সাহিত্য সংবাদ

ঢাকা লিট ফেস্ট : বাংলাদেশের জনবিচ্ছিন্ন এলিটদের উৎসব

আনিসুর রহমান | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ৯:২৫ অপরাহ্ন

লেখকরা সঙ্ঘ সমিতি করবেন, উৎসব করবেন, দোষের কিছু না| বরং তা প্রয়োজন এবং প্রাসঙ্গিক| তা নতুন কিছু নয়| ১৯২১ সালে বিলেতে আন্তর্জাতিক পেন প্রতিষ্ঠার আগেই আমাদের এখানে ১৮৯৩ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের জন্ম হয়ছিল| এমনকি ১৮৯৪ সালে আমাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সহসভাপতি নির্বাচিত হয়ছিলেন; রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন সভাপতি|

এখানে উল্লেখ্য যে, বাংলা সাহিত্যের উন্নতি সাধন ছিল পরিষদের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু প্রথমদিকে এর প্রায় সব কাজই ইংরেজিতে সম্পন্ন হতো। এমনকি সভার মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা ‘দি বেঙ্গল একাডেমি অব লিটারেচার’-এর অধিকাংশই লিপিবদ্ধ হতো ইংরেজিতে। এই অসঙ্গতি দূর করার উদ্দেশে ১৮৯৪ সালে পরিষদের নামটি ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ হিসেবে সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। এরপর থেকে পরিষদের মুখপত্রটি ‘সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা’ নামে ত্রৈমাসিক পত্রিকা হিসেবে বাংলায় প্রকাশিত হতে থাকে।

এবার আসা যাক আমাদের দেশের হাল আমলের বাস্তবতায় | বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ রকম ক্ষুদ্র জাতি এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৮টি আলাদা ভাষা রয়েছে। তবে মাত্র দুটি ভাষার পূর্ণাঙ্গ এবং কয়েকটি ভাষার আংশিক বর্ণমালা বিদ্যমান| রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও চর্চার সুযোগ না থাকায় এসব ভাষার বিকাশ যখন নানা ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত, ঠিক তখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের টাকায় এলিটতোষণ তথা কর্পোরেট পোষণ করার মাধ্যমে ঢাকা লিট ফেস্ট নামের এক বিতর্কিত উৎসব অনুষ্ঠিত হলো | (সম্পূর্ণ…)

রবিরশ্মিতে আলোকিত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়

শান্তা মারিয়া | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৪ অপরাহ্ন

Tagoreসুদূর বেইজিং শহরে যখন একদল চীনা তরুণ তরুণীর কণ্ঠে শোনা যায় রবীন্দ্রসংগীত ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী’ তখন মনটা ভরে ওঠে প্রিয় মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসার আবেগে। এরা চীনের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ‘পিকিং বিশ্বদ্যিালয়ে’র শিক্ষার্থী। তারা এখানে পড়ছেন বাংলাভাষা। চর্চা করছেন রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে। বাংলাদেশে অবস্থিত চীন দূতাবাস আয়োজিত গণমাধ্যম কর্মীদের চীনসফর কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিকের চীন সফর। সেই সুযোগেই বেইজিং ভ্রমণ। সফরসূচিতে ছিল পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাবিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত অনুষ্ঠান দেখার আমন্ত্রণ। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আমরা ক’জন সাংবাদিক গেলাম সেই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রচর্চার ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৯২১ সাল থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের চীনা ভাষায় অনুবাদ, প্রচার ও গবেষণার কাজ চলছে। আলাপ হলো বিখ্যাত রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. দং ইউচেন-এর সঙ্গে। তিনি সরাসরি বাংলা থেকে চীনা ভাষায় রবীন্দ্রনাথের রচনার একটি বিশাল অংশ অনুবাদ করেছেন। বললেন, রবীন্দ্রসাহিত্য ও বাংলাভাষার একজন অনুরাগী তিনি। (সম্পূর্ণ…)

রোহিঙ্গা নিয়ে সরকারি উদ্যোগের প্রশংসায় পেন বাংলাদেশ

সাইফ বরকতুল্লাহ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ৩:১৫ অপরাহ্ন

pen-1পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কথাসাহিত্যিক জনাব মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে ১০ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার, বিকেল তিনটায় শাহবাগস্থ বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সেমিনার কক্ষে বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতেই সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল এম. এ. কাইয়ুমের মৃত্যুতে তাঁর সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
তারপর উপস্থিত সদস্যবৃন্দ বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এই প্রসঙ্গে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের সাথে একাত্মতা ঘোষণা ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। (সম্পূর্ণ…)

