চলচ্চিত্র

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘আ‌য়েশা’ ও চল‌চ্চি‌ত্র বিষ‌য়ের সরল রাজনী‌তি

মৃদুল মাহবুব | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন


মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টে‌লি‌ফিকশন ‘আ‌য়েশা’ যারা দে‌খে থাক‌বেন তারা জা‌নেন ও বো‌ঝেন, ৭১ পরবর্তী বাংলা‌দে‌শের ই‌তিহা‌সে অগণন রাজ‌নৈ‌তিক গণকবর। ‌কিন্তু তা নি‌য়ে বাংলা‌দে‌শের সি‌নেমা কই? এ‌তো বড় এক ভূখ‌ণ্ডের এ‌তো এ‌তো রাজ‌নৈ‌তিক গণহত্যার ন্যা‌রে‌টিভ, সেই তুলনায় এসব আমা‌দের শিল্প, সা‌হি‌ত্যে খুবই কম এ‌সে‌ছ। মা‌র্কে‌জের ‘ওয়ান হা‌ন্ডেড ইয়ার অব স‌লি‌চ্যু‌ড‘এ যেমন সবাই ভু‌লে গি‌য়ো‌ছি‌লো কলা কোম্পা‌নির দ্বারা সংগ‌ঠিত গণহত্যার কথা, তেম‌নি আমা‌দের সি‌নেমা গণহত্যাহীন, পুতপ‌বিত্র, প্রেমময়। বাংলা ছ‌বি দু‌ষ্টের দমন, শি‌ষ্ঠের লালন, হৈহল্লায় ভরপুর। আমা‌দের কলাকোম্পা‌নিও এসমস্ত অস্বীকার ক‌রেই শিল্পের মো‌হিনী ফাঁদ পা‌তে। রাজ‌নৈ‌তিক হত্যাকাণ্ড নি‌য়ে সা‌হি‌ত্যে কিছু আভাস মিল‌লেও সি‌নেমায় তা খুবই বিরল একটা ঘটনা। এমন সম‌য়ে দা‌ঁড়ি‌য়ে ‘আ‌য়েশা’ সি‌নেমার কন‌টেক্সট খুবই রাজ‌নৈ‌তিক।

আওয়ামী লীগ সরকা‌রের শাসনকা‌লে, ১৯৭৭ সা‌লের জিয়াউর রহমা‌নের আম‌লের বিমানবা‌হিনীর বি‌দ্রো‌হের পটভূ‌মি‌তে সি‌নেমা বানা‌নোকে অ‌নেকটা সহজ পথ হিসা‌বে দেখা যে‌তে পা‌রে। কিন্তু বিষয় অত সরল না কিন্তু। কা‌লে কা‌লে পোড়ামা‌টির যে রাজ‌নৈ‌তিক নী‌তি তার সমা‌লোচনার সূচনা এখা‌নে, ‘আ‌য়েশা’য়, আ‌মি ধ‌রে নি‌তে চাই। আশা রাখ‌তে চাই। যে‌কোন সম‌য়ের প‌লি‌টিক্যাল অনাচার‌কে বহু অং‌কের হিসাব মি‌লি‌য়ে একটা সুসম‌য়ে তা প্রকাশ করা দো‌ষের কিছু না। বরং তা অ‌নেক বু‌দ্ধির প‌রিচায়ক। এগু‌লো নি‌য়ে সি‌নেমা হওয়ার ভা‌লো সময় এখন। রাজ‌নৈ‌তিক বহু বিষয় নি‌য়েই এখ‌নো প্রচুর ছবি বানা‌নো বাদ আ‌ছে আমা‌দের। ধ‌রে নি‌চ্ছি বাংলা‌দে‌শে গণতা‌ন্ত্রিক ভা‌বে নানা রকম সরকার আস‌বে আগামী দিনগু‌লো‌তে। সে সময় ভ‌বিষ্য‌তে অন্যান্য বিষ‌য়ে ফিল্ম হওয়ার সু‌যোগ ও মান‌সিকতা তৈ‌রি হ‌বে। সু‌যোগ শিল্পী‌কে নি‌তে হয়। ত‌বে আমার স‌ন্দেহ থে‌কেই গেল বিএন‌পির আম‌লে এই ‘আ‌য়েশা’ ফারুকী বানা‌তেন কি না? চ্যা‌নেল আই তা প্রচার কর‌তো কি না? ত‌বে, হ্যাঁ বা না এর মত কোন সরল উত্তর আমরা আশা কর‌তে পা‌রি না। (সম্পূর্ণ…)

মাটির ময়না এবং রানওয়ে: সবাক মাধ্যমে মহৎ এক নীরবতা

চঞ্চল আশরাফ | ৫ december ২০১৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

