চিত্রকলা

সাম্প্রতিক শিল্পসাহিত্য: পানামা পেপার্স-এ চিত্রকলাও

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন


একটি নিলাম যেভাব পাল্টে দিল শিল্পজগতের ইতিহাস

pablo.jpg বিলিওনিয়ার জো লুইস কিভাবে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা পৃথিবী বিখ্যাত সব চিত্রকর্ম সস্তায় কিনে নিয়েছিলেন সম্প্রতি পানামা পেপার্সে তার একটি বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগ্রাহক দম্পতি ভিক্টোর গ্যান্জ ও শ্যালি গ্যান্জ-’এর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল বহু বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম। জহুরির চোখ দিয়ে তারা সেই শিল্পকর্ম বাছাই করতেন। এ ব্যাপারে তারা ছিলেন বিশেষজ্ঞ। কখনোই তাদের পছন্দ ব্যর্থ হয়নি। বলা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসে এই দম্পতিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগত শিল্প সংগ্রাহক। এমনকি শিল্পসংগ্রহ নিয়ে এই দম্পতি আ লাইফ অফ কালেক্টটিং নামে একটি বিখ্যাত গ্রন্থও লিখেছিলেন। বিশেষ করে পাবলো পিকাসোর ভক্ত ছিলেন তারা। এবং পিকাসোর বিখ্যাত কিছু শিল্পকর্ম তাদের সংগ্রহশালায় ছিল। ১৯৯৭-এর জানুয়ারিতে ৮৫ বছর বয়সে শ্যালি গন্জ-এর মৃত্যুর পর থেকে একে একে নিলাম হতে থাকে তাদের সংগ্রহে থাকা শিল্পকর্মগুলো।

women-of-algiers.jpgসময়টা ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাস। ম্যানহাটনের নিলাম ঘর ক্রিস্টিজ সেলসরুমে গন্জ দম্পতির সংগ্রহে থাকা পাবলো পিকাসোর যুদ্ধপরবর্তী মাস্টারপিস বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স’সহ অসংখ্য চিত্রের একটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিখ্যাত স্প্যানিশ কিউবিস্ট চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স( ভার্সন ও)’ ছিল ১৫টি অসাধারণ চিত্রকর্মের একটি সিরিজ। আর ‘ভার্সন ও’ হচ্ছে ঐ সিরিজের সর্বশেষ চিত্রকর্ম। আর এজন্যই ওটা ছিল একটু বেশী ব্যতিক্রম। নিলামে থাকা শিল্পকর্মগুলো মাত্র ৩২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। আর ১৮ বছর পর যার মূল্য হয় ১৭৯ মিলিয়ন ডলার। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রত্যাখ্যাত রাউলিং ও পুনর্বাসনে লুইয এলিজাবেত ভিযে ল্য ব্রাঁ

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩০ মার্চ ২০১৬ ৩:১৩ অপরাহ্ন


এই সময়ের সবচেয়ে সফল নারী লেখক

cacku.jpgহ্যারী পটার খ্যাত জে কে রাউলিং সম্প্রতি টুইটারে বেশ কিছু প্রত্যাখান পত্র প্রকাশ করেছেন। না কোন প্রেম প্রত্যাখান পত্র নয়, বরং বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে পাঠানো তার বইয়ের পান্ডুলিপির প্রত্যাখ্যান পত্র। হ্যাঁ, জে কে রাউলিং যিনি প্রথম নারী লেখক হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম বিলিয়েনিয়ারদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তিনি একসময় বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে তার বইয়ের পান্ডুলিপি পাঠিয়েছিলেন আর সেই পান্ডুলিপি বই আকারে প্রকাশে অনেক প্রকাশক অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন! তবে রাউলিং সেসমস্ত পান্ডুলিপিতে তার নিজের আসল নাম ব্যবহার করেন নি। ছদ্মনাম রবার্ট গিলব্রেথ ব্যবহার করেছেন।

