১৯৭১

গর্জে উঠুক আরেকবার

হামীম কামরুল হক | ১৬ december ২০১৪ ৪:৩১ অপরাহ্ন

hasan.jpgএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হতে পারতো একটা বোধিদ্রুম বা বোধের বৃক্ষ, যারা শেকড় থেকে, কাণ্ড থেকে, শাখা-প্রশাখা থেকে, পাতা, ফুল, ফল– সবকিছু থেকে আমরা নিতে পারতাম আমাদের আগামীদিনের পথ চলার রসদ। যেকোনো রকমের অন্ধকার সময়ে একাত্তরের চেতনার টর্চলাইট আমাদের সঙ্গী হতে পারতো। কি ব্যক্তিগত কি রাষ্ট্রীয় সমস্ত সংকটে আমরা সতেজ থাকতে পারতাম একাত্তরের কল্যাণে। কিন্তু সেই বোধ একটু একটু করে যেন ক্ষয়ে গেছে, সেই আলোকবর্তিকা দিনে দিনে অনুজ্জ্বল হয়েছে। এবং সেটা ঘটেছে ভেতরে ভেতরে, বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। কারণ চোখের সামনে মুুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক উদ্যোগ-আয়োজন চলছে। কথার ফুলঝুরিরও কোনো অভাব নেই। বড়বড় শোভাযাত্রা নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া– সবই চলছে, সবই ঠিক আছে, কিন্তু নেই কেবল একাত্তরের চেতনা। একটি উদার মানবিক শোষণমুক্ত দেশ গড়ার সত্যিকারে অঙ্গীকার একাত্তরের পর পর বাড়ির পেছনের অগভীর ডোবায় সেই যে ডুবিয়ে দেওয়া হলো আর সেটি তুলে আনার ইচ্ছা হয়নি। ইচ্ছা হয়নি, কারণ পরিবর্তিত পরিস্থিতি এমন করে আমাদের বোধকে নির্মাণ করেছে, তাতে আর সেখানে ফিরে যাওয়ার দরকার পড়েনি। তারপরও একাত্তর নিয়ে কিছু কথা, কিছু গান ফিরে ফিরে আসে। কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, তারা কী চেয়েছিলেন, কী পেলেন– সেই প্রশ্নগুলি বার বার নানান সময়ে হানা দিয়েই যায়। বর্তমানে দাঁড়িয়ে চল্লিশ বছরের আগের মানুষটা, যিনি কিনা একজন মুক্তিযোদ্ধা– তার সেই সময় এবং বর্তমান অবস্থান– আমাদের কিছু প্রশ্নে জবাব হয়তো দিতে পারে। তার উত্তর আমাদের মধ্যে যারা এখনো ‘‘একটি উদার মানবিক শোষণমুক্ত দেশে গড়ার’’ কথা ভাবেন তাদের আকুল করতেই পারে। (সম্পূর্ণ…)

প্রকাশ্যে বলিতে নাই: আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ১৯৭১

সলিমুল্লাহ খান | ১৬ december ২০১৪ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

elias.gif১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বিখ্যাত আবদুল মতিন ঐ বছরের কিছুদিন–হিশাব করিয়া বলিতে মোট এক বছর সাতদিন–ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বসবাস করিয়াছিলেন। সেখানে যাঁহাদের সহিত তিনি ঘন হইয়াছিলেন তাঁহাদের মধ্যে বিবিধ রাজবন্দী–যথা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক অজিত গুহ এবং অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী। ২০০৩ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে আবদুল মতিন লিখিয়াছেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী একবছর কারাগারে থাকিয়া ধৈর্যহারা হইয়াছিলেন, পৌঁছিয়াছিলেন অতিষ্ঠার চরমে। মাথাটা খারাপ হইতে কেবল বাকি ছিল। কারাগারে যাইবার আগে চৌধুরী সাহেব সক্রিয় বা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। অজিত গুহ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বা সমর্থক ছিলেন। তিনি আবদুল মতিনকে রবীন্দ্রনাথ পড়াইতে চাহিয়াছিলেন। মতিন পড়িতে শুরুও করিয়াছিলেন। আবদুল মতিন আরো জানাইতেছেন, মুনীর চৌধুরী তাঁহার খাতার ওপর মার্কসকে লইয়া ইংরেজিতে তাঁহার লেখা একটা কবিতা দেখিয়া তাঁহাকে বার্নার্ড শ পড়াইতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। দুঃখের মধ্যে, তিনি ১৪ মার্চ ১৯৫৩ তারিখে ছাড়া পাইয়া যাওয়ায় আর পড়া হয় নাই। (সম্পূর্ণ…)

