ভ্রমণ

মোঁপাসার ফেকায়

ইকতিয়ার চৌধুরী | ১৫ জুন ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ন

লুক্সেমবুর্গ বাগানের পাশেই ‘আন্তর্জাতিক লোক প্রশাসন ইনস্টিটিউট’। আটলান্টিক সাগর পাড়ের ফেকা যাত্রা সেখান থেকেই। ওই প্রতিষ্ঠানে আমরা জড়ো হয়েছি ৩৩টি দেশ হতে। তরুণ কুটনীতিবিদ আর প্রশাসকদের জন্যে এক বছর মেয়াদী কোর্সে আপাতত সবাই ছাত্র। প্যারিসে যতগুলো সুন্দর জার্দা বা বাগান আছে তার মধ্যে লুক্সেমবুর্গ একটি। পাশেই সিনেট ভবন। বাগানে নিসর্গ প্রেমীদের জন্যে চমৎকার বৃক্ষের সারি, ছাটা ঘাস, দীঘি, নানা রকম পাখি ও কবুতরের ঝাঁক সেই সাথে বসার জন্যে ছড়ানো চেয়ার।
১৯৯২ সাল। ইউরোপে এখন গ্রীষ্ম। ভোর ছটায় আমাদের লুক্সেমবুর্গ পৌঁছুতে বলা হয়েছে। তাতে খুব একটা অসুবিধে নেই। তাপমাত্রা গড়ে ১৬-১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া এত চমৎকার যে আমেরিকা আর কন্টিনেন্টের নানা প্রান্ত থেকে শানানো তরুণী আর তুখোড় যুবকেরা ছুটে আসছে প্যারিসে। গরমের কয়েকটি দিন প্রাণ খুলে র‌্যালা করতে। কিন্তু তারপরেও কথা থেকে যায়। প্রায় প্রতি সকালেই কুয়াশা জমে। ঠাণ্ডা। সূর্য আমার ঘুম ভাঙ্গাক এই আশায় প্রতিদিন আমি আমার চারতলার কাচের জানালার পর্দা সরিয়ে রাখি। কিন্তু তিনি ওঠেন দেরিতে। ততক্ষণে বেলা প্রায় আটটা। বিদেশি ছাত্রছাত্রিদের জন্যে আবাসিক এলাকা সিতে ইউনিভারসিতেয়ারে ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের ছেলে মেয়েদের হল ‘কলেজ ফ্রাঙ্কো-ব্রিটানিক’-এ পাকভারত উপমহাদেশ থেকে থাকছি চারজন। আমি ছাড়া মিয়ানমারের চো টিন্ট আর পাকিস্তানের নাসির আজহার ও শেরওয়ানী। তিনজনেই স্ব স্ব বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। ভেতরে ভেতরে বাঙালিদের প্রতি চো’র রয়েছে প্রচণ্ড নিচু ধারণা ও উন্মাষিকতা। সে এত লাজুক ও ভীত যে তা বাইরে প্রকাশের সাহস নেই। শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা নাসির যে পরিমাণ সরল, শেরওয়ানী সেই পরিমাণ ধূর্ত। যে কারণে তার সঠিক পেশা আমরা আজও উদ্ধার করতে পারিনি। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আমার সহপাঠী আর ইউরোপীয় শিক্ষকদের সামনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ১৯৭১-এ পাকিস্তানিরা ত্রিশ লক্ষ মানুষ হত্যা, দুলক্ষ নারী ধর্ষণ এবং প্রায় এক কোটি বাঙালিকে ভারতে বিতাড়নের মধ্য দিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছে তা বলার পরও নাসির আর শেরওয়ানী সম্পর্ক বজায় রাখতে কুণ্ঠিত নয় দেখে আমিও ওদের সাথে মিশছি অন্যান্যদের মতোই। (সম্পূর্ণ…)

আলপস্‌ রজনীর তুষারপাতে

ইকতিয়ার চৌধুরী | ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ ১:১৬ অপরাহ্ন

