ভ্রমণ

সিডনির পথে পথে (৭)

আবু সুফিয়ান | ২ অক্টোবর ২০১১ ২:২৩ পূর্বাহ্ন

fwp1.jpg
ফেদারডেল পার্কের সামনে পুরো দলবলসহ লেখক।

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫ | সিডনির পথে পথে ৬

(গত সংখ্যার পর)
বন্ধের দিন ছাড়া ফ্যামিলি ট্যুর হয় না। ৬ মার্চ রবিবার। ছুটির দিন। এদিন প্ল্যান হলো সবাই ফেদারডেল ওয়াইল্ড পার্কে (Featherdale wild park) যাবো। পৃথিবীর যেখানেই যাই, চিড়িয়াখানা বিষয়ে আমার বিশেষ আগ্রহ আছে। দেখার চেষ্টা করি। সিডনির চিড়িয়াখানা কোথায় বা কেমন এ বিষয়ে কেউ পরিষ্কার ধারণা দিতে পারলো না। কাকুকে জিজ্ঞেস করলাম, পার্কটা কেমন? কী কী আছে?

উনি বললেন, গেলেই দেখতে পাবে।

বিদেশে ‘পার্ক’ জাতীয় জায়গাগুলো খুবই ঠাণ্ডাপ্রবণ হয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় এখন সামার চলছে। তবু অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সতর্কতা স্বরূপ জ্যাকেট নিয়ে নিলাম। সাথে পানির বোতল।

fwp6.jpg…….
ক্যাঙ্গারুর সাথে সাবৃনা।
…….
এই দেশে আইন কঠোর। গাড়িতে ঠাসাঠাসি করে বসার উপায় নেই। ‘ফাইন’ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে এই আইনটা চালু করা গেলে ভালো হতো। দুষ্টের দল সোজা হয়ে যেতো। কিন্তু ঘুষখোর আর হারামখোরদের কারণে সেটা হবার উপায় নেই।
আমাদের দুই গাড়ি রওয়ানা হলো ফেদারডেল ওয়াইল্ড পার্কে। বড় গাড়িতে কাকু-চাচি, সাবৃনা-শ্যারন এবং নানা উঠেছে। আমি তন্ময়ের সাথে ওর হল্ডেন কমোডর কারে।

এখানে থেকে ফেদারডেল ওয়াইল্ড পার্ক যেতে কত সময় লাগবে সেটা আর জিজ্ঞেসা করলাম না। সিডনির প্রায় যে কোনো গন্তব্যের সময় দূরত্ব-ই পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিটের ড্রাইভ। (সম্পূর্ণ…)

সুন্দরবন: এক সবুজ বস্ত্রখণ্ড! (২)

নূরুল আনোয়ার | ৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৭:১৯ অপরাহ্ন

কিস্তি ১

(গত কিস্তির পর)

DSC00953.jpgআগেই বলেছি সুন্দরবন অপূর্ব সুন্দর। কিন্তু বৃহত্তর চট্টগ্রামের মত বৈচিত্র্য নেই। নদী আর বন এ দুয়ের সমন্বয়ে সুন্দরবন। সিডরের আগে সুন্দরবন কী রকম ছিল আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। সবুজের ঘন অরণ্য দেখে আমার মনে হয়েছে সুন্দরবন কোনো কালে কোনো অশুভ শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়নি। নদীর দু’পাশে বেশ কিছু গাছ মরে আছে। আমি অনুমান করেছিলাম এগুলো সিডর দ্বারা আক্রান্ত। পরে শুনেছি গাছে মরক লেগেছে। কারণ হিসেবে অনেকে মন্তব্য করলেন নদীর পানিতে লবণের ভাগ বেড়ে যাওয়ায় এগুলো মরতে বসেছে।

