বিশ্বসাহিত্য

বিশ শতকের বহুলপঠিত নারীবাদী কথাসাহিত্য

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৪ মে ২০১৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন


যদিও অসামান্য এই কথাসাহিত্যগুলো নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল নারীদের হাত থেকে, তার বিষয়বস্তুও ছিল নারী, কিন্তু তার পাঠক কেবল নারীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সর্বজনীনতার গুণে তার পাঠক ছিল নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলেই।
অন্য অনেক কিছুর মতোই অনেক আগে থেকেই সাহিত্য জগতও পুরুষশাসিত। সেখানে নারীদের লেখালেখি অনেকের জন্য যন্ত্রণাদায়কও বটে। .আঠারো শতকের শেষের দিকে গল্প পড়া–বিশেষ করে সেই লেখা যদি কোন নারীর হতো–তাহলে তা নারীদের জন্য মানসিক ও শারিরীকভাবে বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিত। পরিস্থিতির উদাহরণ দিতে গেলে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের বিখ্যাত দুই লেখিকা বোনের কথা বলা যেতে পারে, যারা ব্রন্টি সিস্টারস নামে সাহিত্য জগতে পরিচিত লাভ করেছেন; শুরুতে তারাও পুরুষের ছদ্মনামে লেখা প্রকাশ করতেন। প্রেম-ভালোবাসার গল্প রীতিমত নিষিদ্ধ এক বস্তু ছিল তাদের জন্য। ইংল্যান্ডে তখন বিদ্যমান ছিল এক কর্তৃত্বপূর্ণ সংস্কৃতি, নারীদের শিল্প-সাহিত্য চর্চা ছিল বিপজ্জনক। সেই পরিস্থিতি বদল হতে অনেক কাল লেগেছিল।

বর্তমানে প্রকাশক, বিক্রেতা ও সমালোচকরা কোন সাহিত্য কি ধরনের, তার জন্য শুরুতেই তারা একটি লেবেল বা মার্কা দিয়ে দেন; যাতে করে পাঠকরা সহজেই নির্দিষ্ট বইটি খুঁজে পেতে পারেন। যেমন একটি বইকে যদি “গোয়েন্দা গল্প” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে গোয়েন্দা বইয়ের পাঠকদের জন্য তা বিশেষভাবে সহায়ক হয়। প্রকাশক ও বই বিক্রেতারা এমন যুক্তিই তুলে ধরেন। (সম্পূর্ণ…)

হেলেনীয়বোধ, গ্রিক কবিতা ও কাভাফি

কুমার চক্রবর্তী | ৩ মে ২০১৮ ২:১৫ অপরাহ্ন

মহামতি আলেকজান্দারের সময় থেকেই আমরা আমাদের হেলেনিসমকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছি। সারা বিশ্বজুড়ে আমরা এর বীজ বপন করেছি: কাভাফির ভাষায়, ছড়িয়ে দিয়েছি দূরবর্তী ব্যাকট্রিয়া অঞ্চলে, দূরবর্তী ভারতীয়দের মধ্যে। আর এই ব্যাপক ছড়িয়ে-পড়া এক তাৎপর্য বহন করে এনেছিল। সংস্কার ও পুনরুজ্জীবনের ভেতর দিয়ে এই হেলেনিসম কাজ করেছিল রেনেসাঁসের সময় পর্যন্ত কতিপয় ব্যক্তির দ্বারা যারা ছিলেন কখনও গ্রিক কখনও-বা অ-গ্রিক। এই সময়ের পর থেকে, যা গ্রিক জাতির দাসত্বের কাল হিসেবে চিহ্নিত, বিশেষ ব্যক্তিত্বদের দ্বারা গ্রিসের বাইরে পুনর্গঠিত হয়েছিল তা, এই ব্যক্তিত্বরা মোটেই ছিলেন না গ্রিক। আর আমাদের মনে রাখতে হবে, এটা ঘটেছিল সেই সময়ে যখন সম্পন্ন হয়েছিল বিশাল কাজগুলো যা সেই সভ্যতাকে স্ফটিকায়িত করেছিল যাকে এখন আমরা জানি ইউরোপীয় সভ্যতা বলে।
এই সভ্যতা, যা আসলে হেলেনীয় সভ্যতার মূল্যবোধের সন্তান, আমাদের প্রজন্ম বা আমাদের নিকটবর্তী পূর্বসূরিদের দ্বারা সৃষ্ট হয়নি। আমাদের নিকট পূর্বসূরিরা অতীতের এই রত্নকে সংরক্ষণ করেছিল, আর বাইজানটিয়ামের পতনের পর তারা তা ত্যাগ করে বসল, যেমনটা বলেছিলেন পালামাস এভাবে যে, তারা ধরে রেখেছিল পূর্বসূরিদের ভস্মভরতি বিশাল কলসগুলো, আর এজন্যই হেলেনিসমের বীজ এসে পড়ল ইউরোপের মাটিতে, উপযুক্ত ও মুক্ত স্থান পেয়ে তার ঘটল সমৃদ্ধি।

