সঙ্গীত

মানুহে মানুহর বাবে…

গানের পাখি ভূপেন হাজারিকা

বাবু রহমান | ৮ নভেম্বর ২০১১ ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

bhp_8.jpg…….
ভূপেন হাজারিকা (৮/৯/১৯২৬ – ৫/১১/২০১১)
……..
অসমিয়া, হিন্দি ও বাংলা ভাষার এক গানের পাখি ছিলেন ড. ভূপেন হাজারিকা। মুম্বই কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চারমাস রোগে (কিডনী বৈকল্য ও বার্ধক্যজনিত সমস্যা) ভোগার পর মারা যান তিনি। অবিভক্ত ভারতে যখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে তখন অরুণাচল ও অসমের সীমান্তবর্তী অঞ্চল সাদিয়া শহরে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানকার শিবসাগর স্কুলে ঠাকুর্দা বংশীধর হাজারিকার ছেলে বাবা নীলকান্ত হাজারিকা শিক্ষক ছিলেন। মা শান্তিপ্রিয়া দেবী সুগৃহিনী ছিলেন। বাবার সরকারী চাকুরী হওয়ায় দু‘বছর অসমের ধুবড়ী, দুবছর গুয়াহাটি এবং চার বছর তেজপুরে ভূপেন বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেন। সেখান থেকে ১৯৪১-এ ম্যাট্রিক পাশ করে পরে গুয়াহাটি কটন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। তিনি কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে বিএ এবং ১৯৪৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ করেন। তারপর ১৯৫২ সালে নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি নেন তিনি। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল “প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষায় শ্রবণ-দর্শন পদ্ধতি ব্যবহার করে ভারতের মৌলিক শিক্ষাপদ্ধতি প্রস্তুতি-সংক্রান্ত প্রস্তাব”।

‘মানুহে মানুহর বাবে’–বাংলায় ‘মানুষ মানুষের জন্যে’–১৯৬৪ সালে প্রথমে এই গান রেকর্ড করেন ভূপেন। উপরে অসমিয়া মূল ভাষায়, নিচে বাংলা সংস্করণ। ইউটিউব থেকে।

তেজপুরে পড়ার সময় বিপ্লবী বিষ্ণু রাভা (১৯০৯-১৯৬৯) আর অসম শিল্প তারকা জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালার (১৯০৩-১৯৫১) সান্নিধ্য ও প্রভাব ভূপেনের জীবনে পড়ে।

bhp_7.jpg……
স্ত্রী প্রিয়ম্বদা প্যাটেলের সঙ্গে ভূপেন হাজারিকা
…….
স্থানীয় গীত-রীতি ওজা-পালি (চর্যাপদের সমসাসয়িক), দুর্গাবরী গীত (একজন গীত ব্যক্তিত্ব), বরগীত, কামরূপী ও গোয়ালপাড়ার লোকগীত, কাহিনীগীত (মালিতা), জিকির, চা মজদুরের গান, বিহুগীত, হুঁচরি ইত্যাদি লোক ও গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে ভূপেন লালিত। আনন্দীরাম দাস (১৯০৯-১৯৬৯) নামে আর একজন গীতিকার রচিত বনগীত-এরও অসম রাজ্যে প্রভাব পড়ে। পার্বতী প্রসাদ বড়ুয়া ও কমলানন্দ ভট্টাচার্য নামে আর দুজন সঙ্গীতকার গীতিকার অসমের সঙ্গীত আলোকিত করেছিলেন। সেই সাগরে ভূপেনের অবগাহন।

সেই সময় অর্থাৎ ১৯৩৭ ভূপেনের রচনা–কু

কুসুম্বরের পুত্র শ্রী শঙ্কর গুরু ধরেছিল নামেরে তান
নামের শুরুতে আনন্দে নেচেছিল পবিত্র বরদোয়া খান
মোর গুরু ঐ বরদোয়া খান।

(সম্পূর্ণ…)

সঙ্গীতভাবনা | স্টিভ জবস

ইমরুল হাসান | ১৫ অক্টোবর ২০১১ ৬:৪৯ অপরাহ্ন

অনুবাদ: ইমরুল হাসান

stevejobs01.jpg
স্টিভ জবস (২৪ ফেব ১৯৫৫ – ৫ অক্টো ২০১১)


কেন এই অনুবাদ?
স্টিভ জবস-এর এই প্রেসনোটটা প্রথম অনুবাদ করতে শুরু করছিলাম, ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডেতে। এখন স্টিভ জবস-এর মৃত্যুর পর মনে হইলো, উনার প্রতি সম্মান দেখাইয়া হইলেও শেষ করাটা দরকার!

stevejobs03.jpg…….
স্টিভ জবস
…….
‘কালচার’ ত আসলে কর্পোরেটরাই তৈরি করতেছে। বানাইতেছে, নিয়ন্ত্রণ করতেছে, সমাজের ভিতর ছড়াইয়া দিতেছে এবং ডিফাইন করতেছে কীভাবে সেইটা ‘কালচার’। এর বাইরে, কর্পোরেট কালচারের সাথে খাপ খাওয়ানোর মতো কালচার তৈরি করে শহরের মধ্যবিত্তরা, পুরানোরে/অনান্য পক্ষরে মিলাইতে চায় এর সাথে, মিথষ্ক্রিয়া করে, যাচাই-বাছাই করে এবং শেষে না-পাইরা কর্পোরেট কালচারের অংশ হয়া যায়… যেমন রবীন্দ্রনাথের নাটক নতুনভাবে করা, লালনরে নতুনভাবে আবিষ্কার করা, সমাজে স্বীকৃত আইকনদের জন্মজয়ন্তী, মৃত্যুবার্ষিকী করা, ইত্যাদি (মধ্যবিত্তের ত আসলে নিজস্ব কিছু নাই, সবই ধার করা)… মফস্বল করে শহরের অনুকরণ যদ্দূর পর্যন্ত পারে… আর গ্রাম-গঞ্জে (যেহেতু যোগাযোগটা খুব বেশি নাই শহরের সাথে) যা হয়, সেইটা ত ‘লোক-সংস্কৃতি’ বা ‘ফোকলোর’; একশ বছর আগে হোক বা এখনই হোক… সবসময় দূরবর্তী একটা ব্যাপার!

