বিশ্বসাহিত্য

ওডেসি অনুবাদে প্রথম নারী: অনুবাদকের সৃষ্টিশীলতাকে উপেক্ষা করা হয়

ফাতেমা খান | ১৩ december ২০১৭ ১:৪০ অপরাহ্ন

translatorগ্রীক পুরানের কাহিনীকে ভিত্তি করে রচিত হোমারের তিন হাজার পংক্তি সম্বলিত অমর আখ্যান ওডিসি মহাকাব্য গ্রীক থেকে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে সম্প্রতি। এই প্রথম কোনো নারী এটি অনুবাদ করলেন। তার নাম এমিলি উইলসন।
ওয়াট ম্যাসন প্যারিসের অপসৃয়মান গ্রীস্মের পড়ন্ত আলোয় এমিলি উইলিয়ামের এই অনুবাদটি পড়তে পড়তে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। ওয়াট ম্যাসন বলেন, ওডিসি আমাকে এতটা আচ্ছন্ন আগে কখনও করেনি। পাঁচমাত্রার নিখুঁত কাব্যের গাঁথুনীতে রচিত এর কাহিনী। এটি অনুবাদ করা তার পক্ষে সম্ভব হত না যদি তার কাব্য প্রতিভা এবং শিল্প আঙ্গিকের রূপ-রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা না থাকতো।

উইলসন ইংরেজী ক্লাসিক ও দর্শন নিয়ে ব্যাচেলর করেন অক্সফোর্ড থেকে। তারপর পিএইচডি শেষ করেন ইয়েল ইউনিভার্সিটির ক্লাসিক এবং তুলনামূলক ইংরেজীতে সাহিত্যে। ব্যাচেলর শেষ করার পর তার প্রিয় লেখকদের প্রিয় বইগুলি পূনরায় পড়া শুরু করেন। বিশেষ করে মিলটনের লেখার প্রতি ছিল তাঁর ভীষন ঝোঁক। মিলটনের ‘প্যারাডাইস লস্ট’ এর কথা অনেক জায়গায় বলেছেন। প্যারাডাইজ লস্ট এতটাই প্রিয় যে তার ডায়ালগও ব্যবহার করেছেন।
দাদীমা এলিসকে উৎসর্গ করা তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘মক উইথ ডেথ’ ওডিসিয়াসের ত্বত্তালোচনাকে বর্ধিত করেছিল । বইটি ছাপা হয়েছিল ২০০৪ এ। মিলটন, শেকস্পীয়ার, সেনেকা আর ইউরিপিডিস যেভাবে নশ্বরতাকে অবলোকন করেছেন সেভাবে এই বইটিতে তার মৃত্যু ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। যে ভাবনা মানুষ আদিকাল থেকে উপলব্ধি করে আসছে, “ আমরা একদিন হারিয়ে যাব এই পৃথিবী থেকে; সত্যি প্রতিদিন একটু একটু করে হারাচ্ছি আমরা।” (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যের স্বদেশ-বিদেশ, বিশ্বায়ন এবং ডায়াস্পোরা

মোজাফ্ফর হোসেন | ১ december ২০১৭ ১২:০১ অপরাহ্ন

diasporaবেশ কয়েক বছর থেকে ইউরোপ এবং আমেরিকায় ডায়াস্পোরা লেখকদের রাজত্ব চলছে। এক্ষেত্রে আমরা দেখছি স্বদেশ বা পিতৃমাতৃভূমের চেয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। ডায়াস্পোরা লেখকদের এই গ্রহণযোগ্যতা তৈরির কারণ দর্শিয়ে এবছর সাহিত্যে নোবেলজয়ী ডায়াস্পোরা লেখক ইশিগুরো বলছেন : ‘আশির দশকে উপন্যাসিক হিসেবে ব্রিটেনে আমি যে দ্রুত জায়গা করে নিতে পেরেছি এর অংশত কারণ হলো আমি এমন একটা সময় লিখতে শুরু করেছি যখন এই নব্যধারার আন্তর্জাতিকতাবাদের বড়রকমের চাহিদা তৈরি হয়েছিল—লন্ডনের প্রকাশক, সাহিত্য-সমালোচক এবং সাংবাদিকরা এমন একটা নতুন প্রজন্মের লেখকদের চেয়েছেন যারা প্রচলিত ইংরেজি সাহিত্যের ঐতিহ্য থেকে আলাদা…এবং আমি মনে করি, আমাকে সেখানে সাহিত্যমঞ্চের দৃশ্যপটে স্থান দেওয়া হয়েছে কারণ আমাকে আন্তর্জাতিক লেখক বলে তারা ভেবেছেন।’ (সম্পূর্ণ…)

