গ্যালারী চিত্রক

পিতৃপুরুষ ও উত্তরসাধকদের শিল্প

মইনুদ্দীন খালেদ | ৫ এপ্রিল ২০১৭ ৮:০৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের আধুনিক চিত্র ঐতিহ্যের কাল-গণনা কখন থেকে শুরু হতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে নিশ্চিতভাবে বলা যায় তা হবে অবিভক্ত বাংলার শিল্পচর্চার ইতিহাসের ১৯৩০-এর দশক থেকে। এ দশকের শেষে জয়নুল আবেদিন জলরংয়ের ভূদৃশ্য এঁকে সর্বভারতীয় আয়োজনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করেন। জয়নুলের বিষয় ছিল তখনকার পূর্ববঙ্গ, আজকের বাংলাদেশের নদীতীরবর্তী মনোহর প্রকৃতি। এই ছিল নিখিল ভারতের শিল্পচর্চার ব্যাপ্ত প্রেক্ষাপটে স্বাতন্ত্র্যের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পূর্ববঙ্গজ শিল্পের আবির্ভাব।

গত শতকের তিরিশের দশক থেকে এই নবীন শতক অবধি কাল বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের চারুশিল্পের আধুনিকতা পঁচাত্তর বছর বয়সী। জয়নুল সর্বাগ্রগণ্য, আমাদের শিল্পচর্চার পিতৃপুরুষ। এ উপমহাদেশের শিল্পচর্চাও তার হাতে বিশেষ বাঁক নিয়েছে। তাই শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিবেচনায় নয়, মহাভারতেরও তিনি অন্যতম ঋত্বিক; নিরীক্ষা-ধর্মিতার দাবিতে যুগপুরুষ।

তিরিশের দশকের ক্রান্তিকালে কলিকাতাকেন্দ্রিক চর্চায় মেধাবী উত্থান ঘটে সফিউদ্দিন আহমেদের। তার ছাপচিত্রে বিশেষ সূক্ষ্ণদর্শিতা পরিকীর্ণ হয় উডকাটে। চল্লিশের দশকের দুঃসহ অগ্নিগর্ভ সময়ে কালের বৈশিষ্ট্য ডাগর ভাষায় জানান দিয়ে সেই চারুমঞ্চে আবির্ভূত হন কামরুল হাসান।

জয়নুল, কামরুল ও সফিউদ্দিন–এই তিন পিতৃপুরুষ রচনা করেছেন বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পচর্চার ভিত। তারপর পঞ্চাশের দশকের সারথিরা নানা প্রান্তে পৌঁছেছেন শিল্পের সেই রথে। একজন মোহাম্মাদ কিবরিয়া, দশকের হিসেবে ওই সারথিদের সমকালিন হলেও বিমূর্ত ধারায় ধ্যান করে ফলালেন নতুন ফসল। বস্তুত বাংলাদেশে যে বিমূর্ত শৈলীর দর্শণীয় বিকাশ ঘটেছে এ শিল্পীই তার আদি পুরোহিত। ওই তিন পিতৃপুরুষ আর এক বিমূর্ত শৈলীর অগ্রনায়ক আর সাত জন উত্তরসাধক আমিনুল ইসলাম, মুর্তজা বশীর, আব্দুর রাজ্জাক, রশিদ চৌধুরী, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, রফিকুন নবী ও মনিরুল ইসলামসহ এগার জন শিল্পীর কাজ নিয়ে দেশের স্বনামধন্য প্রদর্শনশালা ‘গ্যালারী চিত্রক’ আয়োজন করেছে ‘প্রদর্শনী- ২০১৭’। নির্বাচিত শিল্পীদের শিল্পকর্মগুলো এ দেশের চিত্রসাধনার রূপরেখা অনুধাবনে শিল্পরসিকদের মনের অনুভূতিকে নতুন করে সজীবতা দেবে। আজও আমরা আমাদের আধুনিক শিল্পের স্থায়ী জাদুঘর বা সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে পারিনি। এ কারণেও চিত্রক-এর আয়োজন বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। গুরুশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের অরিজিনাল বা আদত রূপ প্রত্যক্ষ না করলে শিল্পপ্রিয় মানুষের তৃষ্ণা কি মেটে!

