চলচ্চিত্র

বার্লিনের ভালুককে ঘিরে

তারেক আহমেদ | ৩ এপ্রিল ২০১৩ ৪:০২ অপরাহ্ন

ওরা বলে এই ভালুকটা নাকি শীতকালেও ঘুমায় না। বার্লিনের মানুষের প্রাণের প্রতীক বলা যায় ভালুকটিকে। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বা বার্লিনালেরও প্রতীক এই ভালুক।

ঢাকা থেকে জার্মানির রাজধানী বার্লিন গিয়ে যখন পৌঁছলাম – উৎসব শুরু হতে তখনও তিন সপ্তাহ বাকি। বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনে জড়িত থাকার সুবাদে জার্মন রাস্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা – ডয়্যেচে ভ্যেলের আমন্ত্রণে এই সফর। ডয়্যেচে ভ্যেলে প্রায় এক দশক যাবত পৃথিবীর নানা প্রান্তের নানা দেশের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনে জড়িতদের নিয়ে বছরের এই সময় পাঁচ সপ্তাহব্যাপী এক কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ অবশ্যি — বার্লিনালে। দর্শক সংখ্যার বিচারে যে উৎসবটি ইতোমধ্যেই শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র উৎসবের মর্যাদা লাভ করেছে। দেশে ফেরার দু’দিন আগে উৎসবের টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান থেকে জেনে এসেছিলাম –এবারও তিন লক্ষ দর্শক এগারো দিন ধরে চলা এই উৎসবে ছবি দেখেছেন । (সম্পূর্ণ…)

বেশরা ফকির লালন সাঁইকে নিয়ে ভদ্দরলোকদের সূক্ষ্ম প্রেমের মর্ম বোঝা ভার!!

আ-আল মামুন | ২ অক্টোবর ২০১১ ৪:৫১ অপরাহ্ন

Nations, like narratives, lose their origins in the myths of time and only fully realize their horizons in the mind’s eye. – Homi K. Bhaba []

গৌতম ঘোষের মনের মানুষ (২০১০) সিনেমা নিয়ে আলাপ তুলবার আগে এর শানে নুযুল একটু বিশদ করা প্রয়োজন। সিনেমাটি তৈরি হয়েছে কলকাতার যশবান কবি-ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মনের মানুষ উপন্যাস অবলম্বনে। উপন্যাসটির ভিতর ফ্ল্যাপে কাহিনী-সংক্ষেপ ছাপা হয়েছে এভাবে:

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘মনের মানুষ’-এর প্রধান চরিত্র লালন ফকির। কবিরাজ কৃষ্ণপ্রসন্ন সেনের ঘোড়া চুরি করে রাতে মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগত লালুর। দুঃখিনী মা তাকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েও সংসারী করতে পারেননি। রুজি-রোজগারে লালুর মন নেই, বরং গানের ব্যাপারে তার কিছু আগ্রহ আছে। বাউন্ডুলে স্বভাবের লালুর জীবনে বিপর্যয় এল হঠাৎ। কবিরাজ পরিবারের সঙ্গে বহরমপুরে গঙ্গাস্নানে গিয়েছিল সে। পথে আক্রান্ত হয় ভয়ঙ্কর বসন্ত রোগে। তাকে মৃত ভেবে জলে ভাসিয়ে দেয় সঙ্গীরা। মরেনি লালু। রাবেয়ার পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে সে একদিন ঘরেও ফেরে। কিন্তু মুসলিম-সংস্পর্শে তার যে জাত গেছে! তাকে মেনে নেয় না তার মা, বউ। অগত্যা সমাজ থেকে বিতাড়িত যুবকের নতুন জীবন শুরু হয় জঙ্গলে। নতুন নাম হয় লালন। অভিজ্ঞতা আর বেদনা লালনের অন্তরে জন্ম দেয় শত শত গান, যে গান বলে- ‘ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান/নারী লোকের কী হয় বিধান/বামন চিনি পৈতে প্রমাণ/বামনী চিনি কীসে রে…’। লালন বাঙালির প্রাণের ধন, পথে পথে যিনি আজীবন খুঁজেছেন ‘মানুষ-রতন’। [নজরটান আমার]

poster.jpg
মনের মানুষ সিনেমার পোস্টার

লেখকের বক্তব্যে সুনীল বলে দিয়েছেন: ‘‘এই উপন্যাসটি লালন ফকিরের প্রকৃত ঐতিহাসিক তথ্যভিত্তিক জীবনকাহিনি হিসেবে একেবারেই গণ্য করা যাবে না। কারণ তাঁর জীবনের ইতিহাস ও তথ্য খুব সামান্যই পাওয়া যায়।’’[] তাই আমরা ধরে নিতে পারি যে লালনের নামে প্রচলিত নানা কাহিনীর মতো এটাও যে-কোনো একটা কাহিনী; এবং ঐতিহাসিক তথ্যর ‘সত্যতা’ কোন মানদণ্ডে নির্ধারিত হয় তার ফয়সালা আপাতত তুলে রাখতে পারি। যদিও, পরের বাক্যে তিনি একটা দোহাই পেরেছেন যে এর কারণ হলো: ‘‘লালনের জীবনের ইতিহাস ও তথ্য খুব সামান্যই পাওয়া যায়’’। আমরা যে কেউ একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবো, পুরো বাংলায় ‘গৌণধর্ম’গুলোর ভিতরে সাম্প্রতিক একশ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও চর্চিত চরিত্র হলো ফকির লালন সাঁই। সুতরাং, চাইলে লালনের সাধকজীবনের ‘ঐতিহাসিক’ একটা কাহিনী লেখাও অসম্ভব হতো না। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৪)