রাউলিং এক ভক্তের অনুরোধে প্রকাশকদের কাছ থেকে পাওয়া সেই চিঠিগুলোর কপি তার টুইটার একাউন্টে প্রকাশ করেন। তার পরপরই ব্যাপারটা বেশ সাড়া ফেলে। ছদ্মনাম – রবার্ট গিলব্রেথ হিসেবে তার প্রথম গল্প ‘দ্য কাক্কুস কলিং’ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল । শুধু তাই নয়, শিশু সাহিত্যে সাড়া জাগানো বিশ্বে ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রিত রাউলিংয়ের হ্যারী পটার বইটির ক্ষেত্রেও কয়েকবার প্রকাশক ছাপতে চায়নি। তবে এর জন্য তিনি নিরুৎসাহিত হননি বরং তাকে আরো ভাল করার শক্তি যুগিয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

আন্তর্জাতিক পপ আর্ট: ওয়্যারহোল ও লিচটেন্সটাইনকে পেরিয়ে

জাকিয়া সুলতানা | ৯ মার্চ ২০১৬ ২:৫৯ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিকভাবে পপের ধারণাটা খুব প্রচলিত ছিল না তবে খুব দ্রুতই তা ছড়িয়ে পরে। ভিন্ন ভিন্ন নামে তা ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে এর স্ফূরণ ঘটে। একনায়কতন্ত্রের চাপে পপ আর্ট ব্রাজিল, আর্জেন্টিনায় সংকীর্ণ, পরিবেষ্টিত এবং আস্থাহীন হয়ে পরে; পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক শাসনামলে পুরোই কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয় এবং পশ্চিমাদের বস্তুবাদিতার পুরস্কারে জাপানে তা সর্বোতভাবেই বিরোধপূর্ণ আর্ট হিসেবে পরিচিতি পায়।
kiss.jpg
‘১৯৬৪ সালে তাদানোরি ইওকুর আঁকা চিত্রকর্ম “Kiss”
প্রাথমিকভাবে পপ আর্টের খুবই আকর্ষণীয় সেই অতি দূরের ইতিহাস শুরু হয়েছিল মিনেয়াপোলিসের ওয়াকার আর্ট সেন্টারে, ডার্সি অ্যালেক্সান্ডার ও বার্থেলোমিও রায়ানের হাত ধরে এবং এরিকা এফ ব্যাটেলের মাধ্যমে ফিলাডেলফিয়ায়। এবং অন্যদের সেই গল্প বলে বেড়ানোও বিস্ময়কর আনন্দের। জেসপার জনের ফ্ল্যাগ পেইন্টিং, ওয়্যারহোলের ব্রিলো বক্স-এর মতো ডজনেরও বেশি ধ্রুপদী চিত্রকর্ম রয়েছে যেগুলো কখনো আপনার চোখেই পড়েনি। সামগ্রিকভাবে তাঁরা একটা সময় যা সুনির্দিষ্টভাবে অর্জিত প্যারানোইয়া এবং সন্দেহজনক ইউটোপিয়ানিজমের মিশ্রনকে পৃথক করেছে । (সম্পূর্ণ…)

আসেম আনসারীর একক প্রদর্শনী : চিত্রের কাব্য ভ্রমণ

অলাত এহ্সান | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

asem-ansari-1.jpgচৈনিক কবি লি পো চাঁদের মোহনীতায় এতটাই আকৃষ্ট ছিলেন যে, এক চাঁদনী রাতে ঝিলের জলে নৌকা ভাসালেন চাঁদ দেখার জন্য। একসময় তাঁর খেয়াল হলো ঝিলের স্বচ্ছ জলেও আরেক চাঁদ দেখা যাচ্ছে যা আকাশের চাঁদের মতোই আকর্ষণীয় এবং তিনি ইচ্ছে করলেই এই চাঁদটা ধরতে পারেন। লি পো সেই চাঁদ ধরতে গিয়েই জলে ডুবে মারা যান। ‘চাঁদে পাওয়া’ বিষয়টা মুটোমুটি এই। সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কবিদের ভেতর এমন কথা বেশি প্রচলিত। যখন কিনা কাব্যের ঘোর তৈরি হয় তখন একে বলেন ‘চান্দে পাওয়া মানুষ’। অর্থাৎ ভাবই কবিকে তাড়িত করে কবিতা লেখার জন্য।