DSC00840.jpgবাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বই-পুস্তকে আমরা এ কথাটি হামেশা পড়ে আসছি। সুন্দরবন গিয়ে আমি টের পেতে থাকলাম নদী কত প্রকার ও কী কী। আমরা খুলনা শহরের পাশের ভৈরব নদে ভেসে ভেসে রূপসা এসেছিলাম। তারপর পশুর হয়ে শ্যালা নদী। শ্যালা নদী পেছনে ফেলে গেলাম হরিণটানা। তারও পরে দুধমুখী এবং সুবতী হয়ে পৌঁছলাম কচিখালিতে। কচিখালিটি একেবারে সাগরের মোহনায়। এখানে যখন এলাম তখন সন্ধে সাতটা বাজে। বাবুল সাহেব আমাকে জানিয়েছিলেন, সন্ধের আগে পৌঁছতে পারলে আমাদের কচিখালি খালে নিয়ে যাবেন। সেখানে প্রচুর হরিণ দেখা যাবে। কিন্তু সে আশা আমাদের মাঠে মারা গেল। (সম্পূর্ণ…)

ডেকান অডিসি (২)

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ৩১ আগস্ট ২০১১ ২:২৭ অপরাহ্ন

কিস্তি ১

(গত কিস্তির পর)
সত্যর দোকানে পৌঁছে জানা গেল, বাবু মোপেড চড়ে রেল স্টেশ্যনে গেছেন কারো টিকিট কিনতে। এসেও গেল সে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে। ইয়েস স্যর, শ্যূট। সত্যর তাড়া রয়েছে বুঝে আমি ঝোলা থেকে ম্যাপটা বের করে মেলে ধরলাম টেবিলের ওপর। বল্লাম, আমি মোটামুটি রুট যা বুঝেছি, আমরা এখান থেকে পশ্চিমে যাব ব্যাঙালোর, ওখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে পরবর্তী স্টপ মাইসোর, ওখান থেকে সোজা দক্ষিণে বন্দিপুর, মুড়ুমালাই বনপথে উডাগামন্ডলম্ গিয়ে উঠব। সেখান থেকে একই পথে না ফিরে উটি পাহাড় থেকে দক্ষিণ-পুব পথে নেমে ওয়েলিংটন, কুনূর, কৈম্বাটর, কোডাইকানাল পেরিয়ে আবার উত্তরমুখো ট্র্যাভেল করে কারুর, নামাক্কাল, সালেম, ধর্মপুরী হয়ে ব্যাঙালোরের রাস্তায় পড়ে আবার ভেল্লোরমুখী লাস্ট লেগ অব দ্য ট্রিপ। এই তো? এখন বল, কীভাবে যাব? তার দরদস্তুর সব ঠিক কর। সব বলে রেখেছি, সত্য হেসে বলে, ইউ আর এন ঈজি কাস্টমার! আপকা ওহ্ যো ফ্রেন্ড হ্যায় না, কাসেম সাব, কাল আয়ে থে সাউথ সার্কিট ট্যূর কি খাবার লেনে কি লিয়ে। ও মাই গড, হি ওয়ান্টেড টু ইনস্পেক্ট দ্য ভিইক্‌ল আই উড লেট হিম ইউজ ফার্স্ট। সৌ আই শোউড হিম। বাট হি ওয়জ নট টু বি স্যটিসফাইড। হি ওয়ান্টেড এন এয়ারকন্ডিশন্ড কার, অর এট লিস্ট ফিটেড উইথ ফ্যান্‌স, নিউ টায়ার্‌জ এন্ড অল। আই সেইড, স্যরি স্যর। ইউ হ্যাভ টু ফ্যগগেট এবাউট দ্য সাদার্ন ট্রিপ দিস টাইম। নৌ ওয়ান ইন ভেল্লোর ক্যান গিভ ইউ দ্য ভিইক্‌ল অব ইওর চয়েজ। সত্য মুচকি হাসল। অগত্যা আমিও।

মোদি নামের ইয়াংম্যান তার নিজের গাড়ি চালিয়ে আমাদের বেড়াতে নিয়ে যাবে। পরদিন সকালে ন’টার দিকে হোটেল থেকে আমাদের তুলবে। হাজার-বারোশ’ কিলোমিটার পথ তিন-চার দিনে ট্র্যাভেল করে ফিরব। হাদিয়া তিন হাজার রুপি। পনেরোশ’ দিয়ে রশিদ নিলাম। বাকিটা ফিরে এসে হবে। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৬)

আবু সুফিয়ান | ২২ আগস্ট ২০১১ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫

(গত সংখ্যার পর)

63.jpg
পেছনে সিডনি অপেরা হাউস, পার্ক হায়াত হোটেল সংলগ্ন কাঠের পাটাতনে লেখক

হুট করে আবার বৃষ্টি নেমে গেলো। দুজনের কারো সাথে ছাতা নেই। একটা দোকানের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির গতি ধীর। কখন থামবে কে জানে! (সম্পূর্ণ…)

সুন্দরবন: এক সবুজ বস্ত্রখণ্ড!

