অনুবাদ কবিতা

এড্রিয়েন রিচের কবিতা: “জেনিফার কাকির বাঘেরা” ও “শক্তি”

নূর-ই-ফাতিমা মোশাররফ জাহান | ১ জুলাই ২০১৮ ৩:২১ অপরাহ্ন

ভূমিকা ও অনুবাদ: নূর-ই-ফাতিমা মোশাররফ জাহান

মার্কিন নারীবাদী কবি ও প্রবন্ধকার এড্রিয়েন রিচকে (জন্ম-১৯২৯, মৃত্যু-২০১২) বলা হয়ে থাকে বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের অন্যতম বহুলপঠিত কবি। সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গ (১৯৬০-১৯৮০) এবং মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনে (১৯৫৪-১৯৬৮)। তার শক্তিশালী লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন নারীজীবনের নানান বেদনা, সঙ্কট আর অধিকার আদায়ের নানান চড়াই-উৎরাই। প্রবন্ধের পাশাপাশি কাব্যের মাধ্যমেও নারীর কথা পৌঁছে দিয়েছেন পাঠকের কাছে। নারী ও সমকামীদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার এই লেখিকা নিজে যেমন আলোচিত হয়েছেন, তেমনই আলোড়িত করেছেন বিশ্ববাসীকেও। ১৯৫১ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আ চেইঞ্জ অফ ওয়ার্ল্ড পড়ে প্রখ্যাত কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েট্স তাকে মনোনীত করেন “ইয়েল সিরিজ ফর ইয়ং পোয়েট্স অ্যাওয়ার্ড”-এর জন্য। এরপর ধীরে ধীরে তার আরো অনেক প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বহু পদক ও সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।

“অ্যান্ট জেনিফার্স টাইগার্স” কবিতাটি এড্রিয়েন রিচের প্রথম কাব্যগ্রন্থ আ চেইঞ্জ অফ ওয়ার্ল্ড (১৯৫১)-এ প্রকাশিত হয়। একজন প্রবীণ নারীর জীবনের আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তি এ কবিতার মূল বিষয়বস্তু। হয়তো বিষয়ের সাথে মিল রেখেই কবিতাটির গঠনশৈলী কিছুটা সেকেলে ধাঁচের- অনেকটা প্রথাগত পদ্যের মতো নিয়মতান্ত্রিক। এখানে এমন এক নারীর কথা উঠে এসেছে যে সারা জীবন তার প্রয়োজন ও স্বপ্নকে অবদমিত রেখে প্রচলিত রীতি-নীতির ছাঁচে নিজেকে চালিত করতে বাধ্য হয়। ঠিক যেন কলুর বলদের মতো জীবন। গৎবাঁধা পথের বাইরে যাবার কোন অনুমতি নেই তার। সমাজের বিধি-নিষেধের ঠুলি ভেদ করে বাইরের পৃথিবী দেখারও সুযোগ পায়না সে। নিজের একান্ত ভাবনাগুলো প্রকাশ করার স্বাধীনতাটুকু নেই। তবু এই নারী সঙ্গোপনে তার আজন্ম লালিত স্বপ্নের স্বাক্ষর রেখে যায় তার সূচিকর্মের মাঝে। তার নিজস্ব সৃষ্টি এই শিল্পকর্মই যেন তার স্বাধীন ভাষা। এভাবেই সে তার অদম্য স্বপ্নকে সময়ের গন্ডি পেড়িয়ে ছড়িয়ে দিতে চায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। (সম্পূর্ণ…)