Tarek masudবাংলাদেশের চলচ্চিত্র মূলত দুটি সমান্তরাল ধারায় তৈরি হয়ে আসছে। একটি বিনোদনমুখ্য ও বাণিজ্যিক এবং অন্যটি বক্তব্যভিত্তিক ও নন্দনমুখ্য– এটা আমরা কম-বেশি জানি। বাঙালি চলচ্চিত্রকারদের বেশির ভাগই কোনো-না-কোনোভাবে উভয় ধারাতেই এই জনপদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চেয়েছেন। যদিও ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রায় পুরোপুরি ভিন্ন খাতে বইতে শুরু করেছিল। স্বাধীনতার আগে জহির রায়হান নির্মিত ‘জীবন থেকে নেয়া’য় (১৯৭০) বাঙালি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছিল, তাতে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার স্বপ্ন উহ্য ছিল না, যদিও তা ছিল শহুরে মধ্যবিত্তকেন্দ্রিক। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার পর দেশের চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’য় মূর্ত বাঙালির আকাঙক্ষার উল্টা দিকে চলতে শুরু করে। ‘বেদ্বীন’, ‘হুর এ আরব’, ‘বানজারান’ থেকে ‘আবেহায়াত’ পর্যন্ত নামগুলি দেখলে বোঝা যায়, বাংলা চলচ্চিত্র কোন দশায় ছিল। এর মধ্যেও যে ভালো কিছু ফিল্ম তৈরি হয় নি, তা নয়; ব্যবসার লক্ষ্য নিয়ে কিছু বক্তব্যপ্রধান ছবিও বানানো হয়েছিল; সাহিত্যনির্ভরও কিছু হয়েছে; কিন্তু বাঙালির আত্মপরিচয়, তার জাতিগত উত্তরণের সংকট ও প্রশ্ন কোনো চলচ্চিত্রে উত্থাপিত হয় নি, ভরকেন্দ্র হওয়া তো দূরের কথা। জীবন থেকে নেয়ায় যে সংগ্রামটি শুরু করেছিলেন জহির রায়হান, স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েও আমরা এর বিকাশের পথে চলতে পারি নি। এবং ওই ছবিতে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টাও কোনো চলচ্চিত্রে দেখা য়ায় নি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস যদি রচিত হয়, তাহলে তারেক মাসুদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা মূলত এখানেই দ্রষ্টব্য হয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

এক বিস্ময়ের নাম ‘লাভিং ভিনসেন্ট’

আঞ্জুমান রোজী | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ৮:৫৫ অপরাহ্ন

Goghদু’ঘণ্টার এক অপার বিস্ময়ের মধ্যে ডুবে ছিলাম। যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল ঘোরলাগা আবেশ! ‘লাভিং ভিনসেন্ট’ ওয়েল পেইন্টিং এনিমেশন মুভিটি আমাদের অন্যজগতে নিয়ে গেলো যেন। যেখানে ভ্যান গঘের তৈলচিত্রগুলো বাস্তবের ছোঁয়া পেলো। বিমূর্ত অনুভূতি; মূর্ত হয়ে কথা বলে উঠলো যা নতুন আঙ্গিকের এক এনিমেশন মুভি বটে । শুধুমাত্র ভ্যান গঘের পেইন্টিংয়ের ওপর বিশাল ক্যানভাস তৈরি করে মুভিটি হয়। তাঁর সমস্ত তৈলচিত্র এক ক্যানভাসে দেখার সৌভাগ্য হলো। ভ্যান গঘ এমনিতেই এক বিস্ময়; আর এই বিস্ময়কে মূর্ত করে তোলে ‘লাভিং ভিনসেন্ট’ নামের এনিমেশন মুভিতে, যা শিল্পবোদ্ধাদের কাছে এক অত্যাশ্চর্য হয়ে ধরা দেয়। আমি আর কবি ফেরদৌস নাহার টরেন্টোর সিনেপ্লেক্সে প্রথম প্রদর্শিত ঐতিহাসিক এই মুভি দর্শনের মধ্যদিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে যাই।

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের শিল্প ও জীবন ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটি দল বিশ্বব্যাপী একশরও বেশি শিল্পীর সাহায্যে ভ্যান গঘের পেইন্টিং দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রথম পদক্ষেপ নেন। বলতে গেলে, “লাভিং ভিনসেন্ট” চলচ্চিত্র জগতে প্রথম চিত্রকলাভিত্তিক এনিমেশন মুভি। ভ্যান গঘের লেখা চিঠি ব্যবহার করে তার সৃজনশীল প্রতিভা ও হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেইন্টিংগুলো সাজানো হয় এবং সেই দৃশ্যের সাথে অভিনয় শিল্পীদের কথোপকথন ও অভিনয় সঞ্চালিত হয়। তাও প্রথমে চলচ্চিত্রে ধারণ করে, পরে তা এনিমেশনের সঙ্গে আর্ট ফর্মে যুক্ত করে দেওয়া হয়। (সম্পূর্ণ…)