[কবিতাবিষয়ক সংলাপ: হেলেনিসম-এর মানে কী?, অন দ্য গ্রিক স্টাইল, জর্জ সেফেরিস] (সম্পূর্ণ…)

গার্সিয়া মার্কেসের ডিজিটাল তথ্যনিকেতনে ২৭ হাজার ৫ শ আইটেম উন্মুক্ত

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৮ এপ্রিল ২০১৮ ৩:৪০ অপরাহ্ন

গার্সিয়া মার্কেসকে নিয়ে তৈরি নতুন ডিজিটাল তথ্যনিকেতনে উন্মুক্ত হলো ২৭ হাজারেরও বেশি চিঠিপত্র, পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা, আলোকচিত্র ও আরও বহু কিছু।


আলোকচিত্র: ১৯৬৬ সালের মার্চ মাসে গার্সিয়া মার্কেস কলোম্বিয়ার আরাকাতাকায়

২০১৪ সালের এপ্রিলে যখন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস মারা গেলেন, তখন বলা হয়েছিল, স্প্যানিশ ভাষায় কলাম্বিয়ান এই লেখকের সৃষ্টি কর্মের তুলনায় শুধুমাত্র বাইবেলই বেশি বিক্রি হয়েছে। ১৯৬৭ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস রিভিউতে এক পর্যালোচনা লিখতে গিয়ে বিখ্যাত আমেরিকান লেখক উইলিয়াম কেনেডি উল্লেখ করেন, “সাহিত্যের প্রথম পাঠ্যবই হিসেবে আদিপুস্তক জেনেসিসের পর সমগ্র মানব জাতিকে যদি কোন বই পড়তে হয়, তাহলে নিঃসঙ্গতার একশো বছর (One Hundred Years of Solitude ) পড়া উচিত”।
গার্সিয়া মার্কেস এ ধরনের অতি প্রশংসাকে অপছন্দ করতে শুরু করেছিলেন। কেননা, এসব প্রশংসা, স্তুতি প্রত্যাশার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। বিশেষ করে নিঃসঙ্গতার একশো বছর-এর অবিশ্বাস্য সফলতা অর্জনের পর মার্কেসের মনে হচ্ছিল, তিনি তার পরবর্তী লেখায় ঐরকমভাবে আর পুরোপুরি সফল হতে পারছেন না। বইটি সেসময় দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় প্রত্যেকেই পড়েছিল। বিপুল জনপ্রিয়তার চাপে ক্লান্ত মার্কেস ভীড় এড়ানোর জন্য স্পেন পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্ত তাতেও কি মুক্তি মেলে! সেখানে আরেক শক্তিমান লেখক মারিও বার্গাস য়োসা তাকে নিয়ে রীতিমত ডক্টরাল গবেষণা প্রবন্ধ লেখা আরম্ভ করলেন। (সম্পূর্ণ…)

ওবামার পছন্দের সেরা বই

বিপাশা চক্রবর্তী | ১১ এপ্রিল ২০১৮ ৯:০৯ পূর্বাহ্ন

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচিত হবার আগে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতি বিষয়ক একটি বই পড়েছিলেন। সেই বইটিই তার পড়া সেরা বই বলে সম্প্রতি মত দিয়েছেন।
সেই বইটির নাম Thinking, Fast and Slow, লিখেছেন ড্যানিয়েল কাহানেমেন। বইটিতে মানুষের বিচারশক্তির দুর্বলতা বা ভুল কিভাবে আপনার বুদ্ধিমত্তাকে প্রভাবিত বা পরিবর্তন করে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন।