১৯৯০।
ট্রেনটি ঘণ্টায় প্রায় দু’শ সত্তর কিলোমিটার বেগে শ্যামল প্রান্তর ছুঁয়ে প্যারিস থেকে লিওর দিকে ছুটছে। ফরাসিরা বলে তে জে ভে-থ্রা আ গ্রন্দ্ ভিতেজ। প্রচণ্ড গতির ট্রেন। জানালা দরজা বন্ধ। বিশাল একটি কামরা আমাদের দখলে। পুরো বহর যাচ্ছি মাঠ পর্যায়ে তুলনামূলক প্রশাসন বিষয়ে ধারণা নিতে। সংখ্যা সব মিলিয়ে আশির কাছাকাছি। আমাদের বর্তমান ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ইয়াপে, তার সকল প্রশিক্ষণার্থীই সেই যাত্রায় শামিল। ঘনিষ্ঠদের মধ্যে আসেনি মেধা গাডগিল আইএএস। ভিশিতে ক্যাভিলমে ফরাসি ভাষা শেখার সময় আমরা ছিলাম একই এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে। ওঁর ঘর ছিল নিচে, আমি থাকতাম তিনতলায়। মেধার শ্বশুর ভারতে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। কংগ্রেস দলের মুখপাত্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন এক সময়। ভিশির মতো প্যারিসেও মায়ের সাথে থাকছে মেধা।
লিও প্যারিস থেকে উত্তর পূর্বে। দূরত্ব পাঁচশ কিলোমিটারের বেশি। ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী । অবশ্য অনেকে বলে মার্শেই হচ্ছে দুনম্বরে। ইইসি’র বারোটি দেশ পরিকল্পনামতো যদি ১৯৯৭ সাল নাগাদ পুঁজি, পণ্য, কাজের জন্য নাগরিকদের দেশান্তর গমন ও পরিবহন অবাধ করতে পারে তবে অবস্থানগত কারণে লিওর গুরুত্ব বেড়ে যাবে। (সম্পূর্ণ…)

ফারাও ভূমিতে

ইকতিয়ার চৌধুরী | ৪ december ২০১৭ ৯:২৯ অপরাহ্ন

Farao
১৯৯২।
ঈজিপ্টে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মসিয়ু লেকলার্ক আমাকে লিখেছিলেন, ‘তুমি কায়রোতে দূতাবাসের এ্যাপার্টমেন্টে ইচ্ছে করলে থাকতে পারবে।’ আমি তখন প্যারিস থেকে দুমাসের জন্যে কায়রো আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেখানকার ফরাসি দূতাবাসে শিক্ষানবিশের কাজে। ইচ্ছে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইসরাইলে এই দুমাস কাটানোর। কিন্তু প্রিটোরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেল আবিবের সাথে ঢাকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনা করে ফরাসি পররাষ্ট্র দপ্তর আমার অনুরোধ নাকচ করল। তারা আমাকে কানাডায় পাঠাতে চাইল কিন্তু শেষ পর্যন্ত কায়রো আসাই স্থির হলো। আমার পছন্দের তালিকায় কায়রোও ছিল। পর্যটন মওসুমে মিসরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার ভ্রামনিক আসেন। সে রকম একটি দেশে যেতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।
শেরাটন (কায়রো) হোটেলের কাছাকাছি ফিনি স্কোয়ারে আমার আবাস। দূতাবাসের এ্যাপার্টমেন্টেই উঠেছি আমি। বারোতলা ভবনের আটতলায় চার বেড রুমের বিশাল ফ্ল্যাট। বাসিন্দা একমাত্র আমি। ফ্ল্যাটটি পরিত্যক্ত। বহুদিন হলো এখানে কেউ বসবাস করছেন না। রাতে নির্জন বাসায় গা ছমছম করে। খাট, বেতের কয়েকটি নড়বড়ে চেয়ার এবং টেবিল ছাড়া বিশেষ কোনো আসবাব নেই। আমার আগমন উপলক্ষ্যে কিচেনসহ একটি বেডরুম এবং বসবার ঘর পরিষ্কার করা হলেও বাকি ঘরগুলো ধুলোয় ঠাসা। কিচেনটি সজ্জিত। দুটো ফ্রিজ, গ্যাসের চুলো ও অন্যান্য তৈজস রয়েছে সেখানে। বিছানাপত্র পেয়েছি ধারে। আমার এ্যাপার্টমেন্টের কাছেই দূতাবাসের কাউন্সিলর মসিয়্যু স্টেফান গোমপার্দের বাসা। যে রাতে কায়রো পৌঁছুলুম সেদিন ওঁর ইতালীয় স্ত্রী ক্রিস্টিনা একজোড়া চাদর, দুটো করে তোয়ালে ও বালিস আমাকে ধার দিয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