এলগিনটন স্কোয়ারে কানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবি

অনন্যা শিলা শামসুদ্দিন | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১১:০৩ অপরাহ্ন

canadaকানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবিকে নিয়ে এক আয়োজন ছিলো বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর। দর্শন-সমাজ-সংস্কৃতি-সাহিত্য-শিল্পকলা-বিজ্ঞানচর্চ্চা কেন্দ্র “পাঠশালা”র দ্বিতীয় আসরে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন বাংলাদশের কবি আসাদ চৌধুরী এবং কানাডার কবি রিচার্ড গ্রিন। পূর্ব ও পশ্চিমের দুই অগ্রগন্য কবির সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং নিজের লেখা কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে আসরটি ভিন্নরকম এক ব্যঞ্জনা পায়।

এগলিনটন স্কোয়ার টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরীতে অনুষ্ঠিত আসরে শুরুতে স্মরণ করা হয় সদ্য প্রয়াত আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয়-শক্তিশালী বর্ষীয়ান কবি জন অ্যাশব্যারীকে ও অভিনন্দন জানানো হয় সাহিত্যে সদ্য নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কাজ্যুও ইশিগুরোকে। সঞ্চালক ফারহানা আজিম শিউলী জন অ্যাশব্যারী ও কাজ্যুও ইশিগুরোর সাহিত্য জীবন নিয়ে এই পর্বে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন।

মূল পর্বের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর কাব্য ভাবনা, কবির দায় ইত্যাদি তুলে ধরেন এবং তাঁর অসংখ্য সৃষ্টিসম্ভার থেকে কিছু কবিতা স্বকন্ঠে পাঠ করে শোনান। তাঁর অতি বিখ্যাত “বারবারা বিডলারকে” কবিতাটির কবীর চৌধুরী কৃত অনুবাদটি পাঠ করেন সানন্দা চক্রবর্ত্তী। কবি আসাদ চৌধুরী এবং তাঁর সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের দীর্ঘসময়ের আড্ডার কেন্দ্র – একসময়ের ঢাকার শাহবাগের “রেখায়নে”র প্রাণপুরুষ রাগিব আহসান নিউইয়র্ক থেকে স্কাইপে যোগ দিয়ে তুলে ধরেন সেই সময়কার কিছু স্মৃতিকথা। (সম্পূর্ণ…)

জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য: ৭৪-এ বঙ্গবন্ধুর আর্শীবাদপুষ্ট কবি মহাদেব সাহা

ইজাজ আহমেদ মিলন | ৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

Mahadev- ‘ আমি একটি বন্ধু খুঁজছিলাম যে আমার পিতৃশোক ভাগ করে নেবে, নেবে আমার ফুসফুস থেকে দূষিত বাতাস…/ আমি এই ঢাকা শহরের সর্বত্র, প্রেসক্লাবে, রেস্তোরাঁয়, ঘোড়দৌড়ের মাঠে এমন একজন বন্ধু খুঁজে বেড়াই যাকে আমি মৃত্যুর প্রাক্কালে উইল করে যাবো এইসব অবৈধ সম্পত্তি…/’ আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম কবি মহাদেব সাহা এভাবেই তাঁর কবিতায় একজন খাঁটি বন্ধু খুঁজে বেড়িয়েছেন। জীবনের এই সায়াহ্ণে এসেও কবি পাননি তাঁর আজন্ম বাসনার সেই প্রত্যাশিত বন্ধুর খোঁজ। যে বন্ধু কবির বাবা হারানো শোক ভাগ করে নেবে। ফুসফুস থেকে বের করে নেবে জমে থাকা দূষিত বাতাস। এ প্রসঙ্গে কবিই বলেছেন ‘ মানুষ কখনো মানুষের এতো বন্ধু হয় না। ঈশ্বরই মানুষের একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র বন্ধু। তার কাছেই সব কিছু পাওয়া যায়। তিনিই কেবল সুখ দুঃখের সমান অংশীদার। আমার দুঃখে ঈশ্বর যতো ব্যথিত হন- ততো ব্যথিত আমি নিজেও হই না। কিন্তু সবই আমার কৃতকর্মের ফল। ঈশ্বর আমার জন্য কাঁদেন। এমন কোন বন্ধু হয় না যে আমার জন্য কাঁদবে। মানুষ নিজের জন্যই কাঁদে।’ (সম্পূর্ণ…)