জয়নুল আবেদিন
border=0শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আছেন ছাত্রজীবন থেকে শুরু শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শিল্পসাক্ষী নিয়ে। জয়নুলে আবছায়া নেই, আছে অভূতপূর্ব স্পষ্টতা। জোর তার রেখায় আর বলিষ্ঠ গড়নের জ্যামিতিতে। চর্চার কেন্দ্র তার প্রধানত মানুষ। মানুষের দেহ শিল্পাচার্যের সাধনার প্রধান লক্ষ্য। দেহের বাঁক-ভঙ্গি বোঝার জন্য কলিকাতার সরকারি আর্ট স্কুলের ছাত্রজীবন থেকেই যে ছিল তার গভীরতর অভিনিবেশ তা ড্রইংগুলো দেখলে সহজেই অনুমেয় হয়ে ওঠে। ছাপাই ছবির দক্ষতার সাক্ষী দিচ্ছে তার ‘মা ও শিশু’ নামের উডকাট প্রিন্ট। আছে একটা দুর্ভিক্ষ-চিত্র। এই চিত্রমালাই ভারতশিল্পে নতুন মুক্তি এনেছে; বিষয় বিবেচনা ও শিল্পভাষার নিরীক্ষা, উভয় ক্ষেত্রেই। দুর্ভিক্ষপীড়িত হাড্ডিসার মানুষ আঁকা মানে শুধু মানুষটি আঁকা নয়; বিপন্ন মানবতাকে দ্রষ্টব্য করে তোলা। (সম্পূর্ণ…)

আসেম আনসারীর একক প্রদর্শনী : চিত্রের কাব্য ভ্রমণ

অলাত এহ্সান | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

asem-ansari-1.jpgচৈনিক কবি লি পো চাঁদের মোহনীতায় এতটাই আকৃষ্ট ছিলেন যে, এক চাঁদনী রাতে ঝিলের জলে নৌকা ভাসালেন চাঁদ দেখার জন্য। একসময় তাঁর খেয়াল হলো ঝিলের স্বচ্ছ জলেও আরেক চাঁদ দেখা যাচ্ছে যা আকাশের চাঁদের মতোই আকর্ষণীয় এবং তিনি ইচ্ছে করলেই এই চাঁদটা ধরতে পারেন। লি পো সেই চাঁদ ধরতে গিয়েই জলে ডুবে মারা যান। ‘চাঁদে পাওয়া’ বিষয়টা মুটোমুটি এই। সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কবিদের ভেতর এমন কথা বেশি প্রচলিত। যখন কিনা কাব্যের ঘোর তৈরি হয় তখন একে বলেন ‘চান্দে পাওয়া মানুষ’। অর্থাৎ ভাবই কবিকে তাড়িত করে কবিতা লেখার জন্য।

চাঁদের প্রতি যার আকর্ষণ আত্মিক, মাঘের এই শিশির ঝরা রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখা থেকে তাকে কোনোভাবেই নিবৃত করা যাবে না। তখন আমাদের মনে পড়ে জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘আট বছর আগের একদিন’র লাইলগুলো—‘শোনা গেল লাশকাটা ঘরে/ নিয়ে গেছে তারে;/ কাল রাতে- ফাল্গুনের রাতের আঁধারে/ যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ/ মরিবার হলো তার সাধ’। চিত্রকর্মেও এই বিষয়টা পাওয়া যায় আসেম আনসারীর কাজে। গত ১৫—৩১ জানুয়ারি, রাজধানীর ধানমণ্ডির ৬ নাম্বার রোডের ৪ নাম্বার বাড়ির ‘গ্যালারী চিত্রক’-এ হয়ে গেল তার চতুর্থ একক চিত্র প্রদর্শনী। ‘Less is more’ শিরোনামের ১৬ দিনব্যাপী এই চিত্র প্রদর্শনী। মাঘের সন্ধ্যার লগ্নে বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত চিত্র শিল্পী মনিরুল ইসলাম।
৩টি জল রং এবং ৩১টি মিশ্র মাধ্যমে আঁকা চিত্রকর্ম স্থান পায় প্রদর্শনীতে। এগুলো সেই ২০১৩ থেকে শুরু করে ’১৫-এর শেষ অবধি, বিভিন্ন সময়ে এঁকেছেন শিল্পী। এক-একটি চিত্রে শিল্পীর আঁকার প্রতি যত্ন ও অনুভূতির অতল বোঝা যায়। দীর্ঘ বিরতির পর প্রদর্শনীর মতোই জনাব আনসারী যেন মাটির গভীরে ফিরতে চেয়েছেন ছবিতে। তার ছবির বিষয়বস্তুর দিকে দৃষ্টি দিলেই তা বোঝা যায়। (সম্পূর্ণ…)