চাঁদের প্রতি যার আকর্ষণ আত্মিক, মাঘের এই শিশির ঝরা রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখা থেকে তাকে কোনোভাবেই নিবৃত করা যাবে না। তখন আমাদের মনে পড়ে জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘আট বছর আগের একদিন’র লাইলগুলো—‘শোনা গেল লাশকাটা ঘরে/ নিয়ে গেছে তারে;/ কাল রাতে- ফাল্গুনের রাতের আঁধারে/ যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ/ মরিবার হলো তার সাধ’। চিত্রকর্মেও এই বিষয়টা পাওয়া যায় আসেম আনসারীর কাজে। গত ১৫—৩১ জানুয়ারি, রাজধানীর ধানমণ্ডির ৬ নাম্বার রোডের ৪ নাম্বার বাড়ির ‘গ্যালারী চিত্রক’-এ হয়ে গেল তার চতুর্থ একক চিত্র প্রদর্শনী। ‘Less is more’ শিরোনামের ১৬ দিনব্যাপী এই চিত্র প্রদর্শনী। মাঘের সন্ধ্যার লগ্নে বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত চিত্র শিল্পী মনিরুল ইসলাম।
৩টি জল রং এবং ৩১টি মিশ্র মাধ্যমে আঁকা চিত্রকর্ম স্থান পায় প্রদর্শনীতে। এগুলো সেই ২০১৩ থেকে শুরু করে ’১৫-এর শেষ অবধি, বিভিন্ন সময়ে এঁকেছেন শিল্পী। এক-একটি চিত্রে শিল্পীর আঁকার প্রতি যত্ন ও অনুভূতির অতল বোঝা যায়। দীর্ঘ বিরতির পর প্রদর্শনীর মতোই জনাব আনসারী যেন মাটির গভীরে ফিরতে চেয়েছেন ছবিতে। তার ছবির বিষয়বস্তুর দিকে দৃষ্টি দিলেই তা বোঝা যায়। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ december ২০১৫ ১:৪২ পূর্বাহ্ন

tagore-painting-1.jpgএর আগে ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে(অক্তাবিও পাসের রবীন্দ্রনাথ) বলেছিলাম অক্তাবিও পাস কেবল রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়ে প্রবন্ধই লেখেননি, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য দিক সম্পর্কে তাঁর অভিমতও জানিয়েছেন; কখনো কখনো ভিন্ন কোনো প্রসঙ্গে রচিত প্রবন্ধে, কখনো বা আলাপচারিতায়। ইন লাইট অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ এসেছিল গান্ধীর ব্যক্তিত্বের সাথে তুলনা করতে গিয়ে। সেখানে তিনি সংক্ষেপে কিন্তু বিচক্ষণ তুলনায় রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্বের উচ্চতর মহিমাকে আমাদের যুক্তিবোধ ও হৃদয়বত্তার দুই প্রান্তে সমান মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। এই তুলনা থেকে মনে হতে পারে যে গান্ধীর চেয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতি বুঝিবা তার বিশেষ প্রীতি রয়েছে। সেই তুল্যমূল্যের বিচার ও বিশ্লেষণ ভিন্ন এক প্রবন্ধের বিষয় হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে আমরা কেবল রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলার প্রতি পাসের পক্ষপাতের দিকে মনোযোগ দিতে চাই।

রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর প্রধান আকর্ষণ সাহিত্যের চেয়ে বরং চিত্রকলার জন্যেই বেশি। তবে তার অর্থ এই নয় যে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক গুরুত্ব তার কাছে মোটেই ছিল না। রবীন্দ্র-কাব্যে কখনো কখনো অতিকথন ও বিগত-রুচির উদ্বোধনে পাস বিমুখ বোধ করলেও, রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীলতা ও ভাবুকতার সবর্জনীনতাকে কেবল কাব্যমূল্যেই নয়, দূরদর্শিতার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী রঘুনাথের প্রস্থান ও পটশিল্পের শূণ্যতা