প্যাসিফিকে পাঁচ রজনি (প্রথম কিস্তি)

ইকতিয়ার চৌধুরী | ৫ মে ২০১৫ ৯:৪৫ অপরাহ্ন

ম্যানিলায় নিনয় একুইনো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে বসে আছি। ঘড়িতে নটার বেশি হবে। লাউঞ্জ হোস্টেল জিগ্যেস করল, ‘কফি দেব স্যার?’
‘না, গ্রিন-টি।’
‘গ্রিন-টি হবে না স্যার, রেড-টি পাওয়া যাবে।’
‘দুধ এবং চিনির দরকার নেই। শুধু চা।’
গ্রিন-টি কেন, পানীয় হিসেবে চা-ই তেমন জনপ্রিয় নয় ফিলিপাইনে। ফিলিপিনোরা পছন্দ করে কফি। কেন করে জিগ্যেস করা হলে অনেকেই বলবে, আমেরিকানরা পছন্দ করে তাই। মার্কিনিদের কাছে কফি প্রিয় হলে ফিলিপিনোদেরও যে তা ভালো লাগবে তার কোনো যুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ফিলিপিনোরা মার্কিনিদের অনুসরণ করে।
এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ ছিল পিলিপাইন। ১৮৯৮ সাল থেকে ১৯৪৬ অবধি।
আমরা গন্তব্য পালাও। পালাও প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দ্বীপরাষ্ট্র। প্রায় চারশ মাইল দীর্ঘ এই রাষ্ট্রের চারপাশে পাপুয়া নিউগিনি, গুয়াম ও ফিলিপাইন। প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জল ফুঁড়ে বেরুনো আরও প্রতিবেশী রয়েছে দেশটির। মাইক্রোনেশিয়া, কিরিবাতি, মার্শাল আইল্যান্ডস, নাউরু, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও টুভালু। মানচিত্রের দিকে তাকালে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই রাষ্ট্রগুলোকে লাগে বিন্দুর মতো। মনে হয়, মহাসাগরের উত্তাল জলরাশি এই বুঝি ওই বিন্দুগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। চারপাশে শুধু আদিগন্ত জলকল্লোল। ওই জলকল্লোলের বিপরীতে সাগরের বুকে উইয়ের টিবির মতো মাথা উঁচিয়ে থাকা প্যাসিফিকের এই দেশমালা। দেশগুলোর সঙ্গে পালাওয়ের কোনো ভূ-যোগাযোগ নেই। প্যাসিফিক মহাসাগরের মধ্যে ডুবুডুবু এই রাষ্ট্রটির সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ আকাশ ও সমুদ্রপথে। আকাশপথে কন্টিনেন্টাল এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে পালাও যাবার জন্য লাউঞ্জে অপেক্ষা করছি। রাত দশটা দশ মিনিটে প্লেন ছাড়বে। পালাওয়ের এক সময়ের রাজধানী কোরোর পৌঁছুব রাত একটা ৫০ মিনিটে। ২২ জানুয়ারি ২০১০-এর রাত। লাউঞ্জের অধিকাংশ স্টাফই আমার পরিচিতি। রাষ্ট্রদূত হয়ে যেদিন ফিলিপাইনে এলাম, সেদিন থেকেই এই লাউঞ্জ আমি ব্যবহার করছি। (সম্পূর্ণ…)