এ ছাড়াও ওবামা আরও নয়টি উল্লেখযোগ্য বইয়ের কথা বলেছেন। তবে এই নয়টির মধ্যে যে-দুটিকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিযেছেন তাদের একটি হলো রবার্ট এ. কারোর The Power Broker: Robert Moses and the Fall of New York এবং অন্যটি হলো ক্যাথেরিন বো-এর Behind the Beautiful Forevers: Life, Death, and Hope in a Mumbai Undercity বইটি।

নোবেলজয়ী মনোবিজ্ঞানী ও আচরণগত অর্থনীতির উদ্ভাবক কাহানেমেন তার Thinking, Fast and Slow বইতে চিন্তা-ভাবনার দু’টি পদ্ধতির বিশ্লেষণ করেছেন। এ গুলোকে তিনি দু’টি ভাগে ভাগ করেছেন, তাহলো সিস্টেম-১ ও সিস্টেম-২।
সিস্টেম-১ চিন্তাধারা হলো অন্তর্নিহিত, অর্থাৎ, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। সিস্টেম-২ হলো চিন্তাশীল বা বিবেচনাপ্রসূত, অর্থাৎ মানুষের ধীর চিন্তার প্রতিফলন। কাহানেমেন বলেন, মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সিস্টেম-১’র পাঁকে আটকে থাকে। এ ক্ষেত্রে সমস্যাটি সমাধানের জন্য তার হাতে থাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। (সম্পূর্ণ…)

বিন লাদেন যে-বইগুলো পড়েছিলেন

বিপাশা চক্রবর্তী | ২২ মার্চ ২০১৮ ৫:০৬ অপরাহ্ন

পৃথিবীর মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কখনো কখনো যেমন সহজে বোঝা যায়, কখনো আবার তা অতি দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। বিপরীতমুখী এই দুই উদাহরণ পৃথিবীতে কম নয়। বিষয়টি যদি বই সংগ্রহের বেলায় ঘটে তাহলে কিভাবে তা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে? বিশ্বে মহান ব্যক্তিত্বদের যেমন বই সংগ্রহ ও পড়ার নেশা রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অনেক সাধারণ মানুষের মাঝেও এই অভ্যাস আসন গেড়ে আছে। এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা কিছু নেই্। কিন্তু যদি কোন কুখ্যাত মানুষের এমন অভ্যাস থাকে তাহলেই আমাদের ভ্রু কুঁচকে যায় বা মস্তিস্কের কোণে ধাক্কা লাগে। যদি সেই কুখ্যাত ব্যক্তিটির নাম হয় ওসামা বিন-লাদেন তা হলে কি অনুভূতি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ কম্পাউন্ডে সিআইএ-্এর নেতৃত্বে ‘অপারেশন নেপচুন স্পার’ পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে আল-কায়েদা প্রধান লাদেনকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা সবার জানা থাকলেও সেই অপারেশনের বিস্তারিত তথ্য আজও সকলের কাছে উন্মুক্ত নয়। তবে সম্প্রতি মার্কিন সরকার সে দেশের তথ্য প্রকাশের আইন অনুসরণ করে লাদেনের ব্যাপারে কিস্তি আকারে তথ্য প্রকাশ করা শুরু করে। এরই উদ্যোগ হিসেবে সম্প্রতি মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) লাদেনের বুক শেলফ নামে তার পঠিত বিভিন্ন বই, চিঠি, ম্যাগাজিন, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি তাদের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছে। সেই প্রকাশিত তথ্যভান্ডার থেকেই চমক জাগানো এক তথ্য জনগণের সামনে আসে, আর তা হলো বিন লাদেনের বইয়ের প্রতি আগ্রহ ও সংগ্রহের বৈচিত্র্য।

আমেরিকার স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক ওয়াল্টার মোসলে যেমন বলেছিলেন, একজন ব্যক্তি কেমন তা তার বুক শেল্ফ দেখলেই ধারণা পাওয়া যায়। মোসলে হয়তো লাদেনকে ভেবে এই কথাটি বলেন নি। তবে বই পছন্দের ধরণ দেখে অবশ্যই ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যগত আচরণ অনেকটা অনুমান করা যায়। (সম্পূর্ণ…)

