সাহিত্য সংবাদ

বিন লাদেন যে-বইগুলো পড়েছিলেন

বিপাশা চক্রবর্তী | ২২ মার্চ ২০১৮ ৫:০৬ অপরাহ্ন

পৃথিবীর মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কখনো কখনো যেমন সহজে বোঝা যায়, কখনো আবার তা অতি দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। বিপরীতমুখী এই দুই উদাহরণ পৃথিবীতে কম নয়। বিষয়টি যদি বই সংগ্রহের বেলায় ঘটে তাহলে কিভাবে তা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে? বিশ্বে মহান ব্যক্তিত্বদের যেমন বই সংগ্রহ ও পড়ার নেশা রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অনেক সাধারণ মানুষের মাঝেও এই অভ্যাস আসন গেড়ে আছে। এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা কিছু নেই্। কিন্তু যদি কোন কুখ্যাত মানুষের এমন অভ্যাস থাকে তাহলেই আমাদের ভ্রু কুঁচকে যায় বা মস্তিস্কের কোণে ধাক্কা লাগে। যদি সেই কুখ্যাত ব্যক্তিটির নাম হয় ওসামা বিন-লাদেন তা হলে কি অনুভূতি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ কম্পাউন্ডে সিআইএ-্এর নেতৃত্বে ‘অপারেশন নেপচুন স্পার’ পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে আল-কায়েদা প্রধান লাদেনকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা সবার জানা থাকলেও সেই অপারেশনের বিস্তারিত তথ্য আজও সকলের কাছে উন্মুক্ত নয়। তবে সম্প্রতি মার্কিন সরকার সে দেশের তথ্য প্রকাশের আইন অনুসরণ করে লাদেনের ব্যাপারে কিস্তি আকারে তথ্য প্রকাশ করা শুরু করে। এরই উদ্যোগ হিসেবে সম্প্রতি মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) লাদেনের বুক শেলফ নামে তার পঠিত বিভিন্ন বই, চিঠি, ম্যাগাজিন, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি তাদের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছে। সেই প্রকাশিত তথ্যভান্ডার থেকেই চমক জাগানো এক তথ্য জনগণের সামনে আসে, আর তা হলো বিন লাদেনের বইয়ের প্রতি আগ্রহ ও সংগ্রহের বৈচিত্র্য।

আমেরিকার স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক ওয়াল্টার মোসলে যেমন বলেছিলেন, একজন ব্যক্তি কেমন তা তার বুক শেল্ফ দেখলেই ধারণা পাওয়া যায়। মোসলে হয়তো লাদেনকে ভেবে এই কথাটি বলেন নি। তবে বই পছন্দের ধরণ দেখে অবশ্যই ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যগত আচরণ অনেকটা অনুমান করা যায়। (সম্পূর্ণ…)

বইমেলায় লেখকদের নতুন বইয়ের খবর-২

মুহিত হাসান | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

২০১৮-র অমর একুশে বইমেলা ইতিমধ্যেই পার করে এসেছে পনেরো দিন। ঢাকার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া বাংলাদেশের লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের এই প্রাণের উৎসব চলবে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়েই। এই উপলক্ষে কয়েকজন স্বনামখ্যাত লেখকের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম তাঁদের নতুন বইয়ের হালহদিশ। প্রথম কিস্তির পর আজ দ্বিতীয় কিস্তিতে রইলো আরো আটজন বিশিষ্ট সাহিত্যিকের নতুন বইয়ের খবর। তাঁদের বক্তব্য গ্রন্থনা করেছেন মুহিত হাসান।