দেখে এলাম বোরোবুদুর মন্দির

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ১ এপ্রিল ২০১৫ ১১:২৫ অপরাহ্ন

11024742_1051281644889309_7392721366572762444_n.jpg
মানুষের স্বপ্ন নাকি একদিনে পূর্ণ হয় না। ইচ্ছে থাকলে আস্তে আস্তে পূর্ণ হয়। ইন্দোনেশিয়ার সে বিখ্যাত বোরোবুদুর মন্দির দেখার স্বপ্ন-স্বাদ অবশেষে পূর্ণ হল। যেদিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাভাযাত্রীর ডায়েরি ও বোরোবুদুর কবিতাটি পড়ি, তখন থেকে আমার কল্পনার জগতে বোরোবুদুর মন্দিরের ছবি ভেসে ওঠে। বোরোবুদুর নিয়ে তেমন লেখা আর চোখে পড়েনি, সে কবে কবিগুরু জাভাযাত্রী হয়ে বোরোবুদুর গিয়ে বুদ্ধের শরণ নিয়েছিলেন।

এ সময়ে এসে শিহরিত হই, অবাক বিস্ময় জাগে মনে। কবিগুরু নাকি দুবার বুদ্ধ প্রণাম করেছিলেন, একবার বোরোবুদুর মন্দিরে, অন্যটা বুদ্ধগয়া মহাবোধি মন্দিরে। (সম্পূর্ণ…)

ওকাম্পো আর রবীন্দ্রনাথ : কিছু অশ্রুত গুঞ্জন

অভিজিৎ রায় | ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ৭:২৭ অপরাহ্ন

ocampo-1.jpgরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ডাকতেন ‘বিজয়া’ নামে। কিন্তু বিজয়া তাঁর আসল নাম ছিল না। নাম ছিল তাঁর ভিক্টোরিয়া1 । ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো। আর্জেন্টিনার এক নারীবাদী লেখিকা এবং বিগত ত্রিশের দশক থেকে ষাটের দশক পর্যন্ত প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করা সুর (Sur) নামের এক প্রগতিশীল পত্রিকার সম্পাদিকা। ধারণা করা হয়, রবীন্দ্রনাথের সাথে এক ‘রহস্যময়’ প্লেটোনিক ধরণের রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল তাঁর। রবিঠাকুরের একেবারে শেষ বয়সের প্রেম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বয়স তখন ৬৩। আর ওকাম্পোর ৩৪। (সম্পূর্ণ…)

বাঙ্গালের জাপান দর্শন

আনিসুজ্জামান | ১২ জুলাই ২০১৪ ১১:৩০ অপরাহ্ন

japan-1.jpgকিছুটা পারিবারিক ঝামেলা, তাছাড়া লেখাপড়ার ইচ্ছেও ততদিনে উবে গিয়েছিলো। ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে ৮৫/ ৮৬ সালের দিকে বিদেশে যাওয়ার জন্য এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হলো আমার মধ্যে। মনে হচ্ছিলো দেশে থেকে আমার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। আমার যখন মানসিক অবস্থা এরকম তখন কুড়িলের এক ভদ্রলোক, শুনলাম জাপানে লোক পাঠায়। ঐ সময় উনি আমাকে নিয়ে গেলেন মতিঝিলে এক উপমন্ত্রীর বাড়ি বা অফিসে। উনি নাকাসিমি নামের এক ভদ্রলোকের মাধ্যমে জাপানে লোক পাঠাতো তখন। (সম্পূর্ণ…)