অক্তাবিও পাস: ভারত এমন এক আধুনিকতা দিয়ে শুরু করেছে যা স্পানঞলদের চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৩ অপরাহ্ন

Mexican poet Octavio Paz
‘চিত্র: ভারতবর্ষ বিষয়ক স্বরচিত বই হাতে অক্তাবিও পাস
তিনি কেবল সৃষ্টিশীল কবিই ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাস ও রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, শিল্প ও সমাজতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বসহ মানবসভ্যতার নানান বিষয়ে পান্ডিত্যের অধিকারী ও ব্যাখ্যাকার। স্বাভাবিক কারণেই এ ধরনের ব্যক্তিত্ব গণমাধ্যমসহ বিদ্যায়তনের ভাবুক ও লেখকদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে মতামতের উৎস হয়ে ওঠেন। অক্তাবিও পাস তাই লেখালেখির বাইরেও জীবদ্দশায় লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ সাক্ষাৎকারদাতাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। অসংখ্য বিচ্ছিন্ন সাক্ষাৎকার ছাড়াও এককভাবে নেয়া তার সাক্ষাৎকারের আছে একাধিক গ্রন্থ, যেমন এলেনা পনিয়াতৌস্কার নেওয়া Las Palabras del Arbol কিংবা ব্রাউলিও পেরাল্তার নেয়া গ্রন্থ El Poeta en su tierra । স্বাভাবিক কারণেই তার বৃহদায়তনের সাক্ষাৎকারে অনিবার্যভাবে এসে পড়বে ভারতের প্রসঙ্গ যেহেতু সবারই জানা যে তিনি ভারতে মেহিকোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর এবং তার নানান ধরনের লেখায় রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির উল্লেখ ও সৃষ্টিশীল প্রভাব। কেবল, বিভিন্ন লেখাতেই নয়, গোটা একটি বই-ই তিনি লিখেছিলেন ভারতবর্ষ নিয়ে। সাংবাদিক ও লেখক ব্রাউলিও পেরাল্তা যখন পাসের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন তখন ভারতবর্ষ নিয়ে পাসের লেখা Vislumbres de la India বইটি মাত্র প্রকাশিত হয়েছে। ব্রাউলিও পেরাল্তার El Poeta en su tierra নামক গ্রন্থদীর্ঘ সাক্ষাৎকারের একটি পর্ব ছিল ভারতবর্ষ নিয়ে। পাস তার স্বভাবসুলভ স্বচ্ছতা ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণসহ মেহিকোর সাথে ভারতের বিভিন্ন দিক তুলনা করে দেখিয়েছেন পরস্পরের স্বাতন্ত্র্য ও সাযুজ্য, শক্তি ও দুর্বলতাগুলো। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন।
সাক্ষাৎকারগ্রহিতা ব্রাউলিও পেরাল্তার জন্ম ১৯৫৩ সালে মেহিকোর বেরাক্রুসের অন্তর্গত তুক্সপান-এ। পেশায় তিনি সাংবাদিক। La Jornada-র সাংবাদিক এবং পরে Equis, cultura y sociedad-এর সম্পাদক ব্রাউলিও পেরাল্তা পাসের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। সাক্ষাৎকারগুলো প্রকাশিত হয়েছিল unomasuno এবং La jornada নামক মেহিকোর প্রথম সারির দুটো পত্রিকায়। এগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে স্বয়ং পাস দেখে দিয়েছিলেন। বাংলা এ তর্জমাটি সাক্ষাৎকারগ্রহিতার অনুমতিসাপেক্ষে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