স্বাধীনতা ও শামসুর রাহমানের কবিতা

সৈয়দা আইরিন জামান | ২৫ মার্চ ২০১৪ ১১:২৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রখ্যাত গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার লিখেছিলেন:

শোনো একটি মুজিবরের থেকে
লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠ
স্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি
আকাশে বাতাসে ওঠে রণি।
(সম্পূর্ণ…)

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত

আকতার হোসেন | ২৫ মার্চ ২০১৪ ৯:৪৪ অপরাহ্ন

পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীয় শ্লোগান ছিল ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ যার মানে পাকিস্তান দীর্ঘজীবী হোক। চব্বিশ বছর পর পাকিস্তান যখন ভাঙ্গতে বসেছিল তখন বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের শ্লোগান হয়ে দাঁড়াল ‘জয় বাংলা’ যার মানে বাংলার জয়। শেষে হলও তাই, পাকিস্তান দীর্ঘজীবী হল না অথচ বাংলাদেশের জয় হল। (সম্পূর্ণ…)

আমার ২৬শে মার্চ ১৯৭১, আগে ও পরে

শশবিন্দু চৌধুরী | ২৫ মার্চ ২০১৪ ৮:৫৬ অপরাহ্ন

আমি সক্রিয় রাজনীতি প্রাপ্ত বয়সে করিনি; আবার রাজনৈতিক বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েও থাকিনি। আমার অন্যতম রাজনৈতিক বন্ধু ছিলেন প্রদীপ বসু। প্রদীপ বসু নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ভাইপো। ১৯৬৮ সালের কোন একদিন তার সভায় উপস্থিত হয়েছিলাম। সভা শেষে প্রদীপ বসু তার কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে তার অতি পুরাতন গাড়ীতে বসেছিলেন। আমাকে বাইরে আসতে দেখে ডেকে বললেন, “আসুন, আপনাকে শিয়ালদহে পৌছে দেই। ওখান থেকে ফিরতে আপনার সুবিধা হবে।” (সম্পূর্ণ…)

১৯৭১ : কবি জসীমউদ্দীনের সাক্ষ্য

সলিমুল্লাহ খান | ১৬ december ২০১৩ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

১৯৭১ সালের ছায়া বাংলাদেশের সাহিত্যে কতদূর পর্যন্ত পড়িয়াছে তাহা এখনও পর্যন্ত সঠিক পরিমাপ করা হয় নাই। উদাহরণস্বরূপ কবি জসীমউদ্দীনের কথা পাড়া যায়। এই মহান কবি ১৯৭১ সালেও বাঁচিয়া ছিলেন। সেই বাঁচিয়া থাকার অভিজ্ঞতা সম্বল করিয়া তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ একটি ক্ষীণকায় কবিতা সংকলনও ছাপাইয়াছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

বীরের ভঙ্গি:ক্যাম্প জীবনের গল্প

কায়সার হক | ১৫ december ২০১৩ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

বলা চলে যুদ্ধের সময় ঘটনাচক্রে আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগ দেই। ১৯৭১ সালের মে মাসের শেষের দিকে আমি আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা হই। অসাধারণ এক ট্রেন ভ্রমন শেষে কলকাতা পৌঁছে কয়েকজন ঢাকার বন্ধুর দেখা পেয়ে যায় সেখানে। ওরা সেক্টর ৭-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে জেনে ওদের সঙ্গেই সেখানেই যাব মনস্থির করি। জুনের শুরুর দিকে একদিন সকালে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের রায়গঞ্জ সদরদপ্তরে গিয়ে শুনি যে সেই সন্ধ্যাতেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার পদের নিয়োগপরীক্ষা হবে সেখানে। নির্বাচিত ক্যাডেটরা প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগপ্রাপ্ত সেনা হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেবে। (সম্পূর্ণ…)

বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব প্রসঙ্গে আঁদ্রে মালরো

রাজু আলাউদ্দিন | ৪ মে ২০১৩ ৪:৪৩ অপরাহ্ন

বিচিত্র ধরণের বইপত্র পাঠের সুবিধা এই যে মাঝেমধ্যে এমন সব অভাবিত এবং অপ্রত্যাশিত জিনিস পাওয়া যায় যার জন্যে কোন মানসিক প্রস্তুতি আমাদের সব সময় থাকে না। আর এই না থাকার কারণে অভাবিত প্রাপ্তি আমাদের অনুভূতির উপর এক আনন্দময় স্পর্শ বুলিয়ে যায়। What I am Doing Here(1990) বইটি পড়ার আগেও কি জানতাম যে ব্রুস চাটউইন-এর এই বইটিতেই রয়েছে বাংলাদেশ এবং শেখ মুজিব সম্পর্কে কৌতূহলোদ্দীপক এক টুকরো মন্তব্য? না, মন্তব্যটি চাটউইনের নয়। চাটউইনের হলেও আমার কৌতুহল তাতে একটুও কম হতো না বটে। তবে যিনি মন্তব্য করেছেন তিনি অনেক আগে থেকেই আমার পরিচিত। শুধু আমারই নয়, বাংলাদেশের অনেক শিক্ষিত মানুষের কাছেই, তিনি পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি আঁদ্রে মালরো। (সম্পূর্ণ…)

১৯৭১-এর দুর্লভ স্মৃতিময় চিঠি

শামিমা নাসরিন চৌধুরী লিলি | ১ এপ্রিল ২০১৩ ১২:৫৬ অপরাহ্ন

একাত্তুরের উন্মাতাল দিনগুলিতে লেখকের এই স্মৃতিচারণামূলক রচনাটি বিডিনিউজ২৪.কম-এর সমাজ বিষয়ক সম্পাদক ও মাননীয় সংসদ সদস্য বেবী মওদুদ-এর কাছ থেকে পাওয়া। লেখক শামিমা নাসরিন চৌধুরী লিলি আইসিডিডিআরবি-র প্রাক্তন কর্মকর্তা। রচনাটি প্রামাণ্য তথ্যে সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। তথ্য ও মতামতের সকল দায়-দায়িত্ব লেখকের। পত্রের ভাষা যথাসম্ভব অবিকৃত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। একাত্তর সম্পর্কে এ-ধরনের আরো প্রামাণ্য চিঠি বা উপাত্ত পেলে আমরা তা আপলোড করতে আগ্রহী। – বিভাগীয় সম্পাদক (সম্পূর্ণ…)

৭১’-এর সেই জনযুদ্ধ যেমনটা দেখেছি

সাজ্জাদ আলী | ১৫ december ২০১২ ৬:৩৯ অপরাহ্ন

১৯৭১ এর মে মাসের প্রথম সপ্তাহের কোন একটা দিন, দুপুরের দিকে, আমার দাদীর বাড়ীতে অন্যদের নিয়ে খেলায় মত্ত আমি। তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র, তবে স্কুলে যাওয়ার বালাই নেই, কারন যুদ্ধ লেগেছে পশ্চিম পাকিস্তানীদের সাথে, স্কুলের স্যাররা সবাই যুদ্ধে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে, দু একজন নাকি চলেও গেছে। সারাদিনই শুধু খেলা আর খেলা। হঠাৎ বড়দের মধ্যে ভিশন হৈ চৈ, আমার চাচারা ও তাদের বন্ধুরা যাঁরা ভেতরের বাড়ীতে জটলা করছিল, সবাই দৌড়াচ্ছে বাইরের বাড়ীর কাঁচারী ঘরের দিকে। সেখানে আমার আব্বা অনেক লোকজন নিয়ে প্রতিদিনের মতই সেদিনও সলা-পরামর্শ করছিলেন, বোধকরি দেশের যুদ্ধ নিয়েই। আমাদের বাড়ী সংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে আমিও দৌড়ালাম কাঁচারী ঘরের দিকে। যেতে যেতে দেখলাম আশেপাশের বাড়ীগুলো থেকেও পরিচিতরা সবাই আমাদের বাড়ীর দিকেই ছুটে আসছে। গিয়ে দেখলাম একজন লোক একটা ঘোড়ার পিঠে বসা (সেই সময়ে আমাদের এলাকায় দ্রুততার সাথে সংবাদ প্রেরণের একমাত্র অবলম্বন ছিল ঘোড়সওয়ার হওয়া), উচ্চস্বরে আব্বাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে, কিন্তু সে এতই উত্তেজিত যে কেউই তার কথার কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। এক পর্যায়ে তার পরনের লুঙ্গির গিট খুলে একটা চিরকুট বের করে আব্বার হাতে দিল। মুহুর্তেই তিনি কাগজের ভাজ খুলে চিঠিটি পড়ে ফেললেন। তাঁর মুখের ফ্যাকাসে অবস্থা দেখে ছোট্র আমারও বুঝতে বাকী রইল না যে ঐ চিরকুটে কোন একটা মহা বিপদের বার্তা আছে। (সম্পূর্ণ…)