বিদায় নিকানোর পাররা

জাহেদ সরওয়ার | ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:০০ অপরাহ্ন

নিকানোর পাররার কবিতা পড়ে প্রতিক্রিয়া না দেখানো অসম্ভব। এখানেই হয়ত তাঁর কবিতার শক্তিমত্তা। কবিতা পড়তে পড়তে হয়ত মনে হতে পারে এ আদৌ কবিতা নয়। এতদিন ধরে গড়ে ওঠা কবিতার ধারণাকে ভেঙে ফেলার জন্যই বুঝি এই কবিতা। নিকানোর পাররার কবিতাগুলো যদি কবিতা হয়– প্রশ্ন জাগা অস্বাভাবিক নয় যে তাহলে আগে আমরা কবিতা নামে যা পড়েছি তা কী? তিনি তাঁর এই কবিতাসমূহের নাম দিয়েছিলেন প্রতিকবিতা। নিকানোর পাররার কবিতার বই প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে সত্যিকার অর্থে বিশ্বকবিতায় সূচিত হয়েছিল নতুন এক কবিতার যাত্রা। প্রতিকবিতা। বলা হয়ে থাকে যে কবিতা এখন কোথায় সেটা জানতে গেলে প্রতিকবিতা পড়তে হবে। এটি কবিতার ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। তিনি নিজেই তার একটা কবিতায় বলেন,

পৃথিবীতে কোনোকিছুই আপনাআপনি আলপটকা ঘটনা/দাদইজম/কিউবিজম/সুররিয়ালিজম/অথবা আত্মার আত্মপরাজয়/যা হয়/তা আগে যা ঘটেছে তারই যুক্তিসিদ্ধ ফলাফল। [হলোকস্ট; শ্রেষ্ট কবিতা ও প্রতিকবিতা, অনুবাদ: মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়] (সম্পূর্ণ…)

ওডেসি অনুবাদে প্রথম নারী: অনুবাদকের সৃষ্টিশীলতাকে উপেক্ষা করা হয়

ফাতেমা খান | ১৩ december ২০১৭ ১:৪০ অপরাহ্ন

translatorগ্রীক পুরানের কাহিনীকে ভিত্তি করে রচিত হোমারের তিন হাজার পংক্তি সম্বলিত অমর আখ্যান ওডিসি মহাকাব্য গ্রীক থেকে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে সম্প্রতি। এই প্রথম কোনো নারী এটি অনুবাদ করলেন। তার নাম এমিলি উইলসন।
ওয়াট ম্যাসন প্যারিসের অপসৃয়মান গ্রীস্মের পড়ন্ত আলোয় এমিলি উইলিয়ামের এই অনুবাদটি পড়তে পড়তে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। ওয়াট ম্যাসন বলেন, ওডিসি আমাকে এতটা আচ্ছন্ন আগে কখনও করেনি। পাঁচমাত্রার নিখুঁত কাব্যের গাঁথুনীতে রচিত এর কাহিনী। এটি অনুবাদ করা তার পক্ষে সম্ভব হত না যদি তার কাব্য প্রতিভা এবং শিল্প আঙ্গিকের রূপ-রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা না থাকতো।

উইলসন ইংরেজী ক্লাসিক ও দর্শন নিয়ে ব্যাচেলর করেন অক্সফোর্ড থেকে। তারপর পিএইচডি শেষ করেন ইয়েল ইউনিভার্সিটির ক্লাসিক এবং তুলনামূলক ইংরেজীতে সাহিত্যে। ব্যাচেলর শেষ করার পর তার প্রিয় লেখকদের প্রিয় বইগুলি পূনরায় পড়া শুরু করেন। বিশেষ করে মিলটনের লেখার প্রতি ছিল তাঁর ভীষন ঝোঁক। মিলটনের ‘প্যারাডাইস লস্ট’ এর কথা অনেক জায়গায় বলেছেন। প্যারাডাইজ লস্ট এতটাই প্রিয় যে তার ডায়ালগও ব্যবহার করেছেন।
দাদীমা এলিসকে উৎসর্গ করা তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘মক উইথ ডেথ’ ওডিসিয়াসের ত্বত্তালোচনাকে বর্ধিত করেছিল । বইটি ছাপা হয়েছিল ২০০৪ এ। মিলটন, শেকস্পীয়ার, সেনেকা আর ইউরিপিডিস যেভাবে নশ্বরতাকে অবলোকন করেছেন সেভাবে এই বইটিতে তার মৃত্যু ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। যে ভাবনা মানুষ আদিকাল থেকে উপলব্ধি করে আসছে, “ আমরা একদিন হারিয়ে যাব এই পৃথিবী থেকে; সত্যি প্রতিদিন একটু একটু করে হারাচ্ছি আমরা।” (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যের স্বদেশ-বিদেশ, বিশ্বায়ন এবং ডায়াস্পোরা