এই ‘কালচার’ তৈরি হয়, স্বীকৃতি লাভ করে বা অনুমোদন পায় দুইটা জায়গা থিকা–ব্যবসায়িক এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান–এই দুইটা আসলে আলাদা জিনিস না, একই; বেশিরভাগ সময়ই পরিপূরক টাইপের। আর এই কালচার প্রচার এবং প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালায় বিভিন্ন মিডিয়া, এনজিও এবং সোশ্যাল নেটওর্য়াকগুলা। এদের বিভিন্নরকমের ক্রিয়ার ভিতর দিয়াই সমাজে ‘কালচার’ প্রতিষ্ঠা হয়।

এখন যারা কালচার করেন, তাদের ভিন্ন মতামত থাকে; তারা যে এই ‘ব্যবস্থা’রে স্বীকার বা অস্বীকার করেন, সেইখানে তাদের একটা গুরুত্ব আছে। কিন্তু এই স্বীকার বা অস্বীকারটা এই ‘ব্যবস্থা’টারে ঘিরাই। মানে, কেন্দ্রীয় একটা ‘ব্যবস্থা’ আছে; জনগণরে কালচারাল কইরা তোলার, কালচার শিক্ষা দেয়ার, এর ভিতরে নিয়া আসার এবং অপারেট করার। মোটা দাগে, সমাজের ভিতরে একটা কালচারাল ভ্যালু সিস্টেম চালু করার।

কিন্তু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলা আসলে তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াগুলা নিয়া তেমন কিছু বলেন না; কারণ ‘গোপনীয়তা’ই তাদের প্রধান অস্ত্র। আর বিদ্যালয়গুলা তাদের কোডিং-এর ভিতর দিয়া প্রক্রিয়াগুলারে ব্যাখ্যা করেন; এই ‘কোডিং-পদ্ধতি’টা উনাদের প্রধান অস্ত্র। এইভাবে উনারা নিজেদেরকে ‘সাধারণ’ থিকা পৃথক করেন এবং কালচারকে অনুমোদন দেয়ার একটা ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

এইভাবে কালচাররে দেখতে পারলে আমার ধারণা, সুবিধা হয়, বুঝতে।

ত, সঙ্গীত একটা কালচারাল উপাদান। এর ‘ব্যবস্থা’ সম্পর্কে কিছুটা টের পাওয়া যাইতে পারে অ্যাপল-এর সাবেক প্রধান স্টিভ জবস-এর প্রেস নোট থিকা। বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে (গত ১৯ জুন ২০১১) উনার এই প্রেস নোটের কথা আবার মনে হইছিলো। তখন এই অনুবাদ করতে বসা। আসলে অনুবাদ করার তেমন কিছু নাই, ইংরেজিটা এতটাই সহজ-সরল যে বাংলাটা বরং অনেক বেশি অপরিচিত লাগতে পারে! কিন্তু যেহেতু এইটা নিয়া আলাপ শুরু করতে চাই, তাই বাংলাটা রাখলে সুবিধা। (সংবাদপত্রের নিউজ-ভিউজ এবং একাডেমিক প্রবন্ধ ছাড়াও এইরকম ব্যবসায়িক প্রেসনোট, সরকারি আদেশ কিংবা আদালতের রায়ের কপি ইত্যাদি জিনিস অ্যানালাইসিস করলে আমার ধারণা, সমাজ-চিন্তাতে অনেক নতুন কিছু পাওয়া যাইতে পারে। এইগুলাই হইতেছে প্রাথমিক পর্যায়ের ডকুমেন্ট, যা দৃশ্যমান। যে গোপনীয়তা আবার প্রকাশ্য না হয়াও পারে না!)

এইটা নিয়া আলাপ করতে চাওয়ার কারণ অনেক। প্রথমত এই উপলব্ধি যে, এত সঙ্গীত উৎপাদনের মূল লক্ষ্য আসলে যন্ত্ররে বাঁচাইয়া রাখা। দ্বিতীয়ত, এই কারণে সঙ্গীত উৎপাদন এবং প্রচার করে যেইসব প্রতিষ্ঠান, পাইরেসি বন্ধ না হইলেও যে উনাদের তেমন কোনো ব্যবসায়িক ক্ষতি নাই, সেই প্রসঙ্গ। মানে, মাধ্যমই গুরুত্বপূর্ণ! অথবা গুরুত্ব বা অ-গুরুত্ব ত একটা ‘অবস্থান’-এর ব্যাপার; আর আমার ‘অবস্থান’ বিষয়টা মনে হয়, উপরে কিছুটা ক্লিয়ার করতে পারছি।

যা-ই হোক, এইটা সঙ্গীত নিয়া ব্যবসায়িক একটা চিন্তা। অ্যাপল-এর সঙ্গীতের ব্যবসা কীভাবে চলতেছে এবং বিশ্ববাজারে এর ভূমিকা নিয়া অ্যাপল-প্রধানের একটা বক্তব্য।

সঙ্গীত না বইলা মিউজিক বললে হয়তো ভালো হইতো, কারণ ‘মিউজিক’ বললে বাংলাতে যা বোঝায়, ‘সঙ্গীত’ বললে তার চাইতে ভিন্ন কিছু বোঝায়; কিন্তু টুইস্টটাও সম্ভবত ভালোই। সঙ্গীত বিষয়ে আগ্রহীরা এইটা পইড়া ক্ষুব্ধ হইলে, আগে থিকাই মাফ চাই।
জুন, ২০১১


অ্যাপল-এর আইপড মিউজিক প্লেয়ার এবং আইটিউনস অনলাইন মিউজিক স্টোরের বিশ্বব্যাপী বিমূঢ় করা সাফল্যের প্রেক্ষিতে কেউ কেউ অ্যাপলরে বলছেন ডিজিটাল রাইটস ম্যানেজম্যান্ট (ডিআরএম) ব্যবস্থারে ‘উন্মুক্ত’ কইরা দেয়ার জন্য, যেইটা অ্যাপল ব্যবহার করে তার সঙ্গীতরে চুরির হাত থিকা বাঁচানোর জন্য, যাতে আইটউনস থিকা কেনা মিউজিক অনান্য কোম্পানি থিকা কেনা ডিজিটাল ডিভাইসগুলাতেও চালানো যায়, এবং অন্যান্য অনলাইন মিউজিক স্টোর থিকা কেনা সুরক্ষিত সঙ্গীতগুলাও আইপডগুলাতে ব্যবহার করা যায়। আসেন বর্তমান পরিস্থিতিটা পরীক্ষা করি এবং কীভাবে আমরা এইখানে আসছি, তারপর ভবিষ্যতের জন্য তিনটা সম্ভাব্য বিকল্পের দিকে তাকাই।