আন্দজে ভাইদা: `কেবল সান্ধ্য বিনোদন দেয়া চলচ্চিত্রকার হিসেবে আমার কাজ নয়’

নাদির জুনাইদ | ১৩ অক্টোবর ২০১৬ ৬:২৫ অপরাহ্ন

Andresশিরোনামের উক্তিটি থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি পোল্যান্ডের বরেণ্য এই চলচ্চিত্রকারের মনোভাব বোঝা যায়। চলচ্চিত্রকে আন্দজে ভাইদা কেবল ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের উপকরণ হিসেবে দেখেননি। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শককে একটি নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন। চেষ্টা করেছেন যেন দর্শক চলচ্চিত্রে উপস্থাপিত বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে আগ্রহী হয়; চলচ্চিত্র যেন সমাজে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা দর্শকদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। বিশ্ব চলচ্চিত্রে পোল্যান্ডের ছবি শৈল্পিক উৎকর্ষের জন্য সমাদৃত। কখনো সরাসরি, আবার কখনো অপ্রত্যক্ষভাবে তুলে ধরা রাজনৈতিক বক্তব্যও পোল্যান্ডের চলচ্চিত্রের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। এমন ছবি তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশেও যেখানে চলচ্চিত্রে হালকা ও অন্তঃসারশূন্য বিনোদন প্রদানের চর্চা নির্মাতা বা দর্শক কাউকেই আকৃষ্ট করেনি। সেই সময়ে সোভিয়েত বলয়ে থাকা পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহের চলচ্চিত্রে সোশালিস্ট রিয়েলিজম ধারা প্রাধান্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরার সরকারি তাগিদ ছিলো। ভাইদার প্রথম ছবি আ জেনারেশন (১৯৫৫) এই গতানুগতিক নির্মাণশৈলী প্রত্যাখ্যান না করলেও ছবিতে পোল্যান্ডের কমবয়সীদের উপর যুদ্ধের প্রভাব যেভাবে তুলে ধরা হয়েছিলো তা দর্শকদের জন্য সৃষ্টি করেছিলো ভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ। পোল্যান্ডের আরেক বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার রোমান পোলানস্কি এই ছবিতে একটি কম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পোলানস্কি জানিয়েছেন, ‘ভাইদার প্রথম ছবি পোল্যান্ডের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রভাবিত করেছিলো গভীরভাবে। আর এই ছবির মাধ্যমেই সূচনা হয় পোলিশ চলচ্চিত্রের।’ পরবর্তী বিভিন্ন দশকে ভাইদার কাজ সমৃদ্ধ করেছে পোল্যান্ড এবং সারা বিশ্বের চিন্তাশীল চলচ্চিত্রের ধারা। যে ধরনের চলচ্চিত্র একই সাথে শিল্পমাধ্যম এবং রাজনৈতিক হাতিয়ার। আর দর্শকের মধ্যে সাম্প্রতিক সময় সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যা হয়ে ওঠে সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। (সম্পূর্ণ…)

গিইয়ের্মো দেল তোরোর সাক্ষাৎকার: স্পেনের ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের পুরো সময়টা জুরে চার্চের অংশগ্রহণ ছিল।

হোসেন মোফাজ্জল | ৬ অক্টোবর ২০১৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন

toro-1গিইয়ের্মো দেল তোরোর জন্ম ৯ অক্টোবর ১৯৬৪। মেক্সিকান চলচ্চিত্র পরিচালক, স্ক্রিপ্টরাইটার, প্রোডিউসার উপন্যাসিক এবং বিখ্যাত এনিমেটর। উল্লেখযোগ্য ছবি: ক্রনোস(১৯৯৩), দ্যা ডেভিল’স ব্যাকবোন (২০০১), এবং প্যান’স ল্যাবরিন্থ ( ২০০৬)। এই ছবিগুলো স্প্যানিস ভাষার উল্লেখযোগ্য ডার্ক ফ্যান্টাসি মুভি। এছাড়াও মূলধারার আমেরিকান অ্যাকশান মুভি– ব্লেড ২ ( ২০০২), হেলবয় (২০০৪), হেলবয় ২: দ্য গোল্ডেন আর্মি(২০০৮) এবং সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম প্যাসিফিক রিম (২০১৩) ইত্যাদি উল্লেখ করার মত। দেল তোরো প্যান’স ল্যাবরিন্থ-এর জন্য ২০০৬ সালে কান ফিল্ম ফেস্টিভালে গোল্ডেন পাম এবং বেস্ট ফরেন ফিল্ম এবং বেস্ট অরিজিন্যাল স্ক্রিনপ্লের জন্য অস্কার পান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মাইকেল গিলেন।
মাইকেল গিলেনের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ফ্রানসিস্কোতে। তিনি স্যান ফ্রানসিস্কো ফিল্ম ক্রিটিকস্ সার্কেলের সদস্য। ইন্টারভিউটি স্ক্রিনঅ্যানার্কির ডিসেম্বর ২০০৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
প্যান’স ল্যাবরিন্থ-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে লেখাটি অনুবাদ করেছেন হোসেন মোফাজ্জল।

