বিশ্বসাহিত্য

কাজুও ইশিগুরো: ১৯৮৯-এ ম্যান বুকার , ২০১৭-এ নোবেল বিজয়

আবদুস সেলিম | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪২ অপরাহ্ন

unnamed২০০৯ সালে আমি আমার এক ইংরেজি ফিচারে (৯ই অক্টোবর ২০০৯-এ ‘স্টার ইউকএএন্ড’ প্রকাশিত) কাজুও ইশিগুরোর প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম ঠিক কবে আমি তার লেখা পড়েছি আমার স্মরণে নেই–সম্ভবত ১৯৮৯-এ লেখা তার ‘দ্য রিমেইন্স অফ দ্যা ডে’ উপন্যাসটিই যেটি ঐ বছরই ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিল– আমার প্রথম পড়া কাজুওর লেখা। পড়েছিলাম ১৯৯০ সালে এবং বলতে দ্বিধা নেই, আমার এই উপন্যাস পড়াটি কোন বিচারেই সুখকর ছিল না এবং ফলে তার লেখা অপরাপর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আমি আর উৎসাহিত বোধ করিনি। কাজুও সম্মন্ধে আমার কৌতুহলের সেখানেই সাময়িক অবসান ঘটে। আমার এই মনোভাবের সমর্থন পরবর্তীতে খুঁজে পাই ‘দ্য টাইমস্’ পত্রিকায় প্রকাশিত নীল মুখার্জির সমালোচনা নিরীক্ষায়। তিনি লিখেছিলেন, কাজুও ইশিগুরো-র পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন ‘নকটার্নস্’ প্রসঙ্গেঁ, “… কাজুও ইশিগুরো তর্কাতিতভাবে অস্পষ্টতা, প্রান্তিক অবস্থান এবং অবিরাম পরিবর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব।” স্পষ্টতই বোঝা যায় নীল-এর মন্তব্য কূটাভাস আকীর্ণ এবং স্ববিরোধীও বটে কারণ একজন গল্প-উপন্যাস লেখক তার গল্পগাঁথুনীতে অস্পষ্ট, প্রান্তিক এবং অবিরাম পরিবর্তমান হয়েও প্রতিভাবান হতে পারে তার উদাহরণ বেশ অপ্রতুল।

অবশ্য উপরোক্ত সমালোচনাটি পড়েই আমি ২০০৯ সালে আরও একবার কাজুও ইশিগুরো পড়ায় উদ্বুদ্ধ হই। আমার এক পরদেশি সংযোগের মাধ্যমে বইটি সংগ্রহ করি। আগেই বলেছি বইটি এক ছোটগল্প সংকলন। সর্বমোট পাঁচটি গল্প সম্বলিত এই বইয়ের একটি উপনামও আছে–‘ফাইভ স্টোরিজ অব মিউজিক এ্যান্ড নাইটফল’-এই সংকলনের মূল শিরোনাম ‘নকটার্নস্’-এর সাথে মিল রয়েছে, যার অর্থ, ‘স্বপ্নিল সংগীতাংশ’। এ বইটি পড়ার অভিজ্ঞাও তেমন আনন্দদায়ক ছিল না আমার যদিও লেখক ভালবাসা, সংগীত এবং সময়ের গতিময়তার কথা পাঁচটি গল্পেরই প্রতিপাদ্য রূপে উত্তম পুরুষীয় বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছে। এই বৃত্তান্তলিপিকে কাজুও ইশিগুরো সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘অদ্যন্ত এক সমরূপী, সংগঠিত প্রক্ষেপ রূপে’ অর্থাৎ পুরো সংকলনে এক ঐক্যতানের অন্তস্রোত পাঁচটি গল্পকে একীভূত করেছে। এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনাটিই কাজুও ইশিগুরোকে লেখকরূপে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে। সম্ভবত ২০১৭ সালে তার সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাবার একটি অন্যতম মানদন্ড এই স্বাতন্ত্র্য। (সম্পূর্ণ…)