newsweek-cover.jpg…….
নিউজউইক কভারে আইপড ও স্টিভ জবস
…….
শুরুতে, এইটা মনে রাখা দরকারি যে, সব আইপডই সঙ্গীত বাজাইতে পারে যা যে কোনো ডিআরএম থিকা মুক্ত এবং “মুক্ত” লাইসেন্স ফরম্যাট হিসাবে এনকোডেড; যেমন, এমপিথ্রি এবং এএসি। আইপড ব্যবহারকারীরা অনেক উৎস থিকা সঙ্গীত সংগ্রহ করতে পারে এবং করে, তারা যে সিডিগুলার মালিক সেইগুলাসহ। (সম্পূর্ণ…)

উপমহাদেশের সঙ্গীতকার কমল দাশগুপ্ত

বাবু রহমান | ৫ মার্চ ২০১১ ২:১১ পূর্বাহ্ন

1950s-after-marriage-ceremo.jpg১৯৫০ সালে বিয়ের পরে, স্ত্রী ফিরোজা বেগম ও বন্ধুদের সাথে কমল দাশগুপ্ত (ডান দিক থেকে দ্বিতীয়)
প্রাক কমল যুগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১), দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩), রজনীকান্ত সেন (১৯৬৫-১৯১০), অতুল প্রসাদ সেন (১৯৭১-১৯৩৪)-এর সময় বিজ্ঞানের আবিষ্কার—ধ্বনি ধরে রাখার যন্ত্র আবিষ্কৃত হয় এবং এদেশেও আসে। কিন্তু পরে হলেও তাঁদের গীতসুধারস ছাপিয়ে নজরুলের আবির্ভাব। আর ধ্বনি শ্রুতি বদ্ধ করার যন্ত্র এবং বেতার (কোলকাতা ১৯২৬) ভারতবর্ষে ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ছাড়া কেউ এর তেমন অনুগ্রহ পায়নি। সবটুকু পেলে রেকর্ড কোম্পানির সুবাদে তাঁদের কৃত গীত ও সুরে আজ আপ্লুত হতে পারতাম এবং আর তুলনামূলক গবেষণায় তা সহায়ক হতো।

বাংলা গানে নজরুলের সর্বগ্রাসী সুরে যারা একটুখানি স্থান পেতে সচেষ্ট ছিলেন তাদের মধ্যে ধীরেন মুখোপাধ্যায় ( ? ), তুলসী লাহিড়ী (১৮৯৭-১৯৫৯), পঙ্কজ মল্লিক (১৯০৫-১৯৭৮), সুবল দাশ গুপ্ত (১৯১৪-১৯৫২), ভীমদেব চট্টোপাধ্যায় (১৯০৯-১৯৭৭), ধীরেন দাস (১৯০২-১৯৬১), শৈলেশ দত্ত গুপ্ত (?-১৯৬৩), কৃষ্ণচন্দ্র দে (১৮৯৩-১৯৬২), গিরীন চক্রবর্তী (১৯১২-১৯৬৫), হীরেন বসু (১৯০২-১৯৮৭), রাইচাঁদ (১৮৮৮-১৯৬৩), কালীপদ সেন ( ? ), জগৎ ঘটক (১৯০২-১৯৮৯), হিমাংশু দত্ত (১৯০৮-১৯৪৪), রঞ্জিত রায় (১৯০৩-১৯৫৯) প্রমূখ অন্যতম। আর কয়েকজন গীতিকার ছিলেন যারা নজরুলের কাছাকাছি সময়ে গান রচনা করতেন। অজয় ভট্টাচার্য (১৯০৬-১৯৪৩), কুমুদ রঞ্জন মল্লিক (১৮৮২-১৯৭০), সুবোধ পুরকায়স্থ (১৯০৭-১৯৮৪), প্রণব রায় (১৯০৮-১৯৭৫)—যাঁরা শুধু গান রচনা করেছেন। অন্য সুরকারের সুরারোপে তাদের বাণী প্রাণ পেয়েছে।
(সম্পূর্ণ…)

সুচিত্রা মিত্র: কণ্ঠে যাঁর একলা চলার প্রেরণা

আশীষ চক্রবর্ত্তী | ২৪ জানুয়ারি ২০১১ ২:৪৮ অপরাহ্ন

sm_11.jpg
সুচিত্রা মিত্র (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৪ – ৩ জানুয়ারি ২০১১)

কৃষ্ণকলি তারেই বলি

কৈশোরেই দেশপ্রেম দানা বেঁধেছিল রামকিঙ্করের মনে। বাঁকুড়ায় বসে বসে দেখতেন পরাধীন ভারতবর্ষ স্বাধীন করার স্বপ্ন। চাইলেও তো ওই বয়সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া যায় না, তাই মোটামুটি স্বপ্ন দেখাই সার। এর বাইরে একটা কাজই করার ছিল মনপ্রাণ ঢেলে—প্রকাশ্যে বীরবন্দনা। রামকিঙ্কর সেটা করতেন ছবি এঁকে। তাঁর তুলির আঁচড়ে আঁচড়ে ফুটে উঠত ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের নায়কদের মুখ। একসময় সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের নজরে পড়লেন। বাকিটা অনেকেরই জানা। পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনে বিকশিত হয় ভাস্কর হিসেবে তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভা। অনেক অমর ভাস্কর্যের স্রষ্টা রামকিঙ্কর। বিখ্যাত লোকদের মূর্তিও গড়েছেন। তবে তাঁদের সংখ্যা হাতে গোনা যাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁদেরই একজন। রবি ঠাকুরের গানের ঝরনাতলায় আসন পেতেছিলেন এমন একজনও পেয়েছেন সেই সম্মান। সুচিত্রা মিত্র! রবীন্দ্রসঙ্গীতের বড় আপন এই মানুষটিও তাই বেঁচে আছেন রামকিঙ্করের হাতের ছোঁয়ায়।