বাড়ির কাছে আরশি নগর: পাওলো কোয়েলো, ফরিদ উদ্দিন আত্তার এবং পিটার ব্রুক

হোসেন আলমগীর | ২৬ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

koheloব্রাজিলের ঔপন্যাসিক পাওলো কোয়েলো তাঁর ‘দি অ্যালকেমিস্ট’ উপন্যাসে পরমাত্মার অন্বেষণে মানুষের অভিযাত্রাকে রূপকের আশ্রয়ে বর্ণনা করেছেন। এ উপন্যাসের সাথে পারস্যের সুফি দর্শনের ঘনিষ্ট মিল লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে খোরসানের (বর্তমান ইরান) নিশাপুরের দার্শনিক ও কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তারের Manteq-At-Tair (Conference of the Birds)’ বা ‘পক্ষী সম্মেলন’র ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। খ্রীস্টিয় বারো শতকে আত্তার কবিতার মাধ্যমে পাঠকের কাছে যে দর্শন সহজবোধ্য করেছিলেন, বিশ শতকের অন্তে পাওলো কোয়েলো ‘দি অ্যালকেমিস্ট’ উপন্যাসে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন। দু-জনের বিষয় মূলত অভিন্ন- পরমাত্মার সন্ধান লাভ। বিশ্বখ্যাত নাট্য নির্দেশক পিটার ব্রুক এবং জ্যঁ ক্লদ কাহিয়ে মিলে আত্তারের কাহিনীর নাট্যরূপ দিয়েছিলেন। পিটার ব্রুক ছিলেন এ নাটকের নির্দেশক। নাটকটি প্রযোজনার আগে তিনি এবং তাঁর দল সাহারা মরুভূমিতে একটি দীর্ঘ সফরে অংশ নিয়েছিলেন । যেমন করেছিল ‘দি অ্যালকেমিস্ট’র সান্তিয়াগো, কিম্বা আত্তারের ত্রিশটি পাখি। এ সফরের মূল লক্ষ্য-সত্যানুসন্ধান। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং মেহিকোর সঙ্গে তার সংযোগ

অরুন্ধতী ভট্টাচার্য | ২৯ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৫৪ অপরাহ্ন

garcia-marquez-unoগাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের জন্ম কলোম্বিয়ায় হলেও কার্যত মেহিকোই হয়ে উঠেছিল তার জন্মভূমির মতো। সিআইএর তাড়া খেয়ে সেই যে ১৯৬১ সনের ২ জুলাই মাসে এই দেশটিতে আশ্রয় নিয়ে তারপর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কলম্বিয়ায় তিনি নিয়মিত যাতায়াত করলেও তার কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল মেহিকোই। পরে অবশ্য তিনি একেবারে স্থায়ীভাবেই আমৃত্যু মেহিকোতে থেকে যান। মেহিকোর সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে Televisa.news পত্রিকায় ৬ মার্চ ২০১৭ সালে Gabriel García Márquez y su relación con México শিরোনামে যে-নিবন্ধটি প্রকাশিত এটি তারই অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন প্রাবন্ধিক অনুবাদক অরুদ্ধতী ভট্টাচার্য। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরো: ১৯৮৯-এ ম্যান বুকার , ২০১৭-এ নোবেল বিজয়

আবদুস সেলিম | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪২ অপরাহ্ন

unnamed২০০৯ সালে আমি আমার এক ইংরেজি ফিচারে (৯ই অক্টোবর ২০০৯-এ ‘স্টার ইউকএএন্ড’ প্রকাশিত) কাজুও ইশিগুরোর প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম ঠিক কবে আমি তার লেখা পড়েছি আমার স্মরণে নেই–সম্ভবত ১৯৮৯-এ লেখা তার ‘দ্য রিমেইন্স অফ দ্যা ডে’ উপন্যাসটিই যেটি ঐ বছরই ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিল– আমার প্রথম পড়া কাজুওর লেখা। পড়েছিলাম ১৯৯০ সালে এবং বলতে দ্বিধা নেই, আমার এই উপন্যাস পড়াটি কোন বিচারেই সুখকর ছিল না এবং ফলে তার লেখা অপরাপর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আমি আর উৎসাহিত বোধ করিনি। কাজুও সম্মন্ধে আমার কৌতুহলের সেখানেই সাময়িক অবসান ঘটে। আমার এই মনোভাবের সমর্থন পরবর্তীতে খুঁজে পাই ‘দ্য টাইমস্’ পত্রিকায় প্রকাশিত নীল মুখার্জির সমালোচনা নিরীক্ষায়। তিনি লিখেছিলেন, কাজুও ইশিগুরো-র পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন ‘নকটার্নস্’ প্রসঙ্গেঁ, “… কাজুও ইশিগুরো তর্কাতিতভাবে অস্পষ্টতা, প্রান্তিক অবস্থান এবং অবিরাম পরিবর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব।” স্পষ্টতই বোঝা যায় নীল-এর মন্তব্য কূটাভাস আকীর্ণ এবং স্ববিরোধীও বটে কারণ একজন গল্প-উপন্যাস লেখক তার গল্পগাঁথুনীতে অস্পষ্ট, প্রান্তিক এবং অবিরাম পরিবর্তমান হয়েও প্রতিভাবান হতে পারে তার উদাহরণ বেশ অপ্রতুল।