টি. এস. এলিয়ট: শবদেহের সৎকার

আবদুস সেলিম | ১২ জুন ২০১৮ ৪:৪৯ অপরাহ্ন

মুল: টি. এস. এলিয়ট
অনুবাদ: আবদুস সেলিম

টমাস স্টার্ন এলিয়ট (১৮৮৮-১৯৬৫), আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম প্রধান পুরুষ, তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড-এর অধিকাংশ কবিতা রচনা করেছিলেন ১৯২১ সালে যা মুদ্রিত হয়েছিল ১৯২২-এ। পাঁচ ভাগে বিভক্ত দীর্ঘ ধারাবাহিক কবিতাগুলো হল: The Burial of the Dead; A Game of Chess; The Fire Sermon; Death by Water; এবং What the Thunder Said. কবিতাগুলো রচনার পেছনে, এলিয়ট-এর নিজ স্বীকারোক্তি মতে, মার্কিন কবি এজরা পাউন্ড-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পেয়েছিলেন। যে দু’টি ক্ষেত্রে তিনি এলিয়টকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সে দু’টি হলো: কবিতাগুলো থেকে দীর্ঘ অংশগুলো বাদ দিয়ে ঘণবিন্যাসে সাজানো, এবং ছন্দ-বিন্যাসকে ভেঙ্গে ফেলা। কবিতাগুলো তিনি এজরা পাউন্ডকেই উৎসর্গ করেছেন। ভিভিয়েন—এলিয়ট-এর স্ত্রী—তাঁর কাছ থেকেও তিনি অনেক পরামর্শ নিয়েছিলেন কবিতাগুলোর প্রকাশনার চূড়ান্ত পর্যায়ে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত য়ূরোপে আধুনিক সংস্কৃতির নামে যে অবক্ষয় নেমেছিল তার‍ই প্রতিচ্ছবি এই কবিতাগুলো, যদিও এলিয়ট তাঁর কবিতার মূল বাহন হিশেবে গ্রহণ করেছিলেন আবেগের চেয়ে বুদ্ধীদীপ্তি, বা বলা যায় বুদ্ধীদীপ্ত আবেগ। দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড-এ যে হতাশা আশ্রিত কবিতা তিনি রচনা করেছেন তাঁর উৎসমূল খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর প্রান্তভাগে রচিত লাতিন উপন্যাসিক গাইউস পেত্রনিতাস রচিত স্যাটিরিকন উপন্যাসের ট্রাইম্যালচিও চরিত্রের মুখে শোনা সিবিল নামে এক মহিলার উক্তি: আমি মরতে চাই। এই কালদর্শী মহিলা তাঁর ভবিষ্যতের ভয়াবহতার কথা বুঝতে পেরে ঐ উক্তি করেছিল। শুধু তাই নয়, এলিয়ট আরও দু’টি গ্রন্থ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন: জেসি ওয়েস্টন-এর From Ritual to Romance, (যার স্বীকারোক্তি মেলে তাঁর Notes on The Waste Land-এ), এবং জেমস জর্জ ফ্রেইজার-এর The Golden Bough. বর্তমান চিন্তাচেতনা এবং ধর্ম আচরণেও যে সেই পুরনো fertility ritual বা উর্বরতার ধর্মাচারের ধারাবাহিকতা উপস্থিত সে বিষয়টিই বিধৃত হয়েছে এই দুই গ্রন্থে। এলিয়ট এই দুই গ্রন্থে উল্লেখিত ফিশার কিং-কে প্রতীকী হিশেবে ব্যবহার করেছেন তাঁর কবিতাগুচ্ছে। (সম্পূর্ণ…)

আবদুস সেলিম: আধুনিক জাপানি কবিতা

আবদুস সেলিম | ২ এপ্রিল ২০১৮ ১:৪৭ অপরাহ্ন

অনুবাদকের ভূমিকা:
জাপানি তনকা, ক্লাসিকাল হাইকু ঘরানারই কবিতা, তফাতটা মূলত পংক্তিতে—হাইকু তিন পংক্তির আর তনকা পাঁচ পংক্তির। এ ছাড়া ছন্দের ব্যাপারে তনকায় সাধারণত প্রতি পংক্তিতে ৫-৭-৫-৭-৭ সিলাবলের শব্দ ব্যবহার করা হয়। অনূদিত চারজন জাপানি কবিতার নয়টি কবিতাগ সিলাবল অনুসরণে না করে অক্ষরবৃত্তে করার চেষ্টা করা হয়েছে ৫-৭-৫-৭-৭ সংখায়। কবিতাগুলো ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।

মিজুহো ওতা (১৮৭৬-১৯৫৫)

১.
নিসঙ্গ ভিক্ষু
ঘুমিয়েছে দুপুরে—
মঠ পেরিয়ে
দৃষ্টি কাড়ে সঘণ
নিল মেঘের ভেলা।

২.
দিনের বেলা
নদীর বুকে ঝড়,
দূর পাহাড়ে
ছটফটে, অবাক
কাকের কোলাহল।

ইয়াচি আইজু (১৮৮১-১৯৫৬)