গাইছেন সুচিত্রা মিত্র
সুচিত্রা মিত্র গত ৩ জানুয়ারি এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে গেলেও গানের পৃথিবী তাঁর মায়া কাটিয়ে উঠতে পারবে না কোনোদিন। মৃত্যু তাঁর কণ্ঠ থেকে গান কেড়ে নিলেও ৮৬ বছরের জীবনে সুরের যে মায়াজালে তিনি জড়িয়ে গেছেন, সঙ্গীতপিপাসু মনের সঙ্গে সে বন্ধন কোনোদিন ছিন্ন হবার নয়। (সম্পূর্ণ…)

শামসুর রাহমানের গান

‘আমি প্রতিদিন তোমাকেই দেখি’

বাবু রহমান | ২২ december ২০১০ ২:৩১ অপরাহ্ন

shamsur-rahman.jpg
শামসুর রাহমান, ১৭.৮.২০০৫, সন্ধ্যা ৭:৩০, বেঙ্গল গ্যালারি।। ছবি: লুৎফর রহমান নির্ঝর

কবি শামসুর রাহমান (১৯২৯—১৭ .৮ .২০০৬) রচিত একটি গানের সুরকার ছিলেন সমর দাস (১৯২৫—২০০১)। শ্রদ্ধেয় সমর দাস আমাকে কবির যে গানটি শিখিয়েছিলেন—কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রথমে সেই গানের পুর্ণ বাণী এখানে তুলে দিচ্ছি:

স্বর্ণলতায় ঝর্ণাতলায় দোলন-চাঁপার গাছে॥
আমি প্রতিদিন তোমাকেই দেখি
দেখি হৃদয়ের কাছে॥

স্বদেশ আমার তোমার দু’চোখে
কী মায়া দেখি যে আনন্দ-শোকে
বোঝাতে পারিনা সে ভাষা আমার
চোখের তারায় নাচে॥

যে ফুল ফোটাও ধূসর-ধূলায় প্রাণ মাতে তার গন্ধে
যে নদী বহাও উদ্দাম স্রোতে নেচে উঠি তার ছন্দে।

নিত্য তোমার রূপের ছায়ায়
কত যে কাহিনী কবি খুঁজে পায়
তোমার মাঝে ফসলের ঘ্রাণে
জীবনেরই গান আছে।।

কবি যেমন প্রতিদিন দেশ-মাতৃকাকে দেখেন , আমিও যেন তেমনি প্রতিদিন কবি শামসুর রাহমানকে দেখি হৃদয়ের কাছে। শামসুর রাহমান আপদমস্তক একজন আধুনিক কবি। সাথে রয়েছে দেশপ্রেম। উপরোক্ত গানটিতে কবির ঈষিকায় শব্দের যে বর্ণিল ছটা প্রেম-প্রকৃতি ও নিসর্গ ক্যানভাসে উদ্ভাসিত তা প্রকৃতই মনোহরা। আধুনিক এই কবির পেছনে বিশ্বাস গণমুখী গ্রামীণ ঐতিহ্যে। কিন্তু তাঁর কলম যেখানে সরব সেখানে কবির কবিত্ব পুরোমাত্রায় পূর্ণতা পায়। বাংলা গানের ইতিহাসে শামসুর রাহমান সংখ্যাধিক্যে না হলেও মানের পাল্লায় উৎকর্ষতা ছুঁতে পেরেছে বলেই আমার বিশ্বাস। কবিকে একজন গীতিকার হিসেবে বিচার করতে গেলে বাংলা গানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্যক তুলে ধরা প্রয়োজন। তবেই শামসুর রাহমানের স্থান ও মান নির্ধারিত হবে। সেই সূত্রেই হাজার বছরের সেই গীতকবিদের দিকে একটু ফিরে তাকানো যায়।
(সম্পূর্ণ…)

‘গানের মেহবুবা’ আশা ভোঁসলে

আশীষ চক্রবর্ত্তী | ১০ নভেম্বর ২০১০ ১২:২২ অপরাহ্ন

lata_family.jpg………
মঙ্গেশকর পরিবার
………

বড়লোকের আদরের দুলারি বাড়ি ছেড়েছে গরিবের ছেলের হাত ধরে। মেয়ের বাবা-মা সৎ, সাহসী অথচ বেকার ছেলের সঙ্গে প্রেমটাকে মেনে নিলে পালাতে হতো না। যা হোক, পালিয়ে গিয়ে বিয়ে, তারপর স্বাভাবিক নিয়মেই শুরু দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এমন জীবনের সঙ্গে মেয়েটির প্রথম পরিচয়। প্রেমকে সার্থক করতে সে জীবন হাসিমুখেই বরণ করল সে। তার প্রেরণায় শূন্যহাতে জীবনযুদ্ধে নামল ছেলেটি। অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর একসময় প্রতিষ্ঠিতও হলো। বড়লোক শ্বশুর অবশেষে কদর বুঝলেন তার। ব্যস, কাহিনীর মধুরেণ সমাপয়েত।

এমন মুখস্ত কাহিনীর অন্তত কয়েকশ ছবি হয়েছে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। আশা ভোঁসলের জীবনকাহিনীর শুরু খানিকটা একরকম হলেও বাদবাকি সবকিছু বড় বেশি অন্যরকম। প্রথমত বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের সুসময়ে ছিটেফোঁটা প্রাচুর্য দেখলেও তাঁর অকাল মৃত্যু পুরো পরিবারকেই ফেলে দেয় ভয়ঙ্কর বিপদে। জীবদ্দশায় বিপর্যয়ের পর বিপর্যয় দেখেছেন দীনানাথ। বিয়ে করেছিলেন মাত্র ২১ বছর বয়সে। স্ত্রী নর্মদার বয়স তখন ১৯। দীনানাথ তাঁকে ভালোবেসে ডাকতেন শ্রীমতি। তো শ্রীমতির এক মেয়ে হলো। মেয়ের নাম রাখা হলো লতিকা। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পরই মারা গেল ফুটফুটে মেয়েটি। সন্তান হারানোর দুঃখ সইতে না পেরে শ্রীমতিও পৃথিবীর মায়া ছাড়লেন। দীনানাথ আবার একা! স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় অবস্থা।