নূরুল আনোয়ার | ৭ আগস্ট ২০১১ ৯:২২ অপরাহ্ন

সুন্দরবন নামটি শুনে আসছিলাম ছোটকাল থেকে। প্রথম সুন্দরবন সম্পর্কে পরিচয়টা পাই যখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। ভূগোল বিষয়টা আমার ক্লাসে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন আমি সুন্দরবনের সঙ্গে পরিচিত হই। আমার শিক্ষক নূরুল ইসলাম সাহেব ভূগোল পড়াতেন। তিনি কোনদিন সুন্দরবন যাননি। কিন্তু তিনি সুন্দরবন সম্পর্কে আমাদের এমন ধারণা দিতেন মনে হত তাঁকে নিয়মিত ওখানে যেতে হয় এবং সবকিছু তাঁর নখদর্পণে।

DSC00874-kochi-khali-theke-.jpg………
কচিখালিতে নিরাপত্তা রক্ষী আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে নৌকায় পর্যটকবৃন্দ।
……..
ওখানে বিশাল বিশাল বাঘ বাস করে। হরিণ খেয়ে তারা বেঁচে থাকে। তবে তাদের প্রিয় খাবার নরমাংস। বন তো নিরাপদ নয়ই, নদীও বিপজ্জনক। কারণ ডাঙায় বাঘ জলে কুমির। সুতরাং মনুষ্য স্বাধীনতা নেই বললেই চলে। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা কুমিরের খপ্পরে পড়ে। আবার বনে কাঠ কাটতে গিয়ে, গোলপাতা আহরণ করতে গিয়ে এবং মৌচাকের মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা বাঘের ভোগের সামগ্রীতে পরিণত হয়। এমন একটা ভয়ঙ্কর জায়গার নাম কেন সুন্দরবন হল অনেকদিন আমার মাথায় সান্ধাতে চায়নি। কিন্তু ইসলাম স্যারের চাপের কারণে ওখানকার কিছু গাছপালার নাম মুখস্ত করতে হয়েছিল। সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, গরান, গোলপাতা এধরনের আরও কিছুর নাম আমাদের পরীক্ষার খাতায় লিখতে হয়েছিল।

আমার মনে পড়ে আমরা এসএসসি পরীক্ষা পাশ করে কলেজে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম। তখন কলেজে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে খুব একটা কড়াকড়ি ছিল না। ভর্তি-ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের কলেজের শিক্ষকেরা কিছু মৌখিক পরীক্ষা জিজ্ঞেস করতেন মাত্র। আমরা ভর্তি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলাম। আমার এক সহপাঠী আবদুল জব্বার। সে এখন চন্দনাইশ উপজেলার চেয়ারম্যান। তাকে একজন পরীক্ষক ভূগোল থেকে প্রশ্ন করেছিলেন, সুন্দরী কী?

সে জবাব দিয়েছিল, সুন্দরী মানে রূপসী নারী।

পরীক্ষক পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় পাওয়া যায়? (সম্পূর্ণ…)