নোবেলজয়ী ইশিগুরোর সাক্ষাৎকার: কিছু কিছু ব্যাপারে তারা প্রবল জাতিবিদ্বেষী

নাহিদ আহসান | ১১ অক্টোবর ২০১৭ ১০:০১ অপরাহ্ন

Ishiguroকাজুও ইশিগুরো হঠাৎই যেন বিশ্বসাহিত্যের একজন প্রিয় লেখক হিসেবে জায়গা করে নিলেন। জাপানে জন্মেছেন তিনি , শৈশব কৈশোর কেটেছে ইংল্যান্ডে। সূক্ষ্ম নির্জন ভাষা ভঙ্গির উপন্যাস লেখেন তিনি। তার উপন্যাসের চরিত্ররা অদ্ভুত সব পরিস্হিতিতে তাদের অতীতের সাথে সম্পর্কযুক্ত থেকে যান । পঞ্চাশোর্ধ ইশিগুরো,তার স্মৃতি,তার দ্বিধা বিভক্ত ঐতিহ্য এবং তার সাম্প্রতিক উপন্যাস নিয়ে কথা বলেছেন্। তেইশ বছর ধরে মাত্র ছয়টি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। যার মধ্যে সাম্প্রতিকতম হচ্ছে,‘নেভার লেট মি গো’। জার্মান সাময়িকী Der Spiegel-এর অনলাইন ইংরেজি সংস্করণে ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবরে ইশিগুরোর একটি সাক্ষাৎকার গৃহীত হয়। সাক্ষাৎকরাটি নিয়েছিলেন Michael Scott Moore এবং Michael Sontheimer, এই সাক্ষাৎকারে ইশিগুরো নেভার লেট মি গো ছাড়াও তার অন্যান্য উপন্যাস নিয়েও কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারছি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও অনুবাদক নাহিদ আহসান। বি, স

Der Spiegel: গত ২৩ বছরে আপনার নেভার লেট মি গো ষষ্ঠ উপন্যাস। মনে হচ্ছে আপনার লেখালিখির গতি খুব ধীর। কেন বলুনতো?
ইশিগুরো: আসলে আমার কখনও মনে হয়নি যে আরও দ্রুত লেখা দরকার। আমি কখনো ভাবিনি আরও বই বের করা জরুরী। কিছুটা ভিন্নধর্মী বই লেখাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ।
Der Spiegel: আপনার বইয়ের বিক্রয় সংখ্যা তো ইতিমধ্যে দশ লক্ষ কপি ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া আঠাশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

স্মৃতির স্থিতি ও বিলয় : প্রেক্ষিত কাজুও ইশিগুরোর “দ্য ব্যারিড জায়ান্ট”

শাকিলা পারভীন বীথি | ৮ অক্টোবর ২০১৭ ৮:১৪ অপরাহ্ন

kazuo-1কাজুও ইশিগুরো প্রথম উপন্যাস লেখেন দশ বছর ধরে যা একই সাথে সাহিত্য জগতের এক নতুন ঘটনা এবং পত্রিকার খবরে পরিণত হয় । ম্যান বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত “The Remains of the Day” এর লেখক ইতিহাসের অনেক গভীরে প্রবেশ করেন এমন এক গল্পের বয়ানে যেখানে কোন দম্পতির যাত্রা পথের কাহিনী ও এক মহৎ সভ্যতার রহস্যময়তার যুগপৎ অবস্থান । দ্য ব্যারিড জায়ান্ট উপন্যাসের বুনন রাজা আর্থার এর যুগের ইংল্যান্ডের সময়াশ্রিত । কিন্তু এ ক্যামিলটের গল্প নয় যা রাজকীয় ব্যক্তি, ধূর্ত জাদুকর, সদর্পে পদচারণা করা ঘোড়া আর সাহসী অভিযানে ঠাঁসা ।

এনপিআর এর প্রতিনিধি স্কট সিমন কে দেয়া সাক্ষাতকারে ইশিগুরো জানান তিনি সেভাবেই লিখতে চান যেভাবে সমাজ মনে রাখে বা ভুলে যায় তার ইতিহাসের কথা , ইতিহাসের বাঁকে বিস্মৃত চোরাবালির কথা । “ আমার ভীষণ ইচ্ছে করে এ সময়ের ঘটনাগুলো লিখে রাখি; যুগোস্লোভিয়ার বিচ্ছিনতা, রুয়ান্ডার গণহত্যা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ফ্রান্সের কথা। কিন্তু দিন শেষে আমি চাইনি তেমন একটা সময় ও স্থানের আশ্রয়ে সেই গল্পগুলো বলতে । আমি এমন কোন বই লিখতে চাইনি যা পত্রিকার প্রতিবেদন হয়ে দাঁড়ায় । একজন উপন্যাসিক হিসেবে আমি বার বার ফিরে গেছি আরো গভীরভাবে রুপকাশ্রিত বুননে ।”

চৌম্বক অংশ :
প্রাথমিকভাবে এটি একটি প্রেমের উপন্যাস। কিন্তু তোমরা জানো, প্রেমের গল্প বলতে কেমন মিলনের গল্প জেগে ওঠে আমাদের কল্পনায় । আর তা প্রেমে পড়ার নানাবিধ উপকরণে সাজানো। কিন্তু এটি সে অর্থে কোন প্রেমের গল্প নেয়। বরং বলা যায় , উপন্যাসটি প্রেমের পথে ধাবিত হবার গল্প বলে। আমি আগেই বলেছিলাম সামাজিকভাবে স্মৃতি বা বিস্মৃতির পালাবদল কেমন প্রশ্নের জন্ম দেয় আমার মনে । যেমনটা দেয় সমাজের ঘৃণিত ইতিহাস চাপা দেবার বিষয়টি। একই বিষয়ের প্রতিফলন আমরা বিবাহিত জীবনেও দেখি। এই উপন্যাসের কেন্দ্রে তেমনই জীবনযাত্রা দেখি। এক বৃদ্ধ দম্পতি স্মৃতির অন্বেষণে শেষবারের পথে নামে । সময় ও স্থানকে ডিঙিয়ে তাঁরা তা অনুভব করতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরোর সাক্ষাৎকার: দস্তয়ভস্কির নিদারুণ বিশৃঙ্খলায় আমি ঈর্ষাবোধ করি