তবে বেশিদিন একা থাকেননি। প্রয়াত স্ত্রীর বোন সুধামতিকে বিয়ে করে একাকীত্ব ঘুচালেন। সংসারে একে একে এলো চার মেয়ে লতা, মীনা, আশা, উষা এবং ছেলে হৃদয়নাথ। মূলতঃ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী ও মঞ্চ অভিনেতা দীনানাথ পরে নাটকের গ্রুপ গড়েছেন, প্রযোজনা করেছেন মারাঠি ছবি। বলতে গেলে সবক্ষেত্রেই দেখিয়েছেন অপার সম্ভাবনার ঝলক। অথচ শেষ পর্যন্ত ছবির ব্যবসায়ের ভরাডুবি ঘরে বসালো তাঁকে। সন্তানদের, বিশেষ করে ৪ মেয়েকে গান শেখানোর প্রবল ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আশার গানের প্রতি তেমন ঝোঁক ছিল না। গানে সত্যিকারের টান ছিল বড় মেয়ে লতার। তাকে হাতে ধরেই গান শেখাচ্ছিলেন দীনানাথ। শেখাচ্ছিলেন বড় আশা নিয়ে। একদিন মেয়ে খুব বড় শিল্পী হবে, দিকে দিকে নাম ছড়াবে। খুব বড় মুখ করে কথাটা বলতেনও বন্ধুদের। কিন্তু নিজের ব্যর্থ জীবনের বোঝা বেশিদিন টানতে পারলেন না। হতাশা ভুলতে মদে আসক্ত হলেন, সেই আসক্তি মাত্র ৪২ বছর বয়সে কেড়ে নিলো দীনানাথ মঙ্গেশকরের প্রাণ।

(সম্পূর্ণ…)

নজরুলসঙ্গীতের নবজন্মে মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা

বাবু রহমান | ২৭ আগস্ট ২০১০ ৮:৪২ অপরাহ্ন

nazrul-112.jpg
নজরুল ইসলাম (২৫/৫/১৮৯৯ – ২৯/৮/১৯৭৬)

ছন্দ ও নবরসের দিক থেকে বাংলা গানের ইতিহাসে সবচে শক্তিশালী, ঋদ্ধ ও ওজঃগুণসম্পন্ন গান কাজী নজরুল ইসলামের। বিংশ শতাব্দীর ত্রিশ-চল্লিশ দশকের এমন কোন শিল্পী নেই যিনি নজরুল সঙ্গীত গাননি। বাংলা গানে প্রাক-নজরুল গীতিকবি ও সুরকার ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন ও অতুল প্রসাদ সেন। এঁরা প্রত্যেকেই এক এক জন সার্থক স্রষ্টা। প্রাগুক্ত চারজন স্রষ্টাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন নজরুল। নজরুল গুরু রবীন্দ্রনাথকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। শুধু গানের সংখ্যাধিক্যে নয়।সুরের বাঁধ ভাঙা জোয়ারে ডিস্ক, বেতার (১৯১৯), সবাক চলচ্চিত্র (১৯৩১), মঞ্চ নাটক, পত্র-পত্রিকাসহ গণমাধ্যমকে ভাসিয়ে সয়লাব করে দিয়েছিল তাঁর গান।

—————————————————————-
‘নবযুগ’ পত্রিকায় কবি তখন স্বাক্ষরযুক্ত সম্পাদকীয় লেখেন। এক সংখ্যায় লিখলেন ‘পাকিস্তান না ফাঁকিস্থান?’ আর যায় কোথায়, ভীমরুলের চাকে ঢিল ছোঁড়া ছাড়া আর কী? তরুণ এই পাকিস্তান আন্দোলনকারীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন।… আক্রমণের পর ১৯৪২ সালের মাঝামাঝি কবি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তার পিঠে সেই আঘাতের চিহ্ন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কবি বহন করছিলেন। বাংলাদেশে কবির ব্যক্তিগত সহকারী শফি চাকলাদার সেকথা অকপটে স্বীকার করেছেন। ছবি তুলে রেখেছেন, কিন্তু কাউকে দেননি।… লুম্বিনী হাসপাতালে শেকল দিয়ে বেঁধে, লোক-আড়ালে কবিকে নিঃশেষ করে দেয়া হলো।
—————————————————————-
নজরুলের শিষ্য হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন চিত্ত রায়, জগৎ ঘটক, সন্তোষ সেনগুপ্ত, দুর্গা সেন, কমল দাশগুপ্ত, রঞ্জিত রায়, গিরীণ চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে। আর এঁদের সেই সৃষ্টিকে ধরে রেখেছিলেন সে সময়ের কণ্ঠশিল্পীবৃন্দ। বিশেষ করে কে. মলিক, আঙ্গুরবালা, ইন্দুবালা, ভবানী দাস, কমলা ঝরিয়া, সত্য চৌধুরী, জগন্ময় মিত্র, বীণা চৌধুরী, কমল দাশগুপ্ত, নিতাই ঘটক, সুধীরা সেনগুপ্তা, কানন বালা, পদ্মরানী চ্যাটার্জী, বেচু দত্ত, আব্বাস উদ্দীন, দিলীপ রায়, বরোদা চরণ গুপ্ত, বিজনবালা ঘোষ দস্তিদার, মনোরঞ্জন সেন, উমাপদ ভট্টাচার্য, নীহারবালা, আব্দুল লতিফ, হরিমতী, আশ্চর্যময়ী দাসী, সরযুবালা, ধীরেন দাস, মৃণাল কান্তি ঘোষ, ধীরেন্দ্র চন্দ্র মিত্র, রথীন ঘোষ, রাধারানী দেবী, রত্নেশ্বর মুখার্জী ও সিদ্ধেশ্বর মুখার্জীসহ অনেকেই তাঁর গান গেয়ে ধন্য হয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

সংযোজন

(আমার) রবিভাব… ভাব ও অভাব

মানস চৌধুরী | ৬ জুন ২০১০ ৮:৩০ অপরাহ্ন

পূর্বকথা এবং পূর্বরাগ

“তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী…”

