ক্রমবদ্ধ নয়। তবে এসব বিষয়ে আলোচনা আরও বিস্তৃত হতে পারে। যে বিষয়গুলি আলোচনায় আনা সম্ভব হয় নি, সেগুলি বর্তমান কালের গবেষণায় ভবিষ্যতে আরও গভীরতা পাবে আশা করি। আমার আলোচনাগুলি প্রস্তাবনাস্বরূপ মাত্র। যে সময়ের মধ্য দিয়ে ভাষাতত্ত্ব এই দেশে এগিয়ে এসেছে, সেই সময়ের খণ্ডচিত্র মাত্র উদ্বোধিত হয়েছে এখানে।
প্রচ্ছদ: সালেহ মাহমুদ
আইএসবিএন: ৯৭৮-৯৮৪-৯৩০৮৯-১-১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৮
মূল্য: ৯৫০ টাকা
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (সম্পূর্ণ…)

এই মেলায় বিপিএল-এর নতুন বই

মারুফ বিল্লাহ তন্ময় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৭:৪৫ অপরাহ্ন

border=0
বিতর্ক: মাতৃভাষায় বিজ্ঞান
সম্পাদক: রাজু আলাউদ্দিন, ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী

বাংলায় বিজ্ঞানবিষয়ক লেখালেখির একটি অভিনব অভিঘাত হলো ব্লগ। কিছুটা প্রমিতকরণের অভাব থাকলেও দেখা যায় তরুণ ব্লগাররা পরিভাষার সমস্যাকে সুন্দরভাবে পাশ কাটিয়ে তরতর করে বিজ্ঞান সাহিত্য লিখে চলেছেন। অনলাইন ব্লগের সূত্র ধরেই একটি পুরনো বিতর্ক আবার শোনা যাচ্ছে। সেটা হলো বাংলা ভাষা বিজ্ঞানের জন্য আদৌ উপযোগী কিনা।
সেই প্রসঙ্গেই এই সংকলন। এতে পূর্বোক্ত মূল লেখাগুলির পাশাপাশি ঠাঁই পেয়েছে এই সংক্রান্ত অনতিপ্রাচীন ভাবনাগুচ্ছের এক অসামান্য সংকলন। কুদরাত-ই-খুদা, আবদুল্লাহ আল-মুতী, মুহাম্মদ ইব্রাহীম, এ. এম. হারুন-অর-রশীদ, জহুরুল হক, আলী আসগর, মুহম্মদ জাফর ইকবালের মতো বিজ্ঞানীদের ভাবনা-চিন্তা। রয়েছে ইতিহাসবিদ শরদিন্দু শেখর রায়ের চমৎকার ঐতিহ্য বয়ান। ইতিহাসের অক্ষুন্ন বয়ান রক্ষার্থে সংযোজিত হয়েছে সত্যেন বসু ও প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের লেখাও। এই সংকলনের প্রতিটি রচনা তাই যেন হিরণ্যগর্ভ-থার্ড মিলেনিয়ামের ব্লগীয় সংস্কৃতির তরুণ থেকে শুরু করে গত শতাব্দীর প্রথম মুসলিম ডক্টরেটের বিজ্ঞানের ভাষাচিন্তা। আধুনিক বাংলাভাষী পাঠকের জন্য এই সংকলনটি নতুন চিন্তার খোরাক দেবে। (সম্পূর্ণ…)