| ৩১ মার্চ ২০১১ ২:২৮ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক

কিস্তি তিন-এর পর

poster-5-omar-rahim.jpg
ওমর রহিম মেহেরজান-এর ওয়াসিম রূপে সিনেমার পোস্টারে

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা, আপনি কি…আজম কিছু বলবেন নাকি?

মোহাম্মদ আজম: না, সলিম ভাইয়ের ইয়ের সঙ্গে আমি একটা জায়গায় ইয়ে করতে চাই। সেটা হল যে—মেহের এবং ওয়াসিমের প্রেমকে পাকিস্তানি এবং বাঙালির প্রেম হিসেবে কীভাবে বোঝা যাবে, যখন ওয়াসিম তো কোন অর্থেই পাকিস্তানের ফাইটিং ফোর্সটার প্রতিনিধিত্ব করছে না?

[ব্রাত্য রাইসু: আজম ভাই, নামটা বইলা নিলে সুবিধা হয়।]

মোহাম্মদ আজম: আচ্ছা, আমি মোহাম্মদ আজম; বাংলা বিভাগে পড়াই, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে।

সলিমুল্লাহ খান: আচ্ছা, ওয়াসিম কি ওখানে বেড়াইতে আসছে? ফাইটিং ফোর্সের প্রতিনিধিত্ব করছে না তো কী জন্যে আসছিলো গ্রামে?

মোহাম্মদ আজম: ওখানে সে পাকিস্তান আর্মির পক্ষ হয়ে এসেছে।

সলিমুল্লাহ খান: তো, তাহলে কী?

মোহাম্মদ আজম: আসার পর তাকে বলা হচ্ছে, তাকে আমরা যখন আবিষ্কার করি ফিল্মে, তখন আমরা তাকে দেখি দুইটা পজিশনে দেখি। নাম্বার ওয়ান, সে হল পাকিস্তান পক্ষ থেকে পালিয়ে এসেছে যার কোর্ট মার্শাল হয়েছিল, সেই ধরনের একজন লোক। তার মানে সে পাকিস্তানের বিপক্ষের একজন লোক। এটা সিনেমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, এর ফলে সিনেমার তাৎপর্য চেঞ্জ হয়েছে কি না, আমি সেটা বলছি না। এক্সাক্ট আমি ইনফরমেশনটা বলছি। এটা গেল একটা, আর দু’নম্বর হল সে—দেখাচ্ছে সিনেমায়, সেটাও রিয়েলিস্টিক কি না সেটা আমি দাবী করছি না, যেটা দেখাচ্ছে—যে যোদ্ধারা ঐ পাশ দিয়ে যাচ্ছে, মানে পাকিস্তানি সৈন্যরা—ঐ পাশ দিয়ে যাচ্ছে, তাদের হাত থেকে সে মেহেরকে রক্ষা করছে। এটা হল ইনফরমেশন। I am just putting it. নাম্বার ওয়ান। নাম্বার টু–আপনি (সলিমুল্লাহ খান) যেটা বলছেন যে মেহের পরবর্তী কালে—থার্টি এইট ইয়ার্স, এখানে সে কিন্তু ওয়াসিমের জন্য অপেক্ষা করছে বা ওয়াসিমের জন্য কাতর হয়ে দিন গুজরান করছে এ কথাটা কিন্তু ওর পরবর্তী কালে কোন ন্যারেটিভস-এ পরিষ্কার নয়।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ২)

| ৭ মার্চ ২০১১ ৫:৪৩ অপরাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক

mj_111.jpg
ছবিতে অল্প বয়সের মেহের হিসাবে দৌড়াচ্ছেন সায়না আমিন।

তো এই সব মিলিয়ে আমার কাছে ছবিটা আপত্তিকর মনে হয়েছে, আমি যদি বলি আপত্তিকর—যে যদি ছবিটাতে অন্য প্রসঙ্গগুলো, মুক্তিযুদ্ধের অন্য প্রসঙ্গগুলো দিয়ে যদি মুক্তিযুদ্ধটাকে খুব ভালোভাবে তুলে ধরা যেত, পজিটিভ ওয়েতে তুলে ধরা যেত, আমি হয়তো এই ব্যতিক্রমী মূল যে ঘটনাটা, সেটাকে মেনে নিতে রাজি ছিলাম। কিন্তু সেটা করা হয় নি আর কি।

(ব্রাত্য রাইসু: তাইলে আপনি কি বলবেন যে এটায় নেগেটিভভাবে দেখানো হইছে মুক্তিযুদ্ধকে?)