ডেকান অডিসি

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২২ জুলাই ২০১১ ৫:৩৩ অপরাহ্ন


তামিলনাড়ুর ভেলোরে ক্রিস্টিয়ান মেডিক্যাল কলেজের মূল ভবন

সেই ছেলেবেলায় ভূগোল বইয়ে পড়েছি, ভারতবর্ষের দক্ষিণ অংশ দাক্ষিণাত্য–ইংরেজিতে ‘দ্য ডেকান প্ল্যাটৌ’ নামে পরিচিত। ইতিহাসে দাক্ষিণাত্যের বীর টিপু সুলতান, শিবাজিরা বারবার আপন আপন মহিমায় বীরত্ব আর স্বাধীনতার মন্ত্র ও স্বপ্ন নিজ নিজ অনুসারীদের মধ্যে চারিয়ে দিয়েছেন। সেই দাক্ষিণাত্য–হালে যাকে আমরা তেলেঙ্গানা বলে জানছি, সেখানে ঘুরতে যাবার বাসনা তো সুপ্ত ছিলই, যেমন অপূর্ণ রয়েছে ভারতের ডেজার্ট সার্কিটে ভ্রমণের ঈপ্সা এখনো… । যে কাজের উপলক্ষ্যে যাওয়া হল, তার একটু ব্যাকগ্রাউন্ড সংক্ষেপে বাখান করি শুরুতে।

wdek_1.jpg………
শিশু হাসপাতালে বিছানায় রুবাই
………
আমাদের মেয়ে রুবাই যে একটি কানে কোন কারণে কম শোনে, সেটা বিশেষজ্ঞ ডা. আফজাল বুঝতে পেরেছিলেন যখন ওর বয়স পাঁচ বছর। রুবি এবং আমিও তার আগে জানতে পারিনি, কেন ওর কথাবার্তা একটু গার্বল্ড শুনতে–সকলে বোঝে না। প্রফেসর আফজল যথাসাধ্য চিকিৎসা করেন দীর্ঘদিন। নব্বই দশকের শুরুতে, যখন রুবাই আটে পড়ল, বিশেষজ্ঞ ডা. আলাউদ্দিন ওকে পরীক্ষা করে জানিয়ে দিলেন, হিয়ারিং এইড পরলে ও অন্য সবার মতোই শুনবে–দূরের, কাছের সব ধরনের শব্দ। আমি সুইৎস্যল্যান্ড থেকে এক জোড়া এইড আমদানির ব্যবস্থা করলাম। বিশ্বখ্যাত এইড নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এক জোড়ার নিচে বিক্রি করে না–অনেকটা জুতোর মতো ব্যাপার। রুবাই কানে এইড পরতে কনভিন্সড না হওয়ায় আমরা ওকে নিয়ে তখন যেমন আমাদের মতো সীমিত সাধ্যের মানুষ ভারতের কোলকাতা-চেন্নাই যেত, তেমনি একবার দেখিয়ে আসবার সিদ্ধান্ত নিই। অর্থাৎ, দাক্ষিণাত্যে আমাদের যেতে হল, তবে শখ করে, রিল্যাক্সড্‌ মোডে যেমন ভ্রমণে যায় মানুষ, তেমন নয়। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৫)

আবু সুফিয়ান | ১৮ জুলাই ২০১১ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪

(গত সংখ্যার পর)

46.jpg………
দূরে সিডনি হারবার ব্রিজ। দাঁড়িয়ে লেখক
……..
বনদাই বীচ থেকে আমরা রওয়ানা হলাম “মিলিয়ন ডলার” হাউস দেখতে। সরল বাংলায় বললে ওগুলো সিডনি শহরের টাকাঅলাদের বাসা। বাংলাদেশের হিসাবে এখানকার যে কোনো বাড়ির মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দুনিয়ার প্রায় সব মানুষই বড় শহরে আসতে চায়। ভালো জায়গায় থাকতে চায়। নিজের একটা দামি বাড়ি চায়। এই ক্ষেত্রে আমীর থেকে ফকিরের চাহিদার মধ্যে তেমন তফাত নেই।

35.jpg
সস্ত্রীক লেখক। পেছনে সাগরের উড়োযান-সী-প্লেন

ঢাকাতে মনতুর মিয়া নামে এক ভিক্ষুককে চিনি। তারও ইচ্ছা ঢাকাতে থাকা। এক খণ্ড জমি কেনা এবং বাড়ি করা। কিন্তু ঢাকাতে জমির দাম এখন এত বেড়ে গেছে, সারা জীবনের ভিক্ষা দিয়েও তার পক্ষে বাড়ি করা সম্ভব না। তাই বলে সে হতাশও না। ঢাকাতে তাকে থাকতেই হবে। মনতুর মিয়া এখন টাকা জমাচ্ছে বনানী গোরস্থানে একটা কবর কেনার জন্য। মরার পরে হলেও ঢাকার বড়লোকদের পাশে প্রতিবেশি হয়ে তাদের সাথে থাকার বড় শখ।