রফিকুন নবীর ড্রইং প্রদর্শনী ২০১০

| ১ জানুয়ারি ২০১১ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

Drawing-6.JPG
ড্রইং ৬, কাগজে চারকোল, ৫৪ x ৭৯ সেমি, ২০১০

ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক-এ ডিসেম্বরের ৩ থেকে ২০ পর্যন্ত শিল্পী রফিকুন নবীর ড্রইং প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কাইয়ুম চৌধুরী। এটি ছিল শিল্পীর নবম একক চিত্রপ্রদর্শনী।

Drawing-18.JPG
ড্রইং ১৬, কাগজে জলরঙ, ৫৫ x ৩৯ সেমি

রফিকুন নবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস-এর ড্রইঙ ও পেইন্টিং বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের পরিচালক। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট হিসাবে কাজ করছেন। গ্যালারী চিত্রকের সৌজন্যে প্রদর্শনীর ২৭টি ছবি আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারিতে উপস্থাপিত হলো।

প্রদর্শনী উপলক্ষে রফিকুন নবীর ভাষ্য: (সম্পূর্ণ…)

সফিউদ্দীন আহমেদের ছাপচিত্র

সৈয়দ আজিজুল হক | ৬ december ২০১০ ২:৩৫ পূর্বাহ্ন

10.jpg
মেলার পথে, উড এনগ্রেভিং, ১৯৪৭

বাংলাদেশের আধুনিক ছাপচিত্রের জনক শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ তাঁর জীবনব্যাপী সাধনার দ্বারা আমাদের ছাপচিত্র জগৎকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছেন। ছাপচিত্রের অনেকগুলো মাধ্যমকে তিনি ব্যাপক ও গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সমৃদ্ধ করেছেন। এসব মাধ্যমের মধ্যে রয়েছে: উড এনগ্রেভিং, ড্রাই পয়েন্ট, এচিং, অ্যাকুয়াটিন্ট, কপার এনগ্রেভিং প্রভৃতি।

safiuddin-ahmed.jpg………
সফিউদ্দীন আহমেদ; জন্ম. কলকাতা ১৯২২
……..
কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ১৯৩৬-৪২ কালপর্বে স্নাতক সমমানের ছ-বছরের শিক্ষা কোর্সে তিনি ছিলেন ফাইন আর্টসের ছাত্র; তারপর ১৯৪৪-৪৬ পর্বে শিক্ষকতার কোর্সে তিনি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন ছাপচিত্র। মুকুল দে, রমেন চক্রবর্তী প্রমুখ শিল্পী ভারতের ছাপচিত্রকে বিশ শতকের ত্রিশের দশকে যে উন্নত শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেন তা সফিউদ্দীন আহমেদকে আকৃষ্ট করে। তিনিও এ-বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণসহ তাঁর শিক্ষকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারতীয় ছাপচিত্রকে পৌঁছে দেন শিল্পের উন্নত মহিমায়। ফলে সমগ্র ভারতের আধুনিক ছাপচিত্রের অগ্রণী শিল্পীদের তালিকায় তাঁর নামও অনিবার্যভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে।


সফিউদ্দীন আহমেদের ছাপচিত্র
(বড় আকারে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।)

(সম্পূর্ণ…)

শাহাবুদ্দিনের একক চিত্রপ্রদর্শনী, ২০০৯

| ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

10-horse-a.jpg
ঘোড়া, ক্যানভাসে তেলরঙ, ৮১ x ১৪২ সেমি, ২০০৯

ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক-এ (রাস্তা ৪, বাড়ি ২১) ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী শাহাবুদ্দিনের একক চিত্রপ্রদর্শনী। এটি শিল্পীর ২৭তম একক প্রদর্শনী। এর আগে দেশে ১৯৯৫ ও ১৯৯৭ সালে শিল্পাঙ্গন কনটেম্পরারি আর্ট গ্যালারিতে শিল্পীর দুটি একক প্রদর্শনী হয়েছিল। এবারের প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী একে খন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিল্পী জয়নুলের সহধর্মীনী জাহানারা আবেদীন।