বিনয় বর্মন | ৮ অক্টোবর ২০১৭ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

Kazuo২০১৭ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী কথাসাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরোর ভূমিকা সম্বলিত এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় বম্ব সাময়িকীর ২৯তম সংখ্যায় (ফল ১৯৮৯)। লন্ডনে বসে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন আরেক জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক গ্রাহাম সুইফট। এটি অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন।

কাজুও ইশিগুরো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস অ্যান আর্টিস্ট অব দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড প্রকাশের পর থেকে। এটি ১৯৮৬ সালে হুইটব্রেড বুক অব দ্য ইয়ার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয় এবং বুকারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায়। বইটি লেখা পূর্বতন সময়কার একজন চিত্রকরকে নিয়ে তিনি পোস্ট-ওয়ার রিভিশনিস্ট কালচারের শিকারে পরিণত হন। তিরিশের দশকের ভুল রাজনৈতিক আদর্শের জন্য তাকে নানাভাবে হেনস্তা হতে হয়। বছরের শেষদিকে কনম্ফ থেকে প্রকাশিত দ্য রিমেইন্স অব দ্য ডে প্রায় একই বিষয় নিয়ে রচিত। এখানে গল্পের কথক হিসেবে দেখা মেলে একজন ইংরেজ বাটলারের যিনি তিরিশের দশকের একজন সম্ভ্রান্ত শীর্ষ রাজনীতিকের সেবাকর্মে নিয়োজিত থাকার সময়কার স্মৃতিচারণ করেন।

অন্যদিকে, স্টিভেন্স এক গৌরবময় সৃষ্টি, বাইরে কঠিন, স্পর্শগতভাবে অন্ধ এবং ভেতরে দুঃখভারাতুর। কিভাবে ‘মহৎ’ বাটলার হওয়া যায়, মর্যাদা কী এবং কিভাবে মজা করার দক্ষতা অর্জন করা যায় তা ভেবে ভেবে তিনি হয়রান। ইশিগুরোর নির্মাণশৈলিতে, সংবেদনশীলতার সূক্ষ্ম স্পর্শে তার চরিত্র একদিকে হালকা হাসির খোরাকে পরিণত হয়, অন্যদিকে সে জমাটবাঁধা আবেগের গভীর বিষণ্ণতাকে প্রকট করে তোলে। তিরিশের দশকের ব্রিটিশ অ্যান্টি-সেমিটিজমের নিরব পরীক্ষা আছে এই উপন্যাসের মর্মমূলে। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরোর দ্য রিমেইন্স অফ দ্য ডে – এক আত্মপ্রতারকের প্রতিকৃতি

যুবায়ের মাহবুব | ৬ অক্টোবর ২০১৭ ৩:৫৫ অপরাহ্ন

Kazuo-1পাঠকসমাজে যুগপৎ বিস্ময় ও পুলক সৃষ্টি করে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতলেন কাজুও ইশিগুরো। বিস্ময়, কারণ আলাপটা মোটামুটি সীমাবদ্ধ ছিল মুরাকামি-নগুগি-কাদারে-আদুনিস-অ্যাটউড এই কয়েকজনকে ঘিরে। পুরস্কারের কয়েকদিন আগেও মার্কিন পত্রিকা নিউ রিপাবলিক প্রায় ৮০জন সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকা বানিয়ে যে প্রবন্ধ ছেপেছিল, সেখানে ইশিগুরোর নাম একবারও উচ্চারিত হয়নি। পুরোদস্তুর আউটসাইডার হিসেবেই ছিনিয়ে নিলেন তিনি এবারের নোবেল। তদুপরি, টানা দুই বছর একই ভাষার লেখককে পুরস্কৃত করার রেওয়াজ নেই খুব একটা, বব ডিলানের পরপরই ইশিগুরোকে সম্মানিত করে সুইডিশ একাডেমি সেই সমীকরণটাও ভেঙে দিলেন।

আর পুলক, কারণ তার লেখনীর সাথে যারা পরিচিত, তারা জানেন ইশিগুরোর কলমের প্রকৃত শক্তি। জানেন যে ওঁর শ্রেষ্ঠ বইগুলো সঙ্গত কারণেই আধুনিক সাহিত্যের সেরা সংগ্রহের মাঝে স্থান করে নিয়েছে, ইতিমধ্যে অনূদিত হয়েছে চল্লিশটি ভাষায়।