বৈঠকের অডিও/ভিডিও ২

অবশ্যই, অবশ্যই। পুরো ছবিতে মুক্তিযুদ্ধকে নেগেটিভভাবে দেখানো হয়েছে এবং এইটা আমি জানি না যে কেন হয়েছে। কারণ আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে, এই নির্মাতা বা তার সাথে আরো যারা আছে, আমি চিনি তাদেরকে—অন্য যারা ছেলেপেলেরা আছে—সবাই কিন্তু খুব প্রগ্রেসিভ ধ্যান-ধারণার ছেলেপেলে বলেই আমি জানি। ওরা যে খুব সচেতনভাবে এটা করেছে, সেটাও আমার মনে হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা মানে… হয়তো কম ছিল… বা কী কারণে আমি জানি না… মানে যে কোনো কারণেই এটা এখন একটা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছবিই হয়ে গেছে।

(ব্রাত্য রাইসু: এরপরে কে বলতে চান? ফৌজিয়া…?) (সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ১)

| ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ২:১৬ পূর্বাহ্ন

rubaiyat-hossain-writer-dir.jpg
মেহেরজান সিনেমার পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন

নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন-এর ‘মেহেরজান’ সিনেমার প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় ১৯ জানুয়ারি ২০১১। স্টার সিনেপ্লেক্সের দুটি হলে প্রিমিয়ার শো দেখানো হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়া হয় মেহেরজান। মুক্তির সপ্তাহ খানেকের মাথায় ‘মেহেরজান’-এর পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘আশীর্বাদ চলচ্চিত্র’ সিনেমাটি হল থেকে উঠিয়ে নেয়।

মুক্তির এক সপ্তাহের মাথায় হল থেকে কোন একটি সিনেমা নামিয়ে দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। সেটা হল কর্তৃপক্ষ নামায়। কিন্তু ‘মেহেরজান’-এর ক্ষেত্রে হল কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির মেয়াদ থাকা অবস্থায় এবং হল কর্তৃপক্ষের আগ্রহ থাকলেও পরিবেশক পক্ষ থেকে সিনেমাটি তুলে নেওয়া হয়। এটি বাংলাদেশের সিনেমা জগতে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

poster-meherjaan.jpg
‘মেহেরজান’ সিনেমার পোস্টার

‘মেহেরজান’ সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হয়। কিন্তু মুক্তির পরে পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইট, বাংলা ব্লগ ও ফেসবুকে ছবিটি ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের একাংশ আপত্তি জানিয়ে মানব বন্ধন করেন এবং পত্রিকা মারফতে প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন। সমালোচনার জবাবে ছবিটির নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন পত্রিকার মাধ্যমে ছবিটির উদ্দেশ্য ও বিশ্লেষণ হাজির করেন। (সম্পূর্ণ…)

আভাটার: বর্ণ, সাম্রাজ্য ও টেকনলজির মাহাত্ম্য বর্ণনার রূপকথা

ফরহাদ মজহার | ৬ এপ্রিল ২০১০ ১০:১৫ অপরাহ্ন
[আভাটার জেমস ক্যামেরনের মহাকাব্যিক সায়েন্স ফিকশন ছবি। এর চিত্রনাট্যও তাঁরই লেখা। ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। ছবির কাহিনী ২১৫৪ সালের এক ভবিষ্যৎ ভিনগ্রহের চাঁদ প্যানডোরার। ক্যামেরন ছবির চিত্রনাট্যের ৮০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লিখে রেখে দিয়েছিলেন ১৯৯৪ সালেই। ১৯৯৬-এ ঠিক করেন তাঁর
james-cameron6.jpg……
জেমস ক্যামেরন (জন্ম. অনটারিও, কানাডা, ১৬/৮/১৯৫৪)
……….
নির্মীয়মান ছবি টাইটানিক (১৯৯৭)-এর পরেই তিনি এর কাজ ধরবেন। কিন্তু স্পেশাল ইফেক্টস বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন ছবি বিষয়ে যেরকম ভাবনা ভেবেছিলেন তখনো তেমন তেমন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়নি। তাই অপেক্ষা করছিলেন তিনি। পরে সম্ভাবনা উন্মুক্ত হওয়ায় ২০০৬ সালে আবার তিনি চিত্রনাট্যে হাত দেন। ছবিটি প্রচলিত দ্বিমাত্রিক প্রজেক্টরের পাশাপাশি ত্রি-মাত্রিক প্রজেক্টরের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আভাটারের জন্য ক্যামেরন উদ্ভাবন করেছেন নতুন এক ক্যামেরা। যার দ্বারা অভিনেতা-অভিনেত্রীর মুখভঙ্গির সঞ্চালন ডিজিটালি রেকর্ড করে অ্যানিমেটেড চরিত্রের উপর হুবহু আরোপ করা যায়। ছবিটি ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসা করেছে। এবং এর সিক্যুয়েল করার ঘোষণাও দিয়েছেন জেমস ক্যামেরন।

আভাটার নিয়ে ফরহাদ মজহারের এ লেখাটি কয়েক কিস্তিতে প্রকাশিত হবে।—বি. স.]