shahabuddin-ahmed.jpg…….
শাহাবুদ্দিন,জন্ম. ঢাকা ১৯৫০
…….
শাহাবুদ্দিন ১৯৭১ সালে আর্ট কলেজে থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৪ সাল থেকে প্যারিসে প্রবাস করছেন।শিল্পীর ‘Shahabuddin 2009’ নামের এ প্রদর্শনী চলবে ৯ অক্টোবর ২০০৯ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পযর্ন্ত। গ্যালারী চিত্রকের সৌজন্যে প্রদর্শনীর ২৬টি ছবি আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারিতে উপস্থাপিত হলো। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরেও আর্টস আকাইভে আগ্রহী দর্শক প্রদর্শনীটি দেখতে পাবেন।

20-freedom-fighter.jpg
মুক্তিযোদ্ধা, ক্যানভাসে তেলরঙ, ৪৩ x ২৫৯ সেমি, ২০০৯

চিত্রপ্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশিত ছবিপুস্তিকায় শিল্প-সমালোচক অধ্যাপক নিসার হোসেন শাহাবুদ্দিন সম্পর্কে যা লিখেছেন তা নিচে যুক্ত হলো: (সম্পূর্ণ…)

জয়নুলের আদি জলচিত্র: একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী

সৈয়দ আজিজুল হক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ৪:৩৪ অপরাহ্ন

ফেব্রুয়ারির ১৯ থেকে ২৮ পর্যন্ত শিল্পী জয়নুল আবেদিনের প্রথম পর্যায়ের ৫০টি ছবির একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় ধানমণ্ডির গ্যালারি চিত্রক-এ। কিছু রেখাচিত্র ও অধিকাংশ জলরং-এ আঁকা ছবির বেশির ভাগই জয়নুলের ছাত্রজীবনে আঁকা। ময়মনসিংহের বহ্মপুত্র নদ, কলকাতা ও সাঁওতাল পরগণা দুমকার জনজীবন উঠে এসেছে এসব ছবিতে। কীভাবে সংগ্রাহক ছবি সংগ্রহ করেছেন তা থেকে শুরু করে এ সব ছবির নানান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন লেখক। আগ্রহীদের জন্য প্রদর্শনীর ৫০টি ছবি আটর্স-এর স্লাইড শোতে সংরক্ষিত হলো।

zainul-page-grey.jpg
জয়নুল আবেদিন (১৯১৪ – ১৯৭৫)

জয়নুল আবেদিনের আদি জলরং চিত্রের এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী। দাউদ ফারহান নামের একজন জয়নুল-অনুরাগী দীর্ঘকাল যাবৎ সযত্নে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন জয়নুলের যেসব চিত্রকর্ম তাই নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এ প্রদর্শনী। দ্বিতীয়ত, এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, অল্প কয়েকটি বাদ দিলে প্রদর্শনীর অধিকাংশ চিত্রই জয়নুল আবেদিনের ছাত্রজীবনে (১৯৩২-৩৮) আঁকা। এর বাইরে ১৯৩০, ১৯৩১, ১৯৩৯, ১৯৪০, ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের কিছু চিত্রও এতে আছে। সব মিলে ১৯৩০-৪৬ কালপর্বের মোট পঞ্চাশটি চিত্রকর্মের এ প্রদর্শনী শিল্পানুরাগী মহলের জন্য এক গভীর আনন্দদায়ক ঘটনা।