আবদুল হামিদ রায়হান:

যুদ্ধদিনের আলোকচিত্রীর বিরল অবদান

মফিদুল হক | ৬ অক্টোবর ২০১২ ৮:৫৬ অপরাহ্ন

আলোকচিত্রী আব্দুল হামিদ রায়হান আমাদের যুদ্ধদিনের এক অনন্য শিল্পী। ঢাকা আর্ট সেন্টার তার একটি একক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। ‘রায়হানের ৭১’ শিরোনামে এ প্রদর্শনীর কিউরেটর চিত্রশিল্পী ও তার পুত্র আব্দুল হালিম চঞ্চল। এ প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে আব্দুল হামিদ রায়হানকে নিয়ে লিখেছেন মফিদুল হক। তার লেখাটিসহ নির্বাচিত কিছু আলোকচিত্র দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য প্রদর্শনীটির একটি অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করা হল। রাজধানীর ঢাকা আর্ট সেন্টার গ্যালারিতে (বাড়ী-৬০, সড়ক-০৭/এ, ধানমন্ডি) এ প্রদর্শনী চলেছে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত । বি.স. 71-a.jpg (সম্পূর্ণ…)

মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের থাকা ও না থাকা

| ৩০ december ২০১১ ২:৩৫ অপরাহ্ন
[১৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে আর্টস-এ ছাপা হয় অদিতি ফাল্গুনীর ভূমিকাসহ মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক প্রণীত ডায়রি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট’ গঠনের মূল ইতিহাস। এই ডায়রি ছাপা হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ব্যবহারকারী কারো কারো পক্ষ থেকে দাবি ওঠে যে এই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা কখনো ছিল না। তারা এর প্রমাণ স্বরূপ ‘বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা’র লিংক সরবরাহ করেন। সেখানে মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক নামে কারো ভুক্তি নেই। এ প্রেক্ষিতে ‘বীর প্রতীক’ সংক্রান্ত প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধানের জন্য ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগার’-এ গিয়ে দেখা গেল ‘বিশ্রামাগার’-এর নির্মাণ কাজ চলছে। সংলগ্ন অস্থায়ী অফিসের সামনে ডিসেম্বর ২০১১-র ২৪ তারিখে হুইলচেয়ারে স্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক বীর প্রতীকের সঙ্গে কথা বলেন অদিতি ফাল্গুনী। কিন্তু রাস্তার পাশে শব্দের প্রাবল্য থাকায় কাছেই ১/৬বীর উত্তম নুরুজ্জামান সড়কের ‘রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতাপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানে’র আঙিনায় অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কথাবার্তা ধারণ করা হয়। সেখানে মধুর ব্যাপারে কথা বলেন মোঃ গোলাম মোস্তফা বীর বিক্রম বীর প্রতীক, মোঃ সামসুদ্দিন বীর প্রতীক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শুকুর আলী। এ ছাড়া মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন, আবুল কাশেম ও আবদুস সোবাহান মন্টুও মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের এক সময়ে অস্তিত্বশীল থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। তারা জানান যে মধু এখন আর নাই–২০০৫ সাল থেকেই নাই। তবে তার স্ত্রী এখনও সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি চাপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ এলাকায় বন্দুকের গুলি লেগে আহত হন। পরে ভারতে চিকিৎসা লাভ করেন ১৯৭২ সালে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের শেষ দিকে ১৯৭৯ সালে ২৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বীর প্রতীক পদকে ভূষিত হন। তবে তাদের সেই তালিকা কখনো গেজেট ভুক্ত হয় নাই।

আর্টস-এ প্রকাশিত তাঁর ডায়রির লিংক: এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার দিনপঞ্জির পাতা থেকে…।

–বি. স.]