স্কুলে থাকাকালীন, নেহায়েৎ নিজেরই লব্ধানুশীলনে, নানান রকমের বইপত্র ইঁদুরের মতো কামড়ে কামড়ে দেখি যখন, তখন সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনীকিতাব থেকে জানতে পারি যে তিনি কৈশোরে প্রায় শ’ পাঁচেক tagore_mc.jpgরবীন্দ্রসঙ্গীত মুখস্ত করে ফেলেছিলেন। আমৃত্যু সেই দক্ষতাটা তিনি ধরে রেখেছিলেন। এই ঘটনা জেনে আমার দুটো প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। আমারই সমবয়সী দূরবর্তী একটা ছেলের অর্জিত দক্ষতা ও রবীন্দ্রপ্রেমে আমি ঈর্ষান্বিত বোধ করি। এবং দ্বিতীয়ত, একটা জিদ দেখা দিয়েছিল ঠিক একই ভাবে রবীন্দ্রপ্রেমের প্রমাণ দিতে। কিন্তু ঘন তদন্তে আবিষ্কার করা সম্ভব, অন্ততঃ এতটা কাল পর যখন অনেক খতিয়ে বিষয়টাকে দেখা যায় বলে আমার মনে হচ্ছে, ওই জিদটা আসলে এক প্রগাঢ় অহংকার এবং অহংকারটা সাংস্কৃতিক উচ্চম্মন্যতার। রবীন্দ্রনাথ সেখানে নিমিত্ত বটে, কারণও বটে। গন্তব্য যেমন, বাহনও তেমনি। এই ঘোরতর পরিস্থিতি বাংলা অঞ্চলের ইতিহাসেই প্রোথিত। কিন্তু আমি সংকল্প করেছি আমি আমার কাহিনীই আজ বলব।


গান করছেন মানস চৌধুরী

পরিস্থিতিটা আরও জটিল হয়ে গেছিল স্থানীয় এক গায়কের কারণে। তাঁর সঙ্গীতসুধা এবং উপস্থিতি আমার জন্য এক অনির্বচনীয় ফলাফল বয়ে আনত। তাঁকে গাইতে শুনলে আমার কণ্ঠনালী ফেঁপে ফেঁপে উঠত, গলা নিশপিশ করত। কোনো মঞ্চে তাঁকে উঠতে দেখলে আমার হাত-পা কেঁপে কেঁপে উঠত। তাঁর দৃষ্টিসুধা কোনোভাবে আমার উপর নিপতিত হলে, এমনকি ডাক্তার না-দেখিয়েই আমি টের পেতাম আমার নাড়ির গতি বেড়ে যেত, আসে যায় না তা সেই দৃষ্টিপাত ইচ্ছাকৃত নাকি অকস্মাৎ ইচ্ছা-নিরপেক্ষ নিপতন। তিনি কোনো কারণে গাণের কোনো চরণ আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে গাইলে আমার ইচ্ছা করত তাঁর চরণ বুকে করে রাখি, শিব যেমনটা রেখেছিলেন। যেহেতু তিনি নারী ছিলেন এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতেন, খুব জটিলভাবে আমি নিজেকে একজন গুরুত্বপূর্ণ গাইয়ে হিসেবে স্বপ্নরচনা করতে থাকি—অন্তত ততখানি যতখানি হলে আমাদের বিচরণ-এলাকায় দুজন একই পঙ্‌ক্তিতে উচ্চারিত ও বিবেচিত হই। বড় জটিল সেই কামনা। আমি তাঁকে নারী বলছি বটে, কিন্তু স্থানীয় মুরুব্বিদের বিবেচনায় তিনি বড়জোর কিশোরী ছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

কাজী নজরুল ইসলাম: এক স্বয়ম্ভর সংগীতসভা

আবদুশ শাকুর | ২ জুন ২০১০ ৬:৪০ অপরাহ্ন

nazrul21.jpg

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে (১৮৬১-১৯৪১) যদি বলি মহাবাগ্মেয়কার, কাজী নজরুল ইসলামকে (১৮৯৯-১৯৭৬) বলতে হয় মহাসংগীতকার। রবীন্দ্রনাথ যদি হন বাংলা গানের প্রাণ, নজরুল তবে বাংলা গানের মন। এভাবে প্রাণ ও মনের দুই প্রতিনিধির ‘প্রাণমন লয়ে’ বাংলা গানের দেহটি গড়ে উঠেছে বলে এ-গানের আলোচনা প্রসঙ্গে দুজনের কথাই এসে পড়ে, যেন এক অনিবার্য পরম্পরাতেই। একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে।

১৯৭৩ সালে পিজি হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পরদিন সকালে আমাকে কেবিনে ফিরিয়ে আনার পরেই আমি এপাশ-ওপাশ মাথা খুঁড়ে কর্তব্যরত ডাক্তারের কাছে প্রাণে বাঁচার মিনতি জানাচ্ছিলাম এই বলে:

‘তৃষ্ণায় মরে যাচ্ছি ডক্টর। একটুখানি হলেও পানি দিন আমার কণ্ঠে!’

জবাবে নিশ্চিন্ত ডাক্তার মৃদু হেসে বলেছিলেন:

‘দেহের জলীয় চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনানুযায়ী পানি আমি আপনার ধমনীতে দিচ্ছি, ইন্ট্রাভিনাস ইনফিউশন পদ্ধতিতে। অতএব আপনি নিশ্চিত থাকুন—আপনার কণ্ঠ পানি বিলকুল না-পেলেও প্রাণ পুরোপুরিই পাচ্ছে। সুতরাং পানির অভাবে প্রাণে মরার কোনো কারণ নেই আপনার।’

বললাম:

‘প্রাণে বাঁচলে কি হবে ডাক্তার, তৃষ্ণার জ্বালা তো মিটছে না।’

বললেন:

‘ওটা মস্তিষ্কের তৃষ্ণা-কেন্দ্র দ্বারা সৃষ্ট সংবেদন, সে বেদন মেটাতে আমরা এ-মুহূর্তে পারব না। কতক্ষণে পারব তাও নির্ভর করবে অপারেশনোত্তর অনেক অজানা ফ্যাক্টর জানার ওপর। সুতরাং যত কষ্টই হোক, আজকের মতো সে-জ্বালা আপনাকে সয়েই যেতে হবে।’

পরের দিন সে-জ্বালা প্রথম বারের মতো মেটানোর সময়ে আমার সর্বশরীরে যেন পুলকের লহর বয়ে গেল এবং হঠাৎ মনে হল—কণ্ঠ দিয়ে যে-মধু এখন যাচ্ছে এ হচ্ছে নজরুলসংগীত। আর কাল বিকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ধমনি দিয়ে যে-সুধা যাচ্ছিল সে ছিল রবীন্দ্রসংগীত। অন্য কথায়, রবীন্দ্রসংগীতের কাব্যের লীলা প্রাণের পাওনা মেটালেও মনের চাহিদা মেটানোর জন্য নজরুলসংগীতের সুরের খেলা লাগে। কারণ রবীন্দ্রসংগীত প্রাণের আরাম হলে, নজরুলসংগীত মনের ব্যায়াম। দুয়ের মধ্যেকার এই বৈষম্য একেবারে বৈজিক, বরঞ্চ বলা যায় বংশগত। বংশ বলতে বোঝাচ্ছি সংগীতবংশ—ধ্রুপদ ও খেয়ালের।