মোজাফ্ফর হোসেন | ১ december ২০১৭ ১২:০১ অপরাহ্ন

diasporaবেশ কয়েক বছর থেকে ইউরোপ এবং আমেরিকায় ডায়াস্পোরা লেখকদের রাজত্ব চলছে। এক্ষেত্রে আমরা দেখছি স্বদেশ বা পিতৃমাতৃভূমের চেয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। ডায়াস্পোরা লেখকদের এই গ্রহণযোগ্যতা তৈরির কারণ দর্শিয়ে এবছর সাহিত্যে নোবেলজয়ী ডায়াস্পোরা লেখক ইশিগুরো বলছেন : ‘আশির দশকে উপন্যাসিক হিসেবে ব্রিটেনে আমি যে দ্রুত জায়গা করে নিতে পেরেছি এর অংশত কারণ হলো আমি এমন একটা সময় লিখতে শুরু করেছি যখন এই নব্যধারার আন্তর্জাতিকতাবাদের বড়রকমের চাহিদা তৈরি হয়েছিল—লন্ডনের প্রকাশক, সাহিত্য-সমালোচক এবং সাংবাদিকরা এমন একটা নতুন প্রজন্মের লেখকদের চেয়েছেন যারা প্রচলিত ইংরেজি সাহিত্যের ঐতিহ্য থেকে আলাদা…এবং আমি মনে করি, আমাকে সেখানে সাহিত্যমঞ্চের দৃশ্যপটে স্থান দেওয়া হয়েছে কারণ আমাকে আন্তর্জাতিক লেখক বলে তারা ভেবেছেন।’ (সম্পূর্ণ…)

অক্তাবিও পাস: ভারত এমন এক আধুনিকতা দিয়ে শুরু করেছে যা স্পানঞলদের চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৩ অপরাহ্ন

Mexican poet Octavio Paz
‘চিত্র: ভারতবর্ষ বিষয়ক স্বরচিত বই হাতে অক্তাবিও পাস
তিনি কেবল সৃষ্টিশীল কবিই ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাস ও রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, শিল্প ও সমাজতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বসহ মানবসভ্যতার নানান বিষয়ে পান্ডিত্যের অধিকারী ও ব্যাখ্যাকার। স্বাভাবিক কারণেই এ ধরনের ব্যক্তিত্ব গণমাধ্যমসহ বিদ্যায়তনের ভাবুক ও লেখকদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে মতামতের উৎস হয়ে ওঠেন। অক্তাবিও পাস তাই লেখালেখির বাইরেও জীবদ্দশায় লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ সাক্ষাৎকারদাতাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। অসংখ্য বিচ্ছিন্ন সাক্ষাৎকার ছাড়াও এককভাবে নেয়া তার সাক্ষাৎকারের আছে একাধিক গ্রন্থ, যেমন এলেনা পনিয়াতৌস্কার নেওয়া Las Palabras del Arbol কিংবা ব্রাউলিও পেরাল্তার নেয়া গ্রন্থ El Poeta en su tierra । স্বাভাবিক কারণেই তার বৃহদায়তনের সাক্ষাৎকারে অনিবার্যভাবে এসে পড়বে ভারতের প্রসঙ্গ যেহেতু সবারই জানা যে তিনি ভারতে মেহিকোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর এবং তার নানান ধরনের লেখায় রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির উল্লেখ ও সৃষ্টিশীল প্রভাব। কেবল, বিভিন্ন লেখাতেই নয়, গোটা একটি বই-ই তিনি লিখেছিলেন ভারতবর্ষ নিয়ে। সাংবাদিক ও লেখক ব্রাউলিও পেরাল্তা যখন পাসের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন তখন ভারতবর্ষ নিয়ে পাসের লেখা Vislumbres de la India বইটি মাত্র প্রকাশিত হয়েছে। ব্রাউলিও পেরাল্তার El Poeta en su tierra নামক গ্রন্থদীর্ঘ সাক্ষাৎকারের একটি পর্ব ছিল ভারতবর্ষ নিয়ে। পাস তার স্বভাবসুলভ স্বচ্ছতা ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণসহ মেহিকোর সাথে ভারতের বিভিন্ন দিক তুলনা করে দেখিয়েছেন পরস্পরের স্বাতন্ত্র্য ও সাযুজ্য, শক্তি ও দুর্বলতাগুলো। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন।
সাক্ষাৎকারগ্রহিতা ব্রাউলিও পেরাল্তার জন্ম ১৯৫৩ সালে মেহিকোর বেরাক্রুসের অন্তর্গত তুক্সপান-এ। পেশায় তিনি সাংবাদিক। La Jornada-র সাংবাদিক এবং পরে Equis, cultura y sociedad-এর সম্পাদক ব্রাউলিও পেরাল্তা পাসের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। সাক্ষাৎকারগুলো প্রকাশিত হয়েছিল unomasuno এবং La jornada নামক মেহিকোর প্রথম সারির দুটো পত্রিকায়। এগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে স্বয়ং পাস দেখে দিয়েছিলেন। বাংলা এ তর্জমাটি সাক্ষাৎকারগ্রহিতার অনুমতিসাপেক্ষে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