———————————————————————————
কিস্তি ১
———————————————————————————

জেমস ক্যামেরনের টাইটানিক ছবিটি বাজারে এসেছিল ১৯৯৭ সালে। তখন দেখা হয় নি। ছবিটি আমি দেখেছি অনেক পরে। যখন দেখেছি তখন জেমস ক্যামেরন আভাটার ছবিটি বানাচ্ছিলেন বলে শুনেছি। তখনেই ভেবে রাখি আভাটার দেখব। আভাটার সিনেমা দেখার ইচ্ছা টাইটানিক ছবিটি দেখার পর পরই জেগেছিল নিছক আমোদের জন্য নয়। আরো নানান উদ্দেশ্য চরিতার্থ

avatar_main.jpg
আভাটারের দৃশ্য

করার বাসনা ছিল ঐ ‘দেখা’-র আকাঙ্ক্ষার মধ্যে। টাইটানিকে বিনিয়োগ ছিল বিশাল, কিন্তু তারো চেয়ে বেশি বিনিয়োগ ছিল আভাটার-এর পেছনে। সিনেমার একটা অর্থশাস্ত্রীয় বিচার হতেই পারে তাহলে। কিন্তু তার জন্য যে তথ্য-উপাত্ত দরকার তার হদিস পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশের গ্রামে গেলেই দেখি চৈত্রের হাহাকারে মাঠ পুড়ে যাচ্ছে, খাবার পানির অভাবে কারবালা হয়ে যাচ্ছে চতুর্দিক। তার মধ্যে মাটির তলার পানি তুলে উফশি ধানের আবাদ হচ্ছে; ওর ফলে আর্সেনিকের বিষে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ওর মধ্যেই চারিদিকে ডিজিটাল বিপ্লবের সুসমাচার! ইনফরমেশান টেকনলজির কথিত তথ্য বিপ্লবের চিৎকার সত্ত্বেও যে তথ্যগুলো আমাদের প্রাণে বেঁচে থাকার জন্য দরকার তারই খোঁজ নাই—যেমন, সার, বিষ ও মাটির তলার পানি না তুলেও ফলন বাড়ানো যায়, আর ফলন বাড়ানোর আসলেই এটাই একমাত্র টেকসই পদ্ধতি। কিন্তু বহুজাতিক কম্পানিগুলো সেটা শুনবে না। সার, বিষ ও মাটির তলার পানি তুলে চাষাবাদে লাভ হয় সার, বিষ, ট্রাক্টর, তেল ও হাইব্রিড ও জিএমও বীজ কম্পানির। কৃষকের নয়। দখল হয়ে যাচ্ছে প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষার শর্ত। (সম্পূর্ণ…)

‘অশ্লীলতা’-বিরোধী প্রপাগান্ডা ও ‘সুস্থ’ চলচ্চিত্রের যুগে ঢাকাই সিনেমা

মোহাম্মদ আজম | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

monpura011.jpg
“কিছু ভালো জিনিসের সাথে নিশ্ছিদ্র বিপণন কৌশল আর সুস্থতার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে মনপুরা ভালোই দেখিয়েছে।”