খেয়াল ধারার নজরুলসংগীতই শুধু বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধের বিষয়বস্তু, ধ্রুপদ ঘরানার রবীন্দ্রসংগীত নয়।

উনিশ শতকের বিশের দশকে কলকাতায় লেখক-গায়কদের দুটি বিখ্যাত আড্ডা ছিল। একটি মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারতী-অফিসে, ‘ভারতীর আড্ডা’, যেখানে আসতেন—অতুলপ্রসাদ সেন, দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, শিশির ভাদুড়ী, হেমেন্দ্রকুমার রায় প্রমুখ। অপরটি গজেন্দ্রচন্দ্র ঘোষের বাড়ির ‘গজেনদার আড্ডা’। এখানে আসতেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নির্মলেন্দু লাহিড়ী, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উস্তাদ কারামাতুল্লা খাঁ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, নরেন্দ্রদেব প্রমুখ। দুটি আড্ডাতেই যাতায়াত ছিল নজরুলের। (সম্পূর্ণ…)

নজরুলের হারিয়ে যাওয়া গান
“ওরে আশ্রয়হীন শান্তিবিহীন
আছে তোরও ঠাঁই আছে…”

বাবু রহমান | ২৬ মে ২০১০ ১১:১১ অপরাহ্ন

nazrul_babu.jpg

নজরুল রচনার কিয়দংশ এখনো অনাবিষ্কৃত। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তাঁর সৃষ্টির নানা দিক প্রকাশিত হয়। এরপর তা দুষ্প্রাপ্যের খাতায় নাম লেখায়। নজরুলের অবমূল্যায়ন, সাতচল্লিশের দেশবিভাগ নজরুল শিল্পী, গবেষক ও সাহিত্যিকদের হতাশ করে তুলেছিল। কবিবন্ধু কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদ এককভাবে নজরুলচর্চা শুরু করেন। বন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, কমল দাশগুপ্ত প্রমুখ ষাটের দশকের প্রথম দিকে নব উদ্যমে কাজ শুরু করেন নজরুল নিয়ে। নবজাতক প্রকাশনীর মাজহারুল ইসলাম, কবি জিয়াদ আলী, নজরুলের আত্মীয় কাজী আব্দুল সালাম এ প্রচেষ্টায় শরীক হন। ঢাকাতে নজরুল একাডেমি প্রাতিষ্ঠানিক কাজ শুরু করে। কবি আবদুল কাদির, খান মুহম্মদ মঈনুদ্দীনসহ অনেকেই ঢাকায় নতুন করে নজরুলচর্চায় নিয়োজিত হন। তাতে কবির ছড়িয়ে থাকা হারিয়ে যাওয়া অনেক কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, নাটক, চলচ্চিত্র, রেকর্ড আবিষ্কৃত হতে থাকে। সেলিনা বাহার জামান, সঙ্গীতজ্ঞ আব্দুস সাত্তার, সঙ্গীতজ্ঞ মফিজুল ইসলাম, কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ কবির হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।


গান করছেন বাবু রহমান; তবলায় আবদুল কাদের

দুই.
আমি নজরুলের ওপর কাজ করছি দীর্ঘ দিন ধরে। কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন জিনিস পাচ্ছি, তখন আনন্দে উদ্বেলিত হচ্ছি। তো সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগরে আমার এক ছাত্র নির্ঝর অধিকারী সংবাদ দিলো যে পাবনায় একটি নাটক খুঁজে পাওয়া গেছে ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, যেখানে নজরুলের কিছু গান আছে। প্রথমে আমি বিষয়টি পাত্তা দেই নি। তারপরে যে ভদ্রলোকের কাছে এই নাটকের বইটি ছিল, তাঁর সঙ্গে আমি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করি। তখন ওই ভদ্রলোককে—তাঁর নাম আবুল কাশেম, তিনি সংগীত শিল্পী—আমি বলি যে, আপনি নাটকটি পাঠিয়ে দিন ফটোকপি করে। উনি বললেন, বইটি বেশ পুরোনো, পাঠানো যাবে কিনা সন্দেহ আছে, আমি গান কয়টি পাঠিয়ে দিচ্ছি আগে।

যাই হোক পরে আমি বইটি পেয়ে গেলাম। নাটকের নাম বিদ্রোহী বাঙ্গালী। রচয়িতা শ্রীযুক্ত রমেশ গোস্বামী। পাবনার সপ্তর্ষী পাঠাগারে এটি রক্ষিত ছিল। (সম্পূর্ণ…)

শাহ আবদুল করিমের জীবনসঙ্গীত

সাইমন জাকারিয়া | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ ১১:০০ পূর্বাহ্ন

sak.jpg
শাহ আবদুল করিম (সুনামগঞ্জ ১৫/২/১৯১৬ – সিলেট ১২/১০/২০০৯)

প্রসঙ্গকথা
১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সকাল ৭ টা ৫৮ মিনিটে দেহ রেখেছেন বাংলাদেশের সুবিখ্যাত সঙ্গীতকার সাধক শিরোমনি শাহ আবদুল করিম। তিনি ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বৃহত্তর সিলেট জেলার সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে তার জন্ম গ্রহণ করেন। সঙ্গীতজীবনের প্রথম দিকে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে মালজোড়া গান গেয়ে ফিরতেন। জীবদ্দশায় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদকসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন। তাঁর গান গ্রামের সাধারণ থেকে শুরু করে শহুরে আধুনিক ও সাম্প্রতিক সঙ্গীতধারা ব্যান্ডসঙ্গীতের শিল্পীদেরও আকৃষ্ট করেছে এবং বহু শিল্পী তাঁর গান গেয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। বহু জনপ্রিয় গানের বাণীর এই মহান রচক ও সুরস্রষ্টা শাহ আবদুল করিম-এর জীবন, সঙ্গীত ও সময় নিয়ে গত বছর আমি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা শাকুর মজিদ-এর জন্য একটি প্রামাণ্যচিত্রের পাণ্ডুলিপি তৈরি করি (উল্লেখ্য, তার আগেই তিনি ভাটির পুরুষ নমে একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন)। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমার সেই পাণ্ডুলিপিটি আজও চিত্রভাষ্য অর্জন করতে পারেনি। শাহ আবদুল করিমের দেহগত অনুপস্থিতির সুযোগে আমার পাণ্ডুলিপিটির প্রয়োজনীয় অংশের বর্ণনা (ধারাভাষ্য), সাক্ষাৎকার, গান ইত্যাদি পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা হলো।