বাড়ির কাছে আরশি নগর: পাওলো কোয়েলো, ফরিদ উদ্দিন আত্তার এবং পিটার ব্রুক

হোসেন আলমগীর | ২৬ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

koheloব্রাজিলের ঔপন্যাসিক পাওলো কোয়েলো তাঁর ‘দি অ্যালকেমিস্ট’ উপন্যাসে পরমাত্মার অন্বেষণে মানুষের অভিযাত্রাকে রূপকের আশ্রয়ে বর্ণনা করেছেন। এ উপন্যাসের সাথে পারস্যের সুফি দর্শনের ঘনিষ্ট মিল লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে খোরসানের (বর্তমান ইরান) নিশাপুরের দার্শনিক ও কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তারের Manteq-At-Tair (Conference of the Birds)’ বা ‘পক্ষী সম্মেলন’র ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। খ্রীস্টিয় বারো শতকে আত্তার কবিতার মাধ্যমে পাঠকের কাছে যে দর্শন সহজবোধ্য করেছিলেন, বিশ শতকের অন্তে পাওলো কোয়েলো ‘দি অ্যালকেমিস্ট’ উপন্যাসে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন। দু-জনের বিষয় মূলত অভিন্ন- পরমাত্মার সন্ধান লাভ। বিশ্বখ্যাত নাট্য নির্দেশক পিটার ব্রুক এবং জ্যঁ ক্লদ কাহিয়ে মিলে আত্তারের কাহিনীর নাট্যরূপ দিয়েছিলেন। পিটার ব্রুক ছিলেন এ নাটকের নির্দেশক। নাটকটি প্রযোজনার আগে তিনি এবং তাঁর দল সাহারা মরুভূমিতে একটি দীর্ঘ সফরে অংশ নিয়েছিলেন । যেমন করেছিল ‘দি অ্যালকেমিস্ট’র সান্তিয়াগো, কিম্বা আত্তারের ত্রিশটি পাখি। এ সফরের মূল লক্ষ্য-সত্যানুসন্ধান। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং মেহিকোর সঙ্গে তার সংযোগ

অরুন্ধতী ভট্টাচার্য | ২৯ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৫৪ অপরাহ্ন

garcia-marquez-unoগাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের জন্ম কলোম্বিয়ায় হলেও কার্যত মেহিকোই হয়ে উঠেছিল তার জন্মভূমির মতো। সিআইএর তাড়া খেয়ে সেই যে ১৯৬১ সনের ২ জুলাই মাসে এই দেশটিতে আশ্রয় নিয়ে তারপর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কলম্বিয়ায় তিনি নিয়মিত যাতায়াত করলেও তার কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল মেহিকোই। পরে অবশ্য তিনি একেবারে স্থায়ীভাবেই আমৃত্যু মেহিকোতে থেকে যান। মেহিকোর সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে Televisa.news পত্রিকায় ৬ মার্চ ২০১৭ সালে Gabriel García Márquez y su relación con México শিরোনামে যে-নিবন্ধটি প্রকাশিত এটি তারই অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন প্রাবন্ধিক অনুবাদক অরুদ্ধতী ভট্টাচার্য। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরো: ১৯৮৯-এ ম্যান বুকার , ২০১৭-এ নোবেল বিজয়