এতক্ষণে সবাই জেনে গেলেও জীবনীটি আরেকবার ঝালাই করাই যায়। এটম বোমা বিস্ফোরণের নয় বছর পরে ১৯৫৪ সালে জাপানের নাগাসাকিতে জন্মগ্রহণ করেন কাজুও ইশিগুরো। তার বয়স যখন ছয়, তখন পুরো পরিবার চলে আসে বিলেতে, লন্ডনের অদূরে সারে কাউন্টিতে বেড়ে ওঠেন তিনি। পড়াশোনা কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে, অতঃপর ঈস্ট অ্যাঙ্গলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, এবং সেখান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এই প্রোগ্রাম থেকেই বেরিয়ে আসে তার প্রথম উপন্যাস, ১৯৮২ সালে। (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যে নোবেল : কাজুও ইশিগুরোর উপন্যাসের অত্যাশ্চর্য ভুবন

কামরুল হাসান | ৬ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

Ishiguroসবাইকে চমকে দিয়ে এবছরের সাহিত্যে নোবেল পেলেন এমন একজন লেখক যার নামটি গত কয়েক বছরের নোবেল পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ওঠেনি, বাজিকরদের হাঁকডাকের মাঝেও তিনি ছিলেন না। সাম্প্রতিক সময়ে নোবেল কমিটি সাহিত্য দুনিয়াকে চমকের পর চমক উপহার দিয়ে চলেছে; সকল অনুমান ও প্রত্যাশাকে উল্টে দিয়ে তারা ধ্রুপদী অর্থে সাহিত্যিক নন এমন ব্যক্তিদেরও পুরস্কারের আওতায় নিয়ে এসেছেন। গত বছর তারা পুরস্কারটি দিলেন কোন ঔপন্যাসিক বা কবিকে নন, একজন সঙ্গীতস্রষ্ট্রা বব ডিলানকে, তারও আগে একজন সাংবাদিককে যিনি চেরনোবিল দুর্ঘটনা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের স্মৃতিকথা সংগ্রহ করেছিলেন। দুটো পুরস্কারই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল সাহিত্যমোদী দুনিয়ায়, কিন্তু নোবেল কমিটির সদস্যরা সেসব গ্রাহ্য করেন নি। তারা চেয়েছিলেন সাহিত্যের সংজ্ঞার পরিধি বাড়াতে। এবার নোবেল ফিরে এলো সাহিত্যের প্রচলিত ঘরানায়- উপন্যাসে– সাহিত্যের যে শাখাটি অন্য সব শাখাকে বারংবার হারিয়ে দিয়েছে ঐ পুরস্কার প্রাপ্তির বিবেচনায়। এবার যিনি পেলেন তিনি জাপানি বংশোদ্ভূত, শুনে মনে হবে এবার পুরস্কারটি বুঝি জাপানের ঘরে গেল। কিন্তু জাপানের নাগাসাকিতে জন্ম নেয়া কাজুও ইশিগুরোর আর কোন জাপানি পরিচয় নেই। শৈশবে পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবার সাথে জাপান ছেড়ে আসার পর তিনি প্রথম জাপান সফরে গিয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সে এক সাহিত্যসভায় যোগ দিতে। তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা ইংল্যান্ডে, তিনি লিখেনও ইংরেজিতে, নোবেল পুরস্কারটি জাপান নয়, গেছে ইংল্যান্ডের থলিতে, যে ভাষাটি পুরস্কার পেল সেটি জাপানি নয়, ইংরেজি। তবে তার মানে এই নয় যে তিনি অখ্যাত কোন লেখক, আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের পরিমণ্ডলে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয় তার নাম, সাহিত্যের জন্য অনেক আগেই জিতেছেন মান বুকার প্রাইজ এবং আরও কিছু পুরস্কার। রানী তাকে ‘অর্ডার অব ব্রিটিশ আম্পায়ারে’ ভূষিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে জাপানি লেখকের নাম ঘুরে-ফিরে নোবেল কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায়, বুকিদের অনুমান ও বোদ্ধাদের ধারণায় থাকতো তিনি হারুকি মুরাকামি, কাজুও ইশিগুরো নন। সুতরাং তাঁর নোবেল প্রাপ্তি কেবল সাহিত্য দুনিয়াকেই চমকিত করেনি, স্বয়ং লেখক ভীষণ চমকে গেছেন। প্রথমে ভেবেছিলেন ভুল শুনেছেন বা কেউ তার সাথে মজা করছে। তিনি তার বিস্ময় লুকান নি, বলেছেন এটা অপ্রত্যাশিত এক আনন্দ বয়ে এনেছে। নোবেলের ইতিহাসে এ পর্যন্ত যে ১১৪জন সাহিত্যিককে এই বিরল সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে তাদের সারিতে উঠতে পারাটা গর্বের। নোবেল প্রদানের ঘোষণায় সুইডেনের নোবেল কমিটি ইশিগুরোর উপন্যাসের ‘প্রবল আবেগময় শক্তি’ ও ‘জগতের সাথে সম্পর্কে নির্মাণে আমাদের যে ইন্দ্রিয়জ বিভ্রান্তি জন্মে তার সুগভীরতা’ তুলে ধরার প্রশংসা করেন। (সম্পূর্ণ…)