অবশ্য উপরোক্ত সমালোচনাটি পড়েই আমি ২০০৯ সালে আরও একবার কাজুও ইশিগুরো পড়ায় উদ্বুদ্ধ হই। আমার এক পরদেশি সংযোগের মাধ্যমে বইটি সংগ্রহ করি। আগেই বলেছি বইটি এক ছোটগল্প সংকলন। সর্বমোট পাঁচটি গল্প সম্বলিত এই বইয়ের একটি উপনামও আছে–‘ফাইভ স্টোরিজ অব মিউজিক এ্যান্ড নাইটফল’-এই সংকলনের মূল শিরোনাম ‘নকটার্নস্’-এর সাথে মিল রয়েছে, যার অর্থ, ‘স্বপ্নিল সংগীতাংশ’। এ বইটি পড়ার অভিজ্ঞাও তেমন আনন্দদায়ক ছিল না আমার যদিও লেখক ভালবাসা, সংগীত এবং সময়ের গতিময়তার কথা পাঁচটি গল্পেরই প্রতিপাদ্য রূপে উত্তম পুরুষীয় বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছে। এই বৃত্তান্তলিপিকে কাজুও ইশিগুরো সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘অদ্যন্ত এক সমরূপী, সংগঠিত প্রক্ষেপ রূপে’ অর্থাৎ পুরো সংকলনে এক ঐক্যতানের অন্তস্রোত পাঁচটি গল্পকে একীভূত করেছে। এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনাটিই কাজুও ইশিগুরোকে লেখকরূপে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে। সম্ভবত ২০১৭ সালে তার সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাবার একটি অন্যতম মানদন্ড এই স্বাতন্ত্র্য। (সম্পূর্ণ…)

নোবেলজয়ী ইশিগুরোর সাক্ষাৎকার: কিছু কিছু ব্যাপারে তারা প্রবল জাতিবিদ্বেষী

নাহিদ আহসান | ১১ অক্টোবর ২০১৭ ১০:০১ অপরাহ্ন

Ishiguroকাজুও ইশিগুরো হঠাৎই যেন বিশ্বসাহিত্যের একজন প্রিয় লেখক হিসেবে জায়গা করে নিলেন। জাপানে জন্মেছেন তিনি , শৈশব কৈশোর কেটেছে ইংল্যান্ডে। সূক্ষ্ম নির্জন ভাষা ভঙ্গির উপন্যাস লেখেন তিনি। তার উপন্যাসের চরিত্ররা অদ্ভুত সব পরিস্হিতিতে তাদের অতীতের সাথে সম্পর্কযুক্ত থেকে যান । পঞ্চাশোর্ধ ইশিগুরো,তার স্মৃতি,তার দ্বিধা বিভক্ত ঐতিহ্য এবং তার সাম্প্রতিক উপন্যাস নিয়ে কথা বলেছেন্। তেইশ বছর ধরে মাত্র ছয়টি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। যার মধ্যে সাম্প্রতিকতম হচ্ছে,‘নেভার লেট মি গো’। জার্মান সাময়িকী Der Spiegel-এর অনলাইন ইংরেজি সংস্করণে ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবরে ইশিগুরোর একটি সাক্ষাৎকার গৃহীত হয়। সাক্ষাৎকরাটি নিয়েছিলেন Michael Scott Moore এবং Michael Sontheimer, এই সাক্ষাৎকারে ইশিগুরো নেভার লেট মি গো ছাড়াও তার অন্যান্য উপন্যাস নিয়েও কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারছি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও অনুবাদক নাহিদ আহসান। বি, স

Der Spiegel: গত ২৩ বছরে আপনার নেভার লেট মি গো ষষ্ঠ উপন্যাস। মনে হচ্ছে আপনার লেখালিখির গতি খুব ধীর। কেন বলুনতো?
ইশিগুরো: আসলে আমার কখনও মনে হয়নি যে আরও দ্রুত লেখা দরকার। আমি কখনো ভাবিনি আরও বই বের করা জরুরী। কিছুটা ভিন্নধর্মী বই লেখাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ।
Der Spiegel: আপনার বইয়ের বিক্রয় সংখ্যা তো ইতিমধ্যে দশ লক্ষ কপি ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া আঠাশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

স্মৃতির স্থিতি ও বিলয় : প্রেক্ষিত কাজুও ইশিগুরোর “দ্য ব্যারিড জায়ান্ট”