৭৩-এ কবি নির্মলেন্দু গুণ

ইজাজ আহমেদ মিলন | ২১ জুন ২০১৭ ৫:১২ অপরাহ্ন

goon pictur‘জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,এখন আমার সব কিছুতেই হাসি পায়/ আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি ।’ আধুনিক কাব্য সাহিত্যের দিকপাল কবি নির্মলেন্দু গুণ জন্ম এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবেই বলেছেন তার স্ববিরোধী কবিতার শেষাংশে। সত্য ও সুন্দরের উপাসক কবি গুণ তার কবিতায় যথার্থই বলেছেন। প্রত্যেকটা মানুষই জন্মের প্রয়োজনে ছোট থাকে। আর মৃত্যুর প্রয়োজনেই বড় হন। বড় হতে হতে যখন আর বড় হওয়ার জায়গা থাকে না তখনই তিনি অনিবার্য ঠিকানায় চলে যান। আর এ সব দেখে কবির বড্ড হাসি পায় যেমনটা কান্না পেয়েছিল জন্মের সময়।
আজ ২১ জুন। ছয় ফুট দীর্ঘ, উন্নত নাসিকা, রবীন্দ্রনাথের মতো শশ্রুমণ্ডিত, তীব্র-তীক্ষ্ন চোখ আজীবন ঢোলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত কবি নির্মলেন্দু গুণ ৭৩’এ- পা রাখলেন। এ কথা অস্বীকার করার কোনো জো নেই যে, কবি নির্মলেন্দু গুণই বাংলাদেশে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত কবি। কবিতার পেছনেই তিনি লেখক জীবনের প্রায় পুরো অংশই নিয়োগ করেছেন। এই কবিতাই তার ধ্যান জ্ঞান সাধনা। কবিতা গুণদাকে সব দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে। তিনি সফলতার শীর্ষে আরোহন করেছেন যৌবন শুরু হওয়ার বেশ আগেই। ১৯৬৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার বোন সোনালীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘আমার কাছে আমার কবিতা আমার চোখের মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার আত্মার মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার রক্তের মতো প্রিয়। আর কবিতাও আমাকে ভালোবাসে বলেই হয়তো ষাট দশকের যেসব কবি পূর্ববঙ্গে জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যে যদি পাঁচজনেরও নাম করতে হয় – তবে আমার নাম অপরিহার্য।’ গুণদা সারাটা জীবনই তার লেখনীতে সত্য আর সুন্দরের উপাসনা করেছেন। যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয় কিংবা জিহবা কেটে দেওয়া হয় তবুও তিনি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। নেননি কখনো। প্রবল আত্মবিশ্বাসী এ কবি চরম সত্য কথাকে যে কোনো ভর-মজলিশে অকপটে বলে যেতে পারেন। নিজের বিপক্ষে গেছে অথচ অকপটে লিখেছেনও এমন নানা সত্য কথা। যেমন – হোটেলে খেয়ে টাকা না থাকার জন্য দৌড়ে পালিয়েছেন, কলেজে হোস্টেল ম্যানেজার নির্বাচিত হয়ে টাকা চুরি করেছেন, সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