border=0

মুহম্মদ নূরুল হুদা
কবি-প্রাবন্ধিক

এবারের বইমেলায় আমার বেশ ক’টি বই বেরুচ্ছে বা বেরুবার অপেক্ষায় রয়েছে। বইমেলার শুরুতেই য়ারোয়া বুক কর্নার থেকে প্রকাশ পেয়েছে প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে নিয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও কবিতার সংকলন দুটি লাল পাখি ও সব্যসাচী । বাংলাদেশ রাইটার্স ফোরাম সংগঠনের প্রকশনা সংস্থা লেখক প্রকাশ থেকে বেরিয়েছে কবিতা লেখার নিয়মকানুন ও কলাকৌশল সংক্রান্ত প্রবন্ধগ্রন্থ কবিতা কৌশল। অন্যধারা থেকে আরেকটি প্রবন্ধের বই এসেছে, এর শিরোনাম কবিতার ভবিষ্যৎ। কবি নজরুল বিষয়ে আমার নতুন পুরনো বেশ কটি প্রবন্ধ এক করে নজরুলের শ্রেষ্ঠত্ব শীর্ষক একটি সংকলন ছেপেছে বাংলাপ্রকাশ। নজরুল বিষয়ে আমার সামগ্রিক ভাবনা একত্রে এই বইটিতে পাওয়া যাবে বলা চলে।
প্রবন্ধ বা গদ্যের বই ছাড়াও এবার একাধিক কাব্যগ্রন্থও প্রকাশ পেয়েছে ও পাবে। অন্বয় প্রকাশন থেকে হুদা-কথা নামে একটি কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছে। আর পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স থেকে বেরিয়েছে একটি বিশেষ ধরনের কাব্যগ্রন্থ, স্বাধীন জাতির স্বাধীন পিতা। এটি মূলত ৭১টি গীতিকবিতার সমন্বয়ে গঠিত এক গীতিমহাকাব্য, এমন ধারার কাব্যগ্রন্থ অভিনবই বলা যায়। এখানে বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম, মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর উত্থান ও তাঁর হাত ধরে জাতির স্বাধীন হবার আখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। বইটির মুদ্রণমানও খুব চমৎকার হয়েছে। পাঞ্জেরি থেকে আরো বেরিয়েছে আমার অনুবাদে কবি ইউনুস এমরের কবিতার সংকলন ইউনুস এমরের কবিতা। শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে আরেকটি কবিতার বই আসার কথা রয়েছে, সেটি মূলত গত এক বছরে আমার লেখা প্রধান কবিতাগুলোর সংকলন। শিরোনাম, আমিও রোহিঙ্গা শিশু। এখনও বাজারে না এলেও আশা করি দু-একদিনের মধ্যেই বইটি পাওয়া যাবে বইমেলায়। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের কবিতা উৎসব

আনিসুর রহমান | ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন

আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন বিধুভূষণ মজুমদার। তিনি অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বাংলঅ ব্যাকরন পড়াতেন খুব চমৎকারভাবে। তিনি একদিন কথা প্রসঙ্গে শ্রেণীকক্ষে জানালেন দেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান জাতীয় কবিতা উৎসব মঞ্চে ‘দেশ এখন বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে আছে’ এই লেখা সম্বলিত স্কেচ এঁকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তখন অনুষ্ঠানের একটা পর্বের সভাপতিত্ব করছিলেন। তিনি আরও বিশদ করে জানালেন, এই বিশ্ববেহায়া শব্দটি দিয়ে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদকে নির্দেশ করেছেন। তখন কল্পনার স্বাধীনতা নিয়ে ভাবতে থাকলাম একজন চিত্রশিল্পী কতটা সাহসী আর বিদ্রোহী হলে দেশের স্বৈরাচার রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববেহায়া বলতে পারেন। ইনি দেখছি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতো দুর্দান্ত সাহসী। সেই সাহসী মানুষটি হাসপাতালে নেবার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জাতীয় কবিতা উৎস কবি শামসুর রাহমানের নেতৃত্বে ১৯৮৭ সালে শুরু হয়েছিল। স্বৈরতন্ত্রের জাঁতাকলে রাজনীতির সকল মঞ্চ, বত্তৃতা আর বিবিৃতি যখন নিষিদ্ধ, তখন কবিতা পড়তে তো আর বাঁধা নেই। কবিতার মঞ্চেও বাঁধা দেবে, সে হিম্মত কি বিশ্ববেহায়াদের থাকে?
১৯৮৭ সালে শুরু হওয়া সেই জাতীয় কবিতা উৎসবে সারাদেশ থেকে কবিরা আসবেন, নাম নিবন্ধন করবেন, মঞ্চে উঠবেন, কবিতা পড়বেন। সেই একই পুরনো কাঠামো ধরে আমাদের জাতীয় কবিতা উৎসবে চলছে, তিন দশক ধরে। যদিও উৎসবে নানা দেশের কবিরা অংশগ্রহণ করায় উৎসবটি হাল আমলে আন্তর্জাতিক মাত্রা লাভ করেছে। (সম্পূর্ণ…)