মাইকেল গিলেন: প্রথমে এবং সর্বপ্রথমে সপ্তাহের শুরুতে বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্মে স্যানফ্রান্সসিস্কো ফিল্ম ক্রিটিকস সার্কেলের পুরস্কার পাবার জন্য কনগ্রাচুলেশন।
গিইয়ের্মো দেল তোরো: আই লাভ ইট!
এম গি: সেইসাথে বোর্ডের সবার পক্ষ থেকে তুলনামূলক প্রশংসা এবং নোমিনেশনের জন্য, সঙ্গে সম্প্রতি ঘোষিত বেস্ট ফরেন ফিল্ম হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব নোমিনেশন পাবার জন্যে।
দেল তোরো: যা স্রেফ ফ্যানটাস্টিক।
এম গি: …এবং বেশ পাবার উপযুক্তও বটে। প্যান’স ল্যাবরিন্থ নিশ্চিতভাবে আমার কাছে বছরের সেরা ছবি।
দেল তোরো: ফাকিন্ আ!
এম গি: বিদেশী ভাষা যদিও, সে যাই হোক না কেন এটা আমার কাছে বছরের সেরা মুভি; সত্যিকার অর্থে একটা স্বপ্নদর্শী কাজ।
দেল তোরো: ধন্যবাদ আপনাকে।
toro-2
এম গি: আমি প্রথমে প্যান’স ল্যাবরিন্থ দেখি এলগিন থিয়েটারে টরোন্টো ইন্টারন্যশনাল সময়টাতে যেখানে আপনি এবং আইভানা বাকেরো ফিল্মটাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তারপর আবার এখানে স্যান ফ্রান্সিসকোতে, আজকে সন্ধ্যায় ছবিটি আবার দেখবো যখন স্যান ফ্রান্সসিকো সোসইটিতে দেখানো হবে।
দেল তোরো: আপনি আবার আজকে রাতে দেখতে যাবেন?
এম গি: জ্বী।
দেল তোরো: দ্যাটস্ গ্রেট। আমার মনে হয় কি জানেন? এই ছবিটার একটা ব্যাপার হলো, আপনি প্রতিবারই ছবিটাতে কিছু না কিছু ডিটেইলস খুঁজে পাবেন।
এম গি: আমিও যদ্দুর উপলব্ধি করতে পেরেছি তাহলো এটা ডিটেইলের ক্ষেত্রে খুব সমৃদ্ধ। প্যান’স ল্যাবরিন্থ বোনা হয়েছে পাপমুক্তির সাথে। আপনি কি আমাকে বলবেন কিভাবে ভুল ব্যাপারগুলো শেষ হলো একেবারে সঠিকভাবে?
দেল তোরো: আপনি যে ভাবে বললেন তা আমার পছন্দ হয়েছে। রুফাস ওয়েনরাইটের একটা গান আছে না ওই যে– ‘‘সিগেরেটস এন্ড চকোলেট মিল্ক’’ এই নামে, আমার মনে আছে গানটাতে বলা হয়েছিল ‘‘আমি যা কিছুই পছন্দ করি না কেন তা আমার জন্য সামান্য পরিমাণের হলেও মন্দ হবে?’’ আপনার সহজাত প্রবৃত্তি আপনার বুদ্ধিবৃত্তির তুলনায় আপনাকে চালনা করবে কোনটা আপনার জন্য ভালো এবং আসলে আরও বেশী করে বললে স্বাভাবিকভাবে ভালো। অবাধ্যতা হচ্ছে আপনার বিবেকের জন্য একটা সবচেয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক তা বোঝার জন্য। আপনি যখন বুদ্ধির দিয়ে অগ্রাহ্য করবেন, তখন আপনি স্বাভাবিকভাবে অগ্রাহ্য করবেন, এটা অন্ধ আনুগত্য থেকে আরও বেশী কল্যাণকর হয়ে উঠবে। অন্ধ আনুগত্য খাসি করে দেয়, অগ্রাহ্য করে, লুকায় এবং যা আমাদেরকে মানুষ করে তোলে তা ধ্বংস করে ফেলে। অন্য দিকে, সহজাত প্রবৃত্তি এবং অবাধ্যতা আপনাকে সবসময় সেই দিকে নিয়ে যাবে যা কি-না স্বাভাবিক, জগতের জন্য যা হবে অর্গানিক। তাই আমি মনে করি অবাধ্যতা হচ্ছে একটা সদগুণ আর অন্ধ আনুগত্য হচ্ছে একটা পাপ। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: বিদায় আব্বাস, বিদায় বনফয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুলাই ২০১৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ন