jamelasundari.jpg
ঢাকাই মেইনস্ট্রিম, জমেলা সুন্দরী

এই লেখাটি আল্লার নামে লিখতে চাই। অবশ্য মিশেল ফুকোর নামেও লিখতে পারতাম। সেই ফুকো যিনি একবার টিভি সাক্ষাৎকারে নোম চমস্কি সহ উপস্থিত হয়ে চমস্কির বিপরীত অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন—‘মানব-প্রকৃতি’ বলে কোনো বস্তু আছে কিনা, তা আদৌ তাঁর মাথাব্যথা নয়; বরং ইতিহাসের বিশেষ বিশেষ পর্বে ‘মানব-প্রকৃতি’র ধারণা কীভাবে রূপ পেয়েছে আর মানুষকে চালিত করেছে—তা-ই তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়। এ রকমের কিছু একটা তিনি বলেছিলেন। কথাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। যুৎসই মনে হয়েছে। আমিও নিয়ত করেছি, অশ্লীলতার কোনো সংজ্ঞায়নে যাব না, বস্তুটা আদতে ভালো না খারাপ, সেসব তালাশ করব না; বরং ঢাকায় শব্দটি কোন পরিস্থিতিতে কী প্রকারে ভদ্রলোকসমাজে এতটা মশহুর হয়ে উঠল, আর তাতে কী ফলটাই বা ফলল, তার ‘মনে হয়’ ধরনের কিছু খোঁজখবর নেব।
—————————————————————–
অনেক বছর ধরে অনুদানের ছবি তৈরি হলেও দেশ-বিদেশের দর্শক বা বোদ্ধামহলে তো এ বাবদ কোনো সাড়া পড়েনি। আমার আন্দাজ, সাড়া না পড়াটাই এ ছবিগুলোর পুরস্কৃত হওয়ার মূল রহস্য। উল্লেখযোগ্য কিছু তৈরি না হওয়ায় সরকারি টাকার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর এ প্রশ্নকে ঠেকানোর জন্যই পুরস্কার যোগ করে ছবিগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে করে অনুদান দেয়া-নেয়া পক্ষগুলো নিজেদের বৈধতা দিতে পারে।… এভাবে বিচিত্রভাবে মেইনস্ট্রিম সিনেমার বিকাশপথ ক্রমেই সংকীর্ণ করে তোলা হচ্ছে।
—————————————————————-
bobita_ashani_sanket.jpg……..
সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত-এ ববিতা। ছবির ফরাসী সংস্করণের পোস্টার।
…….
মুশকিলের কথা এই, ফুকোর পদ্ধতি রীতিমাফিক এস্তেমাল করার বিদ্যা আমার পেটে নাই। তাই আগ্রহ থাকলেও আমার কথাগুলো ফুকোর নামে সাজাতে পারছি না। নিজের কব্জির জোরও সামান্য। কারণ, ঢাকাই সিনেমায় ‘অশ্লীলতা’র প্রবেশ ও বিস্তার আর পত্রপত্রিকা-টেলিভিশন ও সভাসমিতিতে এতদ্বিষয়ে ভদ্রলোকশ্রেণীর প্রতিক্রিয়ার ধরন ‘ইতিহাস’সম্মতভাবে হাজির করার জন্য নিষ্ঠাবান গবেষকের শ্রম দরকার। আমি তা করে উঠতে পারিনি। তাই অগতির গতি আল্লাই ভরসা।


ঢাকাই সিনেমার অশ্লীলতা সম্পর্কে ভদ্রসমাজের প্রপাগান্ডা প্রথম ব্যাপকভাবে আমার—এবং সম্ভবত আরো অনেকের—নজরে আসে একটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকের ‘ছি!নেমা’ শিরোনামের নিয়মিত কলামে। ঐ পত্রিকার রঙ্গম্যাগাজিনে কলামটি ছাপা হত বলে তাতে রঙ্গব্যঙ্গের প্রকোপ ছিল বেশি। কিন্তু পাশাপাশি কোনো ‘সিরিয়াস’ কলামে ঢাকাই সিনেমার হালহকিকত বিশ্লেষিত না হওয়ায় আমরা ধরে নিতে পারি, পত্রিকার নীতিনির্ধারকদের কাছে ব্যাপারটি রঙ্গব্যঙ্গের জন্যই যুৎসই মনে হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, ঢাকার, এবং সম্ভবত সারা দেশের, ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের মধ্যে এ ব্যাপারে বিরল ঐকমত্য দেখা গেছে। তার প্রমাণ পাই ভদ্রলোকশ্রেণীর সব ধরনের মিডিয়ায় প্রায় সমধর্মী মতামতের প্রতিফলনে। সে আজ প্রায় দেড় দশক আগের কথা। তখন থেকে অনেক দিন ঢাকার পত্রপত্রিকায় ‘অশ্লীল’ ছবি প্রদর্শনের খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পক্ষগুলোও তৎপর হয় বা হতে বাধ্য হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ‘অশ্লীল’ ছবি আটক হবার খবর আসে; চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ঢাকাই ছবির অধোগতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

সিনেমার অধোগতি তো জাতীয় অধোগতিরই স্মারক। এই অবস্থার দায় ভদ্রলোকেরা নেবে কেন? তারা নেয়ও নি। তাদের মিডিয়ায়, সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বিপুল হুঙ্কার ধ্বনিত হয়েছে। তাতে একদিকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সচকিত-সচেতন হয়েছে; অন্যদিকে সামাজিক মূল্যবোধের চাপেই সম্ভবত, বিভিন্ন সরকার সাধ্যমত অশ্লীলতা রোধের জন্য আইনি উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অশ্লীল সিনেমার ব্যাপারিদের উপর চরম আঘাত হেনেছে গেল ‘সিভিকো-মিলিটারি-কর্পোরেট’ সরকার। রীতিমত সামরিক অভিযান চালিয়ে তারা এই দুষ্টক্ষতের মূলোৎপাটন করতে পেরেছে। এ বাবদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত উল্লাস আমাদেরও—যেহেতু আমরাও রুচিশীল ভদ্রলোক—আনন্দের কারণ হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