শাকিলা পারভীন বীথি | ৮ অক্টোবর ২০১৭ ৮:১৪ অপরাহ্ন

kazuo-1কাজুও ইশিগুরো প্রথম উপন্যাস লেখেন দশ বছর ধরে যা একই সাথে সাহিত্য জগতের এক নতুন ঘটনা এবং পত্রিকার খবরে পরিণত হয় । ম্যান বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত “The Remains of the Day” এর লেখক ইতিহাসের অনেক গভীরে প্রবেশ করেন এমন এক গল্পের বয়ানে যেখানে কোন দম্পতির যাত্রা পথের কাহিনী ও এক মহৎ সভ্যতার রহস্যময়তার যুগপৎ অবস্থান । দ্য ব্যারিড জায়ান্ট উপন্যাসের বুনন রাজা আর্থার এর যুগের ইংল্যান্ডের সময়াশ্রিত । কিন্তু এ ক্যামিলটের গল্প নয় যা রাজকীয় ব্যক্তি, ধূর্ত জাদুকর, সদর্পে পদচারণা করা ঘোড়া আর সাহসী অভিযানে ঠাঁসা ।

এনপিআর এর প্রতিনিধি স্কট সিমন কে দেয়া সাক্ষাতকারে ইশিগুরো জানান তিনি সেভাবেই লিখতে চান যেভাবে সমাজ মনে রাখে বা ভুলে যায় তার ইতিহাসের কথা , ইতিহাসের বাঁকে বিস্মৃত চোরাবালির কথা । “ আমার ভীষণ ইচ্ছে করে এ সময়ের ঘটনাগুলো লিখে রাখি; যুগোস্লোভিয়ার বিচ্ছিনতা, রুয়ান্ডার গণহত্যা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ফ্রান্সের কথা। কিন্তু দিন শেষে আমি চাইনি তেমন একটা সময় ও স্থানের আশ্রয়ে সেই গল্পগুলো বলতে । আমি এমন কোন বই লিখতে চাইনি যা পত্রিকার প্রতিবেদন হয়ে দাঁড়ায় । একজন উপন্যাসিক হিসেবে আমি বার বার ফিরে গেছি আরো গভীরভাবে রুপকাশ্রিত বুননে ।”

চৌম্বক অংশ :
প্রাথমিকভাবে এটি একটি প্রেমের উপন্যাস। কিন্তু তোমরা জানো, প্রেমের গল্প বলতে কেমন মিলনের গল্প জেগে ওঠে আমাদের কল্পনায় । আর তা প্রেমে পড়ার নানাবিধ উপকরণে সাজানো। কিন্তু এটি সে অর্থে কোন প্রেমের গল্প নেয়। বরং বলা যায় , উপন্যাসটি প্রেমের পথে ধাবিত হবার গল্প বলে। আমি আগেই বলেছিলাম সামাজিকভাবে স্মৃতি বা বিস্মৃতির পালাবদল কেমন প্রশ্নের জন্ম দেয় আমার মনে । যেমনটা দেয় সমাজের ঘৃণিত ইতিহাস চাপা দেবার বিষয়টি। একই বিষয়ের প্রতিফলন আমরা বিবাহিত জীবনেও দেখি। এই উপন্যাসের কেন্দ্রে তেমনই জীবনযাত্রা দেখি। এক বৃদ্ধ দম্পতি স্মৃতির অন্বেষণে শেষবারের পথে নামে । সময় ও স্থানকে ডিঙিয়ে তাঁরা তা অনুভব করতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরোর সাক্ষাৎকার: দস্তয়ভস্কির নিদারুণ বিশৃঙ্খলায় আমি ঈর্ষাবোধ করি

বিনয় বর্মন | ৮ অক্টোবর ২০১৭ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

Kazuo২০১৭ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী কথাসাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরোর ভূমিকা সম্বলিত এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় বম্ব সাময়িকীর ২৯তম সংখ্যায় (ফল ১৯৮৯)। লন্ডনে বসে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন আরেক জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক গ্রাহাম সুইফট। এটি অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন।