তিমিরে তারানা পাঠ: মুগ্ধতার বাইরে থেকে

কাজী নাসির মামুন | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৭:১৮ অপরাহ্ন

border=0কোনো শিল্পসৃষ্টিরই একাকী অর্থ হয় না। কেননা ব্যক্তির প্রেক্ষিতে কোনো শিল্পকর্মই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। পূর্ববর্তী বা মৃত শিল্পস্রষ্টার কর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়েই নতুন সৃষ্টির মূল্যায়ন হয়। টি এস এলিয়ট প্রায় এমনটাই বলেছেন। সে ক্ষেত্রে কবিতার অভিনবত্বের ধারণা শুধু সেকেলে নয়, অকার্যকরও। তবে পূর্ববর্তী কবিদের পারম্পর্য বজায় রেখেই একজন কবি নিজের কবিতায় স্বতন্ত্র হয়ে ওঠেন। সোহেল হাসান গালিবের তিমিরে তারানা কাব্যগ্রন্থটি পড়তে পড়তে এ কথাগুলো মনে হয়েছে আমার। আরও একটা কথা ভাবনায় এসেছে। অভিনবত্বের উচ্চাভিলাষ পরিত্যাগ করলেই এ যুগের সচেতন পাঠক কবিতায় ভিন্নতার সূত্রটি আবিষ্কার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন পাঠের অভিনিবেশ আর শিল্পচেতনার একপেশে রুচি পরিহার করা। অর্থাৎ কবিতার ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের সঙ্গে নিজের রুচি মেলানো এবং পাঠকসত্তার বিকাশ সাধন। কেননা পাঠকের কাব্যরুচিও সংস্কারে বাঁধা পড়ে। এসব বলবার কারণ হলো, আমার অভিজ্ঞতায় যতদূর বুঝেছি উচ্চ প্রশংসা অথবা অতি নিন্দার বাহারি কথাবার্তা ছাড়া সাম্প্রতিক কালে কাব্য সমালোচনার অন্য কোনো ধারা চোখে পড়ছে না। যে-কোনো শিল্পকর্মকে আমরা মুগ্ধতা থেকে গ্রহণ করি। এমন কি ‘অতি নিন্দা’র যে-প্রসঙ্গটি আমি টেনেছি সেটিও নেতিবাচক মুগ্ধতার মনস্তাত্ত্বিক প্রকাশ বলে আমার ধারণা। কোনো সৃষ্টিকর্মকে ক্রিটিক্যালি গ্রহণ করবার দরকার আছে। যার অর্থ হলো মননশীলতার চোখ দিয়ে ওই সৃষ্টিকর্মের বৈশিষ্ট্য নিরূপন, প্রায়োগিক ত্রুটিগুলো নজরে আনা। ব্যক্তিগত ভালো লাগা মন্দ লাগার আবেশ ছড়ানো নয়। আবার শৈল্পিক ত্রুটির খোঁজখবর দেওয়া মানে নিন্দা করা নয়। ত্রুটি মাত্রাতিরিক্ত বোধ হলে সমালোচকের কি এমন দায় পড়ে গ্রন্থালোচনা করার? দায় পড়ে যদি নিন্দাই উদ্দেশ্য হয়। এই ক্ষতিকর প্রবণতা এড়াবার উপায় হলো শিল্পের চলমান আবহে কেবল যে-গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হবে সেই গ্রন্থটিই আলোচনায় তুলে আনা। এ ক্ষেত্রে ত্রুটি চিহ্নিত হলেও উদ্দেশ্য থাকে মূল্যায়ন। নিন্দা নয়। শিল্পভাষায় একে বরং নাম দেওয়া যায় ‘ক্রিটিক্যাল রেমিডি’। (সম্পূর্ণ…)