ভাটির পুরুষের সূচনাকথা

দক্ষিণ এশিয়ার একটি নদীমাতৃক রাষ্ট্র বাংলাদেশ। বিশাল সমুদ্র উপকূলবর্তী এদেশের মানুষ প্রাণশক্তিতে ভরপুর। তাঁরা নিজের দেশকে ধানের দেশ গানের দেশ ভেবেই আনন্দ খুঁজে ফেরে। তাঁদের গানপাগল কর্মনিষ্ঠ প্রাণশক্তির কাছে বারবার পরাস্ত হয় নানাবিধ প্রাকৃতিক বিপর্যয় বন্যা-খরা-ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি, এমনকি বিচিত্র রাজনৈতিক সঙ্কটকেও তারা অতিক্রম করে যায় গানের বাণী ও সুরে। ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-বিরহ ইত্যাদি মানবিক জীবনাচারকে তারা মিশিয়ে দিতে জানে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির পৌরাণিক চরিত্রের মানবীয় লীলার সঙ্গে।
—————————————————————–
নিজের এলাকার সাধক রাধারমণের গানের সঙ্গে নিজের গানের মিল-অমিল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শাহ আবদুল করিম বলেছিলেন, রাধারমণের গানের সাথে আমার গানের বেশ মিল আছে। ছোট বেলা থেকে তার গান শুনে আসছি। তাঁর অনেক তত্ত্ব গান আছে, যা হিন্দু মুসলমান সবাই পছন্দ করে। তবে, খুব গভীর তত্ত্ব নাই। তাঁর গানের মধ্যে রাধা-কৃষ্ণের ভাবধারার গান বেশি। আর আমি দেহতত্ত্বকে বেশি ভালোবেসেছি। দেহের মাঝেই সবকিছু আছে।
—————————————————————-
আকাশ, মাটি, আলো, হাওয়া, জল সর্বোপরি প্রকৃতির আবেগ নিয়ে এদেশের মানুষ প্রায় দুই হাজার বছর ধরে বাংলা গানের যে ঐতিহ্য প্রবহমাণ রেখেছিলেন তাঁদেরই একজন মহৎ হলেন ভাবসাধক শাহ আবদুল করিম। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বৃহত্তর সিলেট জেলার সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে তার জন্ম।

তিনি শুধু নিজেই গান লেখেননি তাঁর জীবদ্দশাতে তাঁকে নিয়েও রচিত হয়েছে গান:

“যুগের বাউল আব্দুল করিম
জন্ম নিলেন উজানধল।
তোমার গানে কতজন পাগল…॥”

বৃহত্তর সিলেট জেলার অনেক শিল্পীই সুগভীর ভক্তিতে নিত্যই তাঁর নামে এ ধরনের বন্দনা গেয়ে ফেরেন। (সম্পূর্ণ…)

বাংলা সিনেমার নজরুল

আহমাদ মাযহার | ২৮ আগস্ট ২০০৯ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

narod_nazrul.jpg……
ধ্রুব (১৯৩৪)ছবিতে নবীন নারদের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম
……
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন নানাদিক-অভিমুখী সৃষ্টিমাতাল এক মানুষ। ভারতবর্ষের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক চাঞ্চল্যের এমন এক যুগে তাঁর জন্ম যখন এ-অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা সবে জেগে উঠতে শুরু করেছে। ইহজাগতিকতা ও মানবিকতার বোধ, অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা, তীব্র আত্মজাগরণাকাঙ্ক্ষা ও সিসৃক্ষার উদ্দীপনা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য তখন বাংলাদেশের বেশ কিছু মানুষের মধ্যেই স্ফুরিত হয়েছিল। সকলেই হয়তো স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিভার তুঙ্গকে স্পর্শ করতে পারেন নি, জীবনের সামগ্রিক সংগ্রামের চিহ্নও হয়তো উজ্জ্বলিত হতে পারে নি তাঁদের কারও কারও
—————————————————————–
রবীন্দ্রনাথের গান সঠিক সুরে গাওয়া হয়নি এই মর্মে বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুমোদন বোর্ড গোরা (১৯৩৮) ছবিটি সম্পর্কে আপত্তি জানিয়েছিল। ফলে ছবি মুক্তির ব্যপারে সৃষ্টি হয়েছিল জটিলতা।… নজরুল কিছুমাত্র চিন্তা না করে ছবির ফিল্ম এবং প্রজেক্টর নিয়ে সোজা বিশ্বভারতীতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করেন। সব শুনে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘কী-কাণ্ড বল তো? তুমি শিখিয়েছ আমার গান আর ওরা কোন্‌ আক্কেলে তার দোষ ধরে। তোমার চেয়েও আমার গান কি তারা বেশি বুঝবে? আমার গানে মর্যাদা কি ওরা বেশি দিতে পারবে?’ নজরুল তখন রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে একটি খসড়া অনুমোদনপত্রে সই করিয়ে নিয়েছিলেন।
—————————————————————-
জীবনে। কিন্তু স্বীকার করতে হবে যে এই অঞ্চলের বেশ কিছু ব্যক্তিমানুষের মধ্যে উপর্যুক্ত মানবিক বোধসমূহের জাগরণ দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছিল। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সেইসব মানুষদের মধ্যেও অগ্রগণ্য। বাংলার রেনেসাঁসের উপর্যুক্ত প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বিপুলভাবে সমাহৃত হয়েছিল নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবনে। সামগ্রিকভাবে নজরুল সম্পর্কে এ-কথা মনে রাখলে আমাদের পক্ষে অনুভব করতে সুবিধা হবে চলচ্চিত্রের মতো নতুনতর শিল্পমাধ্যমে তাঁর যুক্ত হবার সূত্রকে। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com