প্রদীপ ঘোষ | ৪ december ২০১৫ ১২:৩৯ অপরাহ্ন

border=0শিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তী না ফেরার দেশে চলে গেলেন গত ২১তারিখ রাতে। ভোরে মুঠোফোনে খবর এলো। ওপাশ থেকে ফোনটি করেছিলেন শিল্পী শংকর শাওজাল। খবরটা পেতেই কয়েক মিনিট কথা বলতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণের জন্য নির্বাক হয়ে গেলাম। চিত্রকলার ছাত্র হিসেবে রঘুনাথের নামের সাথে আমার পরিচয় ঘটে ছাত্রজীবনেই। বাস্তব পরিচয় হয় উদীচীর মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত আর্ট ক্যাম্পে। সদাবিনয়ী এ শিল্পীর সান্নিধ্যে এসে সৃষ্টিচিন্তায় অনেকটাই পরিবর্তন ঘটে যায় আমার। আমরা আর্টক্যাম্পের উদ্বোধন কাকে দিয়ে করাবো এ নিয়ে ভাবছিলাম। শংকর দা সবসময় মাটির মানুষদের খুঁজে ফেরেন। আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনটা শিল্পী রঘুনাথ চক্রবতীকে দিয়ে করানোর প্রস্তাব করলেন। আমরা সবাই একবাক্যে রাজি হয়ে গেলাম। একজন অপ্রাতিষ্ঠানিক অথচ শক্তিশালী লোকচিত্রশিল্পী তেমন আর কেউ উঠে আসতে পারেনি বর্তমান সময়ে। রঘুদা হয়ে গেলেন আর্টক্যাম্পের উদ্বোধক। আমরা মানিকগঞ্জের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে আয়োজন করলাম আর্টক্যাম্পের। আমাদের সাথে যেতে রাজি হলেন বরেণ্য শিল্পী আব্দুল মান্নান, আলপ্তগীন তুষার, কীরিটি বিশ্বাস প্রমুখ। সারা দেশ থেকে ক্যাম্পে এলেন উদীচীর কর্মীরা। ফুল, নতুন গামছা আর গুরুদক্ষিণা দিয়ে আমরা বরণ করলাম রঘুদাসহ অন্যদেরকে। সেদিন রঘুদা ছবি আঁকলেন আমাদের সবার সাথে তার গ্রামীণ প্রাচ্যরীতির ধারায়। বিষয়বস্তু হলাম আমরা ক্যাম্পবাসীরা। (সম্পূর্ণ…)

আট তরুণের সময়-দর্শনের সংযোগ প্রদর্শনী

অলাত এহ্সান | ২৮ নভেম্বর ২০১৫ ১২:৫৮ অপরাহ্ন

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে সঙ্গে নিয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ‘অনলি কানেক্ট’ শিরোনামে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী আটজনই স্বকীয়তার মধ্যদিয়ে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরেছেন তাদের ভাবনাকে। তারা যেমন ভেবেছেন, তেমনি দর্শকদেরও ভাবাচ্ছেন। চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমেই তারা এই কাজ করেছেন। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে আলোকচিত্র, পেইন্টিং, ভিডিওগ্রাফি, ইন্সটলেশন, পার্ফমেন্স আর্ট, টেক্সটাইল ইন্সটলেশন।
শিল্প এগিয়ে যাওয়ার প্রধান যে উপায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রত্যেকে তাদের কর্মে দুর্বীনিতভাবেই তা করছেন। শিল্প যাচ্ছে মানুষের কাছে আর মানুষের জীবন উঠে আসছে শিল্পকর্মে। এখানেই এই প্রদর্শনীর গুরুত্ব। প্রতিটি শিল্পকর্মে বর্তমান সময়ের যে প্রধান প্রবণতা—বৈচিত্র্য, বিক্ষোভ, অসহনীয় লঘুতা—তুলে ধরেছে। বোঝা যায়, প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া প্রত্যেক শিল্পী কেবল শিল্পের সাধনায়ই নয়, ভাবনায়ও ঋদ্ধ। প্রদর্শনীতে একটু খেয়াল করলে যেকারোরই চোখে পড়ে উপস্থাপিত বিষয় ও মাধ্যমের বৈচিত্র্য।