দুটি চিনা কবিতার অনুবাদ ও প্রাসঙ্গিক সূত্র

কিশোর বিশ্বাস | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:১৯ অপরাহ্ন

[ মুখবন্ধ: কবি কামিনী রায়ের “দুটি কবিতার” নামের আদলে এই কলামের নামকরণ । এখানে মূলতঃ বিখ্যাত কিছু চীনা কবিতার বাংলা অনুবাদ এবং অনুবাদের রেশ ধরে চীনা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির রূপ-রস ও নানা আঙ্গিক বাংলাভাষীদের কাছে তুলে ধরাই মূল প্রতিপাদ্য । ছোট ছোট পর্বে ভাগ করা এই লেখায় প্রতিবার পরিবেশন করা হবে দুটি করে চীনা কবিতার অনুবাদ। সঙ্গে থাকবে আনুষঙ্গিক শব্দার্থ ও সরল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। হায়ারোগ্লিফিক্সের কঙ্কালের উপর চীনা সাহিত্যের যে হৃষ্টপুষ্ট সুমধুর অবয়ব, সরল বাংলায় তার স্বরূপ অবলোকন ও নিরূপণে লেখকের চেষ্টা থাকবে অকৃপণ ।
তবে অনুবাদ নিয়ে এখানে যে দুটি কথা না বললেই নয়, তাহলো “ভাব” ভাষান্তরিত হলে অনূদিত ভাবার্থের মাঝে প্রায়শই কিছু না কিছু অন্তরায় থেকে যায় । যেমন “আমড়া কাঠের ঢেঁকি” কিংবা “উদোর পিণ্ডী বুদোর ঘাড়ে” কথাগুলোর ভাবার্থ পরিপূর্ণভাবে অন্যসব ভাষায় অনুবাদ করা প্রায় অসম্ভব । কেননা যে ভাষায় অনুবাদ করতে হবে সেই ভাষা- সংস্কৃতিতে আমড়া গাছ, ঢেঁকি বা পিণ্ডীর ধারণাগুলো থাকতে হবে । এসবের অনুপস্থিতিতে অন্য কোন উপমা দিয়ে অনুবাদ করা যদিও যায় তাতেও মূল ভাবের আদি রসে টান পড়ে বৈকি । দ্বিতীয়ত, বিবিধ বিষয়বস্তু অনুবাদের মধ্যে কবিতা আর গানের অনুবাদ সবচেয়ে বেশি দুরূহ। এর কারণ, কবিতা আর গানে ভাবের প্রকাশ ঘনীভূত; অল্প কথায় বেশি ভাব, তা রূপক আর ঘটনায় বৈচিত্র্যময়। কবিতার অন্তর্নিহিত অর্থ অনেকাংশেই স্থান, কাল, পাত্র ও সমসাময়িক সমাজ-নির্ভর, যার প্রসঙ্গ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা বুঝতে ছোটবেলায় আমাদের বিদ্যালয়ে কখনো বা পণ্ডিত মশাইয়ের বেত্রও অপরিহার্য হতো । তদুপরি এই লেখায় কবিতা অনুবাদের ক্ষেত্রে কতগুলো বিশেষ লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে । যেমন, প্রাচীন চিনা কবিতাগুলো বাংলায় অনুবাদের সময় মূলভাব অপরিবর্তিত রাখা, হুবহু বা সমার্থক প্রচলিত উপমা ব্যবহার করা, মূল কবিতার ছন্দ ও মাত্রা অনূদিত বাংলা কবিতাতেও অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সর্বোপরি সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষার ব্যবহারে এই “কবিতানুবাদকে” মূল কবিতার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া ।
এতগুলো শর্ত মেনে লেখকের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে সর্বাঙ্গ সুন্দর অনুবাদ হয়ত সম্ভব নয় । তাই এই লেখাটি আগ্রহী পাঠক, বিজ্ঞ অনুবাদক ও সমালোচকদের জন্য উন্মুক্ত রইল । অনুবাদগুলো পড়ে কারো যদি কোন মূল্যবান মতামত, সংশোধন বা দিকনির্দেশনা থাকে আমরা তা সবিনয়ে স্বাগত জানাই । যাহোক, কবিতানুবাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আশা করি কোনো কাব্যপ্রেমিক একে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো বলে ভাববেন না । বরং অচেনা চিনা দুগ্ধামৃতের ননি একটু একটু করে তুলে ধরে, চিনা ভাষা জানা বা না জানা সবার কাছে কিঞ্চিত চৈনিক কাব্য রস পৌঁছে দিতে পারলেই লেখকের এ উদ্যোগ সার্থক হবে । চলুন এবার “ধান ভানতে” মনোনিবেশ করা যাক …] (সম্পূর্ণ…)