এবাদুর-ইনারিতু সংলাপিকা

এবাদুর রহমান | ১০ অক্টোবর ২০০৯ ৬:০২ অপরাহ্ন

[এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানির বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শুরুর আগে সেখানে ঢাকার লেখক এবাদুর রহমান মেক্সিকোর চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেন। ইংরেজি ভাষায় গৃহীত এ সাক্ষাৎকারের বঙ্গানুবাদও এবাদুরেরই করা। লেখক এবাদুর রহমান লেখালেখির ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদে ‘ছ’ অক্ষরটি বদলে ‘স’ ব্যবহার করেন। তাঁর সে ব্যবহার এখানে অবিকল রাখা হলো। বি. স.]

innaritu_01.jpg
আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু, ১১’০৯”০১- সেপ্টেম্বর ১১ ছবির শুটিং-এ

babel_innaritu_.jpg
বাবেল ছবির জন্য অভিনেত্রী কেইট ব্ল্যানশেটকে একটি ভঙ্গি ধরিয়ে দিচ্ছেন ইনারিতু, পেছনে অভিনেতা ব্র্যাড পিট

আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা করায়ত্তকারী মেহিকান চলচ্চিত্রকরিয়ে। তিনিই প্রথম মেহিকান যিনি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা পরিচালকের শাখায় মনোয়ন লাভ করেন। তিনি ১৫ অগাস্ট ১৯৬৩ ঈসায়ীতে মেহিকোসিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমেরোস পেরোস (২০০০) এর জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে ক্রিটিকস্ উইক গ্রান্ড প্রাইজ ও ইয়ং ক্রিটিকস্ অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট ফিচার জয় করেন। তিনি মোট এই পর্যন্ত ৪৫টি পুরস্কার এবং ২৯টি মনোনয়ন লাভ করেছেন।

poster_ap.jpg……..
আমেরোস পেরোস ছবির পোস্টার
………
অ্যালেহান্দ্রো, ১৯৬৩ ইসায়ীতে, মেক্সিকো সিটি নামধেয় সহরে অবতীর্ণ হন। কমবয়সেই তিনি মেক্সিকো সিটির জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন, ডাব্লিউ এফ.এম-এ, ডিজেগিরি শুরু করসিলেন; ইনারিতুর বাচাল ও ফানি রেডিও পার্সোনা ও দুর্দান্ত সংগীত রুচি তারে অচিরেই, তরুণদের ভিতর, বহুৎ জনপ্রিয়তা হাসিল করায় ও এই কাজে বোরড্ হয়ে তিনি নূতন একটা টিভি স্টেসনে জয়েন করেন; মূলত এসময়, ইনারিতুরে প্রোমো রচনা ও ডিরেক্ট করতে হইত—একাজেও তিনি সাফল্য পান। (সম্পূর্ণ…)

বাংলা সিনেমার নজরুল

আহমাদ মাযহার | ২৮ আগস্ট ২০০৯ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

narod_nazrul.jpg……
ধ্রুব (১৯৩৪)ছবিতে নবীন নারদের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম
……
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন নানাদিক-অভিমুখী সৃষ্টিমাতাল এক মানুষ। ভারতবর্ষের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক চাঞ্চল্যের এমন এক যুগে তাঁর জন্ম যখন এ-অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা সবে জেগে উঠতে শুরু করেছে। ইহজাগতিকতা ও মানবিকতার বোধ, অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা, তীব্র আত্মজাগরণাকাঙ্ক্ষা ও সিসৃক্ষার উদ্দীপনা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য তখন বাংলাদেশের বেশ কিছু মানুষের মধ্যেই স্ফুরিত হয়েছিল। সকলেই হয়তো স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিভার তুঙ্গকে স্পর্শ করতে পারেন নি, জীবনের সামগ্রিক সংগ্রামের চিহ্নও হয়তো উজ্জ্বলিত হতে পারে নি তাঁদের কারও কারও
—————————————————————–
রবীন্দ্রনাথের গান সঠিক সুরে গাওয়া হয়নি এই মর্মে বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুমোদন বোর্ড গোরা (১৯৩৮) ছবিটি সম্পর্কে আপত্তি জানিয়েছিল। ফলে ছবি মুক্তির ব্যপারে সৃষ্টি হয়েছিল জটিলতা।… নজরুল কিছুমাত্র চিন্তা না করে ছবির ফিল্ম এবং প্রজেক্টর নিয়ে সোজা বিশ্বভারতীতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করেন। সব শুনে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘কী-কাণ্ড বল তো? তুমি শিখিয়েছ আমার গান আর ওরা কোন্‌ আক্কেলে তার দোষ ধরে। তোমার চেয়েও আমার গান কি তারা বেশি বুঝবে? আমার গানে মর্যাদা কি ওরা বেশি দিতে পারবে?’ নজরুল তখন রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে একটি খসড়া অনুমোদনপত্রে সই করিয়ে নিয়েছিলেন।
—————————————————————-
জীবনে। কিন্তু স্বীকার করতে হবে যে এই অঞ্চলের বেশ কিছু ব্যক্তিমানুষের মধ্যে উপর্যুক্ত মানবিক বোধসমূহের জাগরণ দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছিল। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সেইসব মানুষদের মধ্যেও অগ্রগণ্য। বাংলার রেনেসাঁসের উপর্যুক্ত প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বিপুলভাবে সমাহৃত হয়েছিল নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবনে। সামগ্রিকভাবে নজরুল সম্পর্কে এ-কথা মনে রাখলে আমাদের পক্ষে অনুভব করতে সুবিধা হবে চলচ্চিত্রের মতো নতুনতর শিল্পমাধ্যমে তাঁর যুক্ত হবার সূত্রকে। (সম্পূর্ণ…)