১.
আমার বাঁচা
টিকে থাকাই শুধু
স্বর্গমর্ত্যের
নৈশঃব্দের মাঝেই
ঈশ্বর হাসে মৃদু।

২.
নিঃশব্দে এসে
ঘণ্টা বাজায় কে?
গভীর রাত
প্রভু বুদ্ধরও তো
স্বপ্নের সময় যে। (সম্পূর্ণ…)

দুটি চিনা কবিতার অনুবাদ ও প্রাসঙ্গিক সূত্র

কিশোর বিশ্বাস | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:১৯ অপরাহ্ন

[ মুখবন্ধ: কবি কামিনী রায়ের “দুটি কবিতার” নামের আদলে এই কলামের নামকরণ । এখানে মূলতঃ বিখ্যাত কিছু চীনা কবিতার বাংলা অনুবাদ এবং অনুবাদের রেশ ধরে চীনা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির রূপ-রস ও নানা আঙ্গিক বাংলাভাষীদের কাছে তুলে ধরাই মূল প্রতিপাদ্য । ছোট ছোট পর্বে ভাগ করা এই লেখায় প্রতিবার পরিবেশন করা হবে দুটি করে চীনা কবিতার অনুবাদ। সঙ্গে থাকবে আনুষঙ্গিক শব্দার্থ ও সরল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। হায়ারোগ্লিফিক্সের কঙ্কালের উপর চীনা সাহিত্যের যে হৃষ্টপুষ্ট সুমধুর অবয়ব, সরল বাংলায় তার স্বরূপ অবলোকন ও নিরূপণে লেখকের চেষ্টা থাকবে অকৃপণ ।
তবে অনুবাদ নিয়ে এখানে যে দুটি কথা না বললেই নয়, তাহলো “ভাব” ভাষান্তরিত হলে অনূদিত ভাবার্থের মাঝে প্রায়শই কিছু না কিছু অন্তরায় থেকে যায় । যেমন “আমড়া কাঠের ঢেঁকি” কিংবা “উদোর পিণ্ডী বুদোর ঘাড়ে” কথাগুলোর ভাবার্থ পরিপূর্ণভাবে অন্যসব ভাষায় অনুবাদ করা প্রায় অসম্ভব । কেননা যে ভাষায় অনুবাদ করতে হবে সেই ভাষা- সংস্কৃতিতে আমড়া গাছ, ঢেঁকি বা পিণ্ডীর ধারণাগুলো থাকতে হবে । এসবের অনুপস্থিতিতে অন্য কোন উপমা দিয়ে অনুবাদ করা যদিও যায় তাতেও মূল ভাবের আদি রসে টান পড়ে বৈকি । দ্বিতীয়ত, বিবিধ বিষয়বস্তু অনুবাদের মধ্যে কবিতা আর গানের অনুবাদ সবচেয়ে বেশি দুরূহ। এর কারণ, কবিতা আর গানে ভাবের প্রকাশ ঘনীভূত; অল্প কথায় বেশি ভাব, তা রূপক আর ঘটনায় বৈচিত্র্যময়। কবিতার অন্তর্নিহিত অর্থ অনেকাংশেই স্থান, কাল, পাত্র ও সমসাময়িক সমাজ-নির্ভর, যার প্রসঙ্গ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা বুঝতে ছোটবেলায় আমাদের বিদ্যালয়ে কখনো বা পণ্ডিত মশাইয়ের বেত্রও অপরিহার্য হতো । তদুপরি এই লেখায় কবিতা অনুবাদের ক্ষেত্রে কতগুলো বিশেষ লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে । যেমন, প্রাচীন চিনা কবিতাগুলো বাংলায় অনুবাদের সময় মূলভাব অপরিবর্তিত রাখা, হুবহু বা সমার্থক প্রচলিত উপমা ব্যবহার করা, মূল কবিতার ছন্দ ও মাত্রা অনূদিত বাংলা কবিতাতেও অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সর্বোপরি সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষার ব্যবহারে এই “কবিতানুবাদকে” মূল কবিতার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া ।
এতগুলো শর্ত মেনে লেখকের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে সর্বাঙ্গ সুন্দর অনুবাদ হয়ত সম্ভব নয় । তাই এই লেখাটি আগ্রহী পাঠক, বিজ্ঞ অনুবাদক ও সমালোচকদের জন্য উন্মুক্ত রইল । অনুবাদগুলো পড়ে কারো যদি কোন মূল্যবান মতামত, সংশোধন বা দিকনির্দেশনা থাকে আমরা তা সবিনয়ে স্বাগত জানাই । যাহোক, কবিতানুবাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আশা করি কোনো কাব্যপ্রেমিক একে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো বলে ভাববেন না । বরং অচেনা চিনা দুগ্ধামৃতের ননি একটু একটু করে তুলে ধরে, চিনা ভাষা জানা বা না জানা সবার কাছে কিঞ্চিত চৈনিক কাব্য রস পৌঁছে দিতে পারলেই লেখকের এ উদ্যোগ সার্থক হবে । চলুন এবার “ধান ভানতে” মনোনিবেশ করা যাক …] (সম্পূর্ণ…)