বইমেলা ২০১৮: লেখকদের নতুন বইয়ের খবর-১

মুহিত হাসান | ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১:৩১ পূর্বাহ্ন

কড়া নাড়ছে ২০১৮-র অমর একুশে বইমেলা। আজ পয়লা ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে শুরু হচ্ছে এই বাংলাদেশের লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের এই প্রাণের উৎসব। এই উপলক্ষে কয়েকজন স্বনামখ্যাত লেখকের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম তাদের নতুন বইয়ের হালহদিশ। আজ প্রথম কিস্তিতে রইলো আটজন বিশিষ্ট সাহিত্যিকের নতুন বইয়ের খবর। তাদের বক্তব্য গ্রন্থনা করেছেন প্রাবন্ধিক মুহিত হাসান। বি.স

border=0

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রাবন্ধিক

অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষ্যে আমার দুটি নতুন প্রবন্ধগ্রন্থ ও আমার প্রবন্ধসমগ্রের অষ্টম খণ্ড বেরুবার কথা। নতুন প্রবন্ধগ্রন্থ দুটির একটি ইতিমধ্যেই অবশ্য প্রকাশিত। বইটির নাম পিতার হুকুম, ছেপেছে প্রথমা প্রকাশন। এখানে এগারোটি প্রবন্ধ ও আমার মা’কে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার সংকলিত হয়েছে। এই এগারোটি প্রবন্ধের মধ্যে একটি বিষয়ের ঐক্যসূত্র আছে, সেটি হলো পিতৃতান্ত্রিকতা। তাই এমন নামকরণ। এই পিতৃতান্ত্রিকতার অর্গল ও তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দুর্গম পথের কথা প্রবন্ধগুলোয় বলতে চেয়েছি।
প্রকাশিতব্য প্রবন্ধগ্রন্থটি হলো অগ্রগতির শর্তপূরণ। এটি বেরুবে বিদ্যাপ্রকাশ থেকে। এই বইতে আমাদের রাষ্ট্র-সমাজে যে উন্নয়নের ডামাডোলে মানবিক-আত্মিক অগ্রগতির পথটুকু রুদ্ধ হয়ে যেতে বসেছে, তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চেয়েছি। দেশে বাহ্যিক উন্নতি ঘটছে নানাক্ষেত্রে, কিন্তু সেই তুলনায় কোনো সত্যিকার অন্তর্গত অগ্রগতি ঘটছে না। বইটির মূলভাব বলতে এই-ই। (সম্পূর্ণ…)

পেন বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠিত

সাহেদ মন্তাজ | ১৯ december ২০১৭ ২:৩৭ অপরাহ্ন

PENঅনুষ্ঠিত হয়ে গেল পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সভা। কথাসাহিত্যিক, পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০.৩০টায় রাজধানীর অডিট ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে আলোচনা শুরু হয়।

বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১. বর্তমান সভাপতি ফরিদা হোসেন মেয়াদোত্তীর্ণের পরও দীর্ঘকাল অন্যায্যভাবে পদ ধরে রাখা এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হওয়ায়, পেন বাংলাদেশের নিজস্ব কনস্টিটিউশন না থাকায় পেন ইন্টারন্যাশন্যাল কনস্টিটিউশন-এর ১৬(সি) ধারা ‘ইন দা ইভেন্ট অব ইন্যাবিলিটি অব অ্যাক্ট’ মোতাবেক তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়। ২. সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদ আহমদকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ৩. নতুন আবেদকারীদের সদস্যপদ অনুমোদন করা হয়। পরে ইসি সভা সমাপ্ত হয়। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকা লিট ফেস্ট : বাংলাদেশের জনবিচ্ছিন্ন এলিটদের উৎসব

আনিসুর রহমান | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ৯:২৫ অপরাহ্ন

লেখকরা সঙ্ঘ সমিতি করবেন, উৎসব করবেন, দোষের কিছু না| বরং তা প্রয়োজন এবং প্রাসঙ্গিক| তা নতুন কিছু নয়| ১৯২১ সালে বিলেতে আন্তর্জাতিক পেন প্রতিষ্ঠার আগেই আমাদের এখানে ১৮৯৩ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের জন্ম হয়ছিল| এমনকি ১৮৯৪ সালে আমাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সহসভাপতি নির্বাচিত হয়ছিলেন; রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন সভাপতি|

এখানে উল্লেখ্য যে, বাংলা সাহিত্যের উন্নতি সাধন ছিল পরিষদের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু প্রথমদিকে এর প্রায় সব কাজই ইংরেজিতে সম্পন্ন হতো। এমনকি সভার মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা ‘দি বেঙ্গল একাডেমি অব লিটারেচার’-এর অধিকাংশই লিপিবদ্ধ হতো ইংরেজিতে। এই অসঙ্গতি দূর করার উদ্দেশে ১৮৯৪ সালে পরিষদের নামটি ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ হিসেবে সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। এরপর থেকে পরিষদের মুখপত্রটি ‘সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা’ নামে ত্রৈমাসিক পত্রিকা হিসেবে বাংলায় প্রকাশিত হতে থাকে।

এবার আসা যাক আমাদের দেশের হাল আমলের বাস্তবতায় | বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ রকম ক্ষুদ্র জাতি এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৮টি আলাদা ভাষা রয়েছে। তবে মাত্র দুটি ভাষার পূর্ণাঙ্গ এবং কয়েকটি ভাষার আংশিক বর্ণমালা বিদ্যমান| রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও চর্চার সুযোগ না থাকায় এসব ভাষার বিকাশ যখন নানা ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত, ঠিক তখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের টাকায় এলিটতোষণ তথা কর্পোরেট পোষণ করার মাধ্যমে ঢাকা লিট ফেস্ট নামের এক বিতর্কিত উৎসব অনুষ্ঠিত হলো | (সম্পূর্ণ…)

রবিরশ্মিতে আলোকিত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়

শান্তা মারিয়া | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৪ অপরাহ্ন

Tagoreসুদূর বেইজিং শহরে যখন একদল চীনা তরুণ তরুণীর কণ্ঠে শোনা যায় রবীন্দ্রসংগীত ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী’ তখন মনটা ভরে ওঠে প্রিয় মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসার আবেগে। এরা চীনের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ‘পিকিং বিশ্বদ্যিালয়ে’র শিক্ষার্থী। তারা এখানে পড়ছেন বাংলাভাষা। চর্চা করছেন রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে। বাংলাদেশে অবস্থিত চীন দূতাবাস আয়োজিত গণমাধ্যম কর্মীদের চীনসফর কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিকের চীন সফর। সেই সুযোগেই বেইজিং ভ্রমণ। সফরসূচিতে ছিল পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাবিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত অনুষ্ঠান দেখার আমন্ত্রণ। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আমরা ক’জন সাংবাদিক গেলাম সেই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রচর্চার ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৯২১ সাল থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের চীনা ভাষায় অনুবাদ, প্রচার ও গবেষণার কাজ চলছে। আলাপ হলো বিখ্যাত রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. দং ইউচেন-এর সঙ্গে। তিনি সরাসরি বাংলা থেকে চীনা ভাষায় রবীন্দ্রনাথের রচনার একটি বিশাল অংশ অনুবাদ করেছেন। বললেন, রবীন্দ্রসাহিত্য ও বাংলাভাষার একজন অনুরাগী তিনি। (সম্পূর্ণ…)