আবির সোম নিয়ে এসেছেন ডিজিটাল কোলাজ, ড্রয়িং ও ছাপচিত্র; আলি আসগার’র মাধ্যম ছাপচিত্র ও পার্ফর্মেন্স; দেবাশিস চক্রবর্তী’র আলোকচিত্র; মো. আতা ইসলাম খান’র কোলাজ, মেহেরুন আখতার’র টেক্সাইল ইন্সটলেশন, পলাশ ভট্টাচার্য’র ভিডিও ডকুমেন্ট, রফিকুল শুভ’র ভিডিও ও ফটোগ্রাফি এবং রাজীব দত্ত’র ডিজিটাল কোলাজ।
ইতোমধ্যে প্রত্যেক শিল্পীরই যৌথ প্রদর্শনীর সংখ্যা দুইয়ের ঘর ছাড়িয়েছে। অর্ধশত, শতও পূরণ করেছে কেউ কেউ। গত ২২ নভেম্বর গ্যালারির দোতলার বারান্দায় বসেছিল শিল্পীদের সঙ্গে দর্শনার্থী, সংবাদকর্মী, লেখক, শিল্প সমালোকদের উন্মুক্ত আড্ডা। সেখানে তারা শিল্পকর্ম নিয়ে তাদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি উপস্থিতদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৪ নভেম্বর ২০১৫ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন


স্বাধীনতা পেল শেলীর যে কবিতাটি

shelley-009.jpgশেলী-ভক্ত পাঠক, সমালোচক ও বিশ্লেষকদের জন্য চমকপ্রদ খবর রয়েছে। অবশেষে অনেকদিন পর শেলীর একটি কবিতা প্রকাশিত হবার স্বাধীনতা পেল। গত নয় বছর ধরে তাঁর ‘স্টেট অব থিংস’-এর উপর ছন্দোবদ্ধ রচনাটি ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল। এটি আদৌ সহজলভ্য ছিল না। এই কবিতার প্রেক্ষাপট হল ১৮১১ সাল। শেলীর তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স। অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করতেন। ঐসময় নেদারল্যান্ডে ফরাসীদের বিপক্ষে বৃটেনের যুদ্ধের বিভীষীকার উপর একজন আইরিশ সাংবাদিক পিটার ফিনার্টি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এর ফলে সরকার ঐ সাংবাদিককে ১৮ মাসের কারাদন্ড দেয়। তখন তার মুক্তির জন্য চলে আন্দোলন। ঠিক ঐ সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে শেলী ১৭২ লাইনের ‘ছন্দোবদ্ধ রচনা- ‘স্টেট অব থিংস’ লেখেন। রচনাতে তিনি ফিনার্টির জন্য তহবিল সংগ্রহকারী বারডের জন্য প্রশংসা বর্ণনা করেছেন। রচনাটি ১৮১১ সালের ২ মার্চ থেকে ২০০৬-এর জুলাই পর্যন্ত লাপাত্তা ছিল। কবিতাটি যিনি এতদিন সংরক্ষণ করেছেন পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক। ২০০৬ সালে তিনি এটি জনসম্মুখে প্রকাশের অনুমতি দেন। (সম্পূর্ণ…)