আর্ট, রিয়ালিটি আর ডিজিটালের চক্করে বাংলা সিনেমা

রাজীব আহমেদ | ১৪ জুন ২০০৯ ১:৩২ অপরাহ্ন

dubshantar.jpg
ডিজিটাল ফর্ম্যাটের ছবি ডুবসাঁতার; পরিচালক ছবিটিকে ‘ডিজিটাল মুভি’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইছেন।

পঞ্চাশোর্ধ কোনো এক কবীর সাহেব (বা অন্য কোনো সাহেবও হতে পারেন। তবে সাহেব হতে হবে।) এখন আর সিনেমা হলে মুভি দেখতে যান না। বয়সটা বোধহয় এক্ষেত্রে বড় সমস্যা নয়। তার মধ্যবিত্ত মন তাকে বলে: কবীর, এখন আর সিনেমা হলে যাইও না। ওখানে এখন রিকশাঅলারা যায়—হলের পরিবেশ বলে কিছু নেই আর। মুভিগুলো তো যাচ্ছেতাই। অশ্লীলতায় ভরা, স্থুলতায় ভরা, কদর্যে ভরা। এদেশের আর কিছুই হবে না, কবীর।
—————————————————————–
অর্ধেকেরও বেশি সিনেমা হল আজ বন্ধ হয়ে আছে। কিছু কিছু হল টিকে আছে এক টিকেটে দুইটি বিদেশী ছবি দেখিয়ে। এ সময়ে দরকার ছিল একটি মুভমেন্টের–সেটা হলো মেইনস্ট্রিম মুভিকে বাঁচিয়ে রাখার মুভমেন্ট। যেমনটা হলিউড ঠেকাতে তৈরি হয়েছিল ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভ। আমরা কেউ ওদিকে নজর দেই না। আমরা ধরেই নিয়েছি ওটা যাওয়ার মতো জায়গা না—আমাদের মতো এলিটদের জায়গা ওটা না।
—————————————————————-
কিন্তু তিনি কি মুভি দেখা বাদ দিয়েছেন? না তা নয়;তিনি এখন ডিভিডিতে মুভি দেখেন, স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলিতে মুভি দেখেন। মুভি দেখার মাধ্যম এবং পরিবেশটা পাল্টে নিয়েছেন নিজের মতো করে। তার সামনে এখন অপশন অনেক বেশি, নিজের ইচ্ছামতো মুভিটা নিয়ে গবেষণাও করতে পারছেন। এই তো সেদিন ঐশ্বর্য রাইয়ের একটা নৃত্যদৃশ্য (কজরা রে…) দেখে রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে বিশেষ বিশেষ জায়গাগুলি আগে-পিছে করে দেখেছেন। শুধু তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (বা অন্য কোনো নামও হতে পারে।) মৃদু তিরস্কার করেছিলেন এই বলে যে, তার নাকি বুড়ো বয়সে ভীমরতি হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

আহমাদ মাযহার | ২৭ মার্চ ২০০৯ ১২:৪৭ অপরাহ্ন

উনিশ শো একাত্তর সালে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ যে বাঙালির সমগ্র জনজীবনে গভীর ছাপ রেখে যাবে সে-কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। সঙ্গত কারণেই বাঙালির জাতীয় জীবনে সৃষ্টিশীলতার আবেগমাত্রই মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভিঘাতে হয়েছে প্রবল ভাবে উজ্জীবিত। সৃষ্টিশীল
—————————————————————–
সামগ্রিক ভাবে মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলোর দিতে তাকালে আমরা দেখতে পাব যে, ছবিগুলো নির্মিত হয়েছিল প্রধানত মধ্যবিত্ত জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বাস করলেও এবং মুক্তিযুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষার কারণ ও প্রেরণার সূত্র থাকলেও তার যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে নেই।
—————————————————————-
শিল্পমাধ্যম হিসাবে চলচ্চিত্রের ওপরও এর প্রতিক্রিয়া নিশ্চয়ই প্রত্যাশিত। সুতরাং স্বাধীনতার অব্যবহিত উত্তর কালে বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্রে যে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব পড়বে এই আশা ছিল খুবই স্বাভাবিক। বিধ্বস্ত দেশের বিঘ্নিত অর্থনীতির কারণে স্বাধীনতার অব্যবহিত উত্তরকালে অর্থ বিনিয়োগ ছিল দুরূহ। কারণ বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত না আসবার নানা বাস্তব প্রতিকূলতা ছিল প্রবল। তা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। (সম্পূর্ণ…)

নতুন সিনেমা: নির্মাণ ও প্রদর্শন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা

নূরুল আলম আতিক | ৩০ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

নতুন সিনেমা কী ও কেন?