কবি ইউসেফ কমুনিয়াকার কবিতা: মোকাবেলা

বিপাশা চক্রবর্তী | ১০ আগস্ট ২০১৭ ৯:১৭ পূর্বাহ্ন

B-Kমার্কিন কবি ইউসেফ কমুনিয়াকা(৬৯)। মার্কিন কবিতার ইতিহাসে একটি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। প্রথম পুরুষ কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান কবি যিনি পুলিতজার পুরস্কার পেয়েছেন। জন্ম নিয়েছিলেন আমেরিকার লুইসিয়ানা প্রদেশে । বাবা ছিলেন ছুতোর মিস্ত্রি। ভাষার শক্তি সম্পর্কে কমুনিয়াকা প্রথম ধারণা পান দাদা দাদীর কাছ থেকে। তারা চার্চে প্রায়ই ওল্ড টেস্টামেন থেকে স্তবক আবৃত্তি করতেন, এভাবে কবিতার সাথে পরিচয় হয় ইউসেফ কমুনিয়াকার। তাঁর কবিতার প্রতিটি অক্ষর আফ্রিকা, ভিয়েতেনামের কথা বলে। সেসময় মার্কিন সমরনীতির কারণে তাঁকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেতে হয়েছিল। ইউসেফ বর্তমানে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। এখানে তাঁর বিখ্যাত একটি কবিতার বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো। অনুবাদ করেছেন প্রাবন্ধিক বিপাশা চক্রবর্তী। (সম্পূর্ণ…)

সর হুয়ানা ইনেস দে লা ক্রুস-এর একগুচ্ছ কবিতা

জয়া চৌধুরী | ২২ জুলাই ২০১৭ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন

sorjuana
সরা হুয়ানা ইনেস দে লা ক্রুস কিংবা শুধুই সর হুয়ানা রামিরেস হিসেবে খ্যাত এই কবি মেক্সিকোয় জন্ম নিয়েছিলেন আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে। স্পেনের সাহিত্যের ‘স্বর্ণ যুগ’-এর অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে তাঁকে গণ্য করা হয়। কেননা সেরভান্তেস ও শেক্সপিয়রের উত্তরসূরি এই মহিলা কবি যখন মেক্সিকোয় জন্মান তখন সেটি স্পেন এর অধীনে ছিল। সন্নাসিনী এই কবি সাহসী সময়ের চেয়ে তাঁর অনেক এগিয়ে থাকা মতাদর্শের জন্য জীবদ্দশাতেই বহু নিন্দার সম্মুখীন হন। নারীবাদী সাহিত্য বলে যে ধারাটি প্রচলিত তাঁর প্রবক্তা তিনিই। আজও তাঁর কবিতা সমান প্রাসঙ্গিক। এইভাবেই তিনি দেশ কাল-এর গন্ডী ছাড়িয়ে কালজয়ী হয়ে আছেন। কবিতাগুলো স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছে অনুবাদক জয়া চৌধুরী। বি. স.