অগ্নিপুরুষের অগ্নিকাল

এমরান কবির | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৬:৫৫ অপরাহ্ন

border=0জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের অগ্নিপুরুষ উপন্যাসখানি অগ্নিকন্যা উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব। অগ্নিকন্যা উপন্যাসটি যেখানে শেষ হয়েছিল ঠিক তার পর থেকে অগ্নিপুরুষ শুরু। অগ্নিকন্যা শেষ হয়েছিল বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে। তখন ছয়দফা নিয়ে অগ্নিকন্যার প্রধান চরিত্র মতিয়া চৌধুরির ভাবনা ছিল কেমন। তা দিয়েই উপন্যাসের শেষ। পাঠকের জ্ঞাতার্থে শেষ অংশটুকু পুনঃপ্রবেশ হতে পারে– ছয় দফা প্রকাশ হবার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানীদের আত্মার দাবী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মতিয়া বুঝতে পারছেন এটাই স্বাধীনতার মূল ইশতেহার। ছয়দফা ক্রমাগত পরিণত হবে একদফায়। দৈনিক সংবাদে হেডলাইনের সংবাদটি পড়েই তিনি নিজের ঘরে গিয়ে বসলেন। গভীর মনোযোগ দিয়ে পত্রিকার প্রতিবেদনটি আবার পড়লেন। মনে মনে বললেন ক্যাম্পাসে যেতে হবে। আলেচানা করতে হবে ছয়দফা নিয়ে। বসতে হবে ছাত্রনেতাদের সাথে। গড়ে তুলতে হবে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন। (সম্পূর্ণ…)

একাকিত্বের স্তোত্র রচনা ভালোবাসার অন্বেষা

আহমদ রফিক | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ন

বাংলা সাহিত্যে কবিতার ঐতিহ্যধারায় মাঝে মাঝে ঘটনা তথা বিষয়ের হঠাৎ আবির্ভাবে কাব্যসৃষ্টির মূলধারা বা মূল স্রোত তৈরি হতে দেখা গেছে। কখনও কবিতাই মূলধারার জনক। কবিদের ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠস্বর সত্ত্বেও বিষয়ের একটি বিন্দুতে তারা এক ও অভিন্ন। যেমন অবিভক্ত বঙ্গে স্বদেশ ও স্বাধীনতা প্রসঙ্গে, চল্লিশের দশকে সমাজবদলের প্রত্যয়ে, বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় একুশের কবিতা এবং ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী চেতনার স্বদেশ ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের কবিতা।
আবার এর মধ্যেই অবিভক্ত বঙ্গীয় সাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি বৈশিষ্ট্যের কবি ও কবিতা যেখানে বিষয়ের চেয়ে প্রাকরনিক অভিনবত্বের প্রকাশ অধিক। নাম উল্লেখ না করলেও কাব্যামোদী পাঠকের তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গের কাব্যসাহিত্যে শেষোক্ত ধারাটি কিছু না কিছু প্রভাব রেখেছে পঞ্চাশের দশক থেকে।
এর সূচনা অবশ্য স্বাধীন বাংলাদেশে অপ্রত্যাশিত সমাজ বাস্তবতার টানে। কবিকণ্ঠে ভাঙনের সুরে বিচ্ছিন্ন চেতনার সূচনা ক্ষোভ, হতাশা ও নেতিবাদী চেতনার পথ ধরে। কবিতার বিচ্ছিন্নযাত্রা, বিচ্ছিন্ন কবিব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটিয়ে যে ধারার সৃষ্টি তা কবিতাকে ব্যক্তিত্ববাদী করে তোলে। তাতে বৈচিত্র্যের নানামুখী প্রকাশ আপন বৈশিষ্ট্য নিশ্চিহ্ন করে। কবিতা সেক্ষেত্রে কখনও একাকিত্ববোধের বা নিঃসঙ্গ চেতনার প্রকাশ ঘটায়। তাতে উপভোগ্যতায় ঘাটতি দেখা যায় না।
বাংলাদেশের কবিতা গত কয়েক দশক ধরে এই স্বাতন্ত্র্য-বৈশিষ্ট্যের পথ ধরে চলেছে এবং কবিতার শৈল্পিক প্রকাশ ঘটিয়েছে, এখনও ঘটিয়ে চলেছে। কবিব্যক্তিত্বের অনন্য এককতা সেখানে প্রধান হয়ে উঠেছে। তারুণ্য ও যৌবনের বিষয় ভাবনা এবং প্রাকরণিক আকর্ষণ; সময় সেক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা। আর তা যেমন আত্মপ্রকাশের তেমনি আত্মবৈশিষ্ট্য পরিস্ফুট করে তোলার সহায়ক। প্রেম-ভালোবাসা তখন অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com