সিনেমার আবার নতুন পুরান কী? সিনেমা সিনেমা। পুরান অনেক সিনেমা আজকের দিনেও নতুন। এরমধ্যে কিছু ছবি কালোত্তীর্ণ। সিনেমা-ছবি-চলচ্চিত্র-ফিল্ম-বায়োস্কোপ-বই যে নামেই ডাকি না কেন, ‘সিনেমা কী?’ — পাঠক তার স্বরূপটুকু জানেন। কিন্তু ‘নতুন সিনেমা’র ব্যাপারটা কী? ব্যাখ্যা করছি। তার আগে প্রয়োজন দেশের সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতিটা এক নজর পরখ নেয়া।

‘সত্যের জয় হবেই’, ‘মায়ের মতো আপন কেউ নাই’, ‘সবার উপরে মা/মাটি/মানুষ’,‘প্রেমের মরা জলে ডোবে না’, ‘বন্ধু তুমি শত্রু তুমি’ ইত্যাদি ইত্যাদি — এগুলোই হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন থেকে, মানে আমাদের সিনেমার মূল ফ্যাক্টরি, বিএফডিসি থেকে উৎপাদিত ছবির মূল আইডিয়া। প্রায় একই ধরনের কাহিনী-বিন্যাস ও চরিত্রায়ণের মধ্য দিয়ে এই আইডিয়াবীজগুলো পল্লবিত হয়। ফর্মুলাভিত্তিক এই ছবিগুলোর টার্গেট-অডিয়েন্স নিম্ন আয়ের মানুষজন। নিম্নমানের সেট, খারাপ ল্যাবওয়ার্ক ও অন্যান্য টেকনিক্যাল ত্রুটি সম্বলিত এই ছবিগুলি যখন একটি ছোট শহরের হলে গিয়ে পৌঁছায় — তখন তার চেহারা যা দাঁড়ায় তা বলা বাহুল্য। অস্পষ্ট আওয়াজ আর ঝাপসা ছবির এক জঘন্য মহড়া।

এদিকে বছর কুড়ি হলো — শর্টফিল্ম, প্যারালাল ফিল্ম, অলটারনেটিভ ফিল্ম, ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ইত্যাকার নানা নামে কিছু ছবি তৈরি হচ্ছে। শুরুতে ১৬মি.মি. এ চালু হলেও এখন তা ৩৫ মি.মি.-এ নির্মাণ ও প্রদর্শন হচ্ছে। বিএফডিসি’র অংশীদারিত্বে এই প্রক্রিয়াটি চালু থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্যুটিং পরবর্তী কাজগুলো হয় বিদেশে। মুক্তিযুদ্ধ, দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম, সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা, নর-নারীর মানবিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রকাশ করে — এমন সব বিষয়াবলী এই ধারার মূল বিষয়বস্তু। মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু মহতী এই উদ্যোগ আমাদেরকে ইন্ডাস্ট্রি-চলচ্চিত্রের শোচনীয় দশা থেকে রেহাই দিতে অক্ষম। শুরুতে মধ্যবিত্ত দর্শক বিপুল উৎসাহে সাড়া দিলেও আজকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন; প্রাণহীন, উদ্দেশ্যপ্রসূত, দুর্বল এই চলচ্চিত্র সমূহ থেকে। অনেকে আবার এই ধারাকে ‘আর্টফিল্ম’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, আর তা করেন নিন্দার্থে। এই ছবিগুলোর অনেকগুলোই দেশে সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত কিম্বা বিদেশের ফান্ডে নির্মিত। প্রদর্শিতও হয় খুব সীমিত পরিসরে।

একসময় সিনেমা দেশের মানুষের যে পরিচয়কে প্রকাশ করতো এখন তার জায়গা নিয়েছে টেলিভিশন। ‘বোকা বাক্স’টি মোটেই বোকা নয় আর। এদেশের প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে সিনেমা ত দেখায়ই, টেলিফিল্মও দেখায়। যদিও টেলিফিল্ম বলতে যা বোঝায় তা মোটেই নয়; টেলিভিশন-অডিয়েন্সের জন্য নির্মিত টেলিভিশন-প্রোডিউসড ফিল্ম না হ’য়ে এগুলো মূলতঃ বড় নাটক অথবা ইন্ড্রাস্ট্রির ফর্মুলা-সিনেমার রেপ্লিকা। সোপ-সিরিয়ালের বাইরে বাংলাদেশ টেলিভিশন একটি আশ্চর্য জিনিসের জন্ম দিয়েছে তা হলো — খন্ড নাটক বা একপর্বের নাটক। বিনোদন জগতে একটি বড় সংযোজন। বলা ভালো অর্জন। সারা পৃথিবী জুড়েই এটি একটি অনন্য ঘটনা। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com