রোহিঙ্গা নিয়ে সরকারি উদ্যোগের প্রশংসায় পেন বাংলাদেশ

সাইফ বরকতুল্লাহ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ৩:১৫ অপরাহ্ন

pen-1পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কথাসাহিত্যিক জনাব মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে ১০ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার, বিকেল তিনটায় শাহবাগস্থ বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সেমিনার কক্ষে বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতেই সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল এম. এ. কাইয়ুমের মৃত্যুতে তাঁর সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
তারপর উপস্থিত সদস্যবৃন্দ বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এই প্রসঙ্গে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের সাথে একাত্মতা ঘোষণা ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। (সম্পূর্ণ…)

এলগিনটন স্কোয়ারে কানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবি

অনন্যা শিলা শামসুদ্দিন | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১১:০৩ অপরাহ্ন

canadaকানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবিকে নিয়ে এক আয়োজন ছিলো বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর। দর্শন-সমাজ-সংস্কৃতি-সাহিত্য-শিল্পকলা-বিজ্ঞানচর্চ্চা কেন্দ্র “পাঠশালা”র দ্বিতীয় আসরে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন বাংলাদশের কবি আসাদ চৌধুরী এবং কানাডার কবি রিচার্ড গ্রিন। পূর্ব ও পশ্চিমের দুই অগ্রগন্য কবির সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং নিজের লেখা কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে আসরটি ভিন্নরকম এক ব্যঞ্জনা পায়।

এগলিনটন স্কোয়ার টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরীতে অনুষ্ঠিত আসরে শুরুতে স্মরণ করা হয় সদ্য প্রয়াত আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয়-শক্তিশালী বর্ষীয়ান কবি জন অ্যাশব্যারীকে ও অভিনন্দন জানানো হয় সাহিত্যে সদ্য নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কাজ্যুও ইশিগুরোকে। সঞ্চালক ফারহানা আজিম শিউলী জন অ্যাশব্যারী ও কাজ্যুও ইশিগুরোর সাহিত্য জীবন নিয়ে এই পর্বে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন।

মূল পর্বের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর কাব্য ভাবনা, কবির দায় ইত্যাদি তুলে ধরেন এবং তাঁর অসংখ্য সৃষ্টিসম্ভার থেকে কিছু কবিতা স্বকন্ঠে পাঠ করে শোনান। তাঁর অতি বিখ্যাত “বারবারা বিডলারকে” কবিতাটির কবীর চৌধুরী কৃত অনুবাদটি পাঠ করেন সানন্দা চক্রবর্ত্তী। কবি আসাদ চৌধুরী এবং তাঁর সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের দীর্ঘসময়ের আড্ডার কেন্দ্র – একসময়ের ঢাকার শাহবাগের “রেখায়নে”র প্রাণপুরুষ রাগিব আহসান নিউইয়র্ক থেকে স্কাইপে যোগ দিয়ে তুলে ধরেন সেই সময়কার কিছু স্মৃতিকথা। (সম্পূর্ণ…)

জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য: ৭৪-এ বঙ্গবন্ধুর আর্শীবাদপুষ্ট কবি মহাদেব সাহা