বিদায় কবি রুপালী পর্দার

Abbasসমসাময়িক চলচ্চিত্রের ইতিহাস যদি আপনি লিখতে বসেন তাহলে চাইলেও কিছুতেই যার নামটি আপনি বাদ দিতে পারবেন না তিনি হলেন-আব্বাস কিয়ারোস্তামি। হলিউডের রুক্ষ সংস্করণের বিপরীতে চলচ্চিত্রে তিনি নিয়ে এসেছিলেন কাব্যময়তা। যা ছিল অত্যন্ত পরিশালীত ও স্ব-অর্জিত, একই সাথে আধুনিক অতিন্দ্রিয়তার প্রতিফলন। তাঁর চলচ্চিত্রেরর প্রতিটি অংশেই তাঁর নিজস্বতা ছিল। তিনি নিজেও ছিলেন কবি। তিনি এ যুগের চলচ্চিত্রের কবি। নিজের মাতৃভূমি ইরানকে তিনি উপস্থাপন করেছেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে। ইরানের সংস্কৃতি, ইতিহাস, সামাজিক জীবনধারাকে সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত করিয়েছেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এমনকি দেশটিতে ইসলামিক বিপ্লবের পরেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বরং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর কাব্যিক ঝঙ্কার অব্যাহত রেখেছিলেন। তাঁর প্রতিটি চলচ্চিত্র মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের নিবিড় অথচ সুক্ষ্ম বর্ণনা। বর্ণনা এমন রহস্যময় পরাবাস্তব আবহ সৃষ্টি করে যে আপনার মনে হবে যেন আপনি এই জগতে থেকেও নেই। কোথাও হারিয়ে গেছেন। এভাবেই একজন আব্বাস কিয়ারোস্তামী হয়ে ওঠেন রুপালী রূপকথাকার, কখনো কবি। আব্বাস ছিলেন বর্তমান পৃথিবীর একজন প্রধানতম ‘ওটার’। মানে হল যিনি একই সাথে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা, পরিচালনা, প্রযোজনা, শব্দ ও সুর সংযোজন, চিত্রগ্রহণ এবং সম্পাদনা করতে পারতেন। বলা যায় চলচ্চিত্র নির্মানে তিনি সর্বময় গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রতিটি অংশে ছিল স্বকীয়তার ছাপ। নিজ গুনেই সুপ্রসিদ্ধ এই নির্মাতা হয়ে ওঠেন পৃথিবীর রুপালী জগতের কিংবদন্তী। জীবনের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। ১৯৪০ সালে ইরানের তেহরান শহরের জন্ম নেন আব্বাস। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনের শুরু গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে ইরানিয়ান টেলিভিশনের জন্য বেশকিছু বিজ্ঞাপন নির্মানের মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে –‘কানুন’ নামে একটি সংগঠনে যারা শিশু কিশোরদের মানবীয় বৃদ্ধিবিকাশ নিয়ে কাজ করে। এখানকার ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে প্রায় এক যুগ কাজ করার সময় শিশুদের নানান সমস্যা নিয়ে বেশ কটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন। পরবর্তীতে নিজেই স্বনির্ভর চলচ্চিত্রকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ সম্পর্কে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আব্বাস বলেন, “শুরতে যা ছিল শুধুই চাকরী পরে তা ক্রমশ আমাকে একজন শিল্পী হয়ে উঠতে সাহায্য করে”। ১৯৯৭ সালে নির্মিত‘টেস্ট অফ চেরি’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্ব্বোচ্চ ‘পাম দোর’ পুরস্কার অর্জন করে। ১৯৭০ সাল থেকে নিয়মিত ভিন্ন ধারার ডকুমেন্টরি, স্বল্প ও পূর্ণ-দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মান করে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন এই চলচ্চিত্রকার। আজ যে সারা পৃথিবীতে ইরানী চলচ্চিত্রের জয়জয়কার তা মূলত আব্বাসের বদৌলতে। কেননা, তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মানে তাঁর বৈশিষ্ট্য ও ভাবধারা সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন তাঁর উত্তরসূরি ইরানী চলচ্চিত্রকারদের মাঝে। তিনি নিজে প্রভাবিত ছিলেন সত্যজিৎ রায়, ভিত্তোরিও দে সিকা ও জাক তাতি’র কাজ দ্বারা। (সম্পূর্ণ…)