নির্ভুল না হবার পরও যখন স্মৃতিরা সত্য

সোহরাব সুমন | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:৪৯ অপরাহ্ন

Stroutসম্প্রতি পুলিৎজার পুরস্কার বিজেতা ঔপন্যাসিক এলিজাবেথ স্ট্রাউট কবি লুইস গ্লুক-এর “নস্টোস” কবিতা এবং স্মৃতিকে আশ্রয় করা সম্ভব–সাহিত্যের এমন শক্তিশালী উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দ্য আটলান্টিক ডেইলি’র প্রতিবেদক জো ফাসলা-এর সঙ্গে।
গত বছর প্রকাশিত এলিজাবেথ স্ট্রাউট-এর সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস ইন মাই নেম-এ, অসুস্থ এক বর্ণনাকারী তার মায়ের গল্পের সাহায্যে তার শিশুবেলাকে স্মরণ করেন। এবছর প্রকাশিত, এনিথিং ইজ পসিবল, নতুন উপন্যাসে স্ট্রাউট আমাদেরকে সেই বর্ণনাকারী লুসির নিজ শহরে নিয়ে যান এবং আমরা সেখানকার আরো অনেক গল্প জানতে পারি। এমন নয় যে ছেলে বেলার সেই অবিস্মরণীয় দুঃখজনক বেড়ে ওঠার ব্যাপারে লুসি অপরিহার্যতই অতি বিনয়ী, আদতে সে যা উপস্থাপন করেছে বাস্তব পরিস্থিতি যে তার চেয়ে সঙ্গীন ছিল, তা খুব সহজেই আঁচ করতে পারা যায়। বরং উপন্যাসটি পড়লে মনে হবে এর কোনো কোনো খুঁটিনাটি তার জন্য এতটাই যন্ত্রণা দায়ক ছিল যে সচেতনভাবে সেখানে প্রবেশ তার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। নতুন এই বইটির একটি দৃশ্যে, তার ভাই-বোনদের পারিবারিক অশান্তির স্মৃতি নিয়ে আলাপচারিতা থেকে লুসির মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া সন্ত্রস্ত অতীত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
অতীত এবং স্মৃতি এই দুয়ের মাঝখানের ঘোলাটে চৌহদ্দিই একজন লেখক হিসেবে স্ট্রাউটের অন্যতম একটি মূল বিষয়, এবং এ প্রসঙ্গেই তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। কীভাবে ফিকশনে স্মৃতি কাজ করে থাকে এবং কীভাবে স্ট্রাউট তার বিষয়কেন্দ্রীক ও কখনো কখনো অনেক বেশী স্মরণশক্তির ব্যঞ্জনাময় চরিত্র সমূহের সঙ্গে তার উদ্দেশ্য এবং বাস্তব ইতিহাসের ভারসাম্য প্রতিপাদন করতে, কবি লুইস গ্লুক-এর একটি কবিতার আলোকে তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ করেন। তার লেখনীর উপরিতলে ভাসমান তার নিজের দীর্ঘকালীন স্মৃতিকে যুক্ত করবার বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার উপলব্ধিটিও স্ট্রাউট এখানে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন : পাঠকের মনের গহীনে নিমজ্জিত অনুভূতিকে উন্মুক্ত করতেও এই অভিজ্ঞতা সাহিত্যের লক্ষ্য হওয়া উচিত। (সম্পূর্ণ…)

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: ফিরে এলাম মেহিকো শহরে

যুবায়ের মাহবুব | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৫:৪৯ অপরাহ্ন

M-1
আলোকচিত্র: মেহিকোতে সপরিবারে মার্কেস
সম্প্রতি ভূমিকম্পের শক্তিশালী আঘাতে মেহিকো শহরে প্রায় তিনশ’র মতো লোক প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত কথাসাহিত্যিক গার্সিয়া মার্কেস জীবনের একটা বিরাট অংশ কাটিয়েছেন এই শহরে । মেহিকোর সাথে গার্সিয়া মার্কেসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। লেখালেখির সূচনা এখানে না হলেও কিংবদন্তীতুল্য উপন্যাস একশ বছরের নিঃসঙ্গতা থেকে শুরু করে তার প্রধান সব সাহিত্যকর্মের জন্মভূমি এই মেহিকো। এই লেখাটির শেষের দিকে তিনি নিজেই বলেছেন: “এখানে লিখেছি আমার সমস্ত বই, এখানে লালনপালন করেছি আমার সন্তানদের, আমার জীবনবৃক্ষ রোপন করেছি ঠিক এখানেই।” মেহিকো হয়ে উঠেছিলো তার দ্বিতীয় মাতৃভূমি। সিআইএ’র হুমকি এড়াতে এই মাতৃভূমিতে তিনি এসেছিলেন ১৯৬১ সনের ২ জুলাই। এই সময় থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত মেহিকো এবং কলম্বিয়ায় তিনি নিয়মিত যাতায়াত করতেন, থাকতেন দুই দেশেই। পরে অবশ্য তিনি একেবারে স্থায়ীভাবেই আমৃত্যু মেহিকোতেই থেকে যান। স্প্যানিশ থেকে অনুবাদক যুবায়ের মাহবুব কর্তৃক অনূদিত মার্কেসের এই লেখাটিতে রয়েছে মেহিকোর প্রতি তার ভালো লাগার অনবদ্য স্মৃতিচিত্র। লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল El Pais পত্রিকায় ১৯৮৩ সালের ২৬শে জানুয়ারি। (সম্পূর্ণ…)