`লেখার সময় মদ্য পান নয়’–উইলিয়াম ডালরিম্পল

মুহিত হাসান | ১৯ জুন ২০১৭ ১১:২৯ অপরাহ্ন

Dalrimple-1একাধিক আখ্যানধর্মী ইতিহাস ও ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থ লিখে ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া পরিচিত নাম উইলিয়াম ডালরিম্পল। এই স্কটিশ সন্তানের লেখালেখির জগতের পুরোটা জুড়েই রয়েছে প্রাচ্যের মানুষ ও তাঁদের সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি। প্রথম প্রথম তিনি শুধু ভ্রমণকাহিনি ও রাজনৈতিক কলামই লিখতেন। সুখপাঠ্য লেখনীর কারণে সেসব বেশ জনপ্রিয়ও হয়। কিন্তু তিনি পরে বিশিষ্ট হয়ে ওঠেন ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস বিষয়ে একাধিক বইয়ের রচয়িতা হিসেবে। বিরাটাকৃতির ‘হোয়াইট মোগলস’ ও ‘দ্য লাস্ট মোগল’ গ্রন্থদ্বয় তাঁকে খ্যাতি ও পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে দেয়। এরপর ভারতবর্ষের বিচিত্র নয় চরিত্র নিয়ে লেখা তাঁর বই ‘নাইন লাইভস’ ও প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ নিয়ে লেখা বই ‘রিটার্ন অফ আ কিং’-ও বেশ সমাদর পেয়েছে। সমালোচকদের কাছ থেকেও গবেষণার গুণের জন্য প্রশংসা লাভ করেছেন তিনি।
তো কী করে উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর এইসব বৃহদাকৃতির অথচ সুপাঠ্য পুস্তকসমূহ লিখে থাকেন? তাঁর অনুরাগী পাঠকদের মনে এমন প্রশ্ন জাগা অসম্ভব নয়। সম্ভবত এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি তাঁকে প্রায়ই হতে হয় দেখে সম্প্রতি তাঁর লেখালিখির নৈমিত্তিক রুটিন নিয়ে একটি কৌতুহলোদ্দীপক প্রবন্ধ লিখেছেন ডালরিম্পল। সেখানে তিনি জানাচ্ছেন, তাঁর লেখার রুটিন মূলত দুটো। কখন কোনটা বেছে নেবেন, তা নির্ভর করছে “কাগজে কলম বসাচ্ছি কি বসাচ্ছি না তার ওপর”। প্রতি চার বা পাঁচ বছরের সময়সীমায় তিনি মাত্র একটা বইই লেখেন। সেই একটা বই লিখতে সময় লাগে এক বছর। ‘নাইন লাইভস’ লিখতে তাঁর সবচেয়ে কম সময় লেগেছিল, মাত্র নয় মাস। আর সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছিল(সবচেয়ে বেশি খাটনিও হয়েছিল) ‘ফ্রম দ্য হলি মাউন্টেন’ শীর্ষক ভ্রমণকাহিনিমূলক বইটা লিখতে, আঠারো মাস। (সম্পূর্ণ…)

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় অরুন্ধতী রায়ের নতুন উপন্যাস

মুহিত হাসান | ১৪ জুন ২০১৭ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

Author‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’– আজ থেকে বিশ বছর আগে নিজের প্রথম উপন্যাস তথা প্রথম বই গড অফ স্মল থিংকস প্রকাশ পাবার পর অরুন্ধতী রায় এরকম প্রশংসাবাণীতেই ভেসে গিয়েছিলেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে বইখানার চার লক্ষ কপি তখন বিক্রি হয়েছিল। সমালোচকদের বাহবাও জুটেছিল অফুরান। পরে অরুন্ধতী নিজের এই পয়লা উপন্যাস দিয়ে জয় করে নেন দুনিয়াখ্যাত বুকার প্রাইজ। কিন্তু কথাসাহিত্যের ক্ষেত্র থেকে তিনি যেন সরেই গিয়েছিলেন এরপর। এমন রাজকীয় অভিষেকের পর কেন তাঁর কলম থেকে বেরুচ্ছে না আরেকটা উপন্যাস–এই প্রশ্ন তাড়িয়ে ফিরেছে ভক্ত-পাঠকদেরও। অবশ্য লেখালেখি তাঁর থেমে থাকেনি, সামাজিক-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ঝাঁঝালো-তর্কপ্রবণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ-কলাম লিখেছেন প্রচুর। সেসব গদ্যলেখা এক করে বইও হয়েছে একাধিক। পাশাপাশি ঠোঁটকাটা অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে আবির্ভূতও হয়েছেন ওইসব ঘটনা-প্রসঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে।
সুখবর হলো, কথাসাহিত্যের দুনিয়ায় বিশ বছর নীরব থাকার পর গত ৬ জুন অরুন্ধতী রায় হাজির হয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস নিয়ে। গত বছরের অক্টোবরে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউজের তরফ থেকে বইটি আশু প্রকাশ্য এমন বিবৃতি আসা মাত্রই পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ ও অপেক্ষার সূত্রপাত ঘটে। আগ্রহের আগুনে আরো ঘি পড়ে যখন পেঙ্গুইনের দুই প্রতিনিধি সিমন প্রসের ও মিরু গোখলে প্রকাশিতব্য বইটি সম্পর্কে বলেছিলেন : “এই বইটি প্রকাশ করতে পারাটা একইসাথে আনন্দের ও সম্মানের। কী অবিশ্বাস্যরকমের বই এটি–একাধিক স্তর থেকে; সাম্প্রতিককালে আমাদের পড়া নিখুঁত বইগুলোর একটি। এর লেখনী অসামান্য, সাথে চরিত্রগুলোও ঔদার্য ও সহানুভূতির সাথে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে…”। তাঁরা আরো বলেছিলেন, বইটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে শব্দরাও জীবন্ত। অরুন্ধতী নিজের মন্তব্য ছিল এমন “ আমি এটা জানাতে পেরে খুশি যে উন্মাদ আত্মারা(এমনকি যাঁরা অসুস্থ তারাও) এই উপন্যাসের মাধ্যমে পৃথিবীর পথ খুঁজে পাবে, যেমন করে আমি পেয়েছি আমার প্রকাশককে।” আর তাঁর প্রকাশনা-এজেন্ট ডেভিড গুডউইনের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বাসমুখর : “একমাত্র অরুন্ধতীই এই উপন্যাসটি লিখতে পারতেন। একদম খাঁটি। এটা নির্মিত হতে লেগেছে কুড়ি বছর, এবং এই অপেক্ষা সার্থক।” (সম্পূর্ণ…)