আবদুস সেলিম | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪২ অপরাহ্ন

unnamed২০০৯ সালে আমি আমার এক ইংরেজি ফিচারে (৯ই অক্টোবর ২০০৯-এ ‘স্টার ইউকএএন্ড’ প্রকাশিত) কাজুও ইশিগুরোর প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম ঠিক কবে আমি তার লেখা পড়েছি আমার স্মরণে নেই–সম্ভবত ১৯৮৯-এ লেখা তার ‘দ্য রিমেইন্স অফ দ্যা ডে’ উপন্যাসটিই যেটি ঐ বছরই ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিল– আমার প্রথম পড়া কাজুওর লেখা। পড়েছিলাম ১৯৯০ সালে এবং বলতে দ্বিধা নেই, আমার এই উপন্যাস পড়াটি কোন বিচারেই সুখকর ছিল না এবং ফলে তার লেখা অপরাপর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আমি আর উৎসাহিত বোধ করিনি। কাজুও সম্মন্ধে আমার কৌতুহলের সেখানেই সাময়িক অবসান ঘটে। আমার এই মনোভাবের সমর্থন পরবর্তীতে খুঁজে পাই ‘দ্য টাইমস্’ পত্রিকায় প্রকাশিত নীল মুখার্জির সমালোচনা নিরীক্ষায়। তিনি লিখেছিলেন, কাজুও ইশিগুরো-র পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন ‘নকটার্নস্’ প্রসঙ্গেঁ, “… কাজুও ইশিগুরো তর্কাতিতভাবে অস্পষ্টতা, প্রান্তিক অবস্থান এবং অবিরাম পরিবর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব।” স্পষ্টতই বোঝা যায় নীল-এর মন্তব্য কূটাভাস আকীর্ণ এবং স্ববিরোধীও বটে কারণ একজন গল্প-উপন্যাস লেখক তার গল্পগাঁথুনীতে অস্পষ্ট, প্রান্তিক এবং অবিরাম পরিবর্তমান হয়েও প্রতিভাবান হতে পারে তার উদাহরণ বেশ অপ্রতুল।

অবশ্য উপরোক্ত সমালোচনাটি পড়েই আমি ২০০৯ সালে আরও একবার কাজুও ইশিগুরো পড়ায় উদ্বুদ্ধ হই। আমার এক পরদেশি সংযোগের মাধ্যমে বইটি সংগ্রহ করি। আগেই বলেছি বইটি এক ছোটগল্প সংকলন। সর্বমোট পাঁচটি গল্প সম্বলিত এই বইয়ের একটি উপনামও আছে–‘ফাইভ স্টোরিজ অব মিউজিক এ্যান্ড নাইটফল’-এই সংকলনের মূল শিরোনাম ‘নকটার্নস্’-এর সাথে মিল রয়েছে, যার অর্থ, ‘স্বপ্নিল সংগীতাংশ’। এ বইটি পড়ার অভিজ্ঞাও তেমন আনন্দদায়ক ছিল না আমার যদিও লেখক ভালবাসা, সংগীত এবং সময়ের গতিময়তার কথা পাঁচটি গল্পেরই প্রতিপাদ্য রূপে উত্তম পুরুষীয় বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছে। এই বৃত্তান্তলিপিকে কাজুও ইশিগুরো সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘অদ্যন্ত এক সমরূপী, সংগঠিত প্রক্ষেপ রূপে’ অর্থাৎ পুরো সংকলনে এক ঐক্যতানের অন্তস্রোত পাঁচটি গল্পকে একীভূত করেছে। এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনাটিই কাজুও ইশিগুরোকে লেখকরূপে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে। সম্ভবত ২০১৭ সালে তার সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাবার একটি অন্যতম মানদন্ড এই স্বাতন্ত্র্য। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com