ঝড়ের পর ঝড়

মতিন রহমান | ১১ মার্চ ২০১৬ ৬:২৪ অপরাহ্ন

khalid-mahmud_mithu.jpg৭ মার্চ, খবরে প্রকাশ গত রাতের ঝড়ে রাজধানীর রামপুরায় নির্মানাধীন ভবনের ওপর থেকে রেলিংসহ ভিমের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে কারিশমা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে । ৪ নং ধানমন্ডি সড়কে একটি কৃষ্ণচুড়া বৃক্ষ ঝড়ের ঝাঁকুনিতে নড়ে উঠেছে। নড়ে ওঠা বৃক্ষকে পথচারী জিজ্ঞাসা করলো, বৃক্ষ তোমার বয়স কত? বৃক্ষটি উত্তর দিল, জানি না। জানে আমার নগর পিতা। যিনি আমাকে রোপণ করেছে। নগর পিতা, আপনি কি জানেন, এই মহানগরের বৃক্ষগুলোর কোনটার কত বয়স? কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ আছে কি আপনার নগর ভবনের বৃক্ষ রোপণ লেজার বইয়ে? গৃহায়ন অধিদপ্তর ও রাজউক তো জানে এই শহরে কতটি ইমারত আছে। শহরের কোন কোন ইমারত ঝুঁকিপূর্ণ। আপনার শহরে প্রতিবছর ঘটা করে বৃক্ষ রোপন উৎসব হয়। অথচ আপনার কর্মীদের জানা নেই এই শহরে কোন বৃক্ষ হঠাৎ বয়সের ভারে ঢলে পড়বে এবং আপনার সন্তানের প্রাণহানি ঘটাবে। যদি জানতেন তাহলে ঝড়ের পড়েই বেড়িয়ে পরতো আপনার বেতনভুক্ত কর্মীদল। খবর নিতে ছুটতো কোন বিদ্যুতের খুটি অথবা বৃক্ষগুলো নড়ে উঠেছে। নগর পিতা যদি এই খবর নিতে পারতো তাহলে জাতীয় চলচিত্র পুরুস্কার প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুকে উপড়ে পড়া বৃক্ষতলে প্রাণ হারাতে হতো না। (সম্পূর্ণ…)

নদীর দেশের চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবির

তারেক আহমেদ | ২০ জানুয়ারি ২০১৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

alamgir.jpgমাত্র ৪৯ বছর বয়সে চলে গিয়েছিলেন আলমগীর কবির। এবয়সে অনেকের নতুন যাত্রা শুরু হয় –এমন নজিরও আছে সৃস্টিশীল দুনিয়ায়। মুক্তিযুদ্ধ যেন তার জীবনকে দুভাগ করে ফেলেছিল। যেমন করেছিল তার প্রজন্মের আরো অনেককে। ‘৭১ সনে ত্রিশ বছরের টগবগে চেহারার যুবক আলমগীর কবির কলকাতায় গিয়ে হাজির হলেন। ইচ্ছে ছিল, রনাঙ্গনের যুদ্ধেই যোগ দেবেন–হলো না। অবধারিতভাবে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে জায়গা হলো তার। ইংরেজি সংবাদ পাঠক হিসেবে যোগ দিয়ে আহমেদ চৌধুরী ছদ্মনামে খবর পাঠ শুরু করলেন। জহির রায়হানের ষ্টপ জেনোসাইড ছবিতে কবিরের ইংরেজি ধারাভাষ্য যারা শুনেছেন, তাদের সকলেরই হয়তো আলমগীর কবিরের ইংরেজি লেখা আর অননুকরনীয় ভঙ্গির বাচনভঙ্গীটি স্মরণে থাকবার কথা।

সুযোগ পেয়ে গেলেন শীঘ্রই। বন্ধু জহির রায়হান তার প্রামান্যচিত্র নির্মানকালে কবিরকে টেনে নিলেন। যাদের হাত দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই নির্মিত হলো –বাঙ্গালীর মুক্তিসংগ্রামের চারটি অনবদ্য দলিল :ষ্টপ জেনোসাইড, লিবারেশন ফাইটার্স, স্টেট ইজ বর্ন আর ইনোসেন্ট মিলিয়ন্স। (সম্পূর্ণ…)

অনিল বাগচীর একদিন: মোনোক্রোম সময়ে বর্ণিল বেদনার গাথা

মাহমুদুল হোসেন | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:৩৮ অপরাহ্ন

anil-bagchi.jpgঅনিল বাগচীর একদিন একটি লিরিক্যাল দৃশ্যমান প্রবাহ যা আবেগের উঁচু তার ছুঁয়ে চলে। যখন শুনি ছবির চরিত্রের মুখে যে, “প্রকৃতির মাঝে এমন কিছু সৌন্দর্য লুকানো থাকে যা শুধু হৃদয়ে ধারণ করতে হয়, অন্য কোনোভাবেই ধরে রাখা যায় না”, তখনই যেন এই ছবির ভবিতব্য নির্ধারিত হয়ে যায়। জ্যোৎসনা রাতে স্থির জলের সৌন্দর্য, বর্ষার মেদুরতা অথবা ভীষণ সবুজের অবারিত ল্যান্ডস্কেপ—মুক্তিযুদ্ধের দুষ্কালের দিবানিশিতে প্রেরিত করেছিল আমাদের অথবা পিপাসিত করেছিল সেই মোনোক্রোম, ডেজোলেট সময়ে ওই সৌন্দর্যকে পুনরাবিষ্কারের। এই ছবি, তার গল্প ও ইমেজ, সেই সুন্দরের প্রতি এক আবেগ থরথর নিবেদন।