নাগরকোটের এভারেস্ট

শাকুর মজিদ | ৮ এপ্রিল ২০১৪ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

নাগরকোট ভক্তপুর জেলার একটা পাহাড়ি গ্রাম। নেপালের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে ‘ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ নামে কতগুলো গ্রাম উন্নয়ন পরিষদ থাকে। অনেকটা আমাদের ‘ইউনিয়ন’ পর্যায়ের। ‘নাগরকোট’ আসলে সে ধরনেরই একটি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির অধীনে শাসিত একটি অঞ্চল।
নাগরকোট মূলত: বিখ্যাত দু’টো কারণে। প্রথমটি হচ্ছে, প্রায় ৭ হাজার ফুট উপরের অনেকগুলো পাহাড় চূঁড়ার উপর থেকে বসে বসে, অনায়াসে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। দ্বিতীয় কারণটি আরো মজার। তা হচ্ছে, কপাল ভালো থাকলে, আকাশ যদি পরিস্কার পাওয়া যায়, তবে ওখান থেকে খুব সহজে হিমালয় রেঞ্জের পাহাড়শ্রেণী, বিশেষ করে এভারেষ্টশৃঙ্গসহ আরো কতগুলো পর্বতশৃঙ্গ একটু করে হলেও দেখা যায়। (সম্পূর্ণ…)

বার্লিনের ভালুককে ঘিরে

তারেক আহমেদ | ৩ এপ্রিল ২০১৩ ৪:০২ অপরাহ্ন

ওরা বলে এই ভালুকটা নাকি শীতকালেও ঘুমায় না। বার্লিনের মানুষের প্রাণের প্রতীক বলা যায় ভালুকটিকে। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বা বার্লিনালেরও প্রতীক এই ভালুক।

ঢাকা থেকে জার্মানির রাজধানী বার্লিন গিয়ে যখন পৌঁছলাম – উৎসব শুরু হতে তখনও তিন সপ্তাহ বাকি। বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনে জড়িত থাকার সুবাদে জার্মন রাস্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা – ডয়্যেচে ভ্যেলের আমন্ত্রণে এই সফর। ডয়্যেচে ভ্যেলে প্রায় এক দশক যাবত পৃথিবীর নানা প্রান্তের নানা দেশের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনে জড়িতদের নিয়ে বছরের এই সময় পাঁচ সপ্তাহব্যাপী এক কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ অবশ্যি — বার্লিনালে। দর্শক সংখ্যার বিচারে যে উৎসবটি ইতোমধ্যেই শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র উৎসবের মর্যাদা লাভ করেছে। দেশে ফেরার দু’দিন আগে উৎসবের টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান থেকে জেনে এসেছিলাম –এবারও তিন লক্ষ দর্শক এগারো দিন ধরে চলা এই উৎসবে ছবি দেখেছেন । (সম্পূর্ণ…)