‘টাকাঅলা’ বা ‘বড়লোকদের’ প্রতি সবারই আকর্ষণ। মনতুর মিয়ার চিন্তা প্রশংসনীয়।

প্রসঙ্গক্রমে চাচি শ্যারনদের স্কুলের একটি ঘটনা বললেন। এক বাচ্চা মেয়ে তার কোনো একটি অ্যাসাইনমেন্ট নোটস-এ লিখেছে তার টার্গেট একজন ধনী অস্ট্রেলিয়ান মিলিয়নেয়ারকে বিয়ে করা। বিয়ে করলে এরকম বাড়িতে থাকা যাবে। (সম্পূর্ণ…)

নিউ ইয়র্কে কয়েকদিন

মোহাম্মদ আসিফ | ১১ জুলাই ২০১১ ৮:৩৩ অপরাহ্ন

bangladeshi-people-area-jac.jpg
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অধ্যুষিত এলাকা

আমাদের হলুদ ট্যাক্সিক্যাব যখন হাডসন নদী পার হবার জন্য ব্রিজের উপর উঠল, সেদিন শনিবার হলেও ব্রিজে বেশ যানজট। অপর প্রান্তের শহরের চেয়েও শক্ত ইস্পাতের তৈরি, প্রায় শতবর্ষ পুরানো কুইনস্ বোরো ব্রিজটির কারুকার্য, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা মনোযোগ কাড়ছিল। তদুপরি নদীর অপর পারে সারি সারি বিভিন্ন আকারের, জড়াজড়ি করে থাকা শত শত ভবন দেখে বুঝতে বাকি রইল না যে ছোটবেলা থেকে ছবিতে, টিভি পর্দায় দেখা নিউ ইয়র্ক শহরে প্রবেশ করেছি।

শহর মঞ্জরী: নিউ ইয়র্ক প্রদেশের নিউ ইয়র্ক শহরটির গুরুত্ব বোঝাতে শহরটিকে কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থার সাথে তুলনা করা হয়। ঢাকার মতই প্রায় চার’শ বছরে গড়ে ওঠা এই বিখ্যাত শহরটি ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে এক পূর্ণাঙ্গ শহর। মার্কিনীদের শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল, নানান ঐতিহাসিক বৈচিত্রের দর্শনীয় স্থান, পর্যটকদের প্রধান ভ্রমণ স্থল। নিউ ইয়র্ক স্টক একচেঞ্জ ও জাতিসংঘের সদর দপ্তর এখানে থাকায় নিউ ইয়র্ক শুধু মার্কিনীদের কাছে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষেরও গন্তব্যস্থল। শহরে শতবর্ষের পুরানো ইমারত যেমন আছে, চল্লিশ, পঞ্চাশ তলা বা আরও সুউচ্চ নতুন ভবনও গড়ে উঠেছে।
(সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৪)

আবু সুফিয়ান | ৭ জুলাই ২০১১ ১:৩১ পূর্বাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩

251.jpg
বনদাই বীচে লেখক

(গত সংখ্যার পর)

ব্লু মাউনটেইনস দেখে মহা আনন্দে ‘মিন্টে’র বাসায় ফিরলাম।

চাচি বললেন, তন্ময় না যেয়ে মিস করেছে।

কাহিনী সত্য। কোনো কোনো জায়গা বা সঙ্গের সাথে মিশে শ্রেষ্ঠ বিরিয়ানী খেতেও অভক্তি হয়। বিস্বাদ লাগে। আবার কোনো কোনো স্থান বা কারো সাথে মিশে সাধারণ পান্তা ভাতও মনে হয় অসাধারণ। অমৃত। আমাদের ব্লু মাউনটেইনস সফরটা ছিলো সেরকম। পান্তা ভাত। কিন্তু অমৃত। কত কিছুই না দেখলাম।

তন্ময় জিজ্ঞাসা করলো, কোথায় কোথায় গেছেন আপনারা?