অদৃষ্টকে গাল পাড়া

আমার পশ্চাৎ ধাবনে, পৃথিবী, তোমার আগ্রহ কীসের?
তোমার কোনখানে আঘাত দিয়েছি আমি? যখন আমি স্রেফ
আমার বোধগম্যতায় সৌন্দর্য লেপন করতে চাইছি
আমার সৌন্দর্যকে বোধগম্যতায় নয়? (সম্পূর্ণ…)

ডেভিড হোয়াইটের `কান পেতে শোনার শীত’

আনন্দময়ী মজুমদার | ৩ জুলাই ২০১৭ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

ডেভিড হোয়াইট ইংল্যান্ডের এক পাহাড় আর উপত্যকার ঢেউ-ওঠা মানচিত্রে, ইয়র্কশায়ারে বড়ো হয়েছেন। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে তার বাড়ি যেখানকার রঙ-পাল্টানো আকাশ তাকে তার ফেলে আসা অন্য স্বদেশ, আয়ারল্যাণ্ড, ইয়র্কশায়ার আর ওয়েলসের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান কবি, লেখক, প্রকৃতিবিদ এবং বক্তা, তিনিই হয়ত একমাত্র কবি যিনি প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সৃজনশীলতার প্রয়োগে তার অন্তর্দৃষ্টি কাজে লাগাতে পেরেছেন।

‘গৃহের মতো ঘর’ (The House of Belonging) তার চতুর্থ এবং ‘তোমার অতল জল’ (The Sea in You) তার অষ্টম কবিতার বই। আটটি কবিতার বই-এর মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য তাঁর ‘ঘরে ফেরার গান’ (Song of Coming Home), ‘নানা নদীর মোহনা’ (Where Many Rivers Meet), ‘মাটির ভিতর আগুন’ (Fire in the Earth), ‘সব তোমার অপেক্ষায়’ (Everything is Waiting for You), ‘নদীস্রোতঃ নতুন ও বাছাই কবিতা ১৯৮৪-২০০৭’ (Riverflow: New and Selected Poems 1984-2007), ‘পথিক’ (Pilgrim)। এ ছাড়াও চারটি বিপুলখ্যাত গদ্যের বই আছে তার –’হৃদয় থেকে জেগে : কবিতা ও কর্পোরেট আমেরিকায় আত্মার সংরক্ষণ’ (The Heart Aroused: Poetry and the Preservation of Soul in Corporate America ), ‘অজানা সাগরপাড়ি : কাজ যেখানে আত্মপরিচয়ের পথ’ (Crossing the Unknown Sea: Work as a Pilgrimage of Identity), ‘তিন পরিণয়: কাজ, আত্ম ও সম্পর্কের পুনরকল্পনা’ (The Three Marriages: Re-imagining Work, Self and Relationship)। এই বইগুলি, এবং তার বিখ্যাত অডিও ও ভিডিও বক্তব্যের সিডি এখন মেনি রিভার্স প্রেস থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

ডেভিড হোয়াইট সারা পৃথিবী ঘুরে তার কবিতা ও বক্তব্য দেশেবিদেশে পরিবেশন করে থাকেন। সমুদ্র প্রাণীবিদ্যার ওপর তার ডিগ্রী আছে, আছে পেনসিলভেনিয়ার নয়ম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সম্মানসূচক ডিগ্রি, এছাড়া তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঈদ স্কুল অভ বিজনেসের একজন এসোসিয়েট ফেলো। ডেভিড হোয়াইটের কবিতাটি বাংলায় তর্জমা করেছেন আনন্দময়ী মজুমদার। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

মার্থা ভিয়ানুয়েভা: পুরুষতন্ত্রের তোমরা যারা

আজফার হোসেন | ২৮ জুন ২০১৭ ৯:১৮ অপরাহ্ন

লাতিন আমেরিকার নারীবাদী কবি। কবিতাটি তর্জমা করেছেন অধ্যাপক ও অনুবাদক আজফার হোসেন।