কুয়াকাটা : সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত

নূরুল আনোয়ার | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ৯:২৯ অপরাহ্ন


খুব বেশিদিনের কথা নয় কুয়াকাটা নামটি মানুষের তেমন জানাশুনা ছিল। এখন এই নামটি নিয়ে যেভাবে ঘাটাঘাটি হচ্ছে অল্প ক’ বছর আগেও কেউ বেশি ভাবেনি। ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের চিরপরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে নতুন নতুন জায়গা যোগ হচ্ছে। কুয়াকাটা ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসু মানুষের চিত্ত জয় করে ফেলেছে।
কুয়াকাটা সম্পর্কে আমার জানাশুনা ছিল অতি অল্প। এটার অবস্থান কোথায় সেটাও আমার জানা ছিল না। এতটুকু আমি জেনেছি, যেখানেই হোক এটার অবস্থান সাগড়ের পাড়ে। আমি যতবারই চোখ বন্ধ করে কুয়াকাটার কথা ভেবেছি কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মত একটা চেহারা তার মধ্যে দেখতে পেয়েছি। কল্পনা করতে দোষ কি? ভেবেছিলাম এখানে বিশাল বিশাল ঢেউ পাড়ে এসে আছড়ে আছড়ে পড়ে। পর্যটকেরা ওখানে নেমে স্নান করে। তারা লাফঝাঁপ করে। শ’য়ে শ’য়ে স্পিড বোট শাঁ শাঁ করে ছুটে চলে। সাগড়ের পাড়ে আছে ঘন অরণ্য। বন-বনানী। সেখানে আছে নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলি। ঝাউগাছের পাতায় পাতায় বাতাসে শিহরণ। তার সঙ্গে শোঁ শোঁ শব্দ। ছায়াশীতল গাছের নিচে বসে কপোত কপোতিরা বসে প্রেমের আলাপ করছে। তারা একে অপরের সঙ্গে নানারকম খুনসুটি করে চলেছে। আছে বড় বড় মার্কেট। তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে সেখানে ছুটে চলছে কেনাকাটা করতে। সত্যি বলতে কি, আমি এরকম একটি পরিবেশ কল্পনা করে এঁকে নিয়েছিলাম এবং সত্যি সত্যি ধরে নিয়েছিলাম জায়গাটি এরকম। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৯)

আবু সুফিয়ান | ২১ december ২০১১ ১০:১০ অপরাহ্ন

hb8.jpg
বিয়ের ছবি তোলার সেশন হচ্ছে। ওপর থেকে তোলা ছবি।

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫ | সিডনির পথে পথে ৬ | সিডনির পথে পথে ৭ | সিডনির পথে পথে ৮

(গত সংখ্যার পর)

রাস্তা হারানো আমার জন্য নতুন কোনো বিপদ না। দেশে এবং বিদেশে বহুবার এই ঘটনা ঘটেছে। কচু গাছ কাটতে কাটতে মানুষ ডাকাত হয়। পথ হারিয়ে আমি পথ চিনি। তবে আজ খানিক সুবিধাজনক আবস্থায় আছি। কারণ সাবৃনা সাথে নেই। স্ত্রীর কাছে এই ধরনের ‘কেলাসপনা’ স্বামীদের বড় ধরনের অযোগ্যতার প্রমাণ।

মোবাইল ফোনে সময় দেখলাম। বেলা একটার মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে। একসাথে খাবো। বাড়ির রাস্তা খুঁজে পাওয়ার জন্য এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় হাতে আছে।

আমি হাঁটা শুরু করলাম।

সিডনির ফুরফুরে উজ্জ্বল আবহাওয়া বড়ই মনোরম। একটা সুখ সুখ ভাব হয়। রাস্তায় গাড়ি যথেষ্ট। কিন্তু পথে হাঁটা লোকজনের সংখ্যা কম। দু-একজন যাও পাই, তারা আমার চেয়েও মহককল। ঠিকানা জিজ্ঞেসা করলে ঠোঁট উল্টানি দেয়। অর্থাৎ চেনে না।

hb7.jpg
সিডনি হারবার ব্রিজের কাছে বাড়িঘর, সাথে লাগোয়া সমুদ্র।

সামনে মোটা মতো এক ভদ্র মহিলা অপেক্ষা করছেন, রাস্তা পার হবেন। বয়স্ক। হাতে বাজারের ব্যাগ। সম্ভবত স্থানীয়। তাকে ঠিকানা দেখিয়ে জিজ্ঞেসা করলাম, এই রাস্তাটা কোথায়? তিনি যে উত্তর দিলেন, সেই ডিরেকশন ফলো করলে দুপুরে আমাকে বাইরে খেতে হবে। মহিলা বললেন, সামনে ৫০ গজ গিয়ে ডানে টার্ন করবে। তারপর ত্রিশ থেকে চল্লিশ স্টেপ যাবে। তারপর আবার টার্ন করে স্ট্রেইট হাঁটবে… কিছুদুর গেলে একটা পাম্প দেখবে…