মোরশেদুল ইসলামকে অনেকদিন আগে জাতীয় চলচ্চিত্রবিষয়ক এক লেখায় বাংলাদেশের জন ফোর্ড বলে আখ্যায়িত করা গিয়েছিল। এদেশের মানুষ, তাদের জীবন, সংগ্রাম, আনন্দ-বেদনাকে তিনদশক ধরে তিনি এক ঘোর লাগা চোখে আমাদের দেখিয়ে চলেছেন তার সিনেমায়। সেখানে যুক্তির চেয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে আবেগ, বুদ্ধির মাপ হেরে গেছে ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে। তার এই নতুন ছবি নিয়ে তিনি নিজেই বলছেন, একটি সহজ, সরল গল্প তিনি বলতে চেয়েছেন, কোনো কায়দা বা মারপ্যাঁচ দেখানো তার উদ্দেশ্য ছিল না। আর এই সহজ, সরল গল্পটি লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ—যার চরিত্ররা জীবনের নিস্তরঙ্গ পুকুরে ঢিল ছুঁড়ে যে কাঁপন তোলে তারা সঞ্চারিত হয় জন থেকে জনে; ক্রমান্বয়ে জনমনে। সেই মেজাজেই এগিয়েছে চলচ্চিত্র অনিল বাগচীর একদিন। কিন্তু যেমনটি বলেছেন মোরশেদ ঠিক ততখানি সরল একরৈখিক ভঙ্গিতে এগোয় নি সিনেমার গল্প। সময়ের ভাঙচুর আছে, জীবন ও স্বপ্নের মধ্যে যাতায়াত আছে, বর্ণ ও বর্ণহীনতার বৈপরীত্য আছে, বলা না বলার লুকোচুরি আছে। আর আশ্চর্য যে, এ এমন এক গল্প যা সরল কিন্তু ধ্রুপদী ন্যারেটিভের ধার ধারে না সে। গল্পের, এখানে সিনেমার, শুরুতেই অনিল বাগচীর এই একটি দিন কীভাবে শেষ হবে, তা আমরা, দর্শকেরা যেন জানি। ক্লাইমেক্স আমাদের উজ্জীবিত, আতঙ্কিত, হতাশ করে না—একটি বিষন্ন, বেদনাহত নিয়তি নির্দিষ্ট সময়ের যাপন এই চলচ্চিত্র; একই সাথে প্রিয় স্বদেশের প্রকৃতির উদযাপন এবং কিছু ঐশ্বর্যময় পংক্তিমালার উপভোগ। চলচ্চিত্র হিসেবে বেশ কিছু ঋণাত্বক বৈশিষ্ট্য নিয়েও এভাবেই অনিল বাগচীর একদিন একটি নতুন সিনেমা, একটি উল্লেখযোগ্য যোগ আমাদের চলচ্চিত্রের সীমিত ভাণ্ডারে। (সম্পূর্ণ…)

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির স্মরণে

আলম খোরশেদ | ১৪ আগস্ট ২০১৫ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির-এর অপঘাতে মৃত্যুর অল্প ক’দিন পর, ২৫ আগস্ট, ২০১১ সালে, ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে ক্যাথরিন মাসুদ আয়োজিত ‘তারেক মাসুদ স্মরণসভায়’ আলম খোরশেদ যে স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা দেন ইংরেজিতে, লেখক কর্তৃক তার বাংলা তর্জমা এখানে এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হলো।

tariqmishukcopy.jpgআমার দুই মেধাবী বন্ধু তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির, যাঁরা ’জীবন মরণের সিমানা ছাড়ায়ে’ আচমকাই আজ ছবি হয়ে গেছে, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আমার আরেক বন্ধু চিত্রশিল্পী ঢালি আল মামুন এখন ব্যাংককের হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। তাঁর জন্য আমার সমস্ত শুভ কামনা। তারেক ও মিশুকের জীবনসঙ্গিনী ক্যাথরিন এবং মঞ্জুলী কাজী, যে আমার প্রায় বাল্যবন্ধু, তারা বেঁচে থেকেও আজ প্রায় জীবন্মৃত। কিন্তু তাদের অদম্য প্রাণশক্তিতে তারা আজকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এক নতুন আন্দোলন, এক নতুন লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছে এই বীভৎস ঘটনার প্রতিকার চেয়ে। তাদের জন্য আমার সর্বাত্মক শুভ কামনা, সমবেদনা এব সহমর্মিতা জানিয়ে আমি আমার স্মৃতিচারণ শুরু করছি।