সাক্ষাৎকার গ্রহণ:ব্রাত্য রাইসুঅদিতি ফাল্গুনী


মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের বন্ধু ও পরিচিতজনদের ভিডিও সাক্ষাৎকার।

অদিতি ফাল্গুনী: মোদাস্বার হোসেন মধু বেঁচে ছিলেন। তারপরে উনি মারা গেছেন। ওনার একটা ডায়রি ছিল, ডায়রিটা আমি ছাপালাম, ছাপানোর পরে কেউ কেউ বলতেছেন উনি নাকি ছিলেন না–এটা নাকি কল্পনা, এটা নাকি বানোয়াট, তাই কি?

তোজাম্মেল হক: না না না। আমরা আগাগোড়া এখান থেকে আছি, একসঙ্গে ছিলাম। উনি মারা গেলো, মারা যাওয়ার পরে… উনার অনেক কিছু কথা আছে–সেরকম–উনি প্রথমে গুলি লাগা সৈনিক, তারপরে প্যারালাইসিস, উনি যা কিছু বলতো সত্যি বলতো এবং যা ন্যায় বলতো এবং যা জাতির কাজে লাগবে… এবং সেগুলোর কথাই উনি বলতো।

tozammel.jpg……..
তোজাম্মেল হক বীর প্রতীক। জন্ম. সিংগিমারি, পার্বতীপুর, দিনাজপুর। ১৯৭২-এর ৬ জানুয়ারি দিনাজপুর মহারাজা হাইস্কুলে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে স্বাধীনতা পরবর্তী বিস্ফোরক ও অস্ত্র জমা করার সময়ে আকস্মিক বিস্ফোরণে ৭০০ মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন, আহত হন শতাধিক। তাদের একজন তিনি।
……..

অদিতি ফাল্গুনী: এটা তো অস্থায়ী অফিস? ওই যে আপনাদের যে বিশ্রামাগার…?

তোজাম্মেল হক: বিশ্রামাগার আমাদের স্থায়ী। এখন ভাঙ্গি ফেলাইয়ি অস্থায়ী… অনেকে ভাড়া থাকে, ফ্যামেলি নিয়া থাকে। এখন শেল্টার হইলে আমরা সবাই একত্র হবো।

অদিতি ফাল্গুনী: এইটা কবে নাগাদ মানে পুরাটা আবার ঠিক হবে?

তোজাম্মেল হক: ওই যে ২৪ মাস, দুই বছর টাইম নিছে।

অদিতি ফাল্গুনী: দুই বছর সময় দিছে।

২.
অদিতি ফাল্গুনী: আজ থেকে দশ-এগার বছর আগে আমি প্রথম আসি, এসে আপনাদের দুইজনের একটা ছবিও নিয়েছিলাম? সেটা আর কি পত্রিকাতে ছাপাও হয়েছিল, আমি দেখাই। অনেক আগের পত্রিকা [The Daily Star, 7 December 2000] –এই যে। আপনি আর এই তো মধু, তাই না?

madhu-ds.jpg……..
২০০০ সালে প্রকাশিত অদিতির লেখায় মধু ও গোলাম মোস্তফার ছবি
……..

গোলাম মোস্তফা: হ্যাঁ এই যে, ঠিক আছে। তো এইডা কী হইছে এখন?

অদিতি ফাল্গুনী: এখন ওই ছাপানোর পরে, অনেক দিন পরে আবার দুই বছর আগে এসে আপনাদের অনেকের ইন্টারভিউ নিই, তাই না? তারপরে মধুর একটা ডায়রি খাতাও আমার কাছে ছিল। তো এইগুলো নিয়ে উনার পত্রিকাতে [http://arts.bdnews24.com] একটা লেখা ছাপা হইছে। সেই লেখাটার পরে সবাই বলতেছে মধু নামে কেউ ছিল না। এটা কল্পনা, এটা আমি বানাইয়া লিখছি, আমি টাকা খাইছি…

গোলাম মোস্তফা: মোদাস্বার হোসেন মধু… ঠিকই আছে। এই যে মধু…।

ব্রাত্য রাইসু: এটা চিনেন আপনারা ওনারে?

গোলাম মোস্তফা: আরে চিনা!… আমার সাথে লাখনৌ কমান্ড হসপিটালে… একসাথেই ছিলাম, আহত হইয়া। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com