ইজাজ আহমেদ মিলন | ৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

Mahadev- ‘ আমি একটি বন্ধু খুঁজছিলাম যে আমার পিতৃশোক ভাগ করে নেবে, নেবে আমার ফুসফুস থেকে দূষিত বাতাস…/ আমি এই ঢাকা শহরের সর্বত্র, প্রেসক্লাবে, রেস্তোরাঁয়, ঘোড়দৌড়ের মাঠে এমন একজন বন্ধু খুঁজে বেড়াই যাকে আমি মৃত্যুর প্রাক্কালে উইল করে যাবো এইসব অবৈধ সম্পত্তি…/’ আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম কবি মহাদেব সাহা এভাবেই তাঁর কবিতায় একজন খাঁটি বন্ধু খুঁজে বেড়িয়েছেন। জীবনের এই সায়াহ্ণে এসেও কবি পাননি তাঁর আজন্ম বাসনার সেই প্রত্যাশিত বন্ধুর খোঁজ। যে বন্ধু কবির বাবা হারানো শোক ভাগ করে নেবে। ফুসফুস থেকে বের করে নেবে জমে থাকা দূষিত বাতাস। এ প্রসঙ্গে কবিই বলেছেন ‘ মানুষ কখনো মানুষের এতো বন্ধু হয় না। ঈশ্বরই মানুষের একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র বন্ধু। তার কাছেই সব কিছু পাওয়া যায়। তিনিই কেবল সুখ দুঃখের সমান অংশীদার। আমার দুঃখে ঈশ্বর যতো ব্যথিত হন- ততো ব্যথিত আমি নিজেও হই না। কিন্তু সবই আমার কৃতকর্মের ফল। ঈশ্বর আমার জন্য কাঁদেন। এমন কোন বন্ধু হয় না যে আমার জন্য কাঁদবে। মানুষ নিজের জন্যই কাঁদে।’ (সম্পূর্ণ…)

৭৩-এ কবি নির্মলেন্দু গুণ

ইজাজ আহমেদ মিলন | ২১ জুন ২০১৭ ৫:১২ অপরাহ্ন

goon pictur‘জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,এখন আমার সব কিছুতেই হাসি পায়/ আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি ।’ আধুনিক কাব্য সাহিত্যের দিকপাল কবি নির্মলেন্দু গুণ জন্ম এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবেই বলেছেন তার স্ববিরোধী কবিতার শেষাংশে। সত্য ও সুন্দরের উপাসক কবি গুণ তার কবিতায় যথার্থই বলেছেন। প্রত্যেকটা মানুষই জন্মের প্রয়োজনে ছোট থাকে। আর মৃত্যুর প্রয়োজনেই বড় হন। বড় হতে হতে যখন আর বড় হওয়ার জায়গা থাকে না তখনই তিনি অনিবার্য ঠিকানায় চলে যান। আর এ সব দেখে কবির বড্ড হাসি পায় যেমনটা কান্না পেয়েছিল জন্মের সময়।
আজ ২১ জুন। ছয় ফুট দীর্ঘ, উন্নত নাসিকা, রবীন্দ্রনাথের মতো শশ্রুমণ্ডিত, তীব্র-তীক্ষ্ন চোখ আজীবন ঢোলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত কবি নির্মলেন্দু গুণ ৭৩’এ- পা রাখলেন। এ কথা অস্বীকার করার কোনো জো নেই যে, কবি নির্মলেন্দু গুণই বাংলাদেশে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত কবি। কবিতার পেছনেই তিনি লেখক জীবনের প্রায় পুরো অংশই নিয়োগ করেছেন। এই কবিতাই তার ধ্যান জ্ঞান সাধনা। কবিতা গুণদাকে সব দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে। তিনি সফলতার শীর্ষে আরোহন করেছেন যৌবন শুরু হওয়ার বেশ আগেই। ১৯৬৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার বোন সোনালীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘আমার কাছে আমার কবিতা আমার চোখের মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার আত্মার মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার রক্তের মতো প্রিয়। আর কবিতাও আমাকে ভালোবাসে বলেই হয়তো ষাট দশকের যেসব কবি পূর্ববঙ্গে জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যে যদি পাঁচজনেরও নাম করতে হয় – তবে আমার নাম অপরিহার্য।’ গুণদা সারাটা জীবনই তার লেখনীতে সত্য আর সুন্দরের উপাসনা করেছেন। যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয় কিংবা জিহবা কেটে দেওয়া হয় তবুও তিনি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। নেননি কখনো। প্রবল আত্মবিশ্বাসী এ কবি চরম সত্য কথাকে যে কোনো ভর-মজলিশে অকপটে বলে যেতে পারেন। নিজের বিপক্ষে গেছে অথচ অকপটে লিখেছেনও এমন নানা সত্য কথা। যেমন – হোটেলে খেয়ে টাকা না থাকার জন্য দৌড়ে পালিয়েছেন, কলেজে হোস্টেল ম্যানেজার নির্বাচিত হয়ে টাকা চুরি করেছেন, সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