কাকু বললেন, ব্লু মাউনটেইনস, থ্রি সিস্টারস… সব ঘুরেছি।

স্কাইওয়ে দিয়ে আকাশে হেঁটেছো?

আমরা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছি–বলে কী!

উত্তর দিলাম না।

বিশ্বের সবচেয়ে steepest (খাড়া) রেইলে উঠেছেন? কাকু ও চাচির দিকে তাকিয়ে বললো, রেলে ওঠোনি?

না।

এনশিয়েন্ট রেইন ফরেস্টে ঢুকেছো?

না।

তোমরা তো তাহলে ব্লু মাউনটেইনস-এ কিছুই দেখোনি। খামোখা সময় নষ্ট করেছো। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৩)

আবু সুফিয়ান | ২৭ জুন ২০১১ ৮:৩০ অপরাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২
(গত সংখ্যার পর)

ব্লু মাউন্টেইন্স-এর তিন বোন
পশ্চিমা দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষ খোদার ওপর যত না বিশ্বাস করে, ইনশিওরেন্সের ওপর আস্থা রাখে তার চেয়ে বেশি।

কাকুদের বাসায় আমার প্রথম রাত কাটলো অস্ট্রেলিয়ান চোরের কথা চিন্তা করে। বাড়ির ইন্সুরেন্স করা আছে মূল্যবান দ্রব্যের জন্য। চোর দামি জিনিসই চুরি করবে। আমাদের কাছে ঐ অর্থে মূল্যবান কিছু নেই। আমাদের কাছে যা আছে তা অমূল্য-পাসপোর্ট।

তৃতীয় বিশ্বের মানুষ হিসাবে পৃথিবীর নানা এয়ারপোর্টে পাসপোর্ট নিয়ে বহু কিত্তিকাণ্ড দেখেছি। নিজেরও কিছু অভিজ্ঞতা আছে। একটা শেয়ার করি।
স্পেন গিয়ে কিছু বাঙালীর সাথে পরিচয় হলো। তারা বাংলাদেশের একটি ছোট জেলা থেকে সরাসরি ইউরোপ যাত্রা করেছে। মাঝে ট্রানজিট হচ্ছে ঢাকা এয়ারপোর্ট। কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে বিশেষ ব্যক্তির মাধ্যমে তারা ইউরোপ যাওয়ার মহা মূল্যবান ভিসা জোগার করেছেন। বিমানে উঠে তাই অতিরিক্ত সতর্কতা স্বরূপ একজন পাসপোর্ট-ডলার ইত্যাদি প্যান্টের ভেতরে রেখে জিপারের হুক এবং বেল্টের লুবের মধ্যে তালা মেরে দিলো।

abus_25.jpg ………
থ্রি সিস্টারস-এর পাহাড়ের নিচে নামার পথের মুখে সাবৃনা।
………

প্লেন উড়ছে। দীর্ঘ ফ্লাইট। তার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলো। এমন সময় দেখা গেলো তিনি চাবি খুজে পাচ্ছেন না। অস্থির হচ্ছেন। টয়লেটের প্রেশার প্রবল হচ্ছে। তালার কারণে প্যান্ট খোলার স্কোপ নেই। ভয়াবহ অবস্থা। তিনি চাবি খুজছেন এবং অস্থিরতা করছেন। উড়ন্ত জাহাজের যাত্রীরা বোঝার চেষ্টা করছে ঘটনা কী? প্রেশার, কিন্তু পরিধেয় খোলা যাচ্ছে না–এই যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করছেন। তার দাপাদাপি দেখে বিমানের হোস্টেজরা ছুটে এলেন। ঘটনা জেনে দ্রুত প্লাস এনে তার জিপারের তালা ভাঙা হলো। মূল্যবান ভিসাযুক্ত পাসপোর্ট হাতে নিয়ে বেচারা প্রাকৃতিক কাজ সারতে গেলেন।

উপরঅলার দয়ায় আমাদের পাসপোর্টেও বহু সংখ্যক অমূল্য ভিসা রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য টাকা দিয়ে দোকান থেকে দামি পণ্য কেনা যায়। কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ার ভিসা পাওয়া যায় না। ভিসা কঠিন জিনিস।