কবি শঙ্খ ঘোষ জ্ঞানপীঠ সম্মানে ভূষিত হলেন

রিমি মুৎসুদ্দি | ৩০ এপ্রিল ২০১৭ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

shankho‘এই তো জানু পেতে বসেছি, পশ্চিমে
আজ বসন্তের শূন্য হাত-
ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও
আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।’
‘বাবরের প্রার্থনা’ কবিতায় কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ চিরন্তন বাঙালির ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’ আর্তি তুলে ধরেছেন। বাংলা কবিতায় সমাজ ও সেই সমাজের মানুষের কথা ফুটে উঠেছে শ্রদ্ধেয় কবির কলমে। ভারতীয় সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জ্ঞানপীঠ কবির হাতে তুলে দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী। রাজধানী নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট লাইব্রেরি হলে সদ্য অনুষ্ঠিত জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মাননীয় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘“রবীন্দ্র সাহিত্যের একনিষ্ঠ সাধক, গবেষক, বাংলা ভাষার অধ্যাপক কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ ভারতীয় সাহিত্যের বহুমুখী প্রতিভার প্রতিনিধি।” বাংলা সাহিত্যে ও বাংলা কবিতায় কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষের অবদান এইভাবেই বর্ণনা করলেন মাননীয় রাষ্ট্রপতি। তিনি আরো বলেন, “শঙ্খ ঘোষের কবিতা সমস্ত বিতর্কবাদের উর্ধে দেশকালের কথা বলে। সময়ের ছাপ রেখে যায়।”
বাবরের প্রার্থনা কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ ১৯৭৭ সালে সাহিত্য একাডেমী সম্মানে ভূষিত হন। কন্নড় ভাষার নাটক ‘তালেডানা’-র বাংলা অনুবাদ ‘রক্তকল্যাণ’ করে তিনি ১৯৯৯ সালে পুনরায় সাহিত্য একাডেমী সম্মানে ভূষিত হন। ২০১১ সালে কবিকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। (সম্পূর্ণ…)

ম্যান বুকার ও ওবামা দম্পতির পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকদের কাড়াকাড়ি

মুহিত হাসান | ১৭ মার্চ ২০১৭ ১:২২ অপরাহ্ন

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত যাঁরা
চীনের কমিউনিজম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বয়ান, আফ্রিকার পটভূমিতে রবিন হুড ঘরানার একটি গল্পের পুনর্কথন অথবা বিভক্ত জেরুজালেমে বেড়ে ওঠার গল্প– এ বছরের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত উপন্যাসগুলোর বিষয়বৈচিত্র্য দেখবার মতো বটে। সম্প্রতি বুকার কতৃর্পক্ষের প্রকাশ করা একটি ‘লংলিস্টে’ পাওয়া গেছে মোট বারো দেশের তেরোটি উপন্যাসের নাম। মোট আটটি উপন্যাসই অবশ্য মনোনীত হয়েছে ইউরোপ থেকে। এর বাইরে ইজরায়েলের দুটি এবং চীন, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার একটি করে উপন্যাস স্থান পেয়েছে উপন্যাসের জন্য প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়।
&NCS_modified=20161221133400&MaxW=640&MaxH=427&AR-161229871আলবেনিয়ার সুবিখ্যাত কথাকার ইসমাইল কাদারে, যিনি কিনা আগে তাঁর তাবৎ সাহিত্যকর্মের জন্য ২০০৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিলেন(ওই বছরই আদতে এই মূল্যবান পুরস্কার প্রদানের শুরু)– এ বছর ফের মনোনীত হয়েছেন তাঁর নতুন উপন্যাস The Traitor’s Niche-এর জন্য। যার মূল চরিত্র অটোমান সাম্রজ্যের রাজদরবারের একজন দূত তথা বাহক, যার কাজ হলো সুলতানের ধৃত শত্রুদের শিরচ্ছেদের পর তাঁদের কাটা মন্ডু বহন করে নিয়ে চলা। (সম্পূর্ণ…)