সালাউদ্দীনের চিত্রকলা: বিহগদৃষ্টিতে মুঘল-ঢাকা

শিশির ভট্টাচার্য্য | ১০ নভেম্বর ২০১৫ ৫:৩৮ অপরাহ্ন

sisir-2.jpg২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে কাজি সালাউদ্দীন আহমেদের একক চিত্রপ্রদর্শনী হয়ে গেলো। এই প্রদর্শনীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে সবগুলো ছবিতেই ঢাকা শহরকে বিহগাবলোকনে (Bird’s eye view) দেখানো হয়েছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টিস্নাত গাছপালার ঘন সবুজের ফাঁকে দুই একটি রাস্তা, অল্পবিস্তর বাড়িঘর। এক সময় ঢাকার বেশিরভাগ অংশ এরকম ছিল এবং এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাটা বিহগ-দৃষ্টিতে এরকম মনে হতে পারে, জানালেন সালাউদ্দীন। প্রদর্শনীর আরও দুই একটি ছবিতেও সবুজ আছে, তবে তা ঢাকা শহরের দূষণকবলিত, ধূলিধুসরিত গাছপালার বিবর্ণ, ফিকে সবুজ।

সালাউদ্দীনের ছবিগুলোতে বিভিন্ন আকৃতির চতুর্ভূজের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাবে। বাড়ির ছাদের প্রতীক চতুর্ভূজগুলো এমন অগোছালোভাবে একটি আর একটির সাথে লেগে-লেপ্টে আছে যে বোঝাই যায় না কোথায় এক একটি মহল্লার শুরু, কোথায়ইবা তার শেষ। চতুর্ভূজগুলো সাদাকালো, কারণ পুরোনো ঢাকার বাড়িগুলোর বয়স হয়েছে। এককালে দেয়ালে-ছাদে রঙ থাকলেও কালের প্রবাহে সে রঙ সাদাটে হয়ে গেছে। চতুর্ভূজের ফাঁকে ফাঁকে কালো রঙের দাগগুলোকে দুই ভবনের মাঝের অপরিসর কালো পিচের রাস্তা বলে মনে করা যেতেই পারে। (সম্পূর্ণ…)

রণি আহমেদ: নাস্তিকতা হল সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজার বিয়োগান্তক পথ

অলাত এহ্সান | ৩ অক্টোবর ২০১৫ ১২:৪৯ অপরাহ্ন

roni-1.jpgসুররিয়ালিজম, পুরাণ ও সুফিইজমের সমন্বয় শিল্পী রণি আহমেদের এবারের চিত্রপ্রদর্শনীর মূল বিষয়। ঢাকায় জর্মান কালচারাল সেন্টার ও আলিয় ফ্রঁসেস-এ যথাক্রমে ২০০২ সালে ‘আনটাইটেল’ ও ২০০৪ সালে ‘মিথোরণিয়া’ শীর্ষক একক প্রদর্শনীর মাধ্যমেই তিনি বাংলাদেশি চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আবির্ভূত হন। ইতোমধ্যে দেশে ৬টি একক চিত্রপ্রদর্শনী হয়েছে তার। আবাসিক, উপস্থিত, সম্মিলিত, একক ও উন্মুক্ত চিত্রপ্রদর্শনে দেশ-বিদেশে অংশ নিয়েছেন তিনি। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে গুলশান-১-এ বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শুরু হয়েছে তার ‘গডস এন্ড বীস্ট’ শীর্ষক মাসাধিক কালব্যাপী একক চিত্রপ্রদর্শনী। চলবে ১৭ আক্টোবর পর্যন্ত। প্রদর্শনী ঘুরে রণি আহমেদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ লেখক অলাত এহ্সান। তারা কথা বলেছেন চিত্রকলা, পুরাণ, জাগতিক বিশ্ব ও সুফি দর্শন নিয়ে। সাক্ষাৎকার চলাকালে গল্পকার দিলওয়ার হাসানও আলাপে অংশগ্রহণ করেন। বি.স (সম্পূর্ণ…)