`লেখার সময় মদ্য পান নয়’–উইলিয়াম ডালরিম্পল

মুহিত হাসান | ১৯ জুন ২০১৭ ১১:২৯ অপরাহ্ন

Dalrimple-1একাধিক আখ্যানধর্মী ইতিহাস ও ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থ লিখে ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া পরিচিত নাম উইলিয়াম ডালরিম্পল। এই স্কটিশ সন্তানের লেখালেখির জগতের পুরোটা জুড়েই রয়েছে প্রাচ্যের মানুষ ও তাঁদের সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি। প্রথম প্রথম তিনি শুধু ভ্রমণকাহিনি ও রাজনৈতিক কলামই লিখতেন। সুখপাঠ্য লেখনীর কারণে সেসব বেশ জনপ্রিয়ও হয়। কিন্তু তিনি পরে বিশিষ্ট হয়ে ওঠেন ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস বিষয়ে একাধিক বইয়ের রচয়িতা হিসেবে। বিরাটাকৃতির ‘হোয়াইট মোগলস’ ও ‘দ্য লাস্ট মোগল’ গ্রন্থদ্বয় তাঁকে খ্যাতি ও পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে দেয়। এরপর ভারতবর্ষের বিচিত্র নয় চরিত্র নিয়ে লেখা তাঁর বই ‘নাইন লাইভস’ ও প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ নিয়ে লেখা বই ‘রিটার্ন অফ আ কিং’-ও বেশ সমাদর পেয়েছে। সমালোচকদের কাছ থেকেও গবেষণার গুণের জন্য প্রশংসা লাভ করেছেন তিনি।
তো কী করে উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর এইসব বৃহদাকৃতির অথচ সুপাঠ্য পুস্তকসমূহ লিখে থাকেন? তাঁর অনুরাগী পাঠকদের মনে এমন প্রশ্ন জাগা অসম্ভব নয়। সম্ভবত এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি তাঁকে প্রায়ই হতে হয় দেখে সম্প্রতি তাঁর লেখালিখির নৈমিত্তিক রুটিন নিয়ে একটি কৌতুহলোদ্দীপক প্রবন্ধ লিখেছেন ডালরিম্পল। সেখানে তিনি জানাচ্ছেন, তাঁর লেখার রুটিন মূলত দুটো। কখন কোনটা বেছে নেবেন, তা নির্ভর করছে “কাগজে কলম বসাচ্ছি কি বসাচ্ছি না তার ওপর”। প্রতি চার বা পাঁচ বছরের সময়সীমায় তিনি মাত্র একটা বইই লেখেন। সেই একটা বই লিখতে সময় লাগে এক বছর। ‘নাইন লাইভস’ লিখতে তাঁর সবচেয়ে কম সময় লেগেছিল, মাত্র নয় মাস। আর সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছিল(সবচেয়ে বেশি খাটনিও হয়েছিল) ‘ফ্রম দ্য হলি মাউন্টেন’ শীর্ষক ভ্রমণকাহিনিমূলক বইটা লিখতে, আঠারো মাস। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com