কাজুও ইশিগুরো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস অ্যান আর্টিস্ট অব দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড প্রকাশের পর থেকে। এটি ১৯৮৬ সালে হুইটব্রেড বুক অব দ্য ইয়ার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয় এবং বুকারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায়। বইটি লেখা পূর্বতন সময়কার একজন চিত্রকরকে নিয়ে তিনি পোস্ট-ওয়ার রিভিশনিস্ট কালচারের শিকারে পরিণত হন। তিরিশের দশকের ভুল রাজনৈতিক আদর্শের জন্য তাকে নানাভাবে হেনস্তা হতে হয়। বছরের শেষদিকে কনম্ফ থেকে প্রকাশিত দ্য রিমেইন্স অব দ্য ডে প্রায় একই বিষয় নিয়ে রচিত। এখানে গল্পের কথক হিসেবে দেখা মেলে একজন ইংরেজ বাটলারের যিনি তিরিশের দশকের একজন সম্ভ্রান্ত শীর্ষ রাজনীতিকের সেবাকর্মে নিয়োজিত থাকার সময়কার স্মৃতিচারণ করেন।

অন্যদিকে, স্টিভেন্স এক গৌরবময় সৃষ্টি, বাইরে কঠিন, স্পর্শগতভাবে অন্ধ এবং ভেতরে দুঃখভারাতুর। কিভাবে ‘মহৎ’ বাটলার হওয়া যায়, মর্যাদা কী এবং কিভাবে মজা করার দক্ষতা অর্জন করা যায় তা ভেবে ভেবে তিনি হয়রান। ইশিগুরোর নির্মাণশৈলিতে, সংবেদনশীলতার সূক্ষ্ম স্পর্শে তার চরিত্র একদিকে হালকা হাসির খোরাকে পরিণত হয়, অন্যদিকে সে জমাটবাঁধা আবেগের গভীর বিষণ্ণতাকে প্রকট করে তোলে। তিরিশের দশকের ব্রিটিশ অ্যান্টি-সেমিটিজমের নিরব পরীক্ষা আছে এই উপন্যাসের মর্মমূলে। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরোর দ্য রিমেইন্স অফ দ্য ডে – এক আত্মপ্রতারকের প্রতিকৃতি

যুবায়ের মাহবুব | ৬ অক্টোবর ২০১৭ ৩:৫৫ অপরাহ্ন

Kazuo-1পাঠকসমাজে যুগপৎ বিস্ময় ও পুলক সৃষ্টি করে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতলেন কাজুও ইশিগুরো। বিস্ময়, কারণ আলাপটা মোটামুটি সীমাবদ্ধ ছিল মুরাকামি-নগুগি-কাদারে-আদুনিস-অ্যাটউড এই কয়েকজনকে ঘিরে। পুরস্কারের কয়েকদিন আগেও মার্কিন পত্রিকা নিউ রিপাবলিক প্রায় ৮০জন সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকা বানিয়ে যে প্রবন্ধ ছেপেছিল, সেখানে ইশিগুরোর নাম একবারও উচ্চারিত হয়নি। পুরোদস্তুর আউটসাইডার হিসেবেই ছিনিয়ে নিলেন তিনি এবারের নোবেল। তদুপরি, টানা দুই বছর একই ভাষার লেখককে পুরস্কৃত করার রেওয়াজ নেই খুব একটা, বব ডিলানের পরপরই ইশিগুরোকে সম্মানিত করে সুইডিশ একাডেমি সেই সমীকরণটাও ভেঙে দিলেন।

আর পুলক, কারণ তার লেখনীর সাথে যারা পরিচিত, তারা জানেন ইশিগুরোর কলমের প্রকৃত শক্তি। জানেন যে ওঁর শ্রেষ্ঠ বইগুলো সঙ্গত কারণেই আধুনিক সাহিত্যের সেরা সংগ্রহের মাঝে স্থান করে নিয়েছে, ইতিমধ্যে অনূদিত হয়েছে চল্লিশটি ভাষায়।

এতক্ষণে সবাই জেনে গেলেও জীবনীটি আরেকবার ঝালাই করাই যায়। এটম বোমা বিস্ফোরণের নয় বছর পরে ১৯৫৪ সালে জাপানের নাগাসাকিতে জন্মগ্রহণ করেন কাজুও ইশিগুরো। তার বয়স যখন ছয়, তখন পুরো পরিবার চলে আসে বিলেতে, লন্ডনের অদূরে সারে কাউন্টিতে বেড়ে ওঠেন তিনি। পড়াশোনা কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে, অতঃপর ঈস্ট অ্যাঙ্গলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, এবং সেখান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এই প্রোগ্রাম থেকেই বেরিয়ে আসে তার প্রথম উপন্যাস, ১৯৮২ সালে। (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যে নোবেল : কাজুও ইশিগুরোর উপন্যাসের অত্যাশ্চর্য ভুবন