z40.jpg

কেননা ১৯৪৩এর দুর্ভিক্ষ চিত্রমালা বাদ দিলে এই কালপর্বের (১৯৩০-৪৬) অনেক চিত্রই এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অনুদ্ঘাটিত। যেসব চিত্রের ছবি বইয়ে ছাপা অবস্থায় দেখা যায়, তার মধ্যে আছে : ‘শম্ভুগঞ্জ’ (কালিকলমের স্কেচ : ১৯৩৩), ‘হাঁস’ (জলরং : ১৯৩৩), ‘ফসল মাড়াই’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘বনানী – দুমকা’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘পল্লিদৃশ্য’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘ঘোড়ার মুখ’ (পেনসিল-তেলরং : ১৯৩৪), ‘বাইসন – জু স্টাডি’ (জলরং : ১৯৩৫), ‘মজুর’ (পেনসিল-স্কেচ : ১৯৩৫) প্রভৃতি। এছাড়া ১৯৩৮এ ব্রহ্মপুত্র নদ সংক্রান্ত ছটি জলরং চিত্রের জন্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্ট কর্তৃক গোল্ড মেডেল প্রাপ্তির সংবাদ আমরা জানি। কিন্তু ওইসব চিত্র আমরা দেখতে পাই না। তবে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যে প্রদর্শনী ঢাকায় আয়োজিত হয়েছিল, তাতে জয়নুলের এ পর্বের প্রচুর চিত্রকর্মের সঙ্গে আমরা পরিচিত হতে পেরেছি। তবু একথা স্বীকার করতেই হবে, জয়নুলের ছাত্রজীবন ও কলকাতা পর্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অজানা দিক এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে উদ্ঘাটিত হল। বিশেষত, আমরা এর আগ পর্যন্ত জয়নুলের চিত্রকর্মের আদি যে নিদর্শন পাই তা ১৯৩৩এ আঁকা। কিন্তু এই প্রদর্শনীতে ১৯৩০, ১৯৩১ ও ১৯৩২ সালের চিত্রও রয়েছে। অর্থাৎ কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের চিত্রকর্মও আমরা এ প্রদর্শনীতে পাচ্ছি। সেজন্য এ প্রদর্শনীটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (সম্পূর্ণ…)

শহিদ কবীরের একক চিত্রপ্রদর্শনী, ২০০৮

| ৯ এপ্রিল ২০০৮ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

01-love-small-2.jpg…….
ভালোবাসা, বোর্ডে এগ টেম্পারা, ৪৬ x ৯২ সেমি
…….
ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক-এ (রাস্তা ৪, বাড়ি ২১) ২৯ মার্চ ২০০৮ থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী শহিদ কবীরের একক চিত্রপ্রদর্শনী। এটি শিল্পীর ১২তম একক প্রদর্শনী। এর আগে দেশে ২০০১ সালে গ্যালারী চিত্রকেই তার একক প্রদর্শনী হয়েছিল। এবারের প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থপতি সামসুল ওয়ারেস। প্রদর্শনীর কোনো নাম দেননি শিল্পী। জানালেন নাম দিতে ইচ্ছে করে নাই তাই তিনি নাম দেন নাই। তবে যদি একান্তই নাম দিতে হতো তাহলে দিতেন ‌’‌ও আমার দেশের মাটি’।

প্রদর্শিত ছবি থেকে
ছবি বড় সাইজে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।

শহিদ কবীরের জন্ম ১৯৪৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে শিল্পশিক্ষা শেষে ওই একই প্রতিষ্ঠানে ১৯৬৯ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে স্পেনের মাদ্রিদে ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট

sk3.jpg
বিশেষ ভঙ্গিতে শহিদ কবীর

হিসেবে কাজ শুরু করেন। তারপর থেকে সেখানেই আছেন । বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন ছাড়াও ১৯৮৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদ থেকে carmen arozamena পুরস্কার পান। বিভিন্ন দেশে তাঁর ছবির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত তিনি টেম্পারা মাধ্যমে কাজ করেন। (সম্পূর্ণ…)

৬ শিল্পীর ‘জড়-জীবন’

| ১ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

q-5.jpg
ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক-এ (রাস্তা ৪, বাড়ি ২১) ২৭ অক্টোবর ২০০৭ থেকে শুরু হয়েছে ৬ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীর স্টিল-লাইফ প্রদর্শনী ‘জড়-জীবন’ (An Exhibition of Still-life by six painters 2007)। শিল্পীরা হলেন সফিউদ্দীন আহমেদ, মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাইয়ুম চৌধুরী, হাশেম খান, রফিকুন নবী ও মনিরুল ইসলাম। মোট ৩৬টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ১০ নভেম্বর ২০০৭ পর্যন্ত।

গ্যালারী চিত্রক তাদের এ প্রদর্শনীর ছবি আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারীতে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরেও আর্টস আকাইভে আগ্রহী দর্শক প্রদর্শনীটি দেখতে পাবেন। শিল্পকর্মের ছবি তুলেছেন দুলাল রায়।


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com