`লেখার সময় মদ্য পান নয়’–উইলিয়াম ডালরিম্পল

মুহিত হাসান | ১৯ জুন ২০১৭ ১১:২৯ অপরাহ্ন

Dalrimple-1একাধিক আখ্যানধর্মী ইতিহাস ও ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থ লিখে ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া পরিচিত নাম উইলিয়াম ডালরিম্পল। এই স্কটিশ সন্তানের লেখালেখির জগতের পুরোটা জুড়েই রয়েছে প্রাচ্যের মানুষ ও তাঁদের সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি। প্রথম প্রথম তিনি শুধু ভ্রমণকাহিনি ও রাজনৈতিক কলামই লিখতেন। সুখপাঠ্য লেখনীর কারণে সেসব বেশ জনপ্রিয়ও হয়। কিন্তু তিনি পরে বিশিষ্ট হয়ে ওঠেন ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস বিষয়ে একাধিক বইয়ের রচয়িতা হিসেবে। বিরাটাকৃতির ‘হোয়াইট মোগলস’ ও ‘দ্য লাস্ট মোগল’ গ্রন্থদ্বয় তাঁকে খ্যাতি ও পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে দেয়। এরপর ভারতবর্ষের বিচিত্র নয় চরিত্র নিয়ে লেখা তাঁর বই ‘নাইন লাইভস’ ও প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ নিয়ে লেখা বই ‘রিটার্ন অফ আ কিং’-ও বেশ সমাদর পেয়েছে। সমালোচকদের কাছ থেকেও গবেষণার গুণের জন্য প্রশংসা লাভ করেছেন তিনি।
তো কী করে উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর এইসব বৃহদাকৃতির অথচ সুপাঠ্য পুস্তকসমূহ লিখে থাকেন? তাঁর অনুরাগী পাঠকদের মনে এমন প্রশ্ন জাগা অসম্ভব নয়। সম্ভবত এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি তাঁকে প্রায়ই হতে হয় দেখে সম্প্রতি তাঁর লেখালিখির নৈমিত্তিক রুটিন নিয়ে একটি কৌতুহলোদ্দীপক প্রবন্ধ লিখেছেন ডালরিম্পল। সেখানে তিনি জানাচ্ছেন, তাঁর লেখার রুটিন মূলত দুটো। কখন কোনটা বেছে নেবেন, তা নির্ভর করছে “কাগজে কলম বসাচ্ছি কি বসাচ্ছি না তার ওপর”। প্রতি চার বা পাঁচ বছরের সময়সীমায় তিনি মাত্র একটা বইই লেখেন। সেই একটা বই লিখতে সময় লাগে এক বছর। ‘নাইন লাইভস’ লিখতে তাঁর সবচেয়ে কম সময় লেগেছিল, মাত্র নয় মাস। আর সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছিল(সবচেয়ে বেশি খাটনিও হয়েছিল) ‘ফ্রম দ্য হলি মাউন্টেন’ শীর্ষক ভ্রমণকাহিনিমূলক বইটা লিখতে, আঠারো মাস। (সম্পূর্ণ…)

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় অরুন্ধতী রায়ের নতুন উপন্যাস