‘জয় বাংলা’র শিল্পী শাহাবুদ্দিন

মইনুদ্দীন খালেদ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

dsc00159.JPGশাহাবুদ্দিনের সব ছবিরই বিষয় মানুষ। বিশেষ মানুষ এবং নির্বিশেষ মানুষ। বিশেষ মানুষেরা ইতিহাসের বিখ্যাত নায়ক। নির্বিশেষ বা অচেনা মানুষেরাও বীরের মর্যাদা দাবি করে। কারণ, তারা সব সময়ই গতিশীল ও তেজোদীপ্ত। তার ছবিতে প্রকৃত অর্থে কোনো মৃতদেহ নেই, কিন্তু মৃত্যু আছে। এই মৃত্যু বীরের মৃত্যু; এতে ট্রাজেডির করুণ সমাপ্তির আবহ আছে। এই মৃত্যুতে মূলত চরিত্রের মৃতুঞ্জয়ী মাত্রাটা প্রসারিত হয়ে আছে। এই মৃত্যুর মহিমা শাহাবুদ্দিন চিত্রায়িত করেছেন ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূলুণ্ঠিত বিশাল দেহ এঁকে এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুকেও চিত্রায়িত করে। বঙ্গবন্ধু ছাড়া শিল্পী এঁকেছেন গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মাদার তেরেসা, সুফিয়া কামাল প্রমুখ সংগ্রাম ও কল্যাণপথের মহাজনদের। অপরদিকে বার বারই তিনি বিভিন্ন গতিতে ধাবমান মানুষ চিত্রিত করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

ফ্রিদা কালো: বেদনার্ত রংয়ের সম্রাজ্ঞী

লুতফুন নাহার লতা | ৬ জুলাই ২০১৫ ১২:১৭ অপরাহ্ন

frida-kahlo.jpgআজ তার জন্মদিন । শুভ জন্মদিন ফ্রিদা কালো !

আমার নিজের জীবনের পরতে পরতে যে শিল্পীর বেদনাঘন জীবন এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেছে বারবার সেই প্রিয় শিল্পী ফ্রিদা কালোকে নিয়ে লিখতে চেয়েছি অনেক আগেই। জানার স্বল্পতাকে অতিক্রম করে আরো বেশী জানতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় কেটে গেছে অনেকটা সময়! লেখা আর হয় নি ।

ফ্রিদা কালোকে বলা হয় বিংশ শতাব্দির সবচেয়ে বেদনালীন এক শিল্পী যিনি সৃষ্টি করেছেন এক জীবনমথিত বেদনাগাঁথার ধারাবাহিক ক্যানভাস। যাতে ঠাঁই পেয়েছে তার ছোট্ট বেলার নীল বাড়ী। জন্মের পরে কঠিন ব্যাধি পলিও। ১৮ বছর বয়সে স্কুল বাসে ভয়াবহ এক্সিডেন্ট। হাসপাতাল, নার্স, তীব্র ব্যথা, সমস্ত শরীর জুড়ে বেদনার দুঃসহ নীল নির্যাস। মেক্সিকান বিপ্লব, মেক্সিকান শিল্প, প্রাচীন সভ্যতা,স্বামী দিয়েগো রিভেরা, সম্পর্কের টানাপোড়ন, প্রেম, বানর, গাছপালা , কন্টক, শেকড়বাকড়, রিবন, রঙিন গাউন, ফুল, লতাপাতা সর্বোপরি সন্তান ধারণের অক্ষমতার হতাশা ও অশ্রু। এর সকল কিছুই তাঁর ছবির প্রধান উপজীব্য।

ফ্রিদা কালো বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবার চেয়ে আলাদা এক অপরূপ সৌন্দর্য মাখা মুখাবয়ব, এক তড়িত আলোক শিখা। যার পরনে উজ্জ্বল রঙের দীর্ঘ ঘাগরা, নীচে রিবনের কারুকাজ। গলায় ঝোলান রঙিন উত্তরীয় আর তাঁর মাথায় সাজানো ফুলের পশরা, যেন এক অভূতপূর্ব ফুলদানী। লম্বা কালো চুলে দুদিক দিয়ে কলাবেনী গেঁথে তাতে তাজা ফুল দিয়ে সাজানো। যেন অনন্যসাধারণ এক পুষ্প প্রদর্শনী। কত যে সহজ কত যে মনোহর। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com