কামরুল হাসান | ৬ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

Ishiguroসবাইকে চমকে দিয়ে এবছরের সাহিত্যে নোবেল পেলেন এমন একজন লেখক যার নামটি গত কয়েক বছরের নোবেল পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ওঠেনি, বাজিকরদের হাঁকডাকের মাঝেও তিনি ছিলেন না। সাম্প্রতিক সময়ে নোবেল কমিটি সাহিত্য দুনিয়াকে চমকের পর চমক উপহার দিয়ে চলেছে; সকল অনুমান ও প্রত্যাশাকে উল্টে দিয়ে তারা ধ্রুপদী অর্থে সাহিত্যিক নন এমন ব্যক্তিদেরও পুরস্কারের আওতায় নিয়ে এসেছেন। গত বছর তারা পুরস্কারটি দিলেন কোন ঔপন্যাসিক বা কবিকে নন, একজন সঙ্গীতস্রষ্ট্রা বব ডিলানকে, তারও আগে একজন সাংবাদিককে যিনি চেরনোবিল দুর্ঘটনা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের স্মৃতিকথা সংগ্রহ করেছিলেন। দুটো পুরস্কারই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল সাহিত্যমোদী দুনিয়ায়, কিন্তু নোবেল কমিটির সদস্যরা সেসব গ্রাহ্য করেন নি। তারা চেয়েছিলেন সাহিত্যের সংজ্ঞার পরিধি বাড়াতে। এবার নোবেল ফিরে এলো সাহিত্যের প্রচলিত ঘরানায়- উপন্যাসে– সাহিত্যের যে শাখাটি অন্য সব শাখাকে বারংবার হারিয়ে দিয়েছে ঐ পুরস্কার প্রাপ্তির বিবেচনায়। এবার যিনি পেলেন তিনি জাপানি বংশোদ্ভূত, শুনে মনে হবে এবার পুরস্কারটি বুঝি জাপানের ঘরে গেল। কিন্তু জাপানের নাগাসাকিতে জন্ম নেয়া কাজুও ইশিগুরোর আর কোন জাপানি পরিচয় নেই। শৈশবে পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবার সাথে জাপান ছেড়ে আসার পর তিনি প্রথম জাপান সফরে গিয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সে এক সাহিত্যসভায় যোগ দিতে। তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা ইংল্যান্ডে, তিনি লিখেনও ইংরেজিতে, নোবেল পুরস্কারটি জাপান নয়, গেছে ইংল্যান্ডের থলিতে, যে ভাষাটি পুরস্কার পেল সেটি জাপানি নয়, ইংরেজি। তবে তার মানে এই নয় যে তিনি অখ্যাত কোন লেখক, আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের পরিমণ্ডলে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয় তার নাম, সাহিত্যের জন্য অনেক আগেই জিতেছেন মান বুকার প্রাইজ এবং আরও কিছু পুরস্কার। রানী তাকে ‘অর্ডার অব ব্রিটিশ আম্পায়ারে’ ভূষিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে জাপানি লেখকের নাম ঘুরে-ফিরে নোবেল কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায়, বুকিদের অনুমান ও বোদ্ধাদের ধারণায় থাকতো তিনি হারুকি মুরাকামি, কাজুও ইশিগুরো নন। সুতরাং তাঁর নোবেল প্রাপ্তি কেবল সাহিত্য দুনিয়াকেই চমকিত করেনি, স্বয়ং লেখক ভীষণ চমকে গেছেন। প্রথমে ভেবেছিলেন ভুল শুনেছেন বা কেউ তার সাথে মজা করছে। তিনি তার বিস্ময় লুকান নি, বলেছেন এটা অপ্রত্যাশিত এক আনন্দ বয়ে এনেছে। নোবেলের ইতিহাসে এ পর্যন্ত যে ১১৪জন সাহিত্যিককে এই বিরল সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে তাদের সারিতে উঠতে পারাটা গর্বের। নোবেল প্রদানের ঘোষণায় সুইডেনের নোবেল কমিটি ইশিগুরোর উপন্যাসের ‘প্রবল আবেগময় শক্তি’ ও ‘জগতের সাথে সম্পর্কে নির্মাণে আমাদের যে ইন্দ্রিয়জ বিভ্রান্তি জন্মে তার সুগভীরতা’ তুলে ধরার প্রশংসা করেন। (সম্পূর্ণ…)