মুহিত হাসান | ১৪ জুন ২০১৭ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

Author‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’– আজ থেকে বিশ বছর আগে নিজের প্রথম উপন্যাস তথা প্রথম বই গড অফ স্মল থিংকস প্রকাশ পাবার পর অরুন্ধতী রায় এরকম প্রশংসাবাণীতেই ভেসে গিয়েছিলেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে বইখানার চার লক্ষ কপি তখন বিক্রি হয়েছিল। সমালোচকদের বাহবাও জুটেছিল অফুরান। পরে অরুন্ধতী নিজের এই পয়লা উপন্যাস দিয়ে জয় করে নেন দুনিয়াখ্যাত বুকার প্রাইজ। কিন্তু কথাসাহিত্যের ক্ষেত্র থেকে তিনি যেন সরেই গিয়েছিলেন এরপর। এমন রাজকীয় অভিষেকের পর কেন তাঁর কলম থেকে বেরুচ্ছে না আরেকটা উপন্যাস–এই প্রশ্ন তাড়িয়ে ফিরেছে ভক্ত-পাঠকদেরও। অবশ্য লেখালেখি তাঁর থেমে থাকেনি, সামাজিক-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ঝাঁঝালো-তর্কপ্রবণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ-কলাম লিখেছেন প্রচুর। সেসব গদ্যলেখা এক করে বইও হয়েছে একাধিক। পাশাপাশি ঠোঁটকাটা অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে আবির্ভূতও হয়েছেন ওইসব ঘটনা-প্রসঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে।
সুখবর হলো, কথাসাহিত্যের দুনিয়ায় বিশ বছর নীরব থাকার পর গত ৬ জুন অরুন্ধতী রায় হাজির হয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস নিয়ে। গত বছরের অক্টোবরে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউজের তরফ থেকে বইটি আশু প্রকাশ্য এমন বিবৃতি আসা মাত্রই পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ ও অপেক্ষার সূত্রপাত ঘটে। আগ্রহের আগুনে আরো ঘি পড়ে যখন পেঙ্গুইনের দুই প্রতিনিধি সিমন প্রসের ও মিরু গোখলে প্রকাশিতব্য বইটি সম্পর্কে বলেছিলেন : “এই বইটি প্রকাশ করতে পারাটা একইসাথে আনন্দের ও সম্মানের। কী অবিশ্বাস্যরকমের বই এটি–একাধিক স্তর থেকে; সাম্প্রতিককালে আমাদের পড়া নিখুঁত বইগুলোর একটি। এর লেখনী অসামান্য, সাথে চরিত্রগুলোও ঔদার্য ও সহানুভূতির সাথে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে…”। তাঁরা আরো বলেছিলেন, বইটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে শব্দরাও জীবন্ত। অরুন্ধতী নিজের মন্তব্য ছিল এমন “ আমি এটা জানাতে পেরে খুশি যে উন্মাদ আত্মারা(এমনকি যাঁরা অসুস্থ তারাও) এই উপন্যাসের মাধ্যমে পৃথিবীর পথ খুঁজে পাবে, যেমন করে আমি পেয়েছি আমার প্রকাশককে।” আর তাঁর প্রকাশনা-এজেন্ট ডেভিড গুডউইনের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বাসমুখর : “একমাত্র অরুন্ধতীই এই উপন্যাসটি লিখতে পারতেন। একদম খাঁটি। এটা নির্মিত হতে লেগেছে কুড়ি বছর, এবং এই অপেক্ষা সার্থক।” (সম্পূর্ণ…)

গুপ্তচর ছিলেন হেমিংওয়ে?

মুহিত হাসান | ৩১ মে ২০১৭ ২:১৯ অপরাহ্ন

Hemingwayমার্কিন কথাসাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন একসময়, আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত ক্ষণে কাজ করেছেন মার্কিন প্রশাসনের হয়ে–এমন তথ্য তাঁর পাঁড় ভক্ত কোনো ব্যক্তিও কখনো জানতেন বলে দাবি করবেন না। অথচ, বিষয়টি একদিকে অতিরিক্ত রকমের অবিশ্বাস্য হলেও, অপরদিকে বিকটরকমের সত্যও বৈকি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর প্রাক্তন কর্মকর্তা ও সিআইএ জাদুঘরের কিউরেটর নিকোলাস রেনলন্ডস সম্প্রতি হেমিংওয়ের গুপ্তচর-জীবন নিয়েই আস্ত একটি বই লিখেছেন। যার শিরোনাম : Writer, Sailor, Soldier, Spy: Ernest Hemingway’s Secret Adventures, 1935-1961 –এই বইটিই হেমিংওয়ের জীবনের আজতক অব্দি অজানা এই পর্বের ইতিবৃত্ত প্রথমবারে মতো পাঠকদের সামনে উন্মোচিত করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের হয়ে হেমিংওয়ের কাজ করা নিয়ে তথ্য সাবেক ঝানু গোয়েন্দা কর্মকর্তা রেনল্ডসের হাতের নাগালেই ছিল। তবে সোভিয়েত-সংযোগের মতো এমন বিস্ফোরক ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন একদম কাকতালীয়ভাবেই। তিনি জানিয়েছেন, কর্মসূত্রে মস্কো থেকে পাচার হয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা ‘এনকেভিডি’-র(১৯৩৪ থেকে ১৯৪৬ অব্দি এই সংস্থা চালু ছিল, কেজিবির পূর্বসূরি বলা চলে) একটি গোপনীয় ফাইল হাতে পেয়েছিলেন। সেই গোপন ফাইলের নথিপত্র থেকেই জানা যায়, ১৯৪০ সালে ‘এনকেভিডি’ কর্তৃপক্ষ হেমিংওয়েকে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এর নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ‘এনকেভিডি’-র এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জ্যাকব গোলোস, যিনি গুপ্তচরবৃত্তির স্বার্থে থাকতেন নিউ ইয়র্ক শহরে। ওই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের অতি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাটি হেমিংওয়ের একটি সাংকেতিক ছদ্মনামও নির্ধারণ করেছিল, ‘আর্গো’। “তবে তিনি আমাদের কোনো রাজনৈতিক তথ্য পাঠাননি”–ফাইলটিতে এও লেখা রয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com