সৃষ্টিশীলতাই উপমহাদেশের অভিন্নতা

রিমি মুৎসুদ্দি | ৩ মার্চ ২০১৭ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

Rimi-2সার্ক সাহিত্য উৎসবে বাংলাদেশের জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সাথে আলাপচারিতায় উঠে এল উপমহাদেশীয়তা, South Asianism, পোস্টমডার্নিজম, মেটামডার্নিজম আরও বহু অজানা তথ্য। কবির নিজস্ব ভাষায়, “যাবতীয় দানবিক, বিমানবিক ও আণবিক প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে প্রতিটি মানুষকে তার সৃষ্টিশীল মানবিকতা ও মনোময়তার দিকে ফিরিয়ে নেবার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। তারই একটি অভিব্যক্তি এই সার্ক সাহিত্য সম্মেলন। সৃষ্টিশীলতাই উপমহাদেশের অভিন্নতা।”

ভারত-পাক রাজনৈতিক টানাপড়েনে পাকিস্তান অংশগ্রহণ না করতে পারলেও এইবছর সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে সংখ্যাধিক্য লক্ষ করার মত। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের ২৬ জন কবি-সাহিত্যিক। এই দলে যেমন আছেন ষাটের দশকের প্রথিতযশা কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ, তেমনি আছেন ২০০০-এর প্রথম দিকের নবীন কবি ও লেখকেরা। বাংলাদেশের জননন্দিত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদা, বরেণ্য নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কবি মাহবুব সাদিক, কবি বিমল গুহ, কবি ফারুক মাহমুদ, কবি রুবানা হক, তরুণ কবি আশরাফ জুয়েল, কবি জাব্বার আল নাইম সহ এবারে মোট ২৬ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন বাংলাদেশ থেকে। ভারতের বাইরে এটিই বৃহত্তম প্রতিনিধি দল। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ট্রাম্পের জামানায় অরওয়েলের পুনরুত্থান

মুহিত হাসান | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

trump_orwell-620x412এই বছরের জানুয়ারি মাসে ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে চলেছিলেন, তখন গোটা দুনিয়ার মানুষই উদগ্রীব হয়ে নানান বিদঘুটে ও ভয়ানক কাণ্ডকারখানা ঘটবার শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। যথারীতি সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়নি। যেসব উদ্ভট অনুমান বা ভয়ানক গুজব বিতর্কিত ট্রাম্পকে ঘিরে বয়ে চলেছিল, সেসবের অনেকগুলোই তিনি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাস্তবে পরিণত করেছেন।

তবে একটি অনুমান সম্ভবত কেউই করেননি, তা হলো ট্রাম্পের কারণে চৌষট্টি বছর পূর্বে প্রকাশিত ইংরেজ লেখক জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ বা নাইন্টিন এইট্টি ফোর উপন্যাসটির বিক্রি হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে বৃদ্ধি পাবে। অরওয়েলের এই সুবিখ্যাত চিরায়ত ডিসটোপিয়ান উপন্যাসে একটি সর্বগ্রাসী স্বৈরাচারী দেশের আখ্যান বর্ণিত হয়েছিল, যেখানে কিনা সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ‘বিগ ব্রাদার’-এর দ্বারা আর সর্বত্রই ঝুলছে সাবধানবাণী সম্বলিত পোস্টার ‘বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ’। ফলত বাকস্বাধীনতা সেখানে বিসর্জিত ও আপত্তিকর এক বস্তু হিসেবে গণ্য হয়। উপন্যাসটিতে বর্ণিত ওই পরিস্থিতির সাথে ট্রাম্পের ‘স্বপ্নের’(!) কর্তৃত্বপরায়ণ, বৈষম্যবাদী ও নজরদারিময় মার্কিন মুলুকের যে খুব মিল রয়েছে, সে তো বলাই বাহুল্য। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com