দুটি চিনা কবিতার অনুবাদ ও প্রাসঙ্গিক সূত্র

কিশোর বিশ্বাস | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:১৯ অপরাহ্ন

[ মুখবন্ধ: কবি কামিনী রায়ের “দুটি কবিতার” নামের আদলে এই কলামের নামকরণ । এখানে মূলতঃ বিখ্যাত কিছু চীনা কবিতার বাংলা অনুবাদ এবং অনুবাদের রেশ ধরে চীনা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির রূপ-রস ও নানা আঙ্গিক বাংলাভাষীদের কাছে তুলে ধরাই মূল প্রতিপাদ্য । ছোট ছোট পর্বে ভাগ করা এই লেখায় প্রতিবার পরিবেশন করা হবে দুটি করে চীনা কবিতার অনুবাদ। সঙ্গে থাকবে আনুষঙ্গিক শব্দার্থ ও সরল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। হায়ারোগ্লিফিক্সের কঙ্কালের উপর চীনা সাহিত্যের যে হৃষ্টপুষ্ট সুমধুর অবয়ব, সরল বাংলায় তার স্বরূপ অবলোকন ও নিরূপণে লেখকের চেষ্টা থাকবে অকৃপণ ।
তবে অনুবাদ নিয়ে এখানে যে দুটি কথা না বললেই নয়, তাহলো “ভাব” ভাষান্তরিত হলে অনূদিত ভাবার্থের মাঝে প্রায়শই কিছু না কিছু অন্তরায় থেকে যায় । যেমন “আমড়া কাঠের ঢেঁকি” কিংবা “উদোর পিণ্ডী বুদোর ঘাড়ে” কথাগুলোর ভাবার্থ পরিপূর্ণভাবে অন্যসব ভাষায় অনুবাদ করা প্রায় অসম্ভব । কেননা যে ভাষায় অনুবাদ করতে হবে সেই ভাষা- সংস্কৃতিতে আমড়া গাছ, ঢেঁকি বা পিণ্ডীর ধারণাগুলো থাকতে হবে । এসবের অনুপস্থিতিতে অন্য কোন উপমা দিয়ে অনুবাদ করা যদিও যায় তাতেও মূল ভাবের আদি রসে টান পড়ে বৈকি । দ্বিতীয়ত, বিবিধ বিষয়বস্তু অনুবাদের মধ্যে কবিতা আর গানের অনুবাদ সবচেয়ে বেশি দুরূহ। এর কারণ, কবিতা আর গানে ভাবের প্রকাশ ঘনীভূত; অল্প কথায় বেশি ভাব, তা রূপক আর ঘটনায় বৈচিত্র্যময়। কবিতার অন্তর্নিহিত অর্থ অনেকাংশেই স্থান, কাল, পাত্র ও সমসাময়িক সমাজ-নির্ভর, যার প্রসঙ্গ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা বুঝতে ছোটবেলায় আমাদের বিদ্যালয়ে কখনো বা পণ্ডিত মশাইয়ের বেত্রও অপরিহার্য হতো । তদুপরি এই লেখায় কবিতা অনুবাদের ক্ষেত্রে কতগুলো বিশেষ লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে । যেমন, প্রাচীন চিনা কবিতাগুলো বাংলায় অনুবাদের সময় মূলভাব অপরিবর্তিত রাখা, হুবহু বা সমার্থক প্রচলিত উপমা ব্যবহার করা, মূল কবিতার ছন্দ ও মাত্রা অনূদিত বাংলা কবিতাতেও অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সর্বোপরি সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষার ব্যবহারে এই “কবিতানুবাদকে” মূল কবিতার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া ।
এতগুলো শর্ত মেনে লেখকের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে সর্বাঙ্গ সুন্দর অনুবাদ হয়ত সম্ভব নয় । তাই এই লেখাটি আগ্রহী পাঠক, বিজ্ঞ অনুবাদক ও সমালোচকদের জন্য উন্মুক্ত রইল । অনুবাদগুলো পড়ে কারো যদি কোন মূল্যবান মতামত, সংশোধন বা দিকনির্দেশনা থাকে আমরা তা সবিনয়ে স্বাগত জানাই । যাহোক, কবিতানুবাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আশা করি কোনো কাব্যপ্রেমিক একে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো বলে ভাববেন না । বরং অচেনা চিনা দুগ্ধামৃতের ননি একটু একটু করে তুলে ধরে, চিনা ভাষা জানা বা না জানা সবার কাছে কিঞ্চিত চৈনিক কাব্য রস পৌঁছে দিতে পারলেই লেখকের এ উদ্যোগ সার্থক হবে । চলুন এবার “ধান ভানতে” মনোনিবেশ করা যাক …] (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com