আমি থাকি অনেক দূরে রাজধানী থেকে, চাঁটগায়। অনেকটা প্রায় আত্মগোপনেই। তারপরও ছুটে এসেছি ঢাকায়, ক্যাথরিনের ফোন পেয়ে। শুধু তার এই কথাটির জন্য যে এটি কোনো গতানুগতিক শোকসভা হবে না। সে বলেছিল ’উই উইল সেলিব্রেট তারেক্স লাইফ’। তার এই ‘সেলিব্রেট’ কথাটি আমার ভিতরে অন্যরকম অনুরণন তুলেছিল। আমিও এই উদযাপন অনুষ্ঠানের অংশ হতে চাইলাম, তাই ছুটে এলাম। তারেকের জীবন সত্যিই উদযাপন করার মত জীবন। এক বহুমাত্রিক, বহুবর্ণিল, ব্যাতিক্রমী জীবন তার! এই বঙ্গদেশের মাটিতে সেই তারেকের সাহচর্য আমি পেয়েছি, তার বন্ধুত্ব লাভ করেছি, সেটাকে আমার জীবনের এক বড় প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি। (সম্পূর্ণ…)

সুতপার ঠিকানা’য়

শবনম ফেরদৌসী | ১৩ মে ২০১৫ ৯:০৭ অপরাহ্ন

border=0প্রসূন যখন জানাল, ‘সুতপার ঠিকানা’-র রিভিউ আমাকে লিখতে হবে তখন বেশ উভয় সঙ্কটে পড়া গেল। প্রথমত, শেষ কবে লিখেছি মনে পড়ে না। দ্বিতীয়ত, কী লিখতে কী লিখি, শেষে সম্পর্ক অহিনকুলে পরিণত না হয়!

নিজেদের বন্ধু-বান্ধবদের সমালোচনা করার এই এক মুসিবত। চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের একটা মাত্রা থেকেই যায়। মূল আলোচনায় প্রবেশের আগে আমি ভাবি, এ ছবি দেখার অভিজ্ঞতার বয়ানের ভাষা কেমন হবে–ধারালো? ঝাঁঝালো? নাকি নম্র-মধুর? কোনটাতে শ্যামও থাকবে, কুলও যাবে না।
সব ভেবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাই–এখানে শুধু আমি আমার কথা বলব না, দর্শকদের হয়েও বলব। ৭ মে প্রিমিয়ার শোতে আমার আশপাশে যেসব দর্শক-বন্ধু-সহকর্মী বসেছিলেন তাদের মন্তব্যও স্থান পাবে। ফলে কোনো একচোখা সমালোচনার দায় আমার উপর বর্তাবে না।
তাহলে প্রসূন, শুরু করা যাক। (সম্পূর্ণ…)

পিঁপড়াবিদ্যা: গতানুগতিক নির্মাণশৈলীর দুর্বল চলচ্চিত্র

নাদির জুনাইদ | ২৫ নভেম্বর ২০১৪ ৯:৪৬ অপরাহ্ন

border=0মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন ছবি পিঁপড়াবিদ্যা কি একটি বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র? মূলধারার গতানুগতিকতা-সর্বস্ব চলচ্চিত্র থেকে ভিন্ন ধরনের ছবিকে অল্টারনেটিভ, অফবিট, বা ইনডিপেনডেন্ট চলচ্চিত্র যে নামেই আখ্যায়িত করা হোক না কেন, কোন চলচ্চিত্রকে কেবল তখনই বিকল্প ধারার ছবি হিসেবে বর্ণনা করা যায় যখন সেই ছবি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মিত মূলধারার চলচ্চিত্রের রীতিনীতি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে নির্মিত হয়। যেহেতু ব্যবসাসফল হওয়াই থাকে বাণিজ্যিক ছবির প্রধান লক্ষ্য তাই বহু দর্শককে আকৃষ্ট করার জন্য বিনোদনমূলক, চাকচিক্যময় এবং চটকদার উপাদান এই ধরনের ছবিতে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হয়। ফলে বাণিজ্যিক ছবি হয়ে ওঠে ফর্মুলা-নির্ভর আর গতানুগতিক। প্রথাবিরোধী এবং উদ্ভাবনী নির্মাণপদ্ধতি এই ধরনের ছবিতে গুরুত্ব পায় না। সমাজের বিভিন্ন জটিল ও গুরুতর সমস্যার মূল কারণ এবং এই সমস্যাসমূহের জন্য কারা দায়ী তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে ছবিকে চিন্তাশীল করে তোলার পরিবর্তে দর্শককে বিনোদন যোগানোর চেষ্টাই বেশি করা হয় বিনোদননির্ভর বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com