সকালে নাশতার টেবিলে কাকু জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় যেতে চাও?
(সম্পূর্ণ…)

রোদ নদী পাহাড় আর লামাদের কাছে

মোশাহিদা সুলতানা ঋতু | ২৪ জুন ২০১১ ১:০৮ পূর্বাহ্ন

13.JPG
১৭০০ সালে তিব্বতি আগ্রাসন ঠেকাতে বানানো ভুটানি ’জং’।

৮ ডিসেম্বর ২০১০, তাশি নামগায়
ভুটানের পারো শহরে একটি রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে বসে আছি আমি আর আমার মা। রিসোর্টের নাম ‘তাশি নামগায়’। লক্ষ করছি এই রিসোর্টে যারা আমাদের সাথে সকালের নাস্তা করছে তাদের কারো মধ্যেই তাড়াহুড়া নেই। কয়েকটি ওয়েইটার ছেলেমেয়ে এদিক-ওদিক খাবার আনা-নেয়া করছে। তাদের হাঁটাচলা ও কথা বলার ধরনে কোথাও আতিশয্য নেই।
bigri_huye_ghar1.JPG…….
ভেঙে যাওয়া পুরানো ডিজাইনের একটি বাড়ির সামনে লেখক।
…….
এক ধরনের ধীরস্থির ভাব, যেন কোনো কিছুই তাদের উত্তেজিত করে না। যেন খাবার আসতে একটু দেরি করলে কী আর হবে? চোখে ভক্তি নেই, শ্রদ্ধা আছে। কথা বলার ভঙ্গিতে তোষামোদি নেই, হাসির ছটা। ১৯৭২ সালে জিগমে সিনগে ওয়াংচুক কি এই কারণে “সামগ্রিক সুখ সূচক” বা “গ্রস হ্যাপিনেস ইন্ডেক্স” ধারণার প্রবর্তন করে গিয়েছিলেন?
—————————————————————–
চ্যানেল বদলাতে বদলাতে দেখি একটা ভুটানি চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে একটা মেয়ে বাথরুমে বসে কাঁদছে। কান্নার অভিনয়টা খুব বাস্তব মনে হচ্ছে। আমার মা বলে, “পৃথিবীতে সব দেশেই দেখি মেয়ে মানুষ কান্দে।” মায়ের মন্তব্য শুনে আমি হাসলাম।
—————————————————————-
এই কারণেই কি রাজা পৃথিবীকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে একটি দেশের উন্নয়ন বিচার করা উচিত সেই দেশের মানুষের সুখশান্তি দিয়ে, আর্থিক সম্পদ দিয়ে নয়? যখনই ভাবছি একথা দেখি একজন সাদা চামড়ার মহিলা হন্তদন্ত হয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকলেন। হাতে ল্যাপটপটা খুব উত্তেজিত হয়ে রেখে নাস্তা খোঁজা শুরু করলেন। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (২)

আবু সুফিয়ান | ২০ জুন ২০১১ ৭:৪০ অপরাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১

abu-s2_16.jpg
সিডনি লিভারপুলে একটি মলের সামনে সস্ত্রীক লেখক

(গত সংখ্যার পর)

ফ্লাইটে লোক বেশি! আজ কোথায় সিট পড়বে কে জানে!

এয়ারপোর্টের মশা এয়ারক্রাফটের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে। সমানে কামড় দিচ্ছে। মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য চাঁদর খুলে গায়ে দিয়ে বসে আছি। মহা যন্ত্রণা!

কুয়ালালমপুর-এ ভিসার কী হবে এখনো জানি না। মশার কামড় এবং সিটের ঝামেলায় এখন কিছুই মাথায় নেই। রুক্ষ মেজাজের হোস্টেজ ফিরে এলো। আমার অন্য বোর্ডিং পাসটা নিয়ে দুটা নতুন বোর্ডিং পাস দিলো। বললো, তোমরা আমার সাথে আসো। তোমরা বিজনেস ক্লাসে যাবে। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com