ভীষণ উপুর-করা দুপুর খাঁ খাঁ, আমার দেহ ঝলসে যায়
আর আমার চামড়ার ওপর তোমাদের স্পর্শরা তাঁবু গাড়ে।
রঙমহলের অবিরত উৎসবে আপাদমস্তক ঝলসে যায়,
ঝলসে ঝলসে ঝলসে যায়; ঝলসে ঝলসে ঝলসে যায়।
হা হা হাহাকারে মরু হাওয়ায় ভেসে যাওয়া ধবনি সব আর্তনাদ করে,
তাদের গতরে গতরে মাটির আদিম গন্ধ, ঢেউ-তোলা কারুকাজে
শ্রমের গন্ধ, শিশুর নাড়িতে তারই অন্তরের ধুকপুক ধুকপুক ধুকপুক,
সেও ঝাঁ ঝাঁ ঝলসানো দুপুরে; এরপরও বলো, তাদের ইতিহাস কই?
তারপরও নৈঃশব্দকে করাত দিয়ে চিরে চিরে তারাই তো দেখায় ইতিহাস।
তেপান্নটি অলিগলি মাড়িয়ে সবাই যখন ভরাট রাতের মুখোমুখি
তোমাদের দিনে দিনে বেড়ে ওঠা সাজানো-গোছানো অন্ধকারে
ভিক্ষা শেখানো শিক্ষায় কেবলি তর্জনি নির্দেশ, কেবলি রক্তচক্ষু
কিংবা শুধুই সূর্য ঢেকে দেয়া রক্তপাত বা বন্দুক-বুলেট-বেয়োনেট।
তোমাদের শিক্ষা শেখায় ভিক্ষা
তোমাদের শিক্ষা শেখায় ভিক্ষা
তোমাদের শিক্ষা শেখায় ভিক্ষা
পুঁজি শেখায় ভিক্ষা
উপনিবেশ শেখায় ভিক্ষা
বিশ্বব্যাংক শেখায় ভিক্ষা
পুরুষালি আইন শেখায় ভিক্ষা (সম্পূর্ণ…)

ভিনিসিয়াস ডি মোরায়েস: হুইস্কি, ভবঘুরে ও সুর-লহরির কবি

মাজুল হাসান | ৫ মে ২০১৭ ১:৩৫ অপরাহ্ন

Vinicius de Moraesপুরো নাম মারকিউস ভিনিসিয়াস দা ক্রুজ ই মেলো মোরায়েস। সংক্ষেপে ভিনিয়াস ডি মোরায়েস। যদিও ব্রাজিলিয়ান এই কবিকে সবাই চেনে ‘ও পোয়েটিনহা’ বা ‘দ্যা লিটল পোয়েট’ হিসেবে। জীবদ্দশায় তিনি পরিণত হয়েছিলের ব্রাজিলের আধুনিক কবিতা ও গানের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বে। একাধারে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, নাট্যকার, শিল্পবোদ্ধা ও সমালোচক। কবিতায় গীতিময়তা, গানে কবিতাবোধ আর নাটকে এই দুয়ের সংমিশ্রণ- এই হলো ভিনিসিয়াসের মূল বৈশিষ্ঠ।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মানুষটির জন্ম ১৯১৩ সালের ১৯ অক্টোবর রিও ডি জেনিরিও’র শহরতলি গাভেয়ায়। সরকারি কর্মকর্তা বাবা আর শখের পিয়ানোবাদক গৃহিনী মায়ের সন্তান ভিনিয়াসকের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। বাবার চাকরি বদলের কারণে এই ঘোরাঘুরির জীবন অক্ষুন্ন ছিল পরবর্তীতেও। ভিনিসিয়াস নিজেও ছিলেন একজন কূটনীতিক।

রিও ডি জেনিরো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রে পাঠ চুকে গেলে ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয় দুই দুটি কবিতার বই- ‘ক্যামিনহো পাথ এ ডিসটেন্সিয়া’ এবং ‘ফোর্মা ই এক্সেজেস’। ১৯৩৬ সালে চাকরি পান ব্রাজিলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফিল্ম সেনশরশিপ বিভাগে। দু’বছর পর ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফেলোশিপ নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পড়তে চলে যান। সেখানেই পুরনো খোলস ভেঙে ‘ফ্রিভার্স’ ও ‘ব্ল্যাঙ্ক ভার্স’ ফর্মে কবিতা লেখা শুরু করেন। ‘নোভেস পোয়েমাস’ বা ‘নিউ পোয়েট্রি’ অভিধায় লেখা কবিতাগুলো সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করে। মূলত এর মাধ্যমেই ‘জেনারেশন অফ ফোর্টিফাইভ’ মুভমেন্টের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিতে পরিণত হন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

সি. পি. কাভাফির কবিতা

কুমার চক্রবর্তী | ২৯ এপ্রিল ২০১৭ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