উনার ডিরেকশন যতক্ষণ শুনবো, সেই সময়টাই নষ্ট। ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ বলে আমি কেটে পড়লাম।

সামনে বেশ কিছু স্টেশনারি জাতীয় ছোট দোকান আছে। ফোন কার্ড রিচার্জ করা দরকার। (সম্পূর্ণ…)

রাঙামাটির পথে

নূরুল আনোয়ার | ১১ december ২০১১ ১:০৯ অপরাহ্ন

nar_11.jpg………
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র
……..
রাঙামাটির কথা শুনে আসছিলাম একেবারে ছোটকাল থেকে। আমাদের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় পরিবার-পরিজন নিয়ে ওখানে থাকতেন। শুনতে পাই খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা বেশ সহায়-সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছেন। প্রথমে ব্যবসায়, পরে ভূ-সম্পত্তিতে বিস্তার লাভ করেছিলেন। পরে তাদের জায়গা-জমি সব পানিতে ডুবে গেছে। তারা পথে বসেছেন। কাপ্তাই বাঁধের পানি তাদের জমি-জমা, বাড়ি-ঘর সব পানির নিচে তলিয়ে দিয়ে একরকম অভিশপ্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও পরে শুনলাম কাপ্তাই বাঁধের পানি অভিশপ্ত বটে, কিন্তু সম্পদ হিসেবেও এর জুড়ি নেই। কাপ্তাই বাঁধের পানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। আবার সেই পানির মৎস্যসম্পদ জনসংখ্যার এক বিরাট অংশের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে। সবচে’ বড় কাজ যেটি হয়েছে সেটি হল এই বাঁধ একটা বিস্তীর্ণ জলরাশি সৃষ্টি করছে। এই জলরাশি একরকম নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার হিসেবে সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে চলে রাঙামাটির সৌন্দর্য অবলোকন করতে।

কাপ্তাইর পানি তো মানুষকে একরকম নিঃস্ব করে দিয়েছে। তারপরেও দেখতাম আমাদের এলাকার মানুষ রাঙামাটির দিকে ছুটছে। আমিও স্বপ্ন দেখতে থাকি রাঙামাটি যাবার। কিন্তু বহুদিন সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হয়নি। পত্রপত্রিকায়, ক্যালেন্ডারে যখন রাঙামাটির সেই টানা ব্রিজের ছবিটা দেখতাম তার সৌন্দর্য আমাকে একরকম আলোড়িত করত। আমি এই টানা ব্রিজটাকে মনে রেখে আমার কল্পলোকে রাঙামাটিকে আরও নানাভাবে সাজিয়ে নিতাম।

nar_07.jpg………
রাঙামাটি বৌদ্ধবিহার
……..
দুই হাজার এক সালে আমার কাকা আহমদ ছফা সাহেব যখন সহসা ধরাধাম ত্যাগ করলেন আমি অনেকদিন কোনো কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। সব সময় আমার ভেতর একটা অজানা ব্যথা ক্রিয়া করত। স্বস্তি কী জিনিস আমি একরকম ভুলে গিয়েছিলাম। তাঁর পালকপুত্র সুশীল চাকরিসূত্রে খাগরাছড়িতে থাকত। আমার মনের অবস্থা সে টের পেয়ে গিয়েছিল। সে আমাকে বলল, তুমি কিছুদিন খাগড়াছড়িতে এসে আমাদের সঙ্গে থাক। সে এ-ও জানাল, বাইরের আলো-বাতাস গায়ে লাগলে মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠতে পারে।

খাগড়াছড়িতে আমি কোনোদিন যাইনি। এ এলাকা সম্পর্কে আমার ধারণাও অন্ধকারাচ্ছন্ন। শুধু এটুকু জানি খাগড়াছড়ি পাহাড়ি এলাকা। সুতরাং পাহাড় কি আমার মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারবে? আমি তো একরকম পাহাড়ি কীট। তারপরেও আমি রাজি হয়ে গেলাম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com