Cavafyগ্রিক কবিতায় অবিস্মরণীয় এক নাম কনস্তানতিন কাভাফি ১৮৬৩ সালের ২৯ এপ্রিল আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। কর্মসূত্রে তিনি ছিলেন সরকারি চাকুরে, ১৮৯২ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তিনি যে পদ পান এবং সেখানেই অবসর নেওয়া পর্যন্ত তিনি কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে তিনি লেখালেখি করতে থাকেন, তাঁর প্রথম দিকের লেখালেখিতে গ্রিক ইতিহাস, পুরাণ, ধ্রুপদি ও হেলেনীয়, বাইজানটীয় বিষয়বস্তুর প্রাধান্য ছিল। তিনি তাঁর মা হারিক্লেইয়া-র সাথে রাতের খাবার খেতেন, তারপর অধিকাংশ সময়ে পালিয়ে শহরের সমকামী পল্লিতে ঢুকে যেতেন। এই বিষয়টি তাঁর লেখাকে ঋদ্ধ করেছে। মানবকামের গূঢ়ৈষা তাঁর অভীপ্সিত ছিল। আজীবন ধুমপায়ী কাভাফি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩২ সালের গ্রীষ্মে চিকিৎসার জন্য আথেন্সে এসে পরে ফিরে যান তাঁর প্রিয় আলেকজান্দ্রিয়ায়, সেখানেই পরের বছর সত্তরতম জন্মদিনে মারা যান। তাঁর সম্পর্কে ই. এম. ফরস্টার বলেছিলেন: ‘খড়ের টুপি মাথায় কিছুটা বাঁকা হয়ে একবারে স্থাণুবৎ জগতে দাঁড়িয়ে থাকা এক গ্রিক ভদ্রলোক।’ কাভাফি ছিলেন অনবদ্য এক আধুনিক। প্রাচীন বিশুদ্ধ ভাষা আর জনভাষাকে তিনি অতি শৈল্পিকভাবে কাজে লাগিয়েছেন তাঁর লেখায়, কাথেরঔসাকে দেমোতিকের সাথে নিজের ইচ্ছামতো বিমিশ্রিত করেছেন তিনি। পুরোদস্তুর অভিজাত এবং শহুরে হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক জীবনের প্রতি তাঁর এক গোপন ঘৃণা ছিল, ধ্রুপদি অতীতের প্রতি ছিল তাঁর এক মোহ ও প্রত্যাগমনাভিলাষ। যেহেতু তাঁর স্বপ্নের জগৎ ছিল অতীতের জগৎ, তাই প্রাচীন ভাষার ব্যবহার তাঁর কবিতায় লক্ষ্যণীয় কিন্তু তা বোধগম্য এবং উপযোগীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। গোপনীয়তায় লেখালেখি করে গেছেন তিনি, চল্লিশ বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর প্রতিভার আঁচ টের পাওয়া যায়নি। একান্ত ব্যক্তিগত সীমারেখায় তিনি কবিতা লিখে যেতেন, আর তখন ফরস্টার ও অল্পসংখ্যকই তাঁর কবিতার গুণগ্রাহী ছিলেন। ১৯৩৫ সালের আগে তাঁর কবিতা প্রকাশ্যে বেরও হয়নি। তাঁর সমকামীবন্ধু ফরস্টার ১৯২২ সালে তাঁর গাইড টু আলেকজান্দ্রিয়া বইয়ের মাধ্যমে তাঁকে সারাবিশ্বে পরিচয় করিয়ে দেন যেখানে তাঁর কিছু কবিতার অনুবাদও ছিল। পেগানবাদ এবং খ্রিস্টানত্বের সম্মিলন কাভাফির লেখায় পরিলক্ষিত। তাঁর প্রসিদ্ধ কাজগুলো হলো, ইথাকা, ওয়েটিং ফর দ্য বারবারিয়ানস, দ্য গড অ্যাবানডন্স অ্যান্টনি।
এমন এক বিষন্নতার ভেতর থেকে তিনি লেখেন, যিনি তাঁর যুগ এবং ধূসর সৌন্দর্যের সাথে একাত্ম হতে পারেন না: হে কাব্যশিল্প, আমি তোমার কাছে ফিরে আসি / যেহেতু তোমার আছে নিদানের স্ববিশেষ জ্ঞান: / ভাষা আর কল্পনার সুনিশ্চিত নিদ্রাবটিকা। (সম্পূর্ণ…)

সদ্যপ্রয়াত রুশ কবি ইয়েভগেনি ইয়াভতোশেঙ্কোর কবিতা: আমার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

আবদুস সেলিম | ৩ এপ্রিল ২০১৭ ৫:২৮ অপরাহ্ন

timeyevtushenkoসম্ভবত সত্তর দশকের মাঝামাঝি আমি তখনকার সাপ্তাহিক পত্রিকা, কবি বেলাল চৌধুরী সম্পাদিত “সন্ধানী”-তে ইয়েভগেনি ইয়াভতোশেঙ্কোকে (১৯৩২-২০১৭) নিয়ে লিখেছিলাম যে তিনি কানায়-কানায় পূর্ণ মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শ্রোতাদের বাকরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মধ্য-চল্লিশ। এর পর দীর্ঘ চল্লিশ বছর পার হয়ে। তাঁর মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি সদ্য অনূদিত তার এই আত্মউন্মোচনকারী কবিতাটি দিয়ে।–অনুবাদক

আমি শুধু অত্যুজ্জ্বল ফ্রেমে বাঁধা মানুষদের
কাছ থেকেই আমার শিক্ষা নিই নি,
বিবর্ণ পরিচয়হীন মানুষরাও
আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
টলস্টয়ের চেয়ে অন্ধ ভিখেরির কাছে অনেক শিখেছি।
সেই ভিখেরি যে কাউন্ট টলস্টয়ের
গান গেয়ে ট্রেনে-ট্রেনে ভিক্ষে করে খেত।
প্যাস্টারনাকের চেয়ে কুৎসিত বিদ্রুপই
আমাকে অনেককিছু শিখিয়েছে।
আর আমার কাব্যশৈলী হয়ে উঠেছে রগ-রগে আপন ভাষা।
যুদ্ধবাতিল পঙ্গুদের কাছ থেকে
স্ন্যাক খেতে-খেতে শুনেছি ইয়েসিনিন তত্ত্ব
সেই মানুষগুলো যারা টুটা-ফাটা
জামার ভেতর থেকে মুক্ত করেছে তাদের গুপ্ত-কথা!
মায়াকোভস্কির বিন্যস্ত কবিতাগুলো
দিতে পারে নি যা দিয়েছে
বাচ্চা ছেলেমেয়ের প্যান্টে ঘষ্টানো
মলিন সিড়ির চকচকে রেল।
স্বল্পবাক বৃদ্ধাদের কাছ থেকে জিমা জাংশনে জেনেছি
কাটা-ছেঁড়া জখমকে ভয় না পেতে। (সম্পূর্ণ…)

আমার ভেতর যে নারীর চলন

রেশমী নন্দী | ১ এপ্রিল ২০১৭ ৯:০৯ অপরাহ্ন

Nizar Qabbani ‍নিজার কাব্বানি( ১৯২৩-১৯৯৮) বিংশ শতকের জনপ্রিয় আরব কবিদের মধ্যে অন্যতম। দামাস্কাসে জন্ম নেয়া এ কবি সারল্য আর মার্জিত প্রকাশভঙ্গীতে লিখেছেন প্রেম, নারীবাদ আর ধর্মের মতো বিষয় নিয়ে। তাঁর লেখায় যেমন রয়েছে খোলামেলা প্রেমের প্রকাশ, তেমনি রয়েছে নিত্য প্রকাশে সয়ে যাওয়া নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহও। নারীবাদি এ কবির নানা লেখা রক্ষণশীল আরব সমাজে সমালোচিতও হয়েছে প্রচুর। অনূদিত কবিতা “আমার ভেতর যে নারীর চলন” (A Woman Moving Within Me) কবিতাটি আরবী থেকে ইংরেজীতে অনুবাদ করেছেন হাসেম বিন লাজরাগ (Houssem Ben Lazreg)। বাংলায় ভাষান্তরিত করেছেন রেশমী নন্দী।

আমার ভেতর যে নারীর চলন
আমার ভেতর যে নারীর চলন
চায়ের কাপে ভেসে ওঠা ছবির অর্থ বুঝতে পারলে
যে কেউ বুঝে যাবে তুমিই আমার প্রেম
হাতের রেখা পড়তে পারলে যে কেউ দেখতে পাবে
তোমার নামের চারটি অক্ষর ফুটে আছে সেখানে,
অস্বীকার করা যায় যে কোন কিছু
কেবল ভালবাসার মানুষের গায়ের গন্ধ ছাড়া,
লুকিয়ে রাখা যায় যে কোন কিছু
কেবল ভেতরে বাজতে থাকা প্রেয়সীর পদধ্বনি ছাড়া,
তর্ক করা যায় যে কোন বিষয় নিয়ে
কেবল তোমার নারীত্বের আকর্ষণ ছাড়া। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com